সিন্ধু হিন্দোল কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে। কাব্যগ্রন্থটি "বাহার ও নাহার"-কে (হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও শামসুন নাহার) উৎসর্গ করেন।
Kazi Nazrul Islam (Bengali: কাজী নজরুল ইসলাম) was a Bengali poet, musician and revolutionary who pioneered poetic works espousing intense spiritual rebellion against fascism and oppression. His poetry and nationalist activism earned him the popular title of Bidrohi Kobi (Rebel Poet). Accomplishing a large body of acclaimed works through his life, Nazrul is officially recognised as the national poet of Bangladesh and commemorated in India.
১৯২৭ সালে প্রকাশিত উক্ত কাব্যগ্রন্থে রয়েছে সিন্ধু,গোপন প্রিয়া, অ-নামিকা, দারিদ্রের মতো সব বিখ্যাত কবিতা। প্রায় শত বছর আগে লেখা এসব কবিতার আবেদন এখনো ম্লান হয়নি। নজরুলের কবিতায় একটা সৃষ্টিসুখের উল্লাস আছে। সেই উল্লাসে অনেক সময় পরিমিতি বোধ ভেসে যায় তবু নজরুলের কবিতা এখনো আমাদের আলোড়িত করে।
সিন্ধু, অ-নামিকা, গোপন-প্রিয়ার মত দুর্দান্ত কবিতাগুলো কবি চট্টগ্রামে বসে রচনা করেছেন। ১৯২৬ সালে বন্ধু বাহারের নানাবাড়ি চট্টগ্রামে গিয়ে লিখেছেন এই কয়েকটি কবিতা ও কিছু গান। গানগুলো অবশ্য এই গ্রন্থে নেই। আমি ভাবছি এই, চট্টগ্রামে কবি কিসে এতো motivation পেলেন এমন prepossessing কাব্য রচনার?
"কিছু জিনিস খুব শক্ত করে আগলে রাখতে হয়। কাউকে যদি খুব ভালবাসো তাকে যত্ন করে হৃদয়ে পুষতে হয়! বিবাগী কাদমী ভুলো মনে তাকে বারবার ফিরিয়ে আনার জন্য কাকুতিমিনতি করতে হয়। বুকের মাঝে দুঃখের সমুদ্র থাকলেও ডুবতে ইচ্ছে করে না!
কাজী নজরুল আমার সেই ডুবন্ত এক তরী! আমার হৃদয়ে যদি শরৎ বাস করে, পুরো শরীর জুড়ে রবী ঠাকুর আর তাদের মাঝে যার বলা কথা নিশ্বাসে আনে সজীবতা তিনি কাজী নজরুল ইসলাম। মানুষটার বলা প্রতিটি শব্দ অন্তরে গগণ শূন্যতা তৈরী করে। বাহিরে থাকা আলো কখন যে নিজের মাঝে চলে আসে বোঝা যায় না খুব একটা! এত নিপুণতা ভরা দুঃখ আর বিদ্রোহ নিয়ে কেউ কবিতা লিখে নি!
"সিন্দু হিন্দোল" যেন মনের গহীনে মরুভূমিতে এক অজলা জল। প্রেম ও মানবজীবনকে কত সহজ ও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি! আলোর মত জ্বলে উঠে। ঊষার মত ফোটো! তিমির চিরে জ্যোতির মত প্রকাশ হয়ে উঠে মন!
তিনি দুঃখকে নিজের করে পেয়েছেন। তিনি বলেন, অন্তরে নিষ্পেষিত ব্যথার ক্রন্দন ফেনা হয়ে উঠে মুখে বিষের মতন! তুমি রবে আমি রব আর রবে ব্যথা!
যাকে আমি পাই না তাকে অন্য কেউ পায় ক্যামনে। তুমি ভেবে যারে বুকে চেপে ধরি সেই যায় সরে!
নিজেকে উজাড় করেছেন প্রকৃতির মায়ায় আবদ্ধ কষ্টে। তিনি বলেন, আমাদের শত ব্যথিত হৃদয়ে জাগিয়ে রহিবে তুমি ব্যথা হয়ে, হলে পরিজন চির পরিচয়ে পুনঃ পাব তার দরশন এ নহে পথের আলাপন!