Banaful/Banaphool (Bengali: বনফুল) (literally meaning The Wild Flower in Bengali) is the pen name of the Bengali author, playwright and poet, Balai Chand Mukhopadhyay (Bengali: বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়).
He was born in Manihari village of Purnia district (now Katihar District), Bihar on 19 July 1899. He was the son of Satyacharan Mukhopadhyay, a practicing physician at the village and Mrinalini Devi. He was admitted to the Sahebgunge Railway school in the year 1914. Mukhopādhyāy started a hand-written magazine named "Bikash" where his writings of the first few days were published. When one of his poem was published in a well- known magazine named Malancha, he was warned by the then head-master of the school as he feared that Balāi Chānd's literary work may spoil his education. So, Balāi adopted his pen name Banaful (the wild flower in Bengali) to hide his work from his tutor. He passed Matriculation examination in 1918 and completed his study at Hazaribag College. Then he was admitted in the Medical College and Hospital, Kolkata. During this time, he was married to Lilavati, who was studying I.A. at Bethune College, Calcutta. But before completing his medical education in Calcutta, he was transferred to Patna Medical College and Hospital due to an issued Government order. Here he was emoployed as a physician after completion of his medical education. Then he worked as a physician at Azimgaunge Hospital. He practiced Pathology at Bhagalpur. In 1968, he sold his house at Bhagalpur and settled at Salt Lake, Calcutta. This great writer took his last breath on 9 February 1979.
তোমাকে ভালোবাসিয়াছিলাম বলিয়াই ত্যাগ করিয়া আসিয়াছি বাংলায় অনেক সাহিত্যিকের বই পড়া হলেও বনফুলের বই আমি অনেক দেরিতে এসে শুরু করেছি।দেখে মাঝে মাঝে খারাপ লাগে যে এইসব ভালো বইয়ের দাম মানুষ দিতে পারে না।সস্তা এন্টারটেইনমেন্ট এর নেশায় এমন গূঢ় বই কেউ ছুঁয়ে দেখে না। বনফুলের লেখার কিছু বৈশিষ্ট্য হলো- • ছোট লেখার মধ্য দিয়ে সিরিয়াস একটা বিষয়ের অবতারণ করানো • শেষ লাইন না পড়া পর্যন্ত রহস্যের জাল ছড়ানোর ক্ষমতা • মানুষের মনের গোপন অভিব্যক্তি তুলে ধরার সামর্থ্য ছোটগল্পকার হিসেবে বনফুল একেবারে ১০০ তে ১০০।
'শ্রেষ্ঠ' নামাঙ্কিত সংকলনগুলোর একটা সুবিধা হলো এতে বেছে বেছে সুস্বাদু জিনিসগুলোই দেয়া হয়।এই সংকলনের দশাও তার ব্যতিক্রম নয়। বনফুল মূলত তার হিউমার সম্বলিত লেখার জন্যেই পরিচিত।এখানেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।হাসি-ঠাট্টা করতে করতেই তিনি মানুষের বাহিরের মুখোশ ধরে সজোরে টান দিয়েছেন।গল্পগুলো একদম সাধারণ কিন্তু জীবনবোধে ঠাসা। রেটিং প্রসঙ্গে বলি - মোট ৩৫ টি গল্পের যদি নব্বুই পার্সেন্টেরও বেশি গল্প অসাধারণ লাগে তাহলে পাঁচ তারা না দিয়ে উপায় আছে কি?
