টিভি প্রোগ্রাম মনিটর কার্যক্রমের অতি সামান্য এক কর্মচারী। ছিমছাম সাদামাটা জীবন তাঁর। কাজ শেষ করে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে টিভি সেট খুলে বসাতেই তাঁর আনন্দ। রান্নাবান্নারও কিছু শখ আছে। আর আছে ভালোবাসার একজন মানুষ - নিকি।
এই ছিমছাম দিনযাপনের মাঝে হঠাৎই একদিন এসে উপস্থিত হলো একটি চিঠি। ওপরে সোনালী রঙের ত্রিভুজের ছাপ দেয়া চিঠিটি যেনো এলো দুর্যোগ হয়ে। এক নিমিষে ওলটপালট হয়ে গেলো তাঁর সাজানো সহজসরল জীবন....
সে কি আর ফিরতে পারবে চিরচেনা এই পৃথিবীতে? নিজের ভালোবাসার মানুষটির কাছে?
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
এই ছোট্ট অথচ ভীষণ শক্তিশালী প্লটের সাই-ফাই লিখেও হুমায়ূন আহমেদ তার সাহিত্য ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছেন তার সামাজিক উপন্যাস লেখায়। না, সামাজিক উপন্যাস বলি, মিসির আলি বলি, হিমু বলি আর শুভ্র যাই বলি না কেন; আমার ওগুলোর প্রতি বিন্দুমাত্র খেদ নেই। কারণ হুমায়ূন আহমেদ তার প্রতিটা সৃষ্টিতেই রেখেছেন তার প্রতিভার স্বাক্ষর, তা সে যে জনরাই হোক৷ শুধু আফসোস একটা জায়গায়ই। বাংলা সাহিত্যের সাই-ফাই জনরায় তার দেবার মতো অনেক অনেক কিছু ছিলো।
যারা হুমায়ূন আহমেদকে বাজারী লেখক বলে থাকেন, তাদের উচিত হুমায়ূন আহমেদকে আরো বেশি পড়া। ভিন্ন ভিন্ন জনরায় তার যে সৃষ্টি সেগুলো আসলে লিনিয়ারভাবে দেখার কোন সুযোগই নেই। এই বইটি পড়ুন (যদিও আমার ধারণা কেউ আর বাকি নেই পড়ার), পড়ে উপলব্ধি করুন কি অসামান্য সাই-ফাই লিখে গেছেন হিমু, মিসির আলি, শুভ্রর স্রষ্টা।
ছোট বেলা থেকে একটা কল্পনা করতে অনেক ভাল লাগত। কল্পনা করতাম এক দিন আমি কোন এক মহাকাশযান নিয়ে পাড়ি দিব অনন্তের উদ্দেশ্যে। আমি ছাড়া আর কেউ থাকবে না সেখানে। মহাকাশযান এর নাম 'Benfinity'. বেনফিনিটির আর্কাইভ এ থাকবে পৃথিবী র সকল মুভি আর বই (season আর anime ও আমার এই কল্পনার আর্কাইভ এ এক সময় স্থান করে নিয়েছে )। ভয়েজার এর মত আমার স্পেসশিপ অসীম এর উদ্দেশ্যে চলতে থাকবে আজীবন। গল্প টা নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছা করতেছে না। তবে প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে হুমায়ুন আহমেদ এর মত আবেগঘন গল্প মনে হয় এখন পর্যন্ত কেউ লিখতে পারেন নি। কোন এক দিন এই গল্প টা আবার পড়ার ইচ্ছা থাকলো। ও আচ্ছা বই এ উল্লেখিত ৩ লাইন এর কবিতা টা না লিখে পারলাম নাঃ " রাত্রি কখনো সূর্য কে পায় না, তাতে ক্ষতি নেই, কারণ সে পেয়েছে অনন্ত নক্ষত্রবীথি।"
আসলেই কি তাই। কেন যেন ব্যাপারটার সাথে এক মত হতে পারলাম না। নিতান্তই সান্ত্বনাবাণী। :(
এই বইয়ে হুমায়ূন যে নেভার এন্ডিং সাইকেল তৈরি করেছেন, তা দেখলে মনে পড়ে যায় নেটফ্লিক্সের সিরিজ 'ডার্ক'এর কথা। যদিও হুমায়ূনের এই জগতটা আরও ধোঁয়া ধোঁয়া। ব্যক্তিগত আবেগ এখানেও আছে ষোলআনা, যে আবেগ দিয়ে প্রোটাগনিস্ট বস্তুজগতকে পরাস্ত করছে বারবার আর তৈরি হচ্ছে এক আনএক্সপ্লেইনেবল পরা-বস্তুজগত। সবমিলিয়ে আরও একটি চমৎকার সাই-ফাই বই।
parallel world নিয়ে বেশ ভালো এক রচনা।আজব লাগে এই গল্পের অনেক পরে Triangle নামে খুবই complex এক মুভি তৈরী হয় যার সাথে এর প্লটের অনেক মিল। কিন্তু হায় , বাংলাদেশে এখনো এই টাইপ এর বই এর ভালো মানের movie adaptation করার মত কোনো প্রযোজক-পরিচালক তৈরী হয়নি !
