What do you think?


জীবনানন্দ দাশ কবিতা সমগ্র
জীবনানন্দ দাশ কবিতা সমগ্র(প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত)
- GenresPoetryCollectionsEbooks
Paperback
First published February 1, 1994
About the author
Jibanananda Das
87 books435 followersJibanananda Das (bn: জীবনানন্দ দাশ) is probably the most popular Bengali poet. He is considered one of the precursors who introduced modernist poetry to Bengali Literature, at a period when it was influenced by Rabindranath Tagore's Romantic poetry. During the later half of the twentieth century, Jibanananda Das emerged as the most popular poet of modern Bengali literature. Popularity apart, Jibanananda Das had distinguished himself as an extraordinary poet presenting a paradigm hitherto unknown. It is a fact that his unfamiliar poetic diction, choice of words and thematic preferences took time to reach the heart of the readers. Towards the later half of the twentieth century the poetry of Jibanananda has become the defining essence of modernism in twentieth century Bengali poetry.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 18 of 18 reviews
February 16, 2016
কবিতা আমি তেমন একটা পড়ি না, বুঝি আরো কম, বেশিরভাগ সময় মাথার কয়েক হাত উপর দিয়ে চলে যায়। তারপরেও অতি অতি অল্প যে ক'জন কবির যে অতি অল্প ক'টা কবিতার বই পড়া হয়েছে, জীবনানন্দ দাশের 'গ্রন্থিত-অগ্রন্থিত কবিতাসমগ্র' নিঃসন্দেহে তার মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় বই। কবিতাগুলো পড়লেই মনটা হু হু করে, উদাস হয়ে যায়! মনে হয় এই কবিতা আমার লেখার কথা ছিল, কিন্তু আমার আগেই আমার মনের গহীনের লুকিয়ে থাকা চিরন্তন আবেগগুলো, কী এক আজন্ম অব্যক্ত অস্থিরতার একাংশই সব উঠে এসেছে গুরু জীবনানন্দের অমর, কালজয়ী, অপূর্ব, চিরঅম্লান সব পংক্তিতে...
গুরু তোমার প্রতি সশ্রদ্ধ ভালবাসা।
"আলো-অন্ধকারে যাই- মাথার ভিতরে(বোধ)
স্বপ্ন নয়,- কোন এক বোধ কাজ করে;
স্বপ্ন নয়- শান্তি নয়- ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়;
আমি তারে পারি না এড়াতে,
সে আমার হাত রাখে হাতে;
সব কাজ তুচ্ছ হয়- পণ্ড মনে হয়,
সব চিন্তা- প্রার্থনার সকল সময়
শূন্য মনে হয়,
শূন্য মনে হয় ।
...
সহজ লোকের মতো কে চলিতে পারে ।
কে থামিতে পারে এই আলোয় আঁধারে
সহজ লোকের মতো; তাদের মতন ভাষা কথা
কে বলিতে পারে আর; কোনো নিশ্চয়তা
কে জানিতে পারে আর ? শরীরের স্বাদ
কে বুঝিতে চায় আর ? প্রাণের আহ্লাদ
সকল লোকের মতো কে পাবে আবার ।
...
স্বপ্ন নয়,- শান্তি নয়,- কোন এক বোধ কাজ করে
মাথার ভিতরে ।
পথে চ'লে পারে- পারাপারে
উপেক্ষা করিতে চাই তারে;
মড়ার খুলির মতো ধ'রে
আছাড় মারিতে চাই, জীবন্ত মাথার মতো ঘোরে
তবু সে মাথার চারিপাশে,
তবু সে চোখের চারিপাশে,
তবু সে বুকের চারিপাশে,
আমি চলি, সাথে সাথে সেও চ'লে আসে ।
আমি থামি,-
সেও থেমে যায়;
...
মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়- প্রেম নয়- কোনো এক বোধ কাজ করে ।
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চ'লে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে :
সে কেন জলের মতো ঘুরে ঘুরে একা কথা কয় !
অবসাদ নাই তার ? নাই তার শান্তির সময় ?
কোনোদিন ঘুমাবে না ? ধীরে শুয়ে থাকিবার স্বাদ
পাবে না কি ? পাবে না আহ্লাদ
মানুষের মুখ দেখে কোনোদিন !
মানুষীর মুখ দেখে কোনোদিন !
