Jump to ratings and reviews
Rate this book

মানুষিকতা

Rate this book
এনলাইটনেমেন্টের পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞান ও যুক্তিবোধের উথান মানব জাতির ইতিহাসের জন্যে সূচনা করেছিল এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব। ইমানুয়েল কান্ট যাকে বলেছিলেন ‘মানবজাতির নাবালকত্ব থেকে উত্তরণ’। সাহস আর সংকল্পের অভাবে এই নাবালকত্ব আরোপিত ছিল ইতিহাসের বিশাল পরম্পরায়। যুক্তিজ্ঞান ও বিজ্ঞানবোধের এমন মহান উথান দেখা যায় নি ইতিহাসে, মানুষ ধর্মের কর্তৃত্ববাদী ছেড়ে যুক্তিবোধের উপর আস্থা রেখে হাঁটতে চেয়েছিল নিজস্ব পথে। অথচ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগেও মানুষ যেন ফিরে গিয়েছে এনলাইটেনমেন্টের পূর্ববর্তী অবস্থায়, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর সবচেয়ে মৌলিক উপাদান এখনো বিশ্বাস। মানুষ এখনো বিশ্বাস করে নূহের প্লাবনে, বিশ্বাস করে কাল্পনিক গল্পে আর কুমারী মায়ের উপাখ্যানে- কিন্তু সেই বিশ্বাস কেন করে সেই প্রশ্ন উত্থাপিত হয় না তাদের মনে। বিশাল সংখ্যক মানুষ এখনো বিজ্ঞানের থেকে আস্থা বেশি রাখেন বিশ্বাসে, অথচ বিজ্ঞান ছাড়া এক মুহূর্তও চলতে পারে না। মানুষের এই চরম উৎকর্ষের সাথেও কেন বিশ্বাস ভর করে আছে আমাদের মনে, মানুষি দুর্বলতাগুলো কেন এখনো গভীরভাবে আমাদের মননে বিন্যস্ত হয়ে আছে, কেনই বা আমরা বিশ্বাস করি, সমাজ বিবর্তনে বিশ্বাস আর প্রগতিশীলতার অসাম্য অবস্থান- এইসব ব্যাপার নিয়েই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে সুবোধ্য বৈজ্ঞানিক আলোচনা করেছেন বিজ্ঞানলেখক ও প্রযুক্তিবিদ রায়হান আবীর। তার জিজ্ঞাসু ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানী মন গভীরে গিয়ে দেখতে চেয়েছে বিশ্বাস সংস্কারের আদি রূপটি; ধর্মীয় বিশ্বাসের স্ববিরোধীতা আর এর বিজ্ঞান্সম্মত নির্মোহ বিশ্লেষণ । বাংলাভাষাভাষীর অগ্রবর্তী বিজ্ঞানপাঠকদের জন্যে এই বইটি একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়ে রইবে।

88 pages, Unknown Binding

First published February 4, 2013

1 person is currently reading
44 people want to read

About the author

"সত্যি তুমি ভীষণ উদ্ধত! মুশকিল একটাই তোমায় এড়ানো যায় না" - অরুন্ধতি ঝিলী

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
12 (44%)
4 stars
11 (40%)
3 stars
3 (11%)
2 stars
1 (3%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 5 of 5 reviews
Profile Image for অভিজিৎ.
Author 13 books198 followers
January 31, 2015
রায়হান আবীরের লেখার হাত অত্যন্ত সাবলীল বলাই বাহুল্য। অবিশ্বাসের দর্শন বইয়ে আমার সহলেখক ছিল সে। বিজ্ঞান, মুক্তচিন্তা এবং যুক্তিবাদের প্রতি তার ঈর্ষনীয় কমিটমেন্ট বরাবরই আমাকে মুগ্ধ করে।

অবিশ্বাসের দর্শনের দুরন্ত সাফল্যের পর তার আর [আমার মত] সহলেখক দরকার পড়েনি। নিজেই শক্তিমান লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তারই ফসল 'মানুষিকতা' নামের ৮৮ পৃষ্ঠার ছোট বইটি। আকারে ক্ষুদ্র হলেও শক্তিতে এটি গামা পালোয়ানের চেয়েও শক্তিশালী।

বইটির তিনটি অধ্যায় -

১) প্রথম অধ্যায় - ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া
২) দ্বিতীয় অধ্যায় - মানুষের মতো মন
৩) তৃতীয় অধ্যায় - আমাদের মন।

