রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
রকিব হাসানের মৃত্যুতে শোকাতুর হয়ে বহু বছর পর আবার পড়লাম বইটা। এই বই দিয়েই ১৯৮৬ সালে পরিচয় হয়েছিল সেবা, তিন গোয়েন্দা আর রকিব হাসানের সঙ্গে। আবারও উপলব্ধি করলাম, কেন সেই জাদুতে আটকা পড়ে গিয়েছিলাম। সত্যি, অসাধারণ!
হুট করে একদিন চিঠি আসে তিন গোয়েন্দাদের ঠিকানায়, হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক মিস্টার ক্রিস্টোফার। কি লিখা ছিলো সে চিঠিতে? তিন হাজারের পুরোনো মমি হচ্ছে মিশরের রা আরাকানের মমি। মমি নিয়ে গবেষণা করছেন প্রফেসর বেনজামিন। হুট করেই একদিন রাতে খেয়াল করলেন মমি ফিস ফিস করে কথা বলছে,মৃত লাশ কথা বলছে কিভাবে সম্ভব সেটি? মমি নিয়েই ঘটতে থাকে একের পর এক দূর্ঘটনা, মমি উদ্ধারে যারা কাজ করছিলেন মৃত্যু হতে থাকে তাদের অপঘাতে। মমির ফলকে লিখা " যারা এই কবরের পবিত্রতা নষ্ট করবে তাদের উপর নেমে আসবে অভিশপ্ত অভিশাপ " বাণীটাই কি সত্য হতে চললো? মিশরের এক লিবিয়ান পরিবার তাদের দাবী করছে রা আরাকানের বংশধর হিসেবে, অথচ রা আরাকানের ব্যাপারে সব তথ্য ঘোলাটে! মমি চুরি করার ফন্দি আঁটছে তারা কিন্তু তাদের অন্তাজেই চুরি হয়ে যায় মমিটা। কে করলো এমন আর কিইবা স্বার্থে? জানতে হলে পড়তে হবে এই কিশোর উপন্যাস টি।
থ্রিল, এডভাঞ্চার সবকিছুই ছিলো উপন্যাসটিতে, খাপছাড়া লাগে নি কখনো। সুখপাঠ্য!
আগে পড়েছি, তবে কাহিনি তেমন একটা মনে ছিল না। আগেও ভাল লেগেছিল এবারও ভাল লাগল। তবে কিছু যুক্তি মানতে পারি নি। মমি চুরি করতে লিবিয়া থেকে লোক নিয়ে আসার চে নিজেই নিয়ে দেখার সুযোগ প্রফেসরের ছিল। অনেক ঘুর পথে লিবিয়ানদের ডেকে এনেছে, তার উপর মমি মিশরে ফিরে গেলে সে ধরার সুযোগ পেত তারও নিশ্চয়তা ছিল না। তারপরও কাহিনির প্রয়োজনে করতে হয়েছে।