Jump to ratings and reviews
Rate this book

গ্রহান্তরের গাঁজাখোর

Rate this book
দমফাটা হাসির দোদোমা!
হাসতে হাসতে চলে আসুন ‘শের-ই-শিরিঙ্গেপুর’। সেখানে হাজির যত দাগি চোর আর বদমাশ। তার সঙ্গে যুকত হয়েছে ‘দধিমানব আর গ্রহান্তরের গাঁজাখোর’, আরও আছে তান্ত্রিক কালীসাধন, ভূত জটাশঙ্কর আর অভিনয়-পাগল জাপানি রোবট।

176 pages, Hardcover

First published February 1, 2011

2 people are currently reading
61 people want to read

About the author

Saikat Mukhopadhyay

58 books119 followers
তাঁর জন্ম এবং বড় হওয়া হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জনের পরে তিনি রাজ্য সরকারের অধীনে আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ দুই-দশকের লেখক-জীবনে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিশোর-সাহিত্য, উভয় ধারাতেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তিনি যখন গল্প-উপন্যাস লেখেন, তখন ঘটনার বিবরণের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন মানব-মনের আলোছায়াকে তুলে আনার বিষয়ে। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি। তাঁর বহু কাহিনি রেডিও-স্টোরি হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে সমাদর পেয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন দীনেশচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার এবং নান্দনিক সাহিত্য সম্মান।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (3%)
4 stars
29 (50%)
3 stars
21 (36%)
2 stars
4 (7%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,123 reviews1,108 followers
September 2, 2019
প্রথমেই বলব, অসম্ভব ভালো লেগেছে বইটি। "তিনু তান্ত্রিকের পুথি" পড়ার পর খুব ইচ্ছা হচ্ছিল এই লেখকের আরো কয়েকটা বই পড়ি। আর সেই সুবাদেই পড়া এই দ্বিতীয় বই। লেখকের আরো কিছু বই সংগ্রহে আছে কিন্তু এটার নামটাই যেন অন্যরকম, খুব পছন্দ হয়ে গেল। ব্যাস শুরু করে দিলাম।২টা গল্প জাস্ট ২ বসাতেই শেষ। এবার গল্প দুটি সম্পর্কে একটু বলি :

প্রথম গল্প গ্রহান্তরের গাঁজাখোর :
এই উপন্যাসের দুই চরিত্রে আছে দুই রকমের বিদঘুটে প্রাণী। এক ডেল্টা। ভিনগ্রহী প্রাণী, যে পৃথিবীতে এসে তাকে গাঁজার নেশা এমনভাবে পেয়ে বসেছিল সে এক কেলেঙ্কারি ব্যাপার স্যাপার।আর দুই, আরেক যন্ত্র মানব পাগলা জাপানি রোবট সে আবার বাংলা যাত্রাপালায় অভিনয় করতে পেলে আর কিছুই চায় না। কেন্দ্রীয় চরিত্রে দধিবামন, যাকে ভিনগ্রহের প্রানী ধরে নিয়ে গিয়ে এমনভাবে অস্ত্রোপচার করে যেন পরবর্তীতে সে বিজ্ঞানের সমস্ত আবিষ্কার নিজের হাতেই করতে পারে। পুরো উপন্যাস জুড়ে এই তিন চরিত্রের রহস্যের পাশাপাশি রয়েছে ধুন্ধুমার সব কান্ডকারখানা।