প্রতিটি অধ্যায়ই বৈজ্ঞানিক তথ্যে এবং যুক্তিতে ভরপুর। লক্ষ্যহীন বাস্তবতা, মস্তিষ্কের সিদ্ধান্তে সংশয়, বিশ্বাসে বিশ্বাস, বিশ্বানুভূতিতে আঘাত, বাকস্বাধীনতা, জাকির নায়েক সংকট, প্রার্থনার অসারতা, লৌকিক নয় অলৌকিক, ডিজাইন ডিলুশন থেকে শুরু করে ধর্মীয় নৈতিকতা সহ বহু বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে বইটিতে। অধ্যায়গুলো নিয়ে আলাদাভাবে আর এখানে বলার দরকার নেই। মুক্তমনায় রেজওয়ান চমৎকার একটি পাঠ-প্রতিক্রিয়া লিখেছেন বইটির উপর। কেউ চাইলে সেটি দেখে নিতে পারেন।

আমার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ হয়েছে বহুল প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের নাইকন ক্যামেরা নিয়ে যে ছদ্মযুক্তির অবতারণা করেছিলেন (এটা আসলে বহুভাবে খণ্ডিত প্যালির পুরনো ডিজাইন আর্গুমেন্টকেই নতুন বোতলে পরিবেশন) কিছু দৈনিকে, সেটির সুচারু খণ্ডন। এটার দরকার বোধ করেছিলাম এই অপযুক্তি দেখার পর থেকেই। রায়হান খুব প্রয়োজনীয় একটা কাজ সম্পন্ন করেছেন।

আরেকটি বিষয় খুব আকর্ষণ করেছে আমাকে, সেটি হল বইয়ের একদম শেষে ‘Ingersoll's Vow’ নামে ইঙ্গারসোলের ছোট একটা রচনা; রায়হান অনুবাদ করেছেন ‘ইঙ্গারসোলের প্রতিজ্ঞা’ শিরোনামে। রবার্ট গ্রিন ইঙ্গারসোল (১৮৩৩-১৮৯৯) ছিলেন পেশায় আইনজীবী, অসাধারণ বাগ্মী, এবং ঊনবিংশ শতকের প্রখ্যাত অজ্ঞেয়বাদী মুক্তচিন্তক। তার একটি উক্তি দিয়েই আমি শুরু করেছিলাম আমার বিশ্বাসের ভাইরাস বইটি -

‘বিশ্বাসী মন খাঁচায় বন্দি পাখি, আর মুক্তমন যেন মুক্ত বিহঙ্গ – ঘন মেঘের পর্দা ভেদ করে উড়ে চলা অবিশ্রান্ত এক ডানামেলা ঈগল।’


রায়হান আবীরের ‘মানুষিকতা’ গ্রন্থে সংকলিত এই ‘ইঙ্গারসোলের প্রতিজ্ঞা’ সবসময়ই আমার কাছে এক অনাবিল প্রেরণার উৎস :

‘যেদিন নিশ্চিতভাবে বুঝে গেলাম আমার চারপাশের সবকিছুই প্রাকৃতিক, সকল দেবতা, অপদেবতা কিংবা ঈশ্বর মানুষের সৃষ্ট পৌরাণিক চরিত্র ব্যতীত কিছুই নন, সেদিন সত্যিকারের স্বাধীনতার তীব্র আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছিল আমার মন, শরীরের প্রতিটি কণা, রক্তবিন্দু, ইন্দ্রিয়। আমাকে সীমাবদ্ধ করে রাখা চার দেয়াল টুকরো টুকরো হয়ে মিশে গেল ধুলোয়, আলোর স্রোতে আলোকিত হয়ে গেল আমার অন্ধকূপের প্রতিটি কোণ। সেদিন থেকে আমি কারও চাকর, সেবক বা বান্দা নই। এই পৃথিবীতে আমার কোনো মনিব নেই, আমার কোনো মনিব নেই এই সীমাহীন মহাবিশ্বেও।

আমি স্বাধীন, মুক্ত - চিন্তা করতে, চিন্তারাজি প্রকাশে, আদর্শ নির্ধারণে, ভালোবাসার মানুষদের সঙ্গী করে নিজের মতো বাঁচতে। আমি স্বাধীন আমার মানসিক এবং শারীরিক ক্ষমতা ব্যবহারে, প্রতিটি ইন্দ্রিয় দিয়ে কল্পনার ডানা মেলে উড়ে যেতে, নিজের মতো স্বপ্ন দেখতে, আশা করতে। আমি স্বাধীন - নিজের মতো ভাবতে। আমি স্বাধীন - নির্দয়, উগ্র ধর্মকে অস্বীকার করতে। আমি স্বাধীন - অসভ্য, মূর্খের ‘অলৌকিক’ গ্রন্থসমূহ এবং এগুলোকে পুঁজি করে ঘটা অসংখ্য নিষ্ঠুরতাকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে। আমি স্বাধীন অসংখ্য মহাজাগতিক মিথ্যা থেকে, স্বাধীন সীমাহীন শাস্তির ভীতি থেকে, আমি স্বাধীন ডানাওয়ালা ফেরেশতা থেকে, শয়তান থেকে, জ্বিন-ভূত এবং ঈশ্বর থেকে। জীবনে প্রথমবারের মতো আমি স্বাধীন।

