আত্মকথা/ আত্মজীবনী সবসময়েই টানে। কবিতার চাইতেও বেশি।
শাঁওলী মিত্রের নামটাই জানতাম কেবল। বইটা হুট করে কিনে ফেলা। প্রখ্যাত নাট্যদম্পতি শম্ভু মিত্র এবং তৃপ্তি মিত্রের সন্তান শাঁওলী অবশ্য মাকে নিয়ে লিখেছেন বেশ খানিকটা অংশ। কী মায়া জড়ানো সেই অংশটুকু!
সবচেয়ে মায়ার, সবচেয়ে মোহগ্রস্ততার অংশটুকু রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। রবিঠাকুরের নাটকের নানা চরিত্রের হয়ে ওঠার সময়ের ভাবনাগুলোকে নিয়ে, রবিঠাকুরকে নিয়ে ভাবনা শিরোনামে-- পয়লা পরিচ্ছদেই। _________________________________ -- দইওয়ালা কেমন ছেলে তুমি! কিনবে না আমার বেলা বইয়ে দাও কেন? --অমল তুমি যে কতদূর থেকে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাচ্ছ, শুনে আমার মন কেমন করছে! __________________________________
ডাকঘর কতবার পড়েছি, আজকে মনে হচ্ছে কী পড়েছি এতদিন! কিছু না বুঝেই পড়ে যাইনি তো আসলে? ডানা নেই বলেই রোগা, অসুখে ভুগে ভুগে অন্ধকার ঘরের কোনে পড়ে থাকা ছোট্ট ছেলেটা..দেখতে পায় না, ছুটতে পারে না, পৌঁছুতে পারে না বলে অনেক অনে-ক দূরের যে পথ, নদী, বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবার আকুতি-- এমন করে ভেবে দেখা হয়নি তো কখনো! কেমন করে যে লিখে গেছেন এরকম একেকটা লাইন! কোন অতল গভীরে কত সহজে পৌঁছে যায় এই রবিবুড়োটা!
''অতল তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে/ কবি ডুবে মরে, কবি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে...''
অতল এই গভীরতার অনুভবে পৌঁছানোর জন্যেই তো আমাদের এই খেলা।