গুডরিডসে বইটার রেটিং খুব বেশি না, অন্তঃত জাফর ইকবাল স্যারের অন্যান্য লেখাগুলোর তুলনায়। এর একটা মানে হতে পারে বইটা বেশিরভাগ পাঠকেরই ভালো লাগেনি খুব একটা। তারপরেও আমার খুব বেশি ভাল লাগার বই এটা। আমি তপু, আমার বন্ধু রাশেদ বা ক্রোমিয়াম অরণ্যকে অনেকেই উনার সেরা লেখা বলেন। ওগুলো ভালো সন্দেহ নেই, কিন্তু আমার মনে হয় এটাই উনার সেরা লেখা। কেন জানিনা। ভালো লাগার জন্য সম্ভবত কারণ লাগে না। আর লাগলেও সেটা অনুভবের ব্যাপার, ভাষায় প্রকাশ করার ব্যাপার না।
বইটা যখন পড়ি তখন আমি ক্লাস নাইনের শেষদিকে অথবা টেনের শুরুর দিকে। জাফর ইকবাল বা হুমায়ুন আহমেদ- দুটোর একটা নাম বইয়ের কভারে পেলেই গোগ্রাসে গিলছি তখন। সেসময় এই বইটা হাতে পেলাম। জাফর ইকবাল স্যারের অন্যান্য বইয়ের চেয়ে আলাদা, বাচ্চাদের জন্যও না, সাইন্স ফিকশনও না। একেবারে বড়দের উপন্যাস।
পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রটার প্রতি তখন একটু একটু করে ঘৃণা জমছে আমার, আর তখনই এটা পেলাম। পড়লাম। জামালের সাথে কোথায় যেন একটা মিল খুঁজে পেলাম। জাফর ইকবাল স্যারের বাবাকে যুদ্ধে হারানোর কথা জানতাম, কিছুদিন আগে রঙিন চশমা বইতে এ নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতাও পড়েছিলাম।
গল্পের শেষে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মূল চরিত্র (স্মৃতি প্রতারণা করছে, নামটা মনে আসছে না কিছুতেই) আবিষ্কার করে বাংলাদেশের মানুষ সেখানে কুকুরের চেয়ে দামি কিছু না। মনে হল, জাফর ইকবাল স্যার তাঁর প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই লিখেছেন এ কথা। মনে হয়েছিল এক কিশোরের, কোনো যুক্তির উপর নির্ভর করে না। তাই ভুল হতেই পারে।
বইটা শেষ করে খুলে বসেছিলাম কিছুক্ষণ। জামালের মৃত্যু আর বাংলাদেশিদের দাম- জিনিসদুটো মানতে পারছিলাম না। আবার না মানার কোনো কারণও দেখছিলাম না। পাতা উল্টে আবার পড়ছিলাম, যদি লেখা পাই জামাল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়নি, যদি পাই বাংলাদেশিদের দাম কুকুরের চেয়ে কম না, মানুষের সমান।
জাফর ইকবাল স্যার ইদানীং প্রতি বইমেলাতে যেসব বই বের করছেন, সেগুলো খুলেও দেখার ইচ্ছে হয় না। সমালোচনা করছি না, উনার সমালোচনা করার যোগ্যতা বা দুঃসাহস কোনোটাই আমার নেই, কিন্তু উনার ভক্ত হিসেবে বলছি, এরকম দশটা-বিশটা লেখার জায়গায় আরেকটা "বিবর্ণ তুষার" পেলে অনেক বেশি খুশি হতাম আমি।