Jump to ratings and reviews
Rate this book

হুতোম প্যাঁচার নক্‌শা

Rate this book
হুতোম প্যাঁচার নকশা প্রথম প্রকাশের পর প্রায় দেড়শো বছর অতিক্রান্ত, তবু তার জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ। বাংলা সাহিত্যে নকশা জাতীয় গ্রন্থের সংখ্যা কম নয়, তথাপি কারও ভাগ্যেই এই সমাদর জোটেনি। হুতোমের নকশা বহুসিদ্ধিদ, বাংলা গদ্য-বিবর্তন সম্পর্কে উৎসাহী থেকে ঔপনিবেশিক-সমাজ গবেষক, পুরনো কলকাতার ইতিহাস-আগ্রহী থেকে অ-বিশেষজ্ঞ পাঠক— সকলের কাছেই হুতোম সমান আদৃত। অথচ আজকের পাঠকের পক্ষে নকশার রসাস্বাদন সত্যিই দুরূহ। আইন বাঁচাতে অনেক বাস্তব চরিত্রকে ছদ্মবেশ পরিয়েছিলেন হুতোম, তারপর এতকালের ব্যবধানে সে যুগের সাড়া-জাগানো ঘটনা থেকে শুরু করে উৎসব, অনুষ্ঠান, আচার, প্রথা, যানবাহন, অলঙ্কার, পল্লীনাম— অনেক কিছুই আজ বিস্মৃতির গর্ভে। ফলে এই কালজয়ী নকশার রসাস্বাদনে বিঘ্ন ঘটে। ইতিপূর্বে হুতোম প্যাঁচার নকশার একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, বলতেই হয় সম্পাদকদের উচিত মনোযোগ থেকে নকশা বঞ্চিত। টীকা দূরস্থান, মূল পাঠ বিকৃত, কোথাও খণ্ডিত, কোথাও একই ছাপার ভুল মুদ্রণের পর মুদ্রণে অবিচলিত। বর্তমান সংস্করণে হুবহু মূল পাঠের সঙ্গে আছে টীকা, পাঠান্তর, পুস্তক পরিচয়, বহু ছবি আর পুরনো উত্তর কলকাতার একটি মানচিত্র। নকশার প্রেক্ষাপট, রচয়িতা ও সম্বন্ধিত বিতর্ক নিয়ে একটি মূল্যবান ভূমিকা। বাংলা সম্পাদনার ইতিহাসে সটীক হুতোম প্যাঁচার নকশার জুড়ি মেলা ভার। সম্পাদনা করেছেন শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক অরুণ নাগ।

149 pages, Hardcover

First published January 1, 1862

37 people are currently reading
539 people want to read

About the author

Kaliprasanna Singha

7 books15 followers
Kaliprasanna Singha (Bengali: কালীপ্রসন্ন সিংহ) is remembered for his two immortal contributions to Bengali literature viz. translation of Mahabharata, the largest epic, and his book Hutom Pyanchar Naksha. He is also remembered as a philanthropist who helped several people and movements in distress.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
46 (31%)
4 stars
53 (36%)
3 stars
36 (24%)
2 stars
6 (4%)
1 star
4 (2%)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
Profile Image for Shadin Pranto.
1,479 reviews561 followers
November 11, 2019
উনিশ শতকের প্রথমার্ধের বাঙালি বিশেষত, বাঙালি হিন্দুর কালচার, রীতিনীতি, রাজধানী কলকাতার হালহকিকৎ বুঝতে 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'র চেয়ে ভালো গ্রন্থ আছে কীনা আমার জানা নেই। ফার্স্ট হ্যান্ড রেফারেন্স হিসেবে কালীপ্রসন্ন সিংহের হুতোমের তুলনা চলে আরেক ইয়ংবেঙ্গল প্যাঁরীচাঁদ মিত্রের ম্যাগনাম ওপাস 'আলালের ঘরের দুলাল'-এর সঙ্গে।