দুই শের - ই - শিড়িঙ্গেপুর:
আমার সবচেয়ে ভালো লাগলো এই উপন্যাসটি।একটা খাঁটি মজাদার উপন্যাস।বাংলার হাসি - মজার সাহিত্য থেকে এইসব উপন্যাস কোনোদিন হারাবে না।" শের- ই - শিড়িঙ্গেপুর " একটি হোটেল। যেখানে ঠাই পাই দেশের সবচেয়ে কুখ্যাত সব লোকজন কেননা এই জায়গাটিতে পুলিশের কোন হস্তক্ষেপ নেই। আর থাকবেই বা কী করে? দেশের মানচিত্রেই এই গ্রামটির উল্লেখ নেই। তো এই উপন্যাসের পুরো কাহিনিই এই অদ্ভুত নামের হোটেলকে কেন্দ্র করে লেখা।এই হোটেলের মজাদার সব চরিত্র অদ্ভুত সব সংলাপের মাধ্যমে উপন্যাসকে সমৃদ্ধ করেছেন।একবার পড়তে শুরু করলে কিছুতেই হাসি থামানো যাবে না।
Profile Image for Tiyas.
473 reviews137 followers
August 10, 2023
লেগাসি, শব্দের প্রকৃত অর্থ বলতে পারেন? একটা প্রাথমিক ধারণা আজকাল বই-বাজারে ভীষণ ফুটেজ খাচ্ছে। অদ্ভুতুড়ে ঘেঁষা সরস গপ্পো হলেই, নাকি সে জিনিস নিদারুণ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় টোকা? ব্যাপারটা কি? একটু আধটু টোকাটুকির অভিযোগ নাহয় মানা গেলো। দিনের শেষে শীর্ষেন্দু বিনা এই জনরা বোবা-কালা-হাবা। তবে, বুদ্ধিমান মাত্রেই বোঝে, এতো চেচামেচি বৃথা। ২২১বি বেকার স্ট্রীটে দাড়িয়ে, ফেলুদার ভাষায়, "গুরু, তুমি ছিলে বলেই আমরা আছি" জাতীয় শ্রদ্ধাজ্ঞাপন একান্তই স্বাভাবিক। নবীন লেখকদের দ্বারা এরূপ 'হোমাজ' আসবে না, সেটা কি আদেও সম্ভব? দিনের শেষে, ইমিটেশন ইজ দা বিগেস্ট ফর্ম অফ্ ফ্ল্যাটারী। ইয়ে তো হোনা হি থা!

আচ্ছা, বাচলামো থাক। আমি আবার লেখকের বড় বেয়াড়া রকমের ভক্ত। তার প্রাঞ্জল কলমে দুটো মজার হাসির উপন্যাস পড়তে পাবো, এই আশাতেই বইটি নিয়ে বসেছিলাম। পেলাম এক্কেবারে কিশোরপাঠ্য, আনন্দমেলা ঘরানার দুটি গল্প। একটির নাম, 'শের-ই-শিরিঙ্গেপুর' অপরটি, 'গ্রহান্তরের গাঁজাখোর'।

মানছি, অদ্ভুতুড়ের ছায়া স্পষ্ট। তবে এই জিনিসে, লেখক সৈকত মুখোপাধ্যায়ের নিজস্বতা মজুদ। শিরিঙ্গেপুরের একগুচ্ছ চোর, ডাকাত, পুলিশ ও পোষা ভূতেরা হয়তো আমাদের অনেকদিনের চেনা। তবে কেবলমাত্র অপরাধীদের গা-ঢাকা দেওয়া হেতু গজিয়ে ওঠা জম্পেশ ফাইভ-স্টার হোটেলের কনসেপ্টখানা নতুন। লেখক এই সবটা সেট-আপ করতে অনেকটা সময় ব্যয় করেছেন, একটা গোয়েন্দা কাহিনীর আমেজও এনেছেন গল্পে। তবুও, কোথাও গিয়ে অকৃত্তিম হাস্যরসের অভাবে, গল্পটি আমায় ব্যাক্তিগতভাবে টানে নি।

যাই হোক, এই খাপছাড়া ভাবটি অবশ্য অন্য গল্পটিতে হাপিস। এটায় পাবেন টাইম-ট্রাভেল, এলিয়েন স্পেসশিপ, গঞ্জিকা সেবক ভিনগ্রহীর সাথে অঙ্কে কাঁচা বাচ্চা ছেলে ও যাত্রা-প্রেমী জাপানি রোবটের লাইন-আপ। চেনা ছকের ফিল-গুড গপ্পো। অপাপবিদ্ধ নির্মল হাস্যরস। সাথে লেখকের বুদ্ধিদীপ্ত লেখনী। একটিবারের জন্যেও মনে হয় না, গায়ে পড়া স্ট্যান্ড-আপ কমেডি চলছে। বাংলা সাহিত্যে এইতো কাম্য। নইলে, হৃদয়ভাঙ্গা জাপানি রোবটের মুখে, এমন সরস কবিতা বেরোয় কিভাবে?