শিশুদের মুখ দেখে কোনোদিন !"
"সেই মেয়েটা এর থেকে নিকটতর হলো না;(হাজার বর্ষ আগে)
কেবল সে দূরের থেকে আমার দিকে একবার তাকালো
আমি বুঝলাম
চকিত হয়ে মাথা নোয়ালো সে
কিন্তু তবুও তার তাকাবার প্রয়োজন--সপ্রতিভ হয়ে
সাতদিন-আটদিন-ন'দিন-দশদিন
সপ্রতিভ হয়ে--
সমস্ত চোখ দিয়ে আমাকে নির্দিষ্ট করে
অপেক্ষা করে--
সেই মেয়েটা এর চেয়ে নিকটতর হলো না ।
কারণ, আমাদের জীবন পাখির মতো নয়
যদি হতো
সেই মাঘের নীল আকাশে
(আমি তাকে নিয়ে) একবার ধবলাটের সমুদ্রের দিকে চলতাম
গাংশালিকের মতো আমরা দু'টিতে ।
আমি কোনো এক পাখির জীবনের জন্য অপেক্ষা করছি...
তুমি কোনো এক পাখির জীবনের জন্য অপেক্ষা করছো...
হয়তো হাজার-হাজার বছর পরে
মাঘের নীল আকাশে
সমুদ্রের দিকে যখন উড়ে যাবো
আমাদের মনে হবে
হাজার-হাজার বছর আগে আমরা এমন উড়ে যেতে চেয়েছিলাম ।"
"শরীরে এসেছে স্বাদ বসন্তের রাতে,(পাখিরা)
চোখ আর চায় না ঘুমাতে;
জানালার থেকে ওই নক্ষত্রের আলো নেমে আসে,
সাগরের জলের বাতাসে
আমার হৃদয় সুস্থ হয়;
সবাই ঘুমায়ে আছে সবদিকে-
সমুদ্রের এই ধারে কাহাদের নোঙ্গরের হয়েছে সময় ?
... ...
আজ এই বসন্তের রাতে
ঘুমে চোখ চায় না জড়াতে;
ওই দিকে শোনা যায় সমুদ্রের স্বর,
স্কাইলাইট মাথার উপর,
আকাশে পাখিরা কথা কয় পরস্পর ।"
"আমার এ-গান(সহজ)
কোনোদিন শুনিবে না তুমি এসে-
আজ রাত্রে আমার আহ্বান
ভেসে যাবে পথের বাতাসে,
তবুও হৃদয়ে গান আসে ।
ডাকিবার ভাষা
তবুও ভুলি না আমি-
তবু ভালোবাসা
জেগে থাকে প্রাণে;
পৃথিবীর কানে
নক্ষত্রের কানে
তবু গাই গান;
কোনোদিন শুনিবে না তুমি তাহা, জানি আমি-
আজ রাত্রে আমার আহ্বান
ভেসে যাবে পথের বাতাসে-
তবুও হৃদয়ে গান আসে ।"
"কারা কবে কথা বলেছিলো ।(কারা কবে)
ভালোবেসে এসেছিলো কাছে,
তারা নেই, তাদের প্রতীক হয়ে তবু
প্রাচীন কয়েকটি গাছ আছে;
নক্ষত্ররা রয়ে গেছে নদীর উপরে
চারিদিকে প্রান্তর ও ঘাস,
দু-চারটে ঘরবাড়ি নীড় ও শিশির
কূলে-কূলে একলা আকাশ ।
তারা ছিলো, তারা কেউ নেই;
মনে করে জীবন তবুও তার নিবিড় বিনয়ে
নিজেকে আগুনে ক্ষয় করে জেগে থাকে
স্থির, আরো স্থির আলোকের মত হয়ে ।"
"জানি - তবু জানি(আট বছর আগের এক দিন)
নারীর হৃদয়-প্রেম-শিশু-গৃহ-নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়-
আর এক বিপন্ন বিষ্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
লাশকাটা ঘরে
সেই ক্লান্তি নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হ'য়ে শুয়ে আছে টেবিলের পরে ।
তবু রোজ রাতে আমি চেয়ে দেখি, আহা,
থুরথুরে অন্ধ পেঁচা অশ্বত্থের ডালে বসে এসে,
চোখ পাল্টায়ে কয়: ‘বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে ?’
