Jump to ratings and reviews
Rate this book

Humayun Ahmed (Chronological List) #49

অনিল বাগচীর একদিন

Rate this book
বইটা পড়ার পড়ে একটা জিনিস আমার কাছে খোলাসা হলো। সকল দেশেই কোন না কোন কারণে অযথা দাঙ্গা-বিদ্রোহ লেগেই রয়েছে। ৭১-এর ব্যাপারটাও তারই ধারাবাহিকতা ছিল ... মানুষ ধংসাত্বক সেই পৃথিবীর শুরু থেকেই। নানা কারনে নানা অজুহাতে তারা পৃথিবীর বুকে এই ধংসলীলা চালিয়েছে, চালিয়ে যাচ্ছে। ৪৭' এর ভাগ, বাংলা ভাষাকে অগ্রাহ্য করা, পরবর্তী পাকিস্তান স্বৈরশাসণসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানীদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানীদের যে সকল অত্যাচার-নির্যাতন, পরধর্মের প্রতি যে তীব্র বিতৃষ্ণা এসব থেকে সত্যিই আমাদের মুক্তির দরকার ছিল। দেশটা তারজন্যে স্বাধীন করা অতি প্রয়োজন ছিল। তবে আদৌ সেই স্বাধীনতার মুখ আমরা দেখেছি কিনা, তা একটা চিরকালীন প্রশ্ন রয়েই গেল। ৭১-কে কেন্দ্র করে আমরা সবসময়ই একেকটা জাতি-দলকে দোষারোপ করে আসছি। এটা কিন্তু ঠিক নয়। সকল বিহারীই কিন্তু গলাকাটা রাজাকার ছিল না, গল্পের জোবায়েদ সাহেবের মতও কিছু বিহারী কিন্তু ছিল। 'ঘরের শক্র বিভীষণ'-হয়ে কিছু বাঙালী যেমন পাকিস্তানীদের হয়ে কাজ করেছিল, (এটা ছিল সেই সকল বাঙালীদের চূড়ান্ত ভুল) তেমনি মুক্তিবাহিনীর হয়েও অজস্র বাঙালী কিন্তু রাইফেল নিয়েছিল কাধে। গল্পের মূল চরিত্র হচ্ছে অনিল বাগচী, হিন্দু। পিতা সুরেশ বাগচী ও বোন অতশীকে ছেড়ে সে চাকরিজীবী হিসেবে ঢাকার এক মেচে থাকে। ২৪ বছরের একজন যুবক হওয়া সত্তেও সে অসম্ভব ভীতু ধরনের একটি ছেলে। ভয় পাওয়ার বেশিরভাগ ঘটনাই অহেতুক। যেমন, ঘরে একা থাকা অবস্থায় দরজায় সাধারণ টোকা পড়লেও তার ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। মেচের এক প্রতিবেশী গফুর সাহেবের নিকট হঠাৎ একদিন রুপেশ্বর থেকে একটি খোলা চিঠি আসে। সেই চিঠিতে অনিল বাগচীর জন্যে অপেক্ষা করছিল ভয়াবহ একটি দুঃসংবাদ। গফুর সাহেব পরদিন অনিল বাগচীকে সেই দুঃসংবাদ জানালে হঠাৎ করেই অনিল সাহসী হয়ে উঠে।

Hardcover

Published February 1, 1992

13 people are currently reading
400 people want to read

About the author

Humayun Ahmed

456 books2,942 followers
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.

Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.

Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.

Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.

Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.

Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
170 (19%)
4 stars
375 (42%)
3 stars
285 (32%)
2 stars
46 (5%)
1 star
7 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 53 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,118 reviews1,100 followers
April 5, 2019
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর অনিশ্চয়তা, মানবিকতা, স্বপ্ন, সম্প্রীতি প্রভৃতি অণুষঙ্গকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই শক্তিশালী উপন্যাসে। রীতিমত মন খারাপ করার মতো একটা বই। বেশ ভালোই লেগেছে।

অনিল বাগচী, হিন্দু। পিতা সুরেশ বাগচী ও বোন অতশীকে ছেড়ে সে চাকরিজীবী হিসেবে ঢাকার এক মেচে থাকে। ২৪ বছরের একজন যুবক হওয়া সত্তেও সে অসম্ভব ভীতু ধরনের একটি ছেলে। ভয় পাওয়ার বেশিরভাগ ঘটনাই অহেতুক। যেমন, ঘরে একা থাকা অবস্থায় দরজায় সাধারণ টোকা পড়লেও তার ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। মেচের এক প্রতিবেশী গফুর সাহেবের নিকট হঠাৎ একদিন রুপেশ্বর থেকে একটি খোলা চিঠি আসে। সেই চিঠিতে অনিল বাগচীর জন্যে অপেক্ষা করছিল ভয়াবহ একটি দুঃসংবাদ।

গফুর সাহেব পরদিন অনিল বাগচীকে সেই দুঃসংবাদ জানালে হঠাৎ করেই অনিল সাহসী হয়ে উঠে। পথে মিলিটারিদের চেকপোস্টসহ সকল পরিস্থিতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে রুপেশ্বরে রওয়ানা করে। চলমান....
Profile Image for শাহ্‌ পরাণ.
261 reviews75 followers
January 7, 2024
২০১০ সালের কথা, কলেজের বাস ভাড়ার টাকা জমিয়ে ৮০ টাকা দিয়ে Bob Dylan এর গানের CD কিনেছিলাম। Bob Dylan এর Like A Rolling Stone গানটা প্রথম শুনি। গানের একটা লাইন আমার মগজে চিরদিনের জন্য গেঁথে যায়,

When you ain't got nothing, you got nothing to lose.

জীবনের নানা বিপর্যয়ে এই লাইন আমাকে শক্তি দিয়েছে। আমার জীবনে কখনো হারানোর কোনো কিছুই ছিলো না, এখনো নাই। আমার মনে হয় মানুষের জীবনে আসলে হারানোর মত কোন কিছু কখনোই থাকে না। শুন্য হাতে এ পৃথিবীতে এসে আমরা অধিকার করে নেই নানা কিছু, যে অধিকার কসমিক স্কেল এর খুবই অল্প সময়ের জন্য আমাদের কাছে থাকলেও সেই অধিকার থেকে আমাদের মুক্তি আসে খুব দ্রুত এবং শূন্য হাতেই আমাদের ফিরতে হয়। সুতরাং জীবনে আমরা যাই পাই না কেন তাকে যে হারাতে হবে এর নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে। যে জিনিস হারানোর জন্য পেতে হয় তাকে হারাতে ভয় কোথায়? তবুও জীবনে আমরা পাওয়ার জন্য ছুটতে পারি, অনেক কিছু পেতেও পারি। যার জীবনে যত বেশি প্রাপ্তি, তার জীবনে সেসব প্রাপ্তির হারানোর কষ্টও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। এই প্রাপ্তির আনন্দ আর হারানোর ব্যাথা যে যত বেশি পেয়েছে সে জীবনের স্বাদ সবচেয়ে বেশি পেয়েছে এ ব্যাপারে আমার সাথে কারো দ্বিমত হওয়ার কথা না।
যাই হোক, বইয়ের মূল চরিত্র অনিল বাগচী। ছোটবেলা থেকেই ভীতু স্বভাবের এই ছেলেটির জীবনের একমাত্র অবলম্বন ছিল তার বাবা আর বোন। তার বাবার মৃত্যু যখন হলো তখন তার আর হারানোর কিছু রইলো না। মানুষের হারানোর কিছু না থাকলে তার আর কোনো পিছুটান থাকে না, ভয় থাকে না। তখন সে জীবনকে গ্রহণ করতে পারে হাসি মুখে, মৃত্যুকেও গ্রহণ করতে পারে হাসিমুখে।

বইয়ের ভালো লাগা লাইন:

