ভূমিকা আমি যা বিশ্বাস করি তাই লিখি। অবিশ্বাস থেকে কিছু লিখতে পারি না। আমার বিশ্বাসের জগৎটা আবার খুবই বিচিত্র। সেই বিচিত্র বিশ্বাসের একটি গল্প লিখলাম। গল্পটিকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ না করাই ভাল হবে।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
এক নিশ্বাসে বইটা শেষ করলাম। সুপ্তি মেয়েটাকে খুব ভাল লেগেছে। মেয়েটা অন্ধ হলেও অসম্ভব বুদ্ধিমতি। ম্যাজিশিয়ান ছেলের চরিত্রটা অদ্ভুত কিন্তু ভালো লাগার একটা বেপার ওর মধ্যে আছে। প্রথম দুই পাতা পড়ার পর আপনি পুরোটা এক নিশ্বাসে শেষ না করে পারবেন না। অসম্ভব ভালো লেগেছে।
এরকম একটা গল্প অন্য কোনো লেখক লিখলে আমার ধারনা আমি গাঁজাখুরি বলেই উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ এত আবেগ দিয়ে লেখেন যে খুব সহজেই সেই মায়ায় জড়িয়ে যাই। কিভাবে এত বিশ্বাসযোগ্যভাবে উনি গল্প বলেন আমি বুঝতে পারিনা। প্রতিবার হুমায়ুন আহমেদ এর বই শুরুর আগে নিজেকে ওয়ার্নিং দেই যে আবেগী হব না, উনি আসলে ততটা ভালো লেখেননি। শুধু শুধু মানুষকে ইমোশনাল করে দিয়ে ওভাররেটেড হয়ে গেছেন। কিন্তু পড়তে বসার পর এমন ঘোর লেগে যায় যে ওসব আর কিচ্ছু মাথায় থাকে না। আসলে এখানেই তো লেখক হিসেবে ওনার স্বার্থকতা। এভাবে ঘোর লাগিয়ে উনি যা খুশি আমাদের বিশ্বাস করাতে পারেন বলেই তো উনি যাদুকর।
বইটা একটা ছেলেকে ঘিরে, নাম আগে ছিল টগর। কিন্তু এখন তার কোনো নাম নেই। কারণ এখন সে অর্ধেক গাছ আর অর্ধেক মানুষ।
নেত্রকোণার মবিন উদ্দিনের একটা বইয়ের দোকান আছে। এর থেকেই আয় যা হয় তা দিয়ে তার স্ত্রী সুরমা আর মেয়ে সুপ্তিকে নিয়ে দিন চলে যায়। খুব একটা ভাল যে যায় তা না, অভাব তো থাকেই। শীতের সকালে বোন রাহেলা বাড়িতে যাওয়ার সময় মবিন সাহেব এক ম্যাজিশিয়ানকে দেখলেন; গায়ে কোনো শীতের কাপড় নেই, খালি পা। তার কেমন একটা মায়া লাগলেও সেটাকে আমলে না দিয়ে বোনের বাড়ি গেলেন। ফিরতে রাত হয়ে গেল। বোন থেকে যেতে বললেও তিনি রওনা হলেন আর মাঝপথে ম্যাজিশিয়ান ছেলেটার সাথে দেখা হওয়ায় তাকে সাথে করে ঘরে ফিরলেন। সুরমা রাতে রাগারাগি করলেও দিনের বেলায় ছেলেটার উপর মায়া না করে থাকতে পারলেন না। কারণ, ছেলেটিকে দেখতে তার মৃত ছেলে টুনুর মতো এবং ছেলেটির নামও নাকি টুনু(ম্যাজিশিয়ান একটু ফায়দা নিয়েছে আরকি!)। ও আরেকটা কথা! সুপ্তির চোখ অতি সুন্দর হলেও সে চোখে দেখতে পায় না। এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে সে। ধীরে ধীরে সুপ্তি আর সুরমা টুনুর মায়ায় বাঁধা পড়ে যায়, ওকে বাবলু বলে ডাকে। মবিন সাহেবও ওকে পছন্দ করেন। মবিন সাহেব টুনুর অদ্ভুব ক্ষমতা দেখে অস্বস্তি বোধ করেন। ছেলেটা মনে হয় মনের কথা বুঝতে পারে, আরও ক্ষমতা আছে বোধহয়।
এর মাঝে তার বোনের স্বামী আব্দুল মজিদ বলেন যে, মেয়ের বিয়ের টাকার জন্য সমস্যা পড়েছেন। মবিন সাহেব যেন সেই ধার করা ১ লাখ টাকা তাকে এবার দিয়ে দেয়, যদিও তার চাইতে লজ্জা লাগছে। মবিন সাহেব উপায় না পেয়ে দোকান বিক্রি করে দেন। মজিদ টাকা নিতে আসলে মবিন সাহেব অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন যে, তিনি মজিদের মনের কথা বুঝতে পারছেন এবং মজিদের মনের কথা বড়ই বিশ্রী ধরনের। (ঐ দিন আবার সুরমা দোকান বিক্রির কথা শুনে ঝগড়া করে সুপ্তিকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি চলে যান।) মবিন সাহেব ম্যাজিশিয়ানকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সব বুঝতে পারে। তিনি এও বলেন যেন সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। যাওয়ার আগে সে তার এই ক্ষমতার কাহিনীর ব্যাপারে লিখে যায় যেন মবিন সাহেব তা পড়ার পরে পুড়িয়ে ফেলে।
