What do you think?


আরণ্যক
'Aranyak' is a simple and uncomplicated story. The protagonist Satyacharan has gone to an estate in Bhagalpur after getting a job of a manager. Initially his urban lifestyle might have revolted against the lonely jungle life but gradually nature hypnotized Satyacharan. Gradually he can not even resist a moment's absence from the forest. Satyacharan and his partner Jugalprasad, a perfect match to the nature-loving soul of Satyacharan decorated the forest by planting many rare species of herbs and saplings. But Satyacharan is an estate manager. He has to destroy this creation of the forest-Goddess against his own will and distribute it amongst the local people. Age old gigantic trees as well as plants and herbs of rare species are getting destroyed with the sharp axes. This results in a deep feeling of guilt and sadness at the end of the novel.
256 pages, Hardcover
First published December 1, 1939
About the author
Bibhutibhushan Bandyopadhyay
213 books1,216 followersBibhutibhushan Bandyopadhyay (Bangla: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bangali author and one of the leading writers of modern Bangla literature. His best known work is the autobiographical novel, Pather Panchali: Song of the Road which was later adapted (along with Aparajito, the sequel) into the Apu Trilogy films, directed by Satyajit Ray.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 640 reviews
June 15, 2014
এ বইটা পড়ারও একটা গল্প আছে।
আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। ইংরেজি স্যারের বাসায় যেতাম প্রাইভেট পড়তে। একদিন শুনলাম স্যারের বাবা ইন্তেকাল করেছেন। স্যার কাউকে পড়াবেন না। সবাইকে স্যার ফেরত পাঠালেও আমাকে নিজের রুমের টেবিলে বসায় বললেন পড়তে থাক তুই। বলে স্যার পাশের বিছানায় চোখ বন্ধ করে শোকাতুর হয়ে শুয়ে রইলেন। আমি পড়তে থাকলাম আর মাঝেমধ্যে স্যারের বইয়ের বিশাল কালেকশনে চোখ বুলাতে থাকলাম। অসংখ্য বইয়ের মাঝে চোখ পড়ল আরন্যকে। পড়া শেষে বুকে সাহস এনে বইটা চেয়ে ফেললাম। স্যার শুনে প্রচন্ড বিরক্ত চোখে ক্লাস সেভেনে পড়া ইচড়ে পাকা আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে বললেন, 'এই বইটা কালকে তুই আমার বাসায় এসে বসে পড়বি। তারপরে আমাকে বলবি এখানে কি বলা হয়েছে'। আমি পরের দিন এসে বইটা পড়লাম এবং একটা মৌখিক রিভিউ দিলাম স্যারকে। হতবাক হয়ে উনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন এরপরে যে বইটা উনার কালেকশনে পছন্দ হয় নিয়ে যেতে। আমার মনে হইল বিশ্বজয় হয়ে গিয়েছে।
বইটার রিভিউ দেয়ার আসল ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু পড়ার সময়ের আমার অভিজ্ঞতা কিছুটা তুলে ধরি৷ বই পড়ে ভিজুয়ালাইজ করা আমি সর্বপ্রথম এই বই পড়েই পেয়েছি। আমার এতকাল ধরে এতটুকু মনে আছে আমি নিজেকেই যেন সত্যচরণ। এই জনকোলাহলপূর্ণ ইটপাথরের কোলকাতা শহর থেকে জীবিকার তাগিদে চলে গেছি ভাগলপুরের জমিদারবাড়িতে। চারপাশে ঘন জংগল আর সেখানকার বাস করা নিন্মবিত্তের আর বর্ণের মানুষগুলাই এখন আমার সম্বল। এদের জীবন আর জীবিকার সাথে তাদের বিশ্বাস আর সরলতাও আমি দেখলাম সত্যচরণের চোখে। বইটার ইউনিকনেস হচ্ছে এর বর্ণনায়৷ লেখক হিসেবে বিভুতিভূষণের উচ্চতা আপনি বইটা পড়লেই টের পাবেন। জংগলের বর্ণনায় আমার গা যেন শিরশির করে উঠছিল। আমি যেন সবকিছু নিজের চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম।
বড় হবার পরে আমি বাংলাদেশের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু যখনই বান্দরবানের ঘন পাহাড়মিশ্রিত জংগলে হাইকিং করেছি তখনি বিভুতিভূষণ আর সত্যচরণের কথা মনের মধ্যে জ্বলজ্বল করে উঠেছে সবসময়ই। আবার গেলেও যে তাদেরই কথা মনে পড়বে সেটা বলাইবাহুল্য।
আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। ইংরেজি স্যারের বাসায় যেতাম প্রাইভেট পড়তে। একদিন শুনলাম স্যারের বাবা ইন্তেকাল করেছেন। স্যার কাউকে পড়াবেন না। সবাইকে স্যার ফেরত পাঠালেও আমাকে নিজের রুমের টেবিলে বসায় বললেন পড়তে থাক তুই। বলে স্যার পাশের বিছানায় চোখ বন্ধ করে শোকাতুর হয়ে শুয়ে রইলেন। আমি পড়তে থাকলাম আর মাঝেমধ্যে স্যারের বইয়ের বিশাল কালেকশনে চোখ বুলাতে থাকলাম। অসংখ্য বইয়ের মাঝে চোখ পড়ল আরন্যকে। পড়া শেষে বুকে সাহস এনে বইটা চেয়ে ফেললাম। স্যার শুনে প্রচন্ড বিরক্ত চোখে ক্লাস সেভেনে পড়া ইচড়ে পাকা আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে বললেন, 'এই বইটা কালকে তুই আমার বাসায় এসে বসে পড়বি। তারপরে আমাকে বলবি এখানে কি বলা হয়েছে'। আমি পরের দিন এসে বইটা পড়লাম এবং একটা মৌখিক রিভিউ দিলাম স্যারকে। হতবাক হয়ে উনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন এরপরে যে বইটা উনার কালেকশনে পছন্দ হয় নিয়ে যেতে। আমার মনে হইল বিশ্বজয় হয়ে গিয়েছে।
বইটার রিভিউ দেয়ার আসল ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু পড়ার সময়ের আমার অভিজ্ঞতা কিছুটা তুলে ধরি৷ বই পড়ে ভিজুয়ালাইজ করা আমি সর্বপ্রথম এই বই পড়েই পেয়েছি। আমার এতকাল ধরে এতটুকু মনে আছে আমি নিজেকেই যেন সত্যচরণ। এই জনকোলাহলপূর্ণ ইটপাথরের কোলকাতা শহর থেকে জীবিকার তাগিদে চলে গেছি ভাগলপুরের জমিদারবাড়িতে। চারপাশে ঘন জংগল আর সেখানকার বাস করা নিন্মবিত্তের আর বর্ণের মানুষগুলাই এখন আমার সম্বল। এদের জীবন আর জীবিকার সাথে তাদের বিশ্বাস আর সরলতাও আমি দেখলাম সত্যচরণের চোখে। বইটার ইউনিকনেস হচ্ছে এর বর্ণনায়৷ লেখক হিসেবে বিভুতিভূষণের উচ্চতা আপনি বইটা পড়লেই টের পাবেন। জংগলের বর্ণনায় আমার গা যেন শিরশির করে উঠছিল। আমি যেন সবকিছু নিজের চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম।
বড় হবার পরে আমি বাংলাদেশের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু যখনই বান্দরবানের ঘন পাহাড়মিশ্রিত জংগলে হাইকিং করেছি তখনি বিভুতিভূষণ আর সত্যচরণের কথা মনের মধ্যে জ্বলজ্বল করে উঠেছে সবসময়ই। আবার গেলেও যে তাদেরই কথা মনে পড়বে সেটা বলাইবাহুল্য।
August 16, 2022
কিছু বই আছে যা আমাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে, আত্মাকে প্রসারিত করে, জীবনরস-সাহিত্যরসের সুরা পান করতে দেয়। 'আরণ্যক' হল সে-রকম একটা বই, বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ বই। 'আরণ্যক' আমাকে প্রকৃতির অন্তরঙ্গ বন্ধু বানিয়ে দিয়েছে আজীবনের জন্য।
জীবনে 'আরণ্যক' এর মতো ভয়ানক সুন্দর উপন্যাস আর পড়তে পারব না এই কষ্টে চোখের অশ্রু ফেলে শেষের পাতাটা পড়ে শেষ করেছিলাম
লবটুলিয়া-ফুলকিয়া-নাঢ়া বইহার, মোহনপুরা রিসার্ভ ফরেস্ট, মহালিখারূপ পাহাড়, সরস্বতী হ্রদ এর বন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গভীর অরণ্য বনাঞ্চল, এর সাথে কুন্তা, ভানুমতী, মঞ্চী, মটুকনাথ, গিরধারীলাল, যুগলপ্রসাদ এর গভীর জীবনবোধ, সাথে বন্যজন্তুর অভয়ারণ্য এবং জ্যোৎস্না রাত, বাতাসে ফুলের সুভাস, শৈলশ্রেণী, নক্ষত্র-চাঁদ-সূর্যের লাল আভা, গাঢ় নীল আকাশ। সবমিলিয়ে 'আরণ্যক' আমায় মদের নেশার চেয়ে তীব্রতম নেশায় মাতাল করেছে।
কী করে বনাঞ্চল থেকে পক্ষীকুল, জন্তু-জানোয়ার, সর্পকুল বিতাড়িত হয়ে, বনাঞ্চল, ঘন অরণ্য, পাহাড় বিনাশ হয়ে মানববসতি গড়ে ওঠে তার দৃশ্যলীলা যেন ৮৩ বছর আগের বই 'আরণ্যক' পড়ে একা নির্জন রুমে বসে জানালা দিয়ে দূর দিগন্তের সীমারেখা পর্যন্ত মনকে প্রসারিত করে দেখতে পেলাম। আর আমার চোখ দুটো অশ্রুতে ভরে 'আরণ্যক' বইয়ের 'কাচারি' শব্দের উপর পড়ে পাতাটি ভিজে গেল।
কীভাবে বস্তুবাদ-ভোগবাদের প্রত্যাশায়, উন্নতির লোভে মানুষ সৌন্দর্য ও আনন্দকে বিসর্জন দিয়েছে তা যেন বিশদ চোখে দেখলাম।
আমার কষ্ট হচ্ছে লবটুলিয়া-ফুলকিয়া-নাঢ়া বইহার, মোহনপুরা রিসার্ভ ফরেস্ট, মহালিখারূপ পাহাড়, সরস্বতী হ্রদ এর বন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গভীর অরণ্য বনাঞ্চল এর জন্য।
কুন্তা, ভানুমতী, মঞ্চী, মটুকনাথ, গিরধারীলাল, যুগলপ্রসাদ এর জন্য শ্রদ্ধা আর বেদনা অনুভূত হচ্ছে।
'আরণ্যক' উপন্যাসে প্রকৃতিকে নিয়ে লেখকের বলা কিছু লাইনঃ
"প্রকৃতি তার নিজের ভক্তদের যা দেন তা অতি অমূল্য দান। অনেকদিন প্রকৃতির সেবা না করিলে কিন্তু সে দান মেলে না। আর কি ঈর্যার স্বভাব প্রকৃতিরানীর— প্রকৃতিকে যখন চাহিব, তখন প্রকৃতিকে লইয়াই থাকিতে হইবে, অন্য কোনো দিকে মন দিয়াছি যদি অভিমানিনী কিছুতেই তার অবগুন্ঠন খুলিবেন না।
কিন্তু অনন্যমনা হইয়া প্রকৃতিকে লইয়া ডুবিয়া থাক, তার সর্ববিধ আনন্দের বর, সৌন্দর্যের বর, অপূর্ব শান্তির বর তোমার উপর অজস্রধারে এত বর্ষিত হইবে, তুমি দেখিয়া পাগল হইয়া উঠিবে, দিনরাত মোহিনী প্রকৃতিরানী তোমাকে শতরূপে মুগ্ধ করিবেন, নূতন দৃষ্টি জাগ্রত করিয়া তুলিবেন, মনের আয়ু বাড়াইয়া দিবেন, অমরলোকের আভাসে অমরত্বের প্রান্তে উপনীত করাইবেন।"
