সেদিন বিকালে আকাশে অনেক মেঘ জমেছিল। ঘন কালো মেঘে ঢেকে ছিল চারপাশটা। কালবৈশাখীর লক্ষণ, কিন্তু বৈশাখ,জৈষ্ঠ তো শেষ! তবে এ কোন বেলার ঝড়?
সে যাইহোক, যখনই আকাশ মেঘলা হয় আর ঝড় আসার পূর্বাভাস পাই, তখন আমার তারানাথ তান্ত্রিক পড়তে মন চায়। বৃষ্টির সাথে এই বইটার গোপন এক যোগবন্ধন আছে হয়ত। কিন্তু, সেদিন আমার মন চাচ্ছিল অন্য কিছু পড়তে। যাদু,তন্ত্র-মন্ত্র কিংবা ভৌতিক কিছু পড়তে ইচ্ছে হচ্ছিল না। ওই সময়ের আবহাওয়াটা যেহেতু গুমোট ছিল আর চারিদিকে ক্রমান্বয়ে অন্ধকার হয়ে আসছিল, অনেকটা অন্তর জুড়ে বিষন্নতা ছড়িয়ে পড়ার মতন। তখন ঠিক করি, মন খারাপ হয়ে যাবে এমন একটা বই পড়া শুরু করব। আর হুমায়ূন আহমেদের থেকে কে বেশি এক্সপার্ট পাঠকের মন ভাঙার জন্য? আমার জানা মতে কেউ নাই।
সময় বিশেষ ভাবে বিবেচনায় রেখে বুক সেলফ থেকে একটা বই নামাই, যার নাম "আকাশ জোড়া মেঘ"। কয়েকমাস আগে মেঘ বলেছে যাব যাব বইটা ভালই ট্রমা দিয়েছিল আমায়। এটায়ো মেঘ, তো আমার প্রাথমিক পর্যায় মনে হয়েছিল হয়ত এটাও ওমনই হবে। অতঃপর শুরু করি পড়া।
গল্পের প্রধান চরিত্র অপলা। ধনী মেয়ের একমাত্র মেয়ে। তাদের বাসার ডাইনিং রুম সাজাতে আসে এক ছেলে তার নাম ফিরোজ। এরপর.. আর দশটা হুমায়ূন রাইটিং এর মতনই। সেম রিপিটেশন।
গল্পে একটা বৃহৎ টার্ন পয়েন্ট আসে যখন অপলা নিজের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারে... ওয়েট, আচ্ছা এমন কনসেপ্টের বই আগেও পড়েছি না...কি যেনন নামটা! রাইটার হুমায়ূন আহমেদ এটে শততত ভাগ সিওর কিন্তু নামটা কিছুতে মনে আসছে না। এই পাগলাটে লেখক এক জীবনে এত এত এত এত লেখা লিখছে যে হাতে গোণা কয়েকটা বাদে বাকি গুলার নাম ভুলে যেতে হয়। মানুষের ব্রেন তো আর Chat gpt মতন সেভ করে রাখতে পারে না মেমোরী!
যাইহোক, বইটার শেষ অংশটা ধোঁয়াশায় রেখেই শেষ হয়েছ। তবে আমি ফিরোজের জন্য খুশি। আমার মনে কিঞ্চিৎ ভয় ছিল যে সে পাগলামো করে হয়ত বিয়ে থেকে পালায় যাবে কিন্তু সে তা করে নাই। এজন্য তাকে সাদুবাদ।
বইটা স্পেশাল কিছু না। কিন্তু যে সময়টায় বইটা শুরু করেছি, আর যে সময় বসে শেষ করেছি, দুইটা সময় ছিল স্পেশাল।
ঘড়ির কাটায় এখন ভোর ৫ টা বেজে ৩৪ মিনিট। রাতভর ঘুমাই নাই। গতকাল squid game এর s3 রিলিজ হল, সেটার ফাস্ট এপিসোড দেখছি রাতভর। এরপর আর পিসির সামনে বসে থাকতে মন চাচ্ছিল বা সেকেন্ড এপিসোড ও দেখতে মন চাচ্ছিল না বিধায় বিছানায় এসে শুয়ে পড়ি। এরপর বইটা হাতে নিয়ে শুরু করি... অনেক অনেক পৃষ্ঠা পড়ে গেছি এক নাগাড়ে। আর মজার বিষয় হচ্ছে বাসার বাইরে খুব জ্বোরে স্বোরে বৃষ্টি হচ্ছে। বাসার নিচ তলায় একটা ছোট্ট টিন বাঁকা করে রাখা। ওটার পর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার শব্দ কানে গেঁথে গেছে, হয়ত বৃষ্টি থেমে গেলেও শুনতে থাকব। বইটা শেষ করে সাংঘাতিক মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়ে গেছে। চোখ খুলে তাকাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এর কারণ হয়ত সমস্ত রাত না ঘুমিয়ে কাটানো, বা কি জানি! এজন্য রিভিউ লিখতে গিয়ে বই সম্পর্কে কম আর নিজের সম্পর্কে বেশি লিখে ফেলতেছি। তাতে কী? কি যায় আসে?!