আমার ছোটগল্প পড়তে বেশ ভালো লাগে। খুব দ্রুত শেষ করা যায় এইজন্য বোধ হয়। বনফুলের এই বইয়ের গল্পগুলোর বেশিরভাগই গ্রামীণ জীবনের ক্ষুদ্র ঘটনাবলি নিয়ে লেখা। ক্ষুদ্র অথচ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা।
হাওয়াই মিঠাইয়ের মত একেকটা গল্প। এই পড়া শুরু করলাম, এই শেষ হয়ে গেল। তাই ভাললাগার রেশটা ছিল অল্প সময়ের জন্য- যেমনটা হয় একটা দম ফাটানো হাসির কৌতুক পড়ার পর। কিন্তু লেখকের শব্দচয়ন, কাব্যিক বর্ণনাশৈলী মুগ্ধতার আবেশ সৃষ্টি করে। প্রায় প্রত্যেকটা গল্পেরই একটা কমন প্যাটার্ন আছে - আনপ্রেডিকটেবিলিটি। কাহিনীর সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আড়াল করা হবে, গল্পের প্রথম লাইন থেকেই শুরু হবে নাটকীয়তা; তারপর নাটক যখন পরম বিন্দুতে- তখনই চমক লাগানো পাঞ্চলাইন, গল্প শেষ। কয়েকটা গল্প পড়ার পর বাকি সব গল্পই তাই প্রেডিকটেবল হয়ে যায়। অনেকদিন ধরে দুই-তিনটা গল্প করে করে বইটা পড়ছি। অনেক গল্প ভাল লেগেছে, আবার অনেক গল্প তেমন ভাল লাগেনি। আমি দিলাম চার তারা।
বনফুলের ছোটগল্প নিয়ে নতুন করে আর কী বলার আছে! নিতান্ত সংক্ষিপ্ত অবয়বের গল্পের মধ্যে তিনি বিপুল বক্তব্য উপস্থাপনে যে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তা বিস্ময়কর। আমার অভিযোগ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই সংকলনটি নিয়ে। জানা মতে, বনফুল রচিত ছোটগল্পের সংখ্যা ছয় শতাধিক। সেখান থেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মাত্র ৩৫টি। একেবারে কম হয়ে গেল না? অর্ধশত হলেও না হয় মানা যেত। এ গ্রন্থে জায়গা পায়নি এমন কিছু দারুণ গল্প পড়া থাকায় বলতে পারছি শ্রেষ্ঠ গল্পের তালিকাটা আরও বড় হওয়া উচিত ছিল।
ছোটগল্প কি,কেন, কেমন সেটা তো রবীন্দ্রনাথ তাঁর এক কবিতার মাধ্যমেই আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। আর রবীন্দ্র-পরবর্তী সময়ে যাঁরা আমাদের ছোটগল্পের ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করেছেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বা বনফুল তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনিও যে রবীন্দ্রনাথের 'ছোট ছোট দুঃখ কথা...' বা 'শেষ হইয়াও হইল না শেষ ' মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ ছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় বইয়ের পুরোটা জুড়েই।
তাঁর গল্পের শক্তির কথা যদি বলি তাহলে বলতে হবে ছোট্ট আয়তনের ভিতরে গভীরতম মানবীয় বোধকে ফুটিয়ে তোলা, বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যময়তা আর ভাষার গাঁথুনি। 'অর্জুন মন্ডল ' গল্পটা ব্যতীত আর কোনো গল্পকেই তিনি ৩-৪ পৃষ্ঠার উপরে নিয়ে যাননি অথচ প্রতিটা গল্পই অসাধারণ বোধের প্রকাশ।
বৈচিত্র্যের কথা বললেও তিনি ফুল মার্কস পাবেন। পেশাগত (ডাক্তারি) ও ব্যক্তিগত জীবনে সান্নিধ্যে আসা সমাজের তথাকথিত নিচু সম্প্রদায়ের মানুষের কথা, তাদের জীবনের সরলতা, দরিদ্রতা, উদারতা, মহত্ত্ব, অসহায়ত্ব, প্রেম ফুটে উঠেছে বিভিন্ন গল্পে। এসব ছাড়াও রয়েছে রহস্য, অতিপ্রাকৃত গল্প, রূপকধর্মী গল্প। বিজ্ঞানের ছাত্র বনফুল মানুষকে নানান পরিস্থিতিতে ফেলে তার গূঢ় মানস প্রতিক্রিয়াকে দেখেছেন আতশ কাচের নিচে ফেলে। কখনো হাস্যরস, কখনো করুণরস কখনোবা নিছক বর্ণনার ভঙ্গিতেই রচনা করেছেন গল্পগুলো।
আবার ২-৩ পৃষ্ঠায় প্রায় প্রতিটা গল্প শেষ করার ক্ষেত্রে তিনি দেখিয়েছেন অসাধারণ ভাষার দক্ষতা আর পরিমিতিবোধ। এমনভাবে গল্পগুলো শেষ করেছেন যেন ঐ অল্পতেই গল্পগুলো পেয়েছে চূড়ান্ত রূপ, যেন আরেকটু লম্বা করলে গল্পগুলো তাদের মাধুর্য হারাতো। বেশিরভাগ গল্পেই রয়েছে এক ধরনের টুইস্ট যা পুরো গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয় কখনো এক বাক্য কখনো এক শব্দে।