আসলে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সকল সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবে। আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, পথের পাঁচালী, চাঁদের পাহাড়, ইছামতী, অপরাজিত ও অশনি সংকেত এই সাতটা বই আমার কাছে রংধনুর সাত রং। বাংলা সাহিত্যের সাত ধ্রুব তারা।।
জীবনে 'আরণ্যক' এর মতো ভয়ানক সুন্দর উপন্যাস আর পড়তে পারব না এই কষ্টে চোখের অশ্রু ফেলে শেষের পাতাটা পড়ে শেষ করেছিলাম
লবটুলিয়া-ফুলকিয়া-নাঢ়া বইহার, মোহনপুরা রিসার্ভ ফরেস্ট, মহালিখারূপ পাহাড়, সরস্বতী হ্রদ এর বন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গভীর অরণ্য বনাঞ্চল, এর সাথে কুন্তা, ভানুমতী, মঞ্চী, মটুকনাথ, গিরধারীলাল, যুগলপ্রসাদ এর গভীর জীবনবোধ, সাথে বন্যজন্তুর অভয়ারণ্য এবং জ্যোৎস্না রাত, বাতাসে ফুলের সুভাস, শৈলশ্রেণী, নক্ষত্র-চাঁদ-সূর্যের লাল আভা, গাঢ় নীল আকাশ। সবমিলিয়ে 'আরণ্যক' আমায় মদের নেশার চেয়ে তীব্রতম নেশায় মাতাল করেছে।
কী করে বনাঞ্চল থেকে পক্ষীকুল, জন্তু-জানোয়ার, সর্পকুল বিতাড়িত হয়ে, বনাঞ্চল, ঘন অরণ্য, পাহাড় বিনাশ হয়ে মানববসতি গড়ে ওঠে তার দৃশ্যলীলা যেন ৮৩ বছর আগের বই 'আরণ্যক' পড়ে একা নির্জন রুমে বসে জানালা দিয়ে দূর দিগন্তের সীমারেখা পর্যন্ত মনকে প্রসারিত করে দেখতে পেলাম। আর আমার চোখ দুটো অশ্রুতে ভরে 'আরণ্যক' বইয়ের 'কাচারি' শব্দের উপর পড়ে পাতাটি ভিজে গেল।
কীভাবে বস্তুবাদ-ভোগবাদের প্রত্যাশায়, উন্নতির লোভে মানুষ সৌন্দর্য ও আনন্দকে বিসর্জন দিয়েছে তা যেন বিশদ চোখে দেখলাম।
আমার কষ্ট হচ্ছে লবটুলিয়া-ফুলকিয়া-নাঢ়া বইহার, মোহনপুরা রিসার্ভ ফরেস্ট, মহালিখারূপ পাহাড়, সরস্বতী হ্রদ এর বন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গভীর অরণ্য বনাঞ্চল এর জন্য।
কুন্তা, ভানুমতী, মঞ্চী, মটুকনাথ, গিরধারীলাল, যুগলপ্রসাদ এর জন্য শ্রদ্ধা আর বেদনা অনুভূত হচ্ছে।
'আরণ্যক' উপন্যাসে প্রকৃতিকে নিয়ে লেখকের বলা কিছু লাইনঃ
"প্রকৃতি তার নিজের ভক্তদের যা দেন তা অতি অমূল্য দান। অনেকদিন প্রকৃতির সেবা না করিলে কিন্তু সে দান মেলে না। আর কি ঈর্যার স্বভাব প্রকৃতিরানীর— প্রকৃতিকে যখন চাহিব, তখন প্রকৃতিকে লইয়াই থাকিতে হইবে, অন্য কোনো দিকে মন দিয়াছি যদি অভিমানিনী কিছুতেই তার অবগুন্ঠন খুলিবেন না।
কিন্তু অনন্যমনা হইয়া প্রকৃতিকে লইয়া ডুবিয়া থাক, তার সর্ববিধ আনন্দের বর, সৌন্দর্যের বর, অপূর্ব শান্তির বর তোমার উপর অজস্রধারে এত বর্ষিত হইবে, তুমি দেখিয়া পাগল হইয়া উঠিবে, দিনরাত মোহিনী প্রকৃতিরানী তোমাকে শতরূপে মুগ্ধ করিবেন, নূতন দৃষ্টি জাগ্রত করিয়া তুলিবেন, মনের আয়ু বাড়াইয়া দিবেন, অমরলোকের আভাসে অমরত্বের প্রান্তে উপনীত করাইবেন।"
আসলে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সকল সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবে। আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, পথের পাঁচালী, চাঁদের পাহাড়, ইছামতী, অপরাজিত ও অশনি সংকেত এই সাতটা বই আমার কাছে রংধনুর সাত রং। বাংলা সাহিত্যের সাত ধ্রুব তারা।।
April 20, 2020
"মানুষের বসতির পাশে কোথাও নিবিড় অরণ্য নাই। অরণ্য আছে দূর দেশে, যেখানে পতিত-পক্ব জম্বুফলের গন্ধে গোদাবরী-তীরের বাতাস ভারাক্রান্ত হইয়া ওঠে, ‘আরণ্যক’ সেই কল্পনালোকের বিবরণ। ইহা ভ্রমণবৃত্তান্ত বা ডায়েরি নহে-উপন্যাস। অভিধানে লেখে ‘উপন্যাস’ মানে বানানো গল্প। অভিধানকার পণ্ডিতদের কথা আমরা মানিয়া লইতে বাধ্য। তবে ‘আরণ্যক’-এর পটভূমি সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়। কুশী নদীর অপর পারে এরূপ দিগন্ত-বিস্তীর্ণ অরণ্যপ্রান্তর পূর্বে ছিল, এখনো আছে। দক্ষিণ ভাগলপুর ও গয়া জেলার বন পাহাড় তো বিখ্যাত।" - আবার পড়লাম, সামনে আবার পড়বো।
August 25, 2020
"জ্যোৎস্না আরো ফুটিয়াছে, নক্ষত্রদল জ্যোৎস্নালোকে প্রায় অদৃশ্য, চারিধারে চাহিয়া মনে হয় এ সে পৃথিবী নয় এতদিন যাহাকে জানিতাম, এ স্বপ্নভূমি, এই দিগন্তব্যাপী জ্যোৎস্নায় অপার্থিব জীবেরা এখানে নামে গভীর রাত্রে, তারা তপস্যার বস্তু, কল্পনা ও স্বপ্নের বস্তু, বনের ফুল যারা ভালোবাসে না, সুন্দরকে চেনে না, দিগ্বলয়রেখা যাদের কখনো হাতছানি দিয়ে ডাকে নাই, তাদের কাছে এই পৃথিবী ধরা দেয় না কোনো কালেই৷"
মুগ্ধ— বিস্মিত— অভিভূত— প্রাচুর্যময় শব্দ-ভাণ্ডারের সমুদয় বিশেষণ প্রয়োগ করেও অনুভূতি সব অব্যক্ত রয়ে যায়৷ প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের রূপ-লাবণ্যে বিভূতিবাবু নিজস্ব অন্তর্দৃষ্টিতে আস্বাদন করে যে মোহনীয় বর্ণনায় উপস্থাপন করেছেন সেটা সত্যিই বিশেষণের অতীত৷ এত মাধুর্যমণ্ডিত প্রকৃতি কাব্যর অপরূপ চিত্রায়ন মনকে সম্মোহনের প্রগাঢ় মায়ায় আচ্ছন্ন করে মানবমনের অন্তরঙ্গ অনূভুতির সাথে প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের রেখাচিত্র নিরাভরণরূপে তুলে ধরে৷

সদ্য বি.এ পাশ বেকার যুবক সত্যচরণের বছর পনেরো আগের স্মৃতিচারণ হয়ে 'আরণ্যক' উওম পুরুষে বর্ণিত হয়েছে৷ সেই সময়ে অনেক সন্ধান করেও যখন চাকরির ব্যবস্থা হলো না, তখন সত্যচরণ পুরানো বন্ধুর কল্যাণে ভাগলপুরে তাদের জমিদার এস্টেটে ম্যানেজারের দায়িত্ব পায়৷ মূলত, প্রায় বিশ হাজার বিঘা জঙ্গলাবৃত জায়গায় প্রজাদের মাঝে বিলি করা এবং খাজনা আদায় করাই কাজ ছিল৷ কিন্তু কলকাতার ব্যস্ত সড়কের মোড়ে চায়ের দোকানে আড্ডা, থিয়েটার, লাইব্রেরি, সিনেমা নিয়ে মশগুল সত্যচরণ জঙ্গলের নিবিড় নির্জনতায় নিজেকে অসহায় অনুভব করে৷ এখানকার মানুষদের নিম্নমানের জীবনযাত্রায় তাদেরকের মনে হয় বন্য—বর্বর—অশিক্ষিত—দরিদ্র৷ চীনা ঘাসের বাদাম আর আখের গুড়ের আহারের মধ্যই তাদের জীবিকার্জনের চিন্তাভাবনা সীমাবদ্ধ৷ তাছাড়া তাদের বিশ্বাস এবং মতবাদে আদিম চিন্তাভাবনার রেখা প্রকটভাবেই দৃশ্যমান৷ কিন্তু ক্রমেই সত্যচরণ জঙ্গলের ভেতর প্রকৃতির উন্মুক্ত অথচ লুকায়িত অপরূপ রহস্যময়তার জগত অবলোকন করে এবং সৃষ্টির মোহে সম্মোহিত হয়ে পড়ে৷ বন্যপ্রান্তরের অসহায় মানুষদের বর্বর রূপের বিপরীতে সরল জীবনযাত্রার সাথে সত্যচরণ নিজেকে কোমল মায়ায় আবন্ধ করে ফেলে৷
লবটুলিয়া বইহারের অরণ্য—ভূভাগ, ফুলকিয়া বইহারের শেফালীপুষ্পের জ্যোৎস্নামাখানো সুবাস, মোহনপুরা রিজার্ভ ফরেস্ট, কুশী নদীর স্রোত, স্বরস্বতীকুন্ডীর বন, নাড়া বইহারের অরণ্য, ধু-ধু বন্যপ্রান্তর, ঝাউবন—কাশবনের চর, ধূসর শৈলশ্রেণি, ফুটন্ত রক্তপলাশের ঘন অরণ্যর অপার্থিব সৌন্দর্যের নিখুঁত বর্ণনার আভায় বইয়ের শব্দমালা হয়ে উঠে প্রাণবন্ত বৃক্ষলতাপাতা আর নিজেকে হারিয়ে ফেলি গভীরতম অরণ্যর শোভামণ্ডিত ঘন নিবিড় শ্যামলতার বিশুদ্ধ মায়ার জগতে৷ সেই জগতের রূপ আরিজোনার পাথুরে মরুদেশ বা রোডেশিয়ার বুশভেল্ডের অপেক্ষা কম নয়— বরং কিছুক্ষেত্রে ছাড়িয়ে যাবে নিঃসন্দেহে৷ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের 'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি' পঙক্তির যথার্থতা বিভূতিবাবুর রচনায় সিদ্ধি লাভ করেছে — নচেৎ ধরণীর এমন স্বর্গীয় বৈচিত্র্য তপস্যা ব্যতীত চিরকাল অধরা হয়ে থেকে যেত৷ সৃষ্টির অপরূপ রূপ-লাবণ্যের আরাধনা নিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত অনবদ্য উপন্যাস 'আরণ্যক' সন্ধ্যাতারার ন্যায় বাংলা সাহিত্য উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে অসীম কাল মহিমান্বিত হয়ে বিরাজমান থাকবে৷
January 25, 2014
খুব কম লেখকের প্রতিটা সৃষ্টি পড়ে ফেলার পর 'অসাধারণ'শব্দটা লেখা যায় না কিন্তু! বিভূতিভূষণ আমার ভীষণ পছন্দের বলে তাঁর প্রতি পক্ষপাত করে বলছিনা কথাটা। ওঁর লেখা পড়তে গিয়ে দেখেছি এত আলগোছে তাঁর শব্দগুলো ভেতরমহলে ঢুকে পড়ে; যে ঢুকে পড়বার ভঙ্গিতে কোন ধরণের ভ্যাবাচ্যাকার ভাবটি নেই। এত আটপৌড়ে তাঁর শব্দগুলো, কিন্তু কেমন অবাক করা সুন্দর! আর তার কল্পনার তো জুড়ি মেলা ভার! বাড়িয়ে বলছি? একটুও না। 'চাঁদের পাহাড়' পড়ে দেখুন, সত্যের খোঁজ পাওয়া যাবে। আমি তাই শেষপাতে মিষ্টি খাওয়ার আনন্দ নিয়ে তাঁর লেখা পড়তে বসি। 'আরণ্যক' অনেকদিন সময় নিয়ে পড়েছি। হুট করে শেষ করতে ইচ্ছে করেনি কেন জানি! নাঢ়া লবটুলিয়ার আদিম রূপ
কথকের হাতে নষ্ট হওয়ার জন্য যে অপরাধবোধ,আজকের সময়ে তা নিতান্তই ছেলেখেলা! অরণ্য উজাড় করতে করতে আমরা যেভাবে ইট কাঠের খাঁচায় নিজেদের বন্দী করে ফেলেছি তা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে দূর দেশে গিয়েও তার দেখা পাওয়া কষ্টকর যেন। এর নাম যদি উন্নতি হয় তবে তাঁর কথা মতই,এতসব উন্নতিতে আনন্দ উধাও। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের হাঁপ ধরে যাওয়া নাগরিক জীবন আরণ্যক হবার জন্য যখন পা তুলবে, পা রাখবার মত এমন আদিম ভূমি রেখে যেতে পারবো কী আমরা??
