What do you think?


Trisna
দুজন ব্যর্থ মানুষের কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসটি। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শওকত ও একটি খ্রিস্টান মেয়ে মার্থা। শওকত একজন ব্যর্থ মানুষ। যে মানুষটির কোন স্বপ্ন নেই কোন লক্ষ নেই। নেই এই বৃহৎ সংসারের প্রতি কোন মায়া। অপরদিকে মার্থা চরম আশাবাদী একজন মহিলা। যে কিনা শওকতকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হয় তার স্বপ্ন??? এতো ছোট বই... এটিকে উপন্যাস না বলে বড়গল্প বলাই ভালো। যেকোন অবস্থায় হাতে নেয়ার মতো বই। আর পড়তে নিলে শেষ করে ফেলবেন এক নিশ্বাসে শেষ করে ফেলবেন.... ক্ষুদ্র সময়ের জন্য হলেও বইয়ে ডুবে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই, কারণ কোন না কোন ভাবে এটা আমাদেরই গল্প....
Hardcover
First published January 1, 1962
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 83 reviews
March 1, 2021
* dynamic writing style
* unique writing style
* small in size, thoughtfully big
* tragic
* dark
* love
* experimental work
আমরা সবাই জানি জহির দা সহজ ভাষাতে, কোন জটিলতা ছাড়া অসাধারণ কিছু লেখেন।
কিন্তু এই উপন্যাস টা বেশ জটিল ধারার, আর philosophically এটার চিন্তার বিশালতা অনেক বিস্তর।
এই ৪০/৫০ পৃষ্ঠার বইটি কাল শেষ করে এখনো এটা নিয়ে চিন্তা করছি আমি......
অনেক প্রশ্ন ছোড়ে দিয়েছেন উনি পাঠকের দিকে এই ছোট উপন্যাস দ্বারা! আর, এমন dark একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন যা আপনার মনকে বিষন্ন করে দিবে! মনে হবে "কি নির্দয়, কি পাষাণ এই লেখক!!"
আবার বলছি, এটা ৪০/৫০ পৃষ্ঠার হলেও এটার চিন্তার বিশালতা অনেক
--------------------------------++++++++++++++++++
চিন্তাশীল দৃষ্টিতে বইটার নামের সার্থকতা চোখে পড়ার মতো
আপনি পড়বেন, খুব ভালও লাগবে....
কিন্তু তৃষ্ণা যেন মিটলো না! আপনি ভাববেন, আরো ভাববেন, আবার পড়বেন, তারপর নতুন করে আবার কিছু আবিষ্কার করবেন, তারপর আবার পড়বেন, আবার ভাববেন......... চলতে থাকবে এভাবে....
বিশাল পরিমাণের পানি খেয়েও যেন আপনার তৃষ্ণা মিটলো না....
* unique writing style
* small in size, thoughtfully big
* tragic
* dark
* love
* experimental work
আমরা সবাই জানি জহির দা সহজ ভাষাতে, কোন জটিলতা ছাড়া অসাধারণ কিছু লেখেন।
কিন্তু এই উপন্যাস টা বেশ জটিল ধারার, আর philosophically এটার চিন্তার বিশালতা অনেক বিস্তর।
এই ৪০/৫০ পৃষ্ঠার বইটি কাল শেষ করে এখনো এটা নিয়ে চিন্তা করছি আমি......
অনেক প্রশ্ন ছোড়ে দিয়েছেন উনি পাঠকের দিকে এই ছোট উপন্যাস দ্বারা! আর, এমন dark একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন যা আপনার মনকে বিষন্ন করে দিবে! মনে হবে "কি নির্দয়, কি পাষাণ এই লেখক!!"
আবার বলছি, এটা ৪০/৫০ পৃষ্ঠার হলেও এটার চিন্তার বিশালতা অনেক
--------------------------------++++++++++++++++++
চিন্তাশীল দৃষ্টিতে বইটার নামের সার্থকতা চোখে পড়ার মতো
আপনি পড়বেন, খুব ভালও লাগবে....
কিন্তু তৃষ্ণা যেন মিটলো না! আপনি ভাববেন, আরো ভাববেন, আবার পড়বেন, তারপর নতুন করে আবার কিছু আবিষ্কার করবেন, তারপর আবার পড়বেন, আবার ভাববেন......... চলতে থাকবে এভাবে....
বিশাল পরিমাণের পানি খেয়েও যেন আপনার তৃষ্ণা মিটলো না....
April 20, 2021
মানুষে মানুষে এত চরম অশান্তির মূলে আছে রিপু। আরও পরিষ্কার ভাবে বললে ষড়রিপু: কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ (গর্ব, অহংকার দুটিকেই বোঝায়) এবং মাৎসর্য্য (হিংসা/ পরশ্রীকাতরতা)। আমার মনে হল তৃষ্ণা নামক এই ছোট্ট বইটিতে এগুলোর স্বরূপই দেখানো হয়েছে।
শুরুতেই দেখা যায় একটি সুন্দর সকালে খড়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে একজোড়া মানুষ। ১৮ জোড়া আইনের পা ধীরে ধীরে চারপাশ থেকে এসে বৃত্তাকারে ঘিরে দাঁড়ালো। তারপরই এসব হাওয়া হয়ে যায়, হঠাৎ করে উদয় হয় সবজান্তা বুড়ো আহমদ হোসেন। ছেলেটা তার বিশ বছর ধরে জেলে। শওকতের সামনে কেঁদে ফেলে লোকটা। হঠাৎই শওকতকে ডেকে ওঠে মার্থা গ্রাহাম। মার্থা কাজ করে এক ঔষধের ডিসপেনসারিতে, আর শওকত বেকার। রিকশায় করে ওরা একটা ঘিঞ্জি বাসায় আসে। অনেক মানুষের বাস এখানে। একেকজন ঘর ভাড়া করে থাকে। ওরাই তাই-ই, প্রতিবেশী কিংবা একটু বেশি! এখানেই দেখা মেলে এক বউ পেটানো মাতালের; দেখা যায় আরেকটা লোক যে তার স্ত্রীকে ঘরে তালা মেরে রেখে যায়; নাচিয়ে দলের মেয়েদের দেখা যায়; এক কুষ্ঠ রোগীকেও রাস্তায় বসে থাকতে দেখা যায়; দেখা যায় মাওলানার পরিবার।
কিন্তু ঐ যে অশান্তি! রিপু ছাড়ে না পিছু......
তাই শওকতের ভাবনায় মোয়া বিক্রি করা আয়েশাকে ধান ক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়; প্রতি রাতেই কেরানীটি তার বউকে পেটায়; সদ্য জুটি বাঁধতে চাওয়া জাহানারা আর হারুন ধরা খেয়ে যায় নাচিয়ে দলের সেলিনার উৎসুক চোখের কারণে; অন্যলোকটি বউকে তালা মেরে রেখে যাওয়া সত্ত্বেও শওকত একদিন দেয়াশলাইয়ের কাঠির আলোয় তাকে অন্য কারোর সাথে দেখে; মার্থার হাতে থাকা মোমবাতি নিভিয়ে ফেলে শওকত; নাচিয়ে দলের মেয়ে সেলিনা অনেকটা ভয় দেখায় তাকে; শওকতও ভয়ে ভয়ে থাকে; শওকতকে দেখা যায় অবশেষে বুড়ো আহমদ হোসেনের বাতলে দেয়া পথে চলতে; শেষের দিকে আমরা মার্থাকে দেখি স্বপ্নের মোহের কারণে দাঁড়িয়ে আছে গরাদের ওপাশে; ভয়-ক্রোধ অজানা শঙ্কায় কারো হাতে থাকে রক্তাক্ত দা। নাচিয়ে দলের মেয়েটিকে নিয়ে ছুটে চলে শওকত।
আবার দেখা যায় একটি সুন্দর সকালে খড়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে একজোড়া মানুষ। ১৮ জোড়া আইনের পা ধীরে ধীরে চারপাশ থেকে এসে বৃত্তাকারে ঘিরে দাঁড়ালো। শুরু দিয়েই শেষ, শেষ দিয়েই শুরু.......
অবশেষে নিজেকে প্রশ্ন করে জানলাম, ভালো ও মন্দ কোনোটাই লাগে নি। জ্বলজ্বল করা দুইটি তারা -_-
~২০ এপ্রিল, ২০২১
শুরুতেই দেখা যায় একটি সুন্দর সকালে খড়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে একজোড়া মানুষ। ১৮ জোড়া আইনের পা ধীরে ধীরে চারপাশ থেকে এসে বৃত্তাকারে ঘিরে দাঁড়ালো। তারপরই এসব হাওয়া হয়ে যায়, হঠাৎ করে উদয় হয় সবজান্তা বুড়ো আহমদ হোসেন। ছেলেটা তার বিশ বছর ধরে জেলে। শওকতের সামনে কেঁদে ফেলে লোকটা। হঠাৎই শওকতকে ডেকে ওঠে মার্থা গ্রাহাম। মার্থা কাজ করে এক ঔষধের ডিসপেনসারিতে, আর শওকত বেকার। রিকশায় করে ওরা একটা ঘিঞ্জি বাসায় আসে। অনেক মানুষের বাস এখানে। একেকজন ঘর ভাড়া করে থাকে। ওরাই তাই-ই, প্রতিবেশী কিংবা একটু বেশি! এখানেই দেখা মেলে এক বউ পেটানো মাতালের; দেখা যায় আরেকটা লোক যে তার স্ত্রীকে ঘরে তালা মেরে রেখে যায়; নাচিয়ে দলের মেয়েদের দেখা যায়; এক কুষ্ঠ রোগীকেও রাস্তায় বসে থাকতে দেখা যায়; দেখা যায় মাওলানার পরিবার।
কিন্তু ঐ যে অশান্তি! রিপু ছাড়ে না পিছু......