জীবনে কিছু গোপন দুঃখ আছে; যা চিরকাল গোপন থাকে।

ভীত মানুষকে আরো বেশি ভয় পাইয়ে দেবার প্রবণতাও মানুষের মজ্জাগত।

যুদ্ধে অতি তুচ্ছ ব্যাপারে অবহেলা করতে নেই।

বাঙালিগুলো মহা অলস, একটু ভালো-মন্দ খেতে পারলে মহা খুশি, গল্প করার সুযোগ পেলে খুশি, রাজনীতি নিয়ে দু একটা কথা বলতে পারলে আনন্দে আত্মহারা, নিজের বউ নিয়ে বেড়াতে যাবার সময় আড়চোখে অন্যের স্ত্রীকে একটু দেখতে পারলে মহা আনন্দিত। তবে এদের রক্তের মধ্যে কিছু একটা আছে। বড় কোনো গণ্ডগোল আছে। মাঝে মাঝে এরা খেপে যায়। কিছু বুঝতে চায় না, শুনতে চায় না। সাহস বলে এক বস্তু যে এদের চরিত্রে নেই, সেই জিনিস কোথেকে চলে আসে।

এই পৃথিবীতে সবই নশ্বর, কিছুই টিকিয়া থাকে না, কেবল ভালোবাসা টিকিয়া থাকে।

এই সংসারে না বলে সহজে পার পাওয়া যায় না।

সৌন্দর্যের একটা অংশ থাকে, কখনো যার ছবি আঁকা যায় না।

অসম্ভব রূপবতী তরুণীর পাশে কাউকে মানায় না। পৃথিবীর সবচে' রূপবান তরুণকেও তার পাশে কদাকার লাগে।

বুঝলি অতসী, মানুষ কী করে জানিস? সুখের সময় সে শুধু সুখের কল্পনা করে। একটা সুখ তাকে দশটা সুখের কথা মনে করিয়ে দেয়। দুঃখের সময় সে শুধু দুঃখই কল্পনা করে। এটা ঠিক না। উল্টোটা করতে হবে।
Profile Image for Rifat.
502 reviews330 followers
May 16, 2023
২৪ বছর বয়সী ভীতু যুবক অনিল বাগচীর একটি দিন, যে দিনটি আজন্ম ভীতু যুবককে হুট করে সাহসী করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধ চলছে, চলছে ধরপাকড়, হত্যা সহ চলছে আরও অনেক কিছু। যারপরনাই এই যুবক আরও ভীত! কিন্তু হঠাৎ করে সকাল বেলায় অনিল নামের ছেলেটি সাহসী হয়ে ওঠে। না... মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার মতো কোনো বিপ্লবী ব্যাপার কিংবা তথাকথিত দেশপ্রেম নয়, তাকে সাহসী করে তোলে মেসের গফুর সাহেবের দেয়া একটি চিঠি।
আপনার নাম?
আমার নাম মোহাম্মদ জলিল মিয়া।
কি করেন?
আমি একজন ব্যবসায়ী আমার বাসাবোয় ফার্নিচারের দোকান আছে।
দেশের অবস্থা কি?
জনাব অবস্থা খুবই ভালো।
মুক্তিবাহিনী শহরে গেরিলা অপারেশন চালাচ্ছে, এটা কি সত্য?
মোটেই সত্য না।
একটা পেট্রল পাম্প তো উড়িয়ে দিয়েছে।
এগুলো হল আপনার দুষ্কৃতকারী।
আপনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপর সন্তুষ্ট?
জ্বি, জনাব। এরা দেশ রক্ষা করেছে। পাকিস্তান জিন্দাবাদ।
শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে আপনার কি অভিমত?
তিনি আমাদের ভুল পথে পরিচালনা করেছেন। ইহা উচিত হয় নাই।
আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ। পাকিস্তান জিন্দাবাদ।

মাইক্রোফোন এবার অনিলের কাছে এগিয়ে আনা হল।

আপনার নাম?
আমার নাম অনিল। অনিল বাগচী।
আপনি কি করেন?
আমি একটা ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করি। আলফা ইসুরেন্স।
দেশের অবস্থা কি?
দেশের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।
কেন বলছেন দেশের অবস্থা খারাপ?
স্যার, আপনি নিজে বুঝতে পাছেন না? আপনি কি রাস্তায় কোন শিশু দেখেছেন? আপনার কি চোখে পড়েছে হাসতে হাসতে, গল্প করতে করতে কেউ যাচ্ছে? শহরে কিছু সুন্দর সুন্দর পার্ক আছে। গিয়ে দেখেছেন পার্কগুলোতে কেউ আছে কি-না? বিকাল চারটার পর রাস্তায় কোন মানুষ থাকে না। কেন থাকে না?


বেশ লাগলো...

১৬ মে, ২০২৩
October 17, 2022
অনিল বাগচির একদিন, পড়ে কান্না চলে আসলো!!ভীতু ছেলেটা আর ভীতু থাকে না দেশের জন্য তার প্রাণে আসে শক্তি!! যে ছেলে কাকের ডাকে ভয় পায়, তার আজ মিলিটারি বাহিনী কে দেখে ভয় করছে না।কেননা এখন সব কিছু তার কাছে তুচ্ছ। অনিল বাবু
অলরেডি তার প্রাণ প্রিয় বাবা কে হারিয়েছে। অনিল হল সে বাবার ছেলে যিনি ১৯৬৫ সালে কলকাতা না গিয়ে এই দেশে থেকে গেছেন,আর শেষে প্রাণ হারিয়েছেন মিলিটারীর হাতে।এমন বাবার ছেলে হয়ে অনিল আর ভীতু হয়ে থাকতে পারেনি।
দেশ আজ স্বাধীন কিন্তু যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা তাদের আমরা কিছু দিতে পারি নি।
ভালো লাগার মত একটি বই।১৯৭১ সালে যে হত্যা যজ্ঞ চলেছিল, অনেকে বলবেন সেখানে ধর্মকে পাক হানাদাররা হাতিয়ার করেছিল, কিন্তু ঘটনাটি তা না; মুসলিমদের যে তারা ছেড়ে দিয়েছে এমনটা না।তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি সত্তার ধ্বংস। কিন্তু বাঙালি জাতির মধ্যে কিছু একটা তো আছে যা পাক-হানাদারদের সকল প্রচেষ্টা কে ব্যর্থ করেছিলো।
Profile Image for Anika.
29 reviews42 followers
February 10, 2018
হুমায়ুন আহমেদ কি নিজের বই লিখার সময় নিজে কাঁদতেন? আমি জানি না। ওনার লিখা পড়ার সময় আমার মনের যে অবস্থা হয়, তা লিখার সময় ওনার কেমন লাগত? একটা মানুষ কিভাবে অন্য একজন মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ বোধ হয় লেখকরা। 'অনিল বাগচীর একদিন' বইটা পড়ছি, আর এই কথাই ভাবছি। কেমন লাগে যখন জানা যায় যে সবচেয়ে কাছের, সবচাইতে ভালোবাসার, সবচাইতে নির্ভরতার মানুষটি আর নেই? কেমন লাগে সেই মুহূর্তটা? সময় থেমে যায়? নাকি মনে হয় সময় নামে কোন কিছুই নেই? পায়ের নিচে মাটি, মাথার উপর আকাশ বা শ্বাস নেয়ার প্রয়োজনীয়তা কিছুই কি আর অনুভব করা যায়? মানুষ কে এত ভালবাসা দিয়ে কেন বানালেন সৃষ্টিকর্তা? এত মায়ার বাঁধনে যখন বাঁধলেনই, তবে সব আবার কেড়ে নেন কেন? এত কষ্ট, এত কষ্ট!
মুক্তিযুদ্ধ বোধ হয় সবচাইতে সাহসী মানুষকে ভীতু আর সবচাইতে ভীতু মানুষটিকে ও সাহসী করে তুলেছিল। কী আশ্চর্য এক সময়। বেশীর ভাগ লেখকেরা এই সময়টার ইতিহাস ভিত্তিক দিক নিয়ে বেশী অবসেসড থাকেন, তাই বোধ হয় তাঁদের লেখনী একদম ভিতরের অথচ সবচেয়ে পরিচিত অনুভূতিগুলোকে নাড়া দিতে পারে না, আর এখানেই হুমায়ুন আহমেদের স্বার্থকতা। তিনি ডিটেইল এর দিকে মনযোগ দেয়ার থেকে, একদম র‍্য ইমোশন গুলোকে প্রাধান্য দেন। কি এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা এসে গ্রাস করে নেয় সমস্ত বাস্তবতা।
Profile Image for Ësrât .
516 reviews85 followers
December 13, 2021
অনীল বাগচির মতো এরকম একটা ভয়ে ভরা বিভীষিকাময় দিনের অনুভব একুশের শেষে বসে বোঝার মতো মনোভাবের সাথে অনেকের ই নিছক গল্প ,আবার অনেকের ই স্তব্ধ হয়ে থাকার এই সত্যিগুলো যতদিন রবে বাংলাদেশ;