মবিন সাহেব পড়তে শুরু করলেন। টগরের মা মারা যায় খুব অল্প বয়সে। তার বাবা আরেক বিয়ে করলে তার নতুন মা তাকে খুব আদর করে। তার এক মেয়ে হয়, অন্ধ! তবে টগরই আদর পায় বেশি। তবে এত সুখ কপালে নেই। এই মা ও মারা যায় খুব দ্রুত। টগরের বোন তার অন্ধত্বের কারণে পৃথিবীর রঙ বুঝতে গিয়ে পুকুরে ডুবে মরে যায়। পরে টগরের জন্ডিস হলে মরণ দশা হয়ে যায়। চিকিৎসা করে কোনো লাভ হচ্ছে না দেখে ওর বাবা এক ব্যবস্থা করে (সে এটার কথা শুনেছে)। টগরকে সে সারারাত শিউলি গাছের কাছে বসিয়ে রেখে গাছ যেন তাকে ভাল করে দেয় এই জপ করায়। টগর সত্যি সত্যি ভাল হয়ে যায়, আর হয়ে যায় অর্ধগাছ-অর্ধমানব। তবে টগরের এইসব ভাল লাগে না, খুব অস্থির হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে মনে হয় কদম গাছে হয়ে যাক সে।
আর ওদিকে রাতে সুপ্তি স্বপ্ন দেখে তার ম্যাজিক ভাইকে। তার ম্যাজিক ভাই তাকে কি একটা উপহার নাকি দিয়ে যাচ্ছে। ঘুম ভেঙে গেলে সুপ্তি উঠে দেখে সব কেমন যেন অচেনা! সে চিৎকার দিয়ে ওঠে। একি সে যে চোখে দেখতে পারছে! . . . . সুপ্তির বিয়ে হয়েছে। ছেলের নাম রেখেছে টগর। সুপ্তি মাঝে মাঝে একটা স্বপ্ন দেখে- বনের ভেতরে একটা কদম গাছ। সব গাছে চোখে দেখলেও এই গাছ চোখে দেখতে পায় না!
ভালো না লাগতে গিয়েও ভালো লেগে গেল। তবে এই বিশ্রী ভয়ানক প্রচ্ছদের মানে কি!🙄
~২৪ মে, ২০২১
This entire review has been hidden because of spoilers.
'' We are the same as plants, as trees, as other people, as the rain that falls. We consist of that which is around us, we are the same as everything.''
গৌতম বুদ্ধের এই উক্তিটি আসলেই মাথা চুলকানোর মত কথা। প্রকৃতির কাছে ফ্লোরা, ফনা আর ইনার্ট বস্তুকে সমান বলার মানে কি? মানুষ কেন গাছের সমান হতে যাবে? ইকোসিস্টেমেও তো সবার গুরুত্ব একনা। উক্তিতে কি তিনি আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বলতে চাইছেন? আমাদের আশেপাশের পরিবেশ আমাদের অস্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে? বেশ অদ্ভুত, তাই না?
কালো যাদুকর উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ এর কিছু অদ্ভুত - কিন্তু - অসাধারণ বিশ্বাস নিয়ে গল্প লেখা হয়েছে। না ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বলছি না। বরং অতিপ্রাকৃত জগতের বিশ্বাস। আমরা অনেকেই অতিপ্রাকৃত বিষয়বস্তু নিয়ে বেশ আলাদা আলাদা বিশ্বাস পোষণ করি। এলিয়েন আছে কি নেই, ভূত কি মানুষের আত্মা নাকি সম্পূর্ণ অন্য কোনো স্বত্বা, ইত্যাদির বিশ্লেষণ আমরা করি ভিন্ন ভিন্ন চিন্তাধারার মাধ্যমে। আবার অনেক অতিপ্রাকৃত কোনো কিছুকেই অবাস্তব, কল্পনা বলে উড়িয়ে দেই। কিন্তু, আমাদের সবারই মনে হয় আমাদের ধারণাটাই ঠিক।
উপরের গৌতম বুদ্ধের উক্তিটা ফেইক। বুদ্ধ কখনো সে কথা বলেনি। কিন্তু সেই লাইনের পিছে তাঁর নাম বসিয়ে দিয়েছি বলেই কিন্তু কিছুটা হলেও আপনার মনে হয়েছে কথাটার কোনো গভীর অর্থ আছে হয়তো। মানুষের বিশ্বাসকে এরকম বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করা যায়। কালো যাদুকর গল্পে সেইভাবে হুমায়ূন আহমেদ সম্পূর্ণ উদ্ভট একটা কন্সেপ্টের দ্বারা পাঠকের সাথে খেলা খেলেছেন। খুব সুন্দর ভাবেই।
কালো যাদুকরের সাথে একদিন মবিন উদ্দিনের পথে দেখা হয়। তারপর মবিন উদ্দিন যাদুকরের দ্বারা নিজের অজান্তেই প্রভাবিত হতে থাকেন। বাসায় নিয়ে আসেন। তাঁর পরিবারের সাথে মিশে যায় যাদুকর। সবাই মনে করে সে তাদের পরিবারের হারিয়ে যাওয়া এক সদস্য। তবে যাদুকরের কিছু কিছু "জাদুর" প্রতি যখন প্রশ্ন করা হয়, তখন খানিকের জন্য চরিত্রগুলির ��পর তার প্রভাব কেটে যায়। শেষে যাদুকর একদিন চলে যায়। চলে যাবার আগে লিখে রেখে যায় তার অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা লাভের গল্প। তার অতীতের গল্প। আর বলে যায় যে গল্পটার বাস্তবতা নির্ভর করবে পাঠকের বিশ্বাসের উপর। বুঝতেই পারছেন, এক গল্পের ভেতর আরেক গল্প। বিশ্বাসের তক্তায় ডাবল পেরেক।