কথকের হাতে নষ্ট হওয়ার জন্য যে অপরাধবোধ,আজকের সময়ে তা নিতান্তই ছেলেখেলা! অরণ্য উজাড় করতে করতে আমরা যেভাবে ইট কাঠের খাঁচায় নিজেদের বন্দী করে ফেলেছি তা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে দূর দেশে গিয়েও তার দেখা পাওয়া কষ্টকর যেন। এর নাম যদি উন্নতি হয় তবে তাঁর কথা মতই,এতসব উন্নতিতে আনন্দ উধাও। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের হাঁপ ধরে যাওয়া নাগরিক জীবন আরণ্যক হবার জন্য যখন পা তুলবে, পা রাখবার মত এমন আদিম ভূমি রেখে যেতে পারবো কী আমরা??
November 13, 2020
আমরা একটা আধুনিক আর সুবিধাযুক্ত জগতে বাস করছি। এখানে সবুজের গাঢ়ত্ব কম কিন্তু জীবন কি সুন্দর আর যান্ত্রিক, তাই না? আর যেখানে সবুজের গাঢ়ত্ব বাড়তে থাকে সেখানে আছে সৌন্দর্য আর কষ্টে ভরা মায়াময় জীবন; চোখের পলকেই মায়ার জাল বিস্তৃত হয় মানুষের ভিড়ে।
~ ১৩ নভেম্বর, ২০২০
"একটা কণ্টকময় গাছে বেগুনী রঙের ঝাড় ঝাড় ফুল ফুটিয়াছে, বিলাতী কর্ণফ্লাওয়ার ফুলের মত দেখিতে। একটা ফুলের বিশেষ কোনো শোভা নাই। অজস্র ফুল একত্র দলবদ্ধ হইয়া অনেকখানি জায়গা জুড়িয়া দেখাইতেছে ঠিক বেগুনী রঙের একখানি শাড়ীর মত। বাতাবী লেবুর ফুল নয়, ঘেঁটুফুল নয়, আম্রমুকুল নয়, কামিনীফুল নয়, রক্তপলাশ বা শিমুল নয়, কি একটা নামগোত্রহীন রূপহীন নগন্য জংলী কাঁটা গাছের ফুল। আমার কাছে তাহাই কাননভরা বনভরা বসন্তের কুসুমরাজির প্রতীক হইয়া দেখা দিল। "মাঝে মাঝে মনে হয় আমার মতো ঘরে পড়ে থেকে অদ্ভুত মায়াময় দৃশ্যের জন্য হাহাকার করা মানুষদের জন্যই বিভূতিবাবু এসেছিলেন।
~ ১৩ নভেম্বর, ২০২০
May 5, 2021
এ এক প্রকৃতির গল্প। প্রকৃতির আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্যের গল্প। সভ্য সমাজের বাইরে থাকা প্রান্তিক, অবহেলিত জনগোষ্ঠীর গল্প। কিংবা একজন প্রকৃতিপ্রেমীর চোখে সৃষ্টিবিনাশ, আর প্রকৃতি ধ্বংসের এক ট্র্যাজিক স্টোরি। বিভূতি মশাই যে অতি উচ্চ মানসিকতার মার্জিত মানুষ ছিলেন, সেটার তার বইয়ের চরিত্র দেখলেই বোঝা যায়। সত্যচরণের মত এত মানবিক, নস্টালজিক, প্রকৃতিপ্রেমী চরিত্র সৃষ্টি করেছেন, ভাবা যায়! আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো যে, যেই লোক হাজারীর মত চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে, তার দ্বারা সত্যচরণ সৃষ্টি করা কঠিন কিছু না। আর এটা কোনো উপন্যাসের কাতারেই পড়ে না। কোনো ভারী আখ্যান নেই, নেই কোনো শক্তপোক্ত চরিত্র, মানসিক-সাংসারিক টানাপোড়েন নেই। ও হ্যা, লেখকই তো প্রারম্ভে বলে দিয়ে গেছেন এটা। তবে এটায় লেখক তার যেই মোক্ষম অস্ত্রখানা প্রয়োগ করেছে, সেটা হলো 'হিপোটানাইজম'। সত্যচরণ যেমন হিপোটানাইজ হচ্ছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, ঝর্ণার কলকল ধ্বনি, লবটুবিয়ার জনমানুষের বিচিত্রতায়, জোৎস্নার ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যে, ঠিক তেমনি আমিও হিপোটানাইজ হয়েছি প্রকৃতি আর সত্যচরণের গুন-রুপে। কাহিনির আগাগোড়া শুধুই প্রকৃতি। সাথে আছে জন বিচিত্রতা। বইটাকে এর ধরন অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথমাংশে সত্যচরণ ধাতস্থ হয়েছেন ফুলবাড়ি বইহারে, আর মুগ্ধ হয়েছেন বন্য সৌন্দর্যে। দ্বিতীয়াংশে লেখক বুদ হয়েছেন মনুষ্য বিচিত্রতায়। আর তৃতীয় অংশ তো শুধুই ট্র্যাজেডি, ডিপ্রেসিভ। এতে আছে ভানুমতীর মত প্রকৃতির কন্যা—আর্য বংশধর, যুগলপ্রসাদের মত বৃক্ষানুরাগী, বৈঙ্কলের মত কাব্যানুরাগী, নৃত্যশিল্প অনুরাগী ধাতুরিয়া কিংবা কুন্তা-মঞ্চীর মত এস্থেটিক চরিত্র।কখনো গাঙ্গোতো'দের তিন মাস পর ভাত খাওয়ার উচ্ছাস দেখিয়া ঠোঁটের কোনে কিঞ্চিৎ হাসি উঁকি দিচ্ছে, কখনো অরণ্যভূমি বিরাণ হয়ে যাওয়া দেখে মুখ গোমড়া হয়ে আসছে — এটাই বিভূতিভূষণের জাদুকরী লেখার সার্থকতা। লেখক বইয়ের ভেতর যে বার্তা দিয়েছে, তাতে যে কেউ আমার মত বুদ হয়ে যাবে প্রকৃতির প্রেমে।
আমার মত বিভূতি ভুবনে হারিয়ে যেতে চাইলে এই ন্যাচার ফিকশনটা আপনার জন্যই।।
আমার মত বিভূতি ভুবনে হারিয়ে যেতে চাইলে এই ন্যাচার ফিকশনটা আপনার জন্যই।।
September 24, 2016
মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েছি শুরু থেকে,পাতায় পাতায় হারিয়েছি ঘন অরণ্যে, আর কেন জানি মনে হয়েছে আমি নিজেই সবটুকু অবলোকন করছি।
এমনিতেই ঘনসবুজের সমারোহ প্রচন্ড ভালোবাসি।শৈশবের কিছু সময় ঘন সবুজে ঘেরা গ্রামে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিলো।রয়ে গেছে স্মৃতিটুকু,আর তাতে ভেসে বেড়াচ্ছে গ্রাম আর গ্রামের মানুষগুলো।ব্যস্ত,কোলাহলে ভরা এই যান্ত্রিকতার মাঝে কখনো হাহাকার করে ওঠে বুকটা।তখনই ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই সমারোহে।
পড়তে পড়তে মনে হয়েছে গোটা অরণ্য হাতে নিয়েছি।ঘন অরণ্য,প্রশান্তি আর নিঃসঙ্গতা আমার চারপাশে।জীবনের কোন এক সময় আসলেই হারিয়ে যেতে চাই এর মাঝে, একেবারেই...।
এমনিতেই ঘনসবুজের সমারোহ প্রচন্ড ভালোবাসি।শৈশবের কিছু সময় ঘন সবুজে ঘেরা গ্রামে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিলো।রয়ে গেছে স্মৃতিটুকু,আর তাতে ভেসে বেড়াচ্ছে গ্রাম আর গ্রামের মানুষগুলো।ব্যস্ত,কোলাহলে ভরা এই যান্ত্রিকতার মাঝে কখনো হাহাকার করে ওঠে বুকটা।তখনই ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই সমারোহে।
পড়তে পড়তে মনে হয়েছে গোটা অরণ্য হাতে নিয়েছি।ঘন অরণ্য,প্রশান্তি আর নিঃসঙ্গতা আমার চারপাশে।জীবনের কোন এক সময় আসলেই হারিয়ে যেতে চাই এর মাঝে, একেবারেই...।
February 22, 2018
বেশ কয়েকবছর আগে একবার পড়েছিলাম বইটা। কোনো কারণে খুব তাড়াহুড়োয় শেষ করেছি, খুব একটা ভালো লাগেনি!