চমৎকার !
ধরা যাক দু-একটা ইঁদুর এবার-
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার ?
আমিও তোমার মতো বুড়ো হবো - বুড়ি চাঁদটারে আমি
ক’রে দিবো কালীদহে বেনোজলে পার;
আমরা দুজনে মিলে শূন্য ক’রে চ’লে যাবো জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার ।"
গুরু তোমার প্রতি সশ্রদ্ধ ভালবাসা।
October 27, 2025
কবিতা বুঝবার মতো অওকাত নেই, আগ্রহও নেই। তবে উপভোগ করতে দোষ নেই সম্ভবত। গোগ্রাসে গেলা যায় কবিতা? জীবনানন্দের? আমি গিললাম আরকি। ফাস্টপেসড কোনো একটা থ্রিলার উপন্যাসের মতো....
May 3, 2019
এই বইটা পড়তে নিয়ে এসে আর ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। এত ভালবেসে ফেলেছিলাম। যার বই ছিল, তিনি বুঝতে পেরে উপহার দিয়ে দিলেন। এরপর কত দিন, রাত, বছর গিয়েছে; তবুও বইয়ের লেখাগুলো থেকে বের হতে পারিনি। একসময় যেখানেই যেতাম এই একটা বই সাথে থাকতো। জীবনানন্দ দাশ তার কবিতা দিয়ে যে ঘোর আমার মাঝে ১৭ বছর আগে তৈরি করেছিলেন, তা তেমনি আছে এখোনো। কবিকে ভালবাসা।
May 20, 2020
কবিতা ব্যাপারটা আমার কাছে ক্যান জানি খুবই 'আদেখলামি' বলে মনে হতো। স্কুলে পরীক্ষাগুলোয় অমুক বা তমুক কবিতার ১০ লাইন লিখ সেরকম প্রশ্ন আসার শতভাগ সম্ভাবনা থাকায় কবিতা মুখস্ত করতে হতো একেবারে দাঁড়ি-কমাসহ। যা আমার জন্য ছিল খুবই ভয়ংকর এবং বিচ্ছিরি একটা ব্যাপার। পরবর্তীতে অবশ্য সৃজনশীল চলে আসায় কবিতা মুখস্তের দায় থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। সব মিলিয়ে কবিতা আমার কাছে নেহায়েত নম্বর পাবার একটা ধান্দা ছাড়া আর কিছু ছিল না। টুকিটাকি গল্প-উপন্যাস পড়লেও শত হাত দূরে থাকতাম কবিতার বই থেকে।
অথচ এই বইটা! এই বইটা গত চার/পাঁচ বছর যাবত আমার সঙ্গী। দিন দিন যেন বইটার উপর আমার নির্ভরতা বেড়েই চলছে। আমার হাসি-আনন্দ, মন খারাপ, বিষণ্ণতা, টেনশন-সব! সব কিছুর সাথে জড়িয়ে আছে জীবনানন্দ দাশ আর তার কবিতা৷ খুব যে বুঝে উল্টায় ফেলি তা না। ব্যাখ্যা করে বুঝাতে বললে হয়তো অনেক কিছুই বুঝাতে পারব না। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকার সমূহ সম্ভাবনা। কিন্তু তাতেও আমি জীবনানন্দের পিছু ছাড়ব না। আগের কবিতাভীতি কাটিয়ে মোটামুটি অনেকের কবিতাই পড়া হয়েছে কিন্তু এই ভদ্রলোকের কবিতা পড়ে যে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি পাই-সেটা আর কোথাও কেন যেন খুঁজে পাই না। ভাগ্যিস! উনি ছিলেন! ❤
অথচ এই বইটা! এই বইটা গত চার/পাঁচ বছর যাবত আমার সঙ্গী। দিন দিন যেন বইটার উপর আমার নির্ভরতা বেড়েই চলছে। আমার হাসি-আনন্দ, মন খারাপ, বিষণ্ণতা, টেনশন-সব! সব কিছুর সাথে জড়িয়ে আছে জীবনানন্দ দাশ আর তার কবিতা৷ খুব যে বুঝে উল্টায় ফেলি তা না। ব্যাখ্যা করে বুঝাতে বললে হয়তো অনেক কিছুই বুঝাতে পারব না। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকার সমূহ সম্ভাবনা। কিন্তু তাতেও আমি জীবনানন্দের পিছু ছাড়ব না। আগের কবিতাভীতি কাটিয়ে মোটামুটি অনেকের কবিতাই পড়া হয়েছে কিন্তু এই ভদ্রলোকের কবিতা পড়ে যে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি পাই-সেটা আর কোথাও কেন যেন খুঁজে পাই না। ভাগ্যিস! উনি ছিলেন! ❤