বিশ্বাস আর তার প্রভাবের এই খেলাটা অনেকটা অব্যবস্থিতচিত্তে খেলেছেন হুমায়ূন আহমেদ কালো যাদুকর চরিত্রটার মাধ্যমে। উপন্যাসটা দুইবার না পড়লে সেটা অনেকের মাথার উপর দিয়ে যাবে। গল্পের শেষে আশাহতও হবেন অনেক পাঠক। তবে আমি উপন্যাসটাকে দুইবার পড়তে বলবো। একবার নিজে, আরেকবার কাউকে শুনিয়ে শুনিয়ে। ভালো লাগবে, বিশ্বাস করুন। :3
বইটাতেই লেখা আছে "ডুবন্ত মানুষ খরকুটা পেলেও আঁকড়ে ধরে", আর বিশ্বাস তো একখান বিশাল তরী। তারপরেও অনেকে ডুবতে চায়। কেন?
আমার ধারনা এই বই হুমায়ুন আহমেদ না লিখে অন্য কেউ লিখলে এইটা একধরনের হাবিজাবি টাইপ্সের বই হয়ে যাইতো।
কিন্তু এটা যেহেতু হুমায়ুন আহমেদ তাই তিনি শেষ মেষ সব কিছু মিলিয়ে দেন, যেনো পড়ার শুরুতে কষ্ট পাওয়া পাঠক শেষের দিকে গিয়ে একটা আরাম পায়।
গল্পটা মবিন উদ্দিনের, ঘরে স্ত্রী সুরমা এবং ছোটো মেয়ে সুপ্তি। একটা ছেলে ছিলো নাম টুনু, মারা গেছে। সুপ্তি অন্ধ, সে স্কুলে পড়ে।
হঠাৎ একদিন টগর নামের এক যাদুকরের সাথে মুবিনের পরিচয় হয়, তিনি ছেলেটাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। ছেলে দেখতে হুবুহু তার গত হওয়া ছেলে টুনুর মত। স্ত্রী সুরমা এবং সুপ্তি ছেলেটা কে বেশ পছন্দ করে।
এর পর দীর্ঘদিন ছেলেটা তাদের সাথে থাকে, এর মধ্যে ঘটতে থাকে বিচিত্র রকমের ঘটনা। এক পর্যায়ে ছেলে টা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়, যাওয়ার আগে মবিন সাহেবকে একটা ছোটো খাতা দিয়ে যায়, সেইখানে ছেলেটার জীবনবর্ননা দেখা যায়।
আমরা সবসময় বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাঝামাঝি জগতে বাস করি, এটাই হইতো সবথেকে বড় সত্য।
পৃথিবীটা বড় রহস্যময়, মানুষ যতটা রহস্যময় ভাবে তারচেয়েও বেশি। কালো যাদুকর, পড়ে অনেক কিছু মাথায় আসছে- বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিজস্ব ব্যাপার সে বিষয়ে কথা না বলাই ভালো। মবিন,নামের এক লোকের সাথে দেখা হয় এক যাদুকরের,প্রথমে মবিনের কাছে মনে হয় সে অনেক কালো কিন্তু যখন সে তার সাথে কথা বলে তখন সে দেখে ছেলেটা অতটাও কালো না।মবিন সাহেব যখন তার নাম শুনে তখন সে এক ধাক্কা খায় কারণ যাদুকরের নাম মবিনের মৃত ছেলের নাম একই।কালোযাদুকরের নাম টুনু।এই টুনুর মধ্যে এমনকিছু আছে যা অন্যদের থেকে আলাদা কিন্তু সেটা মবিন ধরতে পারে না।সে কালোযাদুকরকে বাড়িতে আনে।যাদুকর তার মায়া মায়া চেহেরা আর এক অদম্য সম্মোহনী শক্তি দিয়ে মবিন,তার স্ত্রী সুরমার আর তার মেয়ের সুপ্তির মন জয় করে ফেলে।মবিন সাহেবের বাড়ির সবাই তার মধ্যে টুনুকে দেখতে পায়। যাদুকরের আসল নাম টগর।তার মধ্যে অনেক অস্বাভাবিকতা আর রহস্য আছে যা জানতে হলে পড়ে ফেলুন বইটি। এইবার বলি বইটি কেমন ছিল- বইটির মধ্য কিছু অবিশ্বাস্য জিনিসের অবতারণা হয়েছে কিন্তু বইয়ের শেষে সব কিছু স্বাভাবিক ভাবেই মিলিয়ে দিয়েছেন লেখক। সম্মোহন বলে এক জিনিস আছে যেটা সবাই করতে পারে না যারা পারেন তারা হয়তো যাদুকর। কালো যাদুকর নিজেকে গাছ হিসেবে দাবী করেন,তার এই দাবী কতটা যুক্তিসঙ্গত সে বিষয়টা আলোচনা সাপেক্ষ।
কল্পনাপ্রবণ লেখকের বিচিত্র কল্পনার বহিঃপ্রকাশ। মানুষ কখনো গাছ হতে পারে না। আধা-মানুষ, আধা-গাছও হতে পারে না। তবে চমকপ্রদ বিষয়টি হলো, আপনি বিশ্বাস-অবিশ্বাস যাই করুন, বইয়ের পরবর্তী পঙ্ক্তিটা আপনাকে পড়তেই হবে! হুমায়ূন আহমেদের প্রায় প্রতিটি বই-ই লোভনীয়–বিচিত্র চিন্তাভাবনায় ভরপুর। ত্রিশ দিন ছুটি থাকলে তাঁর লেখা পনেরোটা বই থাকলেই চলে। ছুটিটা একটা ঘোরের মধ্যে শেষ হবে।
