ফ্ল্যাপে লিখা কথা তার নাম কুটু মিয়া। বয়স চল্লিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে। সে বাবুর্চি কাজ জানে। বাংলা , ইংলিশ, থাই, মোগলাই সব ধরনের রান্না পারে। পাইলট স্যার তাকে একটা সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এই সার্টিফিকেট নিয়ে সে কাজ করতে এসেছে আলাউদ্দিন সাহেবের বাড়িতে। আলাউদ্দিন সাহেবের কুটু মিয়াকে পছন্দ হলো না। তাঁর নাম হলো কোথাও কোনো সমস্যা আছে। সমস্যা তিনি ধরতে পারছেন না। ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি ধরতে পারছেন না। তাঁর জীবনের বদলে যেতে শুরু করে। এক সময় দেখা গেল তিনি কুটু মিয়কে সঙ্গে নিয়ে গুনগুন করে গান গাইছেন- যমুনার জল দেখতে কালো স্নান করিতে লাগে ভালো যৌবন ভাসিয়া গেছে জলে।। ‘কুটু মিয়া’ ভয়ঙ্কর অন্ধকার এক ভু্বনের গল্প। চেতনার অতল গহ্বরে জন্মানো আতঙ্কের গল্প। যে আতঙ্ক আমরা গোপনে লালন করি কিন্তু এখনো তার মুখোমুখি হই না।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
Dark, demented. I wish they had English translations of this book so people who can't read Bangla could have enjoyed it. Undoubtedly one of the best horror thrillers I have ever read.
হুমায়ূন আহমেদের এক বইয়ের মধ্যে অন্য কোনো বইয়ের সূত্র ছেড়ে যাওয়াটা নতুন কিছু না। তবে সম্প্রতি রাস্তায় বসে বসে ‘কুটু মিয়া’ আবারও পড়তে গিয়ে বেশ কয়েকটা নতুন জিনিস চোখে পড়লো। ‘কুটু মিয়া’উপন্যাসটা দাঁড়িয়েই আছে বাইবেলের সেভেন ডেডলি সিনসের উপরে। অন্তত Sloth (আলস্য) আর Gluttony (অতিভোজন) এই দুটো রিপুই মোটাদাগে চোখে পড়ে। আলাউদ্দীনের কোনোমতে দিন পার করা থেকে ক্রমশ ব্লাডি মেরির প্রতি তীব্রভাবে আসক্ত হওয়া,প্রতিবেলায় দুটো মুরগী খাওয়া যেমন Gluttony এর পর্যায়ে পড়ে,তেমনি আলস্যভরে সারাদিন রাত বাথটাবে শুয়ে থাকা,লেখালিখি না করা,কুটু মিয়ার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়াটাকে আমরা Sloth এর লেন্সে দেখতে পারি। কুটু মিয়া তার নামের মতো Cutu থুক্কু আপাত নিরীহ গোবেচারা ধরনের ভাব ধরে থাকলেও সে ধীরে ধীরে আলাউদ্দিনকে এইসবে অভ্যস্ত করে ফেলে। Envy বা ঈর্ষা আলাউদ্দিন তার ফ্লাটমেট সাইফুদ্দিন সাহেবকে আগে থেকেই করতো,যদিও এটা সূক্ষ্মভাবে না দেখলে বোঝা যায় না। তবে কুটু মিয়ার আগের মাস্টার পাইলট সাহেবের উদ্দাম জীবনযাপনের প্রতি আলাউদ্দিনের মাঝে ঈর্ষা আর Greed বা Excessive Desire টা চোখে পড়ে। সে একে একে বাসায় টেলিভিশন কেনে। সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে। তারপর পরিস্থিতি এড়াতে আলাউদ্দিন যখন হামিদা বানুকে বিয়ে করে,সেখানে Lust কতটুকু আসে সেটা হুমায়ূন আহমেদ চড়াভাবে দেখান নি। তবে বাথটাবে শুয়ে কুটু মিয়ার মালিশ নিতে নিতে আলাউদ্দিন গায়,
‘যমুনার জল দেখতে কালো, স্নান করিতে লাগে ভালো, যৌবন ভাসিয়া গেল জলে। পানিতে নামিয়া কন্যা নাভি মাঞ্জন করে কন্যার নাভি দেখিয়া আমার দিল কুড়কুড় করে...’