December 28, 2021
আমার সাথে জীবনানন্দের যোগাযোগ কৈশোরে। পাঠ্যবইয়ের কবিতা ছিলো 'আবার আসিব ফিরে' ও 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি'। ক্লাস নাইনে নজরুল স্যার আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলো, "বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি..." আমি শেষ লাইনে আটকে গিয়েছিলাম, "বাংলার নদী মাঠ ভাঁটফুল ঘুঙুরের মতো তার কেঁদেছিলো পায়।" আমি তখনো ভাঁটফুল চিনতাম না, অথচ ধূলোমাখা রাস্তার দুপাশে কতো ছিলো! সেই থেকেই জীবনানন্দের প্রতি ভালো লাগা শুরু।
এরপর আরও কয়েকবছর পর জীবনানন্দের প্রকাশিত অপ্রকাশিত কবিতাসমগ্রের সাথে জানাশোনা। একেকটা কবিতায় যে কতোবার মুগ্ধ হওয়া! প্রথমবারের ভালোবাসার মোহ কেটে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গে তাকে ফিরে পাওয়া, "প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়, হয় নাকি?" কিংবা "শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে- বলিলাম : একদিন এমন সময় আসিয়ো তুমি, আসিবার ইচ্ছা যদি হয়! পঁচিশ বছর পরে।" অথবা, "রাত ঢের, বাড়িবে আরো কি এই রাত! – বেড়ে যায়, তবু চোখাচোখি হয় নাই দেখা আমাদের দুজনার!–দুইজন,– একা!"
নিজের সাথে দ্বন্দ্ব বোঝাপড়াতে এই বিশুদ্ধতম কবি চলে আসেন অবলীলায়, "আলো-অন্ধকারে যাই–মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে!" কিংবা আমার প্রিয় কবিতা 'আট বছর আগের একদিন'এ, "যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের– মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা", "জানি– তবু জানি নারীর হৃদয়–প্রেম–শিশু–গৃহ–নয় সবখানি; অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়– আরো এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে; আমাদের ক্লান্ত করে।"
ব্যক্তিগতভাবে 'রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো ভেতরে টানে খুব। অশ্বথ, কলমীদাম, চালতা-চাঁপাফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, শালিখ, শরবন, পরথুপী মধুকূপী ঘাস, সোনালী চিল, ভোরের বক মাছরাঙা, দাঁড়কাক, কাঁচপোকা, পুরানো কোটরের পেঁচা, নরম ধানের গন্ধ, পুকুরের জল, হাঁসের পালক, পুরাণকথা, জলসিঁড়ি, ধানসিঁড়ি, ধলেশ্বরী, কীর্তিনাশা নদী, করমচা, শামুক, মেঠো ইঁদুর, গুগলি কচি তালশাঁস, বেলকুঁড়ি কি নেই তার কবিতায়! এই কবিতাগুলো প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি নিয়ে যায়। রূপসী বাংলার বিভিন্ন কবিতা, "আমি চ'লে যাব ব'লে চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে নরম গন্ধের ঢেউয়ে?", "ভিজে পেঁচা শান্ত স্নিগ্ধ চোখ মেলে কদমের বনে শোনাবে লক্ষ্মীর গল্প", "লাল-লাল বটের ফলের ব্যথিত ক্লান্ত নীরবতা", "বিষণ্ণ মলিন ক্লান্ত কি যে সত্য সব", "বঁইচির বনে আমি জোনাকির রূপ দেখে হয়েছি কাতর", "শুকতারা নিভে গেলে কাঁদে কি আকাশ?", "পাড়াগাঁর দু'পহর ভালোবাসি–রৌদ্রে যেন ভিজে বেদনার গন্ধ লেগে আছে।" কবি নিজের বিষণ্ণতায়, মলিনতায় প্রকৃতির কাছে মুক্তি পেয়েছেন,"পৃথিবীর পথে আমি কেটেছি আঁচড় ঢের, অশ্রু গেছি রেখে : তবু ঐ মরালীরা কাশ ধান রোদ ঘাস এসে এসে মুছে দেয় সব।"
