Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
এই বই পড়ার পর আমার ইচ্ছা করছে স্যারের বাকি ২২১ টা বই আবার পড়া শুরু করি। এই মানুষটা যেকোন কিছু লিখতে পারেন! আর সেসব লেখা বেশিরভাগই নতুন কোন অনুভূতিতে টোকা দিবেই। তিনি যে আসলে কোন জনরায় সবচেয়ে ভালো লিখেন, তা নিয়ে আমি এই বই পড়ার পর চিন্তায় পড়ে গিয়েছি।
মুক্তিযুদ্ধ যে ফেলনা কিছু না বা শুধু একটা ঘটনা ছিল না, একে যে প্রাণপনে ভালোবেসে জীবনের একটা অংশে পরিণত করা যায়, তা অন্তত আমি ওনার লেখা পড়ে বড় না হলে অণুধাবন করতে পারতাম না। জাতীয় সংগীত শুনে চোখে পানি চলে আসার মতো বিষয়টা স্যারের কলমের ছোঁয়ায় নিছক এক আবেগ থেকে গভীর এক বোধে পরিণত হয়। যার লেখা পড়লে হতাশা আস্তে আস্তে কেটে যায়, তিনি ‘আকাশ বাড়িয়ে দাও’ তে কি কালচে সব চরিত্র নির্মাণ করেছেন! উপন্যাসটির সুরও খুব গুমোট, এ ঠিক পরিচিত জাফর ইকবালের লেখা নয়।
মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধফেরত যুবকদের এই বখে যাওয়ার গল্প পড়ে রীতিমতো ভয় লাগে। কিন্তু, ছোট উপন্যাসটা যতো এগোয়, ততো আমরা বুঝতে পারি যে তারা রক্ত মাংসের মানুষ হয়েও কি অসাধারণ এক সময়ের অংশ হয়ে নির্দ্বিধায় নিজেদের বুক পেতে দিয়েছিলেন। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানুষগুলো যুদ্ধের পরের জীবনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না, চটজলদি সব ঠিক হয়ে না যাবার কারনে জন্মানো হতাশা তাদেরকে খুব নোংরা পথে নিয়ে যায়। আর মুহম্মদ জাফর ইকবাল খুব অবলীলায় ভণিতা ছাড়া তাদের সেই নষ্ট হয়ে যাওয়া জীবনটাকে আমাদের সামনে নিয়ে আসেন। এরপরও এদের জন্য আমাদের কষ্ট হয়, তাদের অধপতনে আমাদের মধ্যে কোন ঘৃণা তৈরি হয় না, আর এখানেই লেখকের কৃতিত্ব।
আমার মনে হয় তিনি যদি এমন হতাশামেশানো লেখা আরো লিখতেন, লেখক হিসেবে বেশ বাহবা পেতেন। ভাগ্যিস এমন হয় নি! ভাগ্যিস, তিনি সবচেয়ে কঠিন কাজ, বাচ্চাদের জন্য লেখাকেই নিজের প্রধান জনরা বানিয়ে জীবন কাটিয়ে দিলেন। ভাগ্যিস, তার পরবর্তী লেখাগুলোয় আশাজাগানিয়া পরিণতি দেখে দেখে আমরাও হাজার সমস্যার মধ্যেও আশা না হারানো শিখেছি। আমরা আসলে বুঝিও না যে আমরা কতো লাকী, কারন, এখনো স্যার লিখে যাচ্ছেন। একটু আগে এক বন্ধু ঠিক কথাই বলেছে, স্যারকে আমরা আসলে ডিজার্ভ করি না!
এই বই না পড়লে বোঝা অসম্ভব, লেখক হিসেবে জাফর ইকবালের সম্ভাবনা কতখানি। বা হতে পারে আমিই ভুল। এই বই নিতান্তই এক দূর্ঘটনা! কিন্তু আহা, কী অপূর্ব এক দূর্ঘটনা!
মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির জন্য ছিল একটা বিভীষিকা। এদেশের দামাল ছেলেরা একদিন এই বিভীষিকা কাটিয়ে ফুটিয়ে ছিল আলোর ফুল। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী মানুষের কি অবস্থা হয়েছিল!
"আকাশ বাড়িয়ে দাও" যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা নিয়ে লেখা ছোট্ট একটা উপন্যাস। যেখানে আছে আমিন,জেসমিন বাবুল, ইউসুফ, নজরুলের মত ছেলেরা। তবে উপন্যাসের মূল গল্প এগিয়ে যায় আমিনকে নিয়ে,যে ছিল একজন যোদ্ধা। যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতির সাথে নিজেকে কোন রকম সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিল না। এরমধ্যে সে শুনতে পায় আরেকটা ভয়াবহ খবর। যা তাকে আরো উদাসীন করে তুলে, কিন্তু এই উদাসীনতা বেশি দিন স্থায়ী হতে পারে নি। তার মধ্যে তার জীবনে আসে জেসমিন নামের একজন সুন্দরী রমনী!
আমার কথা: বই পড়া শুরু করেছি অব্দি যে কটা বই পড়ে,ভিতরটা নাড়া খেয়েছি;সে তালিকায় অনেক গুলো বইয়ের লেখক জাফর ইকবাল। আমার খুব প্রিয় লেখকদের একজন । এতদিন স্যারের যত বই পড়েছি সব কয়টা ছিল শিশুতোষ উপন্যাস।
এই প্রথম উনার লেখা বড়দের উপন্যাস পড়লাম। চমৎকার একটা উপন্যাস। একটা উপন্যাসে কতগুলো বিষয় এসেছে, যুদ্ধের বিভীষিকা, যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা, ক্যাম্পাস সন্ত্রাস, প্রেম।
উপন্যাস টা ভীষণ ভালো। তাও বিশেষ ভাবে দুইটা দিক আমার বেশি ভালো লেগেছে,সেটা হচ্ছে যুদ্ধে মিলিটারিদের অত্যাচারের বর্ননা এবং আমিনের ঘুরতে যাওয়ার বর্ননা। অসাধারণ। পড়ে মনে হবে যেন চোখের সামনে পুরো বিষয়টা ঘটছে।
উনি চাইলে বড়দের আরো উপন্যাস লিখতে পারতেন এবং পারেন।
মাঝপথে পড়া থামিয়ে কয়েকবার মলাট দেখলাম, লেখকের নাম কি আসলেই ঠিক আছে নাকি কোথাও গলদ আছে! কৈশোরে মু.জা.ই এর সায়েন্স ফিকশনের বাইরে কিছুই পড়া হয় নি৷ এদ্দিন পরে এসে ভাবতেসি এমন মুগ্ধকর সুপক্ক লেখাও একই কলম ফুঁড়ে বেরিয়েছে — আহা!
