জন্ম ১৯৫২, ঢাকায়। পড়াশোনা গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ১৯৭০ সালের ডাকসু নির্বাচনে মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দৈনিক গণকণ্ঠ-এ কাজ করেছেন প্রতিবেদক ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকোংহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাস্টার্স ইন এনজিও স্টাডিজ’ কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক। তাঁর লেখা ও সম্পাদনায় দেশ ও বিদেশ থেকে বেরিয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা অনেক বই।
এক বসায় পড়ে ফেললাম। মহিউদ্দিনের আহমদের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের মোড়কে রাজনৈতিক ইতিহাস।
রাজনৈতিক ইতিহাস লেখার চর্চা বঙ্গদেশে গড়ে ওঠেনি। 'বাঙ্গলার ইতিহাস নাই' বলে বঙ্কিমের মতো মানুষও আক্ষেপ করেছিলেন। যাইহোক, রাজনৈতিক ইতিহাস রচনায় প্রথমেই চাই নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু এদেশে সেই গুণটিরই খুব অভাব৷ এই বইটি আপনি না পড়লেও চলবে। শর্ত থাকে যে -
১. মহিউদ্দিন আহমদের সেরা কাজ 'জাসদের উত্থান-পতন' আপনি পড়লে ইতিমধ্যে অবগত আছেন লেখক কী বলতে চান। এই বইতে বাড়তি আছে প্রথমে ছাত্রলীগ, পরে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাত্তোর দেশে জাসদ কর্মী মহিউদ্দিন আহমদের নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা৷
২.'বিএনপির সময়-অসময়' পড়ছেন? পড়লে এই বই আপনার জন্য নয়। জিয়ার আমল নিয়ে বিস্তর লিখেছেন সেই বইটিতে। এখানেও জিয়ার আমলের কথা এসছে। নতুন পাবেন জাসদের আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির ফ্লেভার। যার সাথে লেখক সরাসরি নিজে জড়িত ছিলেন।
মহিউদ্দিন আহমদ 'জাসদের উত্থান-পতন' শীর্ষক বইটির পর আর কোনো বই না লিখলেও সমস্যা ছিল না। রাজনৈতিক ইতিহাসের এই বইটির জন্যই পাঠক দীর্ঘদিন তাঁকে স্মরণ করবে বলে মনে হয়। কিন্তু এরপর তাঁর লেখা বইগুলোতে একটি তাড়াহুড়ো লক্ষ করছি। 'বিএনপির সময়-অসময়' ভালো প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু 'আওয়ামী লীগের উত্থানপর্ব', 'যুদ্ধদিনের কথা' আর সর্বশেষ এই বইটি পড়ে আবিষ্কার করছি লেখায় কনটেন্টের পুনরাবৃত্তি, হালকা চালের কথাবার্তা, খেই হারিয়ে ফেলা প্রভৃতি বিষয় কমন হয়ে যাচ্ছে। ইদানীং টকশোতে মহিউদ্দিন আহমদের কদর বেড়েছে। কিন্তু তাঁর লেখায় মান ক্রমশ পড়তির দিকে। সুতরাং, সাধু সাবধান!
বলা হয়ে থাকে আমাদের দেশে একসময় ছাত্র রাজনীতির স্বর্ণযুগ ছিল।কিন্তু এটা কেন বলা হয় সেটা কোন বইতে ভালভাবে পাইনাই।এই বইতে অনেক কিছু পাওয়া গেছে সে অর্থে।ঢাকা কলেজ,ঢা বি ,মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং এর গল্পগুলা যেন নিয়ে যায় ৭১ এ।সেই সময়কে জানার জন্য সুপাঠ্য এই বই
আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধ বা তার পরের সময় নিয়ে যদি কোন আত্মজীবনী লেখা হয়, তাঁতে নিজের আদর্শের কথা এত ছড়ানো থাকে, স্বাভাবিক ভাবে চিন্তাই করা যায় না। আর যদি লেখক নিজে কোনভাবে connected থাকেন তা হলে তো কথাই নেই, এমন ভাবে লেখা হয় যে পুরা ইতিহাস হয়তো ঝুলে ছিল তার হাতেই। মহিউদ্দিন আহমদ তার রাজনৈতিক ইতিহাসের বইয়ে নিজের বিশ্বাস তুলে রেখে সমস্ত তথ্য উপাত্ত দিয়ে পাঠকের কাছে শেষ বিচার করার দায়িত্ব তুলে দেন। এই আত্মজীবনী তেও তাই। তার জন্য এভাবে লেখা সহজ না, কারণ তিনি নিজে ছাত্রলীগে ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পরে জাসদের আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এই কারনেই হয়তো অনেক ঘটনা থাকলেও লেখা খুব দ্রুত এগিয়েছেন। বইয়ের পিছনে লেখা আছে, এটি এক তরুন অ্যাক্টিভিস্ট এর জীবনের গল্প, যা পাঠককে ফ্ল্যাশব্যাকে নিয়ে যাবে এক ভয়ঙ্কর সুন্দর অস্থির সময়ের মাঝে। তাই ইতিহাস জানার চেয়ে ঐ সময়কে বুঝার জন্য এই বই বেশি কার্যকরী। স্বাধীনতার দাবিতে মিছিল মিটিং আন্দোলন, ১৯৭১ এ অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে যুদ্ধ করা, যুদ্ধ শেষে বিজয়ী হয়ে ভার্সিটিতে ফিরে আসা। তারপর আবার সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন করা। এবং শেষে বুঝতে পারা, এভাবে সম্ভব না।