অদিতি ফান্ধুনীর জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪। শৈশব কেটেছে যশাের, বরিশাল, রাঙামাটি, পাবনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর। একাধিক সংবাদপত্রে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছেন। প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।
বিচিত্র আখ্যানের বিচিত্র গল্প। চরিত্রদের উঠে আসা আমাদের অগোচরের জগত থেকে হলেও অচেনা নয়। একটু খোঁজ করলে কিংবা আশেপাশে অনুসন্ধানী দৃষ্টি চালালে সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে তাদের। গল্পের মাধ্যমে কিছু সত্যি ঘটনা, কখনো নিছক গল্পই আবার লেখিকার ভাষায় কখনো শুধুই যেন 'স্বপ্ন সংহিতা '। ' অপৌরুষেয় ১৯৭১ ' গল্প অর্থাৎ বইয়ের নামগল্পটা আমাদের জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে আহত পঙ্গুত্ব বরণকারী বীর যোদ্ধাদের কথা, স্রেফ যুদ্ধের স্মৃতিচারণা নয়। সহযোদ্ধাদের সাথে ক্ষতের পার্থক্য, স্মৃতির পার্থক্য আর বর্তমান বাস্তবতার পার্থক্য সবকিছু মিলেমিশে হয়ে উঠেছে অসামান্য চিন্তাধারার লেখা। স্বল্পশিক্ষিত এক মুক্তিযোদ্ধার লেখা ডায়েরির কিছু অংশ হুবহু আমাদের পড়ার সুযোগ হয় এই গল্পটির মাধ্যমে। ভুল বানান, বাক্য গঠনে শিথিলতা - ডায়েরির এইসব আপাত ত্রুটিই যেন হয়ে ওঠে সরল মানুষটির স্মৃতির এক নির্মোহ ভাষ্যকার। এরপরে এক হাজং যুবকের প্রেমের গল্প, হাতি শিকারে অস্বীকার এবং পরিণতি। তারপর পড়লাম এক বারগি যোদ্ধার সাথে নারী বিভাবতীর অনুরাগ আর বিহবলতার গল্প। বাঙালিরা বারগিদের বলতো বর্গী। বর্গীরা এসে যখন বিধবা সুন্দরী যুবতী বিভাবতীকে হরণে উদ্যত হয়, তখন সেই লুণ্ঠনকারী দলের সর্দারই তাকে রক্ষা করেন এবং নিয়ে যান আপন নিরাপত্তাবলয়ে। এভবেই উন্মোচিত হয় বিভাবতীর দীর্ঘদিনের নিজের কাছেই অচেনা এক নারীসত্ত্বার। একে একে আসে মিশনারি প্রভাবে খ্রিস্টান হওয়া সরলা দেবীর পন্ডস ক্রিম মেখে ফর্সা হওয়ার স্বপ্নের গল্প, মার্কিনী যুবকের সাথে বামপন্থী নারীর পরিণয়ের গল্প, ক্রসফায়ারে মরে যাওয়া মাঘন ঋষির মৃত্যুকে ঘিরে তার পরিবারের টালমাটাল অবস্থার গল্প এবং একদম সবশেষের গল্পে একজন নারীর বিভিন্ন দর্পণে বারংবার নিজেকে নানা উপায়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখার গল্প।
বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখিকার ছবির নিচে তাঁর সম্পর্কে যা লেখা :-
" আমার জন্ম কবে? হয়তো বিগ ব্যাংয়েরও আগে। পাথর, প্যাপিরাস ও ভুর্জ্জপত্রে কোন শিক্ষক আমাকে প্রথম বর্ণমালা লিখতে শিখিয়েছেন? আলেক্সান্দ্রিয়া আর তক্ষশিলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা কেমন এখন? গ্রিক-হিন্দু-ফিনিশীয় তিলোত্তমা সভ্যতার রূঢ় আয়োজনে... পৃথিবীর পথে...আমরা প্রত্যেকেই সহস্র বছর ধরে প্রব্রজ্যারত। রেশমপথে উটের ক্যারাভানে করে বণিক গিল্ডের সাথে আজো ছুটে চলেছি কি আমরা? "