এটা জাফর ইকবাল স্যার এর লেখা বই বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে! কারণ এটা বাচ্চাদের জন্য লেখা জাফর ইকবালের লেখা না, এটা সম্পূর্ণই ভিন্ন জাফর ইকবাল। নাদিয়া আপু ঠিকই বলেছেন, স্যার এই জনরাতে লিখলেই বেশি বাহবা পেতেন।
কিন্তু বাচ্চাদের জন্য লেখা জাফর ইকবালও আমার অনেক পছন্দের। এটা পড়ে যেমন জীবনের হতাশাগ্রস্থ মানুষের দেখা পাওয়া যায়, তেমনি অন্য বইগুলো পড়েও অসম্ভব সুন্দর পৃথিবীর সুন্দর সব মানুষের দেখা পাওয়া যায়। ওইসব পড়ে আমার মতো পেসিমিস্টও অপটিমিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখে।
কত সম্ভাবনাময় একজন লেখক! হুট করেই পাঠক কে নাড়া দিয়ে ফেলা লেখক!এই বইটা পড়লেই বোঝা যায় শুধু শিশু সাহিত্য মনোনিবেশ না করলে আমরা কত শক্তিশালী একজন লেখক পেতাম। যুদ্ধ পরবর্তী পাচ বছর নিয়ে নতুন প্রজন্মের যে ধোয়াশা রয়েছে সেই প্রেক্ষাপটে লেখা গল্প।
জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন আর কিশোর উপন্যাসের বাইরে অল্প যা কিছু পড়া হয়েছে তার মধ্যে 'আকাশ বাড়িয়ে দাও' অন্যতম। খুব ভালো লাগলো। সো ফার আমার পড়া জাফর ইকবালের সবচেয়ে পরিণত লেখা এটাই মনে হলো।
যতখানি আশা নিয়ে পড়েছিলাম ততটা ভালো লাগেনি। কাহিনী খাপছাড়া লেগেছে। শুরুটা সত্যি খুব ভালো ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যুদ্ধফেরত তরুণেরা যে একটা অনিশ্চিত সময় পার করছিল আমি সেটা খুব একটা হাইলাইট হতে দেখিনি। আমার পড়াশুনা বেশি না। তাই হয়ত দেখিনি। সেই জায়গা থেকে বাবুলের পরিবর্তন, আমিনের নিঃসঙ্গতা খুব রিলেটেবল ছিল। কিন্তু এরপর সব কেমন খাপছাড়া হয়ে গেল। টিপুকে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। কিন্তু এই ক্যারেক্টারটা সর্বসাকুল্যে এক পাতাও পায়নি। শেষটা এরকম না হয়ে অন্য রকম হতে পারত না। কিন্তু মাঝে যে একটা এলোমেলো ভাব সেটার জন্য গল্পটা আমার কাছে পূর্ণতা পায়নি। প্রথমের ভালো লাগাটুকুর জন্য তিন তারা।
"আকাশ বাড়িয়ে দাও" বইটা ব্যতিক্রম, কারণ এই বইয়ে স্বাধীনতার ঠিক পরবর্তী সময়ে তরুনদের মানসিক অবস্থার গল্প বলা হয়েছে। যারা PTSD সম্পর্কে জানেন, বইয়ের চরিত্রগুলোর মধ্যে তার লক্ষণ দেখবেন।
PTSD বা Post Traumatic Stress Disorder বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া যেকোনো দেশের গোটা প্রজন্মের PTSD হওয়ার কথা।
আমিন, নজরুল, বাবুল — এর মধ্যে আমরা PTSD এর লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। এ কারণে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও যুদ্ধোত্তর সময়ে ছিনতাই, হাইজ্যাক এর মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, পড়ালেখায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলে।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের পড়া আমার সবচে প্রিয় বই 'আমি তপু'। দ্বিতীয় প্রিয় বই হিসেবে 'আকাশ বাড়িয়ে দাও' স্থান পেল। আমার জানা মতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত সাহিত্য কর্ম হয়েছে তাতে PTSD প্রসঙ্গ তথা মানসিক স্বাস্থ্য প্রসঙ্গ প্রায় উহ্য। অনন্য এই বইয়ের জন্য লেখককে কুর্নিশ।