তাই শওকতের ভাবনায় মোয়া বিক্রি করা আয়েশাকে ধান ক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়; প্রতি রাতেই কেরানীটি তার বউকে পেটায়; সদ্য জুটি বাঁধতে চাওয়া জাহানারা আর হারুন ধরা খেয়ে যায় নাচিয়ে দলের সেলিনার উৎসুক চোখের কারণে; অন্যলোকটি বউকে তালা মেরে রেখে যাওয়া সত্ত্বেও শওকত একদিন দেয়াশলাইয়ের কাঠির আলোয় তাকে অন্য কারোর সাথে দেখে; মার্থার হাতে থাকা মোমবাতি নিভিয়ে ফেলে শওকত; নাচিয়ে দলের মেয়ে সেলিনা অনেকটা ভয় দেখায় তাকে; শওকতও ভয়ে ভয়ে থাকে; শওকতকে দেখা যায় অবশেষে বুড়ো আহমদ হোসেনের বাতলে দেয়া পথে চলতে; শেষের দিকে আমরা মার্থাকে দেখি স্বপ্নের মোহের কারণে দাঁড়িয়ে আছে গরাদের ওপাশে; ভয়-ক্রোধ অজানা শঙ্কায় কারো হাতে থাকে রক্তাক্ত দা। নাচিয়ে দলের মেয়েটিকে নিয়ে ছুটে চলে শওকত।
আবার দেখা যায় একটি সুন্দর সকালে খড়ের কোলে ঘুমিয়ে আছে একজোড়া মানুষ। ১৮ জোড়া আইনের পা ধীরে ধীরে চারপাশ থেকে এসে বৃত্তাকারে ঘিরে দাঁড়ালো। শুরু দিয়েই শেষ, শেষ দিয়েই শুরু.......
অবশেষে নিজেকে প্রশ্ন করে জানলাম, ভালো ও মন্দ কোনোটাই লাগে নি। জ্বলজ্বল করা দুইটি তারা -_-
~২০ এপ্রিল, ২০২১
July 15, 2024
|| 1000 books marked as read by this book on Goodreads ||
আমরা মানব জাতি যে অবস্থা বা যে সমাজেই থাকি না কেন কেউ ষড়রিপুর উর্ধ্বে নয়। উপন্যাস টা আপনি হালকা চালে পড়তেই পারেন, কিন্তু যদি একবার লেখকের মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখেন তবে তা আপনাকে এতটাই ভাবাবে যা ৪০০-৫০০ পেজের অনেক ফিলোসোফির বই ব্যার্থ।
জহির রায়হান অত্যান্ত সাবলিল ভাষায় এমন একটি উপন্যাস লিখে গেছেন যা সত্যিই মানবজীবনের অন্তর্নিহিত বিষয় গুলোর দিকে খুব গভীর ভাবে দৃষ্টিপাত করতে বাধ্য করে।
আমরা মানব জাতি যে অবস্থা বা যে সমাজেই থাকি না কেন কেউ ষড়রিপুর উর্ধ্বে নয়। উপন্যাস টা আপনি হালকা চালে পড়তেই পারেন, কিন্তু যদি একবার লেখকের মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখেন তবে তা আপনাকে এতটাই ভাবাবে যা ৪০০-৫০০ পেজের অনেক ফিলোসোফির বই ব্যার্থ।
জহির রায়হান অত্যান্ত সাবলিল ভাষায় এমন একটি উপন্যাস লিখে গেছেন যা সত্যিই মানবজীবনের অন্তর্নিহিত বিষয় গুলোর দিকে খুব গভীর ভাবে দৃষ্টিপাত করতে বাধ্য করে।
May 20, 2021
জহির রায়হান আমার বরাবরই ভালো লাগে। তাঁর এই উপন্যাসটা ছোট করে ছিমছাম একটা সুন্দর গল্প। ডার্ক, থট প্রভোকিং, সাইকোলজি, কামনা ও রিপুর নানান ডাইমেনশনের তৃষ্ণার গল্প। এই তৃষ্ণার মাঝে যারা শুধু শরীরের কামনাই দেখবেন তারা আসলে পুরোটা দেখেননি লেখক যা বোঝাতে চেয়েছেন। জীবনের তৃষ্ণা, একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার তৃষ্ণাই কি আমাদের জীবনকে চালিত করছে না সামনের দিকে যেমন এই তৃষ্ণাই চালিত করছে বাদামতলীর দেহপসারিনী নারীদের জীবনকেও?
জহির রায়হানের লেখার যে দিকটা আমার চোখে স্পেশাল লাগে তা হলো তাঁর ভিজুয়ালাইজেশনের অসাধারণ ক্ষমতা। প্রতিটা অক্ষরে, প্রতি শব্দের, প্রতি প্রতি বাক্যের গায়ে গায়ে সুঁই গেঁথে অদ্ভুতভাবে বিন্যস্ত একটা গল্প গড়ে তুলেন যা সিনেমার মতো অথবা সিনেমার থেকেও বেশি সিনেমা হয়ে উঠে মন্ত্রমুগ্ধ পাঠকের চোখে।
যাই হোক, তৃষ্ণা দেখলাম অনেকেই এক তারা দিয়েছেন বা দুই তারা। ভালো লাগেনি অনেকে বলেছেন। নানা মুনির নানা মত থাকেই। তবে আমার কাছে তৃষ্ণা বিন্দুমাত্রও অবিন্যস্ত বা অসংলগ্ন লাগেনি। মনে হয়েছে লেখক হাতে সময় নিয়ে বেশ গুছিয়েই শুরু থেকে শেষ করেছেন, শেষ থেকে শুরু করেছেন। আমি পরে আবারো পড়বো। মার্থা, শওকত, সেলিনা, মারখাওয়া কেরানির বৌ, জাহানারা ও হারুন, বুড়ো আহমেদ হোসেন সব চরিত্রায়ণই আমার ভালো লেগেছে।
জহির রায়হানের লেখার যে দিকটা আমার চোখে স্পেশাল লাগে তা হলো তাঁর ভিজুয়ালাইজেশনের অসাধারণ ক্ষমতা। প্রতিটা অক্ষরে, প্রতি শব্দের, প্রতি প্রতি বাক্যের গায়ে গায়ে সুঁই গেঁথে অদ্ভুতভাবে বিন্যস্ত একটা গল্প গড়ে তুলেন যা সিনেমার মতো অথবা সিনেমার থেকেও বেশি সিনেমা হয়ে উঠে মন্ত্রমুগ্ধ পাঠকের চোখে।
যাই হোক, তৃষ্ণা দেখলাম অনেকেই এক তারা দিয়েছেন বা দুই তারা। ভালো লাগেনি অনেকে বলেছেন। নানা মুনির নানা মত থাকেই। তবে আমার কাছে তৃষ্ণা বিন্দুমাত্রও অবিন্যস্ত বা অসংলগ্ন লাগেনি। মনে হয়েছে লেখক হাতে সময় নিয়ে বেশ গুছিয়েই শুরু থেকে শেষ করেছেন, শেষ থেকে শুরু করেছেন। আমি পরে আবারো পড়বো। মার্থা, শওকত, সেলিনা, মারখাওয়া কেরানির বৌ, জাহানারা ও হারুন, বুড়ো আহমেদ হোসেন সব চরিত্রায়ণই আমার ভালো লেগেছে।
June 7, 2019
প্রথম এই বইটি পড়েছিলাম ২০১১ সালে, কোন এক নির্জন রোদেলা দুপুরে, রাজশাহী পাবলিক লাইব্রেরিতে। আমার সেই বয়সে পড়া আধুনিক বাংলা লেখকদের অন্যতম ম্যাচিউর লেখনীগুলোর একটি মনে হয়েছিল। শুধুমাত্র কাম তৃষ্ণাকে উপজীব্য করেই যে একটি লেখা অকদর্যভাবে লিখে ফেলা যায়, এই জিনিসটুকুই আমাকে ওই সময় সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছিল এবং আজ এতোদিন পরে পড়তে গিয়েও দেখলাম আজও সে ধারনার ব্যত্যয় ঘটেনি।
প্রথমবার সতেরো বছর বয়সে পড়ার সময় খুবই ক্ষুদ্র কলেবরের এই উপন্যাসটুকুর দেয়ালে দেয়ালে কামনা-বাসনার যেই ক্ষুধার্ত ছোপগুলো অনুভব করেছিলাম, দীর্ঘ আট বছর পর পড়তে গিয়ে সেই ছোপগুলো হয়তো ফিকে হয়ে গেছে কিন্তু গভীর চিহ্নগুলো হারিয়ে যায়নি। শাড়ি বা কামিজে আবৃত করা শরীরের ভাঁজ, ব্লাউজের নিচে কটাক্ষ করা উন্মত্ত যৌবন বা কামনার আগুনে পুড়ে জোর করে করা চুম্বন- এই বিষয়গুলো সতেরো বছর বয়সে সদ্য তরুণ অবস্থায় যেভাবে কামনায় রাঙ্গিয়ে গিয়েছিল, যৌবনের বার্ধক্যে এসে এগুলো হয়তো সেই আগের মত মাদকতা দেয় নি কিন্তু এগুলোর সুরার সুগন্ধ যে একেবারেই নাকে আসে নি এমনটা নয়।