আমার ওনার কবিতার সবচেয়ে যেটা ভালো লাগে সেটা হচ্ছে উপমা-রূপকের প্রয়োগ। আমাদের চারপাশের নিত্য সূক্ষ্ম উপাদানগুলো কি সুনিপুণভাবে তিনি ব্যবহার করেছেন! "অলস মাছির শব্দে ভ'রে থাকে সকালের বিষণ্ণ সময়, পৃথিবীরে মায়াবীর নদীর পারের দেশ ব'লে মনে হয়!", অথবা, "দূর সাগরের শব্দ–শতাব্দীর তীরে এসে ঝরে", "...কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়: মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জোছনার প্রান্তরে", "যেইখানে কল্কা পেড়ে শাড়ি প'রে কোন এক সুন্দরীর শব চন্দন চিতায় চড়ে–আমের শাখায় শুক ভুলে যায় কথা; যেইখানে সবচেয়ে বেশি রূপ–সবচেয়ে গাঢ় বিষণ্ণতা...", অথবা, " মানুষের হৃদয়ের পুরানো নীরব বেদনার গন্ধ ভাসে।", "মাছরাঙাটির সাথী ম'রে গেছে–দুপুরের নিঃসঙ্গ বাতাসে তবু ঐ পাখিটির নীল লাল কমলা রঙের ডানা স্ফুট হয়ে ভাসে..", অথবা, "সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতোন সন্ধ্যা আসে", "পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে; আবার তাহারে কেন ডাকো? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে?" অথবা, "বেবিলনে একা একা এমনি হেঁটেছি আমি রাতের ভিতর কেন যেন; আজো আমি জানি নাকো হাজার হাজার ব্যস্ত বছরের পর।" এরকম অসংখ্য প্রিয় পঙক্তি মাথায় চুপ করে বসে থাকে।
আমার কাছে কবিতা মানেই জীবনানন্দ। কবিতা পড়তে ইচ্ছে হলেই এই বই খুলে কয়েক লাইন পড়ে নেই। বিষণ্ণতায়, ক্লান্তিতে, দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জীবনানন্দ চলে আসেন ত্রাতা হিসেবে। বয়স, পারিপার্শ্বিক কারণে কবিতাগুলো একেকসময় একেকরকম লাগে। এখনো পড়তে গেলে নতুন করে আবিষ্কার করি তাকে। সে থাকুক এমনই ইনসোমনিয়াক রাতের বিষন্নতার খোরাক হয়ে। শেষমেষ বর্তমান দোদুল্যমান জীবনে যেটা চাই,
"আমি অত তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।
জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই বহন করে করুক: আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।”
এরপর আরও কয়েকবছর পর জীবনানন্দের প্রকাশিত অপ্রকাশিত কবিতাসমগ্রের সাথে জানাশোনা। একেকটা কবিতায় যে কতোবার মুগ্ধ হওয়া! প্রথমবারের ভালোবাসার মোহ কেটে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গে তাকে ফিরে পাওয়া, "প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়, হয় নাকি?" কিংবা "শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে- বলিলাম : একদিন এমন সময় আসিয়ো তুমি, আসিবার ইচ্ছা যদি হয়! পঁচিশ বছর পরে।" অথবা, "রাত ঢের, বাড়িবে আরো কি এই রাত! – বেড়ে যায়, তবু চোখাচোখি হয় নাই দেখা আমাদের দুজনার!–দুইজন,– একা!"