এখন মনে হচ্ছে আমি কাহিনীর খোঁজ করছিলাম তখন লেখনীর চেয়ে। এবার বেশ কিছুদিন ধরে আস্তে আস্তে পড়লাম। শুরু করেছিলাম রোম থেকে ইন্সব্রুকে আসার ট্রেনে। পাহাড়ে ঘেরা নিবিড় বনানীর বর্ণনা পড়তে পড়তে জানালার বাইরে তাকাতেই যেন সেই লবটুলিয়া বইহারকে চোখের সামনে দেখতে পেয়েছি। একেবারে ঘোরের মধ্যে পড়েছি এবার বলা যায় :) হাস্যকর ব্যাপার হলো, পড়ার সময় শুধু দুই জায়গায় একটু আটকে গিয়েছিলাম - যখন গ্রীষ্মের সময় মাঝ আকাশে জ্বলজ্বলে কালপুরুষের কথা বলেন, আর যখন সূর্যে ক্যালসিয়াম পুড়ছে - লোহা পুড়ছে - এই কথা পড়লাম। কালপুরুষ একেবারেই শীতের তারামণ্ডল, আর সূর্যে আরও বিলিয়ন বছরের বেশি সময় শুধু হাইড্রোজেন-ই পুড়বে। যে উদ্দেশ্যে এই বই লেখা, তার সাথে আমার এই মন্তব্য একেবারেই বেমানান জানি, কিন্তু না লিখলে শান্তি পেতাম না! :D
বিভূতির চাঁদের পাহাড় আমার সবসময়ের সবচেয়ে প্রিয় বইগুলির একটি। আরণ্যক ও তেমনি হয়ে থাকবে। যতবারই পড়বো এর পরে, বা যতবার এর কথা মনে পরবে, স্বরস্বতী কুন্ডী আর লবটুলিয়ার বইহারের সাথে পাহাড়ে ঘেরা ছবির মতো সুন্দর ছোট্ট শহর ইন্সব্রুকের ছবিও আমার চোখে ভেসে উঠবে।
এখন মনে হচ্ছে আমি কাহিনীর খোঁজ করছিলাম তখন লেখনীর চেয়ে। এবার বেশ কিছুদিন ধরে আস্তে আস্তে পড়লাম। শুরু করেছিলাম রোম থেকে ইন্সব্রুকে আসার ট্রেনে। পাহাড়ে ঘেরা নিবিড় বনানীর বর্ণনা পড়তে পড়তে জানালার বাইরে তাকাতেই যেন সেই লবটুলিয়া বইহারকে চোখের সামনে দেখতে পেয়েছি। একেবারে ঘোরের মধ্যে পড়েছি এবার বলা যায় :) হাস্যকর ব্যাপার হলো, পড়ার সময় শুধু দুই জায়গায় একটু আটকে গিয়েছিলাম - যখন গ্রীষ্মের সময় মাঝ আকাশে জ্বলজ্বলে কালপুরুষের কথা বলেন, আর যখন সূর্যে ক্যালসিয়াম পুড়ছে - লোহা পুড়ছে - এই কথা পড়লাম। কালপুরুষ একেবারেই শীতের তারামণ্ডল, আর সূর্যে আরও বিলিয়ন বছরের বেশি সময় শুধু হাইড্রোজেন-ই পুড়বে। যে উদ্দেশ্যে এই বই লেখা, তার সাথে আমার এই মন্তব্য একেবারেই বেমানান জানি, কিন্তু না লিখলে শান্তি পেতাম না! :D
বিভূতির চাঁদের পাহাড় আমার সবসময়ের সবচেয়ে প্রিয় বইগুলির একটি। আরণ্যক ও তেমনি হয়ে থাকবে। যতবারই পড়বো এর পরে, বা যতবার এর কথা মনে পরবে, স্বরস্বতী কুন্ডী আর লবটুলিয়ার বইহারের সাথে পাহাড়ে ঘেরা ছবির মতো সুন্দর ছোট্ট শহর ইন্সব্রুকের ছবিও আমার চোখে ভেসে উঠবে।
December 20, 2021
বিভূতিভূষণের বই পড়ার এই এক জ্বালা। শেষ করে অনেককিছু বলতে মন চায়,কিন্তু বলা আর হয়ে উঠেনা। 'আরণ্যক' সেই কিছু না বলতে পারা এক বই।
February 22, 2017
শুরুর দিকে আমার অবস্থাটা হয়েছিল লেখকের মতো। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ, লাইব্রেরি, থিয়েটার, সিনেমা, গানের আড্ডা ফেলে লেখক কিছুতেই অরণ্যভুমির নির্জনতায় খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না। আমিও বিভূতিভূষণ মশাইয়ের খটোমটো বাংলা পড়তে গিয়ে কিছুতেই পড়ায় মন বসাতে পারছিলাম না। কিন্তু একবার নেশা ধরে যাওয়ার পর গোগ্রাসে গিলেছি তাঁর অপূর্ব লেখনী!
লবটুলিয়া ও আমজাবাদ অরণ্যের যে অপূর্ব সৌন্দর্য তিনি রচনা করেছেন কোনো DSLR ক্যামেরারও সাধ্য নেই সেই সৌন্দর্য ধারণ করে!
সেই অরণ্যে বুনো হাতি আছে। আছে বুনো মহিষ, চিতাবাঘ, শঙ্খচূড় আর ডামাবাণু। এসবের ভয়ে ঘরে বসে থাকার মানুষ বিভূতিভূষণ মশাই নন। গৃহত্যাগী সৌন্দর্যের নেশায় বারবার তিনি জ্যোৎস্না ফোঁটা রাতে ঘোড়ায় চড়ে চষে বেড়িয়েছেন গহীন অরণ্যভূমি। আমি কল্পনায় সেই অপার্থিব দৃশ্য স্পষ্ট দেখতে পাই!
"সে-রূপ তাহার না-দেখাই ভালো যাহাকে ঘরদুয়ার বাঁধিয়া সংসার করিতে হইবে। প্রকৃতির সে মোহিনীররূপের মায়া মানুষকে ঘরছাড়া করে, উদাসীন ছন্নছাড়া ভবঘুরে হ্যারি জনস্টন, মার্কো পোলো, হাডসন, শ্যাকলটন, করিয়া তোলে- গৃহস্থ সাজিয়া ঘরকন্না করিতে দেয় না- অসম্ভব তাহার পক্ষে ঘরকন্না করা একবার সে ডাক যে শুনিয়েছি, সে অনবগুণ্ঠিতা মোহিনীকে একবার যে প্রত্যক্ষ করিয়াছে।"
আহা.. এমন সৌন্দর্য আর নির্জনতার নেশায় আমিও কতবার ঘর ছাড়তে চেয়েছিলাম!
লবটুলিয়া ও আমজাবাদ অরণ্যের যে অপূর্ব সৌন্দর্য তিনি রচনা করেছেন কোনো DSLR ক্যামেরারও সাধ্য নেই সেই সৌন্দর্য ধারণ করে!
সেই অরণ্যে বুনো হাতি আছে। আছে বুনো মহিষ, চিতাবাঘ, শঙ্খচূড় আর ডামাবাণু। এসবের ভয়ে ঘরে বসে থাকার মানুষ বিভূতিভূষণ মশাই নন। গৃহত্যাগী সৌন্দর্যের নেশায় বারবার তিনি জ্যোৎস্না ফোঁটা রাতে ঘোড়ায় চড়ে চষে বেড়িয়েছেন গহীন অরণ্যভূমি। আমি কল্পনায় সেই অপার্থিব দৃশ্য স্পষ্ট দেখতে পাই!
"সে-রূপ তাহার না-দেখাই ভালো যাহাকে ঘরদুয়ার বাঁধিয়া সংসার করিতে হইবে। প্রকৃতির সে মোহিনীররূপের মায়া মানুষকে ঘরছাড়া করে, উদাসীন ছন্নছাড়া ভবঘুরে হ্যারি জনস্টন, মার্কো পোলো, হাডসন, শ্যাকলটন, করিয়া তোলে- গৃহস্থ সাজিয়া ঘরকন্না করিতে দেয় না- অসম্ভব তাহার পক্ষে ঘরকন্না করা একবার সে ডাক যে শুনিয়েছি, সে অনবগুণ্ঠিতা মোহিনীকে একবার যে প্রত্যক্ষ করিয়াছে।"
আহা.. এমন সৌন্দর্য আর নির্জনতার নেশায় আমিও কতবার ঘর ছাড়তে চেয়েছিলাম!
January 23, 2022
আহা বই! আহা বিভূতি! আহা প্রকৃতির বরপুত্র!
কদিন আগে স্টিফেন কিং এর ' On Writing' পড়ছিলাম। সেখানে মহারাজ বলেছেন - কাহিনী, চরিত্রায়ন এগুলোর ওপর জোর দেয়ার দরকার নেই। জোর দিবেন ন্যারেটিভে।
এটা পড়ে আমার কাছে কেমন অদ্ভুত লেগেছিল। মানুষ তো বই পড়েই কাহিনীর জন্য। তবে?
স্টিফেন কিং আসলেই কী বোঝাতে চেয়েছেন তার প্রামাণ্য 'আরণ্যক'। এই বইয়ের কাহিনী কী বলার মতো কিছু? তবুও এই বই অবিস্মরণীয় কেন? উত্তরটা এখন জানা।
জঙ্গলের, জঙ্গলের মানুষের কী জীবন্ত, প্রাণবন্ত বিবরণ! স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, শহুরে- আটপৌরে এই আমি বইটির অনেককিছুই ঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি। মকাই, চীনা ঘাসের দানা, বাথুয়া শাক আরো কত কী - এসব কী দেখেছি নাকি কখনো! কিন্তু তবুও আমি তো এই কটা দিন লবটুলিয়া জঙ্গলেই ছিলাম।
বিভূতিভূষণ, আপনাকে সেলাম!
কদিন আগে স্টিফেন কিং এর ' On Writing' পড়ছিলাম। সেখানে মহারাজ বলেছেন - কাহিনী, চরিত্রায়ন এগুলোর ওপর জোর দেয়ার দরকার নেই। জোর দিবেন ন্যারেটিভে।
এটা পড়ে আমার কাছে কেমন অদ্ভুত লেগেছিল। মানুষ তো বই পড়েই কাহিনীর জন্য। তবে?
স্টিফেন কিং আসলেই কী বোঝাতে চেয়েছেন তার প্রামাণ্য 'আরণ্যক'। এই বইয়ের কাহিনী কী বলার মতো কিছু? তবুও এই বই অবিস্মরণীয় কেন? উত্তরটা এখন জানা।
জঙ্গলের, জঙ্গলের মানুষের কী জীবন্ত, প্রাণবন্ত বিবরণ! স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, শহুরে- আটপৌরে এই আমি বইটির অনেককিছুই ঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি। মকাই, চীনা ঘাসের দানা, বাথুয়া শাক আরো কত কী - এসব কী দেখেছি নাকি কখনো! কিন্তু তবুও আমি তো এই কটা দিন লবটুলিয়া জঙ্গলেই ছিলাম।
বিভূতিভূষণ, আপনাকে সেলাম!
April 3, 2018
এই উপান্যাসটাকে বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বললে কি একটু বাড়াবাড়ি হবে!? হলেও যে না বলে পারছিনা! অরণ্যের প্রেমে পরে অরণ্যের যে সুন্দর একটা ছবি লেখক এঁকে দিয়েছেন তা মনের ভিতর গেঁথে থাকবে অনেকদিন! আর বন-জঙ্গলের মানুষগুলো!? কি সহজ-সরল তাদের জীবন, কত অল্পতে তারা সুখী! প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার লড়াই করতে করতেও তাদের আতিথেয়তা আর কৃতজ্ঞতাবোধের কোন কমতি নেই। তারা যেনো অরণ্যের ভেতর অরণ্যের উদারতাকে পুঁজি করেই বেঁচে আছে! শেষ অংশে এসে লেখকের বিদায়বেলাটা ছিলো সত্যি কষ্টের, মনে হচ্ছিলো সুদীর্ঘ সময় আমিই ওদের সাথে থেকে এখন বিদায় নিচ্ছি!