বরঞ্চ, সময়ের এই ধারাপাতে, এই তৃষ্ণা শুধুই জৈবিক কামনার কিনা এই প্রশ্ন করার অবকাশ হয়েছে এবং এই প্রশ্নের আড়ালে উঁকিঝুঁকি দিয়ে চোখে পড়েছে লেখকের করা প্রেম আর কামনার মধ্যে কে কার প্রতি নির্ভরশীল এই আদিমতম প্রশ্ন এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের ময়লা একপেশে নিষ্ঠুর একঘেয়ে জীবনযাপন। উপন্যাসটা এই জীবনযাপন থেকে মুক্তির তৃষ্ণা নাকি জৈবিক কামনার তৃষ্ণা এই দ্বন্দে কিছুটা পড়তে হয়। তথাপি সবকিছু ছাপিয়ে এই উপন্যাসটুকু সার্বিকভাবে কামনা-তৃষ্ণার হিসেবেই প্রতীয়মান হয় এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একান্ত ব্যক্তিগত কারণে এটাকে এরকম ভাবতেই আমার ভালো লাগে।
প্রথমবার সতেরো বছর বয়সে পড়ার সময় খুবই ক্ষুদ্র কলেবরের এই উপন্যাসটুকুর দেয়ালে দেয়ালে কামনা-বাসনার যেই ক্ষুধার্ত ছোপগুলো অনুভব করেছিলাম, দীর্ঘ আট বছর পর পড়তে গিয়ে সেই ছোপগুলো হয়তো ফিকে হয়ে গেছে কিন্তু গভীর চিহ্নগুলো হারিয়ে যায়নি। শাড়ি বা কামিজে আবৃত করা শরীরের ভাঁজ, ব্লাউজের নিচে কটাক্ষ করা উন্মত্ত যৌবন বা কামনার আগুনে পুড়ে জোর করে করা চুম্বন- এই বিষয়গুলো সতেরো বছর বয়সে সদ্য তরুণ অবস্থায় যেভাবে কামনায় রাঙ্গিয়ে গিয়েছিল, যৌবনের বার্ধক্যে এসে এগুলো হয়তো সেই আগের মত মাদকতা দেয় নি কিন্তু এগুলোর সুরার সুগন্ধ যে একেবারেই নাকে আসে নি এমনটা নয়।
বরঞ্চ, সময়ের এই ধারাপাতে, এই তৃষ্ণা শুধুই জৈবিক কামনার কিনা এই প্রশ্ন করার অবকাশ হয়েছে এবং এই প্রশ্নের আড়ালে উঁকিঝুঁকি দিয়ে চোখে পড়েছে লেখকের করা প্রেম আর কামনার মধ্যে কে কার প্রতি নির্ভরশীল এই আদিমতম প্রশ্ন এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের ময়লা একপেশে নিষ্ঠুর একঘেয়ে জীবনযাপন। উপন্যাসটা এই জীবনযাপন থেকে মুক্তির তৃষ্ণা নাকি জৈবিক কামনার তৃষ্ণা এই দ্বন্দে কিছুটা পড়তে হয়। তথাপি সবকিছু ছাপিয়ে এই উপন্যাসটুকু সার্বিকভাবে কামনা-তৃষ্ণার হিসেবেই প্রতীয়মান হয় এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একান্ত ব্যক্তিগত কারণে এটাকে এরকম ভাবতেই আমার ভালো লাগে।
August 8, 2021
মানি আর না মানি জীবন এমনই। কেউ রিপুর উর্ধে নয়। নাহ, সাধু সন্যাসীরাও না। মার্থা, শওকত, সেলিনা সবাই। কে বলতে পারে, মার্থার মায়ের হাসির পেছনে নিশ্চয় এটারই একটা বড় হাত ছিল। তার দুঃখের সময়টাও এটারই অপ্রাপ্যতা হতেও পারে।
বর্তমান দৈন্যদশা, ভবিষ্যতের সুন্দর সকালের আশা , কামনা, বাসনা সহ চারিদিকের হাহাকার সবকিছুই এতো সুন্দর করে জাহির করা এই বইয়ে ভাবতেও সুন্দর লাগে। ভাবতে সুন্দর লাগে মার্থার জীবন সাজানোর কল্পনার কথা কল্পনা করতে। ভাবতে ভাল লাগে সেলিনাকে টেনে নিয়ে যাবার সময় তার নিরবতা টাকে। ভাবতে ভালো লাগে বউমারা লোকটার বউ যখন তাকে জড়িয়েই কাঁদতে থাকে সেটাকে।
এই ছোট্ট একটা বইয়ে এতো গুলো যাদু আছে যেগুলা বইটা পড়ার পরের সময়গুলোকে ভাবনাতে রঙ্গিন করে তুলতে যথেষ্ট।
বর্তমান দৈন্যদশা, ভবিষ্যতের সুন্দর সকালের আশা , কামনা, বাসনা সহ চারিদিকের হাহাকার সবকিছুই এতো সুন্দর করে জাহির করা এই বইয়ে ভাবতেও সুন্দর লাগে। ভাবতে সুন্দর লাগে মার্থার জীবন সাজানোর কল্পনার কথা কল্পনা করতে। ভাবতে ভাল লাগে সেলিনাকে টেনে নিয়ে যাবার সময় তার নিরবতা টাকে। ভাবতে ভালো লাগে বউমারা লোকটার বউ যখন তাকে জড়িয়েই কাঁদতে থাকে সেটাকে।
এই ছোট্ট একটা বইয়ে এতো গুলো যাদু আছে যেগুলা বইটা পড়ার পরের সময়গুলোকে ভাবনাতে রঙ্গিন করে তুলতে যথেষ্ট।
September 29, 2022
শহরে বাস করা নিম্ন মধ্যবিত্ত কিছু মানুষদের জীবনের গল্প। জহির রায়হান এই শ্রেণির মানুষদের জীবন সংগ্রামের কাহিনী খুব জীবন্ত করে লিখতে পারেন। এবং জহিরের লেখার ধরনটাও খুব রুক্ষ, কোন কোমলতা নেই তার ভাষায়। চরিত্রগুলোর যৌনতার প্রকাশেও অস্থির প্রবৃত্তি দেখা যায়, যেন এটা বন্যপ্রাণীর ক্ষুধা নিবারণ, গৃহপালিত পশুর প্রীতিভোজ নয়। এই যে রুক্ষ ভাষা আর আচরণ, সেটা নিম্ন মধ্যবিত্তের জীবনের সাথে যায় ভালো।
বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের একটা সিগনিফিকেন্ট শতাংশ শহুরে নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজের। তাদের জীবন নিয়ে জহির রায়হানের মত মর্মস্পর্শী লেখা লিখতে পারেন এমন লেখক মনে হয় খুব বেশি নেই। জহির রায়হানকে বাংলা সাহিত্যের খুব দরকার ছিল। তাঁকে খুব অসময়ে আমরা হারিয়ে ফেলেছি।
বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের একটা সিগনিফিকেন্ট শতাংশ শহুরে নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজের। তাদের জীবন নিয়ে জহির রায়হানের মত মর্মস্পর্শী লেখা লিখতে পারেন এমন লেখক মনে হয় খুব বেশি নেই। জহির রায়হানকে বাংলা সাহিত্যের খুব দরকার ছিল। তাঁকে খুব অসময়ে আমরা হারিয়ে ফেলেছি।
September 23, 2021
কি অদ্ভুত সুন্দর! যেন লেখার মধ্যে আঁটকে গেলাম।
September 23, 2024
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য - মানুষের ছয়টি রিপু। এই ষষ্ঠ রিপুর কারণেই মানুষ পাপে জড়িয়ে পড়ে।
অল্প কথা দিয়ে ভাবনায় ফেলা দেওয়ার মতো লেখায় পটু জহির রায়হান। এই বইটাও তার ব্যতিক্রম না। ডার্ক একটা পরিবেশে বেশ কিছু চরিত্রের রিপুতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাবে তারপর একের পর এক ঘটনা! জটিল লেখা মানতেই হয় এইজন্য প্রথমে বিরক্ত হলেও শেষে যেয়ে মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। খারাপ লাগা কাজ করছিল। কিন্তু কার জন্য? মার্থা নাকি শওকত?
অল্প কথা দিয়ে ভাবনায় ফেলা দেওয়ার মতো লেখায় পটু জহির রায়হান। এই বইটাও তার ব্যতিক্রম না। ডার্ক একটা পরিবেশে বেশ কিছু চরিত্রের রিপুতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাবে তারপর একের পর এক ঘটনা! জটিল লেখা মানতেই হয় এইজন্য প্রথমে বিরক্ত হলেও শেষে যেয়ে মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। খারাপ লাগা কাজ করছিল। কিন্তু কার জন্য? মার্থা নাকি শওকত?