কিছুদিন পর আবার মুহম্মদ জাফর ইকবালের না পড়া কোনো বইয়ের পাতায় রাত জাগব।
আহ! কি অপুর্ব একটা উপন্যাস। কিছু কিছু উপন্যাস জীবনবোধকে হঠাত প্রবল ভাবে নাড়া দিয়ে যায়। এই উপন্যাসটি সেরকম। অথচ, লেখকের উপন্যাস সমগ্র বইয়ের ভূমিকায় এই উপন্যাসটি সম্পর্কে লেখা-- "... সংকলনের প্রথম উপন্যাস 'আকাশ বাড়িয়ে দাও' লেখা হয়েছে আজ থেকে ত্রিশ বৎসরেরও আগে-- আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অল্প বয়সের কাঁচা আবেগ উপন্যাসটিতে খুব স্পষ্টভাবে উপস্থিত..."। হয়তো লেখক যেই বয়সে উপন্যাসটি লিখেছিলেন, তার সাথে আমার আবেগের একটা এলাইনমেন্ট ঘটে গেছে। শেষটা ছিল হাহাকারের মত, যা উপন্যাস শেষ করার পরেও অনেকটা সময় মস্তিষ্কে আলোড়িত হতে থাকবে।
বইটা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা।মুক্তিযুদ্ধ থেকে এসে এক অন্য মানুষ হয়ে যাওয়া, পরিচিতজনদের পরিবর্তন, একজন নিঃসঙ্গ যুবকের হাহাকার, বেঁচে থাকার আকুলতা প্রভৃতি লক্ষ্য করা যায় বইটিতে।একদম মন ছুয়ে যাবার মতো।
জাফর ইকবাল স্যার মূলত কিশোর উপন্যাসের জন্য জনপ্রিয়।তবে এটি তার ভিন্নধারার লেখা।এই ধারার উপন্যাস তিনি আরো লিখেছেন কিনা জানা নেই।সবমিলেয়ে ভালোই ছিলো।
মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে বেশিদিন হয়নি।আমিন,একজন গেরিলা যোদ্ধা এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটির ছাত্র।মুক্তিযুদ্ধ মানে এমন ছিলোনা যে যুদ্ধ করলাম আর জিতে গেলাম।যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা প্রিয়জনের মৃত্যু,নৃশংসতা - এসবই একটা মানুষের মানসিক অবস্থাকে পরিবর্তিত করে দেয়ার পক্ষে যথেষ্ট।মনে রাখতে হবে যে যুদ্ধের একটা বড় অংশ ছিলো আমিনদের মতো তরুণেরা।তরুণ বয়সে এমনিতেই একটা ড্যামকেয়ার ভাব থাকে আর সেই তরুণেরা যদি ওই বয়সেই আস্ত একটা যুদ্ধ জিতে আসে তাহলে তাদের মানসিক অবস্থাটা কিরকম হবে সহজেই অনুমেয়।তার উপর সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশ।যে যেভাবে পারছে লুটে খাচ্ছে।উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলা তখন অসম্ভব ছিলো না।এইযে মানসিক অবস্থার দ্বন্দ্ব,কোনদিকে যাবো কিংবা কি করলে কি হবে...এই দ্বন্ধটুকু লেখক বাবুল আর আমিনের মধ্যে দিয়ে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।বইয়ের সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ ছিলো এটাই।
গল্পটা মূলত গেরিলা যোদ্ধা আমিনের।তার মানসিক পরিবর্তনের।নিজের সাথে লড়াইয়ের।তার বোহেমিয়ান জীবনে হুট করে চলে আসা চরম সত্য।সব মিলিয়ে দারুণ উপভোগ্য বই 'আকাশ বাড়িয়ে দাও'!আমিন যখন বাংলাদেশ এক্সপ্লোর করতে বের হয় তখনকার সমুদ্র,পাহাড়,সাঙ্গু নদীর দারুণ বর্ণনা পড়ে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।অনেকটা সুনীলের 'অরণ্যের দিনরাত্রি'র কথা মনে পড়ে যায় যেন।বইটিতে চরিত্র সংখ্যা খুব অল্প।বাবুল এবং টিপু আরেকটু ডিটেইলিং পেতে পারতো।আমিনের চরিত্রটিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত।তাছাড়া যথেষ্ট মেদহীন বই।ওয়ান অফ দ্য বেস্ট ফ্রম মুহম্মদ জাফর ইকবাল!
