‘আগস্টের একরাত’ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের পটভূমিতে রচিত হিউম্যান ট্র্যাজেডির উপখ্যান। হত্যাকাণ্ডের বিচারে ৬১ জন সাক্ষী আদালতে জীবনবন্দি দিয়েছিলেন। সাক্ষীদের এই সব জবানবন্দি কাহিনীর প্রয়োজনে উপন্যাসজুড়ে ব্যবহৃত হয়েছে। লেখক একদিকে গল্প বানিয়েছেন অন্যদিকে জবানবন্দি উপস্থাপন করে ঘটনার বিবরণ সংযুক্ত করেছেন।
Selina Hossain (Bangla: সেলিনা হোসেন) is a famous novelist in Bangladesh. She was honored with Bangla Academy Award in 1980. she was the director of Bangla Academy from 1997 to 2004.
সেলিনা হোসেন (জন্ম: ১৯৪৭) বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিকদের অন্যতম। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বি এ অনার্স পাশ করলেন ১৯৬৭ সালে। এম এ পাশ করেন ১৯৬৮ সালে। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমীর গবেষণা সহকারী হিসেবে। তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমীর প্রথম মহিলা পরিচালক হন। ২০০৪ সালের ১৪ জুন চাকুরি থেকে অবসর নেন।
গল্প ও উপন্যাসে সিদ্ধহস্ত। এ পর্যন্ত ৭টি গল্প সংকলন, ২০টি উপন্যাস, ৫টি শিশুতোষ গল্প, ৫টি প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেছেন বেশ কিছু বই। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯); বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮০); আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১); কমর মুশতরী স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৭); ফিলিপস্ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮); অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪)। তাঁর গল্প উপন্যাস ইংরেজি, রুশ, মেলে এবং কানাড়ী ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
১৫ আগস্ট নিয়ে লেখা। তথ্য সব ঠিকঠাক, মূল রেফারেন্স হল সুপ্রিম কোর্টের Additional paper book of death reference। কিন্তু শেরে বাংলা হলের ডালের মতোই যেন পানির সাথে মিশেনি ঠিক মতো, উপন্যাস পাঠের আমেজটা পাইনি।
এমন একটা বই কি একটানে পড়ে ফেলা যায়? নাহ্! যায়না। দম আটকে আসে, চোখ ভিজে যায়। আবার, পরে পড়বো বলে ফেলে রাখাও যায় না। মন খারাপ হয়ে থাকে ভীষণ। মনে হয় যেন কি একটা অশান্তির কাজ হয়ে গেছে এই এখুনি, কিছুই আর ঠিক হবেনা কখোনো! আসলেও তো সেটাই হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষীদের দেয়া জবানবন্দী আর সেই সুতো ধরে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের তৈরী দৃশ্যপট মিলেমিশে এক অনবদ্য সৃষ্টি "আগষ্টের একরাত"। বিভীষিকাময় সেই রাতের বর্ণনা এতটাই ভয়াল যে সত্যিই বুক কাঁপে প্রতিটা লাইন ধরে পড়ে যেতে!