September 19, 2020
কলেবর টা ছোট কিন্তু লেখক যে জীবন দর্শন টা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন, সেটা অনেক ব্যাপক এবং বিস্তৃত। নিরীক্ষা মূলক একটা সাহসী লেখনী। চয়ন কৃত শব্দগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু।
October 2, 2026
too good!
June 9, 2021
"আমরা প্রত্যেকেই তো তৃষ্ণার্ত, ক্ষুধার্ত।
কিন্তু এই তৃষ্ণা কিসের?
ক্ষুধার নাকি কামের?
অর্থ নাকি প্রেমের?
জীবন নাকি মৃত্যুর?"
'বইয়ের ফেরিওয়ালা' ওয়েবসাইটে এই ৫ টি লাইন পড়ে বইটি পড়ার ইচ্ছা জাগে। 'তৃষ্ণা' উপন্যাসে নিম্নবিত্ত মানুষ ; যাদের কিনা অনেকেই নিঁচুশ্রেণির মানুষ বলে মনে করেন, তাদের জীবনযাপন ফুটে উঠেছে। আরো ফুটে উঠেছে সামাজিক কিছু সমস্যা: অবৈধ সম্পর্ক, পরকিয়া, অভাব, কলহ। একটা বাড়িতে বহু পরিবার এবং বহু মানুষ বসবাস করে, এই চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মানুষগুলোরই প্রতনিধিত্ব করে। তাদের পরিবেশ, পরিস্থিতি, জীবনযাপনে কে কি মনে করে জানিনা, তবে আমার কাছে মানবেতর এবং অসহায় লাগে। কারন অর্থনৈতিক মানদন্ডে যতই সামাজিক শ্রেণি ভাগ করা হোক না কেন, মানুষ হিসেবে স্বপ্ন দেখা, আশা করা এবং বাঁচার তৃষ্ণা সবারই আছে। উপন্যাসের এই তৃষ্ণা শুধুই বাঁচার তৃষ্ণা। শওকতের বাঁচার তৃষ্ণা, মার্থার বাঁচার তৃষ্ণা, সেলিনার বাঁচার তৃষ্ণা ও সকলের বাঁচার তৃষ্ণা।
উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র শওকত, মার্থা ও সেলিনা। এছাড়াও আছে বাস্তববাদী, দূরদর্শী বুড়ো আহমেদ হোসেন। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পাড়ি দেওয়ার পরে শওকত ও মার্থা ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।
"যতক্ষন কিছু ভাবে, ভাবে তিন হাজার টাকার কথা। যতক্ষন কথা বলে, বলে মার্থার সঙ্গে। পৃথিবী যেন হঠাৎ অনেক ছোট হয়ে গেছে। চিন্তার ধারাগুলো আর বিক্ষিপ্ত নয়, যেন একটা বিন্দুর চারপাশে সারাক্ষন অস্থিরভাবে ঘুরে মরছে। একটা ঘর। একটা দোকান। একটা সংসার। আর তার জন্য মাত্র তিন হাজার টাকা।"
এত সুন্দর একটা স্বপ্নের পরিণতিটা করুণ ছিল। মার্থা হয়তো শওকতের অপেক্ষায় ছিল কিন্তু শওকত বাঁচার তৃষ্ণায় নিজের মৃত্যুকেই টেনে এনেছে। দারিদ্র্য বোধহয় এমন করেই স্বপ্ন হত্যার সাথে সাথে মানুষকেও মেরে ফেলে। সাধারণ লেখনীতে, সাধারণ জনজীবন অসাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে। এবং উপন্যাসটি পড়ে আমার নিদারুণ দুঃখ হয়েছে বাস্তব জীবনের শওকত-মার্থাদের জন্য। তবুও আমরা সবাই বাঁচার তৃষ্ণায় স্বপ্ন দেখি।
হ্যাপি রিডিং ☺
০৯.০৬ ২০২১
কিন্তু এই তৃষ্ণা কিসের?
ক্ষুধার নাকি কামের?
অর্থ নাকি প্রেমের?
জীবন নাকি মৃত্যুর?"
'বইয়ের ফেরিওয়ালা' ওয়েবসাইটে এই ৫ টি লাইন পড়ে বইটি পড়ার ইচ্ছা জাগে। 'তৃষ্ণা' উপন্যাসে নিম্নবিত্ত মানুষ ; যাদের কিনা অনেকেই নিঁচুশ্রেণির মানুষ বলে মনে করেন, তাদের জীবনযাপন ফুটে উঠেছে। আরো ফুটে উঠেছে সামাজিক কিছু সমস্যা: অবৈধ সম্পর্ক, পরকিয়া, অভাব, কলহ। একটা বাড়িতে বহু পরিবার এবং বহু মানুষ বসবাস করে, এই চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মানুষগুলোরই প্রতনিধিত্ব করে। তাদের পরিবেশ, পরিস্থিতি, জীবনযাপনে কে কি মনে করে জানিনা, তবে আমার কাছে মানবেতর এবং অসহায় লাগে। কারন অর্থনৈতিক মানদন্ডে যতই সামাজিক শ্রেণি ভাগ করা হোক না কেন, মানুষ হিসেবে স্বপ্ন দেখা, আশা করা এবং বাঁচার তৃষ্ণা সবারই আছে। উপন্যাসের এই তৃষ্ণা শুধুই বাঁচার তৃষ্ণা। শওকতের বাঁচার তৃষ্ণা, মার্থার বাঁচার তৃষ্ণা, সেলিনার বাঁচার তৃষ্ণা ও সকলের বাঁচার তৃষ্ণা।
উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র শওকত, মার্থা ও সেলিনা। এছাড়াও আছে বাস্তববাদী, দূরদর্শী বুড়ো আহমেদ হোসেন। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পাড়ি দেওয়ার পরে শওকত ও মার্থা ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।
"যতক্ষন কিছু ভাবে, ভাবে তিন হাজার টাকার কথা। যতক্ষন কথা বলে, বলে মার্থার সঙ্গে। পৃথিবী যেন হঠাৎ অনেক ছোট হয়ে গেছে। চিন্তার ধারাগুলো আর বিক্ষিপ্ত নয়, যেন একটা বিন্দুর চারপাশে সারাক্ষন অস্থিরভাবে ঘুরে মরছে। একটা ঘর। একটা দোকান। একটা সংসার। আর তার জন্য মাত্র তিন হাজার টাকা।"
এত সুন্দর একটা স্বপ্নের পরিণতিটা করুণ ছিল। মার্থা হয়তো শওকতের অপেক্ষায় ছিল কিন্তু শওকত বাঁচার তৃষ্ণায় নিজের মৃত্যুকেই টেনে এনেছে। দারিদ্র্য বোধহয় এমন করেই স্বপ্ন হত্যার সাথে সাথে মানুষকেও মেরে ফেলে। সাধারণ লেখনীতে, সাধারণ জনজীবন অসাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে। এবং উপন্যাসটি পড়ে আমার নিদারুণ দুঃখ হয়েছে বাস্তব জীবনের শওকত-মার্থাদের জন্য। তবুও আমরা সবাই বাঁচার তৃষ্ণায় স্বপ্ন দেখি।
হ্যাপি রিডিং ☺
০৯.০৬ ২০২১
August 28, 2014
একদমই ছোট কলেবরের এই উপন্যাসটিতে জহির রায়হানের আঙ্গিক নিরীক্ষা ছিল উল্লেখযোগ্য এবং সে ক্ষেত্রে, আমার মতে, উনি সফল হয়েছেন। প্রথমে পাঠকের মনে প্রশ্ন সঞ্চার করেছেন তারপর ধীরে ধীরে দিয়েছেন তার উত্তর। পুরো উপন্যাস, কোনো চরিত্রের পরিচয় বা কোনো ক্ষুদ্র দৃশ্যপট, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি অবলম্বন করেছেন লেখক। গল্পটির নামকরণ ও সার্থক, সমাজের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের কামুক আকাঙ্ক্ষাকে চিত্রায়িত করেছেন লেখক। লেখক উপন্যাসের শুরুটা করেছেন সুন্দর একটি সকালে সুন্দর একটি ভালবাসার দৃশ্য এঁকে, এরপর সেই সুন্দর দৃশ্যটির পিছে লুকিয়ে থাকা একেকটি অন্ধকারকে এঁকে গেছেন। কিন্তু এটা কি অন্ধকার? নাহ, ওদের জন্য এটা দৈনন্দিন জীবনের অংশ...