কোনো অবিশ্বাস্য কাহিনী কে বিশ্বাস যোগ্য করে তোলার সুনিপুণ ক্ষমতা বোধহয় লেখকদের মধ্যে প্রবল, সচেতন মনের একটা অংশ তা কখনোই মানতে নারাজ কিন্তু অবচেতন মন সব যুক্তি অগ্ৰাহ্য করে পরের পাতায় কি রহস্য রস লুকিয়ে আছে তা আস্বাদন করা জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে
মাঝেমধ্যে মনে হয় হুমায়ুন আহমেদ সাহেব বৃক্ষের অলৌকিক ক্ষমতার ব্যাপারটা সত্যি সত্যি বিশ্বাস করতেন। গাছের নানান অলৌকিক ক্ষমতার মধ্যে রোগ-দুঃখ শুষে ফেলতে পারার ক্ষমতাটা এর মাঝে সবচাইতে আজগুবি। মানুষ তো দুঃখের কুয়া হতে পারেনা, তার বাহন লাগে। সে সাধারণ থেকে অসাধারণ নানান বাহন খোঁজে দুঃখ জমা রাখবে বলে। ফুলের মাঝে শিউলি বোধহয় পৃথিবীর সবচাইতে সাধারণ কিন্তু স্নিগ্ধতম ফুল। শীতের সকালে রোজ আমার বাসার কাছের ছোট সবুজ মাঠটা একটা শিউলি গাছ শুভ্র ফুলে ভর্তি করে ফেলতো। ওই গাছটাকে জড়িয়ে ধরেই যদি দুঃখগুলো দিয়ে দিতে পারতাম, দুবারও ভাবতাম না। তাতে হয়তো সে গাছে আর কখনো শিউলি ফুটতোনা। অন্য কোনোখানে ফুটতো। আমার দুঃখও অন্যকোনো খানে ব্যাপন হত, আমি টের পেতাম না। কিন্তু এ কি হয়? বিরাট আজগুবি বই।
হুমায়ুন আহমেদ এর বই অনেকদিন পর পর পড়া একরকম টনিকের মত। শুরুতে খুব নাক উঁচু করে পড়া শুরু করতে হয় নাহলে মান থাকেনা। কিন্তু পড়ার পর হুমায়ুন সাহেবের ভূতে ধরে। সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম বিষয়ে দুঃখ পেয়ে মরে যেতে ইচ্ছা করে। আজ লেখাতেও সেই ছাপ পড়ছে টের পাচ্ছি। বইতে এক অদ্ভুত জাদুকর ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসে মবিন উদ্দিন, তার জীবন আগে থেকেই এলোমেলো ছিল। এবার আরও এলোমেলো হওয়া শুরু হয়। এই ছেলে বিশেষ কথা বলেনা। গুরুতর প্রশ্নের উত্তরে সে শুধু হাসে আর 'হুম', 'আচ্ছা' দিয়ে উত্তর দেয়। বেশি কথা না বলে বাস্তবেও এমন উত্তর দেয়া গেলে ভালো হত। তাহলে কোনো বই নিয়ে কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো, কেমন বই, বিষয়বস্তু কি? ভালো লেগেছে? অনুভূতি কেমন? আমি গম্ভীর গলায় বলতাম- হুম, ভালো লেগেছে।
বাস্তব লজিকের সাথে মিল নেই কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর এক লেখা!বইটা পড়ে পরবর্তীতে সত্যিই গাছ নিয়ে আরেকবার ভাবতে হয়েছে!লেখক এখানে সার্থক কারণ বইয়ের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলাম। বইটা পড়ার পর থেকে আমারো বলতে ইচ্ছা করছে,"আমি মানুষ না,আমি গাছ।"
-তুমি কে? -আমি একটা গাছ। -তুমি মানুষ না? -জ্বি না।
বিউটি বুক সেন্টারের মালিক ম��িন উদ্দিনের সংসার এক মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে। তার মেয়েটি চোখে দেখতে পায় না। বড় ছেলে টুনু মারা গিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে।
পৌষের শুরুতে একদিন বোনের বাসায় যাওয়ার পথে তার দেখা হয় কালো যাদুকরের সাথে যে রাস্তায় ম্যাজিক দেখাচ্ছিল। ম্যাজিশিয়ানদের নিয়মই হলো বকবক করা। অকারণে কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। কিন্তু অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও মবিন উদ্দিন ম্যাজিশিয়ানকে একটা কথাও বলতে শুনেন নি।
বোনের বাসা থেকে ফিরে আসার সময়ও মবিন উদ্দিন সেই ম্যাজিশিয়ানের দেখা পান। কিন্তু এখন তাকে যেন একটু অন্যরকম লাগছে। অস্বস্তির সাথে মবিন উদ্দিন জানতে পারেন যে ছেলেটির নাম তার মৃত ছেলের নামে। মায়া বা দ্বন্দ্বে পড়ে ম্যাজিশিয়ান ছেলেটিকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে ছেলেটি তাদের পরিবারের একটি অংশ হয়ে উঠে।
কিন্তু একসময় মবিন উদ্দিন ছেলেটিকে তার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। জাদুকর যাওয়ার আগে তার জীবনের সবচেয়ে গোপন রহস্যটি মবিন উদ্দিনকে বলে যায়।
কি সেই রহস্য? কি যাদুবলে কালো যাদুকর মবিন উদ্দিনের পরিবারে মিশে গিয়েছিল সহজেই? এটা কি সহজ মায়ার খেলা ছিল নাকি নাকি আসলেই ছিল কোন কালো যাদু?