মুহম্মদ জাফর ইকবাল সাধারণত শিশু-কিশোরদের জন্যে বই লিখার জন্যই প্রসিদ্ধ।আমার মতে পৃথিবীতে সবচেয়ে অসাধারণ এবং একই সাথে কঠিন কাজ হচ্ছে শিশু-কিশোরদের মুখে লিখার মাধ্যমে হাসি ফুটিয়ে তোলা।মুহম্মদ জাফর ইকবাল সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।কিন্তু যখন 'আকাশ বাড়িয়ে দাও' টাইপ বই পড়ি তখন আফসোস লাগে কেন উনি আর এরকম উপন্যাস লেখেন না!এতো অসাধারণ কাহিনী আর তার অসাধারণ বর্ণনা...আফসোস বাড়ে শুধু।
I held off writing a review because I don't think my feeble words would do justice to this book. This is one of the best Zafar Iqbal works I've read (and I've read almost all). Since it's one of his earlier books written in 1987, the style is very different from what we're used to. The premise is set less than two years after the liberation war. The plot goes on to show the depressing reality of the young fighters who survived and their desperate attempt at grasping at a life that hasn't been scarred with the atrocities of war. The war memories, the torture, the scenic beauty of the country, the protagonist's struggles are vividly descriptive and beautifully penned. What an underrated, hauntingly beautiful and heartbreaking read!
স্যারের বই পড়ি না বেশ কয়েক বছর হয়ে গেলো। শৈশব-কৈশোরের মাঝামাঝি একটা সময়ে ওনার লেখা প্রায় ১৫০টা বই পড়েছিলাম, একটু বড় হয়ে যাওয়ার পর অন্য লেখকদের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় ওনার বই আর পড়া হয় নি। কিশোর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন বাদে অন্য বইগুলো যেগুলো তিনি লিখেছেন সেসবের প্রায় কিছুই আমি পড়ি নি। আকাশ বাড়িয়ে দাও সেরকমই একটা উপন্যাস। এতদিন পর স্যারের সেই চিরচেনা লেখার ধরণের সাথে আবার যখন পরিচয় হলো তখন স্কুল জীবনের স্মৃতিগুলো আকস্মিকভাবে নাড়া দিয়েছিলো। স্কুল জীবনের একটা বড় অংশ জুড়েই ছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
আকাশ বাড়িয়ে দাও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি ঢাকাকে নিয়ে লেখা। যুদ্ধকালীন তিক্ততা এবং পরবর্তি সময়ের হতাশা মারাত্মকভাবে আঘাত করেছিলো অনেককে। বাবলু সেরকমই একজন। বিধ্বস্ত একটা সময় পার করে, একসময়কার স্বাধীন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন মদের বোতলে গুলিয়ে গিলে খাচ্ছিলো সে। আগে ছটফট করেছিলো দেশ স্বাধীন করতে আর তখন ছটফট করছিলো সেই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যে। দেশের কথা মনে পড়লেই যেন মুখের ভেতর একদলা থুথু জমে যায়। নামমাত্র সঙ্গীদের ভীড়ে ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া আমিনের সাথেই তার ছিলো অন্তরঙ্গতা। আর কেউ না বুঝুক আমিন বুঝতে পারতো বাবলুকে। বন্ধুমহলের পাল্লায় পড়ে এককালের মুক্তিযোদ্ধা পা দিয়েছে অপরাধ জগতে, সেটা ভাবতেই আমিনের প্রচন্ড দুঃখ এবং ভয় কাজ করতো। এই অসমবয়সী বন্ধুত্বের গভীরতা অতুলনীয়। হিংস্রতা তো সে নিজেও কম দেখেনি, যেন এক অলৌকিক বলে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছে সে। কোনো মানে আছে এই বেঁচে ফেরার? শেষের দিকে শুরু হয় একটি প্রণয়ের গল্পের। কারণবশত কাউকে জীবনে জড়ানোর ইচ্ছে না থাকলেও জেসমিন এসে পড়ে তার জীবনে। কতদূর গড়ায় এই প্রণয়?