July 28, 2021
কদিন আগে বিভূতিবাবুর সুন্দরবনে সাত বৎসর পড়ে হ্যাংরি অবস্থায় রিভিউ দেওয়ার মতো ভুল এবার আর করছি না! :')
তবে একখানা জীবনশিক্ষা এই ঘটনা থেকে আমি পেয়েছি। লকডাউনে ঘরবন্দী হয়ে বিভূতিবাবুর লেখা পড়ার সুদিক-মূলধনদিক দুইটাই আছে! পড়তে নিলে আত্মা যেভাবে বন-জঙ্গলে ঘুরে-বেড়িয়ে আসে, ঠিক তেমনি ভাবে অপারগ শরীরটার মাঝে বিদ্রোহ শুরু হয়ে যায়। শেষতক দুয়ে মিলেমিশে হতাশা-আক্ষেপ আর বিরক্তি মিলে তৎক্ষণাৎ অনুভূতির যে প্রলয়ঙ্কারী স্রোত তৈরী হয়, সে স্রোতে গা ভাসিয়ে রিভিউ লিখতে যাওয়াটা মোটেও উচিৎ নয়। আমার জন্য অন্তত! যাই হোক।
দ্যা অফিস দেখেছেন? দেখে থাকলে টোবি ফ্ল্যান্ডারসনের কথা মনে আছে? ঐযে এইচআরের দায়িত্বে থাকা লোকটা, দেখলেই ঘুম-ঘুম লাগে, জীবনে যার একটামাত্রই উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল—দ্যা স্ট্র্যাঙলার-এর বিচারের ট্রায়ালে থাকা! না দেখে থাকলেও এইযে এই দফায় জেনে গেলেন। আমার জীবনও আসলে এমনই। জীবনে ‚ট্যুর’ দিয়েছিলাম একটাই, আর সেই একখান ট্যুরের গল্প ভেঙেই যে বাকি জীবন পার করে দিতে হবে এই ব্যাপারেও আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তো সেই ট্যুরের সুবাদেই গিয়েছিলাম কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে। নৌকা ছাড়ামাত্র সামনের দিকের একটা পাটাতনে গিয়ে আস্তানা গেঁড়ে ফেলি। পাদুটো পানিতে নামিয়ে দিয়ে সকাল বেলার উঠতি রোদের নিচে বসে, হ্রদের বাতাস খেতে খেতে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর পানির গভীরতা বাড়তে থাকে, ফ্যানাওঠা পানি পরিষ্কার হয়ে আসে, নৌকাটা আরেকটুখানি বেশি ডুবে যায়, সাথে আমারও পাদুটোও আরেকটু ভালোমতো ভেজার সুযোগ পায়। জীবনের অন্যতম সুন্দর একটা সকাল উপভোগ করছিলাম। চারদিকে পানি, থেকে থেকে পাহাড় দেখা যাচ্ছে দূরে। আশেপাশে থেকে ভেসে আসছে পানি-কেটে নৌকা চলার শব্দ, বাতাসের শব্দ, পাখি ওড়ার শব্দ! সকাল ক্ষয়ে যাচ্ছে আসন্ন দুপুর-রোদের তেজে। সেসব নিয়ে আমাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। মনের আনন্দে বাতাসের সাথে নিজেদের বেসুরো কণ্ঠস্বরে গাওয়া গান ভাসিয়ে দিচ্ছি! আহা! কী সুন্দর একটা দিন! কিন্তু সুখ বরাবরের মতোই খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কোথা থেকে আরেকটা নৌকা আমাদের সাথ ধরে ফেললো। সেখানে থেকে ভেসে আসা ভারতীয় সিনেমার উদ্ভট-উদ্ভট আইটেম গানের জোরে মনে হলো বাতাসও জায়গাটা থেকে পালিয়ে গেল। কোথায় আমার বাতাসের সুর, কোথায় আমার জলতরঙ্গের ছন্দ আর কোথায় আমার অরণ্যানীর নির্মলতা! তারপর যেয়ে শুভলং ঝর্ণায় নামার পরের বর্ণনা আশা করি ও জায়গায় গত কয়েক বছরের মধ্যে যাওয়া কোনো মানুষকে বলতে হবে না! যেজন্যে এত কথা—সেই সময়ে বিভূতিবাবুও ঠিক এমন কিছুই উপলব্ধি করেছেন।
‟কিন্তু প্রকৃতির এই অত্যাশ্চর্য সৌন্দর্যময় রাজ্যে দৈবাৎ যদি আসিয়াই পড়িয়াছে, দেখিবার চোখ নাই আদৌ।„
আরণ্যক আসলে কোনো বই নয়—এটা পুরোটাই একটা অভিজ্ঞতা, একটা জার্নি, একটা অনুভূতি! বইতে দেশের নৈসর্গিক যে সৌন্দর্যের বর্ণনা লেখক দিয়েছেন, তাতে করে মাঝেমধ্যে মনে হয়, এ কি আসলেই আমাদের উপমহাদেশ? কখনো মনে হয় এসবের সাথে আমাদের চেনা পৃথিবীর কোনো যোগ নেই; এ অন্য কোনো পৃথিবী, অন্য কোনো জগৎ! কিংবা আমার দেখা জগতটা বড্ড বেশি ছোটো তাই! কোনোদিন আমার এসব কথা শুনে কেউ হয়তো বলেও বসবে—
“ভানুমতীর পৃথিবী কতটুকু জানিতে বড় ইচ্ছা হইল।”
কী করে আর জানবো? আমি তো একঝলকও দেখতে পাইনি যা কথক পুরো তিনটে বছরে আস্বাদন করেছেন!
“মাইলের পর মাইল ব্যাপিয়া কাশ ও ঝাউবন বর্ষার জলে ভিজিতেছে, আমার আপিসঘরের বারান্দায় চেয়ার পাতিয়া বসিয়া দেখিতাম, আমার সামনে কাশবনের মধ্যে একটা বনঝাউয়ের ডালে একটা সঙ্গীহারা ঘুঘু বসিয়া অঝোরে ভিজিতেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একভাবেই বসিয়া আছে-মাঝে মাঝে পালক উষ্কখুষ্ক করিয়া ঝুলাইয়া বৃষ্টির জল আটকাইবার চেষ্টা করে, কখনো এমনিই বসিয়া থাকে।
এমন দিনে আপিসঘরে বসিয়া দিন কাটানো আমার পক্ষে কিন্তু অসম্ভব হইয়া উঠিত। ঘোড়ায় জিন কষিয়া বর্ষাতি চাপাইয়া বাহির হইয়া পড়িতাম। সে কি মুক্তি! কি উদ্দাম জীবনানন্দ! আর, কি অপরূপ সবুজের সমুদ্র চারিদিকে-বর্ষার জলে নবীন, সতেজ, ঘনসবুজ কাশের বন গজাইয়া উঠিয়াছে-যতদূর দৃষ্টি চলে, এদিকে নাঢ়া-বইহারের সীমানা ওদিকে মোহনপুরা অরণ্যের অস্পষ্ট নীল সীমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত থৈ থৈ করিতেছে-এই সবুজের সমুদ্র-বর্ষাসজল হাওয়ায় মেঘকজ্জল আকাশের নিচে এই দীর্ঘ মরকতশ্যাম তৃণভূমির মাথায় ঢেউ খেলিয়া যাইতেছে-আমি যেন একা এ অকূল সমুদ্রের নাবিক-কোন্ রহস্যময় স্বপ্নবন্দরের উদ্দেশে পাড়ি দিয়াছি।
এই বিস্তৃত মেঘচ্ছায়াশ্যামল মুক্ত তৃণভূমির মধ্যে ঘোড়া ছুটাইয়া মাইলের পর মাইল যাইতাম-কখনো সরস্বতীকুণ্ডীর বনের মধ্যে ঢুকিয়া দেখিয়াছি-প্রকৃতির এই অপূর্ব নিভৃত সৌন্দর্যভূমি যুগলপ্রসাদের স্বহস্তে রোপিত নানাজাতীয় বন্য ফুলে ও লতায় সজ্জিত হইয়া আরো সুন্দর হইয়া উঠিয়াছে। সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে সরস্বতী হ্রদ ও তাহার তীরবর্তী বনানীর মতো সৌন্দর্যভূমি খুব বেশি নাই-এ নিঃসন্দেহে বলতে পারি। হ্রদের ধারে রেড ক্যাম্পিয়নের মেলা বসিয়াছে এই বর্ষাকালে-হ্রদের জলের ধারের নিকট। জলজ ওয়াটারক্রোফটের বড় বড় নীলাভ সাদা ফুলে ভরিয়া আছে। যুগলপ্রসাদ সেদিনও কি একটা বন্যলতা আনিয়া লাগাইয়া গিয়াছে জানি। সে আজমাবাদ কাছারিতে মুহুরীর কাজ করে বটে, কিন্তু তাহার মন পড়িয়া থাকে সরস্বতী কুণ্ডীর তীরবর্তী লতাবিতানে ও বন্যপুষ্পের কুঞ্জে।”
নৈসর্গ তাকে নিজস্বরূপ নিয়ে ভাবায়, জীববৈচিত্র নিয়ে ভাবায়, মানসপটের অন্ধকারাচ্ছন্ন কোটর থেকে ঘুরিয়ে আনে।
“মানুষে কি চায়- উন্নতি, না আনন্দ? উন্নতি করিয়া কি হইবে যদি তাহাতে আনন্দ না থাকে? আমি এমন কত লোকের কথা জানি, যাহারা জীবনে উন্নতি করিয়াছে বটে, কিন্তু আনন্দকে হারাইয়াছে। অতিরিক্ত ভোগে মনোবৃত্তির ধার ক্ষইয়া ক্ষইয়া ভোঁতা- এখন আর কিছুতেই তেমন আনন্দ পায় না, জীবন তাহাদের নিকট একঘেয়ে, একরঙা, অর্থহীন। মন শান-বাঁধানো-রস ঢুকিতে পায় না।”
“যেন এই নিস্তব্ধ, নির্জন রাত্রে দেবতারা নক্ষত্ররাজির মধ্যে সৃষ্টির কল্পনায় বিভোর, যে কল্পনায় দূর ভবিষ্যতে নব নব বিশ্বের আবির্ভাব, নব নব সৌন্দর্যের জন্ম, নানা নব প্রাণের বিকাশ বীজরূপে নিহিত। শুধু যে-আত্মা নিরলস অবকাশ যাপন করে জ্ঞানের আকুল পিপাসায়, যার প্রাণ বিশ্বের বিরাটত্ব ও ক্ষুদ্রত্বের সম্বন্ধে সচেতন আনন্দে উল্লসিত-জন্মজন্মান্তরের পথ বাহিয়া দূর যাত্রার আশায় যার ক্ষুদ্র তুচ্ছ বর্তমানের দুঃখ-শোক বিন্দুবৎ মিলাইয়া গিয়াছে…সে-ই তাঁদের সে রহস্যরূপ দেখিতে পায়। নায়মাত্মা বলহীনেন লভ্যঃ…
এভারেস্ট শিখরে উঠিয়া যাহারা তুষারপ্রবাহে ও ঝঞ্ঝায় প্রাণ দিয়াছিল, তাহারা বিশ্বদেবতার এই বিরাট রূপকে প্রত্যক্ষ করিয়াছে…কিংবা কলম্বাস যখন আজোরেস্ দ্বীপের উপকূলে দিনের পর দিন সমুদ্রবাহিত কাষ্ঠখণ্ডে মহাসমুদ্রপারের অজানা মহাদেশের বার্তা জানিতে চাহিয়াছিলেন-তখন বিশ্বের এই লীলাশক্তি তাঁর কাছে ধরা দিয়াছিল-ঘরে বসিয়া তামাক টানিয়া প্রতিবেশীর কন্যার বিবাহ ও ধোপা-নাপিত করিয়া যাহারা আসিতেছে-তাহাদের কর্ম নয় ইহার স্বরূপ হৃদয়ঙ্গম করা।”
মানুষের প্রকৃতির প্রতি করা অন্যায় আর ধ্বংসযজ্ঞের হতাশাময় আখ্যানের বিপরীতে বিভূতিবাবু তার স্বভাবসুলভ আশার ছোঁয়াও রেখেছেন। যুগলপ্রসাদ চরিত্রের মধ্য দিয়ে আমরা তবু একটুখানি আশা খুঁজে নিতে পারি। ধ্বংসলীলার মধ্যেও কেউ না কেউ রক্ষাকর্তাও থাকবে নিশ্চয়!
“এই জন্মান্ধ মানুষের দেশে একজন যুগলপ্রসাদ কি করিয়া জন্মিয়াছিল জানি না—শুধু তাহারই মুখের দিকে চাহিয়া আজও সরস্বতী হ্রদের তীরবর্তী বনানী অক্ষুন্ন রাখিয়াছি।”
যা দেখছি এ উপন্যাস নিয়ে বলতে গেলে রাত শেষ করে ভোর করে ফেলবো আমি! অথচ কতজনের কথাই তো বাদ পড়ে গেল! ভানুমতী আর তার পাহাড়ি রাজত্ব, অভাগিনী মঞ্চী আর তার হিংলাজের মালাছড়া, দুঃখিনী বাঙালিবধূ কুন্তার জীবন সংগ্রাম, রাজু পাঁড়ের অনাড়ম্বর প্রেমকাহিনি, মটুকনাথ আর তার টোল, শ্বাপদসংকুল মাঠের মাঝে নকছেদীর নতুন সংসার, নাচুনে ধাতুরিয়া আর তার শিল্পানুরাগ, ধাওতাল সাহু মহাজন আর তার অগাধ বিশ্বাস, সুরতিয়া আর তার গুড়গুড়ি, গীরিধারিলালসহ আরো কতজনের গল্পই তো ছাড়া পড়ে গেল! সে থাক। সেসব বলতে নিলে দেবতা টাঁড়বারো এসে আমায় হাত দেখিয়ে থামতে বলবে নির্ঘাত!
বইটার অনেক অনেক অনেক ভালো রিভিউ আছে। রিভিউ লিখতেও চাইনি। কিছু আবেগ মস্তিষ্কের অদৃশ্য কালির পরিবর্তে দৃশ্যমান হরফে দেখার ইচ্ছে হলো বলেই এত কথা লিখলাম। বইটা শেষ হওয়ার পর আমারও উদাস লেগেছে খুব। মনে হয়েছে প্রকৃতির সংস্পর্শে আবেগতাড়িত হয়ে ভানুমতির মতো হয়তো আমিও কোনোদিন বলে ফেলবো—
“বাবুজী, কল্কাতা থেকে আমার জন্যে একখানা আয়না এনে দেবেন? আমার আয়না একখানা ছিল, অনেক দিন ভেঙ্গে গিয়েছে।”
Happy reading!