এইখানে Lust স্পষ্টতই এসে যায়। আলাউদ্দিন ছাপোষা মানুষ হলেও তার বাবার সৎ জীবনযাপন,মুসলমান ঘরের সন্তান হবার গৌরব মাঝে মাঝেই আমরা দেখি যদিও তাকে ধর্মীয় অনুশাসন মানতে খুব একটা দেখা যায় না। তবে এই গৌরবই তাকে পৌঁছে দেয় আরেক রিপু Pride এর দোরগোড়ায়। আলাউদ্দিনের আলস্য আর অতি ভোজনে অভ্যস্ত জীবনটাকে নির্বিঘ্ন রাখতে কুটু মিয়া আমদানি করে কয়েকটা নেড়ি কুকুরের। তারা দিনের বেলা নেড়ি কুকুরের মতো থাকলেও রাতে হয়ে ওঠে বিকটদর্শন। হামিদা বানুর বাড়িতে থাকার সময় অন্য কারোর অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখতে এই কুকুরগুলো বাড়ি পাহারা দেয়। প্রথমে দারোয়ানকে,পরে হাজি সাহেবকেও কামড়ে দেয়। এই প্রবল নখ-দাঁতের আঁচড়ে-আস্ফালনে হুমায়ূন আহমেদ কাহিনীতে ঠুকে দেন আরেক ডেডলি সিন Wrath অর্থাৎ Anger & Violence এর শেষ পেরেক। কাহিনীর এক পর্যায়ে আমরা আলাউদ্দিনকে বাথটাবে শুয়ে শুয়ে উইলিয়াম গোল্ডিংয়ের ‘The Lord of Flies’ বইটা পড়তে দেখি। সেখানেও ঘুরেফিরে এই সেভেন ডেডলি সিনসের ক্লু আসে। যদিও ‘কুটু মিয়া’ উপন্যাসের অরিজিনাল আইডিয়া হুমায়ূন আহমেদ নিয়েছিলেন এডওয়ার্ড লুকাস হোয়াইটের বিখ্যাত হরর গল্প ‘লুকুণ্ডু’ থেকে, তারপরও তিনি এখানে নিজস্ব তরিকায় গল্পটাকে খোলনলচে পাল্টে দেন। সেখানে সারা শরীর জুড়ে ওঠা ফোসকার আতঙ্কময় বডি হররটাকে উপজীব্য করে তৈরি করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ডার্কেস্ট উইয়ার্ড ফিকশন, হররের অ্যাটমোস্ফিয়ার বানানোর একটা কেস স্টাডি। আসলে কুটু মিয়া কবরের আযাবকেই জীবিতদের মধ্যে সার্কুলেট করে। তাই কবরের আযাবের গ্রাফিক বর্ণনা, বাইবেলের সেভেন ডেডলি সিনস এইখানে মিলেমিশে একাকার।
বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ডার্ক বই। মৃত্যুর কৃষ্ণগহবর থেকে উঠে আসা কুটু মিয়ার চেয়ে অন্ধকারতম চরিত্র আর হতে পারে না। গ্র্যান্ডমাস্টার হুমায়ুন আহমেদের মাস্টারপিস।
অনেক দিন পর দারুন ভৌতিক আবহের সাথে সাইকোলোজিক্যাল মিশ্রিত চমৎকার উপন্যাস পড়লাম। আসলে হূমায়ুন আহমেদ মানেই সেরা কিছু ! প্রথম দিক থেকেই গল্প পড়তে দারুন লাগছিল, শেষের দিকটা পড়ে আসলেই ভয় পেয়েছি।
মিসির আলি সিরিজের কিছু উপন্যাস আছে যেগুলো উইয়ার্ড ফিকশন জনরার মধ্যে পড়েঃ অদ্ভুতুড়ে কাহিনী, যাবতীয় মানসিক আর "কসমিক" বিকৃতি, বাস্তব অবাস্তবের নির্মম ভ্রম এইসবকিছু হুমায়ূন আহমেদ তার স্বভাবজাত কৌতুকপূর্ণ গদ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং আমরা পাঠকরা সেইসব জাদুকরী লেখায় নিজেদের বোধ-বুদ্ধির উপর চালিয়েছি সুখের অত্যাচার, যেই অত্যাচারের অনুভূতির জন্য আমরা তাঁর লেখায় বারবার ফিরে যাই; কিন্তু আমার কাছে এই বইয়ের মতো "ডার্ক" আর কোন বইকে মনে হয়নি, এমনকি আমার "অল-টাইম-ফেভারিট" পারুল ও তিনটি কুকুর এর পাশেই এখন এই বই জায়গা করে নিয়েছে...
একটু আচমকাই শেষ হয়ে গিয়েছে কাহিনী, সেই ধাক্কাটার জনয়ই হয়ত এই "অপ্রীতিকর" বইটাকে আরও অনেকদিন মনে থাকবে...
আমি বইটাকে একদম বিশুদ্ধ "উইয়ার্ড" ফিকশন বলতে চাই, আর হ্যাঁ, যেহেতু উইয়ার্ড ফিকশন, সেজন্যে হরর উপাদান তো থাকবেই...
বিশুদ্ধ বলছি এই কারণে যে বইটা আসলেই খুব বেশী "উইয়ার্ড", এখনে মিসির আলির মতন কেউ যুক্তি দিয়ে আপনাকে বাঁচাতে আসবে না, এখানে স্বাভাবিক জীবন কাটাবে না কেউ, কারণ একজন আগন্তুকের আগমনে ব্যাখ্যার বিপরীত পৃষ্ঠায় এক অন্ধকার গহ্বরে গিয়ে পড়বে সবাই...
কিছু কিছু জায়গায় অকপট বর্ণ্নায় গা গুলিয়ে উঠেছে আমার, কিছু কিছু জায়গায় আমি লাইনগুলো দুবার পড়েছি আর ব্যাখ্যার জন্য মাথা আঁচড়িয়েছি, ওই জায়গাগুলোতে মনে হয়েছে এইটা কী আসলেই হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন?