হুমায়ূন আহমেদের একটা বই যতো বারই পড়ি না কেন শেষ করার পর একই সাথে ভালো লাগা কাজ করে আবার মন খারাপও হয়। দুইটা অনুভূতির মিশ্রণ অদ্ভুত।
This entire review has been hidden because of spoilers.
তীব্র এক শীতের সকালে মবিন সাহেব তার বোনের মেয়ের বিয়ের পাকা কথা বলার উদ্দেশ্যে বোনের বাড়ি যাওয়ার সময় দেখা পান এক স্ট্রিট ম্যাজিশিয়ানের। তার জাদুবিদ্যা দেখে বেশ পূলক অনুভূত হয় তার যদিও এর আগে বিশেষ কোনো ম্যাজিক উনার মন কাড়তে পারতো না। সে যাই হোক,ব্যাপারটা এখানেই শেষ হতে পারতো কিন্তু শুরু হয় রাতে, যখন মবিন উদ্দীন বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে রেল স্টেশনে আবার সেই ম্যাজিশিয়ান ছেলেটার দেখা পান। বলে রাখা ভালো ম্যাজিশিয়ান এর বয়স খুব একটা বেশি ছিল না,সে ছিল বয়সে বেশ তরূন। মবিন সাহেবের সন্দেহ ছিল ছেলেটাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে তার স্ত্রী সাহেবা বেশ রাগ করবেন,কিন্তু হলো তার উলটা। মানবতার খাতিরে রাতে ভাত খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে ছেলেটাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে মিসেস মবিন খুব একটা রাগ করলেন না বরং ম্যাজিশিয়ানকে আরোও কাছে টেনে নিলেন কারণ জাদুকর ছিল তাদের মৃত ছেলে টুনু'র মত দেখতে। জাদুকর নিজেকে গাছ দাবী করতো। সে যেন মানুষের। মনের কথা বুঝতে পারতো। শেষ দিকে আরোও নানান অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়ে সে ফিরে যায় তার ভবঘুরে জীবনে। কি ছিল সেই ঘটনাগুলো? জানেন না? হুমায়ূন আহমেদের "কালো জাদুকর" বইখানা পড়লে ঠিক ই জানতে পারবেন !
বই - কালো জাদুকর লেখক - হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনী- পার্ল পাব্লিকেশন্স মূল্য- ২০০ পৃষ্ঠা - ৯৬
বইটা পড়ার সময়, মিসির আলী সিরিজের 'অন্যভুবন' বইটার কথা মনে পড়লো৷ কাহিনী প্রায় একই, শেষে দু'জনেই গাছ হয়ে যায়। তবে এই বইয়ের শেষটা সুন্দর। ভেবেছিলাম সুপ্তির অবস্থাও বুঝি পারুলের মতোই হবে৷ [প্রচ্ছদ বিচ্ছিরি লেগেছে]
হুমায়ুন আহমেদের প্রথম পড়া বই খুব সম্ভব কালো জাদুকর, সালটা সম্ভবত ২০০০ সালের একটু আগে কিংবা পরে হবে। কৈশোরে পড়া এই বইটি মুগ্ধ করেছিলো। সহজ ভাষা আর সরল বর্ণনাই হয়তো মূল কারণ। যদি ও হুমায়ূন মোহ কেটে গেছে অনেক আগে, তারপরও প্রথম প্রেমের মতো প্রথম পড়া উপন্যাসের প্রতি একটা বাড়তি টান এখনো আছে। আবারও পড়ার আগ্রহ জন্মেছে, দেখতে চাই পাঠকের মৃত্যু ঘটে কিনা?
