শাঁওলী মিত্র-র জন্ম কলকাতায়, ১৯৪৮-এ। পিতা-মাতা: নাট্যব্যক্তিত্ব শম্ভু মিত্র-তৃপ্তি মিত্র। বেড়ে-ওঠা, বড় হওয়া স্বভাবতই থিয়েটরের আবহাওয়ায়— যে-থিয়েটরের প্রধান অঙ্গীকার ছিল সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। ক্রমে সেই থিয়েটরই হয়ে ওঠে তাঁরও জীবনচর্যা। পিতা-মাতাই তাঁর শিক্ষাগুরু। পিতা শম্ভু মিত্র প্রতিষ্ঠিত বহুরূপী প্রযোজিত নাটকেই মঞ্চে পদার্পণ। ১৯৮৩-তে নিজের লেখা নাটক ‘নাথবতী অনাথবৎ’ নিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন পঞ্চম বৈদিক-এর যাত্রা। সেখানে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন শম্ভু মিত্র এবং তৃপ্তি মিত্র। পরের লেখা নাটকটি ‘কথা অমৃতসমান’-ও দর্শকের কাছে আদর পেয়েছিল। ১৯৮৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নাটক নির্দেশনার কাজ করেছেন। মঞ্চে অভিনয় করেছেন ২০১১ পর্যন্ত। আপাতত মঞ্চের কর্মযজ্ঞ শুধুমাত্র পাঠ-অভিনয়-এ সীমাবদ্ধ। নাটক দুটি ছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে প্রবন্ধের বই, গল্পের বই, জীবনী গ্রন্থ। ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নাটকের অনুবাদ। হিন্দিতে অনূদিত হয়েছে প্রবন্ধের বই ‘তর্পণ’। নাম: ‘পুত্রী কা কথন’। বর্তমানে ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি’-র সভাপতি। সম্পাদনা করছেন শম্ভু মিত্র-র রচনাসমগ্র। সম্মানিত হয়েছেন দেশে-বিদেশে।
আত্মকথা/ আত্মজীবনী সবসময়েই টানে। কবিতার চাইতেও বেশি।
শাঁওলী মিত্রের নামটাই জানতাম কেবল। বইটা হুট করে কিনে ফেলা। প্রখ্যাত নাট্যদম্পতি শম্ভু মিত্র এবং তৃপ্তি মিত্রের সন্তান শাঁওলী অবশ্য মাকে নিয়ে লিখেছেন বেশ খানিকটা অংশ। কী মায়া জড়ানো সেই অংশটুকু!
সবচেয়ে মায়ার, সবচেয়ে মোহগ্রস্ততার অংশটুকু রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। রবিঠাকুরের নাটকের নানা চরিত্রের হয়ে ওঠার সময়ের ভাবনাগুলোকে নিয়ে, রবিঠাকুরকে নিয়ে ভাবনা শিরোনামে-- পয়লা পরিচ্ছদেই। _________________________________ -- দইওয়ালা কেমন ছেলে তুমি! কিনবে না আমার বেলা বইয়ে দাও কেন? --অমল তুমি যে কতদূর থেকে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাচ্ছ, শুনে আমার মন কেমন করছে! __________________________________
ডাকঘর কতবার পড়েছি, আজকে মনে হচ্ছে কী পড়েছি এতদিন! কিছু না বুঝেই পড়ে যাইনি তো আসলে? ডানা নেই বলেই রোগা, অসুখে ভুগে ভুগে অন্ধকার ঘরের কোনে পড়ে থাকা ছোট্ট ছেলেটা..দেখতে পায় না, ছুটতে পারে না, পৌঁছুতে পারে না বলে অনেক অনে-ক দূরের যে পথ, নদী, বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবার আকুতি-- এমন করে ভেবে দেখা হয়নি তো কখনো! কেমন করে যে লিখে গেছেন এরকম একেকটা লাইন! কোন অতল গভীরে কত সহজে পৌঁছে যায় এই রবিবুড়োটা!
''অতল তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে/ কবি ডুবে মরে, কবি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে...''
অতল এই গভীরতার অনুভবে পৌঁছানোর জন্যেই তো আমাদের এই খেলা।