উনি আরও লিখে গেলে আমি নিশ্চিত আরও ভালো আর পরিপক্ব কিছু লেখা পেতাম এই জনরার, আমার যদিও বেশ কিছু লেখা পড়ার বাকি এখনও, তারপরও বলছি, কারণ আমি নিজেই বুঝতে পারছি তিনি কীভাবে ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে উঠেছেন তার নিজের লেখাগুলোর মধ্য দিয়ে...
কুটু মিয়া চরিত্রটি আমার কাছে মাঝে মাঝে "The Blind Idiot God" এর মতন মনে হয়েছে- যে নিজেই জানে না কিছু তার অস্বাভাবিক অস্তিত্ব সম্পর্কে, তার প্রভাবে চারপাশের এই জীবন, আলো আর অন্ধকারে যেই পচন ধরে, তা সে নিজে অবগত নয়; আবার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে না, সে "The Faceless God" এর মতন, ঠিক উল্টো...
কাহিনী শেষ হয়েও হল না, কারণ এইসব পচন আর বিকৃতি আবার ফিরে আসবে, অন্য কোন জায়গায়, কুটু মিয়া যেখানেই যাবে;
এখন মনে হচ্ছে "কসমিক" হরর পড়লাম না তো? আর হ্যাঁ, ওই দুইটা রেফারেন্স অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত...
বই: কুটু মিয়া লেখক: হুমায়ূন আহমেদ জনরা: অতিপ্রাকৃত প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ প্রথম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০০১ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২ মুদ্রিত মূল্য: ২৮০/-
❝প্রথমে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী❞- কুটু মিয়ার দর্শন যত বিভৎস, গুনে ততই অবিশ্বাস্য।
রিটায়ার্ডের পর আলাউদ্দিন সাহেবের দিন কোনো রকমে কেটে যাচ্ছিল। বাবুর্চি হিসেবে কুটু মিয়াকে প্রথমে অপছন্দ হলেও তার সেবা ও অসম্ভব সুস্বাদু খাবার খেয়ে মজে যান। কুটুর কিছু বিষয় অস্বাভাবিক মনে হলেও নির্বিবাদী মানুষ বলে আর কিছু বলেন না। মাঝেমধ্যে রাতে অদ্ভুত ভয়ানক স্বপ্ন দেখে জেগে ওঠেন! আদোও কী স্বপ্ন?
অনেক বেশিই এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম। খুব একটা যে ভালো লেগেছে এমনও না আবার মন্দও বলা যায় না। কুটুর রান্নার যে প্রশংসা করা হয়েছে মনে হচ্ছিল একবার না খেলে হচ্ছেই না। ফোসকা, পোকা, স্বপ্নের বর্ণনা গা গুলানোর মতো। ভয় তেমন না লাগলেও কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। কুটুর অতীত ছাড়া প্রায় টুইস্টই মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবে কিছু জায়গায় ধোঁয়াশা আছে। সম্ভবত পাঠকের কল্পনার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুটু মিয়ার থেকেও আলাউদ্দিন সাহেবের চরিত্র আমার কাছে বেশি ইন্টারেস্টিং লেগেছে। ওনার কনশাস, সাব-কনশাস মাইন্ড জানে গন্ডগোল আছে তাও ইচ্ছে করে এড়িয়ে যাচ্ছেন বারবার! শুরুর তুলনায় শেষটা তেমন ভালো লাগে নাই। কুটুর ❝বেহেশতী খানা❞ ও ❝স্বর্গীয় সেবা❞ পেলে শেষ পরিণতিকে কি মন্দ বলা যায়?
বাংলার ডার্ক একটা চরিত্র এই কুটু মিয়া। অনেকের কাছে হতাশ হবার কারণ আছে বইটা পড়ে। তবে, এই চরিত্রটা আপনাকে ভাবাতে শুরু করবে একসময়। আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বর্তমানে লেখক আলাউদ্দিন সাহেবের বাসা থেকে যখন একের পর এক চাকর চলে যাচ্ছিল তখনই তার বাড়িতে প্রথম আসে কুটু মিয়া। নামটা যেমন তার অদ্ভূত, স্বভাব চরিত্র আর রান্নাও তার অদ্ভূত। শুরুতে আলাউদ্দিন সাহেব কুটু মিয়াকে রাখতে না চাইলেও প্রথমবার তার রান্না খেয়েই মুগ্ধ হয়ে যান তিনি। ফলে চাকরি পাকা হয় কুটুর।
কুটু মিয়ার জাদুকরী রান্না আলাউদ্দিন সাহেবকে মুগ্ধ করতেই থাকে। কিন্তু অচিরেই আলাউদ্দিন সাহেব লক্ষ্য করেন কিছু আজব ব্যাপার। তার মনে হতে থাকে রাতে তার বিছানার নিচে যেন কিছু লুকিয়ে আছে! ফলে অদ্ভূত আর ভয়াবহ সব স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। এদিকে দিন দিন কুটু মিয়ার রান্নার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন আলাউদ্দিন সাহেবের দেহে পোকাভর্তি ফোসকা উঠতে শুরু করে, তার স্ত্রী নিজের পছন্দের সব খাবার পেতে থাকেন অপ্রত্যাশিতভাবে, আলাউদ্দিন সাহেবের পরিচিত কিছু লোকের উপর আক্রমণ করে হিংস্র কুকুর।
রহস্য কি কুটু মিয়ার? তার রান্নায় এমন কি আছে যা সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে? তার মালিকদের দেহে পোকাভর্তি ফোসকার-ই বা রহস্য কি? কুকুরগুলো হঠাৎ মানুষকে আক্রমণ শুরু করল কেন?
