Nabaneeta Dev Sen is an award-winning Indian poet, novelist and academic. Sen has published more than 80 books in Bengali: poetry, novels, short stories, plays, literary criticism, personal essays, travelogues, humour writing, translations and children’s literature. Her short stories and travelogues are a rare combination of fine humour, deep human concern, and high intellect, which has made her a unique figure in the Bangla literary scene.
She is a well-known children's author in Bengali for her fairy tales and adventure stories, with girls as protagonist. She has also written prize-winning one-act plays.
নবনীতা দেব সেনের গদ্যের সাথে এই প্রথম পরিচয়। তিনি গদ্য লেখেন অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে। ঘরোয়া একটা টান আছে। তবুও 'নবনীতার নোটবই' ভালো লাগেনি। কারণ-
১. নোটবইয়ের অনেকগুলো লেখা হলো, কলকাতা কিংবা ভারতকেন্দ্রিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তাঁর কলামধর্মী মন্তব্য। আমি নিজে বাংলাদেশের মানুষ। তাই খুবএকটা আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। ভারতীয় পাঠকের অনুভূতি হয়তো ভিন্ন হবে।
২. বাংলাদেশ এবং বাঙালি মুসলমান নিয়ে নবনীতা দেব সেনের দৃষ্টিভঙ্গিটা অনুদার নয়। কিন্তু ঔদার্য তিনি দেখিয়েছেন, এমন বলাও সত্যের অপলাপ হবে। অতিসূক্ষ্মভাবে বাংলাদেশ এবং মুসলমানকেন্দ্রিক হেয় দৃষ্টি চোখে লেগেছে। যখনই বাংলাদেশ এবং মুসলিম বিষয় দুটি এসেছে, নবনীতা দেব সেনের কলম ভিন্নরূপ নিচ্ছিল। পড়ার সময় মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন। ধরতে পারবেন।
৩. ভাবভঙিতে নবনীতা দেব সেনকে উদারবাদীই বলা যায়। নারীবাদীতায়ও কম যান না। কিন্তু ভারতে জে কে রাউলিংয়ের হ্যারি পটার সিরিজের বিক্রি নিয়ে যা লিখছেন তাকে কীভাবে ব্যাখা করব? নিজে নারী লেখিকা এবং কট্টর নারীবাদী হয়েও আরেকজন নারী লেখিকাকে যে ভাষায় আক্রমণ করলেন তাতে নবনীতা দেব সেনের উদারবাদীতা এবং নারীবাদীতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়।
৪. কিছু লেখা পড়ে মনে হচ্ছিল, কেন লিখছেন তা তিনি নিজেই স্পষ্ট নন। অপ্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ের অবতারণা করে বইটাকে বড় করেছেন। কিন্তু পাঠককে বিরক্ত করতে ছাড়েন নি।
A collection of candid monologues that contain the trademark mix of humour, self-depracation and erudition that only the author can achieve so effortlessly. Recommended to any lover of Bengali non-fiction.
প্রবন্ধ , স্মৃতিকথা , ভ্রমণের কাহিনী - এই তিন ধাঁচের লেখা একসাথে ছিল নোটবইতে । অনেকটা এসময়ের ফেসবুক নোটসের মতন । (3.5 / 5)
একদম শুরুর লেখাটা চোখে খুব গেঁথেছে । ইন্দোরের ছেলে সৌরভকে ইরাকি ভেবে কিছু বর্ণবাদী আমেরিকানের বেধড়ক পিটানোর ঘটনাটা । এই প্রবল জাত্যাভিমানের বীজ এখনও অনেকের মাঝেই তো আছে। নাহলে ট্রাম্পই বা নির্বাচিত হয় কিভাবে ! নিশ্চয়ই যারা ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছে তাদের কেউ কেউ কম-বেশি ঠিক একই রকম চিন্তা করে । Humans of NewYork এও এরকম একটা পোস্ট দেখেছিলাম - অভিবাসীদের কে কোন কোন (হয়ত অনেক, হয়ত না) আমেরিকান তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা, বাসস্থান, চাকরি-বাকরির প্রতিবন্ধক মনে করে ।
অনেক রকমের লেখা ছিল, ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক , সামাজিক অনাচারের বিপক্ষে লেখক লিখেছেন, সেসব ঘটনার ব্যাপারে তাঁর মানবীয় অবস্থান ও অনুভূতিগুলো সবার সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। এই অংশটা পড়তে খুবেকটা ভাল লাগছিল না। মনে হচ্ছিল এইসব খারাপ খবর দেবার জন্য পেপার তো আছেই। পরে মনে হল, এটারও তো দরকার আছে। আমরা সবসময় কাগজে কলমে লেখক সাহিত্যিকদের যেই মহান সামাজিক দায়িত্ব ও সচেতনতা বোধ তৈরির কথা পড়ি , খুব কম লেখককেই সেই দায়িত্ব পালন করতে দেখি, বলতে গেলে অনেককেই আসলে সেই ভূমিকায় দেখি না । সমসাময়িক অন্যায় অনাচার গুলো নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মত প্রকাশের একটা সুযোগ এখন আছে । কিন্তু যে কোন যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মত ফেসবুকও তো একটা স্ট্যাটাস ট্রেন্ড ফলো করে। কাল নতুন খবরের ভিড়ে আজকের ঘটনাগুলো আবার চাপা পড়ে যেতে থাকে, আর এভাবেই চলতে থাকে ।