তুই এক নরকের কীট
কেমনে বুঝিবি এক রোবটের সমস্ত সার্কিট
কেমনে বুঝিবি মোর শরীরের কোটি কোটি মাইক্রোচিপস জুড়ে
কত গিগাবাইটের মেমারি গিয়াছে আজ পুড়ে?

পারলে অন্তত এই গল্পটি পড়ুন। আমি আপাতত আসি।

(২.৭৫/৫)
Profile Image for Farzana Raisa.
534 reviews248 followers
June 1, 2021
হোয়াট্টা স্টোরি!!

সে বহুকাল আগের কথা। কোলকাতা তখনও জাঁকিয়ে বসেনি। জাঁকিয়ে বসবেই বা কি করে মানুষ তখনও বিদ্যায় বুদ্ধিতে অতোটা পাকেনি। সে সময় একদল পরোপকারী এলিয়েন পৃথিবীতে আসে তাদের জ্ঞান বুদ্ধি কিছু যদি মানুষের মাঝে ট্রান্সফার করে দেয়া যায় তো বেশ উপকার হয়। তো সেই ট্রান্সফার করতে যেয়ে লাগে বিপত্তি। জনৈক এলিয়েন বাবাজি গাঁজার ধোঁয়ার প্রেমে পড়ে যান। ঠিক বাঙ্গালী ব্যোম ভোলানাথ স্টাইল! এই গাঁজাখোর এলিয়েন আর এলিয়েনদের ট্রান্সফার করা বিদ্যাবুদ্ধিসমেত পৃথিবীর পোড়াবেগুন গ্রামের অধিবাসী দধিবামন আর জাপানি রোবট যে কি না যাত্রা দলে অভিনয় করতে পারলে জীবনে আর কিছুই চায় না-এ হেন অদ্ভুতুড়ে চরিত্রদের নিয়ে সৈকত মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুত উপন্যাস গ্রহান্তরের গাঁজাখোর।

আপনারা শিড়িঙ্গেপুর গ্রামের নাম শুনেছেন? হ্যা হ্যা বাবা জানবেন না যে তা তো জানি-ই। আর জানবেন কি করে এই অজপাড়া গাঁয়ের অস্তিত্ব কি আর মানচিত্রে আছে? এখন অবশ্য ভিন্ন কথা। শিড়িঙ্গেপুর এক গহীন গ্রাম। সবাই এই সন্ধান না জানলেও গুটিকয়েক যে সকল লোকের জানা প্রয়োজন তারা ঠিকই জানতো। সেখানে ছিল এক হোটেল.. যে সে হোটেল নয় সব কুখ্যাত লোকেদের পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে থাকবার জন্য স্পেশাল শেল্টার বলা চলে। তো ভালোই যাচ্ছিল দিনকাল। এরমাঝে ঘটে গেল এক ঘটনা। এক তান্ত্রিকসাধু শবদেহ নিয়ে পুজো করবার জন্য ছয়দিনে ছয় মৃতদেহের প্রয়োজন। সে এই কারবার করে আশ্রয় নিয়েছে শিড়িঙ্গেপুরের হোটেলে। সঙ্গে আছে ভূত জটাশঙ্কর। ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। এই গল্পটা পুরাই আইসসালা!