সেদিন বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় রাঁধুনি চরিত্রদের নিয়ে এক মিম শেয়ার করার পর বইটা সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি। মন্তব্যকারীর মতামত ছিল বইটা পড়লে কুটু মিয়ার শরবতের প্রেমে পড়ে যাব! সত্যি বলতে, কুটুর শরবতের প্রেমে পড়েই গিয়েছি! যে শরবত আলাউদ্দিন সাহেবের এক গ্লাসে হয় না, এক জগ বা এক বালতি না হলে চলেই না সেটার প্রেমে পড়া আর অসম্ভব কি! তবে, শেষদিকে সব রহস্য জানার পর শরবত খাওয়ার যে আর কোনো ইচ্ছেই থাকবে না সেটা বলাই বাহুল্য!
বইটাকে ভৌতিক উপন্যাস বলা যেতে পারে। আবার অন্যদিক থেকে রহস্য উপন্যাসও বলা যেতে পারে। বইটা পড়ার পর আজ রাতে যে করাত দিয়ে নখ কাটা কুটু মিয়াকে বিছানার নিচে পাব সেটা ভাবতেই পশম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে! শেষদিকের টুইস্টটা ভালোই ছিল। তবে বইটা শেষ করার পর একটা অতৃপ্তি থেকে যায়। সব রহস্যের যেন সমাধান হলো না শেষে গিয়ে। কেনই বা সে রাঁধুনি হলো বা তার মালিকদের পরিণতি কেনই বা এমন হয় সেই মৌলিক প্রশ্নেরও উত্তর যেন পেলাম না।
সবমিলিয়ে বলতে গেলে, স্বভাবসুলভ হুমায়ূনীয় ভঙ্গিতে লেখা মোটামুটি একটা বই। মোটের উপর বইটা খুব বেশি ভালো না লাগলেও কুটু মিয়া চরিত্রটা যে অনেকদিন মনে থাকবে সেটা অস্বীকার করার অবশ্য কোনো উপায় নেই।
মোটামুটি লেগেছে। অনেকটা অনামিকা চুপ বইটার মতো। বাচ্চা পোলাপানের বই৷ অবশ্যই বইয়ের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য লিখেছেন এইটা এমন মনে হচ্ছে আবারো। অনেক কিছুই ধোঁয়াশার মতো রেখেছেন।এইটা হুমায়ূন আহমেদ প্রায়ই করেন। আমার মনে হয় উনিও এই ধোঁয়াশা গুলোর ব্যাখ্যা জানেন না৷ নিতান্তই ওনার মাথার একটা ভূমিকা আসত উনি লিখতে বসতেন, তারপর হয়তো তালে তালে লিখে ফেলতেন,আসলে কী লিখতেছেন নিজেও জানতেন না, অখাদ্য নাকি সুখাদ্য হয়েছে তার হিসাব ওনার রাখারও দরকার নাই। কাহিনি হইলেই হইল। মানুষ যে হারে ওনার লেখা গিলত আর এখনো গিলে তাতে সামান্য একটা গরু নিয়েও যদি উনি কিছু বলেন তাও হয়ে যাবে কারো কারো কাছে অত্যন্ত মূল্যবান কথা।
জঘন্য বই, তার চেয়েও জঘন্য কাহিনি। আর জীবনে বই পড়ার ক্ষেত্রে কারো সাজেশন শুনব না শপথ করলাম। ওনার কিছু কিছু বই পড়ার পর মনে হয় নিজের সময়কে অপচয় করলাম।
রহস্যময় চরিত্র কুটু মিয়াকে ঘিরে বহু প্রশ্ন জমা রয়ে গেল। পুরো গল্পজুড়েই মনে হয়েছে কাহিনি উদ্দ্যেশহীনভাবে এগুচ্ছে। লেখকের জায়গায় হুমায়ূন আহমেদ নামটা না থাকলে এই বই কখনোই আলোচনায় আসার কথা ছিল না!