"ততদিনে ই তারা আসবে চুপি চুপি মনের কানাগলির সবটা পথ ঘুরে দৈনন্দিন জীবনে।"

রেটিং: 🌟⭐🌠.৬০
১৩/১২/২১
Profile Image for Alvi Rahman Shovon.
476 reviews16 followers
January 9, 2024
সুন্দর একটা উপন্যাস। শেষটা পুরো চোখ ভিজিয়ে দিলো।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
275 reviews159 followers
September 21, 2022
❝মুক্তি কাঁদছে। হাত-পা ছুঁড়ে কাঁদছে। মুক্তি যার নাম, অবরুদ্ধ নগরীতে যার জন্ম, সে তো কাঁদবেই। কাঁদাটাই তো স্বাভাবিক।❞

অনিল বাগচী চাকরির সুবাদে ব্যাচেলর থাকেন বাসাবোতে। আমি বাসাবো হতে চলে এলাম এমাসেই, ব্যাচেলর-ই থাকতাম একা। বাসাবো এলাকাটায় একটা রহস্য আছে। কি রহস্য সেটা আমি বলবোনা।
অনিল বাগচী অত্যন্ত ভীতু প্রকৃতির মানুষ। অল্প ভয়েই বিরাট ধাক্কা খেয়ে যান। তার পিতা, পুত্রকে নিজের ছায়ায়, আদরে বড় করেছেন, কারণ জন্মের পর থেকেই পুত্রের মা নাই। সুরেশ বাগচী উদার শ্রেণীর একজন শিক্ষক। ছেলেকে বলেছেন 'Cowerds die many times before their death'। শেকসপিয়ার এর কথা। ছেলের কাজ রোজ সকালে এই উক্তি স্মরণ করে ভয় কাটানো। ছেলের ভয় কমেনাই।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ছেলে ঢাকার মেসে পড়ে আছে। সুরেশ বাগচী মেয়ে অতসীকে নিয়ে পড়ে আছেন রুপেশ্বর গ্রামে। একটা দিন, একটা চিঠি অনিল বাগচীকে পরিবর্তন করে দিল। অনিল বাগচী ভয় কি বেমালুম ভুলে গেলো!
মানুষের কখন যে কি হয় বলা মুসিবত।

সিনেমাটা দেখেছিলাম, অতটা মন টানেনাই। যতটা ছোট এই বইটা টেনেছে। একদম ক্লাসিক হুমায়ুন আহমেদীয় লেখা। একদম শেষ পাতা অব্দি লেখক হেয়ালি চালিয়ে যান, অপরূপ জোৎস্না দেখান। শেষ লাইনে পাঠককে পানিতে ফেলে দেন। পাঠক গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বলে, ফালতু লেখা। ডেপথ নাই! বহুদিন পর হুমায়ুন আহমেদ পড়লাম, ভালো লাগলো। আমার ধারণা, এই লেখার পর এরকম আরও গল্প বের হয়ে গেছে। কারণ গল্পটা আমি আরও কোথাও পড়েছি। তবে প্রচুর বানান ভুল। এতো ভুল যে, সুরেশ বাগচীর মতো শান্তশিষ্ট শিক্ষকও সঠিক বানানটা জিজ্ঞেস করতে লজ্জ্বা পেয়ে যেতেন।
Profile Image for Shotabdi.
826 reviews206 followers
August 29, 2021
মুক্তিযুদ্ধের বই আমি এড়িয়ে চলি। আমার নার্ভ বরাবরই দুর্বল। আমি নিতে পারিনা এত কষ্ট। অসহ্য যন্ত্রণা হয়। তবুও ভালো সাহিত্য এবং নিজের ইতিহাস জানার জন্য পড়তে হয়। হুমায়ূন আহমেদ এর বই পড়লে আমি বারবার ফিরে যাই আমার জীবনের এক সোনালি সময়ে। সেই সময়টুকুকে এই বর্তমান সময়ে উপভোগ করার জন্য আমি খুঁজে খুঁজে না পড়া হুমায়ূন বের করে মাঝে মাঝে পড়ি। ভালো লাগে।
Profile Image for Tuhin Khan.
53 reviews1 follower
March 15, 2025
একবারে বসে পড়ে শেষ করার মতো বই, এর মধ্যে হাস্যরস, দুঃখ হাল্কা সাস্পেন্স আছেই। একটু মন খারাপ ছিল তাই পড়ে শেষ করে ফেললাম।
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
288 reviews23 followers
October 1, 2024
কেউ পা টিপে টিপে হাঁটছে? অনিল বাগচী শুয়েছিল, উঠে বসল। তাঁর শরীর ঝিম ঝিম করছে, পানির পিপাসা লেগেছে। সামান্য শব্দেই তাঁর এখন এমন হচ্ছে। শরীরের কলকজা সম্ভবত সবই নষ্ট হয়ে গেছে। মাথার ভেতরটা সারাক্ষণ ফাঁকা লাগে। তাঁর নাক পরিষ্কার, সর্দি নেই, কিছু নেই, কিন্তু এই মুহুর্তে সে হা করে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।

আবার পায়ের শব্দ। শব্দটা কি বারান্দায় হচ্ছে না। রাস্তায় হচ্ছে? অনিলের কান এখন খুব তীক্ষ্ণ। অনেক দূরের শব্দও সে এখন পরিষ্কার শুনতে পায়। হয়ত রাস্তায় কেউ হেঁটে যাচ্ছে। কিন্তু রাতের বেলা কে হাঁটবে রাস্তায়? এখনকার রাত অন্যরকম রাত। দরজা জানালা বন্ধ করে বসে থাকার রাত। রাস্তায় হেঁটে বেড়াবার রাত না। কারণ যুদ্ধ চলছে।

কা-কা শব্দে কাক ডাকল। অনিল ভয়ংকর চমকে উঠল। এমন চমকে উঠার কিছু না। একটা কাক তাঁর জানালার বাইরে বাসা বেঁধেছে। সে তো ডাকবেই, কিন্তু কা-কা করে শব্দটা ঠিক যেন তাঁর মাথার ভেতর হয়েছে। কাকটা যেন তাঁর মগজে পা রেখে দাঁড়িয়েছিল। পিপাসায় বুক শুকিয়ে কাঠ।এতটা ভয় নিয়ে বেঁচে থাকা কি সম্ভব?