দেড় শতাধিক পৃষ্ঠার বইটিতে স্থান পেয়েছে তাঁর ৩৫ টি সেরা গল্প। যদিও সেরা শব্দটাই বিতর্কিত তবুও সম্পাদকের পছন্দকে তো মেনে নিতেই হবে। ১১ টি গল্পগ্রন্থের শত শত গল্প থেকে ৩৫ টি বাছাই করা যেকোনো বিচারেই কষ্টসাধ্য। তাই সম্পাদক প্রসংসা দাবি করতেই পারেন কেননা এক গ্রন্থেই পাওয়া গেছে বনফুলকে, তাঁর বৈচিত্র্যময় গল্পগুলোকে যেগুলো পড়লে যেকোনো সচেচন পাঠকই অন্য লেখকদের গল্প থেকে তাঁর গল্প আলাদা করতে পারবেন।
একদম ছোটোবেলায় রবিঠাকুরের গল্পগুচ্ছ পড়ে ফেলার একটা "নেতিবাচক" দিক আছে। ছোটোগল্পের স্বাদ ও শাঁস নেবার যে এক ভঙ্গী, উপভোগের যে এক আনন্দ সেটা গল্প গুচ্ছের ছোটোগল্প পড়ে এমন ভাবে মস্তিষ্কে প্রোথিত হয়ে যায় যে পরবর্তীতে যতই ছোটোগল্প পড়ি না কেন, ওই স্বাদ টা আর পাওয়া হয়না। এতগুলো বছর পর বনফুল'র গল্প পড়ে আমি আবারও সেই আকাঙ্খিত স্বাদ পেলাম। আমি মোটেও বলছিনা যে বনফুল রবিঠাকুরের ছাঁচে লিখেছেন। তাঁর লেখা যেনো এক আলাদা ম্যাজিক। একটা গল্পও পেলাম না যেটা ভালো লাগলোনা! কি অদ্ভুত! এত অসাধারণ গল্পগুলো এতদিন না পড়ে ছিলাম কিভাবে! এর রে�� যে কাটছেইনা!
There are some excellent short stories in this collection. One thing is sure that Bonoful wanted to give a twist at the end of the story which from my experience most of the short story writers try to give. He wanted to show the twisted nature of mankind directly.
on the other hand Rabindranath Tagore tried to narrate the story and leave the decision somewhat on the reader. But of course Rabindranath has written short stories of the first kind as well.
But both of them stayed true to what happens in the society.
On the other hand, one of my favorite writers Humayun Ahmed actually brought Magical Realism in Bengali Literature. Well, might not be true as I have not read many books altogether. In fact, I didn't even know the the term Magical Realism a year ago. My love for anime led me to read Haruki Murkami and eventually I found Gabriel Garcia Marquez. Which made me admire Humayun Ahmed even more.
Well, without straying too much, let me say the stories are enjoyable. But soon it becomes cliche when you know there will be a twist at the end. Bonoful, tries to show the nature of mankind, but he emphasized too much on the dark side of the force(!) or the person who selected the stories thinks that these will have more positive response from the readers. But there is an exception. That story named অর্জুন মন্ডল (Arjun Mandal) describes a person who started studying at the age of 40. It is the longest story in this book and it gets a 5 star. :)
Another story is at the beginning of the book named বিধাতা (God). That was excellent.
One thing to note is that Bonoful around 1976 in his story বিবর্তন (Evolution) thought that all the Hindu's of West Bengal(Calcutta) should convert to Muslims because Muslims getting more job than any Hindu. Well, in Bangladesh that was the time of political unrest (The leader was assassinated, all his colleagues were in jail and in the line of execution). But West Bengal shouldn't be like that at all. I'm not sure whether he was somewhat ethnocentric or not. It may be interesting to note that, A lot of Bangladeshi thinks that having no beard somewhat facilitates the chance of getting job, whether the job is in a public company or a private company. It is somewhat true for Private companies as they tend to show that they are "westernized" but not that true for public companies; yet the notion prevails.
When I said they always stayed true to the reality, I kind of lied. Now I remember there is a story named দুই ভিক্ষুক (Two Beggars) which narrates two beggars at a shrine.