মেলাদিন পর টানটান উত্তেজনা নিয়ে এক বসায় কোন বই শেষ দিলাম। শুরু থেকেই হুকড করে রেখেছিলো। কুটু মিয়ার সুপারন্যাচারাল পাওয়ার সাথে উদ্ভট কমর্কান্ডগুলো বেশ এনজয়েবল ছিলো। শেষ দিকে এসে রীতিমতো গা ছমছম শুরু হয়ে গিয়েছিলো। অসুস্থতার বর্ণনা পড়ে গা রীতিমতো গুলিয়ে উঠছিলো। শেষমেশ সুন্দর একটা জার্নি হয়েছিলো কুটুমিয়ার সাথে।
জনপ্রিয় কথাসাহিত্��িক হুমায়ূন আহমেদের ডার্ক হরর ঘরানার বই 'কুটু মিয়া'। গা ছমছমে রহস্যের মোড়কে রন্ধনবিদ্যায় পারদর্শী কুটু মিয়াকে পাওয়া যায় বইটিতে। হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা যখন তখন যেখানে সেখানে বসেই পড়া যায়।
নেত্রকোনার শেখ ইসলামুদ্দিন কলেজের ইসলামিক ইতিহাসের শিক্ষক আলাউদ্দিন শিক্ষকতার পাট চুকিয়ে পুরান ঢাকার ভূতের গলিতে স্থায়ী হয়েছেন। অকৃতদার মানুষটি চাকরিজীবী সাইফুদ্দিনের সাথে ভাগাভাগি করে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। সাইফুদ্দিন শান্তশিষ্ট স্বভাবের মানুষ হওয়ায় আলাউদ্দিন সাহেবের কোনো সমস্যা হয় না। আলাউ���্দিন সাহেব অবসর জীবনে কোচিং সেন্টারে চাকরির তদবির করলেও কোথাও যুক্ত হতে পারেন নি। তবে তিনি লেখালেখিকে নিজের অবসর জীবনের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। মুক্তি প্রকাশনীতে ছদ্মনামে বেশ কিছু বই লিখেছেন। প্রকাশক হাজী একরামুল্লাহ'ই ঠিক করে দেন কোন বই হতে কীভাবে কপি করতে হবে এবং তিনি সেভাবেই লিখে পাণ্ডুলিপি জমা দেন। এই যেমন 'দেশী বিদেশী এবং চাইনিজ রান্না' নামের বইটি লিখতে প্রকাশক আলাউদ্দিন সাহেবকে পাঁচটি বই দিয়েছিলেন এবং বলে দিয়েছিলেন সুন্দর করে কপি করতে। বর্তমানে তিনি লিখছেন 'সহজ হস্তরেখা বিদ্যা এবং তিল তথ্য'। বইটির লেখকের নাম হিসেবে ঠিক হয়েছে স্বামী অভেদানন্দ। তাই প্রকাশক বারবার বলে দিয়েছেন বইয়ের ভাষা যেন সাধু রীতি হয়। কারণ এমন একজন মানুষের ভাষা জটিল হবে সেটাই স্বাভাবিক।
অবিবাহিত মানুষদের সবচেয়ে বেশি যে ঝামেলাটি পোহাতে হয় তা হলো রান্নাবান্না। নিজের রান্নাবান্না করার সময় থাকেনা কিংবা রান্নার লোক পাওয়া যায়না ঠিকঠাক। বিশেষ করে পনেরো দিনে তিন জন কাজের লোক যখন চলে যায়, তখন আলাউদ্দিন সাহেব বিরাট ফাঁপরে পড়েন। হোটেলের খাবার মুখে দেওয়া যায়না। তাই কুটু মিয়া যখন তাঁর কাছে এসে জানায়, সে অল্প টাকাতেই রান্নাসহ যাবতীয় কাজ করে দেবে তখন রাজি হতে চান। অথচ কুটু মিয়ার কিম্ভূতকিমাকার চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধান্বিত হয়ে যান। আলাউদ্দিন সাহেব কুটু মিয়াকে না রাখার জন্য অনেক শর্ত আরোপ করলেও সে সবকিছু মেনে নেয় এবং কাজের লোক হিসেবে নিয়োগ পায়। কুটু মিয়ার চেহারা কিম্ভূতকিমাকার হলেও রান্নার হাত যে অসাধারণ সেটা প্রথমদিনেই টের পান আলাউদ্দিন। সাধারণ রান্নার স্বাদও যে অমৃত হতে পারে সেটা তিনি কল্পনাই করতে পারেন নি। কুটু মিয়া বাকি কাজগুলোও সুন্দরভাবে করতে থাকে।
আলাউদ্দিন সাহেবের প্রকাশক হাজী একরামুল্লাহ'র দূর সম্পর্কের ভাগ্নি হামিদা বানু সম্প্রতি বিপদে পড়েছেন। বিবাহিত জীবনে দুই সন্তানের মা হয়েছিলেন এবং তাদের বিয়েও দিয়েছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর একাই থাকেন। অল্প বয়সে সুন্দরী ছিল বলেই এই পড়তি বয়সেও চেহারার সেই লাবণ্য চলে যায়নি। অথচ এই চেহারার জন্য হয়েছে যত জ্বালা! বাজে লোকদের জন্য তিষ্টানো দায়! তাই সমস্যা সমাধানে আলাউদ্দিনের কাছে প্রস্তাব দেন হামিদা বানুকে বিয়ে করার। আলাউদ্দিন সাহেব চিন্তাভাবনা করে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
কুটু মিয়া আসার পর হতেই সবকিছু যেন পালটে গিয়েছে। আলাউদ্দিন সাহেব সবকিছু দেখেও যেন কুটু মিয়ার রান্নার মোহে অস্বাভাবিক বিষয়ের তোয়াক্কা করেন না। ইদানীং কুটু মিয়া ব্লাড মেরি নামে একধরনের পানীয় বানিয়ে খাওয়ায় আলাউদ্দিনকে। তিনি খুবই আসক্ত হয়ে পড়েছেন এই পানীয়তে। কুটু মিয়ার মুখেই তার আগের মালিকদের গল্প শুনেন আলাউদ্দিন। তাদের গায়ে ফোসকার মতো হয়েছিল ও সেখানে পোকা জন্ম নিয়েছিল। এমনকি এই রোগে তারা মারাও গিয়েছিল। সেই মালিকেরাও ব্লাডি মেরির ভক্ত ছিল। এই ঘটনা শুনেও আলাউদ্দিন সবকিছু এড়িয়ে চলেন। এমন হওয়ার কারণ কী? কুটু মিয়া আসলে কে? তার রহস্যটাই বা কী? তার রান্নাতেই এমন কী রয়েছে, যার প্রশংসা সকল মালিকেরাই করেছে?