আচ্ছা অগর ভাইয়া, রঙ আসলে কি? তোমরা কি করে একটা আম কাঁচা না পাকা দুর থেকে দেখেই বুঝতে পারো? -টগর বলে, রঙ দেখে। -সেই রঙ কি? টগর বুঝাতে পারেনা পারুলকে। আসলে যার চোখ আছে তার কাছে রঙ বিষয়টা যত সহজ, তত সহজ না একজন দৃষ্টিহীন মেয়ের কাছে। কিন্তু তার যে কি আকুলতা তা আমরা কি করে বুঝবো?
পারুল টগরকে 'টগর' বলতে পারেনা, অগর বলে। সে 'ট' উচ্চারণ করতে পারেনা। বড় হবার পর 'ট' উচ্চারণ করতে পারলেও তার ভাইয়ের 'ট' টা 'অ'-ই থেকে যায়।
অগর ভাইয়া, মৃত্যুর আগে আগে নাকি অন্ধরা চোখে দেখে, বধিরও কানে শুনতে পায়? এটা কি সত্যি? -কে বলেছে -রহিমা খালা বলেছে -ঠিক বলেনি পারুল গম্ভীর গলায় বলল, আমার মনেহয় ঠিকিই বলেছে। মৃত্যুর আগে মানুষ প্রাণ ভরে পৃথিবী দেখবে এটাই স্বাভাবিক। বুঝলে ভাইয়া আমি আর কিছু চাই না, শুধু একবারের মত রঙ ব্যাপারটা দেখতে চাই... বইটা না পড়লে এই আবেগ বোঝা কষ্ট।
আচ্ছা আমরা গল্পে আসি। সেই টগর বর্তমানে 'মবিন উদ্দিন ' সাহেবের বাড়িতে। কারন, এক সকালে মবিন উদ্দিন তাঁর বোনের বাসার উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছেন। পথের ধারে এক জটলা দেখে সেখানে দাঁড়ায় কিছুক্ষন মবিন সাহেব। একটা কালো ছেলে এই ঠান্ডার মধ্যেও পাতলা শার্ট আর হাফ প্যান্ট পড়ে ম্যাজিক দেখাচ্ছে। অন্য অনেকেই ম্যাজিক দেখায়, সেখানে অনেক ছলচাতুরী থাকে��� অনেক কথার ফুলঝুরি ছোটে। সেখানে ছেলেটা কথাই বলছেনা। এবং সবার সামনেই ম্যাজিক দেখাচ্ছে। জটলায় অনেক মানুষই আছে, কিন্তু মবিন সাহেবের মনে হলো ছেলেটি তারদিকেই তাকিয়ে আছে। এবং হালকা যেন হাসলোও। মবিন সাহেব চলে গেলেন বোনের বাসায়। ফিরছেন রাত ১২ টার দিকে। ফাঁকা স্টেশনের এক কোনায় মবিন সাহেব সেই কালো যাদুকরকে দেখে অবাক হন। এবং কথা বলে জানতে পারেন সে ক্ষুধার্ত। ছেলেটার সাথে কথা বলে ঠিক করা হলো ছেলেটা মবিন সাহেবের সাথে তাঁর বাড়িতে যাবে। এবং রাতে খাবে।
রিকশা করে আসতে আসতে মবিন সাহেব ভাবছেন ছেলেটির উপর এত মায়া জন্মালো কেন। তাঁর ছেলে টুকুও এই ছেলেটার বয়সী। আচ্ছা, কোনো দিক থেকে কি টুকুর সাথে এর মিল আছে? কই নাতো, মিলতো ঐ নামে এই যা। ছেলেটির নামও টুকু। এটাতো হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে এই ছেলেকে দেখে বারবার তাঁর ছেলে টুকুর কথা কেন মনে পড়ছে? আর এখন মনে হচ্ছে ছেলেটা বেশ ফর্সা। তাহলে ঐ সময় কালো লাগলো কেন? এই ভাবতে ভাবতে মবিন সাহেব বাড়িতে চলে এলেন। স্ত্রীকে কি জবাব দেবেন সেটাও ঠিক করার সময় পেলেন না। বাড়ির দরজা খুলে দিলো তাঁর অপরূপা সুন্দরী ১২ বছর বয়সী দৃষ্টিহীনা মেয়ে 'সুপ্তা'। এই মেয়েকে মবিন সাহেব অসম্ভব ভালোবাসেন। রাতের ভাত খেতে দিলো সুপ্তা। কারন তার মা বেজায় রেগে আছেন মবিন সাহেবের উপর। রাত দুপুরে অচেনা একটা মানুষ ধরে আনছে তার উপর সে আবার ম্যাজিক ফ্যাজিক দেখায়। এরা মানুষ হিসেবে অসৎ। এ জন্যেই রেগে আছেন। সুপ্তা অন্ধ হলেও চলে একদম স্বাভাবিক মানুষের মত। মানুষ বড় অদ্ভুত!!!