মাত্র ৫৪ পৃষ্ঠার একটা সাই-ফাই গল্প আমায় রীতিমত বাকরুদ্ধ করবে তা ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবিনি জীবনে। হুমায়ুন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন বাস্তবিক অর্থেই সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। সুনিপুণ উপস্থাপনা আর আশাতীত প্লট যে কারো মনে আঁচড় কাটবেই। হিমু, মিসির আলী আর শুভ্রের দাপটা কোনঠাসা হওয়া হুমায়ুন আহমেদের অন্য সৃজনশীল কাজগুলোতেও বর্তমান প্রজন্মকে ডুব দেয়া উচিত বৈকি! স্পেস ট্রাভেলিং, মানবমনের সীমাবন্ধতা আর প্যারাডক্সের মাধ্যমে লুপ নিয়ে অসাধারণ বিষয়াদি সগৌরবে ফুটে উঠেছে এই ক্ষুদ্র উপন্যাসিকায়। ভিন্ন দৃষ্টিতে চিরচেনা জগতকে ক্ষণিকের জন্যে ভেবে নিলাম, আমি মন্ত্রমুগ্ধ।
ভবিষ্যতের পৃথিবীতে ঘটনাক্রমে একজন সাধারণ টিভি প্রোগ্রাম মনিটর কর্মচারী পেয়ে গেল এক মহাকাশ অভিযানে যাওয়ার সুযোগ। না, সেটাকে ঠিক সুযোগ বলা যায় না, বরং নিজের ভালোবাসার মানুষকে, চিরচেনা পৃথিবীকে ত্যাগ করে অনিশ্চিত সেই যাত্রায় যেতে বাধ্য করা হলো তাকে। কিন্তু তাকে পাঠানোর কারণটা কি? কি এমন বিশেষত্ব রয়েছে তার মাঝে?
যাত্রাপথে ঘটে ভয়ানক এক দূর্ঘটনা। এরপর সেই ব্যক্তি নিজেকে আবিষ্কার করে অদ্ভুত অস্তিত্বের মাঝে। সেখানে মহাজাগতিক পরিব্রাজক তার জীবন উদ্ধার করেছে। কিন্তু এতে করে সে আটকা পড়েছে মহাবিশ্বের জটিল সমীকরণের চক্রে। সে কি ফিরতে পারবে তার চিরচেনা পৃথিবীতে, নিজের ভালোবাসার মানুষটার কাছে? নাকি বন্দী থাকবে অনন্ত নক্ষত্র বীথিতে।
হুমায়ুন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন আমার সবসময়ই ভালো লাগে। অল্প পরিসরের গল্পের ভেতরও চমৎকার সব কনসেপ্ট, কল্পবিজ্ঞানকে ঘিরে দর্শন সেইসাথে মানবীয় আবেগের চমৎকার প্রতিফলন। তাই বছরটা তাঁর সায়েন্স ফিকশন বই দিয়ে শেষ করায় আমার কোনো অসুবিধা ছিল না। সেকারণে বেছে নিলাম বেশ প্রশংসা পাওয়া এই বইটি।
যদিও আমি হুমায়ুন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন খুব বেশী পড়িনি, তিন-চারটে হবে। তবুও শুরু থেকে গল্পের সবদিকই খুব গতানুগতিক ঠেকছিল। সেই একই ইএসপি পাওয়ার, শুরুতে সাধারণ মনে হলেও গল্পের জগতে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা প্রোটাগনিস্ট, কম্পিউটার সিডিসি, রোবোট মানুষের কথোপকথন দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপারে কিছু মতামত প্রদান, সবই পরিচিত। তবে সেইটা সমস্যা না, মূল সমস্যা হলো সবকিছুই ছিল মারাত্মক আন্ডারডেভেলপড।
হুমায়ুন আহমেদ অন্য লেখকদের চেয়ে অল্প কথায় গল্পকে ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারে। তবে এই গল্পের শুরুর অংশটায় আরেকটু স্পেস দেওয়া দরকার ছিল। তবে সেকেন্ড হাফে গল্পের মোড় ঘুরে যায়। লেখক অল্প পরিসরে দারুণ দারুণ সব কনসেপ্ট তুলে ধরেছেন, সেই সাথে তা দিয়ে এই বিশাল মহাজগতের তুলনায় ক্ষুদ্র মানুষের বৈশিষ্ট্য নিয়ে দর্শনের বহিঃপ্রকাশটাও ভালো। আর এন্ডিংটা এক কথায় অসাধারণ হয়েছে। এমন দারুণ গল্প কোনো দেশী লেখক সেই ৯০ দশকে লিখেছে ভাবতেই অবাক লাগে। সবমিলিয়ে দূর্দান্ত লাগলো বছরের শেষ বইটা।