কুটু মিয়া অনেকটা ডার্ক বই। কিছু কিছু বর্ননা আছে পড়লে গা গুলানো ভাব আসতে পারে। খাটের নিচের আওয়াজ শুনলেই মনে হতে পারে সেখানে কুটু মিয়া বসে আছে। বইটা আমার ভালোই লেগেছে। তবে কুটু মিয়ার রহস্যের সমাধানে লেখক আরেকটু জোর দিতে পারতেন বলে মনে হয়। লেখার ধরন স্বাভাবিকভাবেই সহজ ও সরল। ডার্ক উপন্যাসের স্বাদ নিতে চাইলে বইটি পড়তে পারেন। হ্যাপি রিডিং।
হুমায়ুন আহমেদ পড়ার মজা হচ্ছে পড়তে বসে খুব বেশি ভাবতে হয় না। লেখক তার বর্ণনার ঢংয়ে পাঠককে ভাসিয়ে নিয়ে যান !!
যে ভাবে গল্পটি শেষ হল তা প্রত্যাশিতই ছিল। বরং যদি কেউ আলাউদ্দিনকে কুটু মিঞার হাত থেকে উদ্ধার করতে পারত, তাহলে ভালো লাগত। সেরকম একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল যখন হামিদা মানসিক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু তারপর প্রায় সব চরিত্রগুলিই কম বেশি কুটু মিঞার দ্বারা আক্রান্ত হয়।
"কুটু মিয়া" ডার্ক উইয়ার্ড ফিকশন। কুটু মিয়া দেখতেও উইয়ার্ড, কারো কারো মতে কুৎসিত। আলাউদ্দিন সাহেবের বাড়িতে যখন হুট করে কুটু মিয়া কাজ করার জন্য উদয় হয় তখন তিনি মনে মনে ওকে তাড়িয়ে দিতে ব্যস্ত। ৪০ থেকে ৫০ এর মধ্যে ঝুলে থাকা কুটু মিয়া সার্টিফাইড বাবুর্চি, এর আগে কাজ করতো এক পাইলটের বাসায়, তিনিই সার্টিফিকেট দিয়েছেন। যাইহোক, পছন্দ না হলেও কোনো একটা কারণে আলাউদ্দিন সাহেব কুটু মিয়াকে চলে যেতে বলতে পারলেন না। অতঃপর কুটু মিয়া পরিণত হলো আলাউদ্দিন সাহেবের এসেনশিয়ালস হিসেবে।
কুটু মিয়ার রান্না ১০০ তে ১০০, এসব খেয়ে খেয়ে আলাউদ্দিন মোটা হয়ে যাচ্ছিলেন। তাছাড়া তার শরীরে পানিও জমছিল। আলাউদ্দিন কুটুর বানানো ব্লাডি মেরি খেতে খেতে গল্পচ্ছলে জানতে পারেন ওর কুয়েতের মালিক মারা গেছিল শরীরে পানি জমে, শরীরে ফোসকার মতো হয়েছিল, পরের মালিক পাইলট সাহেবেরও একই ভাবে মৃত্যু। আলাউদ্দিন সাহেব সব বুঝেও যেন বোঝেন না, দিনযাপন করতে থাকেন কুটুর ছায়াতলে। এরমাঝে চল্লিশোর্ধ্ব হামিদা বানুর সাথে বিয়েও হয় তার। হামিদা বানু আলাউদ্দিনের শোভাকাঙ্ক্ষী এবং কর্মদাতা হাজী সাহেবের ভাগ্নী। বিয়ের পর আলাউদ্দিন সাহেব কুটুকে নিয়ে হামিদা বানুর বাসায় উঠে আসেন। হামিদা বানু এই বয়সে বিয়ে করে মেন্টালি বেশ আপসেট ছিলেন, তাই তিনি ওদের রেখে মামার বাসায় চলে যান। তবে ইনিই একমাত্র চরিত্র যে কিনা কুটুর কাজকর্মকে খুব লজিকালি হ্যান্ডেল করতে চাচ্ছিলেন। এরপর হুট করে কালো কুকুরদের আবির্ভাব হয় হামিদা বানুর বাসায়। এই কুকুর তাড়া করে ফেরে এ বাড়িতে পা রাখা মানুষদের। তাড়া করে ফেরে মামার বাসায় থাকা হামিদা বানুকেও (একরাতে হামিদা কুকুরের তাড়া খেয়ে মামার বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন)
ওদিকে কুটুর ছায়াতলে থাকা আলাউদ্দিন কুটুর কাছ থেকে জানতে পারেন এমন বীভৎস রূপ নিয়ে তার উত্থানের কাহিনী। এরপর অন্যান্য সব পাঠকদের মতো আমার মনেও প্রশ্ন জাগে কুটু মিয়া আসলে কোন জগতের বাসিন্দা!? এসব চিন্তা করতে করতেই অন্যান্য সব মালিকের মতো কুটুর এ মালিকের শরীরেও ফোসকা দেখা যায়। আর দেখা যায় কুটু মিয়াকে, মৃত্যুর সওগাত হাতে তৈরি সে, নতুন কোনো মালিকের আশায়!