Another story চিঠি পাওয়ার পর (After Receiving the Letter) tells the story of a person who is going to meet his long lost love for five minutes only. But unfortunately he fails. :(
There are more interesting story and his writing is very humorous. Rabindranth's humor is for a person who has a lot of time to read the things carefully but Bonoful's humor can be seeped even in a busy day. :)
এ বইটা আমি অনেক টাইম নিয়ে পড়সি। আমার লাস্ট জন্মদিনে গিফট পাইসিলাম, তখন শুরু করে আজ শেষ করলাম। তো, প্রায় ছয় মাসের মতো টাইম নিসি এই পুঁচকে বইটা শেষ করতে। টাইম নিয়ে পড়া ভালো বোধহয়, কারণ এতে ভালো লাগা গল্পগুলা আলাদা করে মনে থাকে। অথবা, এই টাইম নিয়ে পড়াটা মন্দও হইতে পারে কারণ এতে লেখকের সত্ত্বার সাথে ঠিক মিশে যাওয়া যায় না।
বনফুলরে সবাই এক দু'পৃষ্ঠার বেশ কিছু গল্পের জন্য মনে রাখসে, কিন্তু আমি মনে রাখব চমকের জন্য। ছোট গল্পে চমক জিনিসটা ইম্পর্ট্যান্ট, গল্পের শেষে এই চমক দেওয়াটা যে খুব বেশি কার্যকরী, সেই জন্য। বিমল মিত্র এই কাজটা দারুণ করতেন, এইজন্য উনারে আমি প্রিয় গল্পকারের একদম চূড়ায় বসায় রাখসি। হুমায়ূনও ভালো চমক দিতেন, মানিক সাহেবও এই জায়গায় অসাধারণ ছিলেন। তো, দেখা যাইতেসে বেশ কিছু স্বার্থক গল্পকারেরই মেইন হাতিয়ার ছিল গল্পের একদম এন্ডিং এ গিয়ে এক বা দুই লাইনের মাথা উড়ায় দেওয়ার মতো চমক। কিন্তু, এখানে একটা কিন্তু আছে। বিমল মিত্র মূলত বড়সড় গল্প লেখক ছিলেন। অনেক বেশি ডিটেইলিং থাকে উনার গল্পে। এতে গল্পটা মাথায় গেঁথে থাকে এবং এর লিগা চমকটা খুব বেশি ইফেক্টিভ হইতো। মানিকের গল্পের সাইজও মাঝারি মানের ছিল। কিন্তু বনফুল তো এইর'ম না! উবার গল্পগুলা হইতেসে বোধ ভিত্তিক। উনার অন্তরে একটা বোধ আসলো, আর সেইটাকে হাস্যরসের মাধ্যমে এক বা দুই পৃষ্ঠায় ফুটায় তুললেন! ব্যাস! এইখানে গল্প মূখ্য না, সাইজও ছোট...তাই পাঠকের উপর চমকের সাইড ইফেক্টটা ইকটু কম থাকার কথা। কিন্তু না ভায়া, আমার উপর সেই লেভেলের সাইড ইফেক্ট ছিল মিনি ট্যুইস্ট গুলার। তো, এর লিগাই আরকি, এ গ্রন্থ এবং বনফুলরে আমি চমকের লিগা মনে রাখব।
যদ্দুর মনে হয়, বনফুলের মতো এমন কন্টিনিউয়াসলি মিনি সাইজড গল্প বাংলা সাহিত্যে উনার আগে কেউ লিখেন নি এবং উনার পরেও কেউ লেখার প্রয়াস দেখান নাই(কেউ কেউ হয়তো লিখসেন এক বা দুইটা, কিন্তু এক দুইটা গল্প আর দেড়শোটা গল্প লেখা এক জিনিস না)। ফেসবুক আমলে অবশ্য পিচ্চি পিচ্চি গল্প লেখার ট্রেন্ড বাড়তেসে, ব্যাপারটা তো ঐ রিয়েক্ট আর কমেন্টেরই। যতো ছোট সাইজ আর যতো ফালতু হিউমার, ততো বেশি রিয়েক্ট। এদেরকেও তাই বনফুলের উত্তরসূরী বলা যায় না। তো, এক সেন্সে বাংলা সাহিত্যে নজরুলের যেমন উত্তরসূরী নাই, তেমনই বনফুলে প্রভাবিত তেমন গল্পকারও নাই৷ তো, এইদিক দিয়া ভাবতে গেলে এই বইটা অনেক বেশি মূল্যবান বাংলা সাহিত্যের জন্য। সক্কল বাংলা ভাষাভাষী সাহিত্যপ্রেমীর তাকে এ বইটা থাকাও একপ্রকার বাঞ্চনীয় তাই। একটি গল্পগ্রন্থ, অথবা একটি বোধগ্রন্থ, অথবা দুইটাই। পড়েন। ভাবেন।