হুমায়ুন আহমেদ যদি ওই একই রকম সামাজিক উপন্যাস গুলো বারবার না লিখে এমন কিছু সাই-ফাই আরো কিছু লিখে যেত! হয়ত পাঠকের ডিমান্ড তখন সামাজিক উপন্যাসেই বেশি ছিল। প্যারালাল ওয়ার্ল্ড নিয়ে চমৎকার একটি উপন্যাস।
প্রথমবার পড়ার অনুভূতি মনে নেই। কিন্তু দ্বিতীয়বারের অনুভূতি ভুলতে চাই না। মাত্র ৬৮ পেজে এত দারুন ভাবে প্যারাডক্স নিয়ে সাবলিল সাই-ফাই হুমায়ূন স্যারের দিয়েই সম্ভব। একবারে যেন ডার্ক, সোর্স কোড, ইন্টারেস্টালার এর বেশ কিছু কনসেপ্ট ক্লিয়ার হয়ে গেছে!
কাহিনীসংক্ষেপঃ গল্পের বক্তা টিভি প্রোগ্রাম মনিটরিং অফিসের একজন কর্মচারী। তার কাজ হলো টিভি প্রোগ্রামের বিষয়ে দর্শকদের মতামতের স্ট্যাটিস্টিক্স তৈরি করা, সেটার রিপোর্ট নিয়মিত জমা দেওয়া এবং মাসশেষে বেতন তুলে নেওয়া। অর্থাৎ, আপাতদৃষ্টিতে নিতান্ত সাধারণ একজন মানুষ সে। স্বাভাবিক জীবনযাপন অতিবাহিত করছিল, যতোক্ষণ না পর্যন্ত একটি অভাবনীয় ঘটনা ঘটলো।
একমাসে বেতনের সঙ্গে আলাদা খামে তার জন্য একটি চিঠি এসে উপস্থিত। চিঠির উপরে সোনালি রঙের ত্রিভুজের ছাপ। যার অর্থ চিঠিটির লেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিঠি খুলে দেখা গেলো মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর এস. মাথুর তাকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে তাকে অবিলম্বে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের সপ্তম শাখায় উপস্থিত হবার জন্য।
স্বাভাবিকভাবেই, সে মনে করে, নিশ্চয়ই মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের কর্মীদের কোনো ভুল হয়েছে। সে তার বান্ধবী নিকির সাথে এ বিষয়ে কথা বলে তাকেও আশ্বস্ত করে ব্যাপারটি কেবলই একটি ভুল। কিন্তু গবেষণা কেন্দ্রে যাওয়ার পর দেখা গেলো ঘটনা অন্যরকম।
ছ'বছর পরপর গবেষণাকেন্দ্র থেকে একটি বিশেষ ধরণের মহাকাশযান প্রেরণ করা হয়। তাতে নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে সঙ্গে একজন অনিয়মিত ক্রু-কেও পাঠানো হয়, যার কোনো টেকনিক্যাল জ্ঞান নেই৷ এবার "গ্যালাক্সি টু"-তে যাত্রী হিসেবে তাকে পাঠানো হবে। সে একজন ইএসপি ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি।
সে নিজে মোটেও ইচ্ছুক ছিল না যাত্রাটিতে শামিল হতে, কিন্তু মতামতের বিরুদ্ধেও তাকে রাজি হতে হয়। যাত্রার কিছুদিন বাদেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় গ্যালাক্সি টু৷ কতোটা মারাত্মক সে বিপর্যয়? সেটি থেকে কি আদৌ বের হয়ে আসতে পারে গ্যালাক্সি টু? গল্পের বক্তার চূড়ান্ত পরিণতিই বা কি হয়? সে কি ফিরে যেতে পারে তার বান্ধবী নিকির কাছে?