ভালোই লাগলো। এজন্য ৩ তারা।
১ জুলাই, ২০২৩
This entire review has been hidden because of spoilers.
#রিভিউঃ উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র আলাউদ্দিন হলেও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন কুটুমিয়া। কুটু মিয়া…বইটার নাম শুনে খুব আদুরে একটা মানুষের দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে আসে তাই না??কিন্তু ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীত...ঘোর কৃষ্ণবর্ণের লোকটির আকৃতি পুরনো বাড়ির খাম্বার মতো গোল। মাথার চুল জায়গায় জায়গায় খাবলা খাবলা, তেলতেলে মুখ এবং চোখজোড়া অতিশয় ছোট হওয়াতে কালো মণির অংশ দেখতে পাওয়া যায় না বলে হঠাৎ দেখলে মনে হয় তার চোখই নেই।সাথে তার শরীর থেকে ভেসে আসে বোটকা গন্ধ। এবার কল্পনা করতে পারছেন কুটু মিয়াকে দেখতে কেমন লাগে???
আর আলাউদ্দিন সাহেবের আত্মীয়স্বজন বা কাছের বলতে বিশেষ কেউ নেই।তিনি কখনো বিয়েও করেননি,একা থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।একসময় কলেজের শিক্ষকতা করতেন।বর্তমানে হাজী প্রকাশনীর একজন ছোটখাটো লেখক।হাজী সাহেব কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কিছু বই দিলে সেই বইগুলো থেকে কপি করে নতুন একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করাই তার কাজ।হাজী সাহেব সাহেব সেখানে অন্যকারো নাম বসিয়ে বাজারে ছাড়েন।
গল্পটি শুরু হয় কুটু মিয়ার আলাউদ্দিনের কাছে কাজ চাইতে আসার মাধ্যমে।কুটু মিয়া বাবুর্চি কাজ জানে।বাংলা,ইংলিশ,থাই,মোগলাই সব ধরনের রান্না পারে।পাইলট স্যার তাকে একটা সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন।এই সার্টিফিকেট নিয়ে সে আলাউদ্দিন সাহেবের বাড়িতে কাজ করতে এসেছে।তাকে দেখে প্রথমে পছন্দ না হলেও পরবর্তীতে আলাউদ্দিন বাধ্য হয়ে তাকে কাজে রেখে দেয়।রহস্যময় মানুষ কুটু মিয়া কয়েকে দিনের মধ্যেই আলাউদ্দিনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হয়ে পড়ে এবং আলাউদ্দিন এক অজানা কারণে তার উপর প্রচুর পরিমাণে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।বদলে যেতে শুরু করে আলাউদ্দিনের জীবন।আলাউদ্দিন সাহেব তার লেখালেখি কাজ ছেড়ে দেন।টাকা পয়সার জন্য বসত বাড়ি বিক্রি করে দেন।সব কিছু বাদ দিয়ে কুটুমিয়ার বানানো খাবার আর সেবাই মগ্ন হয়ে যান।তার কাছে কুটুমিয়ার রান্নাই পৃথিবীর সেরা খাবার বলে মনে হয়।তিনি কুটুমিয়ার কাছে পাইলট স্যারের কথা শুনতে শুনতে এক সময় নিজের অজান্তেই পাইলট স্যারের মত জীবন যাপন করা শুরু করেন।একসময় তার শারীরিক দিক দিয়েও অদ্ভুত পরিবর্তন হয়।ঘটতে থাকে অস্বাভাবিক বিভিন্ন ঘটনা!!!এক সময় দেখা গেল তিনি কুটু মিয়াকে নিয়ে গুনগুন করে গানও গাইছেন!!!- যমুনার জল দেখতে কালো স্নান করিতে লাগে ভালো যৌবন ভাসিয়া গেছে জলে।
তাহলে কি রহস্য লুকিয়ে আছে কুটুমিয়ার মাঝে??কে সে??কিভাবে আলাউদ্দিনকে প্রভাবিত করলো???কেনই বা করলো???
