Shahaduz Zaman (Bangla: শাহাদুজ্জামান) is a Medical Anthropologist, currently working with Newcastle University, UK. He writes short stories, novels, and non-fiction. He has published 25 books, and his debut collection ‘Koyekti Bihbol Galpa’ won the Mowla Brothers Literary Award in 1996. He also won Bangla Academy Literary Award in 2016.
অনুবাদ আরও ভাল হতে পারত। প্রবন্ধের বিষয়বস্তু গুলোই ছিল বেশ কঠিন ধরনের, অনুবাদে প্রাঞ্জলতা থাকলে হয়ত আরও অনুধাবন করতে পারতাম ক্ষুদ্র পাঠক হিসাবে। আর বইতে ছাপার ভুল ছিল অসংখ্য।
মানুষের জীবনের উপর প্রগতির সত্যিকার প্রভাব কী,সেটা বিবেচনা না করে শুধুমাত্র শিল্প প্রযুক্তির উন্নয়নের পরিসংখ্যান দিয়েই কি আমরা প্রগতির মূল্যায়ন করবো? এই প্রগতির জন্য সাধারণ মানুষকে কী মূল্য দিতে হয়েছে সেইসব কাহিনী আমাদের জানানো হয়নি।আমরা জানতাম না যে সুতার কারখানায় যে প্রভূত উৎপাদন, তা সম্ভব হয়েছিলো কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের কারণে,আমরা জানতাম না যে কাপড়ের কলে কাজ করতো খুব অল্প বয়সী মেয়েরা,যারা মাত্র বার বছর বয়সে কারখানায় ঢুকতো এবং অধিকাংশই পঁচিশ হওয়ার আগেই মারা যেত।আমরা একথাও জানতাম না যে আমাদের দীর্ঘ রেলপথগুলো তৈরি করেছিলো চীনা,আইরিশ অভিবাসীরা,এদের অনেকেই গ্রীষ্মের গরমে পুড়ে,শীতে ধুঁকে ধুঁকে আক্ষরিক অর্থে কাজ করতে করতে মারা গেছে।এ সবকিছুই ঘটেছিলো প্রগতির নামে।তাই আবারও প্রশ্ন থেকে যায় কলম্বাসের অভিযান কী সত্যিই বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উত্তরণ?
প্রগতির নামে এযাবৎ পৃথিবীর সম্পদের চূড়ান্ত অপব্যবহার করা হয়েছে।প্রাকৃতিক পরিবেশকে করা হয়েছে কলুষিত।এখন মানুষের উচিত প্রগতি এবং প্রবৃদ্ধির চাইতে স্থায়িত্ব ও স্থিরতা নিয়ে বেশি ভাবা।
সক্রেটিস বা প্লেটো যদি আজকের পৃথিবীতে ফিরে আসেন তাহলে হয়ত পশ্চিমা ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের চেয়ে আফ্রিকার যৌথ জীবনকে বেশি পছন্দ করতেন।অন্যদিকে দেকার্তে মনে করতেন মানবজাতির উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রকৃতিকে জয় করতে হবে।তার দর্শনের প্রাসাদ এবং ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ক ভাবনার ভিত্তি হচ্ছে "আমি চিন্তা করি অতএব আমি আছি।" সম্ভবত এই অহংতাড়িত বিজয়দীপ্ত ঘোষণাই অ-ইউরোপীয় মনকে কখনো কখনো অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।তবে যতই অস্বস্তিতে পড়ুক পশ্চিমা দেশের বিস্ময়কর সাফল্য এবং জাগতিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতায় অ-ইউরোপীয়রা মুগ্ধও বটে।
যে সমাজে কেবল বস্তুরই মূল্য আছে সেখানে মানুষও হয়ে ওঠে একটি বস্তু এবং আপাতভাবে সেই হয় সবচেয়ে নিবীর্য ও নিকৃষ্ট বস্তু।
মানুষের চোখে ছুঁড়ে দেয়া সভ্যতার ধুলো মুছে ফেলাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।
মানুষ যতই প্রকৃতি এবং তার পরিপার্শ্বের জগতকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ততই সে এমন এক জগতের মুখোমুখি হয় যেখানে তার নিজেকেই মনে হয় এক আগন্তুক।নিজেকে সে এমন সব বস্তু দ্বারা আবৃত দেখতে পায় যারা তারই সৃষ্টি অথচ সেসব বস্তু তার নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে চায়,ক্ষমতায় হতে চায় তার চেয়েও শক্তিমান।
ইতিহাস, স্মৃতিকথা, মনস্তত্ত্ব, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত আর নন্দনতত্ত্ব এই সাতটি বিবিধ আর আকর্ষনীয় বিষয় নিয়ে বিখ্যাত লেখকদের অনুবাদ গ্রন্থ ভাবনা ভাষান্তর। শাহাদুজ্জামানের শক্তিশালী কলমে প্রবন্ধগুলো যেন স্বকীয় মহিমায় অম্লান। হাওয়ার্ড জিন, কাজান জাকিস, কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং, চিনুয়া আচেবে, আর্নষ্ট লিন্ডগ্রেম আর আর্নষ্ট ফিশার এর মত লেখকদের সাতটি প্রবন্ধ অনুবাদ করেছেন লেখক। তঁারা সবাই তাদের অবস্থানে অদ্বিতীয়। কিন্তু অনুবাদক যেভাবে সাবলীল ভাবে গুরুগম্ভীর ও কঠিন বিষয়ের প্রবন্ধগুলো অনুবাদ করেছেন তা অতুলনীয়। বানান ভুল যদিও সবার চোখ এড়িয়ে যাবে না!