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ সাই-ফাই আমার খুব একটা পছন্দের জন্রা যে তা নয়। শুধুমাত্র হুমায়ূন আহমেদ স্যারের লেখা সাই-ফাইগুলিই আমি সবসময় খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছি, আজও পড়ি।
পুরো বইটিতে গল্পের বক্তার নাম উল্লেখ করা হয় নি। যে কারণে " বক্তা", "সে" - ইত্যাদি বলে চালিয়ে দিতে হলো।
যদিও গল্পটি সায়েন্স ফিকশন, কিন্তু নিকির সাথে গল্পের বক্তার যে মুহূর্তগুলো লেখক তৈরি করেছেন, অনেক বেশি টাচি ❤
সায়েন্স ফিকশন হিসেবে কতোটুকু পারফেক্ট বলা যায় আমার ধারণা নেই কারণ এই জন্রায় আমি একদমই কাঁচা কিন্তু স্যারের লেখা কখনো আমাকে মুগ্ধ করতে ব্যর্থ হয় না এটুকু বলতে পারি।
শেষে আমার লোম খাড়া হয়ে গিয়েছিল, হয়তো বা যেরকম এন্ডিং এক্সপেক্ট করেছিলাম একদমই সেরকমটা হয় নি বলে। কিংবা সমাপ্তিটার ভয়াবহতা উপলব্ধি করে।
হুমায়ূন আহমেদের "অনন্ত নক্ষত্র বীথি" একটি সায়েন্স ফিকশন জনরার উপন্যাস। এই উপন্যাসের সমাপ্তিটা পড়ার সময় হঠাৎ করে আমার মাথায় আমার অন্যতম ফেভারিট একটা মুভির ইন্ডিং এর কথা মনে পড়ে যায়। ২০২১ সালে রিলিজ পাওয়া, "Spider-Man: No Way Home". হালকা একটু বর্ণনা করি মিলটা। স্পাইডার ম্যানের আগের সিকুয়াল "Spider-Man: Far From Home" এর মেইন ভিলেন Mysterio ষড়যন্ত্র করে পিটার পার্কারের আসল পরিচয় "The Daily Bugle" website এ পাবলিশ করে দেয়। এর ফল স্বরুপ দুনিয়া জেনে যায় স্পাইডারম্যান আসলে কে। ফলাফলস্বরূপ, পিটার সম্মুখীন হতে থাকে বিভিন্ন সমস্যার। এই ঝামেলা থেকে সে পরিত্রাণ পেতে (Spider-Man: No Way Home) সে Doctor Strange এর কাছে যায় সাহায্য চেতে। Doctor Strange তাকে সাহায্য করতে রাজী ও হয়ে যায় কিন্তু, পিটারকে ফেস করতে হবে এক বিশাল, consequences! এটা নিয়েও সতর্ক করে। তার প্রিয়, পরিচিত মানুষরা, এমনকি সমগ্র দুনিয়া ভুলে যাবে পিটারের পরিচয়কে। তারা শুধু মনে রাখবে স্পাইডারম্যানকে, কিন্তু কে সেই স্পাইডারম্যাম সেটা কারো মনে থাকবে না। অতঃপর ঘটনার পরিক্রমায় পিটার তার পৃথিবীকে বাঁচাতে, রাজী হয়ে যায় Dr. Strange এর অফারে। এবং সে তার ভালোবাসা MJ কে প্রমিজ করে যে সে ফিরে আসবে তার কাছে এবং তাকে মনে করিয়ে দিবে তার পরিচয় এবং তাদের ভালোবাসা। পিটার তার ওয়াদা রেখেছিল, সে ফিরে এসেছিল তার ভালোবাসার কাছে। MJ এর কফি শপে। কিন্তু MJ স্বাভাবিকভাবে তাকে চিনতে পারে নাই। ঠিক এই জায়গাটার সাথে সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়, ১৯৮৮ সালে পাবলিশ হওয়া হুমায়ূন আহমেদের লেখা সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস, "অনন্ত নক্ষত্র বীথি।" এটা আমার পড়া প্রথম সায়েন্স ফিকশন জনরার উপন্যাস, এবং প্রথমটা পড়েই মুগ্ধ হয়ে গেছি।