"তাসের জুয়া যেমন চলছিল তেমনি চলবে।
নাচের মহড়া থামবে না
মওলানা সাহেব বারান্দায় বসে একমনে তসবি পড়ে যাবেন।
শুধু উঠোনে বসে থাকা নেড়ীকুত্তা গুলো উপরের দিকে চেয়ে ঘেউ ঘেউ করবে
আর বাইরের রকে বসা কুষ্ঠরোগীটার দু-চোয়ালের ছিদ্র দিয়ে একটানা লালা ঝরবে।
নির্লিপ্ত রাত্রির নীরবতায় শিহরণ তুলে রুগন বউটি আরো অনেকক্ষণ ধরে কাঁদবে"
April 25, 2023
জহির রায়হান এর কয়েকটা বই এর সাথে গুডরিডস এর রিভিউদাতার সাথে কেন যেন আমার পার্সপেক্টিভ মিলেই না, কোথায় যেন শুনলাম শেষ বিকেলের মেয়ে অসাধারণ! অথচ আমার মনে হলো অতি সাধারণ! আবার এই বই এর বর্ণনা, গাঁথুনী, ঘটনা, ভাব আমার কাছে দারুণ লাগলো কিন্তু ওভারল রেটিং টা খুব ই পীড়া দিল ।
।
আমার কাছে বই এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লিখার ধরণ বলি আর ঘটনার অগ্রগতি, পুরোটাই খুব ভালো লেগেছে। তৃষ্ণা শুরু করার সময় মনে হয়েছিল বই এর নাম টা বোধহয় দেহের তৃষ্ণার উপর ভিত্তি করেই। কিন্তু লিখা যত এগিয়েছে তত আস্তে আস্তে উপলব্ধি হয়েছে যে এটা কেবল দেহের নয়, মনের তৃষ্ণা, কাছে পাবার তৃষ্ণা, সামনে এগিয়ে যাবার তৃষ্ণা, স্বপ্নপূরণের তৃষ্ণা । জহির রায়হান এর কোনো গল্পেই তথাকথিত কোনো চরিত্র সম্পূর্ণ white charecter বা Black charecter না বরং কেন্দ্রীয় চরিত্র বা ভিলেইন, সবার ই একটা গ্রে ক্যারেক্টার এ বসবাস। বাস্তবতার এই পোর্ট্রে টা সবসময়ই ভাল্লাগে ।
।
আমার রেটিং হয়তো ৪ স্টার হতো তবে ওভারল রেটিং এত টা আন্ডাররেটেড মনে হওয়ায় একটা তারা বাড়িয়ে দিলাম ।
।
আমার কাছে বই এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লিখার ধরণ বলি আর ঘটনার অগ্রগতি, পুরোটাই খুব ভালো লেগেছে। তৃষ্ণা শুরু করার সময় মনে হয়েছিল বই এর নাম টা বোধহয় দেহের তৃষ্ণার উপর ভিত্তি করেই। কিন্তু লিখা যত এগিয়েছে তত আস্তে আস্তে উপলব্ধি হয়েছে যে এটা কেবল দেহের নয়, মনের তৃষ্ণা, কাছে পাবার তৃষ্ণা, সামনে এগিয়ে যাবার তৃষ্ণা, স্বপ্নপূরণের তৃষ্ণা । জহির রায়হান এর কোনো গল্পেই তথাকথিত কোনো চরিত্র সম্পূর্ণ white charecter বা Black charecter না বরং কেন্দ্রীয় চরিত্র বা ভিলেইন, সবার ই একটা গ্রে ক্যারেক্টার এ বসবাস। বাস্তবতার এই পোর্ট্রে টা সবসময়ই ভাল্লাগে ।
।
আমার রেটিং হয়তো ৪ স্টার হতো তবে ওভারল রেটিং এত টা আন্ডাররেটেড মনে হওয়ায় একটা তারা বাড়িয়ে দিলাম ।
February 2, 2018
সল্প পরিসরের বইটা শুরু থেকে যে তৃষ্ণার সঞ্চার করে স্বাদটা থেকে যায় বহুক্ষণ, বইটা শেষ করার পরেও। অনিন্দ্য শব্দের গাঁথুনি, অযথা বাক্য প্রয়োগ না করে এমন একটা ভাবের সঞ্চার করেছে যাকে কেবল তৃষ্ণা বলেই ডিফাইন করা যায়...
আমার পড়া জহির সাহেবের সেরা বই এই ক্ষুদ্র আঙ্গিকের উপন্যাসিকাটি
আমার পড়া জহির সাহেবের সেরা বই এই ক্ষুদ্র আঙ্গিকের উপন্যাসিকাটি
July 20, 2026
জহির রায়হানের 'তৃষ্ণা' বইটা স্কুলে থাকতে একটা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছিলাম। সেই বই আবার আমার তৎকালীন গৃহশিক্ষক পড়ার নাম করে নিয়ে রীতিমতো মেরে দিয়েছিলেন। সেই বই আর পড়া হয়ে ওঠেনি। প্রায় ২০ বছর পর মাত্র কয়দিন আগে বইটা কিনেছি। পড়েও ফেলেছি।
সেই ১৯৬২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় বইটি। শহুরে কিছু নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষকে নিয়ে মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠার এই চমৎকার উপন্যাসিকাটি। অল্প পৃষ্ঠার বই হলেও লেখার গভীরতায় হারিয়ে গিয়েছি। মুগ্ধতার রেশ কাটেনি লেখকের প্রাঞ্জল লেখনীশৈলীতে।
এক নজরে:
বইয়ের নাম: তৃষ্ণা
লেখক: জহির রায়হান
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
প্রকাশনী: অনুপম প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮
মুদ্রিত মূল্য: ১২০ টাকা
সেই ১৯৬২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় বইটি। শহুরে কিছু নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষকে নিয়ে মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠার এই চমৎকার উপন্যাসিকাটি। অল্প পৃষ্ঠার বই হলেও লেখার গভীরতায় হারিয়ে গিয়েছি। মুগ্ধতার রেশ কাটেনি লেখকের প্রাঞ্জল লেখনীশৈলীতে।
এক নজরে:
বইয়ের নাম: তৃষ্ণা
লেখক: জহির রায়হান
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
প্রকাশনী: অনুপম প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮
মুদ্রিত মূল্য: ১২০ টাকা
Read
July 27, 2021আমার জন্য এটি চতুর্থ জহির উপন্যাস। তার জন্য তার অর্ধেক। তার লেখা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা আছে। একটা কাব্যের গন্ধ আছে।
কিন্তু চরিত্র গুলো মাঝে মাঝে চিন্তায় ফেলে দেয়। বিশেষত কেন্দ্রীয় চরিত্র গুলো। ভিলেন কে নিয়ে বেশি কিছু চিন্তা নেই। সে খারাপ হবে এটাই প্রত্যাশিত। অন্তত খারাপ বলেই সে ভিলেন। কিন্তু হিরো কেন এমন হবে? যার চোখে স্বপ্ন দেখি,নতুন সকাল দেখি, আশা করি যাকে নিয়ে...সে কেন ভুল পথে যাবে?
শওকত আমাদের হিরো। বেকার। দরিদ্র। যুবক। তার জীবনে প্রেম এসেছে বহুবার। তিনবার বোধ হয়। একবার ক্ষীণ আশা দেখিয়েছে। একবার আশা। শেষবার কোনো প্রত্যাশাই ছিল না। কিন্তু চমক ছিল শেষবার।
কোলকাতার একটি ফার্মেসী দোকান। ঔষধ বিক্রি করে মার্থা গ্রাহাম। ১৫০ টাকা মাইনে ছিল। কোনোরকমে দিন চলে যেত। চুরি করার দরকার ছিল না। দিন চলে যেতো। কিন্তু করলো। শেষ পর্যন্ত করলো।
শওকত একটি মেসে থাকে। মার্থা ও। বিশাল বড়। অনেকেই থাকে তাদের সাথে। নাচনেওয়ালী দল, বউ পিটানো কেরানী, স্কুল মাস্টার অনেকে। তাদের মধ্যেও সে আর মার্থা। দুজন। একজন বেকার। যার খেয়াল রাখছিল আরেকজন। এই খেয়াল রাখার মধ্যেই বেখায়ালী ভাবে হৃদয় দেওয়া-নেওয়া হয়ে যায়। নতুন জীবনের তাড়না আসে। নতুন করে শুরুর তাড়না আসে। ওরা শুরু করার শুরুটা করেও। কিন্তু শেষ করতে পারে না৷ একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ কিনতে যেই টাকার দরকার মার্থা সেই টাকার চেষ্টা করতো৷ ঔষধ চুরি করতো। একদিন ধরা পড়ে গেল। চুরির ৭০০ টাকা আর ঔষধ সমেত।
শওকত কে ধরা হয়েছিল বোধহয়। চুরির অপরাধেই। তবুও ঔষধ চুরির জন্য না। জীবন চুরির জন্য। মার্থা চলে যাওয়ার পরপরই জীবনের জমানো সমস্ত রাগ আর দ্বেষ কে বউ পিটানো কেরানীর উপর চাপিয়ে দিয়ে বিদায় দিয়েছিলো সে।
যদিও সে পালিয়ে গিয়েছিল সাময়িক সময়ের জন্য। সেলিনা কে নিয়ে। ভালোবাসা ছিল না তৃষ্ণা ছিল জানি না। মন সেলিনার কাছ থেকে আসে নি। ভয়ের রাক্ষস এসেছিল।
কিন্তু চরিত্র গুলো মাঝে মাঝে চিন্তায় ফেলে দেয়। বিশেষত কেন্দ্রীয় চরিত্র গুলো। ভিলেন কে নিয়ে বেশি কিছু চিন্তা নেই। সে খারাপ হবে এটাই প্রত্যাশিত। অন্তত খারাপ বলেই সে ভিলেন। কিন্তু হিরো কেন এমন হবে? যার চোখে স্বপ্ন দেখি,নতুন সকাল দেখি, আশা করি যাকে নিয়ে...সে কেন ভুল পথে যাবে?
