যদি কোথাও গিয়ে বলি আমার হুমায়ূন আহমেদের লেখা পছন্দ না, সেখানেই আমাকে ওয়াশ করে ছাড়বে। হুমায়ূন আহমেদের লিখা প্রথম বই পড়েছিলাম 'অদেখা ভুবন', যাতে একটা গল্প ছিলো তেলাপোকা সম্পর্কিত। ছেলের মাকে তেলাপোকা খেয়ে ফেলে, বাবা ছেলেকে সামলাতে না পারায় ছেলের মামা এসে ছেলেকে নিয়ে যায়, একসময় মামার মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে হয়। চরম পর্যায়ের বিরক্ত লেগেছিলো তেলাপোকা মানুষকে খেয়ে ফেলে এসব কি আজগুবি মার্কা কথা...সঙ্গে যাবতীয় প্রতিটা বিষয় খুবই অবাস্তব। এরপর থেকে হুমায়ূন আহমেদের বই যাচাই করে সংগ্রহ করি। তবুও পড়ি কারণ অনেকগুলো কারেক্টার নিয়েও বেশ গুছিয়ে লিখতে পারে, প্যাটার্ন ভালো লাগে। কিন্তু গল্পের ঘটনা গুলো ভালো লাগে না। যখন ওনার বই কমবেশি অনেকগুলো পড়া হয়েছে, তখন গিয়ে লক্ষ করি লেখায় কেমন যেনো নতুনত্ব নেই, সবগুলো একই দাচের! ওনার বই পড়ে আগামাথা খুঁজে পাই না। বেশির ভাগ গল্পেই খোলা-মনে চিন্তাভাবনার সমাপ্তি, এটা লেখকের স্টাইল বলা যায়, নেগেটিভ কোনো পয়েন্ট না। অধিকাংশ গল্পেই এতো উচ্চ পর্যায়ের অবাস্তব বিষয়বস্তু, আর অতিরঞ্জিত কাল্পনিক ব্যাপার থাকে যা খুবই বিরক্তিকর। প্রতিটা লেখকের গল্পই অবাস্তব, কিন্তু বাস্তব সাদৃশ্যের মিল থাকে । হুমায়ূন আহমেদের গল্পে যেসব কান্ড থাকে...(না'ই বলি)। মাত্রাতিরিক্ত ফেন্টাসি থাকে গল্পে, যার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরা মানসিকতার ওপর শুভ লক্ষ্মণ নয়। তবে কিছু বই আছে যা বেশ ভালো লেগেছে, যেমন 'জোছনা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, বাদশাহ নামদার, লিলুয়া বাতাস, নন্দিত নরকে'। কিন্তু অধিকাংশই ব্যক্তিগত ভাবে বিরক্তিকর লেগেছে।