জীবনী, স্মৃতিকথা পড়তে কখনোই ভালো লাগে না আমার, এবারও ব্যতিক্রম নয়। লেখা, কাজ, সৃষ্টি ভালো লাগে যাদের, দিন শেষে তারাও রক্ত-মাংসেরই মানুষ, জীবনের সমস্যা ও ঘটনাপ্রবাহ খুব আলাদা নয়। তাই ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে পড়তে/জানতে আমার আগ্রহ বরাবরই কম, বরং তাদের কাজ/সৃষ্টিকর্মের সময়ে আসা নানান সমস্যা, কী করে সেগুলোর সমাধান করা গেল, এসব জানতে বেশি ভালো লাগে।
ভেবেছিলাম সিনেমাগুলোর শুটিং নিয়ে আরও বর্ণনা থাকবে, সত্যজিতের লেখার রুটিন নিয়ে, খুব একটা মনভরানোর মতো তেমন কিছু পেলাম না ৫০০+ পৃষ্ঠার স্মৃতিচারণে। নতুন তথ্যের মাঝে ঘরের জীবন, দৈনন্দিন দিনযাপন কেমন ছিলো সত্যজিতের, স্ত্রী আর সন্তানের সুস্থতা, মঙ্গলের জন্যে কী পরিমাণ অস্থির থাকতেন, অসুখ-বিসুখ নিয়ে ভয়ে থাকতেন, আর নিজে সাংসারিক বা নিজেরও দেখাশোনার কোন কাজই করতেন না, ভাবতেন না, এটা জানলাম। বিজয়া রায়ের ছোটবেলার জীবন, পাটনায় সংস্কৃতিমনাদের জীবন, কোলকাতায় ওদের পরিবারের (সত্যজিতের মামাবাড়ি) আচরণ, কাজকর্ম, এগুলো ইন্টারেস্টিং ছিলো।
বই পড়তে পড়তে কয়েকবার মনে হলো বিজয়া রায়ের লেখনীও কিঞ্চিৎ একঘেঁয়ে - একই জন্মদিন, ক্রিসমাসে একমাত্র ছেলেকে দেয়া উপহারের বর্ণনা, যাবতীয় অসুখ-বিসুখের বিবরণ, একগাদা মানুষের নাম। কিন্তু কোন একটা বিশেষ ঘটনার তথ্য দিতে গিয়ে ডিটেইলস অনেক কিছুই লেখা নাই, বা ২ পৃষ্ঠা পরে গিয়ে তথ্যটা থাকায় গোলমেলে হয়ে যায়, মোট কথা অত গোছানো লেখা মনে হয়নি, কাজেই খুব সুখ-পাঠ্য ছিলো না।