এই অনিল ছেলেটিকে খুব ভিতু মনে হচ্ছে তাই না? ছাব্বিশ বছরের তাগড়া যুবক অথচ ভয়ে যেন মূর্ছা যাবার অবস্থা। ছোটবেলা থেকেই অনিল খুব ভিতু। তাঁর শিক্ষক বাবা সবসময় ছেলেকে বোঝাতেন "কাপুরুষেরা মরে বার বার, বীরেরা মরে একবার" তবুও ছেলের ভয় কাটেনি।

বাঙালিগুলো মহা অলস, একটু ভালো-মন্দ খেতে পারলে মহাখুশি, গল্প করার সুযোগ পেলে খুশি, রাজনীতি নিয়ে দুএকটা কথা বলতে পারলে আনন্দে আত্মহারা, নিজের বউ নিয়ে বেড়াতে যাবার সময় আড়চোখে অন্যের স্ত্রীকে একটু দেখতে পারলে মহা আনন্দিত। তবে এদের রক্তের মধ্যে কিছু একটা আছে। বড় কোন গণ্ডগোল আছে। মাঝে মাঝে এরা ক্ষেপে যায়। কিছু বুঝতে চায় না, শুনতে চায় না। সাহস বলে এক বস্তু যে এদের চরিত্রে নেই সেই জিনিস কোথেকে চলে আসে।

জোবায়েদ ��ুঝতে পারছে সামনের দিন পাকিস্তানিদের জন্যে ভালো না। শুধু ভালো না বললে কম বলা হবে, সামনের দিনগুলো ভয়ংকর। আশ্চর্যের ব্যাপার, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কেউ তা ধরতে পারছে না। এরা এখন মোটামুটি সুপ্ত। দেশ দখলে নিয়ে এসেছে। থানা পর্যায়ে সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। চলে এসেছে মিলিশিয়া, রেঞ্জার পুলিশ। ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে কমান্ডো গ্রুপের সুশিক্ষিত সৈন্য। আরো আসছে। জাহাজ আসছে।

এই জোবায়েদ সাহেবের অফিসে কাজ করে অনিল। জোবায়েদ সাহেবের ধারণা এই পূর্ব পাকিস্তান একদিন স্বাধীন হয়ে যাবে। এই আশঙ্কায় আগেই ছেলে মেয়ে বউ করাচি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায় অবস্থা ভালো না। জোবায়েদ সাহেবের সাথে দেখা করতে এসেছেন এক পাঞ্জাবি কর্ণেল এলাহী।

জোবায়েদ সাহেব কর্ণেলকে প্রশ্ন করলেন যুদ্ধের সময় মেয়েদের উপর চলা অত্যাচার ঠিক কী না? কর্ণেল জবাবে বললেন "কিছু কিছু হয়ত হচ্ছে। ওয়ার ফেয়ারে এগুলো হয়। আমরা তো হাড়ুড়ু খেলছি না। যুদ্ধ করছি। এরা আমাদের শত্রুপক্ষ। এই দেশের মেয়েরা তো আমার শ্যালিকা নয়। শ্যালিকাদের সঙ্গেও যেখানে ফষ্টি-নষ্টি করার সুযোগ আছে সেখানে এদের সঙ্গে কেন করা হবে না। তুমি আমাকে বল।"

জোবায়েদ সাহেব আবার জিজ্ঞেস করলেন কর্ণেল কে তুমি নিজে কি কোন বাঙালি মেয়েকে রেপ করেছ? ঠিকঠাক জবাব দাও। তোমার হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। আগুন হাতে নিয়ে মিথ্যা বলাটা ঠিক হবে না।

কর্ণেল বললেন মিথ্যা বলতে চাচ্ছি। এই ধারণা তোমার হল কেন? মিথ্যা বলার তো তেমন প্রয়োজন দেখছি না। মেয়েদের সঙ্গ পেয়েছি। এবং পাচ্ছি। তবে আমি বাড়ি থেকে মেয়ে ধরে এনে রোপ করি না। উপহার হিসেবে আমার কাছে পাঠানো হচ্ছে।

কারা পাঠাচ্ছে?

এই দেশের মানুষই পাঠাচ্ছে। হা-হা-হা। হিন্দু

যুদ্ধের যখন এমন ভয়াবহ ব্যাপার তখন ভীতু অনিল চলেছে গ্ৰামের বাড়িতে। বাবাকে মিলিটারিরা মেরে ফেলেছে, বোন অতসী বিপদে আছে। অফিস থেকে কিছু টাকা আর বড় সাহেব দিলেন এক টিন চকলেট। অনিল চলেছে গ্ৰামের বাড়িতে, পথের মধ্যে কী হবে জানা নেই। অনিলের সব ভয় মূহুর্তে কেমন চলে গেছে। আপনজনের কাছে শেষমেশ যেতে পারবে তো সে?

🪻পাঠ প্রতিক্রিয়া 🪻

বাঙালির সাহিত্যের ইতিহাসে হুমায়ূন আহমেদ আজীবন এক জ্বলন্ত উজ্জ্বল নক্ষত্র। মানে কিছু কিছু মানুষকে সৃষ্টিকর্তা এত গুণ দিয়ে পাঠান যে দেখলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রই। এ লেখকের সবচেয়ে বড় গুণ কী ছিল জানেন লেখায়? অসাধারণ গল্প বলতে পারতেন। একটা সামান্য ঘটনা নিয়ে গোটা বই লিখে ফেলার প্রতিভা বোধহয় হুমায়ূন আহমেদের জন্মগত গুণ।

মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের কথা যদি বলতে চাই হুমায়ূন আহমেদের "জোছনা ও জননীর গল্প", "আগুনের পরশমণি", "দেয়াল" এসবের বাইরে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ছোট ছোট ঘটনাকে পুঁজি করে লিখেছেন আরো কিছু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ভালো বই। যেমন অনিল বাগচীর একদিন বইটি।

একটা মানুষের জাস্ট জীবনের একটা দিনের কিছু অংশ, কিন্তু এই বইটি আপনার ভালো লাগবে পাঠক হিসেবে এর দারুন লেখনী এবং গল্পের প্লট। এই বইয়ে সম্মুখ যুদ্ধ নেই কিন্তু একটা দেশের যুদ্ধকালীন সময়ের কিছু ঘটনা আছে। যেটা মনে করিয়ে দেবে যুদ্ধ আদৌ কতটা ক্ষত দিয়েছিল বাংলাদেশের বুকে।

যখন সেই পাঞ্জাবি কর্ণেল বলছে যুদ্ধে সবকিছু সহি। যুদ্ধে সব করা যাবে, মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করা কত সহজ তাঁর চোখে। কিংবা বাসের আয়ুব আলী। মিলিটারিদের ভয়ে অনিলকে যে বলেছিল নাম মুসলিম বলতে। একটা দেশের যুদ্ধকালীন সময়ে শুধু মুক্তিযোদ্ধারা নয়, বরং পুরো জাতি ভুক্তভোগী হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ সেই অস্থির সময়ের এক ঝলক দেখিয়েছেন অনিলের সঙ্গে।

ছোট মরিচের ঝাল বেশি তেমনি ছোট্ট এই বইটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। যুদ্ধকালীন সময়ের একটা সফর করে এলাম যেন আমিও। কত যে ঘটনা, কত কিছু যে একাত্তরের ওই সময়ে হয়েছে তার হিসাব মেলাতে হয়তোবা হিমশিম খেতে হবে।

হুমায়ূন আহমেদের লেখার ভক্ত এদেশে অগনিত আছে, থাকবে এবং লেখক হিসেবে ওনার লেখনী সবসময় স্বস্তিদায়ক। বেশ ভালো লাগলো মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে বইটি।

🪻বইয়ের নাম: "অনিল বাগচির একদিন"
🪻 লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
🪻 ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.১/৫
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews26 followers
Read
August 27, 2025
❛Cowards di e many times before their de aths; the valiant never taste of d eath but once❜

