Dr. BN Guha Roy Chowdhury alias Bhumendra Guha, was known as the researcher who enriched Bangla literature by bringing works of eminent poet Jibanananda Das to public view.
Born on August 2, 1933, Guha himself was a poet and a literary critic and had published 10 poetry collections.
Guha, a cardiac surgeon by profession, edited the manuscript of Jibanananda's works “Kobitar Kotha”, “Ruposhi Bangla”, “Bela Obela Kalbela” and fiction “Mallyaban” and deciphered about 1,500 poems by Jibanananda.
The Jibananda Das Academy in Bangladesh yesterday expressed deep shock at the death of this litterateur.
ভূমেন্দ্র গুহ-এই মানুষটার উপর বাঙ্গালীর কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। নয়তো জীবনানন্দের জীবদ্দশায় প্রকাশিত গোটা পাঁচেক কবিতার বই পড়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতো আমাদের। নির্জনতার কবি থেকে যেতেন চিরটাকাল আড়ালেই।
ট্রামের ইতিহাসে কবি জীবনানন্দই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ট্রামের মতো এতো স্লো একটা বাহনের কারণে এক্সিডেন্ট করেছেন। কবির মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি সত্যি এক্সিডেন্ট- ধোঁয়াশা রয়ে গেছে এখনও। আহত অবস্থায় কবির শেষ ক'টা দিনের কথা লিখেছেন ভূমেন্দ্র গুহ। লিখেছেন জীবনানন্দ দাশের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কারের কাহিনি। সম্পূর্ণ অনাত্মীয় একটি যুবক স্রেফ ভাগ্যচক্রে জড়িয়ে পড়লেন এরকম একটা কাজে।
অন্যমনস্ক অবস্থায় হাঁটতে হাঁটতে ট্রামের তলায় চাপা পড়ে বেঘোরে মারা যাওয়ার পরে বিখ্যাত হতে শুরু করবেন জানলে জীবনানন্দ আরো আগেই অন্যমনস্ক হবার ভান করতেন। শুধু একবার নয়, অনেকবারই। জীবিত অবস্থায় নন্দিত হওয়ার চেয়ে নিন্দিত হয়েছেন ঢের! মুখচোরা হিসেবেও ছিল দুর্নাম।
গোটা পাঁচেক কবিতার বই আর তাতে দেড়শোর সামান্য বেশি কবিতা। নিজ থেকে এই জানিয়ে যেতে পেরেছিলেন বিশ্বকে। তাহলে আরো যে শত শত কবিতা, সেইগুলো? সেই অজস্র রত্নভান্ডারের খোঁজ মিলল কী করে? মুখচোরা কবি জীবনানন্দ থেকে নিভৃতচারী কবি জীবনানন্দ হওয়ার উত্তর পাওয়া গেছে বইটিতে।
বইটা নিঃসন্দেহে চমৎকার। তবে একটা পর্যায়ে বিরক্ত লেগে গিয়েছিলো। বারবার কবির হাসপাতালের কাহিনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলা হয়। এটা ছাড়া বইটা পড়ে কবির অনেক কিছুই জানা যায়।
জীবন টা সুখের ছিলো না হয়ত, কিন্তু তার সৃষ্টি কত মানুষের সুখের কারণ। একটা বিষয় স্পষ্ট যে কবির সাংসারিক জীবন সুখের ছিলো না। তবে হাতি মরলে,হাতির দাম বাড়ার মত, কবির মৃত্যর পর তার কবিতার দাম বাড়ল। ভূমেন্দ্র গুহ না থাকলে তার কাজগুলো আজকে হয়ত অনেকটা হারিয়ে যেত। নির্জনতার কবির রুপসী বাংলা তখন আর কার দেখা হত না। বইটি পড়া উচিত, ইনফরমেটিভ বই।
কবির জীবনের শেষ দিনগুলোর স্মৃতি পড়তে পড়তে ব্যাকুল না হওয়া দায়। তার অসংখ্য ছাপা না হওয়া পান্ডুলিপি, লেখালেখি, খসড়ার প্রতি পরিবারের সদস্যদের অবহেলা পীড়াদায়ক। সিগনেট প্রেসের কর্তাব্যাক্তির মৃত কবির পাণ্ডুলিপির উপরে এভাবে ছুরি চালানো জানতে পেরে কষ্ট একটুও কম লাগছিলো না তার হাসপাতালে আটদিনের মৃতুর সাথে লড়াইয়ের বিবরনের চেয়ে। মানুষ জীবনানন্দকেও কিছুটা জানা যাচ্ছিলো। এই যে পরিবার, পরিজন আর প্রতিষ্ঠার মাঝখানে ট্র্যাপে আটকা পড়ে যাওয়া কবির জীবন, অনন্ত ডেলিরিয়ামের মাঝেই যেন তিনি সারাংশ করে গেছেন "ধূসর পাণ্ডুলিপির রঙ সারা আকাশ জুড়ে। ধূসর পাণ্ডুলিপি সারা আকাশ জুড়ে।"