বনফুল যে একজন ডাক্তার ছিলেন, সেটা আমি জেনেছি এই বই পড়ে। এবং বলা বাহুল্য, বইটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। গল্পগুলো আদতে ছোটগল্প হলেও খুব গভীর। একটা রেশ রয়ে যায়, শেষ হয়েও হইলো না শেষ টাইপের। এখানেই লেখকের সার্থকতা। আমি যে প্রকাশনীর বই কিনেছি, তার সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন NSU এর একজন অধ্যাপক। কিন্তু বইয়ে বেশ কিছু প্রিন্টিং mistake আছে। আমাকে দিয়ে প্রুফরিড করালে ভালো হতো। আমার এসবে খুব খুঁতখুঁত লাগে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে "তাজমহল" গল্পটি।
বনফুলের সাথে সম্পর্ক ছিল শুধু 'পাঠকের মৃত্যু'| এই বই পড়ার পর মনে হল - "এতদিন কথায় ছিলেন ?"| প্রতিটা গল্প পড়ার সময় খেয়াল রাখতে হয়েছে কোনভাবেই যেন শেষ অংশে চোখ না যায়| কারণ প্রতিটা গল্পই "শেষ হয়ে হইল না শেষ"| যারা ছোটগল্প পছন্দ করেন তাঁদের অবশ্য পাঠ্য|
বনফুলের হাসির পেছনে এই প্রবল কান্নাটুকু যেকোন অর্থেই অসাধারণ।
লেখক কেবল যে ভালো গল্প লিখতেই জানতেন—তাও তো নয়—ক্ষেত্রবিশেষে ভেঙে দিয়েছেন গল্প লেখার প্রচলিত ধারণাকে—একেবারে বিশুদ্ধ খ্যাপা যাকে বলে! ‘উৎসবের ইতিহাস’-এর মত গল্প লেখার সাহসটা ক’জন করবে?
বনফুলের ছোটগল্পের শিল্পগুণ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন তোলা হয়েছে—কেননা রাবীন্দ্রিক গদ্যে অভ্যস্ত মানুষ তখনও ভিন্ন ধারায় অভ্যস্ত হতে শেখেনি। বুদ্ধদেব বসুর মত মানুষেরা সেই ধারাকে ভেঙে দেবার চেষ্টা করেছিলেন—কিন্তু সেটা মূলত কাব্যের ক্ষেত্রে—যদ্দূর জানি। কাজেই বনফুলের ভিন্ন ধা��চের লেখা যে প্রশ্নবিদ্ধ হবে—এ আর আশ্চর্যের কী। কিন্তু, কখনো পুকুর, কখনো গঙ্গা এবং অর্জুন মণ্ডলের গল্পে রীতিমত অতলান্তিক সমুদ্রের গভীরতা এতখানি মেদহীন ঝরঝরে ভাষায় তুলে আনা—এ যদু-মধুর কম্মো নয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি বনফুলকে সার্থক, এবং সসীম শ্রদ্ধার পাত্র মনে করছি।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের একটা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করায় আরো ক'টা বইয়ের সাথে বনফুলের শ্রেষ্ঠ গল্প গ্রন্থখানাও পুরস্কৃত করা হয়। গল্প বলতে কবিগুরুর গল্পগুচ্ছ পর্যন্তই দৌঁড় ছিলো। বিচ্ছিন্নভাবে আরো কিছু লেখকের গল্প পড়া হলেও বই সংগ্রহ করা হয়নি। এই বই পড়ে বলাইচাঁদ তো বটেই; অন্যান্য গল্পকারের গল্পগ্রন্থ সংগ্রহের প্রতি বিশেষ আগ্রহ তৈরী হয়েছে।
বনফুলের নিমগাছ গল্পটা মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেটাই আমার পড়া বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যেয়ের প্রথম গল্প। ক্ষুদ্র ও অপরিপক্ক মস্তিষ্কের প্রথম ভাবনা ছিল, একি! এতো শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে গেল! গল্পের ফর্মটাও বেশ অন্যরকম ছিল, মনে হয়েছিল এই কবিতা গল্পের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল কেন! যে সময়ে বলাইবাবু গল্পটা লিখেছেন তখন এমন ফর্ম অ্যাম্বিশাসই ছিল।