অনিলের বাবা সুরেশ বাগচী সবসময় তাকে শেকসপিয়রের এই উক্তিটা বলতেন। ছোটোকাল থেকেই অনিল বেশ ভীতু স্বভাবের। একদম সাধারণ জীবনযাপন করা অনিল এখন চব্বিশ বছর বয়সী তাগড়া জোয়ান। কিন্তু এখনো সেই ভয় রয়ে গেছে। দরজায় শব্দে, কাকের কা কা ডাকে এমনকি রাতে অন্ধকার ঘরে ঘুমোতেও সে ভীষণ ভয় পায়।
এই ভয় কাটবে কী করে?
ঢাকায় ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করে সে। রূপেশ্বর গ্রামে রেখে এসেছে বাবা এবং দিদি অতসীকে। অনিলের স্বপ্ন দেশের এই ঝামেলা শেষ হলে বাবা আর দিদিকে নিয়ে সে সব সুন্দর জিনিসগুলো দেখবে। আর বাবাকে বলবে দেখো এত সুন্দর দৃশ্যের চিত্র আঁকা সম্ভব না!
এই স্বপ্ন পূরণ হবে? দেশটায় তো হা য়েনার জুলু ম চলে।

ব্যবসায়ী জোবায়েদ চিন্তায় আছেন। কী হবে দেশটার? পাক বাহিনী যা করছে ঠিক না। বাঙালি অলস, আরামপ্রিয় হলেও এই বাঙালির র ক্তে কিছু একটা আছে যা হুট করেই তাদের একেবারে বদলে দেয়। এবারেও বাঙালির সেই অজানা স্বভাব প্রকাশ পাচ্ছে। জোবায়েদ ভেবে পায় না কী হবে।

গফুর সাহেব চিন্তা করছেন অনিলকে এই সংবাদ কী করে দিবেন?

অনিল যে একেবারে ভীতু, সহজ তরুণ একদিন ঘুম থেকে উঠে পাওয়া এক সংবাদে ছেলেটা কেমন রাতারাতি বদলে গেল! ভয় তার মাত্রা অতিক্রম করলে ভয়টা আর ভয় থাকেনা কি?
অনিল এগিয়ে যাচ্ছে। দিনটা একেবারেই অন্যরকম যাচ্ছে আজ।

পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❝অনিল বাগচীর একদিন❞ হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযু দ্ধভিত্তিক উপন্যাসিকা।
হুমায়ূন আহমেদের বই আলাদা করে রিভিউ করে সাহিত্যের মান যাচাই করার ইচ্ছে আমার নেই। পড়ার পর কেমন লেগেছে সেই অনুভূতিটাই বলতে আসা।
অনেক কঠিন কিছু পড়ার পর, বা একটু ভিন্ন অনুভূতির জন্য আমি হুমায়ূন তুলে নেই। তবে মন হালকা করতে উনার বই তুলে নিতে গিয়ে অনেকসময় ভারাক্রান্ত হয়ে যেতে হয়।
এই বইটাও তেমনি। অনিল বাগচী নামের এক হিন্দু ছেলের একটা দিনের ঘটনা নিয়ে লেখক বইটা সাজিয়েছেন। একজন ভীতু লোকের শুধু একটা সংবাদেই কেমন আমূল পরিবর্তন হয়ে যায় সেটা কী দারুণভাবে লেখক দেখালেন!
সুরেশ বাগচীর কথাগুলো এত বেশি ভালো লাগছিল। একজন বাবার দেয়া প্রশংসাপত্র এত সুন্দর হয়! আমি মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম।
বাঙালির আরামপ্রিয় মুড থেকে হুট করেই মাই রালামু মুডে ট্রান্সফার হওয়ার দারুণ একটা প্যারা ছিল। লেখকের সাথে এখানে সহমত। বাঙালির এমন হুট মুড সুইং যতবার হয়েছে ততবার পরিবর্তন এসেছে। এত বছর পরেও এই কথা সত্য।
গল্পের শেষটা বিষণ্ণ। হুমায়ূন আহমেদের বই পড়বো আর শেষটায় মন খারাপ হবে না তাও আবার একাত্তর নিয়ে লেখা বই সে কি হয়?
অনিল হেঁটে যাচ্ছে, কাক ডাকছে তার আর ভয় করছে না। আর কখনোই হয়তো সে ভয় পাবে না।


❛এক ভোরে উঠে হয়তো আরো অনেক অনিলের জীবন বদলে গেছিল। নিজের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে কিংবা ভয়কে জয় করে এগিয়েছিল বলেই ইতিহাস তৈরী হয়েছিল।❜
Profile Image for Israt Sharmin.
325 reviews1 follower
December 19, 2025
পছন্দের উক্তি....

বাঙালি জাতি হিসেবে ভয়ংকর। বাঙ���লিগুলি মহা অলস। একটি ভালো-মন্দ খেতে পারলে মহা খুশি, গল্প করতে পারলে খুশি, রাজনীতির দু-একটা কথা বলতে পারলে আনন্দে আত্মহারা। তবে এদের রক্তের মধ্যে কিছু একটা আছে। মাঝে মাঝে তারা ক্ষেপে যায়, কিছু বুঝতে চায় না, শুনতে চায় না। সাহস বলতে একটি বস্তু যে তাদের চরিত্রে নেই, এটি কোত্থেকে চলে আসে।
Profile Image for Afsan Ahmed .
40 reviews2 followers
July 23, 2025
শেষটা খুব কষ্ট দায়ক...
92 reviews6 followers
May 25, 2025
জীবন মাঝে মাঝে প্রচণ্ড ভীতু মানুষদেরও সাহসী করে দেয়!!!!
Profile Image for Sharothi.
6 reviews
Read
March 23, 2019
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত "অন���ল বাগচির একদিন" মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে ভীতু অনিলের অসম্ভবরকম সাহসী হয়ে উঠার গল্প।একাত্তরে বিশ্বাসঘাতক রাজাকারদের সহযোগীতায় পাকমিলিশিয়াদের নৃশংস নির্যাতন আর বর্বরতা বাংলার সর্বত্র।ভিটেমাটি আঁকড়ে থেকে যাওয়া সুরেশ বাগচি প্রাণ হারায় হানাদারদের গুলিতে।বাবার চিঠি পকেটে নিয়ে প্রাণের ভয়েও মিথ্যে বলা কিছুতেই হয়ে উঠে না অনিল বাগচির।মুক্তির আর্তনাদ,প্রিয়জন হারানোর অব্যক্ত যন্ত্রণা আর জোসনালোকিত গভীর সৌন্দর্যের মধ্যে মৃত্যুর দিকে হেঁটে যায় অনিল।সৌন্দর্যের একটা অংশ আছে,যার চিত্রায়ন কখনোই সম্ভব নয়।
Profile Image for NH Shoikot.
31 reviews9 followers
June 1, 2021
বই:- অনিল বাগচীর একদিন
লেখক:- হুমায়ূন আহমেদ
ধরন:- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
পৃষ্ঠা:- ৬৩
মুদ্রিত মূল্য:- ১০০টাকা
প্রচ্ছদ :- সমর মজুমদার
প্রকাশনী :- শিখা
প্রকাশকাল :- ফেব্রুয়ারি ১৯৯২

অনিল বাগচীর একদিন উপন্যাসের পটভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ের।কেন্দ্রীয় চরিত্রে অনিল বাগচী ২৪বছরের টগবগে যুবক।ঢাকার একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করেন।হিন্দু ধর্মালম্বীর অনিল বাগচী ভীতু ধরনের যুবক।সামান্য ঘটনাতেও সে ভয়পায়।যেমন- একা থাকা অবস্থায় হঠাৎ দরজায় টোকা পরলে, কিংবা তার মেসের প্রতিবেশী গফুর সাহেবের কণ্ঠস্বর শুনলে।পিতা সুরেশ বাগচী একজন স্কুলশিক্ষক।একমাত্র কন্যা অতসীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি রূপেশ্বরে থাকেন।সুরেশ বাগচী তার ছেলেকে সবসময় একজন সৎ,সাহসী, আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রূপেশ্বর স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিলকে চিঠি দেয়।চিঠিটি অনিলের মেস প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত গফুর সাহেবের কাছে পৌঁছালে তিনি চিঠিটি পড়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন যে চিঠিটা অনিলকে দিবেন কি না। কারন অনিল ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চলেছে।অনিল চিঠি পড়ে জানতে পারে পাক মিলিটারিরা তার বাবাকে হত্যা করেছে।ভীতু অনিল সেই মুহূর্তেই মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে পিতার সৎকার এবং একমাত্র বোনকে বাচাতে গ্রামের উদ্দেশ্য রওনা দেয়।প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা অনিলকে সাহসী যুবকে পরিনত করে।তার ভেতরে দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয়।