#পাঠ্যপ্রতিক্রিয়াঃ কুটু মিয়া" ভয়ঙ্কর অন্ধকার এক ভুবনের গল্প।হরর আর সাইকোলজিক্যাল দুইটি বিষয় নিয়ে লেখা বইও বলা যেতে পারে।যদিও প্রথম থেকে খুবই ভালো লেগেছে মনে মনে ভাবছিলাম আমারও একজন কুটুমিয়ার মতো বাবুর্চি চাই।কিন্তু শেষটা পড়ে আমি অনেকক্ষনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম।চোখে চোখে ভাসছিল লেখকের সেই কুটুমিয়া... রেটিং: ৪/৫
কুটু মিয়া একটি ভৌতিক এবং রহস্যময়ী গল্প। কুটু মিয়া একজন বাবুর্চি এবং সে বাংলা, ইংলিশ, থাই, চাইনিজ বিভিন্ন রকমের রান্না জানে। অনেক জায়গায় রান্না করে এসে এখন সে উঠেছে আলাউদ্দিনের বাড়িতে। প্রথম দেখাতে আলাউদ্দিনের কুটু মিয়া কে পছন্দ হলো না কিন্তু তার রান্না খেয়ে তিনি পড়ে গেলেন মুশকিলে। . গল্পটা প্রথম দিকেই খুব ইন্টারেস্টিং না হলেও শেষের দিকে ইন্টারেস্ট বাড়িয়ে তোলে। যদিও গল্পটা অনেকটাই অনুমানযোগ্য, অনেকটাই প্রেডিক্টেবল তাও বেশ একটা কৌতুহল ছিল পড়ার। পরে কি হতে চলেছে বা আগামী পর্বে কি হবে তা অনুমান করা খুবই সোজা ছিল। প্রথম দিকটা অতটা ভাল লাগছিল না, কিন্তু গল্পে আলাউদ্দিনের স্ত্রী হামিদা আসার পর থেকে গল্পে গতি আসে এবং খানিকটা ইন্টারেস্টিং হয়ে ওঠে। খুব একটা আহামরি কিছু ছিল না তাই তিনটে স্টার যথেষ্ট বলে মনে হয়েছে। লেখার ভাষা সোজা এবং সাধারণ।
অনেকদিন পর হুমায়ূন আহমেদের লেখা বই পড়লাম। বেশ ইন্টারেস্টিং গল্পটা, শুরু করে আর ছাড়তে পারিনি। প্রথম থেকেই আমার কুটমিয়াকে খুব ভালো লাগছিল - কেমন নম্র, ভদ্র, কত্ত সুন্দর সুন্দর রান্না জানে। কিন্তু গল্প কিছুটা এগোতেই কুটুমিয়ার ওপর একটা সন্দেহ হতে থাকে। পরে দেখলাম আমার সন্দেহ টাই ঠিক - কুটমিয়া কোনো সাধারণ মানুষ না, কবর থেকে উঠে আসা লাশ।
ভৌতিক ধাঁচের উপন্যাস। হুমায়ূন আহমেদ সত্যি সবার থেকে আলাদা একজন লেখক ছিলেন, সব কিছু পারফেক্টলি ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা সত্যি অনন্য ছিল উনার । যেনো গল্পের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলাম কিছুক্ষনের জন্য। A humayun ahmed masterpiece তকমাটা নিশ্চিত ভাবেই দেয়া যায় "কুটু মিয়া" কে
ভৌতিক ধরনের বই। তেমন ভালো লাগেনি। হুমায়ূন আহমেদ রহস্য সৃষ্টি করতে চাইলেও পারেননি। সাদামাটা লেগেছে। তবে হুমায়ূন আহমেদ এর বইয়ের বাবুর্চিদের চরিত্রগুলো ভালোই লাগে। এখানেও ইন্টারেস্টিং ছিলো চরিত্রটা।
বিভৎস্য সুন্দর আমি এই উপন্যাসকে মানবজীবনের মেটাফোর হিসেবেই নিয়েছি। আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি নিশ্চিত সমাপ্তির দিকে। সেই সমাপ্তি চার পাশের অনেকেরই হয়েছে। কিন্তু তারপরও এই ছোট্ট জীবনে নানা আরাম আয়াশে ব্যস্ত থেকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলাকেই পাশ কাটিয়ে যাচ্ছি। সম��্যাগুলার মোকাবেলা না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এই কাজগুলা একদিকে যেমন জীবনকে নষ্ট করছে অওন্যদিকে দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
মন্দ লাগেনি, তবে (স্বাভাবিক ভাবেই) হুমায়ূন-এর জাদুকরি গদ্য এতে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেনি| তার বদলে একটা শ্বাসরোধী পরিবেশ তৈরি হয়েছে একটু-একটু করে| এটা ভেবেই খারাপ লাগছে যে গল্পটার শেষেও এত কিছু অমীমাংসিত রাখা হল যে মনটা তৃপ্ত হল না| এতটা ধোঁয়া-ধোঁয়া পরিণতি না দেখিয়ে কি গল্পটা শেষ করা যেত না?
আমি জানি না কোনো কারণে এই বইটা আমার খুবই ভালো লাগে। অন্ধকার জগতের স্পুকি ফ্লেভার, অদ্ভুত ডার্ক গল্প, ধোঁয়াশামাখা আলাপচারিতা- মাই থিং। অনেক আগে পড়েছিলাম, আবার চোখে পড়লো বইটা, পড়লাম। আবার পড়তে ইচ্ছে হলে পড়বো। কিছু বই মনে গেঁথে যায়।