দক্ষিণ আমেরিকা। পেরু। প্রাচীন ইনকা সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল এখানেই। এই মাটিতেই একদিন ছড়িয়ে ছিল সোনার রেণু। স্বর্ণলোভী ইউরোপীয় হানাদারদের আক্রমণে আজ হারিয়ে গেছে সেই সোনার সাম্রাজ্য। কিন্তু আন্দিজের পর্বতকন্দরে কিংবা আমাজনের গহিন জঙ্গলে, আজও রয়ে গেছে কিছু লুকোনো নগরী, সভ্য পৃথিবী যার খোঁজ রাখে না। সেখানে দেখা মিলবে সেই সব মানুষদের, যাদের শরীরে বইছে খাঁটি ইনকা রক্ত। সময় সেখানে থমকে আছে। সাজ-পোশাক, ধর্ম-সমাজ_সবই সেখানে আজও চলে প্রাচীন রীতি মেনে।
কুজকোর হোটেলে সুজয়ের পরিচয় হয় প্রোফেসর মার্কেসের সঙ্গে। নাতনি সুসানকে নিয়ে এসেছেন তিনি। উদ্দেশ্য প্রাচীন ইনকাভূমির ওপর একটি বই লেখা। ওয়াইল্ড লাইফ ফোটোগ্রাফার বিল তাঁদের সফরসঙ্গী। মাচুপিচুতে সুজয়দের দেখা হয় স্পেনীয় ধনকুবের মি. পিনচিওর সঙ্গে। আলাপ হয় প্রাচীন সূর্যমন্দিরের পুরোহিত ইল্লাপার সাথেও। তিনি যাচ্ছেন প্রাচীন ইনকা নগরীর এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। পিনচিওসহ সুজয়রা প্রাচীন নগরী দেখার জন্য ইল্লাপার সঙ্গে যাত্রা শুরু করে পাহাড়ে-জলাজঙ্গলের দুর্গম বিপজ্জনক পথে। সেখানে ওত পেতে বসে আছে আমাজনের বিখ্যাত কালো বাঘ! মাথার ওপর থেকে নেমে এসে শিকারকে গ্রাস করে বড়ো মাচাকুয়ে অ্যানাকোন্ডা! আছে এদের চেয়েও ভয়ংকর মোচে, আমাজনীয়দের হিংস্র জনগোষ্ঠী, যারা আজও নরবলি দেয়। ইনকা পুরোহিতের সঙ্গে যাত্রা শুরু করার পর কী হল মার্কেজ-সুজয়-সুসানদের?
যারা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন তাদের জন্য অবশ্যই রিকমেন্ডেড। জ্বলজ্বলে পাঁচটা তাঁরা দেওয়ার পর নিশ্চয়ই অনুভূতি প্রকাশ করার কোন প্রয়োজন নেই? যাইহোক পড়ে ফেলুন অতি দ্রুত।
A satisfactorily entertaining, informative and thought-provoking adventure novel from the author that treads grounds that are entirely unfamiliar to the Bengali reader, but should be explored more often. Recommended.
যারা এই বইটি পড়বেন তাদের জন্য রেকমেন্ডেশন থাকবে ম্যাথু রাইলীর টেম্পল বইটাও পড়ার জন্য। ইনকা সভ্যতার প্রেক্ষাপট ভিত্তিক কিশোর উপযোগী কাহিনী নিঃসন্দেহে বিরল। সে হিসেবে বইটি যথেষ্ট উপভোগ্য। ইনকা সভ্যতার বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ের সাধারন জ্ঞান এখান থেকে অর্জন হয়ে যাবে। আগ্রহী পাঠক র্নিদ্বিধায় তুলে নিন হাতে।
এটি একটি অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী। ইনকাদের নিয়ে নানান অজানা তথ্য প্রদান করেছেন লেখক। তবে প্রথম দিকটা অতটা না বাড়ালেও হত। প্রাচীন নগরীর উদ্দেশ্যে পদযাত্রা থেকেই গল্পে প্রাণ ফিরে আসে।তাই প্রথম প্রথম ভালো না লাগলেও অরণ্য পথে যাত্রা শুরুর পর থেকে ভালোই লাগছিল।
পেরুর এক হোটেলে কলকাতার বাঙালি ছেলে সুজয়ের সাথে পরিচয় হয় প্রোফেসর মার্কেজ ও ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার বিলের। মার্কেজের সঙ্গে এসেছে তার নাতি সুসান।এরপর তারা একসাথে ভ্রমণে বের হয়। মাচুপিচুতে ঘুরতে গিয়ে সেখানে আলাপ হয় স্পেনের বাসিন্দা পিনচিওর।এই পিনচিওর ই আলাপ করিয়ে দেয় সূর্যমন্দিরের পুরোহিত ইল্লাপার সঙ্গে। এই ইল্লাপা জানে প্রাচীন ইনকা সভ্যতার কথা, যেখানে আজও নরবলি প্রথা চালু আছে। এই প্রাচীন নগরীর উদ্দেশ্যে বিপদসঙ্কুল গহীন অরণ্য পেরিয়ে পদযাত্রা শুরু করে সুজয় মার্কেজ সহ বাকিরা।যে পথে পদে পদে বিপদ,সেখানে পিরানহা, অ্যানাকোন্ডা, পুমার অবাধ যাতায়াত। যে প্রাচীন নগরীতে বিদেশিদের প্রবেশ নিষেধ সেখানে ইল্লাপা কেনই বা তাদের নিয়ে গেলো ? কি ছিল তার আসল উদ্দেশ্য ? শেষপর্যন্ত কি তারা প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরতে পারে ??
প্রথমে পড়তে গিয়ে মনে হয়েছিল নবীন লেখক হয়তো, তাই ভাষাবিন্যাস দৌর্বল্যকে ক্ষমা করা যাচ্ছিল। তবে কিছুদূর আগাতে আগাতে মনে হয়েছে বেশ শিশুতোষ রচনা। আর এই বিষয়ে লেখকের গবেষণার একটা বড় অংশ বইয়ে উঠে এসেছে, অনর্থক ইতিহাস বইয়ের একটা বড় অংশজুড়ে।
গল্পের শুরু হয় পেরুতে এক বাঙালী পর্যটকের সাথে এক বিদেশী দলের মোলাকাতে - এক প্রফেসর, এক বালক আর এক অভিযানপ্রিয় চিত্রগ্রাহক। তাদের সাথে জড়িয়ে পরে বাঙালী যুবক অভিযানে গেলেন। দুষ্ট আরেক বিদেশী, আর এক পুরোহিত মিলে তাদেরকে নানাবিধ বিপদে ফেলেন, আর তারা দৈবক্রমে সে বিপদ থেকে উদ্ধার পায়।
সরলরৈখিক গল্প, দুর্বল সংলাপ, আর অনর্থক ইতিহাস - এই হচ্ছে বইটির সারমর্ম। বিনোদিত হতে ব্যর্থ হয়েছি। শুধু পটিভূমিটির জন্য দু'টি তারা দেয়া গেল, নচেৎ একটিই যথার্থ হতো বটে!
প্রাচীন ইনকা্সভ্যতা নিয়ে অনেক গল্প লেখা হয়েছে। শৈলেন ঘোষের সোনাঝরা গল্পের ইনকা দিয়ে আমাদের ছোটবেলার ইনকা চেনা শুরু। মোটের ওপর ভাল বই। হিমাদ্রী কিশোর বাবুর ব্যক্তিগত লুচুটা বাদ দিলে কলমের হাত ভালই।