দুইটা বড় গল্পের মাঝে শের-ই-শিড়িঙ্গেপুর বেশি সেরা বেশি জোস। একটা কারণে একটু দু:খ পেয়েছিলাম বটে! কিন্তু থাক না হয় সে কথা। বই দুইটায় কিছুটা শীর্ষেন্দুর ফ্লেভার থাকলেও দারুণ লেগেছে। আহা! এমন দুই চারটা গল্প লিখতে পারলে জীবনে বোধ হয় আর কিছুই চাইতাম না। ❤💔

প্রিয় সৈকত মুখোপাধ্যায় আপনার দারুণ একজন ভক্ত কিন্তু আমি!
Profile Image for শাওন  বড়ুয়া .
12 reviews2 followers
October 16, 2022
শীর্ষেন্দুর "অদ্ভুতুড়ে সিরিজ" এর মতোই উপভোগ্য।এই বইগুলো মনে করিয়ে দেয়, এখনও হাসতে ভুলিনি,রোবট হতে ঢের দেরী।...
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,871 followers
November 29, 2012
In the past few years, as Shrishendu Mukhopadhyay's works started becoming monotonous & self-plagiarising, there were indeed causes of concern for us whose childhoods had been shaped by his unique style of storytelling that mixed humour, science-fiction and adventure without missing a beat anywhere. Fortunately, it seems, that other authors have started trying to fill that impending vacuum, as evident from both the novellas of this book. Recommended, if you wish to have a good laugh as well as to enjoy the clean narratives.
Profile Image for DEHAN.
278 reviews83 followers
June 16, 2019
মোটামুটি । তবে শীর্ষেন্দু শীর্ষেন্দু গন্ধ আছে
Profile Image for Madhurima Nayek.
361 reviews134 followers
June 8, 2020
অনেকদিন থেকে পড়বো পড়বো ভেবেও সময় পেতাম না,আসলে এত বড়ো book list আছে যে কবে কোনটা পড়বো খুঁজে পাই না।মোট দুটি গল্প নিয়ে এই বই - গ্রহান্তরের গাঁজাখোর ও শের-ই- শিড়িঙ্গেপুর।

গ্রহান্তরের গাঁজাখোর গল্পটার প্রতি অনেক আশা ছিল, কিন্তু সেই মতো গল্পটা মজার লাগেনি। গল্পের বিষয়বস্তুতে আর গেলাম না, বলতেও ভালো লাগছে না,নিজেরাই পড়ে দেখুন।

শের-ই- শিড়িঙ্গেপুর গল্পটা একদম খাসা গল্প। পড়তে পড়তে মনে মনে যেনো অদ্ভুতুড়ে সিরিজের তুলনা চলে আসে। বেশ মজার লেগেছে আমার।
Profile Image for Joydeep Chatterjee.
55 reviews6 followers
July 26, 2025
🔹গ্রহান্তরের গাঁজাখোর / সৈকত মুখোপাধ্যায়

পত্রভারতী থেকে প্রকাশিত সৈকত মুখোপাধ্যায়ের 'গ্রহান্তরের গাঁজাখোর' সংকলনটি দুটি কিশোর উপন্যাস নিয়ে, বর্তমানে সম্ভবতঃ নবকলেবরে আড়েবহরে বেড়ে প্রকাশিত। পাতার পর পাতা উল্টে পাল্টে শুধুই পেটচাপা, দমচাপা, কখনও অট্টহাসির রোল ওঠে, পেটে খিল ধরে।

▪️গ্রহান্তরের গাঁজাখোর —
উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলি প্রত্যেকেই এক একটি নমুনাবিশেষ। অন্য গ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসা এক বিচিত্র জীব, যে পৃথিবীর মাটিতে পা রেখে গাঁজার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। তার পৃথিবীতে ফেলে যাওয়া কলকে খুঁজতে গিয়ে শুরু হয় উদ্ভট সব কান্ড। অন্যদিকে অ্যালকেমিতে বিশ্বাসী বিজ্ঞানমনস্ক দধিবামন, ৫০০ বছর পুরোনো পোড়াবেগুন গ্রামের বাসিন্দা, ঘটনাচক্রে সে হাজির হয় টাইমট্রাভেল করে আধুনিক চিতপুর শহরে। আর আছে জাপানি বদমাইশ বিজ্ঞানী এবং তার রোবোট সহকারী শ্রীমান 'কাজেকামে মোটামুটি' যে আবার বঙ্গদেশের অঙ্গ হতে না হতেই বাংলা যাত্রাপালায় অভিনয় করার সুযোগ ছাড়া আর কিছুই চায় না। পুরো উপন্যাস জুড়েই এইসব চরিত্রগুলিকে নিয়ে ঘটনার ঘনঘটা।