শওকত আমাদের হিরো। বেকার। দরিদ্র। যুবক। তার জীবনে প্রেম এসেছে বহুবার। তিনবার বোধ হয়। একবার ক্ষীণ আশা দেখিয়েছে। একবার আশা। শেষবার কোনো প্রত্যাশাই ছিল না। কিন্তু চমক ছিল শেষবার।
কোলকাতার একটি ফার্মেসী দোকান। ঔষধ বিক্রি করে মার্থা গ্রাহাম। ১৫০ টাকা মাইনে ছিল। কোনোরকমে দিন চলে যেত। চুরি করার দরকার ছিল না। দিন চলে যেতো। কিন্তু করলো। শেষ পর্যন্ত করলো।
শওকত একটি মেসে থাকে। মার্থা ও। বিশাল বড়। অনেকেই থাকে তাদের সাথে। নাচনেওয়ালী দল, বউ পিটানো কেরানী, স্কুল মাস্টার অনেকে। তাদের মধ্যেও সে আর মার্থা। দুজন। একজন বেকার। যার খেয়াল রাখছিল আরেকজন। এই খেয়াল রাখার মধ্যেই বেখায়ালী ভাবে হৃদয় দেওয়া-নেওয়া হয়ে যায়। নতুন জীবনের তাড়না আসে। নতুন করে শুরুর তাড়না আসে। ওরা শুরু করার শুরুটা করেও। কিন্তু শেষ করতে পারে না৷ একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ কিনতে যেই টাকার দরকার মার্থা সেই টাকার চেষ্টা করতো৷ ঔষধ চুরি করতো। একদিন ধরা পড়ে গেল। চুরির ৭০০ টাকা আর ঔষধ সমেত।
শওকত কে ধরা হয়েছিল বোধহয়। চুরির অপরাধেই। তবুও ঔষধ চুরির জন্য না। জীবন চুরির জন্য। মার্থা চলে যাওয়ার পরপরই জীবনের জমানো সমস্ত রাগ আর দ্বেষ কে বউ পিটানো কেরানীর উপর চাপিয়ে দিয়ে বিদায় দিয়েছিলো সে।
যদিও সে পালিয়ে গিয়েছিল সাময়িক সময়ের জন্য। সেলিনা কে নিয়ে। ভালোবাসা ছিল না তৃষ্ণা ছিল জানি না। মন সেলিনার কাছ থেকে আসে নি। ভয়ের রাক্ষস এসেছিল।
August 4, 2026
তৃষ্ণা মানে কী আসলে? অপূর্ণতার ভেতর মানুষের চিরন্তন অনুসন্ধান, কোনো কিছু পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। অজানা উদ্দেশ্যে ছুটে চলা জীবন কিংবা অপার্থিব কোনো চাহিদার মোহে ডুবে থাকা। মানুষের তৃষ্ণা কখনো মেটে না। মানবসত্তার আদিম রিপু লোভ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে দেয় না। মানুষ তাই ছুটে চলেছে তৃষ্ণার্ত হয়ে। এই গল্পটা আর দশটা গল্পের থেকে আলাদা।
জহির রায়হানের সাহিত্যজগৎ মূলত মানুষের জীবনসংগ্রাম, সামাজিক বাস্তবতা এবং অস্তিত্বের সংকটকে কেন্দ্র করেই নির্মিত। তার "তৃষ্ণা" উপন্যাসটি পড়ে মনে হয়েছে, এটি কেবল একটি অনুভূতির গল্প নয়। বরং মানুষের অন্তর্গত শূন্যতা, বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতার নির্মমতার এক সূক্ষ্ম শিল্পরূপ। উপন্যাসটি আকারে সংক্ষিপ্ত হলেও এর ভাবগত বিস্তার অনেক বড়। পাঠ শেষ হওয়ার পরও এর চরিত্র, আবহ এবং প্রশ্নগুলো দীর্ঘ সময় মনে থাকে। আশেপাশের চেনা পরিচিত মুখ বলে মনে হয় একেকটি চরিত্রকে। জহির রায়হানের চিন্তাধারা কতটা শক্তিশালী ছিলো এই বইয়ে তা বোঝা যায় চরিত্রায়নে।
উপন্যাসের নাম দিয়েছেন তিনি "তৃষ্ণা" এবং এই নামটি নিজেই যেন একটি শক্তিশালী প্রতীক। এখানে তৃষ্ণা কেবল প্রেমের নয়, যৌনতার নয় বরং মানুষের অস্তিত্বগত অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষ সারাজীবন ভালোবাসা, নিরাপত্তা, স্বীকৃতি, মর্যাদা কিংবা একটি নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য যে অবিরাম আকাঙ্ক্ষা বয়ে বেড়ায়, জহির রায়হান সেই চিরন্তন মানবিক অভাববোধকেই শিল্পে রূপ দিয়েছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই উপন্যাসটি নিছক শওকত আর মার্থার রোমান্টিক আখ্যানের সীমা অতিক্রম করে এক অস্তিত্ববাদী অনুভূতির দিকে অগ্রসর হয়।
শওকত চরিত্রটি কেবল একজন বেকার যুবকের প্রতিচ্ছবি নয়, সে উপনিবেশিক সমাজের সেই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতিনিধি, যে স্বপ্ন দেখে কিন্তু বাস্তবতার দেয়ালে বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হতাশা তাকে ঘিরে রেখেছে বারবার তবুও উদ্দেশ্যহীন ভাবে এগিয়ে যেতে চায় সে আশেপাশের অসহ্য পরিবেশ থেকে। অন্যদিকে মার্থা যেন এক ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। যার জীবনে অপূর্ণতা,নিঃসঙ্গতা সবটুকুই আছে। নিজেকে বারবার অপরাধী মনে হয় তার নিজের চেহারার কালো রঙের জন্য। যাকেই জীবনে ভরসা করেছে সেই ছেড়ে চলে গেছে। বিশ্বাসঘাতকতার সবদিক দেখে ফেলেছে সে। এই দুই চরিত্রের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে লেখক ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক বিভাজন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সংযত অথচ কার্যকরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
জহির রায়হানের ভাষা এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান শক্তি। তার গদ্যে অপ্রয়োজনীয় অলংকারের বাহুল্য নেই। বরং সংক্ষিপ্ত, সংহত ও দৃশ্যমান বর্ণনার মাধ্যমে তিনি চরিত্রের অন্তজগতকে উন্মোচন করেন। কোথাও আবেগের বাড়াবাড়ি নেই, আবার কোথাও অনুভূতির ঘাটতিও নেই। এই সংযমই তার শিল্পসত্তার পরিচয় বহন করে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, তিনি চরিত্রদের বিচার করেন না। বরং তাদের বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেন। বিচার করার দায়িত্ব তিনি পাঠকের ওপরই ছেড়ে দেন।
ব্যক্তিগতভাবে "তৃষ্ণা" পড়ে আমার মনে হয়েছে মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অভাব কখনও কেবল অর্থ বা প্রেমের নয়। বরং নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবনে পৌঁছাতে না পারার যন্ত্রণা। এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র যেন কোনো না কোনো অপূর্ণতার ভার বহন করে। সেই অপূর্ণতার ভাষাই এখানে "তৃষ্ণা"। বইটি শেষ করার পর মনে হয়, মানুষের জীবনে সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কিন্তু সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
তবে উপন্যাসটির সংক্ষিপ্ত পরিসরের কারণে কয়েকটি চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হলে বইটি হয়তো আরও বহুমাত্রিক হয়ে উঠত। তবু এই সংক্ষিপ্ততাই এর ভালো লাগার অংশ। জহির রায়হান অল্প কথায় যে আবেগ, সংকট ও দার্শনিক বোধ নির্মাণ করেছেন, সেটিই উপন্যাসটির সবচেয়ে বড় সাফল্য।
"তৃষ্ণা" এমন একটি উপন্যাস, যা পাঠককে কাহিনি শোনানোর চেয়ে বেশি ভাবতে শেখায়। এটি মানুষের অন্তহীন চাওয়া-পাওয়া, সামাজিক বাস্তবতা এবং অস্তিত্বের অপূর্ণতার এক গভীর জীবনবোধ। বাংলা সাহিত্যে জহির রায়হানের সৃষ্টিশীল এই কাজগুলো নিঃসন্দেহে প্রতিটি পাঠকের পড়া উচিত বলে আমি মনে করি।
🏝️ বইয়ের নাম: "তৃষ্ণা"
🏝️ লেখকের নাম: জহির রায়হান
🏝️ প্রকাশনা: অনুপম প্রকাশনী
জহির রায়হানের সাহিত্যজগৎ মূলত মানুষের জীবনসংগ্রাম, সামাজিক বাস্তবতা এবং অস্তিত্বের সংকটকে কেন্দ্র করেই নির্মিত। তার "তৃষ্ণা" উপন্যাসটি পড়ে মনে হয়েছে, এটি কেবল একটি অনুভূতির গল্প নয়। বরং মানুষের অন্তর্গত শূন্যতা, বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতার নির্মমতার এক সূক্ষ্ম শিল্পরূপ। উপন্যাসটি আকারে সংক্ষিপ্ত হলেও এর ভাবগত বিস্তার অনেক বড়। পাঠ শেষ হওয়ার পরও এর চরিত্র, আবহ এবং প্রশ্নগুলো দীর্ঘ সময় মনে থাকে। আশেপাশের চেনা পরিচিত মুখ বলে মনে হয় একেকটি চরিত্রকে। জহির রায়হানের চিন্তাধারা কতটা শক্তিশালী ছিলো এই বইয়ে তা বোঝা যায় চরিত্রায়নে।
উপন্যাসের নাম দিয়েছেন তিনি "তৃষ্ণা" এবং এই নামটি নিজেই যেন একটি শক্তিশালী প্রতীক। এখানে তৃষ্ণা কেবল প্রেমের নয়, যৌনতার নয় বরং মানুষের অস্তিত্বগত অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষ সারাজীবন ভালোবাসা, নিরাপত্তা, স্বীকৃতি, মর্যাদা কিংবা একটি নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য যে অবিরাম আকাঙ্ক্ষা বয়ে বেড়ায়, জহির রায়হান সেই চিরন্তন মানবিক অভাববোধকেই শিল্পে রূপ দিয়েছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই উপন্যাসটি নিছক শওকত আর মার্থার রোমান্টিক আখ্যানের সীমা অতিক্রম করে এক অস্তিত্ববাদী অনুভূতির দিকে অগ্রসর হয়।