আমার চিন্তার রাজ্যে সেদিন থেকে নেই আর কোনো নিষিদ্ধ জায়গা, নেই কোনো অশরীরী শৃঙ্খল যা বেঁধে রাখে আমার অবয়বকে, আমাকে রক্তাক্ত করার জন্য নেই কোনো অলৌকিক চাবুক, আমার মাংসের জন্য নেই কোনো আগুন। আমার মাঝে নেই ভয়, আমার মাঝে নেই অন্যের দেখানো পথে হাঁটার দায়বদ্ধতা, আমার প্রয়োজন নেই কারও সামনে অবনত হওয়া, কাউকে পূজা করা, আমার প্রয়োজন নেই মিথ্যে কথা বলারও। আমি মুক্ত। ভয়-ভীতি, মেরুদণ্ডহীনতা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সেদিন আমি প্রথমবারের মতো উঠে দাঁড়িয়েছিলাম, জগতকে নতুন করে দেখার, ভাবার চেতনা নিয়ে।

আমার অন্তর সেদিন কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়েছিল। আমি কৃতজ্ঞতা বোধ করেছিলাম ইতিহাসের সেই সব নায়কদের প্রতি, মানুষের প্রতি যারা নিজের জীবন বিপন্ন, বিসর্জন করেছিল মানুষের হাত এবং মস্তিষ্কের স্বাধীনতা যুদ্ধে। আমি ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম পৃথিবীর আলোকিত সকল সন্তানদের, যাদের কেউ আত্মাহুতি দিয়েছিল মূর্খের সাথে যুদ্ধে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল অন্ধ প্রকোষ্ঠে আ-বদ্ধাবস্থায়, যাদের মাংস পুড়েছিল ধর্মান্ধদের আগুনে। আলোকিত সেইসব সাহসী মানুষেরা, যারা এসেছিল পৃথিবীর আনাচে-কানাচে, যাদের চিন্তায়-কর্মে স্বাধীনতা পেয়েছে মানুষের সন্তানেরা। অতঃপর আমি নিচু হলাম, যে আলোর মশাল তারা জ্বালিয়েছিলেন সে আলোর মশাল তুলে নিলাম নিজের হাতে, উঁচু করে তুলে ধরলাম সেটা, এ আলো নিশ্চয়ই একদিন জয় করবে সকল অন্ধকার।’

আরজ আলী মাতুব্বর, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ শরীফ, বার্ট্রান্ড রাসেল, ফ্রান্সিস বেকন, রিচার্ড ডকিন্স, মাইকেল শারমার, লরেন্স ক্রাউস, ভিক্টর স্টেঙ্গরদের দেখানো পথে রায়হানের মত লেখকেরা যে আলো জ্বালিয়েছেন তা দিয়েই হয়তো আলো নিশ্চয়ই একদিন জয় করবে সকল অন্ধকার, এ আস্থা আমার আছে।

বইটি অনেকদিন ধরেই আউট অব প্রিন্ট। বইটি নিঃসন্দেহে পুনর্মুদ্রণ দাবী করে।
Profile Image for Samia Hossain.
16 reviews16 followers
Read
September 20, 2014
সহজ সরল ভাষায় আমার মত নেসক্যাফে ইন্সট্যান্ট পাঠকদের জন্য বেশ একটা বই, ভাল লাগল। কিপিটাপ।
গট মায় প্রেশাস লাইক, ইফ ইউ নো ওয়াট ইট মিনস :D
Profile Image for Naima Zaman.
1 review6 followers
March 3, 2014
সত্যি বলতে আমার এই বইটি অনেক ভাল লেগেছে। এত সহজ ভাবে যুক্তি গুলো দেয়া হয়েছে যে আমার মনের প্রশ্নগুলোর উত্তর এখানেই সব পেয়ে গেছি। ভবিষ্যৎ এ আরও এরকম বই লিখবেন বলে আশা করছি।
Displaying 1 - 5 of 5 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.