ভাত খাওয়ার সময় কি এক কথা বলে উঠে টুকু, আর তখন তার গলার স্বর শুনে সুপ্তার শরীরে যেন এক ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। গলার স্বরটা যেন অবিকল তার ভাই টুকুরই গলা। সেখান থেকে উঠে চলে যায় সুপ্তা। গিয়ে মাকে বলে। মা জানালা দিয়ে ছেলেকে দেখেই কেমন যেন করে উঠলেন, সুপ্তা বুঝতে পারে। মার মনে হলো তাঁর টুকুই যেনো এখন ভাত খাচ্ছে। এও কি সম্ভব? এত মিল কি করে থাকতে পারে? পরদিন মবিন সাহেবের স্ত্রী ভালো কিছু খাওয়ানোর জন্য উঠে পড়ে লাগেন। ছয় বছর যাবৎ বাড়িতে ভাপা পিঠা বানানো হয় না। আজ হচ্ছে। মবিন সাহেব ছয় বছর পর আজ হঠৎ চা খেলেন। কিন্তু তার কাছে ব্যাপারটা তেমন অস্বাভাবিক মনে হলো না। কিন্তু এতো পরিবর্তন কি করে হতে পারে? জানতে ইচ্ছে করছেনা আপনাদের? তাহলে আসুননা বইটা পড়ে ফেলি☺
এভাবেই কাহিনী এগিয়ে যায়। মবিন সাহেবের ঘরে সকলের মনে এক চাঁপা আনন্দ। দিন যেতে থাকে। কিন্তু টুকু বা টগরকে বের করে দিতে চায়না মবিন সাহেবের স্ত্রী।
এদিকে ভগ্নীপতির চাপে পড়ে মবিন সাহেব তার বইয়ের দোকানটি বিক্রি করে দেয়। অমায়িক, সদালাপী, বিনয়ের অবতার তার ভগ্নীপতি টাকা নিতে ঘরে আসলে মবিন সাহেব তার দিকে তাকিয়েই চমকে যান। এবং দুঃখে তাঁর মনটা এতটুকুন হয়ে যায়। কিন্তু হয়েছিলো কি? কি এমন দেখেছিলো ভগ্নীপতির মধ্যে?
----- অসাধারণ কাহিনী পড়লাম। জগতের সবকিছুরই কি মানে থাকতে হবে? নাকি রহস্য উন্মোচন করা উচিৎ। সব ঘটনা সত্যিকি ব্যাখ্যা করা যায়?
লেখক তাঁর বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন--
"আমি যা বিশ্বাস করি তাই লিখি। অবিশ্বাস থেকে কিছু লিখতে পারিনা। আমার বিশ্বাসের জগৎটা আবার খুবই বিচিত্র। সেই বিচিত্র বিশ্বাসের একটা গল্প লিখলাম। গল্পটিকে গুরুত্বের সাথে না নিলেই ভালো হবে।"
আমিও তাই বলতে চাই।☺ কি লাভ যুক্তি খুঁজে? 'পার্ল পাবলিকেশন' থেকে প্রকাশ করা বইটির গায়ে মূল্য ১৫০ ৳। টাকা বড় কথা না। বইটা পড়ে আমি যথেষ্ট আনন্দিত।
✳ "মানব জীবন অল্প দিনের। এই অল্পদিনে যা দেখার দেখে নিতে হবে। মৃত্যুর পর দেখার কিছু নেই। দোজখে যে যাবে --সে আর দেখবে কি -- তার জীবন যাবে আগুন দেখতে দেখতে। আর বেহেশতেও দেখার কিছু নেই। বেহেশতের সবই সুন্দর। যার সবই সুন্দর তার সৌন্দর্য বোঝা যায় না। সুন্দর দেখতে হয় অসুন্দরের সঙ্গে।"
"গুনধর ছেলে সে মায়ের আদর খেলতো না, হাসতো না, নামটি সাগর তনুকায় কৃশকায় মুখটি করুণ। ছেলেটি কী খেত -- আপনি বলুন।"
বই - কালো যাদুকর। লেখক - হুমায়ূন আহমেদ।
মবিন উদ্দিনের সাথে রাস্তায় দেখা হয় কালো যাদুকর টুনুর।মায়া বশত তিনি ছেলেটিকে বাড়ি নিয়ে আসেন। উদ্দেশ্য ভাত খাইয়ে বিদায় করে দিবেন। টুনুর প্রতি মবিন উদ্দিনের স্ত্রী সুরমা ও জন্মান্ধ মেয়ে সুপ্তির মায়া পড়ে যায়।ফলে টুনুর আর যাওয়া হয় না।এছাড়া এই রহস্যময় ছেলেটির সাথে তাদের মৃত ছেলের আশ্চর্য রকমের মিল রয়েছে। টুনুর বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনার সাথে ধীরে ধীরে মবিন উদ্দিনের পরিচয় ঘটতে থাকে।তাকে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করা হলে সে শুধু বলে, সে একটি গাছ। বাড়ি থেকে চলে যাবার আগে টুনু তার পরিচয় লিখে রেখে যায়। সেখান থেকে জানা যায় টুনুর আসল নাম টগর।শৈশবে মাতৃশোকে যখন সে অসুস্থ ছিল, তখন তার বাবা ছেলেকে বাঁচাতে একটি শিউলি গাছের সাথে জড়িয়ে রাখেন।এতে গাছটি মারা যায় কিন্তু টগর সুস্থ হয়ে যায় এবং গাছের অর্ধেক বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে চলে আসে।