আমার কাছে মনে হয়েছে একেবারে জীবন থেকে নেয়া একটা ঘটনার ওপর ভিত্তি করে বইটা লেখা হয়েছে। বাস্তবতা, সংগ্রাম, বেঁচে থাকা সবকিছু সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কারো না কারো জীবনে হয়তো এমনটা ঘটেছে। শেষে বারবার মনে হচ্ছিলো আমিন কেন আত্মহত্যা করলো! হয়তো আমি তার জায়গায় থাকলে বলতে পারতাম কেন আত্মহত্যা করেছিলো। আবার হয়তো আমি আত্মহত্যার চিন্তাই করতাম না। কি জানি! সবাই তো আর সবকিছু সহ্য করতে পারেনা! ☺
বইঃ আকাশ বাড়িয়ে দাও লেখকঃ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল প্রকাশনীঃ জ্ঞানকোষ ধরনঃ সমকালীন উপন্যাস পেজঃ পয়ষট্টি
"আকাশ বাড়িয়ে দাও উপন্যাস" আজকের লেখা না। আমারই পড়তে দেরী হলো। এ উপন্যাস সম্পর্কে লেখক বলেছেন- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে আজ থেকে ত্রিশ বছরেরও আগে যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অল্প বয়সের কাঁচা আবেগ উপন্যাসটিতে খুব স্পষ্টভাবে উপস্থিত।
একটা উপন্যাসে আপনারা কি কি আশা করেন? মুক্তিযুদ্ধত্তোর, মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের বর্ননা, প্রেমকাহিনী, বিরহ। ঠিক এ রকম সব কাহিনী পাবেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল রচিত "আকাশ বাড়িয়ে দাও" উপন্যাসে।
গল্পের শুরুটা যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অসম বয়সী দুই বন্ধু আমিন আর বাবলুকে নিয়ে। যুদ্ধবিধস্ত দেশের ফেলানো নির্মম অতীত আর অনিশ্চিত হতাশা গ্রাস করে দুজনকেই। দেশ স্বাধীন হবার পর বাবলু চান্স পায় আলবামাতে পড়াশোনার জন্য। তখন যায় নি সে। বুকের ভিতর একটা দেশপ্রেম ছিল তখন। দেশ স্বাধীন হবার পর এটা করবো, ওটা করবো, দেশ গড়বো। হায়রে দেশ প্রেম। হ্যাক! থু। দু বছর ও হয় নি দেশটা পঁচে শেষ হয়ে গেল। যুদ্ধপরবর্তী দেশের প্রতি এ বিতৃষ্ণা বাবলুকে ঠেলে অনিশ্চিত ভবিষৎতের দিকে। সে জড়িয়ে পড়ে ঘোরতর অপরাধের জগৎ এ। শেষ পর্যন্ত বাবলুর পরিনতি হয় ভয়াভয়। তখন আমিনের মনে হয় আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা চিৎকার দিয়ে সাদা পৃথিবীকে ভেঙে চুরে খান খান করে দিক। কিন্তু কি সেই পরিনতি??
বাবলুর করুন পরিণতির পর আমিন নিদারুন হতাশায় নিম্মজিত হয়। সে তখন তার হতাশা দুর করতে ফিরে যায় মুক্তিযুদ্ধত্তোর অতীত জীবনে। মুক্তিযুদ্ধের কয়টা মাসের নিদারুন অভিজ্ঞতা তাকে তৈরী করে খাঁটি মানুষে। যুদ্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয পড়ুয়া সহপাঠি মিলে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে মিলিটারিদের হাতে। রঞ্জু, কামাল, বকুল আর আমিন মিলিটারিদের হাতে কি নিদারুন অত্যাচার সহ্য করেছে তা বইটা পড়লে বুঝতে পারবেন। অত্যাচার সহ্য করতে করতে এক সময় তাদের মৃত্যুর সময় চলে আসে। কিন্তু রঞ্জু, কামাল, বকুল মারা গেলেও আমিন বেঁচে ফিরে আসে। কিন্তু কিভাবে?