একমাত্র চিঠিটি বুকপকেটে নিয়ে অনিল রূপেশ্বরের বাসে চাপে।বাসে অনিলের সাথে মাওলানা আয়ুব আলীর পরিচয় হয়।আয়ুব আলীর সাথে অনিলের সাময়িক সখ্যতা গড়ে ওঠে।যাত্রাপথে পাকমিলিটারি বাহিনী চেকপোস্টে বাস থামায়।মাওলানা আয়ুব আলী অনিলের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে অবগত হলে তিনি অনিলকে পাক মিলিটারিদের সামনে মুহসিন নামে পরিচয় দিতে বলেন।একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা,বাবার স্মৃতি, আদরের বোনকে বাচানোর আকুতি।আর অন্যদিকে বিশ্বাসঘাতক, নৃশংস, বর্বর - নির্যাতিত পাকবাহিনীর দেয়াল।অনিল বাগচীর শেষ পরিনতি কী হয়েছিলো? জানতে হলে পড়ুন" অনিল বাগচীর একদিন" ।
Profile Image for Nazia Disha.
42 reviews16 followers
July 17, 2021
বইঃ অনিল বাগচীর একদিন
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
ধরণঃ মুক্তিযুদ্ধ ভিক্তিক উপন্যাস
পৃষ্ঠাঃ ৬৩
প্রকাশিতঃ ১৯৯২
রেটিংঃ ৫/৫

🇧🇩কাহিনী সংক্ষেপঃ

২৪ বছর বয়সী হিন্দু ধর্মের অনিল ঢাকার একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে চাকরি করে এবং একটি মেসেতে থাকে | সে অনেক ভীতু | সামান্য ঘটনাতেই ভয় পেয়ে যায় | তার পিতা সুরেশ বাগচী পেশায় শিক্ষক এবং বোন অতসী গ্রামের বাড়ি রুপেশ্বরে থাকে |
একদিন অনিলের বাবাকে মিলিটারিরা মেরে ফেলে, যা অনিল তার বাবা যে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন সে স্কুলের হেডমাস্টারের পাঠানো চিঠির মাধ্যমে জানতে পারে | আর চিঠি পড়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই অনিলের সব ভয় দূর হয়ে যায় এবং বাবার সৎকার ও বোনকে বাঁচাতে গ্রামের উদ্দ্যেশে রওয়ানা দেয় |

গ্রামে যাওয়ার পথে বাসে এক মওলানার সাথে অনিলের পরিচয় হয় এবং সে মওলানা অনিলকে বলে রাখে যদি কোনো মিলিটারি তাকে নাম জিজ্ঞেস করে তাহলে যেন সে নিজের নাম 'মুহসিন' বলে |

তারপর অনেকক্ষণ পর ঠিকই মিলিটারিরা বাস থামায় এবং বাস থেকে সকল পুরুষদের নেমে যেতে বলে |

অনিল বাগচী কী তার নাম মুহসিন বলবে? তার শেষ পরিণতি কী হয়েছিল? জানতে হলে পড়ে ফেলুন এই বইটি |

🇧🇩পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ

উপন্যাসটিতে প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা, বাবার স্মৃতি, ভাই-বোনের সম্পর্ক আর পাকিস্তানিদের বর্বরতা ফুটে উঠেছে |
Profile Image for Anindo Adhikary.
49 reviews
November 7, 2025
শুরু থেকেই 'অনিল বাগচী' চরিত্রটা আগ্রহ জাগায়। খন্ড খন্ড আকারে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পরিস্থিতি ভালোমতোই বর্ণিত হয়েছে।
তবে লেখক বড্ড তাড়াহুড়ো করে সমাপ্তি ঘোষণা করলেন। কাহিনী আরো এগোলে ভালো লাগতো।
Profile Image for Sazzad Naim.
28 reviews
June 3, 2025
এত বেশি বানান ভুল আগে দেখিনি, পড়ার সময় অনেকটা বিরক্তি কাজ করেছে কিন্তু অনিল বাগচীকে অনেক ভালো লেগেছে
Profile Image for Tanvir  Shuvo.
6 reviews11 followers
July 1, 2016
মূলত মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর গল্প। তবু চিরায়ত হুমায়ূনের সাবলীল লেখনীর ছাপ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অনিল বাগচীর সারাদিনের উপাখ্যান এই গল্পের মূল উপজীব্য। গল্পের ফাঁকে হুমায়ূন তিনটি যুদ্ধপরাধী রাজাকারের চরিত্র এনেছেন। প্রথম জন গোলাম আযম। বাকি দুইটি চরিত্র কাল্পনিক। গল্পের ফাঁকে গোলাম আযমের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতার চিত্র তুলে ধরে হুমায়ূন ইতিহাসের কাছে তার দায়বদ্ধতা রক্ষার চেষ্টা করেছেন এবং পাঠকের মাঝে ইতিহাস সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। বাকি দুই যুদ্ধপরাধী চরিত্রের মাঝে কৌতুকছলে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছেন প্রকারন্তরে সমস্ত রাজাকার বাহিনীর লোকেদের হীন ব্যক্তিত্ব। গল্পের আগাগোড়াই জাদু বাস্তবতার প্রয়োগ দেখা যায়।
Profile Image for Tä Sü.
53 reviews1 follower
November 4, 2025

গল্পটা শুরু হয় অদ্ভুতভাবে। অনিল কাকের আওয়াজে ভয় পাচ্ছে। ইনিই অবশ্য গল্পের মূল চরিত্র। বারান্দায় অনেকক্ষণ যাব��� কেউ হাঁটাচলা করছে, এটা সে বুঝতে পারছে। এখন সে সামান্য আওয়াজও অনেক ভালোভাবে শুনতে পারে। অনেক দূরের আওয়াজও স্পষ্ট শুনতে পারে। অন্ধকার সে ভয় পায়, তাই রাতে সে বাতি অফ করে দিয়ে টর্চ জালিয়ে রাখে। জানালাটা অবশ্য অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে। অন্যান্য বাড়িগুলোতেও জানালা বন্ধ। বন্ধ থাকারই কথা, কারণ কারফিউ চলে। বাইরে কাউকে সন্দেহজনক দেখলেই তুলে নিয়ে যায় মিলিটারি। কিছুক্ষণ পরপরই একটা ���রে মিলিটারি ভর্তি ট্রাক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। কাকের কা কা আওয়াজ যেন অনিলের মাথার ভিতরে হচ্ছে। প্রচন্ড ভয়ে সে খেয়াল করে এতক্ষণ বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করা পায়ের আওয়াজ তার ঘরের দরজায় এসে থেমেছে।

অনিল যে মিলিটারির কারণে ভয় পাচ্ছে, বিষয়টা এমন না। বরং সে ছোট থেকেই প্রচন্ড ভীতু। তার বাবা তাকে একটা উক্তি সবসময় শোনাতো— “Cowards di*e many times before their dea*ths.” এসবে শুনিয়ে কাজ হয় না। সে আসলেই প্রচন্ড ভীতু। চাকরির কাজে গ্রাম রূপেশ্বর গ্রাম থেকে ঢাকাতে এসে মেসে থাকছে সে। দরজায় থেমে যাওয়া পায়ের আওয়াজের মালিককে লক্ষ্য করে সে বলল, কে? ওপার থেকে গফুর সাহেবের আওয়াজ এলো। এই মেসেরই একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। তিনি অনিলের সাথে কিছুটা সময় কাটালেন। অনিলকে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর জানানো দরকার। দুপুরে একটি চিঠি এসেছে তার নামে। সেই চিঠি পড়া থেকেই অনিলের জন্য গফুর সাহেবের মন খারাপ। কিন্তু অনিলের ভয়ার্ত চেহারা দেখে আর চিঠির খবরটা জানানোর ইচ্ছে তার হলো না।