March 1, 2023
সুন্দর বিবরণ প্রকৃতির। প্রধান চরিত্রের ক্ষণে ক্ষণে আর্য-অনার্য ভেদাভেদ ভাল লাগেনি, তবে পার্শ্ব চরিত্রের সকলেই মনে রাখার মত। কিশোর নাচিয়ে ধাতুরিয়ার পেটে-ভাতে জীবনে নতুন নাচ শিখে নাচ দেখানোতেই সন্তুষ্টি, অন্যদিকে যুগলপ্রসাদ ঘন জঙ্গলে বাহারি ফুলের বীজ রোপণ করে চলছে আপন খেয়ালে। এই "উন্নতি করিতে গিয়া আনন্দ হারাইয়া ফেলা, মনোবৃত্তির ধার ক্ষইয়া ফেলা" জীবনে এরকম বই পড়ে মনে হয় জীবন যদি ধাতুরিয়া বা যুগলপ্রসাদের মত সরল ও আনন্দময় হত, মন্দ হত না।
April 16, 2017
আমি জন্মেছিলাম বৃক্ষের নিবিড় ছায়ার ভেতরে। আমার বেড়ে ওঠা গাছের পাতা ঝড়ার শব্দ শুনতে শুনতে। কখনো কড়ই-শিমুলের গন্ধ, কখনোবা বাঁশের গায়ে ঠোকাঠুকির মধুর শব্দ শুনে শুনে আমি অরণ্যের স্বাদ নিয়েছি।
তাই যখন 'আরণ্যকে'র গল্প করতে যাচ্ছি-- সেটা খানিকটা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়লে আমি শুরুতেই ক্ষমাপ্রার্থি।
আমাদের এই গল্পটি শুরু হয় ১৯২৪ সালের শুরুর দিকে। সেসময় লেখক বিভূতিভূষণ ভাগলপুরে গিয়েছিলেন এক জমিদারি এস্টেটের অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে। সেখানকার বিস্তৃত অরণ্যভূমি তাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে ফেলে। তাঁর পরিচয় ঘটে অদ্ভুত অদ্ভুত সব মানুষের সঙ্গে। তিনি উপলব্ধি করেন সেখানকার বন্য প্রকৃতিকে। যেখানে ঘন নীল বনভূমির গায়ে রাত নেমে এলে রূপকথার গল্পের মতো পরীর দল হাত ধরাধরি করে নাচে-গায়।
আরণ্যক হাতে তুলে নেবার সময় আমার মনে হয়েছিল সামান্য বন-বনানী নিয়ে আর কতোক্ষণ গল্প করা যায়! লেখক নিশ্চয়ই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সাধারণ গল্পই ভিন্ন রূপে শোনাবেন।
কিন্তু না! লেখক আমাকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে গহীন অরণ্যের বিভিন্ন রূপকে সামনে তুলে আনলেন। সেখানে অরণ্য কেবল সাধারণ বনভূমি নয়। অরণ্য সেখানে আদিম, অপূর্ব এবং রহস্যঘন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরণ্যক রচনা করেন ১৯৩৭-৩৯ সাল পর্যন্ত। আরণ্যকে তিনি তুলে আনেন ভাগলপুরের প্রায় আট-দশ হাজার বিঘা জুড়ে বিস্তৃত সেই জঙ্গলমহাল। যার ভেতর সামান্য বনফুল থেকে শুরু করে আছে অপরিচিত ছড়ানো- ছিটানো ঝোপঝাড় এবং কাশবন। রয়েছে কুন্তা, মঞ্চী, ভানুমতী থেকে ধাতুরিয়া এবং ধাওতাল সাহুর মতো অসংখ্য মানুষ।
আরণ্যকের পাতা উল্টাতে উল্টাতে আমি চলে যাই অরণ্যের আরো গহীনে। কল্পনায় গাছের মনোরম আড়াল বেছে নিয়ে ধর্মপ্রাণ এবং দার্শনিক রাজু পাঁড়ের মতো আমারও ভাবতে ভালো লাগে--- এই বন্য প্রকৃতি বড় সুন্দর। ফুলের দল কতকাল ধরে ফুটছে আর পাখি ডাকছে, বাতাসের সঙ্গে মিলে দেবতারা পৃথিবীর মাটিতে পা দেন এখানে।..এখানে দা-কুড়াল হাতে নিলেই দেবতারা এসে সেটা হাত থেকে কেড়ে নেন-- কানে কানে চুপি চুপি এমন কথা বলেন, যাতে বিষয়সম্পত্তি থেকে মন বহুদূর চলে যায়..
তাই যখন 'আরণ্যকে'র গল্প করতে যাচ্ছি-- সেটা খানিকটা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়লে আমি শুরুতেই ক্ষমাপ্রার্থি।
আমাদের এই গল্পটি শুরু হয় ১৯২৪ সালের শুরুর দিকে। সেসময় লেখক বিভূতিভূষণ ভাগলপুরে গিয়েছিলেন এক জমিদারি এস্টেটের অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে। সেখানকার বিস্তৃত অরণ্যভূমি তাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে ফেলে। তাঁর পরিচয় ঘটে অদ্ভুত অদ্ভুত সব মানুষের সঙ্গে। তিনি উপলব্ধি করেন সেখানকার বন্য প্রকৃতিকে। যেখানে ঘন নীল বনভূমির গায়ে রাত নেমে এলে রূপকথার গল্পের মতো পরীর দল হাত ধরাধরি করে নাচে-গায়।
আরণ্যক হাতে তুলে নেবার সময় আমার মনে হয়েছিল সামান্য বন-বনানী নিয়ে আর কতোক্ষণ গল্প করা যায়! লেখক নিশ্চয়ই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সাধারণ গল্পই ভিন্ন রূপে শোনাবেন।
কিন্তু না! লেখক আমাকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে গহীন অরণ্যের বিভিন্ন রূপকে সামনে তুলে আনলেন। সেখানে অরণ্য কেবল সাধারণ বনভূমি নয়। অরণ্য সেখানে আদিম, অপূর্ব এবং রহস্যঘন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরণ্যক রচনা করেন ১৯৩৭-৩৯ সাল পর্যন্ত। আরণ্যকে তিনি তুলে আনেন ভাগলপুরের প্রায় আট-দশ হাজার বিঘা জুড়ে বিস্তৃত সেই জঙ্গলমহাল। যার ভেতর সামান্য বনফুল থেকে শুরু করে আছে অপরিচিত ছড়ানো- ছিটানো ঝোপঝাড় এবং কাশবন। রয়েছে কুন্তা, মঞ্চী, ভানুমতী থেকে ধাতুরিয়া এবং ধাওতাল সাহুর মতো অসংখ্য মানুষ।
আরণ্যকের পাতা উল্টাতে উল্টাতে আমি চলে যাই অরণ্যের আরো গহীনে। কল্পনায় গাছের মনোরম আড়াল বেছে নিয়ে ধর্মপ্রাণ এবং দার্শনিক রাজু পাঁড়ের মতো আমারও ভাবতে ভালো লাগে--- এই বন্য প্রকৃতি বড় সুন্দর। ফুলের দল কতকাল ধরে ফুটছে আর পাখি ডাকছে, বাতাসের সঙ্গে মিলে দেবতারা পৃথিবীর মাটিতে পা দেন এখানে।..এখানে দা-কুড়াল হাতে নিলেই দেবতারা এসে সেটা হাত থেকে কেড়ে নেন-- কানে কানে চুপি চুপি এমন কথা বলেন, যাতে বিষয়সম্পত্তি থেকে মন বহুদূর চলে যায়..
January 16, 2022
বাংলা সাহিত্যে থ্রিলার ঘরানার সাহিত্য বেশি পড়া হলেও গতবছর খেয়াল করে দেখলাম আমার তথাকথিত চিরায়ত বাংলা সাহিত্য পড়ার হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাই এ বছর চিন্তা করেছি থ্রিলার, সায়েন্স ফিকশন, হরর, ফ্যান্টাসি ইত্যাদি সাহিত্যের সাথে সাথে যতগুলো পারি এ ধরণের সাহিত্য পড়বো। আরণ্যক দিয়ে শুরু করলাম এই পথচলা।
এই বইটা পড়া শুরু করার পর থেকেই মনে হয়েছে ভাগলপুরেই আছি আমি। বনাঞ্চল থেকে শুরু করে পারিপার্শ্বিক অবস্থার এত চমৎকার বর্ণনাশৈলী আমি বাংলা সাহিত্যে খুব কম বইতেই পেয়েছি। আর বইটা শেষ করার পরে এক মুগ্ধতার ভেতরে রয়েছি, কখনো এই মুগ্ধতা কেটে গেলে বইটি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার চেষ্টা করবো।
এই বইটা পড়া শুরু করার পর থেকেই মনে হয়েছে ভাগলপুরেই আছি আমি। বনাঞ্চল থেকে শুরু করে পারিপার্শ্বিক অবস্থার এত চমৎকার বর্ণনাশৈলী আমি বাংলা সাহিত্যে খুব কম বইতেই পেয়েছি। আর বইটা শেষ করার পরে এক মুগ্ধতার ভেতরে রয়েছি, কখনো এই মুগ্ধতা কেটে গেলে বইটি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার চেষ্টা করবো।
September 2, 2025
বেশ লম্বা একটা সময় নিয়ে বইটা পড়লাম, বইটা অনেক ভালো লেগেছে। দিন পাল্টায় মানুষ দিন দিন প্রকৃতির থেকে দূরে চলে আসে কিন্তু প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা অবান্তর । কেন যেন কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু ইচ্ছে করছে অল্পদের জন্য হলেও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে।
June 14, 2023
প্রকৃতির কোলেই আমার জন্ম। সেখানেই বেড়ে উঠা। ছোটবেলায় স্কুল থেকে ফিরে প্রায়ই বন-বাদারে ঘুরে বেড়াতাম। নানান গাছের ফল, বিভিন্ন পাখির বাসার সন্ধানে কেটে যেত অসংখ্য গুমোট দুপুর। সেই আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হলো। আমি অরণ্যকে ছেড়ে আসলাম বটে, কিন্তু অরণ্যের মোহ আমায় ছাড়ল কই?
"আসলে আমি এই নাগরিক যন্ত্রজীবনের অর্থহীন প্রতিযোগিতা এবং অর্থহীন কোলাহলের কেউ নই; একদিন গ্রাম থেকে এই যক্ষপুরীর গহবরে এসে ঢুকে পড়েছিলাম। তারপর আর বেরোতেই পারলাম না। প্রতিমুহূর্তেই ভেতরে ভেতরে তাই চাপ চাপ একটা অন্ধকার যন্ত্রণা অনুভব করি। কোথায় গেলো আমার সেই ইছামতী নদী? বাদুড়িয়া শ্মশান কিংবা ভাঙা ভাঙা জীর্ণ ধ্বংসস্তূপ? যার ভেতর একটা শব্দহীন নীরবতা ছিল আর নীরবতার ভেতর কলকা ও কল্কে আঁকতে আঁকতে আমি শুধু কথা বলেছিলাম আমার সঙ্গেই কিংবা ফুটো দেয়ালের ঝুলে থাকা টিকটিকি মাকড়সার সঙ্গে। কোথায় গেলো তারা সব কোথায় গেল?"