এর পর আমিনের জীবনের কিছু সাংঘাতিক ঘটনায় উপন্যাসের কাহিনী অন্যদিকে মোড় নেয়। তীব্র গতিতে ছুটে চলা কাহিনীতে হঠাৎ করে নায়িকা জেসমিনের আগমন ঘটে। উচ্ছন্নে যাওয়া বন্ধুদের হাত থেকে ভাললাগার মানুষ জেসমিনকে বাঁচাতে সে কিনা প্রেমিক হয়ে যায়। মাত্র গোটা কতক পাতার লাভস্টোরী হলেও লেখকের সহজ সরল আর সাবলীল লেখায় মাঝে মাঝে বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে ওঠে। একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে সাধারন চরিত্র থেকে এক রহস্যময় চরিত্র হয়ে ওঠে টিপু। শেষ পর্যন্ত আমিন আর জেসমিনের কি পরিসমাাপ্তি হবে। পরিসমাপ্তি সুখের না দুঃখের হবে তা জানতে হলে অবশ্যই বইয়ের শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।।
ব্যাক্তিগত মতামতঃ অসাধারন একটা বই পড়তে এতো দেরী হলো বলে মন খারাপ। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা পরিনত বই। কিছু উপন্যাস আছে জীবনবোধকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়ে যায়। এ উপন্যাসটা তেমনই। পড়তে শুরু করে মনে হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো বই। কিন্তু বইটা শেষ করে বুঝেছি এ উপন্যাসে সব কিছু আছে, মুক্তিযুদ্ধত্তোর, যুদ্ধপরবর্তী সময়, ভ্রমন, প্রেম, বিরহ।
বাস্তবতা, সংগ্রাম, বেঁচে থাকা সবকিছু সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পয়ষট্টি পাতার বই। অল্প অবসরে পড়ার জন্য একটা সুন্দর গুডরিড।
আমার কোথাও বড় রকমের সমস্যা আছে। যেসব বইয়ের অসাধারণ অসাধারণ সব রিভিউয়ে গ্রুপগুলো মুখরিত থাকে সেসব বই পড়লে মনে হয় এটা কি পড়লাম! হ্যা এটা প্রায়ই হয়। আবার আমি যখন কোন বইয়ের ভালো রিভিউ দিই কেউ বলে ওঠে এই প্রথম এই বইয়ের পজিটিভ রিভিউ পেলাম! শুধু যে বইয়ের ক্ষেত্রে এমন হয় তা না। আমি এমন সব বিষয়ে মাথা ঘামাই যেগুলো অনেকের কাছে রীতিমত অর্থহীন। আবার বেশিরভাগ হয়ত যেসব নিয়ে ভাবে আমি সেসবে আগ্রহই পাই না।
.
যাই হোক মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই।আমি পড়তে শুরু করে ভেবেছিলাম এটা হয়ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন বই। কিছুদূর পড়ার পর বুঝলাম না এটা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া উদ্ধত, বোহেমিয়ান ছেলে আমিনের গল্প। উচ্ছন্নে যাওয়া বন্ধুদের হাত থেকে ভালোলাগার মানুষকে বাচাতে গিয়ে যে কিনা পাকচক্রে প্রেমিক হয়ে যায়। গল্পে আমিন আর জেসমিনের প্রেম কেমন যেন খাপছাড়া।
.