গল্পের এতটুকু পর্যন্ত এসে একটা জিনিসই চোখে পড়ে, এই অনিল বড়ই ভীতু ধরনের যুবক। ছোটবেলা থেকেই তার সাথেই মজার অথচ ভয়ের ঘটনাগুলো ঘটে। সামান্যতেই বেচারা প্রচুর ভয় পায়। গল্পের অগ্রগতিতে দেখা যায়, এই ছাব্বিশ বছরের ভীতু, নীরব যুবকটা হয়ে ওঠে প্রচন্ড সাহসী। তাও রাতারাতি গফুর সাহেবের দেওয়া সেই চিঠির বদৌলতে। চিঠিতে একটা দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছিল তার জন্য।

গল্পটা মূলত বইয়ের নাম “অনিল বাগচীর একদিন”- এর মতোই একটা পূর্ণদিনের গল্প। এক রাত থেকে পরবর্তী রাত পর্যন্ত। এই একদিনে আহামরি আর কতকিছুই ঘটতে পারে? গল্পতেও খুব বেশি কিছু ঘটেনি। গল্পের প্রেক্ষাপট মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। নীরব রাজধানী। যেখানে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা পাওয়া যায় না, সেই রাজধানী নীরব। অনেক খুঁজলে গুটিকয়েক মানুষ রাস্তায় দেখা যায়। সবাই প্রচন্ড ভয়ে থাকে। হি ন্দু, যুবক, আওয়ামী লীগদের মিলিটারিরা ধরতে পারলেই মেরে ফেলে।

অনিল বাগচী হিন্দু যুবক। সে সর্বদাই ভীতু টাইপের। কখনোই কোনোকিছুতে তার আগ্রহ দেখা যায় না। এই গল্পতে কতগুলো জিনিস উল্লেখ করার মতো। অনীল বাগচীর বস জোবায়েদ সাহেব বাঙালী নন। বিহারী। পরিবারসমেত পশ্চিম পাকিস্তানে এসে এখানেই বিশাল কারবার খুলে বসেছেন। ইনি কিন্তু এই বাঙালীদের প্রতি ছিলেন উদার। এর দৃষ্টান্ত গল্পে দেখতে পাওয়া যায়। এখানে এটা প্রতিফলিত হয় যে, সকল পূর্ব পাকিস্তানী কিংবা বীহারী মাত্রই যে বাঙালীর খারাপ চায়, এমন কিন্তু না। এমন অনেকেই ছিলেন যারা এই ধ্বংসলীলা চাইতেন না। যদিও সংখ্যাটা নগণ্য।

আবার, এই মুক্তিযুদ্ধ এমন অনেক মানুষকে জাগ্রত করেছে যাদের কোনোকিছুর প্রতিই কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিল না। জোবায়েদ সাহেব যেমন চিন্তা করতেন, এই বাঙালি অলস বটে। কিন্তু এদের রক্তে অন্য কিছু আছে। ইতিহাসও তাই বলে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ গল্পের মধ্যেই পাঠক দেখতে পায়। যেখানে অনিলের মতো ভীতু যুবকের আমূল মানসিক পরিবর্তন হয়।

হুমায়ূন আহমেদের বাকিসব বইয়ের মতো এই বইও অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল। প্রাঞ্জল বর্ণনার। তবে সাধারণ হলেও এই ছোট্ট বইটা মারাত্মক অর্থপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের একটা আংশিক অবস্থা এই গল্প থেকে জানা যায়। খেয়াল করলে বেশ কিছু জিনিস চোখে পড়বে। এক বসায় শেষ করে ফেলা যায় এমন দারুণ একটা বই। মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকাময় চিত্রের ধারণাও পাওয়া যাবে এই বই পড়ে।

পরিশেষে, অনিল বাগচীর সাথে একদিন অতিবাহিত করলে আপনিও অনুভব করতে পারবেন মুক্তিযুদ্ধকালীন দেশের অবস্থা। হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইগুলোর মধ্যে এই বইটাও অন্যতম সেরা।

বই : অনিল বাগচীর একদিন
লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
Profile Image for Subrna Akter.
60 reviews
November 17, 2025
অনিল বাগচির একদিন উপন্যাসের পটভূমি ১৯৭১ সালের মু'ক্তি'যু'দ্ধে'র সময়কালের। ২৪ বছরের অনিল ছিল ভীষণ ভীতু প্রকৃতির একটি ছেলে। এতো পরিমাণ ভীতু যে কেউ দরজায় টোকা দিলে ভয় পেত, কাক যদি কা কা শব্দ করে ডেকে উঠে তাহলে ভয় পেত। এমনকি তার প্রতিবেশী গফুর সাহেব যদি কোন কারণে ডাক দিতো তাহলেও ভয় পেত।

অনিল বাগচি হিন্দু একটি ছেলে। ঢাকায় একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে চাকরি করেন। তার বাবা সুরেশ বাগচি আর বড় বোন আতসী রূপেশ্বরে তাদের গ্ৰামের বাড়িতে থাকেন।

মু'ক্তি'যু'দ্ধে'র সময় সবকিছু অতিবাহিত হচ্ছিল অনিশ্চয়তায়। এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রূপেশ্বর স্কুলের শিক্ষক অনিলকে একটি চিঠি পাঠায়। আর সেই চিঠি এসে পৌঁছায় অনিলের প্রতিবেশী গফুর সাহেবের কাছে। গফুর সাহেব চিঠিটি পাওয়া মাত্রই খুলে পড়ে ফেলে। আর এই চিঠিটা পড়েই গফুর সাহেব বিপাকে পড়ে যান। নানান বাহানায় অনিলকে চিঠির বিষয়ে বলতে চায়। কিন্তু বলতে গিয়েও আটকে যাচ্ছিল কোন একটি কারণে। শেষ পর্যন্ত চিঠিটা দিয়েই দেয় অনিলের হাতে।

একটি চিঠি ২৪ বছরের ভীতু অনিলকে হুট করে সাহসী করে দিলো। এখন আর অনিল কোন কিছুকে ভয় পায় না। সে রওনা দেয় রূপেশ্বর গ্ৰামের উদ্দেশ্যে। বাসে পরিচয় হয় মাওলানা আইয়ূব নামে একজন লোকের সাথে। লোকটি অনেক বাচাল। আমার কাছে খুব বিরক্ত লেগেছে চরিত্রটা। তবে অনিলের সাথে কিছু সময়ের জন্য সাখ্যতা গড়ে উঠেছে। বাস চলছিল নিজের গন্তব্যে। কিন্তু মাঝে রাস্তায় মিলিটারি বাহিনীর চেক পোস্টে বাস থামে। বাস থাকা মানুষগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কখন কি হয় তা কেউ জানে না। মাওলানা সাহেব যখন জানতে পারলেন অনিল হিন্দুধর্মের তখন সে অনিলকে মিথ্যা কথা বলতে বলে। এতো কিছুর মাঝেও অনিলের মধ্যে কোন হেলদোল দেখা যায় নি। পাক মিলিটারি যখন নাম জানতে চাইলেন তখন সে সত্যি কথা বলে দেন। যার কারণে পাক মিলিটারি বাহিনী অনিলকে ধরে নিয়ে যান। অনিল আর এখন কোন কিছুকে ভয় পায় না। তার মাথার উপর কাক ডাকছে সে নির্বাক হয়ে হাঁটছে।

ছোট একটি বই। বইটি বিষন্ন সুন্দর! হুমায়ূন আহমেদের বই পড়বো আর মন খারাপ হবে না এরকমটা হতেই পারে না। তার মধ্যে বইটির পটভূমি মু'ক্তি'যু'দ্ধ ভিত্তিক। গল্পের চরিত্রগুলোকে খুব সুন্দর ভাবে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে অনিলের বাবা সুরেশ বাগচিকে। একজন আদর্শ শিক্ষক, আদর্শ বাবা। যে তার সন্তানকে একজন সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে অনিলের বাবার লেখা চরিত্র সনদটি। এরকমটা একজন আদর্শ বাবাই লিখতে পারেন। মাওলানা আইয়ূব লোকটিকে প্রথম দিকে বিরক্তিকর মনে হলেও এই চরিত্রটিও শেষে ভালো লেগেছে।‌ চমৎকার একটি সময় কেটেছে বইটির সাথে। কি ছিল সেই চিঠিতে যার কারণে ভীতু অনিল হুট করে সাহসী হয়ে গেল??