নিজের সাথে দ্বন্দ্ব বোঝাপড়াতে এই বিশুদ্ধতম কবি চলে আসেন অবলীলায়, "আলো-অন্ধকারে যাই–মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে!" কিংবা আমার প্রিয় কবিতা 'আট বছর আগের একদিন'এ, "যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের– মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা", "জানি– তবু জানি নারীর হৃদয়–প্রেম–শিশু–গৃহ–নয় সবখানি; অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়– আরো এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে; আমাদের ক্লান্ত করে।"
ব্যক্তিগতভাবে 'রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো ভেতরে টানে খুব। অশ্বথ, কলমীদাম, চালতা-চাঁপাফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, শালিখ, শরবন, পরথুপী মধুকূপী ঘাস, সোনালী চিল, ভোরের বক মাছরাঙা, দাঁড়কাক, কাঁচপোকা, পুরানো কোটরের পেঁচা, নরম ধানের গন্ধ, পুকুরের জল, হাঁসের পালক, পুরাণকথা, জলসিঁড়ি, ধানসিঁড়ি, ধলেশ্বরী, কীর্তিনাশা নদী, করমচা, শামুক, মেঠো ইঁদুর, গুগলি কচি তালশাঁস, বেলকুঁড়ি কি নেই তার কবিতায়! এই কবিতাগুলো প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি নিয়ে যায়। রূপসী বাংলার বিভিন্ন কবিতা, "আমি চ'লে যাব ব'লে চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে নরম গন্ধের ঢেউয়ে?", "ভিজে পেঁচা শান্ত স্নিগ্ধ চোখ মেলে কদমের বনে শোনাবে লক্ষ্মীর গল্প", "লাল-লাল বটের ফলের ব্যথিত ক্লান্ত নীরবতা", "বিষণ্ণ মলিন ক্লান্ত কি যে সত্য সব", "বঁইচির বনে আমি জোনাকির রূপ দেখে হয়েছি কাতর", "শুকতারা নিভে গেলে কাঁদে কি আকাশ?", "পাড়াগাঁর দু'পহর ভালোবাসি–রৌদ্রে যেন ভিজে বেদনার গন্ধ লেগে আছে।" কবি নিজের বিষণ্ণতায়, মলিনতায় প্রকৃতির কাছে মুক্তি পেয়েছেন,"পৃথিবীর পথে আমি কেটেছি আঁচড় ঢের, অশ্রু গেছি রেখে : তবু ঐ মরালীরা কাশ ধান রোদ ঘাস এসে এসে মুছে দেয় সব।"
আমার ওনার কবিতার সবচেয়ে যেটা ভালো লাগে সেটা হচ্ছে উপমা-রূপকের প্রয়োগ। আমাদের চারপাশের নিত্য সূক্ষ্ম উপাদানগুলো কি সুনিপুণভাবে তিনি ব্যবহার করেছেন! "অলস মাছির শব্দে ভ'রে থাকে সকালের বিষণ্ণ সময়, পৃথিবীরে মায়াবীর নদীর পারের দেশ ব'লে মনে হয়!", অথবা, "দূর সাগরের শব্দ–শতাব্দীর তীরে এসে ঝরে", "...কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়: মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জোছনার প্রান্তরে", "যেইখানে কল্কা পেড়ে শাড়ি প'রে কোন এক সুন্দরীর শব চন্দন চিতায় চড়ে–আমের শাখায় শুক ভুলে যায় কথা; যেইখানে সবচেয়ে বেশি রূপ–সবচেয়ে গাঢ় বিষণ্ণতা...", অথবা, " মানুষের হৃদয়ের পুরানো নীরব বেদনার গন্ধ ভাসে।", "মাছরাঙাটির সাথী ম'রে গেছে–দুপুরের নিঃসঙ্গ বাতাসে তবু ঐ পাখিটির নীল লাল কমলা রঙের ডানা স্ফুট হয়ে ভাসে..", অথবা, "সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতোন সন্ধ্যা আসে", "পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে; আবার তাহারে কেন ডাকো? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে?" অথবা, "বেবিলনে একা একা এমনি হেঁটেছি আমি রাতের ভিতর কেন যেন; আজো আমি জানি নাকো হাজার হাজার ব্যস্ত বছরের পর।" এরকম অসংখ্য প্রিয় পঙক্তি মাথায় চুপ করে বসে থাকে।
আমার কাছে কবিতা মানেই জীবনানন্দ। কবিতা পড়তে ইচ্ছে হলেই এই বই খুলে কয়েক লাইন পড়ে নেই। বিষণ্ণতায়, ক্লান্তিতে, দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জীবনানন্দ চলে আসেন ত্রাতা হিসেবে। বয়স, পারিপার্শ্বিক কারণে কবিতাগুলো একেকসময় একেকরকম লাগে। এখনো পড়তে গেলে নতুন করে আবিষ্কার করি তাকে। সে থাকুক এমনই ইনসোমনিয়াক রাতের বিষন্নতার খোরাক হয়ে। শেষমেষ বর্তমান দোদুল্যমান জীবনে যেটা চাই,
"আমি অত তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।
জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই বহন করে করুক: আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।”
August 5, 2021
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—
আরো এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
ক্লান্ত—ক্লান্ত করে;
আরো এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
ক্লান্ত—ক্লান্ত করে;
November 28, 2012
I am not worthy of reviewing a masterpiece like this. These poems have accompanied me in almost every situation, and yet, after all these days, I still feel like missing out most of the images that had been beheld by the poet while he had composed these poems. Highly Recommended to anyone who has felt the touch of unseen while watching the descent of fog on a field or the timid rising of stars amidst a sky going blue-black.