▪️শের-ই-শিড়িঙ্গেপুর —
প্রথম উপন্যাসিকাটির তুলনায় ধারে ও ভারে এই উপন্যাসিকাটি এগিয়ে। একটি নিখাদ হাসির উপন্যাস, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুতুড়ে ঘরানার সার্থক উত্তরাধিকারী। শের-ই-শিড়িঙ্গেপুর, পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে পান্ডববর্জিত স্থানে একটি হোটেল, যেখানে সব তাবড় তাবড় চোর-ডাকাত, খুনি, দুষ্কৃতীদের নির্ভয় আস্তানা। সেখানে নেই কোন থানা। পাশের গ্রামের পুলিশেরাও ঘুড়ি উড়িয়ে, মাছ ধরে, দাবা খেলে দিন কাটান। হঠাৎ সেখানে আবির্ভাব ঘটে বিশালবপু তান্ত্রিক কালীসাধনের। সব চোর-ডাকাতের মাঝে কী হয় কাহিনির অন্তিম পরিণতি, সেইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আর প্রাণ খুলে হাসতে চাইলে উপন্যাসিকাটি এক অবশ্যপাঠ্য।

মজাদার সব চরিত্র, অদ্ভুত সব সংলাপ এবং কিম্ভূত সব কান্ডকারখানার মধ্যেও শ্রীমুখোপাধ্যায় একটি আদর্শ কিশোর সাহিত্যের গুণমান নির্ধারকগুলির উপর মুহূর্তের জন্যেও যেন নিয়ন্ত্রণ হারান না। সহজ-সরল, সাবলীল ভাষা তাঁর গদ্যের। এই মুহূর্তে তিনি পাঠককে হাসতে বাধ্য করেন তো পরের মুহূর্তেই একটি বাক্যের উপযুক্ত ব্যবহার করেই কাহিনির সুর তাৎক্ষণিক বদলে দেন। কাহিনির বিষয়বস্তু-ও কখনোই কল্পনার চাপে গুরুত্ব হারায় না। রহস্য, কল্পবিজ্ঞান, কল্পনা এবং আজগুবি ননসেন্সে ভরা হাসি-মজার পরিমিত ব্যবহার পাঠকের বিশেষভাবে চোখে পড়ে। অথচ কাহিনির মধ্যেই লেখক পাঠকের জন্য সুন্দর মানবিক বার্তা রেখে যান।

দশ বছর আগে প্রায় লেখক সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখার সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটেছিল, সৃষ্টিসুখ থেকে প্রকাশিত একটি ক্ষীণতনু বই, 'তেঁতুলপাতার গল্প'-এর মাধ্যমে। তারপর ক্রমশ একে একে পড়েছি তাঁর 'তিনু তান্ত্রিকের পুঁথি', 'মারাং গ্রামের পান্থশালা', 'মৌলিকবাবু'। পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর 'মৃত্যুর নিপুণ শিল্প', 'মরণবিভা', 'ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ' বইগুলিও। অনাবিল আনন্দ দিয়েছে 'তুলোফুড়কি' নামক আধুনিক রূপকথা সংকলনটি। 'কিসসাওয়ালা'-র লেখনীর নিঃশব্দ ভক্ত হয়ে যখন আজ পাঠক হিসেবে শ্রীমুখুজ্জ্যের কথাসাহিত্যিক এবং কবি হিসেবে সামগ্রিক যাত্রা ভাবনায় আসে, অবাক হয়ে যাই। একদিকে তিনি লিখছেন 'তবুও জীবন জ্বলে'-র মত উপন্যাস অন্যদিকে 'এক জন্ম লোভাতুর'-এর মত ব্যতিক্রমী একটি কাব্যগ্রন্থ। শূন্য দশকের সাহিত্যজগতের এক অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম হিসেবে সৈকত মুখোপাধ্যায়, শিশু-কিশোর সাহিত্য, সামাজিক, রূপকথা, রহস্য-রোমাঞ্চ, হাস্যরস , অলৌকিক, বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদ সকল বিভাগ বা ঘরানাতেই যেন নিজের কলমের জোর পরখ করেছেন। পরীক্ষা নিয়েছেন নিজেই নিজের। জঁর অনুযায়ী আদর্শ সাহিত্যেসৃষ্টিতে তিনি শুধু অপ্রতিদ্বন্দ্বী নন, তাকে আমার ভীষণভাবেই ভার্সেটাইল মনে হয়।

