সিন্দুক খুললেই চল্লিশ! হ্যাঁ, চল্লিশটা মণিমাণিক্য। আছে একটি নভেলেট 'ঘোরপ্যাঁচে প্রাণগোবিন্দ' এবং প্রায় হারিয়ে যাওয়া আর বই না হওয়া আরও ৩৯টা গল্প। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের আশ্চর্য কলমে এ এক আশ্চর্য উপহার। আশির দশকে ছোটদের জন্যে নানা পত্রপত্রিকায় লেখা নানাস্বাদের গল্পের পাশাপাশি এই অনবদ্য উপহারে জায়গা করে নিয়েছে জনপ্রিয়তম কথাশিল্পীর এক্কেবারে আধুনিক, এবছরের পুজোর গল্পও। তবে সাবধানী লেখক মজা করে বলেছেন, 'এত পুরোনো সব লেখা উদ্ধার হওয়ায় আমার তো স্বস্তি হল, কিন্তু পাঠকদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটাই ভাবনার বিষয়।'
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।