হুমায়ুন আহমেদের সাইন্স ফিকশন সবমসময়ই অসাধারণ হয়ে থাকে। সেখানে আর অন্য দশ টা সাইন্স ফিকশনের মত ভালো খারাপের দ্বন্দ্ব, দ্বন্দ্ব শেষে হ্যাপি এন্ডিং এমন গতানুগতিক দিকে আগায় না, বরং এমন এক অনুভুতির তৈরি করে যা ব্যক্ত করাও সম্ভব না আমার পক্ষে।
জীবন কী? অন্যের ইচ্ছাধীন স্বপ্নপূরণ কি আনন্দদায়ক, না অর্থহীন? এক থেকে বহু হলে কি একের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়? শূন্যসম বিন্দু থেকে শুরু হয়ে শূন্যেই মিলিয়ে যাওয়ার এই চক্র থেকে মুক্তি পাওয়া কি আদৌ সম্ভব? অস্তিত্বের চক্র থেকে মুক্তির জন্য কি অনন্ত পথচলাই একমাত্র পথ? দর্শনের এই চিরন্তন প্রশ্নগুলোর উত্তর নয়, বরং গল্পরূপ তুলে ধরতে চেয়েছে এই কাহিনি। এর শেষে কোনো সমাধান নেই। কোনো ধ্বংস বা শূন্যতাও নেই। যা আছে... তা নব্বই বছর আগেই লিখে গেছেন মানুষটি~ "আজ ভাবি মনে-মনে, মরীচিকা অন্বেষণে, হায় বুঝি তৃষ্ণার শেষ নাই। মনে ভয় লাগে সেই— হাল-ভাঙা পাল-ছেঁড়া ব্যথা চলেছে নিরুদ্দেশে।।" হ্যাঁ, কল্পবিজ্ঞানের মৃদু মোড়কে এ আসলে এক প্রশ্নের সঘন রূপ~ পথের শেষ কোথায়?
অনন্ত সময় হাতে পাওয়া যায় নি বলে ক্ষণিকের জীবন নিয়ে বড় খেদ সকলের। অথচ, একটা জীবন কখনো অনন্তে আটকে গেলে সেই শূণ্য সম্ভাবনাময় জীবনের তিক্ততা, হয়তো ব্ল্যাকহোলের চাইতেও বড় কোন ব্ল্যাকহোল।
আমার ধারণা ছিল হুমায়ুন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন সব ই আমার পড়া। দেখা গেল খুব সেরা কয়েকটা মিস হয়ে গেছিলো। পড়ে ফেললাম। এইখানে যুক্তি তর্কের বাইরেও যে মাত্রাটা আছে, তার কারণেই বেশি ভালো লাগা।
হুমায়ুন আহমেদের সব লেখাতেই খুব মানুষ মানুষ গন্ধ। সেই মানুষটাও আমার মত অত্যন্ত সাধারণ মানুষ!
আমার অন্যতম প্রিয় বাংলা sci-fi. খুব ছোট একটা গল্প, বেশি কিছু নেই এতে। কিন্তু অনায়াসে এটা দিয়ে ব্ল্যাক মিররের একটা এপিসোড বানিয়ে ফেলা যাবে। আমার যদি অনেক টাকা থাকতো, এবং ডিরেকশন সম্পর্কে ন্যুনতম জ্ঞান থাকতো, আমি অবশ্যই এটা দিয়ে একটা মুভি/নাটক বানিয়ে ফেলতাম। গল্পটা শেষ করার পর যে কী ভীষণ একটা শূন্যতা কাজ করে! অসাধারণ!