সাহিত্যকে সমাজের দর্পণ বলে সুভাষিত আছে। এই কথার শতভাগ সত্যতা মেলে 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' পড়লে। পুরো উনিশ শতকের কলকাতাকে যেন পাঠকের চোখের সামনে তুলে ধরেছেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। রঙ্গরসিকতার ছলে তৎকালীন পঁচে যাওয়া সমাজকে সুতীক্ষ্মভাবে পোস্টমর্টেম করেছেন তিনি। বাবু কালচারের নামে নষ্টামি, ধর্মের কথা বলে অসার লৌকিকতা, মোসাহেবি, সংস্কারের আদলে কুসংস্কার টিকিয়ে রাখা আর নীতিনৈতিকতার বালাইহীন এক জনপদের 'গল্প' শুনিয়েছেন কালীপ্রসন্ন সিংহ।

বড় মানুষ কালীপ্রসন্ন সিংহ তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার মতো মানুষও মুসলমানদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা দেখাননি। বরং সুযোগ পেলেই খোঁচা দিয়েছেন। যেমনঃ সিপাহী বিদ্রোহের সময় বাহাদুর শাহ জাফরের অধীনে সেপাইরা জড়ো হয়। তিনি বাহাদুর শাহ জাফর ও সিপাহী বিদ্রোহকে ব্যঙ্গ করেছেন। বাহাদুর শাহ জাফরকে সম্বোধন করেছেন 'নেড়ে চিফ' বলে। হাতেগোনা কয়েকবার মুসলমানদের প্রসঙ্গ এসেছে। প্রতিবারই 'নেড়ে', 'গরুখোর' বলে গাল দিয়েছেন 'উদার চিত্তের' কালীপ্রসন্ন সিংহ।

উপন্যাসের কাঠামো বিবেচনায় 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' হয়তো পাশ মার্ক পাবে না। কিন্তু উনিশ শতকের প্রথমার্ধকে সফলভাবে উপস্থাপনের জন্য আর সিংহি বাবুর সেন্স অব হিউমারের স্বাদ পেতেও পড়তে পারেন বাংলা গদ্যসাহিত্যের পয়লা দিককার নিদর্শন 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'।
Profile Image for Sohan.
274 reviews74 followers
November 22, 2020
সোনাগাছি চেনেন তো? ইচ্ছে ছিল নামকরণের কারনটা জানার। সটীক হুতোম পড়ার ফলে জানলুম সেখানে একটি দরগা আছে যার নাম পীর গাযি সানাউল্লাহ শাহ্‌ এঁর দরগা। তাঁর নাম থেকে জায়গার নাম হয় সোনাগাযি আর সোনাগাযি থেকে সোনাগাছি।

যাইহোক ফালতু প্যাচাল না পেরে আসল কথা বলি। হুতোম প্যাঁচার নকশা পরে ভাল লাগেনি অথবা একঘেয়েমো লেগেছে এরকম কথা আশে পাশে শোনা যায়। আমি তাদের উদ্দেশে বলছি, দয়া করে “আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত, অরুণ নাগ সম্পাদিত, সটীক হুতোম প্যাঁচার নকশা বইখানি খরিদ করে পড়ুন।

সটীক (with vaccine!?) কেন জরুরী?

আমি একটা উদাহরণ দেই। বইটি থেকে একটা অংশ লিখছি।

“টেক চাঁদ ঠাকুরের টেঁপী পিসী ওয়েলসের মুখরোগের তরে মিটিং করা হয়েছে শুনে বললেন, ‘অমা আজ কাল সবই ইংরিজি কেতা! আমরা হলে মুড়োমুড়ি, নারকেলমুড়ি ও ঠনঠনের নিমকীতে দোরস্ত কত্তেম!’ নারকেলমুড়ি বড় উত্তম ওসুধ”

টেক চাঁদ ঠাকুর কে না হয় চিনলাম কিন্তু টেঁপী পিসী? টেপী পিসী হলেন টেক চাঁদ ঠাকুরের লেখা ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কী উপায়’ বইয়ের একটা চরিত্র। (এই বইটি না পড়া থাকলে টীকা থেকে জানতে হবে তাই তো? নাকি?)
আবার নারকেলমুড়ি ও ঠনঠনের নিমকী হল যথাক্রমে নারিকেল কাঠির ঝাঁটা ও ঠনঠনের চটিজুতো বা স্যান্ডেল।
অর্থাৎ, ওয়েলসের মত অভদ্র সাহেবকে শাসন করতে ও তার মুখের রোগ দূর করতে আমার নারিকেলকাঠির ঝাটের বারি ও ঠনঠনের স্যান্ডেলই যথেষ্ট।