June 26, 2022
ইহা নিয়া আর নতুন করিয়া কি লিখিবো? আমার টেবিলের একটা বিশেষ স্হান জুড়িয়াই তো কয়েকবছর যাবত এই মহান কবির কবিতাসমগ্রখানা বিস্তার করিতেছে। রোজ ইহার ভেতর হইতে অন্ততপক্ষে একটি করিয়া কবিতা না পড়িলে হৃদয়ের একুলওকুল অসাড় যান্ত্রিকতায় কালি হইয়া যায়। বরং ইহা নিয়া আমার কোনো সমালোচনাবাক্য লিখিতেছি না। কেবল আলস্যবসত কয়েকটি বাক্য লিখার জন্যই লিখিলাম।
August 22, 2016
This is my first book of poetry which my elder sister received as a birthday present from my mom. I was in Grade 2 then so it was hard for me to read the poems. So my Mom read out one or two for me. "আবার আসিব ফিরে" is the poem I love the most. My Papa used to recite "বনলতা সেন" a lot. I still can hear the way he used to pronounce each word like I can visualize everything. It is a must read for anyone who has an interest in Bengali poetry. I recommend it to everyone who can read Bangla. So I revisited childhood by reading this poetry book again. This time I found it more meaningful. To me, the book seemed like an old friend. This time I found this poem.
অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ
- জীবনানন্দ দাশ
অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই - প্রীতি নেই - করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব'লে মনে হয়
মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ
- জীবনানন্দ দাশ
অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই - প্রীতি নেই - করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব'লে মনে হয়
মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
July 14, 2020
[৯৪১ পৃষ্ঠার পিডিএফ পড়তে লেগেছে মাত্র দুই বছর 😁😁 তাও আবার অনেকটুকুই বাদ দিয়েছি 😂😂]
______________
হাতটি রেখে হাতে! দেখিনি তার মুখখানি তো, পাইনি তাহারেরে টের...
.
মনে হয় শুধু আমি,আর তুমি
আর ঐ আকাশের পউষ-নীরবতা
রাত্রির নির্যনযাত্রী তারকার কানে কানে কত কাল
কহিয়াছি আধো আধো কথা।
আজ কি ভুলে গেছ প্রিয়া
.
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার- তখন আবার যদি দেখা হয় তোমর -আমার! ..
.
তোমার পাখনায় আমার পালক,আমার পাখায় তোমার রক্তের স্পন্দন..
.
বিলুপ্ত ধূসর কোন পৃথিবীর শেফালিকা,আহা,
ফাল্গুনের জ্যোৎস্নায় হরিণেরা জানে শুধু তাহা।
.
আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন-কতোদিন আমিও তোমাকে খুঁজি নাকো;--এক নক্ষত্রের নিচে তবু---একই আলো পৃথিবীর পারে আমরা দুজনে আছি ;পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়; প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয় ;
হয় নাকি?
______________
হাতটি রেখে হাতে! দেখিনি তার মুখখানি তো, পাইনি তাহারেরে টের...
.
মনে হয় শুধু আমি,আর তুমি
আর ঐ আকাশের পউষ-নীরবতা
রাত্রির নির্যনযাত্রী তারকার কানে কানে কত কাল
কহিয়াছি আধো আধো কথা।
আজ কি ভুলে গেছ প্রিয়া
.
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার- তখন আবার যদি দেখা হয় তোমর -আমার! ..