-(জহর সেন মজুমদার)
শহরে আসা হয়েছিল মূলত পড়াশোনার জন্য। আরো স্পষ্ট করে বললে পড়াশোনা করে একটা ভালো চাকুরী। যার মাধ্যমে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
"মানুষে কি চায়- উন্নতি না আনন্দ? উন্নতি করিয়া কি হইবে যদি তাহাতে আনন্দ না থাকে? আমি এমন কত লোকের কথা জানি, যাহারা জীবনে উন্নতি করিয়াছে বটে, কিন্তু আনন্দকে হারাইয়াছে। অতিরিক্ত ভোগে মনোবৃত্তির ধার ক্ষইয়া ইহা ভোতা- এখন আর কিছুতেই তেমন আনন্দ পায় না। জীবন তাহাদের নিকট একঘেয়ে, একরঙা, অর্থহীন।"
আরণ্যক আমার ক্ষুদ্র জীবনে পড়া বইয়ের মধ্যে সেরা বইয়ের তালিকাতেই থাকবে। একদম শুরু থেকেই মোহাচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম। পড়লেই শেষ হয়ে যাবে এমন একটা ভাবনা মাথায় জেকে বসেছিল। এরকম পৃষ্ঠা বাচিয়ে শেষ কবে পড়েছি মনে পড়েনা। আরও কয়েকবার অরণ্যানী ও তার মায়াময় চরিত্রগুলোর মাঝে হারাতে পারলে মন্দ হয়না।
"অমন মুক্ত আকাশ, অমন নিস্তব্ধতা, অমন নির্জনতা, অমন দিগন্ত-বিসর্পিত বনানীর মধ্যেই শুধু অমনতর রূপলোক ফুটিয়া উঠে। জীবনে একবারও সে জ্যোৎস্নারাত্রি দেখা উচিত; যে না দেখিয়াছে, ভগবানের সৃষ্টির এক অপূর্ব রূপ তাঁহার নিকট চির- অপরিচিত রহিয়া গেল।"
"আসলে আমি এই নাগরিক যন্ত্রজীবনের অর্থহীন প্রতিযোগিতা এবং অর্থহীন কোলাহলের কেউ নই; একদিন গ্রাম থেকে এই যক্ষপুরীর গহবরে এসে ঢুকে পড়েছিলাম। তারপর আর বেরোতেই পারলাম না। প্রতিমুহূর্তেই ভেতরে ভেতরে তাই চাপ চাপ একটা অন্ধকার যন্ত্রণা অনুভব করি। কোথায় গেলো আমার সেই ইছামতী নদী? বাদুড়িয়া শ্মশান কিংবা ভাঙা ভাঙা জীর্ণ ধ্বংসস্তূপ? যার ভেতর একটা শব্দহীন নীরবতা ছিল আর নীরবতার ভেতর কলকা ও কল্কে আঁকতে আঁকতে আমি শুধু কথা বলেছিলাম আমার সঙ্গেই কিংবা ফুটো দেয়ালের ঝুলে থাকা টিকটিকি মাকড়সার সঙ্গে। কোথায় গেলো তারা সব কোথায় গেল?"
-(জহর সেন মজুমদার)
শহরে আসা হয়েছিল মূলত পড়াশোনার জন্য। আরো স্পষ্ট করে বললে পড়াশোনা করে একটা ভালো চাকুরী। যার মাধ্যমে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
"মানুষে কি চায়- উন্নতি না আনন্দ? উন্নতি করিয়া কি হইবে যদি তাহাতে আনন্দ না থাকে? আমি এমন কত লোকের কথা জানি, যাহারা জীবনে উন্নতি করিয়াছে বটে, কিন্তু আনন্দকে হারাইয়াছে। অতিরিক্ত ভোগে মনোবৃত্তির ধার ক্ষইয়া ইহা ভোতা- এখন আর কিছুতেই তেমন আনন্দ পায় না। জীবন তাহাদের নিকট একঘেয়ে, একরঙা, অর্থহীন।"
আরণ্যক আমার ক্ষুদ্র জীবনে পড়া বইয়ের মধ্যে সেরা বইয়ের তালিকাতেই থাকবে। একদম শুরু থেকেই মোহাচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম। পড়লেই শেষ হয়ে যাবে এমন একটা ভাবনা মাথায় জেকে বসেছিল। এরকম পৃষ্ঠা বাচিয়ে শেষ কবে পড়েছি মনে পড়েনা। আরও কয়েকবার অরণ্যানী ও তার মায়াময় চরিত্রগুলোর মাঝে হারাতে পারলে মন্দ হয়না।
"অমন মুক্ত আকাশ, অমন নিস্তব্ধতা, অমন নির্জনতা, অমন দিগন্ত-বিসর্পিত বনানীর মধ্যেই শুধু অমনতর রূপলোক ফুটিয়া উঠে। জীবনে একবারও সে জ্যোৎস্নারাত্রি দেখা উচিত; যে না দেখিয়াছে, ভগবানের সৃষ্টির এক অপূর্ব রূপ তাঁহার নিকট চির- অপরিচিত রহিয়া গেল।"
October 14, 2014
"রাজু বলিল- হুজুর, আপনি চলে গেলে লবটুলিয়া উদাস হয়ে যাবে।
প্রসংগক্রমে বলি এদেশে 'উদাস' শব্দের ব্যবহার এবং উহার অর্থের ব্যাপকতা অত্যন্ত বেশি। মকাই ভাজা খাইতে খারাপ লাগিলে বলে, 'ভাজা উদাস লাগছে'। আমার সম্পর্কে কি অর্থে উহা ব্যবহৃত হইল ঠিক বলিতে পারিবনা।"
সত্যজিত এই বই নিয়ে মুভি বানাইল না কেন?
প্রসংগক্রমে বলি এদেশে 'উদাস' শব্দের ব্যবহার এবং উহার অর্থের ব্যাপকতা অত্যন্ত বেশি। মকাই ভাজা খাইতে খারাপ লাগিলে বলে, 'ভাজা উদাস লাগছে'। আমার সম্পর্কে কি অর্থে উহা ব্যবহৃত হইল ঠিক বলিতে পারিবনা।"
সত্যজিত এই বই নিয়ে মুভি বানাইল না কেন?
December 1, 2020
This book affected me in ways very few books have. Review to follow.
December 15, 2022
প্রকৃতি প্রেম থাকলে পড়ে দেখতে পারো, মনে ধরে যাবে।
October 30, 2025
যে কদিন ধরে বইটা পড়লাম আমিও লেখকের সাথে সেখানেই ছিলাম মনে প্রাণে।
সেই অরণ্য, সেখানকার মানুষজন:কুন্তা, ভানুমতী, গিরধারীলাল সবার প্রতি আমারো মায়া পরে গেছে কি ভীষণ ভাবে।নিজের কল্পনা শক্তি যতটা বিকশিত করা যায় অতটুকু পর্যন্ত বার বার ভাবতে বাধ্য হইছি না জানি সেই অরণ্যে জোৎস্না কেমন ছিল, ঘন বর্ষায় সবুজ বনে না জানি কি অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা মিলত।
এখান হইতে চলিয়া যাইবার সময় আসিয়াছে—এই লাইন পড়ে এত দুঃখ লাগল।মনে হলো নিজের আপন জায়গা ছেড়ে আমিই বুঝি অন্য কোথাও চললাম।
যতবারই পড়ব ততবারই নতুন করে মুগ্ধ হবো।কিন্তু সেই মুগ্ধতা কখনো ভাষায় বলে বুঝাতে পারবো না।
আরণ্যকের তুলনা শুধুই “ আরণ্যক “ 🍃
সেই অরণ্য, সেখানকার মানুষজন:কুন্তা, ভানুমতী, গিরধারীলাল সবার প্রতি আমারো মায়া পরে গেছে কি ভীষণ ভাবে।নিজের কল্পনা শক্তি যতটা বিকশিত করা যায় অতটুকু পর্যন্ত বার বার ভাবতে বাধ্য হইছি না জানি সেই অরণ্যে জোৎস্না কেমন ছিল, ঘন বর্ষায় সবুজ বনে না জানি কি অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা মিলত।
এখান হইতে চলিয়া যাইবার সময় আসিয়াছে—এই লাইন পড়ে এত দুঃখ লাগল।মনে হলো নিজের আপন জায়গা ছেড়ে আমিই বুঝি অন্য কোথাও চললাম।
যতবারই পড়ব ততবারই নতুন করে মুগ্ধ হবো।কিন্তু সেই মুগ্ধতা কখনো ভাষায় বলে বুঝাতে পারবো না।
আরণ্যকের তুলনা শুধুই “ আরণ্যক “ 🍃
October 3, 2020
শুনেছিলাম বইটা প্রকৃতিপ্রেম নিয়ে কিন্তু আমার কাছে সবকিছু ছাপিয়ে উঠলো এই সরল সাধারণ মানুষগুলোকে এতটা সুন্দর ভাবে চিত্রিত করা। উপন্যাসে লেখক যেভাবে একের পর এক অনিন্দ্যসুন্দর চরিত্র পরিচয় করিয়ে দিলেন, সরল মনের মানুষগুলোকে এতটা সুন্দর চোখ নিয়ে দেখা শেখালেন, তা দেশের একেবারে সাধারণ মানুষগুলোর প্রতি ভালোবাসা হু হু করে বাড়িয়ে দেবার মত(সেই সাথে ভাতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও! আজকের পর আর কোনদিন মনে হয় ভাতকে অসম্মান করা চলবে না)।
June 27, 2016
প্রথমে একটা সত্য কথা স্বীকার করে শুরু করি! আমি আমার জীবনে আগে কখনো এই ধরনের উপন্যাস পড়িনি! এমন একটা উপন্যাস যে ভালো লাগতে পারে এইরকম ধারনাও ছিল না! এখন ধারণা বদলে গেছে! শুধু ভালো লেগেছে বললে অন্যায় হবে! এতটাই ভালো লেগেছে যে বইটা অনায়াসেই আমার পড়া সব থেকে ভালো লাগা প্রথম দশটা উপন্যাসের লিস্টে চলে যাবে! আমার মনে হয় সকল বাঙ্গালী পাঠকদের এই বইটা একবারের জন্য হলেও পড়া উচিৎ! ধন্যবাদ!
April 24, 2021
দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,
লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,
দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি।
এই বইটা আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। আমি সবাইকে আহবান জানাবো এই বইটা পড়ুন। প্রকৃতির সাথে মানুষের আত্নার যে সংযোগ তা আরণ্যকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে,বিশ্বসাহিত্যের ভাণ্ডারেও এমন বই খুব বেশি নেই।
হ্যাপি রিডিং। 💙
লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,
দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি।
এই বইটা আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। আমি সবাইকে আহবান জানাবো এই বইটা পড়ুন। প্রকৃতির সাথে মানুষের আত্নার যে সংযোগ তা আরণ্যকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে,বিশ্বসাহিত্যের ভাণ্ডারেও এমন বই খুব বেশি নেই।
হ্যাপি রিডিং। 💙
April 24, 2021
I have this friend. He has been frighteningly successful professionally, so much so that it would totally be BIRGing of me to first-name him here. We have kept in reasonably-regular touch over the years - dispelling the idea that super-successful professionals only keep in touch with others of their ilk, and not middle-management nobodies like me. We perhaps speak even more regularly these days, now that we have toppled over to the 40s.
We often message each other on weekday evenings, share articles we have read and movie or book recommendations. Children, family, work - regular stuff. The ‘what-next’ and ‘why-at-all’ discussions are rare, but not exactly uncommon. None of this is out of the ordinary, he is a nice guy, an old friend, and I’d like to believe we trust each other.
My friend and I have both been trained to be driven towards professional success - naturally, he is academically superior, and also possesses more professional hustle than me. Hustling, you know, is a natural state of being for people like us - middle-class, mathematically-inclined financially-ambitious sons of educated professional folks. And who hasn’t noticed that our society inordinately values people who project an image of drive and hustle. Even a few years ago, say at 35, questions like ‘why should I hustle’ never did occur to him, nor to me.
It does now. We have children. His boys are slightly older than mine. I feel it is normal to have questions like "do we have enough money to afford our children to have any career they choose; or any subject they choose to study?" - with the obvious caveat of having the standard of living they have been used to (or) have discussions on the unexpected prevalence of the born-rich or upper-middle class in almost any field where success does not equate to huge financial rewards or where success is highly volatile or takes years to materialize. Because eventually, that little person that is my flesh and blood, is all that matters.
And Aranyak. I was reading Aranyak - I read this piece to my friend - he is not Bengali but has a working understanding of the language. I had to translate parts of it.
মানুষ কি চায়? উন্নতি, না আনন্দ? উন্নতি করিয়া কি হইবে যদি তাহাতে আনন্দ না থাকে? আমি এমন কত লোকের কথা জানি, যাহারা জীবনে উন্নতি করিয়াছে বটে, কিন্তু আনন্দকে হারাইয়াছে। অতিরিক্ত ভোগের মনোবৃত্তির ধার ক্ষইয়া ক্ষইয়া ভোঁতা - এখন আর কিছুতেই তেমন আনন্দ পায় না, জীবন তাহাদের নিকট একঘেয়ে, একরঙা, অর্থহীন। মন শান-বাঁধানো রস ঢুকিতে পায় না।
It resonated. As it would for early-40s people with a bagful of existential questions, but rarely the courage to spell them out. Life is good. And as ঈশ্বরী পাটনী has said when asking of that one wish from the Goddess, "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে" - "May there be milk and rice for my child".