আপনি টীকা না পড়লে আসলে সেই সময়কার অনেক কিছু মিস করবেন আর মাঝখানে এরকম দুর্দান্ত একটা বইকে পচা বলে ফেলে রাখবেন। এই বইটি শুধুমাত্র যে তৎকালীন বাবুসমাজের নকশা বা বাঙ্গ বিদ্রূপ তাই না এইটি একটি ইতিহাস গ্রন্থও বটে।

হুতোম প্যাঁচার নকশা কি উপন্যাস?

আমার মতে এটার অনেকাংশ হুতোমের আত্মজীবনী। আর তাছাড়া বইটির প্রতিটা চরিত্র (টেঁপী পিসীর মত চরিত্র বাদে) বাস্তব। অর্থাৎ, হুতোম নাম বদলে অনেকের বর্ণনা দিয়েছেন। যেমনঃ বিদ্যাসাগর মশাইকে তিনি মুলুক চাঁদ শর্মা বলে উল্লেখ করেছেন। এই মুলুক চাঁদ শর্মা নামের মধ্যে একটা রহস্য আছে সেটা আপনাকে বের করতে হবে।

বইটিতে আরও আছে পুরনো কলিকাতার ম্যাপ। যা আপনাকে গবেষণা করতে সাহায্য করবে। আরও আছে ছবি।

পুনশ্চঃ যদি আপনি এই বইটি পড়ে থাকেন তাহলে বলুন তো, হুতোমের কয়টি টিকি ছিল?
Profile Image for Susanhita Ranjan.
13 reviews3 followers
March 4, 2021
Analysing the context of Babus with 21st century eyes, I find no difference with them and the successful Wall street brokers or Silicon valley types. They made money and knew how to party hard. But the hate came because just afterwards, the British-made famines started. Suddenly people fell from "hujuge" and "baro maashe tero paarbon" to starving and dying penniless. Instead of the hate going rightfully to the Brits, they came to these Babus. Didn't they party massively , didn't they bring strippers, sherry and all that jazz? But had they knew the future of India's economy under Queen Victoria, I doubt they would have lived so lavishly. It still applies to the current world.
It all came down to India's GDP from being one the worst highest to one of the lowest in a span of a man's lifetime, under British looting. And that change is documented here.
Profile Image for Sadik Mahmud.
5 reviews1 follower
February 4, 2023
বইটার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো সমাজ ও সামাজিক আচরণের প্রতি ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি যা ক্ষেত্রবিশেষে লেখকের স্ব চরিত্রকেও ছাড়েনি। তবে উদ্ভট বানানরীতি এবং তৎকালীন ঘটনাবলী ও ব্যক্তিবিশেষের প্রতি করা অস্পষ্ট ইঙ্গিতের দরুণ ঠিক সুখপাঠ্য হলো না। এক্ষেত্রে দায়টা অবশ্য আমার, ইতিহাসের অজ্ঞানতার জন্যই সম্ভবত বাংলা ভাষার অন্যতম এই গ্রন্থের স্বাদ আস্বাদনে ব্যর্থ হলাম।
Profile Image for Salauddin Rony.
35 reviews1 follower
September 4, 2025
হুতোম প্যাঁচার নকশা: ঊনবিংশ শতকের কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র

বাংলা নবজাগরণের সময়কালে সাহিত্য-সংস্কৃতির এক বিশেষ ধারা গড়ে উঠেছিল, যার কেন্দ্র ছিল কলকাতা নগরী। ইংরেজ শাসনের প্রভাবে নগর-অভিজাত সমাজে একদিকে যেমন নতুন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছিল, অন্যদিকে জন্ম নিচ্ছিল অযথা আড়ম্বর, নকল-সংস্কৃতি ও সামাজিক দ্বিচারিতা। এই পরিপ্রেক্ষিতেই কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০–১৮৭০) তাঁর অমর রচনা হুতোম প্যাঁচার নকশা প্রকাশ করেন (১৮৬১)। এই গ্রন্থকে একদিকে বাংলা ব্যঙ্গসাহিত্যের প্রথম শক্তিশালী দলিল বলা যায়, অন্যদিকে এটি এক জীবন্ত সামাজিক নথি।

কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন জমিদার পরিবারের সন্তান, যাঁকে সমসাময়িকরা ‘প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমপর্যায়ের’ ধনকুবের বলেই অভিহিত করতেন। কিন্তু বিলাসী জীবনে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি সাহিত্য-সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তাঁর সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য অবদান হলো মহাকাব্য মহাভারত–এর পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ (১৮৬০–৬৬), যা তিনি বিনামূল্যে বিতরণ করেছিলেন। এই অনুদান তাঁকে বাংলা সাহিত্যের চিরস্থায়ী বন্ধু করে রেখেছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত রসবোধ ও পর্যবেক্ষণশক্তি তাঁকে ব্যঙ্গরচনার পথে চালিত করে।

রচনার সাহিত্যিক প্রকৃতি
হুতোম প্যাঁচার নকশাকে উপন্যাস বলা যায় না; এটি আসলে এক ধরনের সামাজিক ব্যঙ��গচিত্র (satirical social sketch)। পাশ্চাত্যের সঙ্গে তুলনা করলে একে জনাথন সুইফটের The Battle of the Books (১৭০৪) কিংবা চার্লস ডিকেন্সের Sketches by Boz (১৮৩৬)-এর ধারায় ফেলা যায়। ���খানে কাহিনি-নির্ভর গাঁথুনি নেই; বরং বিভিন্ন ঘটনার নকশা একত্র হয়ে গড়ে তুলেছে শহুরে জীবনচিত্র।

স্বতন্ত্র আবিষ্কার: চলিতভাষার ব্যবহার
কালীপ্রসন্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো চলিতভাষায় গদ্য রচনা। উনিশ শতকের পূর্বভাগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও অক্ষয়কুমার দত্তের সাধুভাষার গদ্য পাঠকের জন্য ছিল জটিল ও আড়ষ্ট। কালীপ্রসন্ন সেই শৃঙ্খল ভেঙে আনলেন রাস্তার ভাষা, লোকপ্রবচন, এমনকি স্ল্যাং। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বিদ্রূপ করে লিখেছেন—“আজকালকার বাবুরা সাহেবি কেতা করতে গিয়ে অদ্ভুত কাণ্ড করে—মাথায় টাক, গায়ে ধুতি, কিন্তু পকেটে ঘড়ি। ঘড়িটা আবার ছ’পয়সার।” (সিংহ, ১৮৬১, পৃ. ২২)। এই উদাহরণ কেবল রসাত্মক নয়; এতে বাবু-সংস্কৃতির ভণ্ডামির নগ্ন প্রকাশ ঘটেছে। গ্রন্থটির প্রতিটি অংশে উনিশ শতকের কলকাতা ধরা পড়েছে স্পষ্টভাবে। নবাবুদের বাহার দেখানো, ইংরেজি শেখার ব্যর্থ প্রয়াস, নারীদের গৃহবন্দিত্ব, নিম্নবিত্তের দৈনন্দিন সংগ্রাম—সবকিছুই এখানে চিত্রিত। যেমন ইংরেজি শেখার প্রহসনে তিনি লিখছেন: “একজন বাবু সাহেবকে বলছেন—আই অ্যাম কামিং ফ্রম গঙ্গাজল টু সী-শোর।” (সিংহ, ১৮৬১, পৃ. ৪৭)। এর মধ্যে রয়েছে হাস্যরস, আবার একই সঙ্গে অন্ধ অনুকরণের করুণ চিত্র। এ কারণে এই রচনা কেবল সাহিত্য নয়, সমাজবিজ্ঞান ও ইতিহাস গবেষণার ক্ষেত্রেও প্রামাণ্য দলিল।