শওকত চরিত্রটি কেবল একজন বেকার যুবকের প্রতিচ্ছবি নয়, সে উপনিবেশিক সমাজের সেই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতিনিধি, যে স্বপ্ন দেখে কিন্তু বাস্তবতার দেয়ালে বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হতাশা তাকে ঘিরে রেখেছে বারবার তবুও উদ্দেশ্যহীন ভাবে এগিয়ে যেতে চায় সে আশেপাশের অসহ্য পরিবেশ থেকে। অন্যদিকে মার্থা যেন এক ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। যার জীবনে অপূর্ণতা,নিঃসঙ্গতা সবটুকুই আছে। নিজেকে বারবার অপরাধী মনে হয় তার নিজের চেহারার কালো রঙের জন্য। যাকেই জীবনে ভরসা করেছে সেই ছেড়ে চলে গেছে। বিশ্বাসঘাতকতার সবদিক দেখে ফেলেছে সে। এই দুই চরিত্রের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে লেখক ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক বিভাজন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সংযত অথচ কার্যকরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
জহির রায়হানের ভাষা এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান শক্তি। তার গদ্যে অপ্রয়োজনীয় অলংকারের বাহুল্য নেই। বরং সংক্ষিপ্ত, সংহত ও দৃশ্যমান বর্ণনার মাধ্যমে তিনি চরিত্রের অন্তজগতকে উন্মোচন করেন। কোথাও আবেগের বাড়াবাড়ি নেই, আবার কোথাও অনুভূতির ঘাটতিও নেই। এই সংযমই তার শিল্পসত্তার পরিচয় বহন করে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, তিনি চরিত্রদের বিচার করেন না। বরং তাদের বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেন। বিচার করার দায়িত্ব তিনি পাঠকের ওপরই ছেড়ে দেন।
ব্যক্তিগতভাবে "তৃষ্ণা" পড়ে আমার মনে হয়েছে মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অভাব কখনও কেবল অর্থ বা প্রেমের নয়। বরং নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবনে পৌঁছাতে না পারার যন্ত্রণা। এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র যেন কোনো না কোনো অপূর্ণতার ভার বহন করে। সেই অপূর্ণতার ভাষাই এখানে "তৃষ্ণা"। বইটি শেষ করার পর মনে হয়, মানুষের জীবনে সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কিন্তু সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
তবে উপন্যাসটির সংক্ষিপ্ত পরিসরের কারণে কয়েকটি চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হলে বইটি হয়তো আরও বহুমাত্রিক হয়ে উঠত। তবু এই সংক্ষিপ্ততাই এর ভালো লাগার অংশ। জহির রায়হান অল্প কথায় যে আবেগ, সংকট ও দার্শনিক বোধ নির্মাণ করেছেন, সেটিই উপন্যাসটির সবচেয়ে বড় সাফল্য।
"তৃষ্ণা" এমন একটি উপন্যাস, যা পাঠককে কাহিনি শোনানোর চেয়ে বেশি ভাবতে শেখায়। এটি মানুষের অন্তহীন চাওয়া-পাওয়া, সামাজিক বাস্তবতা এবং অস্তিত্বের অপূর্ণতার এক গভীর জীবনবোধ। বাংলা সাহিত্যে জহির রায়হানের সৃষ্টিশীল এই কাজগুলো নিঃসন্দেহে প্রতিটি পাঠকের পড়া উচিত বলে আমি মনে করি।
🏝️ বইয়ের নাম: "তৃষ্ণা"
🏝️ লেখকের নাম: জহির রায়হান
🏝️ প্রকাশনা: অনুপম প্রকাশনী
June 20, 2025
গল্পটার শুরু যেখানে। শেষও সেখানে।
"একটা সুন্দর সকাল।
বুড়ো রাত বিদায় নেবার আগে বৃষ্টি থেমে গেছে। তবু তার শেষ চিহ্নটুকু এখানে-সেখানে ছড়ানো। চিকন ঘাসের ডগায় দু-একটি পানির ফোঁটা সূর্যের সোনালি আভায় চিকচিক করছে।"
এই সুন্দর সকালে ঘুমিয়ে আছে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে। মেয়েটির মুখে চিলতে হাসি। তাদেরকে ঘিরে ধরে আছে আঠারো জোড়া আইনের পা।
তারপরে লেখক শুনিয়ে গেলেন কিছু মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প। শহরের নিম্নবিত্ত ক'জন যাদের লক্ষ্য অথবা স্বপ্ন শুধু ভালোভাবে বেঁচে থাকা। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণে ষড়রিপুর জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায় তারা।
ষড়রিপু অর্থাৎ কাম (lust/desire), ক্রোধ (anger), লোভ (greed), মোহ (attachment/delusion), মদ (ego/arrogance), মাৎসর্য (envy/jealousy) এই ছয়টি মানসিক বৈশিষ্ট্য মানুষের অন্তর্নিহিত আত্মাকে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ করে এবং মুক্তি বা মোক্ষ লাভে বাধা দেয় । বিশেষ করে প্রথম তিনটি—কাম, ক্রোধ ও লোভ—নরকের পথ প্রসারিত করে এবং জীবনের যন্ত্রণা বাড়ায় ।
ফার্মেসিতে চাকরি করা মার্থা, বেকার শওকত, নাচের মেয়ে সেলিনা, জেলে থাকা সন্তান শোকে কাতর বুড়ো আহমেদ হোসেন, মাতাল জুয়ারি ও তার বউ, মাওলানা সাহেব, জাহানারা, হারুন আর রাস্তার পরে থাকা অর্ধগলিত কুষ্ঠরোগী সবাই যেনো এই ষড়রিপুর যন্ত্রণায় জর্জরিত।
জীবনে স্বচ্ছলতার সাথে বেঁচে থাকার চেয়ে বড় কোন "তৃষ্ণা" নাই।
ছোট্ট একটা উপন্যাস। সহজ কিছু কথা আপনার জীবনবোধকে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে।
রেকমেন্ডেড।
"একটা সুন্দর সকাল।
বুড়ো রাত বিদায় নেবার আগে বৃষ্টি থেমে গেছে। তবু তার শেষ চিহ্নটুকু এখানে-সেখানে ছড়ানো। চিকন ঘাসের ডগায় দু-একটি পানির ফোঁটা সূর্যের সোনালি আভায় চিকচিক করছে।"
এই সুন্দর সকালে ঘুমিয়ে আছে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে। মেয়েটির মুখে চিলতে হাসি। তাদেরকে ঘিরে ধরে আছে আঠারো জোড়া আইনের পা।
তারপরে লেখক শুনিয়ে গেলেন কিছু মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প। শহরের নিম্নবিত্ত ক'জন যাদের লক্ষ্য অথবা স্বপ্ন শুধু ভালোভাবে বেঁচে থাকা। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণে ষড়রিপুর জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায় তারা।
ষড়রিপু অর্থাৎ কাম (lust/desire), ক্রোধ (anger), লোভ (greed), মোহ (attachment/delusion), মদ (ego/arrogance), মাৎসর্য (envy/jealousy) এই ছয়টি মানসিক বৈশিষ্ট্য মানুষের অন্তর্নিহিত আত্মাকে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ করে এবং মুক্তি বা মোক্ষ লাভে বাধা দেয় । বিশেষ করে প্রথম তিনটি—কাম, ক্রোধ ও লোভ—নরকের পথ প্রসারিত করে এবং জীবনের যন্ত্রণা বাড়ায় ।
ফার্মেসিতে চাকরি করা মার্থা, বেকার শওকত, নাচের মেয়ে সেলিনা, জেলে থাকা সন্তান শোকে কাতর বুড়ো আহমেদ হোসেন, মাতাল জুয়ারি ও তার বউ, মাওলানা সাহেব, জাহানারা, হারুন আর রাস্তার পরে থাকা অর্ধগলিত কুষ্ঠরোগী সবাই যেনো এই ষড়রিপুর যন্ত্রণায় জর্জরিত।
জীবনে স্বচ্ছলতার সাথে বেঁচে থাকার চেয়ে বড় কোন "তৃষ্ণা" নাই।
ছোট্ট একটা উপন্যাস। সহজ কিছু কথা আপনার জীবনবোধকে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে।
রেকমেন্ডেড।
October 30, 2025
আমার পড়া জহির রায়হানের তৃতীয় বই এটি। এর পূর্বে জহির রায়হানের "আরেক ফাল্গুন" এবং "শেষ বিকেলের মেয়ে" পড়ে শেষ করেছি। সে অনুযায়ী এই উপন্যাসটা ছিল একদমই ভিন্ন। জহির রায়হান নিজেও যে এক্সপেরিমেন্ট করতে পচ্ছন্দ করতেন তা এই উপন্যাসের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি।
উপন্যাসটা ডার্ক থিম বেজড। স্টোরী টেলিংটা তার অন্য সকল ক্রিয়েশন থেকে একদমই ভিন্ন।
আমার কাছে এটাকে মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসাবে মনে হয়েছে। এজন্য লোকভেদে এই উপন্যাসটা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন লেগেছে। এছাড়াও উপন্যাসটা জহির রায়হানের সবচেয়ে আন্ডারেটেড উপন্যাস হিসাবেও ধরা হয়ে থাকে।
আমি সত্যি বলতে... কনফিউজড যে আমার কেমন লেগেছে। এজন্য ৫ এর মধ্যে আড়াই(২.৫) দিলাম।
উপন্যাসটা ডার্ক থিম বেজড। স্টোরী টেলিংটা তার অন্য সকল ক্রিয়েশন থেকে একদমই ভিন্ন।
আমার কাছে এটাকে মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসাবে মনে হয়েছে। এজন্য লোকভেদে এই উপন্যাসটা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন লেগেছে। এছাড়াও উপন্যাসটা জহির রায়হানের সবচেয়ে আন্ডারেটেড উপন্যাস হিসাবেও ধরা হয়ে থাকে।
আমি সত্যি বলতে... কনফিউজড যে আমার কেমন লেগেছে। এজন্য ৫ এর মধ্যে আড়াই(২.৫) দিলাম।
July 17, 2024
ছোট মরিচের ঝাল বেশি!