জাফর ইকবাল স্যারের গতানুগতিক লেখার স্টাইলের বা প্লটের বাইরের গল্প। রোমান্টিক লেখা বেশি পছন্দ না বলেই হয়ত ভালো লাগে নি। এটাকে ঠিক রোমান্টিক উপন্যাস বলাও যায় না। পড়তে বেশি সময় লাগবে না।
ছোটবেলায় উনার বই পড়ে মুগ্ধ হতাম। একসময় শব্দচয়ন, একই ধরনের সংলাপ, পরিনতি পড়তে পড়তে একঘেয়ে লাগা শুরু হল, তারপর বিরক্তি। এই বই পড়ে আবার মুগ্ধ হলাম। ছোটদের জন্য বেশি লিখতে গিয়েই হয়ত তিনি প্রতিভার অপচয় করেছেন।
অনেক আগে লেখা আর অনেক ছেলেমানুষী লেখা বললেও এই বইগুলো আমার ভীষণ প্রিয়। যদিও খুশী খুশী বই না, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের গল্প হিসেবে এগুলো এক একটা দলিল। আমি এই জাফর ইকবালকে বড় মিস করি। :(
১০ বছর আগে কোনো এক পাঠ্যবই কিনতে বইয়ের দোকানে যাওয়া হয়েছিলো। দোকানের গল্পের বইয়ের কর্ণারে একপাশে অবহেলায় পড়েছিলো এই বইটি। ৫০/৬০ টাকা নিয়েছিলো। কোনো দিন না শোনা,সস্তা দামের জাফর ইকবালের এই বই পড়ার যে অনুভূতি তা অবর্ণনীয়। সেই জাফর ইকবালকে আর কখনো খুঁজে পাইনি। ভীষণ অন্যরকম, ভীষণ ভালো লাগার বই।
জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস আর সায়েন্স ফিকশন অনেক পড়েছি। কিন্তু, এমন বই? নাহ, এটাই প্রথম! মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের কাহিনী এটি। এটা ওনার সবচে' ভালো একটা বই আমার মতে।
মুহাম্মদ জাফর ইকবালের এই একটা নভেলা তার অন্যান্য সকল লেখার থেকে মাইলস অ্যাহেড মনে হয়েছে আমার। তার রেগুলার হাল্কা গদ্যের জায়গায় অত্যন্ত ম্যাচিউরড ভাবে একাত্তর পরবর্তী সদ্য স্বাধীন দেশের হতোদ্যম তারুণ্যের ছবি এঁকেছেন; এভাবে আরও কিছু লিখলে তাঁর বিবলিওগ্রাফিটাই অন্যরকম হতো।
"আকাশ বাড়িয়ে দাও" একটা হতাশার গল্প, না পাওয়ার গল্প। ফেইল্ড, আনফুলফিলড প্রমিসের গল্প। পড়ে খালি মনে হয়, টিপু কি বলতে চেয়েছিল আমিনকে, টিপু আর জেসমিন কি কোনও মেডিসিন খুঁজে পেয়েছিল আমিনের জন্যে, একজন দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধার কি একটা হ্যাপি এন্ডিং পাবার অধিকার ছিলো না?
কতগুলো বই থাকে না,পড়ার পর একটা নামহীন অনুভূতি হয়,আকাশ বাড়িয়ে দাও বইটাও সেরকম।
উপন্যাসটিতে লেখক মূলত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক যুবক আমিন এর জীবন নাট্যের কাহিনী তুলে ধরেছেন।মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ের চিত্র ফুটে উঠেছে বইটিতে।আমিন যুদ্ধের সময় জীবনের কঠিন সত্যগুলো প্রত্যক্ষ করেছে।কিন্তু যুদ্ধের পর তার জীবনের কোনো অংশই কম বেদনাদায়ক ছিল না। একসময় আমিন তার ক্ষুদ্র জীবন উপভোগ করতে বেড়িয়ে পরে প্রকৃতি দর্শনে।এই পর্বে লেখকের প্রকৃতির রূপ বর্ণনা দেখে মনে হতে পারে,ইশ,আমিও যদি এখানে একটু একাকিত্ব উপভোগ করতে পারতাম!আমিও যদি পারতাম,বিশাল আকাশকে ছাদ বানিয়ে নির্জনতা জাপন করতে! শেষের দিকে আমিনের জীবনে আসে জেসমিনের ভালোবাসা।কিন্তু একটা অদ্ভুত ব্যাধি যে জাকিয়ে ধরেছে তাকে।যার কারণে যে তার জীবনটা অতি ক্ষুদ্র!এই ক্ষুদ্র জীবনের সঙী হিসেবে আমিন কি জেসমিন কে গ্রহণ করবে?পুর্ণতা পাবে কি তাদের ভালোবাসা?