এই গ্রন্থের বিশেষ সৌন্দর্য হলো এর নিরপেক্ষতা। হুতোম প্যাঁচা কোনো নৈতিক বক্তা নয়; তিনি কেবল পর্যবেক্ষক। পাঠককে তিনি হাসান, কিন্তু বিচার করতে বাধ্য করেন না। বরং পাঠক নিজেই উপলব্ধি করেন সমাজের অন্ধকার দিক। এই পদ্ধতিতে রচনাটি দার্শনিক নিরপেক্ষতার একটি বিশেষ অবস্থান দখল করে। উনিশ শতকের বাংলা ব্যঙ্গসাহিত্য মূলত প্রহসনধর্মী ছিল। কিন্তু কালীপ্রসন্নের ব্যঙ্গ সূক্ষ্ম, বিদ্রূপাত্মক এবং বহুস্তরীয়। বাবুরা নিজেরাই নিজেদের কৌতুকের উৎস হয়ে ওঠেন। এভাবে তিনি এমন এক বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস গড়ে তুলেছিলেন যা আধুনিক বিদ্রূপসাহিত্যের সঙ্গে তুলনীয়। আজও যখন আমরা তাঁর বাবু-সংস্কৃতির নকলচর্চা পড়ি, তখন কেবল উনিশ শতকের কলকাতা নয়, আমাদের সমকালীন সমাজের প্রতিচ্ছবিও দেখতে পাই।

হুতোম প্যাঁচার নকশা কেবল একটি হাস্যরসাত্মক গ্রন্থ নয়; এটি একাধারে ইতিহাস, সমাজচিত্র ও সাহিত্যিক বিপ্লব। কালীপ্রসন্ন সিংহ ভাষাকে সাধারণ মানুষের মুখে ফিরিয়ে দিয়ে, ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজকে আয়নায় দেখিয়ে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধারা সূচনা করেছিলেন। তাঁর এই কাজকে বাংলা ব্যঙ্গসাহিত্যের অগ্রদূত বলা যায়, আর তাঁর রসাত্মকতা আজও পাঠককে নতুনভাবে ভাবায়।

রেফারেন্সঃ
১। সিংহ, কালীপ্রসন্ন। হুতোম প্যাঁচার নকশা। কলকাতা: ১৮৬১।
২। মজুমদার, আশুতোষ। বাংলা গদ্যের ইতিহাস। কলকাতা: সংস্কৃতি প্রকাশনী, ১৯৫৮।
৩। চৌধুরী, নীহাররঞ্জন। বঙ্গভাষার ইতিবৃত্ত। কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং, ১৯৮৫।
৪। Ray, Niharranjan. Bangalir Itihas: Adi Parba. Kolkata: Dey’s Publishing, 1979.
Profile Image for Pravin Subramanian.
8 reviews2 followers
June 17, 2020
This is a hilarious account of Bengal's debaucheries in the 19th century. A far cry from the stiff upper lip and diminutive image of British India that captures popular imagination
Profile Image for Rikta.
3 reviews
January 2, 2023
সেই সময়ের কলকাতা সমাজের প্রচলিত সব প্রথা, কৃষ্টি কালচার এর এক অনন্য ডিরেক্টরি বলা যায় বইটিকে।
Profile Image for Smita Das.
6 reviews31 followers
April 8, 2016
কোলকাতার তৎকালীন কথ্য ভাষায় লেখা। একটু অগোছালো, আনপলিশডও। পড়তে একটু কষ্ট হয়েছে তাই। বইটা থেকে ব্রিটিশ শাসনামলের 'সভ্য' বাঙালী সমাজের অন্তঃসারশূন্যতার মোটামুটি একটা চিত্র পাওয়া যায়। লেখক এই অন্তঃসারশূন্যতাকে ব্যঙ্গ করেছেন তীব্র ভাষায়, সুতীক্ষ্ণ কৌতুকে।
Profile Image for Shashwata Ganguly.
11 reviews6 followers
December 27, 2024
হুতোম পেঁচার নকশা উনিশ শতকের কলকাতার বাবু সমাজ সম্পর্কে জানতে ক্লাসিক। কিন্তু এই বইটিকে স্বতন্ত্র করেছে অরুণ নাগের টীকাকরণ। এত যত্ন নিয়ে, বিশদে টীকাকরণ অন্য বাংলা বইয়ে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। অন্য মাত্রা যোগ করে বইটার নানা ছবি এবং বিশেষত উনিশ শতকের কলকাতার একটা ম্যাপ।
Displaying 1 - 13 of 13 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.