একটা ধবধবে শাদা বিড়াল। লেজটা কুচকুচে কালো। অন্য বিড়ালদের সঙ্গে তার কোনো তফাৎ নেই। সে আরাম করে সোফায় শুয়ে ঘুমায়। হাই তুলতে তুলতে টিভিতে হিন্দি সিরিয়াল দেখে। তার প্রিয় সিরিয়াল "ইহা মে ঘর ঘর খেলি।"বিড়ালটার একটাই সমস্যা, ক্যামেরায় তার ছবি আসে উল্টা, মিরর ইমেজ।
জোয়ার্দার সাহেব পশুপাখি পছন্দ করেন না। জন্মদিনে অনিকার মামা একটা বিড়াল গিফট দেয়। বিড়ালটা কুচকুচে কালো, লেজটা সাদা, মাথায় সাদা স্পট আছে, অনিকা নাম রেখেছে পুফি।
পুফি বাসায় না থাকলে তার মত অবিকল আরেকটা বিড়াল এসে হাজির হয়, পুফির ডান চোখে সাদা দাগ থাকলেও এটার বাম চোখে সাদা দাগ।
কিন্তু বিড়ালটা আসার পর থেকে জোয়ার্দার সাহেবের জীবন এলোমেলো হয়ে যায়, যখন তিনি বাসায় একা থাকেন তখন অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকে। মৃত মানুষকে তার ঘরে হাঁটাচলা করতে দেখেন, ছোটবেলার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া তার বন্ধু জামাল প্রায়ই তার বাসায় আসে, তার অফিসের কলিগ যে কিনা হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছিল, সেও প্রতি রাতে তার সাথে বসে মুভি দেখে।
এগুলো দেখে জোয়ার্দার সাহেব শায়লা নামের এক সাইকিয়াট্রিস্ট এর শরনাপন্ন হন। কিন্তু শায়লা ও এর আগে এমন সমস্যা কখনো দেখেননি, তাই তিনি ছবি তুলে আনতে বলেন। জোয়ার্দার সাহেব মৃত মানুষদের ছবি তুলেতে সক্ষম হন, কিন্তু শায়লা দেখেন সবগুলো ছবি আয়নার প্রতিচ্ছবির মত উল্টো। তিনি কোনো সমাধানে তো পৌঁছতে পারেননি, উল্টো জড়িয়ে পড়েন বিড়ালের গোলক ধাঁধায়, শরনাপন্ন হন মিসির আলির।
কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু উল্টে যায়, বিড়ালটার কি ডানচোখে স্পট ছিল না কি বাম চোখে তা নিয়েই ভাবতে থাকেন শায়লা ও জোয়ার্দার। নতুন এক অদ্ভুত জগৎ উপস্থিত হয় তাদের সামনে, কিন্তু সেই জগৎটা কার পুফির, শায়লার নাকি জোয়ার্দার এর ।
পাঠ প্রতিক্রিয়া
হুমায়ূন আহমেদের গতানুগতিক ধারার উপন্যাস থেকে এটা একটু আলাদা। বইটির নামকরণেও লেখক ‘ফুপি’ নামটি উল্টো করে লিখেছেন “পুফি” যেটা বইটির ভেতরের কন্টেন্ট এর প্রতিফলন বলা যায়।
গল্পের মূল চরিত্র জোয়ার্দার কিছুটা হিমুর ফ্লেভার দিবে। পুরো গল্পজুড়ে জোয়ার্দার মেইন ক্যারেক্টার হিসেবে থাকলেও শেষে গিয়ে দেখা যায় পাঠকের মাথার সাথে সাথে মেইন ক্যারেক্টারও ঘুরে যায়।
হুমায়ূন আহমেদ পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেন Self created reality অথবা Double reality র সাথে । এটা এটা এমন একটা ব্যাখ্যার অতীত এক জগৎ যা বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবতার খুব কাছাকাছি যা বইয়ের শেষে পাঠককে দ্বন্দ্বে ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। উপন্যাসটির অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি , টাইম প্যরাডক্স আর দ্বৈত বাস্তবতার বিষয়টি একে অন্য সব উপন্যাস থেকে আলাদা করে তুলেছে। তবে গল্পে কিছু প্লট হোল ছিল ছিলো এবং পাঠক হিসেবে আপনি হয়তো আরেকটু ভালো সমাপ্তি আশা করবেন এছাড়া বাকি সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। তবে ঘটনার ফ্লো পাঠককে এমনভাবে আটকে রাখে যে এটা আপনি একবারে পড়ে শেষ না করে পারবেন না। তাহলে আর দেরি কিসের পড়ে ফেলুন “পুফি” আর ডুব দিন টাইম প্যরাডক্স এর অন্য এক জগতে।
বুক রিভিউ: পুফি
ধরন : উপন্যাস
লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশনী : অনন্যা
আমার রেটিং ৩.৮/৫