আমি আত্ম-উন্নয়নে বিশ্বাসী। যেখানে নিজের ভুল হবে তার থেকে শিক্ষা নেওয়া আমার মতাদর্শ। আপনার সত্যকে আমি অকুতোভয় করি। কারণ আমি যে সত্যকে চিনি তার সাথে যেদিন আমার পরিচয় হয়, আমি ভয়ে চুপটি মেরে গেছি। আমি ধূলোবালি জমা চিন্তা, পরিত্যক্ত চিঠি, বোকা বাক্সে যা পারি লিখে নিজেকে বিশ্বাস করাই আমি পারব, নিজের সত্যের মোকাবিলা করতে। আমি কখন উদাস হয়ে যাই, কখনও ভীষণ চিন্তিত থাকি, যা আমি বিশ্বাস করি তার ভিত্তি কি? সমুদ্রের সমান ঢেউ আসলে প্রতিবাদ করতে পারব কি?
আমি তখন নজরুলের দ্বারস্থ হই। এই মানুষ আমাকে শিখিয়েছে প্রতিবাদ করার সুর কেমন? আমি যদি ভুল পথে চলি অকপটে তা স্বীকার করি, অন্যের সত্যকে সালাম জানাতে আমার দ্বিধা হয় না। নজরুল আমাকে মন খারাপের দিনে বাঁচতে শিখিয়েছে। তিনি বৃষ্টি ভেজা রাতের আনন্দে আত্ম হারা হতে শিখিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি নজরুলে "প্রলয় শিখা" দেশ মাতাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। আমি এখন নিজের জন্মের জন্য আফসোস করি না। আমি হয়তো জীবনানন্দ দাশের, শঙ্কচিল কিংবা বাঁলি হাঁস হয়ে এই বাংলায় আবার আসব। প্রতিটি কবিতা আমার অতীতের ভুল গুলোকে চোখের সামনে তুলে ধরে। যেন আমি ভারত মাতাকে দেখি, আমি বিদ্রোহ দেখি নব যুবকদের, আমি দেখি বাংলার মায়েদের আত্ম ত্যাগ।
তবে, কবি যা বলেছেন তা যেন ভাসমান। অস্তিত্বে গিয়ে আঘাত করে না। প্রতিবাদ করব কিন্তু প্রতিবাদে সোচ্চার তিনি বলে যান নি।