✒জটিল ব্যাপার থেকে মেয়েদের দূরে রাখাই নিয়ম।সমস্যার শুরুতে মেয়েদের জানানো মানে সমস্যা আরও জট পাকিয়ে ফেলা।নিয়ম হচ্ছে সমস্যা শেষ হলে যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব করে মেয়েদের জানানো। ✒যাদের ক্ষমতা বেশি থাকে তারাই কখনো অন্যকে সেই ক্ষমতা দেখায় না।ক্ষমতা যত অল্প হয় সেই ক্ষমতা প্রদর্শনের ইচ্ছাও তত বেশি হয়। ✒মানবজীবন অল্প দিনের। এই অল্পদিনে যা দেখার দেখে নিতে হবে। মৃত্যুর পর দেখার কিছু নেই।দোজখে যে যাবে - সে আর দেখবে কী - তার জীবন যাবে আগুন দেখতে দেখতে।আর বেহেশতেও দেখার কিছু নেই।বেহেশতের সবই সুন্দর। যার সবই সুন্দর তার সৌন্দর্য বোঝা যায় না।সুন্দর দেখতে হয় অসুন্দরের সঙ্গে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
হুমায়ূন আহমেদের রচনার বিস্তৃতি মনুষ্যজগত ছাপিয়ে পশুপাখি-গাছপালাকেও ছুঁয়েছে। পোকা,পুফি ইত্যাদি গ্রন্থে তিনি পশুপাখিদের নিয়ে লিখেছেন।কালো জাদুকর বইটির রহস্য গাছ নিয়ে।গাছের অনুভূতি শক্তি,ক্ষমতা,দয়াশীলতা, চিন্তাভাবনা ইত্যাদি নিয়ে। আমাদের দেখা চিরাচরিত এই বোবাপ্রকৃতি যে আসলে বোবা নয় সেই কথায় যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন গল্পের জাদুকর! একজন সাধারণ যুবকের গাছ হয়ে ওঠার গল্প এটি। হাসি-কান্না,সাংসারিক দুঃখ- কষ্ট, ভাইবোনের খুনসুটি,প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সমাজের দৃষ্টি সহ বেশ কিছু দিক উঠে এসেছে এই বইয়ে।
আমার এই বইটা পড়ে অগোচরে কেন জানি কান্না এসে গেছে। জানিনা।আমি অস্থির কিংবা খুব বেশী complex সময় কাটানোর সময় আমি হুমায়ুন আহমেদ পড়ি।
আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের মনকে একটু হালকা করতে গুরুগম্ভীর So called পাঠকের ন্যায় বলে বসি হুমায়ুন কিতাব সহজ এবং সস্তাময় জটিল।
এই বইয়ের সাথে আমার জীবনের কিছুটা মিল আছে। সহজ সরল গল্পটা এক বোনের, এক পরিবারের ভাই হারানোর,এক গাছের মতো রহস্যময় জাদুকর ছেলের আর তার জীবনের হারানো মানুষের।
অন্ধ মানুষের রঙ দেখা কিংবা পানিতে পড়ে অপমৃত্যু কিংবা প্রিয় স্বজন হারানোর তীব্রতা এই সস্তা লেখক কিভাবে যেন মানুষের মনে দাগ ফেলে দিতে পারে!!
লেখকের মিসির আলী সিরিজের অন্যভূবন গল্পেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি পেয়েছি। লেখকের মানুষকে গাছ কল্পনা করা এবং গাছের জন্য তাঁর মমতা বার বার প্রকাশ পেয়েছে। কালো জাদুকর গল্পেও শেষ পর্যন্ত suspense ধরে রেখেছেন, এক নিশ্বাসে শেষ করার মতো একটি বই। ভাল লেগেছে। কাল্পনিক, রহস্যময় যেকোন বয়সের পাঠক পাঠিকাদের জন্য পড়ার মতো একটি বই।
গল্পটির প্লট যতটা আজগুবি, গল্পের মানবিক আবেগের জায়গাটা ততটাই বাস্তব। টুনুর মত কারও সঙ্গে আমাদের কোনোদিনই দেখা হবে না। আব্দুল মজিদদের সাথে দেখা হবে, সুপ্তিদের সাথেও দেখা হবে, ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা বা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার মত ধূসর বাস্তব জীবনের সাথেও দেখা হবে।
দারুণ সাইকোলজিক্যাল একটা বই। আগের যুগে যে থ্রিলার, ফ্যান্টাসি লেখা হতো না ব্যাপার একেবারেই ভুল। আগের যুগে থ্রিলার, ফ্যান্টাসি লিখতেন হুমায়ূন আহমেদ। দারুণ সব বই। বইগুলো কোনো স্বাভাবিক বই ছিল না। এই বইটাও স্বাভাবিক নয়, অতি অস্বাভাবিক এবং দারুণ। এই বইটাও হুটহাট শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু শেষটা দারুণ বিষাদময় ও একই সাথে আবেগঘন ছিল। অসাধারণ একটা বই। হাইলি রেকমেন্ডেড ফর এভ্রিওয়ান!
এই বইয়ে ৫ স্টার দিতে হলে প্রচুর ধৈর্য নিয়ে পড়তে হবে। পড়তে বসার আগে ধৈর্য নিয়ে পড়তে বসলে সর্বোচ্চ মজা নেওয়া সম্ভব..... তবে বোরিং না হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে তা নয়.... সর্বোচ্চ মজা নেওয়ার জন্য ধৈর্য ধরা..... খুব ভালো....💕 হুমায়ুন আহমেদর জন্য ভালোবাসা...🌹❤