তাঁর বহু বই, এখনও আমার স্বল্পপাঠের পরিধিভুক্ত হয়নি। ভবিষ্যতে আশা করছি হবে। তবে একটি নির্দিষ্ট বইয়ের আলোচনা করতে গিয়ে একজন লেখকের সামগ্রিক সাহিত্যসৃষ্টির ব্যাপারে এই আলোচনা অন্যের কতটা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হবে জানি না। তবে বেশ কিছু বছর নিয়মিত বইয়ের সঙ্গেই পাঠক হিসেবে ঘর করার কারণে আমার মনে হয় এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা আলোচনাটি প্রাসঙ্গিক।

বর্তমানে নবীন লেখকদের মধ্যে অনেককেই দেখি, যারা প্রান্তিক জনজীবনের গল্প লিখে চলেছেন, তো লিখেই চলেছেন। কেউ রহস্য এবং তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে সলতে পাকানো শুরু করলে সেই জঁরেই একের পর এক প্রদীপ জ্বালিয়ে যাচ্ছেন। পাঠক হিসেবে আমাকে তা ক্লান্তি দেয়, একঘেয়েমি চলে আসে। লেখক যদি নিজেই নিজেকে ভাঙেন-গড়েন, তাতেই মনে হয় তাঁর সাহিত্যচর্চা এবং সৃষ্টির মান আরো উন্নত হতে থাকে।

ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন সময়ে বইটি পড়তে বসেছিলাম দ্বিতীয়বারের জন্য। পাঠশেষে আমার মন কিঞ্চিত প্রসন্ন এবং উৎফুল্ল, দুঃখের মধ্যেও অজান্তেই হেসে উঠেছি। দুঃখের ভার আংশিক লাঘব হওয়ার কারণেই হয়তো এই ধান ভানতে শিবের গীত এবং কিছু ভুলভাল লিখে ফেলা, নিজের স্বল্পজ্ঞানের আওতায় থেকে। ধৃষ্টতা মার্জনা করবেন।

প্রিয় লেখক, আপনার থেকে আরো অনেক মণিমুক্তের প্রত্যাশী হয়ে থাকে আমার 'লোভাতুর' পাঠকমন। আপনি ভালো থাকুন, আপনার কলম চলতে থাকুক।
Profile Image for ANGSHUMAN.
229 reviews8 followers
May 19, 2021
শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজকে কপি করে নামাতে গিয়ে ছড়িয়েছেন লেখক।
প্রত্যেকেরই লেখার একটা নিজস্ব স্টাইল আছে, সেখান থেকে ছক ভেঙে বেরোনোটা অবশ্যই কুর্নিশযোগ্য,কিন্তু পাতে দেওয়ার মতো হতে হয় সেসব লেখাকে।
সৈকত মুখোপাধ্যায়ের অন্য লেখাগুলি যদি অমৃত হয় এটা গোবর। প্লটের জন্য দুটো তারা দিলাম।
Displaying 1 - 10 of 10 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.