বনফুলের ছোটগল্প গুলো আক্ষরিক অর্থেই ছোট-গল্প। কোনটাই দৈর্ঘ্যে খুব একটা বড় নয়। দৈর্ঘ্য তো বটেই ঘটনকালের ব্যপ্তিতেও গল্পগুলো ছোট। গল্পে ডিটেইলিং, বর্ণনার পরিমাণ একদমই পরিমিত। বেশীরভাগ গল্পই স্টেপে স্টেপে বিল্ড করে নিয়ে গিয়ে শেষে একটা চমকের সাথে সমাপাতন করা হয়েছে। অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার ছাড়াও স্লাইস অফ লাইফ গল্পেও যে টুইস্টের এমন চমৎকার ব্যবহার করা যেতে পারে এটা বনফুলের গল্প না পড়লে বোঝা যেত না। ছোটগল্পপ্রেমী যে কারো কাছে বনফুলের ছোটগল্প ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে।
আসলে ছোট গল্প সম্পর্কে খুব কম ধারণাই ছিল "দৈর্ঘ্যে ক্ষুদ্র, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বাক্যবিন্যাস কথন রীতি, পাঠক হৃদয়ে তৃষ্ণা আর অতৃপ্তির সঞ্চারক" এমন পুঁথিগত ধারণাই ছিল যতদিন না এই বই টি পড়ার সুযোগ পেয়েছি। গল্পকথকের স্বার্থকতা মানুষের চিত্তকে আকর্ষণ করাতে, আর এক্ষেত্রে ছোটগল্পকার বনফুল স্বার্থক বটেই, আমাদের অনেকের প্রিয় লেখকদের একজন হয়ে উঠেছেন। ক্ষুদ্র পরিসরের মাঝেই সমগ্র পটভূমির স্বল্প অথচ সামগ্রিক অবস্থা, চরিত্র সমূহের অন্তর্দৃষ্টি, কখনো গাম্ভীর্যের সুরে কখনো বা ব্যঙ্গ করেই এমন নৈপুণ্যের সাথে বর্ণিত হয়েছে যা অভাবনীয়।
ছোটগল্প পড়ার তেমন আগ্রহ ছিল না। ছোটকাল থেকেই হুমায়ূন আহমেদ টাইপের উপন্যাস পড়েই অভ্যস্ত। ক্লাস ৬ এ থাকতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রেরই এক বড় ভাই কোনো একটা কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার দরুন বইটা হাতে গুজে দিয়েছিল। বলা বাহুল্য, খুবই বেজার হয়েছিলাম ছোটগল্পের বই দেখে। এখন ২০২২ সালে তরুণ বয়সে এসে আজও সেই ভাইকে খুঁজে বেড়াচ্ছি, আমাকে সাহিত্যের অপরূপ এক ধারার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ায় ধন্যবাদ দেয়ার জন্য।
রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের যুগে একদম ভিন্ন ধাঁচের ছোটগল্প উপহার দেয়া শুরু করেন তিনি। এ বইয়ের কিছু গল্পকে অণুগল্পও বলা যায়। আমার মনে হয় প্রতিটি লেখকের স্বপ্ন প্রতিটি ছোটগল্পের শেষে বনফুলের মত একটা ম্যাজিক বাক্য জুড়ে দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করা। যা মানুষকে গল্পটি সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।
ছোট গল্প আমার বরাবর পছন্দ। বনফুল এর গল্প পড়া শুরু স্কুল এর বই এ...এরপর হঠাৎ হঠাৎ নেট এ কোথাও...বই টা দেখে নেয়ার আগে একবার ভাবি ও নি। এনার গল্প গুলির speciality কী? হালকা মেজাজে ভারী message, আর শেষে এসে এমন সব টুইস্ট যে এতক্ষণ পড়ে আশা গল্প টাকে হুট করে একদম অন্যরকম লাগে। Worth trying if you love short stories with thought provoking messages and dark humors.
ছোট গল্পের কথা চিন্তা করলেই প্রথমে আমাদের মনে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা। তবে অল্প কথার যাদুতে গভীর ভাব প্রকাশ করেছেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'। তার ছোট গল্পের কথা গুলোর শব্দ গাথুনি যেমন চমৎকার তেমনি অর্থবহ।
একেকটা গল্প বারুদে ঠাসা তাজা বোমার মতো। অল্প সময়ে বড় বিস্ফোরণ আর তার রেশও যেন কাটতে চায় না সহজে। বনফুল নিঃসন্দেহে ছোট গল্পে সেরাদের একজন। ছোট গল্পের অনুরাগী পাঠকমাত্রই বনফুলের গল্পগুলোর প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন। Must read!