Utpal Dutt was an Indian actor, director, and writer-playwright. He was primarily an actor in Bengali theater, where he became a pioneering figure in Modern Indian theater, when he founded the 'Little Theater Group' in 1947, which enacted many English, Shakespearean and Brecht plays, in a period now known as the 'Epic theater' period.
শুরুটা এতো মজার! উৎপল দত্তের রসবোধ প্রখর। হা হা করে হেসে ওঠার মতো বেশকিছু সংলাপ ও মুহূর্ত আছে নাটকে। হাসাতে হাসাতেই গল্প মোচড় নেয় সিরিয়াস দিকে। এই নাটকের পটভূমি ১৮৭৬ সালে ইংরেজ প্রণীত কালা কানুন যাতে থিয়েটারে সরকার বিরোধী নাটক করা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। আপাতভাবে তুচ্ছ, সাধারণ থিয়েটারের মানুষজন কি অসীম সাহসে সেই আইন উপেক্ষা করে দ্রোহের মন্ত্র উচ্চারণ করেছিলেন ভাবতে অবাক লাগে। বেণীমাধবকে দেখে ভরসা জাগে। মানুষ এতো সহজে পরাজিত হয় না।
ঘটা করে নাটক পড়ার অভ্যাসটি বেশিদিনের নয়। সাহিত্যের এই শাখাটি কেন জানি আমাদের কাছে অতো মনোযোগ পায় নি। হ্যা, হাতেগোনো কিছু নাটক সবাই লেখাপড়া করতে গিয়ে পড়েছে। কিন্তু, চেনা মানুষদের মধ্যে খুব কম মানুষই শখ করে নাটক পড়েন, এমন পেয়েছি। আর আমি যেহেতু, একেবারেই এক্ষেত্রে নতুন পাঠক, টুকটাক ঘেঁটে দেখলাম যে প্রিয় অভিনেতা উৎপল দত্ত শুধু সিনেমায় কাজ করতেন বা থিয়েটার করতেন, এমন না। তাঁর লেখা নাটক রীতিমতো সকলের কাছে অবশ্যপাঠ্য। মনে পড়ল যে কে জানি কবে বলেছিল সেটা, কিন্তু, অতোটা আমলে নেই নি। সুতরাং, গতবছর সংগ্রহ করেছিলাম, তাঁর বিখ্যাত নাটক, ‘টিনের তলোয়ার’। নাটকটা ব্রিটিশ আমলের থিয়েটারের দলের এক নাটক নামানোর গল্প নিয়েই। ডার্ক কমেডিটিতে বেনীমাধব (যেই ভূমিকায় স্বয়ং উৎপল দত্ত অভিনয় করতেন) একজন নাট্যকার যে শিল্পের জন্য জান দিয়ে দিতে পারে। তার দলের বাকি লোকের অতো মাথাব্যাথা নেই, কাজ করে পেট চালানোই মূল। নতুন নাটকে নিচুতলার এক মেয়েকে স্টেজে তুলে বেশ আসর মাত করে বেনীমাধব নিজেকে ত্রাতা মেনে নিয়ে বেশ আত্মগরিমায় ভুগছিলেন যখন, তখনি বাস্তবতা উপহাসের বেশে হাজির হয়। বেনীমাধবের আদর্শের বুলিগুলো যে কতো ফাঁপা তা এরপর প্রকট হয়ে ওঠে। এসবের মধ্যেই থিয়েটার চলতে থাকে, ভেস্তে যায় না কিছুই। কিন্তু, যেই মূল্যে চলে তা শিল্পচর্চাকে এতো উঁচু তারে বেঁধে রাখার অসাড়তাই প্রকাশ করে। নাটকের সংলাপ গুলো নিয়ে কিছু বলার আমার যোগ্যতা আছে বলে আমি মনে করি না। এটুকু জানি যে শ্রেনীবোধ নিয়ে স্পষ্টতম ধারনা না থাকলে তা নিয়ে এমন নাটক ফাঁদা যায় না। উৎপল দত্তের এই নাটক অযথা ক্লাসিক হয়ে যায় নি, এর প্রতি শব্দে তিনি তাঁর প্রমাণ রেখে গেছেন। তাঁর বাকিসব নাটক একে একে পড়ে ফেলতে চাই।
অনেকদিন পরে আবার এই একটা নাটক পড়েছিলাম। দুর্দান্ত। ঐতিহাসিক নাটক মানেই তো আর ঘোড়া-সৈন্য-সেপাই না। নাটকের ক্ষেত্রে মনে মনে মঞ্চস্থ করে নেওয়ার দায়িত্বটাও আমার কাছে বেশ উপভোগ্য বলেই বোধ হয়। আর এই নাটকে ভাবতে চেষ্টা করতে হয়েছে মঞ্চের উপরে মঞ্চ। নাটকের ভিতরে নাটক। 'হ্যামলেট' আশ্রয় করে রচিত 'ময়ুরবাহন' অভিনীত হওয়ার অংশটা পড়তে গিয়ে টের পেলাম একদম জমে গেছি। সে কী থ্রিল! উৎপল দত্তেরই লেখা 'চায়ের ধোঁয়া' বইটার কথা মনে পড়ে গেল। নাটকীয়তাই নাটকের মুখ্য গুণ। বাদবাকি সব গৌণ। না-ট-কী-য়-তা। উপন্যাসের কাহিনীও অনন্য, অসাধারণ ইত্যাদি হতে পারে, তবে নাটকীয় নাও হতে পারে। উৎপল দত্তের মতে, অর্বাচীনরা নাকি অভিনেতার দাপটকেই মুখ্য ভাবে! আমারও দত্তবাবুর এই কথাটা সত্য মনে হয় কেন জানি!
প্রিয় শিল্পী। হ্যাঁ, শিল্পীই। টিনের তলোয়ার তাঁর এক অন্যতম শিল্প কর্ম। রেডিও নাটকটাও কি অসাধারণ করেছেন। ফিল্ম, থিয়েটার সব কিছুই মাতালেন। কবে যে তাঁর মতো তাবৎ ভারী ভারী পুথি পড়ার ও বোঝার সৌভাগ্য হবে! উৎপল দত্তের অভিনয় সব সময়ই মুগ্ধ করে তবে এরকম প্রতিভাবান ব্যাক্তিকে কাছ থেকে দেখতে পারলে হতো। যদি একটা থিয়েটার দেখা যেত!
উৎপল দত্ত বাংলা সাধারণ রঙ্গালয়ের শতবার্ষিকীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে নাট্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রেক্ষাপটে টিনের তলোয়ার নাটকের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের সেইসব অগণিত নাট্যকর্মীদের যারা বহুকৌণিক বাধা অতিক্রম করে বাংলা নাট্যচর্চাকে অব্যাহত রেখেছিলেন এবং অনাগত ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর করেছিলেন। বাংলা নাটকে যুদ্ধের অভিনয়ে ব্যবহৃত টিনের পলকা তলোয়ারই নাটকে জাতীয়তাবোধের, নাট্যকর্মীদের তথা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অসাধারণ টিনের তলোয়ার প্রকাশের ৫০ বছর পরও মরচেবিহীন।