May there be.
Reader, do read Aranyak. The translation is good, I gifted a copy to a different friend-couple, and they loved it. I recommend this book with all my heart.
We often message each other on weekday evenings, share articles we have read and movie or book recommendations. Children, family, work - regular stuff. The ‘what-next’ and ‘why-at-all’ discussions are rare, but not exactly uncommon. None of this is out of the ordinary, he is a nice guy, an old friend, and I’d like to believe we trust each other.
My friend and I have both been trained to be driven towards professional success - naturally, he is academically superior, and also possesses more professional hustle than me. Hustling, you know, is a natural state of being for people like us - middle-class, mathematically-inclined financially-ambitious sons of educated professional folks. And who hasn’t noticed that our society inordinately values people who project an image of drive and hustle. Even a few years ago, say at 35, questions like ‘why should I hustle’ never did occur to him, nor to me.
It does now. We have children. His boys are slightly older than mine. I feel it is normal to have questions like "do we have enough money to afford our children to have any career they choose; or any subject they choose to study?" - with the obvious caveat of having the standard of living they have been used to (or) have discussions on the unexpected prevalence of the born-rich or upper-middle class in almost any field where success does not equate to huge financial rewards or where success is highly volatile or takes years to materialize. Because eventually, that little person that is my flesh and blood, is all that matters.
And Aranyak. I was reading Aranyak - I read this piece to my friend - he is not Bengali but has a working understanding of the language. I had to translate parts of it.
মানুষ কি চায়? উন্নতি, না আনন্দ? উন্নতি করিয়া কি হইবে যদি তাহাতে আনন্দ না থাকে? আমি এমন কত লোকের কথা জানি, যাহারা জীবনে উন্নতি করিয়াছে বটে, কিন্তু আনন্দকে হারাইয়াছে। অতিরিক্ত ভোগের মনোবৃত্তির ধার ক্ষইয়া ক্ষইয়া ভোঁতা - এখন আর কিছুতেই তেমন আনন্দ পায় না, জীবন তাহাদের নিকট একঘেয়ে, একরঙা, অর্থহীন। মন শান-বাঁধানো রস ঢুকিতে পায় না।
It resonated. As it would for early-40s people with a bagful of existential questions, but rarely the courage to spell them out. Life is good. And as ঈশ্বরী পাটনী has said when asking of that one wish from the Goddess, "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে" - "May there be milk and rice for my child".
May there be.
Reader, do read Aranyak. The translation is good, I gifted a copy to a different friend-couple, and they loved it. I recommend this book with all my heart.
February 14, 2018
সিলেট ছেড়ে এসেছি প্রায় চার মাস আগে। জাদুর শহরের ইট-কাঠের ঠাঁট-বাট চোখ ভোলানোর আগেই মহামারী ঘরবন্দি করে দিয়েছে, তাই বোধহয় চা বাগান আর বিরাট আকাশের মায়া চোখে মনে এখনো লেগে আছে পুরোদমে। জাদুর শহরে আবেগ অনুভূতি মূল্যহীন, রূড়তা আর কাঠিন্যের জয়জয়কার এখানে সব জায়গায়। আমি গেঁয়ো সংবেদনশীল মানুষ, মানিয়ে নিতে পারি না। এমন খুব হৃদয়হীন এক রাতে এই বই নিয়ে বসেছিলাম একটু আশ্রয়ের আশায়। বইয়ের বর্ণনা অপ্রাসঙ্গিক, এই বই পড়েন নি এমন কেউ নেই। আমি বরং আমার বোঝার জায়গাটা থেকে একটু বলি।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সিলেটে সবুজের মাঝে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতাটুকু পাওয়া। ভার্সিটির স্মৃতি বলতে আমি বুঝি- একদম সকাল সকাল বেলা রাগিব রাবেয়ার মাঝে দিয়ে যে রাস্তাটা মালনিছড়ায় শেষ হয়, সেখানে হারিয়ে যাওয়া, অথবা সিকৃবির থেকে একটু সামনে এগিয়ে ইকোপার্কের একলা দুঃখি বেঞ্চিতে বসে "যখন নীরবে দূরে" শোনা। আকাশ কালো করে বৃষ্টি আসার ঠিক আগে আগে এয়ারপোর্ট রোডে একলা হেঁটে বেড়ানো, শেষ বিকেলে সূর্য যখন ডুবি ডুবি- তখন তেমুখি ব্রীজটার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে ভাবা সূর্যটা কেমন হঠাৎ ঘুমিয়ে গেল!
আরণ্যকের লবটুলিয়া, ফুলকিয়া বইহারের বর্ণনা আমার একদম নিজস্ব এইসব ছেঁড়াখোড়া স্মৃতির পাতাগুলো চোখের সামনে তুলে ধরেছে বারবার। যে মুক্তির স্বাদ লেখক পেয়েছিলেন সরস্বতী কুণ্ডের নির্জনতায়, আর কেউ জানুক না জানুক অন্তত আমি জানি- এই একই মুক্তি, একই স্বাধীনতা কোন এক জীবনে আমি চেখে দেখেছি। সেসব সময় এখন স্বপ্ন মনে হয়। আরণ্যক আমায় আমার ভুলে যাওয়া স্বপ্ন মনে করিয়ে দিয়েছে। এই স্বপ্ন চোখে নিয়ে যান্ত্রিক শহরে আরো কিছু দিন টিকে থাকার চেষ্টা করাই যায়।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সিলেটে সবুজের মাঝে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতাটুকু পাওয়া। ভার্সিটির স্মৃতি বলতে আমি বুঝি- একদম সকাল সকাল বেলা রাগিব রাবেয়ার মাঝে দিয়ে যে রাস্তাটা মালনিছড়ায় শেষ হয়, সেখানে হারিয়ে যাওয়া, অথবা সিকৃবির থেকে একটু সামনে এগিয়ে ইকোপার্কের একলা দুঃখি বেঞ্চিতে বসে "যখন নীরবে দূরে" শোনা। আকাশ কালো করে বৃষ্টি আসার ঠিক আগে আগে এয়ারপোর্ট রোডে একলা হেঁটে বেড়ানো, শেষ বিকেলে সূর্য যখন ডুবি ডুবি- তখন তেমুখি ব্রীজটার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে ভাবা সূর্যটা কেমন হঠাৎ ঘুমিয়ে গেল!
আরণ্যকের লবটুলিয়া, ফুলকিয়া বইহারের বর্ণনা আমার একদম নিজস্ব এইসব ছেঁড়াখোড়া স্মৃতির পাতাগুলো চোখের সামনে তুলে ধরেছে বারবার। যে মুক্তির স্বাদ লেখক পেয়েছিলেন সরস্বতী কুণ্ডের নির্জনতায়, আর কেউ জানুক না জানুক অন্তত আমি জানি- এই একই মুক্তি, একই স্বাধীনতা কোন এক জীবনে আমি চেখে দেখেছি। সেসব সময় এখন স্বপ্ন মনে হয়। আরণ্যক আমায় আমার ভুলে যাওয়া স্বপ্ন মনে করিয়ে দিয়েছে। এই স্বপ্ন চোখে নিয়ে যান্ত্রিক শহরে আরো কিছু দিন টিকে থাকার চেষ্টা করাই যায়।
November 7, 2020
আমার মতোন যারা একটু "গর্তজীবি" মানুষ যারা, তাদের নিজের চোখে দেখা হয় পৃথিবীর খুব অল্পই। বাকিটা তাদের কল্পনা করে নিতে হয়, কিংবা সাহায্য নিতে হয় অন্য কোনো চোখের।
বিভূতিভূষণের বর্ণনায় আরণ্যক পড়ে আমার আবার একবার প্রকৃতি কাছাকাছি থাকবার সাধ হলো। অসংখ্যবার মনে হলো, ইশ আমার যদি এমন একটা জীবন হতো!
সত্যি সত্যিই যদি সত্যচরণের মতো একদিন সব ছেড়ে ছুড়ে চলে যেতে পারতাম প্রকৃতির আদি রূপের কাছে, তাহলে বোধহয় মন্দ হতো না। আবার কে জানে, চলে গেলে হয়তো বাইরে ঘুরতে গেলে যেমন বাসা মিস করি, বিছানায় শুয়ে এক কাপ ধোয়া উঠা গরম চা ছাড়া দিন শুরু করতে পারি না- তার জন্য হাঁপিয়ে উঠতাম। আমি নিজেই নিশ্চিত না। লেখকের চোখে এই তো বেশ ক'দিন ঘুরে আসা হলো অন্য একটা জগতে, মিছিমিছি আর কষ্ট করে বন-জঙ্গল দেখতে যাওয়া কেন?
আচ্ছা, আরণ্যকের কথা বলতে এসে এতো অপ্রয়োজনীয় অপ্রাসঙ্গিক কথা কেন বলছি? বলছি কারণ আমার মনে হয় এই বইটা পড়ে নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াটা কঠিন। বই ভালোবাসে যারা, তাদের পছন্দের তালিকায় এইটা থাকেই।
আমার একটা ইচ্ছে ছিলো সবসময়, একটা সময় আমি পাহাড়ের কাছে একটা বাড়ি বানাবো। মনুষ্যহীন নির্জন একটা জায়গায় একটা সুন্দর বাসা- ভেবেই একটা মন খারাপের দিন শুরু করতে পারতাম আমি। যদি কোনোদিন এই স্বপ্নটা সত্যি হয়েই যায়, তাহলে আমি জানি, এই বইটা পড়তে সেদিন আরো অন্যরকম লাগবে❤️
বইঃ আরণ্যক
লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯/১০
বিভূতিভূষণের বর্ণনায় আরণ্যক পড়ে আমার আবার একবার প্রকৃতি কাছাকাছি থাকবার সাধ হলো। অসংখ্যবার মনে হলো, ইশ আমার যদি এমন একটা জীবন হতো!
সত্যি সত্যিই যদি সত্যচরণের মতো একদিন সব ছেড়ে ছুড়ে চলে যেতে পারতাম প্রকৃতির আদি রূপের কাছে, তাহলে বোধহয় মন্দ হতো না। আবার কে জানে, চলে গেলে হয়তো বাইরে ঘুরতে গেলে যেমন বাসা মিস করি, বিছানায় শুয়ে এক কাপ ধোয়া উঠা গরম চা ছাড়া দিন শুরু করতে পারি না- তার জন্য হাঁপিয়ে উঠতাম। আমি নিজেই নিশ্চিত না। লেখকের চোখে এই তো বেশ ক'দিন ঘুরে আসা হলো অন্য একটা জগতে, মিছিমিছি আর কষ্ট করে বন-জঙ্গল দেখতে যাওয়া কেন?
আচ্ছা, আরণ্যকের কথা বলতে এসে এতো অপ্রয়োজনীয় অপ্রাসঙ্গিক কথা কেন বলছি? বলছি কারণ আমার মনে হয় এই বইটা পড়ে নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াটা কঠিন। বই ভালোবাসে যারা, তাদের পছন্দের তালিকায় এইটা থাকেই।
আমার একটা ইচ্ছে ছিলো সবসময়, একটা সময় আমি পাহাড়ের কাছে একটা বাড়ি বানাবো। মনুষ্যহীন নির্জন একটা জায়গায় একটা সুন্দর বাসা- ভেবেই একটা মন খারাপের দিন শুরু করতে পারতাম আমি। যদি কোনোদিন এই স্বপ্নটা সত্যি হয়েই যায়, তাহলে আমি জানি, এই বইটা পড়তে সেদিন আরো অন্যরকম লাগবে❤️
বইঃ আরণ্যক
লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯/১০
December 25, 2025
পাহাড় প্রকৃতির প্রতি আমার একটু বিশেষ দূর্বলতা থাকায় এই ধরনের গল্প ভীষণ পছন্দের।
Displaying 1 - 30 of 640 reviews