.
তোমার পাখনায় আমার পালক,আমার পাখায় তোমার রক্তের স্পন্দন..
.
বিলুপ্ত ধূসর কোন পৃথিবীর শেফালিকা,আহা,
ফাল্গুনের জ্যোৎস্নায় হরিণেরা জানে শুধু তাহা।
.
আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন-কতোদিন আমিও তোমাকে খুঁজি নাকো;--এক নক্ষত্রের নিচে তবু---একই আলো পৃথিবীর পারে আমরা দুজনে আছি ;পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়; প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয় ;
হয় নাকি?
February 28, 2020
“অনন্ত জীবন যদি পাই আমি—তাহলে অনন্তকাল একা
পৃথিবীর পথে পথে আমি ফিরি যদি দেখিব সবুজ ঘাস
ফুটে ওঠে—দেখিব হলুদ ঘাস ঝরে যায়—দেখিব আকাশ
শাদা হয়ে ওঠে ভোরে—ছেঁড়া মুনিয়ার মতো রক্ত-রেখা
লেগে থাকে বুকে তার সন্ধ্যায়—বারবার নক্ষত্রের দেখা
পাব আমি; দেখিব অচেনা নারী আলগা খোপার ফাঁস
খুলে ফেলে চলে যায়—মুখে তার নাই আহা গোধুলির নরম আভাস।
অনন্ত জীবন যদি পাই আমি—তাহলে অসীমকাল একা
পৃথিবীর পথে যদি ফিরি আমি—ট্রাম বাস ধুলো
দেখিব অনেক আমি—দেখিব অনেকগুলো
বস্তি, হাট—এঁদো গলি ভাঙা কলকী হাড়ি
মারামারি গালাগালি ট্যারা চোখ, পচা চিংড়ি—কত কি দেখিব নাহি লেখা
তবুও তোমার সাথে অনন্তকালেও আর হবে নাকো দেখা।”
.
পৃথিবীর পথে পথে আমি ফিরি যদি দেখিব সবুজ ঘাস
ফুটে ওঠে—দেখিব হলুদ ঘাস ঝরে যায়—দেখিব আকাশ
শাদা হয়ে ওঠে ভোরে—ছেঁড়া মুনিয়ার মতো রক্ত-রেখা
লেগে থাকে বুকে তার সন্ধ্যায়—বারবার নক্ষত্রের দেখা
পাব আমি; দেখিব অচেনা নারী আলগা খোপার ফাঁস
খুলে ফেলে চলে যায়—মুখে তার নাই আহা গোধুলির নরম আভাস।
অনন্ত জীবন যদি পাই আমি—তাহলে অসীমকাল একা
পৃথিবীর পথে যদি ফিরি আমি—ট্রাম বাস ধুলো
দেখিব অনেক আমি—দেখিব অনেকগুলো
বস্তি, হাট—এঁদো গলি ভাঙা কলকী হাড়ি
মারামারি গালাগালি ট্যারা চোখ, পচা চিংড়ি—কত কি দেখিব নাহি লেখা
তবুও তোমার সাথে অনন্তকালেও আর হবে নাকো দেখা।”
.
June 21, 2024
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে, পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে। জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা অন্য সবাই বহন করে করুক; আমি প্রয়োজন বোধ করি না:
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে নক্ষত্রের নিচে।
-জীবনানন্দ দাশ
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে, পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে। জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা অন্য সবাই বহন করে করুক; আমি প্রয়োজন বোধ করি না:
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে নক্ষত্রের নিচে।
-জীবনানন্দ দাশ
January 17, 2021
'... তুমি তা জান না কিছু, না জানিলে, –
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে!
যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে,
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের 'পরে শুয়ে রবে?
অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার! '
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে!
যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে,
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের 'পরে শুয়ে রবে?
অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার! '
September 24, 2021
এক জীবন অথবা কয়েক জীবন কাটিয়ে দিতে পারি কবি ও কবিতার প্রেম নিয়ে ...
June 25, 2023
No words describe him; I cannot comment on his creation.
June 11, 2024
এই বই নিয়ে লেখার যোগ্যতা নেই।
October 19, 2013
How to read??
April 29, 2014
Fanyastic
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 18 of 18 reviews

