আর পশ্চিমবঙ্গের লেখিকা সংঘ সই এর উদ্যোগে একদম মেয়েদের লেখা নিয়ে , মেয়েদের লেখা, মেয়েদের প্রকাশনায় আয়োজিত বইগুলো নিয়ে শান্তি সম্প্রীতির থিম নিয়ে গড়ে ওঠা 'সইমেলা-বইমেলা' র কথা জেনে খুব ভালো লেগেছে । ১৯২৯ সালে লেখা ভার্জিনিয়া উলফের A Room of One's Own এর আজ প্রায় ৮৮ বছর পরেও একজন নারী লেখকের যে এখনও তার ঘর সংসারের , কর্ম ক্ষেত্রের সবদিক সামলে লেখার জন্যে মনোনিবেশ করার জন্য একজন পুরুষ লেখকের মত অনেকখানি সময়, সুবিধা পাওয়া হয়ে ওঠে না ; লেখার উপর আরোপিত নানাবিধ ট্যাবুসহ আরও নানা প্রতিবন্ধকতা উঠে এসেছে ।
এই বইয়ে আছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টুকরো টুকরো কিছু লেখা, যেগুলো একসময়ে প্রকাশিত হয়েছিল বাংলা লাইভের ই পত্রিকায়। পরবর্তীকালে সেই লেখাগুলো জড়ো করে বই হিসেবে প্রকাশ করা হয়। একেবারে দৈনন্দিন জীবনে লেখিকার সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা, স্মৃতিচারণা, বা কাগজে পত্রিকায় পড়া কোন খবরের ব্যাপারে লেখিকার মনোভাব, আনন্দ- অনুভূতি- সুখ- দুঃখের কথা, সব পাওয়া যায় এই বইয়ে।
একদম শুরুতে তিনি লিখেছেন দুঃখের কাহিনী। মার্কিন মুলুকে সৌরভ নামের একটি ছেলের নৃশংস খুন হওয়া নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তারপর এসেছে হরেকরকম প্রসঙ্গ-
এসেছে তাঁর নিজের বাড়ি ‘ভালো বাসার’ কথা, রয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির কথা, তাঁর সন্তানদের কথা । কোথাও নতুন ধরণের দেহব্যাবসার হুজুগ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন , কখনও আবার আজকালকার বাচ্চাদের হাতে অতিরিক্ত ‘পকেট মানি’ দেওয়ার সিদ্ধান্ততে দ্বিমত পোষণ করেছেন। কোথাও আবার উঠে এসেছে লেখিকার বিভিন্ন সফরে ঘটে যাওয়া দারুণ সব মজার ঘটনার গল্প।
তাঁর লেখনীটি ছিল খুব ঘরোয়া স্নিগ্ধ ও প্রাণোবন্ত। ঠিক যেমনটি আমরা রোজকার ডাইরিতে লিখি, নিজের মনের কথা উজাড় করে দিই ডাইরির পাতায়, তিনিও সেভাবেই নোটবই লিখেছেন। এই বইয়ে লেখিকার অনেক কথা বা মতামত রয়েছে যেগুলোর সাথে পাঠক সহমত যেমন হতে পারেন তেমন আবার দ্বিমতও হতে পারেন। নবনীতা দেবী তাঁর পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখেশুনে যা লিখছেন, শুধু একটি নোটবইয়ে মনের কথাগুলো খুলে লিখেছেন, তার সাথে আপনার মতামত যে মিলবেই এমন তো নয়। তাই সেই ক্ষেত্রে আপনাকে অনুরোধ করব যে আপনি বইটি খোলা মন নিয়ে পড়তে বসুন। তাঁর সব কথা মেনে নিতে নাই বা পারলেন, তাঁর ঘরোয়া, হাস্যরসে ভরপুর লেখনী উপভোগ করতে বইটি পড়তে পারেন।
অনেকেই দেখি বইটিকে প্রবন্ধের বই বলছেন, আমার কাছে তো স্মৃতিকথামূলক বই মনে হয়েছে। কিছু কিছু লেখা অবশ্যই প্রবন্ধের মতো করে লেখা হয়েছে, সেগুলো পড়ে অনেক কিছু জেনেছি, প্লুরালিজম, বাংলা শিশু সাহিত্য, রবীন্দ্রনাথ বা শান্তিনিকেতনের ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক অনুষ্ঠানাদি, বলিউডি সিনেমায় মুসলমান ধর্ম নিয়ে ভাবনা চিন্তা এই বষয়ে লেখাগুলো খানিকটা প্রবন্ধের আকার পেয়েছে, বাকি সব তো একেবারেই স্মৃতিকথা! এটা মাথায় রেখে পড়লে ভালো লাগে। প্রবন্ধ ভাবলেই আর সেই ভালো লাগা টা থাকে না।
নবনীতা দেবসেন লেখালিখিতে বেশ সাবলীল। চায়ে চুমুক দিতে দিতে পাঠ করার মত প্রবন্ধসমগ্র।প্রবন্ধ মানেই যে বিশাল জ্ঞ্যানগর্ভ বক্তৃতা মানসপটে ভেসে ওঠে সেরকম কিছু না , বরং টুকরো টুকরো দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খসড়া। সেকারনেই এর নাম নোটবই। কলকাতাকেন্দ্রিক রচনা হওয়ার কারনে লেখনীর পরিবেশের সাথে সংযুক্ত হতে সমস্যা হয় তবে বাঙালির বাস বিধায় ও বাংলা হোক আর এ বাংলা- চারিত্রিক সাদৃশ্য অবস্থানগত অসঙ্গতিকে অগ্রাহ্য করতে সাহায্য করে।