হুমায়ুন সাহেব খুব বেশি সায়েন্স ফিকশন লেখেননি। যেগুলো লিখেছেন, সেগুলোতেও মনে হয়েছে সায়েন্স বা ফিকশনের তুলনায় উনার চিন্তাভাবনাই বেশি বেশি। তবে এই বইটা একটু আলাদা। পড়ে ভাল লাগলো। সায়েন্স যথারীতি কম থাকলেও সায়েন্স ফিকশন হিসেবে যথেষ্ট ভাল।
আমি একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। পাঁচদিনে পাঁচটা বই পড়ার চ্যালেঞ্জ। স্বাভাবিক ভাবেই প্রথম দুদিন বেশ তোড়জোড় করে পড়ার পর তৃতীয়দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। হঠাৎ করে খেয়াল করলাম আমার হাতে আর কয়েকঘন্টা বাকি পাঁচদিন শেষ হতে। এদিকে আমি পড়েছি চারটা বই। এইমুহূর্তে নিজের মানসম্মান একভাবেই রক্ষা করা যায়। সেটা হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ এর কোনো একটা বই আবারো পড়া। হাতের কাছে ছিলো অনন্ত নক্ষত্র বীথি, তাই এটাই ধরলাম। প্লাস পয়েন্টঃ আমার কাহিনীর কিছুই মনে নেই।
যাইহোক, দ্বিতীয়বার পড়ে যা বুঝলাম তা হচ্ছে অনেকদিন পর হুমায়ূন আহমেদ এর কোনো লেখা পড়ে হতাশ হলাম। এই বইটাকে তোমাদের জন্য ভালোবাসা বইটার ছোটভাই লাগছে। এক্সেপ্ট এই ছোটভাইয়ের কোনো নিজস্বতা নেই।
হুমায়ূন আহমেদের মানবিক উপন্যাসের ধাঁচে Space, and Time Travel, and Higher dimensional being, and parallel universe, and paradox নিয়ে এই বইটি লেখা। হ্যাঁ আমি এখনো ৬৮ পৃষ্ঠার একটি সাইন্স ফিকশন নিয়েই কথাই বলছি বিশ্বাস হচ্ছে না আমারও হচ্ছে না আর আমি বইটা পড়েছি হা হা হা হুমায়ুনের অসাধারণ একটি বই 5/5 star একটা বই।
ইন্টারেস্টালার দেখে থাকলে, এই বইয়ের ধাঁচ টিও সেরকম।
এখন শুধু আমি ভাবছি আর ভাবছি কেন হুমায়ূন আহমেদ এত কম সাইন্স ফিকশন লিখে গিয়েছেন। হয়তো ওনার কোন দোষ নেই, যা বিক্রি হবে তাইতো লিখবেন "পাগলের" গল্প বিক্রি হচ্ছিল তো আর কি করার।
কি দুর্দান্ত একটি সায়েন্স ফিকশন! টাইম লুপ, টাইম ট্রাভেল, চতুর্মাত্রিক জগত, মাল্টিপল রিয়েলিটি, সময় সংকোচন, সময় প্রসারণ কি নেই এখানে! কোহেরেন্ট, এজ অব টুমোরো, ট্রায়াঙ্গেল, লোকি সবকিছু যেনো এক লেখায়-তাও সুদূর ১৯৯৩ সালে! হুমায়ূন পদার্থবিদ্যার চমৎকার সব আইডিয়া নিয়ে খেলেছেন। সেই সাথে মিশিয়েছেন মানবমনের বিশুদ্ধতম অনুভূতি - নারী-পুরুষের ভালোবাসা...
(বাংলাদেশের ঠিক শেষপ্রান্তে সেন্ট মার্টিনে অনন্ত নক্ষত্রবীথির নীচে অনন্ত সমুদ্রের সামনে বসে শেষ করলাম বইটি। রাত এখন নয়টা। অদ্ভুত অনুভূতি...)
আসলেই কী আমরা সকলে এক ভয়াবহ চক্রে আটকা পড়ে আছি?যে চক্রের কোনো শেষ নেই! অনন্তকাল ধরে যে চলতেই থাকবে। আমাদের যাত্রা অনন্ত নক্ষত্র বীথির দিকে,অথচ কোনোদিন কোথাও পৌঁছাতে পারবো না। কী অদ্ভুত! কী সুন্দর! কী ভয়ানক!
ফাইভ স্টার দিয়েও মন ভরে নি। অনেকদিন পর হুমায়ুন স্যারের এত্তো অসাধারণ কোনো বই পড়লাম।