বই: অনিল বাগচির একদিন
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
Profile Image for Shovon Datta.
25 reviews10 followers
December 21, 2021
এখন পর্যন্ত কোনো বই পড়ে রিভিউ দেওয়ার ইচ্ছে জাগে নি,কিন্তু কিছু সুন্দর রিভিউ দেখে আজ রিভিউ দিতে ইচ্ছে হলো।

হুমায়ূন আহমেদ একজন অসাধারণ লেখক তাতে কোনো সন্দেহ নেই,তিনি নিজের মতো করে শুধু একটা গল্প-উপন্যাস লিখে যান তেমন নয়,তার সাথে জুড়ে থাকে ভিন্ন রকম কিছু অনূভুতি যা সব কিছুকে ছাপিয়ে যায়।"অনিল বাগচীর একদিন" উপন্যাস ও তার ব্যাতিক্রম নয়।

উপন্যাসে তিনি অনেকগুলো বিষয় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।উপন্যাসটি শুরু হয় একজন সংখ্যালঘু সম্প্রাদয়ের মধ্যবিত্ত এক ভিতু যুবককে নিয়ে।তৎকালীন সময় অর্থাৎ ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষনা পরবর্তী সময়ে অনিল অস্থিতিশীল দেশে নিজেকে নিয়ে অসহায় ও শংকিত বোধ করে।কিন্তু আকস্মিক ঘটনা তার তিব্র আশংকা ও ভয়ের ঘোর ভেঙে দেয়।সে তার পরিনতির মুখোমুখি হওয়ার সাহস পাশ।উপন্যাসের শুরুতে অনিল তীব্র ভয়ে কোনঠাসা থাকলেও সে উপন্যাসের শেষে নিজেকে খুজে পায়,অনুভব করে অদম্য সাহস।

সর্বোপরি উপন্যাসটিতে মূলত ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের দুঃখ দূর্দশাময় জীবন যাত্রার কথা।এছাড়াও উপন্যাসটি আমাদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতাকেও অনুভব করায়।

আমরা সাধারণত মুক্তিযুদ্ধের গল্প পাঠ্য-পুস্তকের বইগুলোতে পড়ি,সেগুলো আমাদের মনে জায়গা করে নিতে পারে না কিংবা আমাদের মন ছুয়ে যায় না।তাই হয়ত নতুন প্রজন্ম মুক্তযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় না,দেশের প্রতি ভালোবাসার অনূভুতি সৃষ্টি হয় না তাদের।কিন্তু এই উপন্যাসটি তার অভাব পূরন করে দেয়।উপন্যাসের চরিত্রদের দুঃখ-বেদনা আমাদের ছুয়ে যায়।আমরা তৎকালীন পরিস্থিতির সাথে মিশে যেতে পারি।

সবমিলিয়ে বলা যায়,এই উপন্যাসটি ও হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য উপন্যাসের মতোই অসাধারণ।

বিশেষ কিছু পঙক্তিঃ-

১.এই পৃথিবীতে সবই নশ্বর,কিছুই টিকিয়া থাকে না,কেবল ভালোবাসা টিকিয়া থাকে।
২.মুক্তি কাঁদছে।হাত-পা ছুঁড়ে কাঁদছে।মুক্তি যার নাম,অবরুদ্ধ নগরীতে যার জন্ম,সে তো কাঁদবেই।কাদাটাই তো স্বাভাবিক।
৩.সমস্যা তো দেশের না,সমস্যা মানুষের।দেশ মন্দ হয় না।মাটি কি কখনো মন্দ হয়?
৪.মানুষ গাছের মতো।মানুষের শিকড় থাকে। শিকড় ছিড়ে যাওয়া ভয়ংকর ব্যাপার।গাছ ছিড়লে যেমন মারা যায়,মানুষও মারা যায়। গাছের মৃত্যু দেখা যায়।মানুষেরটা দেখা যায় না।
Profile Image for Mubtasim  Fuad.
350 reviews45 followers
March 27, 2024
রাএে ঘুম আসছিল না, অনেকটা অনিচ্ছা নিয়ে, হুমায়ুন আহমেদের পিডিএফ এপস থেকে উপন্যাসের দ্বিতীয় নম্বর বইটা পড়া শুরু করেছিলাম।
প্রথমে নাম পড়ার পর বুঝতে পারি নাই, বইটার কাহিনি আসলে মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিওি করে লেখা।
পড়তে পড়তে বইটা আমাকে আকড়ে ধরে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা মুসলিমদের তুলনায় অধিক বিপদের সম্মুখীন হয়েছিল৷ তাদের উপর পাক বাহিনীর নির্যাতনের মাএা অধিক ছিল। সেই সময়ে অনিল নামের এক যুবক যে তার বাবার আদর্শে বড় হয়েছে, তার গল্পকে দেখিয়েছেন জাদুকর হুমায়ুন আহমেদ।

উপন্যাসের উপর ভিওি করে নির্মিত এই সিনেমাটি উনার মৃত্যুর পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়। তবে বইটা পড়া হলেও সিনেমাটি এখনো দেখা হয় নাই। তবে এই সিনেমাটি ৪০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিচালক পুরস্কারসহ ছয়টি বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছিল।

ইউটিউবে রয়েছে, দেখি দেখে ফেলব সময় করে।
Profile Image for Kazi Md. Al-Wakil.
297 reviews6 followers
December 20, 2021
অনিল বাগচী। খুব ভীতু এক ছেলে। বাবা রূপেশ্বর হাই স্কুলের শিক্ষক। পরিবারে মা নেই, আছে বোন অতসী। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক মেসে ভীত জীবন যাপন কাটাচ্ছিল অনিল। অনেকদিন বাবার চিঠি পায় না। একদিন তার মেস মেট তাকে জানালো যে তার বাবা মিলিটারিদের হাতে মারা যায়। চিঠি এসেছে। অনিল ভীতু খুব, কিন্তু খুব সাহস করে সে তার গ্রামে রওনা হয়, সেখানে তার বোন একা। পথে আইয়ুব আলির পরিবারের সাথে বিশেষ সখ্যতা হয় তার। আইয়ুব আলি, অনিলের নাম রেখে দেন মহসিন, যাতে পাকিস্তানিরা ধরলে ছাড়া পেয়ে যায়। কিন্তু পাকিস্তানিরা ধরার পরও অনিল নিজের নাম ধর্ম লুকায়নি। সাহসীর মতো বলেছে তার হিন্দু নাম। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নদীর পারে। তবে আইয়ুব আলি অনিলকে কথা দিয়েছেন যে তিনি অতসীর খেয়াল রাখবে। ভীত হয়ে জন্ম যার, বুক ভরা সাহস নিয়ে তার মৃত্যু।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 30 of 53 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.