November 23, 2025
শওকত আর মার্থা। একটা পছন্দমতো ঘর। কিছু আশা। কিছু স্বপ্ন। অনেক ভালোবাসা। আর হয়তো অশেষ দৈন্যে-ভরা একটুকরো সংসার। তাই হোক।
শেষ পর্যন্ত তা হয়েছে কিনা সেটা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে
শেষ পর্যন্ত তা হয়েছে কিনা সেটা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে
November 22, 2016
জহির রায়হানের অনবদ্য এক উপন্যাস। ঠিক যেখান শুরু হয়েছিল তৃষ্ণা, ঠিক শেষ হয়েছে সেখানে এসে। এর মাঝে ছিল অস্থিরতায় ভরা কছু জীবন, টানাপোড়ন। মাতলামি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, পরকীয়া, দেহব্যবসা, প্রেম, সামাজিকতার অত্যাচার লেখক সবকিছুকে হাজির করেছেন একই মঞ্চে। ছিল নায়ক শওকতের কাপুরুষতা, আর নায়িকা মার্থার স্বপ্ন দেখার শক্তি। আহ মার্থা, তোর জন্য আমার বড্ড বেশি কষ্ট লাগছে।
এই তৃষ্ণা আনন্দের, এই তৃষ্ণা যন্ত্রনার। গল্পের বিশেষ চরিত্র, বুড়ো আহমদ হোসেনের কন্ঠে বলি "এটাও একটা রোগ বুঝলে? এক রকমের ক্ষুধা। একজনকে অনন্তকাল ধরে একান্ত আপন করে পাওয়ার অশান্ত ক্ষুধা। ঈর্ষা থেকে এর জন্ম। ঈর্ষায় এর মৃত্যু। এই ব্যাটারা কবিতা পড়ে না বলেই এদের অধঃগতি। মনে নেই সে কবিতাটি? সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। আবার সেই হাসি। কালচে দাঁতের ফাঁকে হাসছে বুড়ো আহমদ হোসেন।"
এই তৃষ্ণা আনন্দের, এই তৃষ্ণা যন্ত্রনার। গল্পের বিশেষ চরিত্র, বুড়ো আহমদ হোসেনের কন্ঠে বলি "এটাও একটা রোগ বুঝলে? এক রকমের ক্ষুধা। একজনকে অনন্তকাল ধরে একান্ত আপন করে পাওয়ার অশান্ত ক্ষুধা। ঈর্ষা থেকে এর জন্ম। ঈর্ষায় এর মৃত্যু। এই ব্যাটারা কবিতা পড়ে না বলেই এদের অধঃগতি। মনে নেই সে কবিতাটি? সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। আবার সেই হাসি। কালচে দাঁতের ফাঁকে হাসছে বুড়ো আহমদ হোসেন।"
August 31, 2014
জহির রায়হানের এই উপন্যাসটির শুরুটা খুব ভাল ছিল।প্রথমদিকে লেখক বিভিন্ন চরিত্রের বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরী করেছেন।গল্পের বিষয় সাধারন,প্রেমের সাথে দারিদ্র্যের যুদ্ধ।
লেখক কঠিন বাস্তবতা খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন।কিন্তু গল্পের শেষটা আমার ভাল লাগেনি।শওকত কেন মারথাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলনা কিংবা কেন সে সেলিনা কে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিল,তা ঠিক বুঝতে পারিনি।
লেখক কঠিন বাস্তবতা খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন।কিন্তু গল্পের শেষটা আমার ভাল লাগেনি।শওকত কেন মারথাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলনা কিংবা কেন সে সেলিনা কে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিল,তা ঠিক বুঝতে পারিনি।
March 22, 2013
অসাধারণ বললেও মনে হচ্ছে কম বলা হবে। চমৎকার একটি গল্প। আফসোস ! জহির রায়হানের মতো একজন প্রতিভাবান লেখক আমাদের জন্য খুব বেশিদিন লিখে যেতে পারেন নি ...
February 23, 2016
যেখানে গল্পের শুরু সেখানেই শেষ। 'একটি সুন্দর সকাল। বুড়ো রাত বিদায় নেবার আগে বৃষ্টি থেমে গেছে...'।
দেহ ব্যবসা, মাতলামি, পরকীয়ার মত দিকগুলো লেখক দেখিয়েছেন। মার্থার জন্য রইল বুক ভরা বেদনা।
দেহ ব্যবসা, মাতলামি, পরকীয়ার মত দিকগুলো লেখক দেখিয়েছেন। মার্থার জন্য রইল বুক ভরা বেদনা।
August 10, 2024
কিছু স্বপ্ন পূরণ হয় না। প্রকৃতি তার ভয়াল থাবা দিয়ে সেই স্বপ্নের আলো গুলোকে অন্ধকার করে দেয়।
April 2, 2023
ভালো থাকবার বড্ড তৃষ্ণা শহরের অলিগলিতে কিংবা মফস্বলি মানুষের ঝুলিতে!
এ চেষ্টা তৃষ্ণা মেটবার নয় যতদিন প্রেম ভালোবাসা ক্রোধ আর লোভ রবে ততদিন এ তৃষ্ণা বেড়ে চলবে।
জহির রায়হান পড়ি আর ভাবি লোকটা ভুল সময়ে ভুল। ভুল জায়গা উপস্থিত থেকে চলে গেলো যে! আবার এ-ও ভাবি লোকটা ভুল সময়ে এসেছে জেনে ভুল জায়গায় উপস্থিতি দিবে জেনে কতগুলো ভুলেভরা সঠিক গল্প লিখে গেছেন যাতে সময়ের ঘষা লেগে লেগে গল্প গুলো নিছক গল্প আর থাকবেনা।
এ চেষ্টা তৃষ্ণা মেটবার নয় যতদিন প্রেম ভালোবাসা ক্রোধ আর লোভ রবে ততদিন এ তৃষ্ণা বেড়ে চলবে।
জহির রায়হান পড়ি আর ভাবি লোকটা ভুল সময়ে ভুল। ভুল জায়গা উপস্থিত থেকে চলে গেলো যে! আবার এ-ও ভাবি লোকটা ভুল সময়ে এসেছে জেনে ভুল জায়গায় উপস্থিতি দিবে জেনে কতগুলো ভুলেভরা সঠিক গল্প লিখে গেছেন যাতে সময়ের ঘষা লেগে লেগে গল্প গুলো নিছক গল্প আর থাকবেনা।
August 18, 2023
মূল চরিত্র শওকতকে ভীষণরকম বিরক্ত লেগেছে।
আর মার্থা'র জন্য মায়া।
আর মার্থা'র জন্য মায়া।
June 20, 2022
The book was good. But I didn’t like the ending.
Displaying 1 - 30 of 83 reviews































