ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা একদিন এই দুঃসহ শীত শেষ হবে। আসবে রোধ-উজ্জল সামার। ছুটি কাটানোর জন্য আমেরিকানরা গাড়ি নিয়ে নেমে আসবে হাইওয়েতে। কতকিছু আছে দেখবার। প্রচন্ড জ্যোৎস্না হবে রাতে।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
অদ্ভুত এক কাহিনী। মাঝ পথে শুরু আবার সেখানেই যেন শেষ। সচরাচর হুমায়ূন আহমেদের বই যেমন হয় এটাও ঠিক তেমন। মন বিষন্ন করে দেয়ার মতো। বইটা শেষ করে আবুল হাসানের কবিতার কয়েক লাইন মাথায় ঘুরছে।
অবশেষে জেনেছি মানুষ একা! জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!
আমেরিকা প্রবাসী কিছু মানুষের গল্প। সে রকম কোনো প্রতিষ্ঠিত কাহিনী নয়। শুধু কিছু মানুষের একটা নির্দিষ্ট সময়ের গল্প।
আনিস সাবেত একজন প্রফেসর, ইয়াং, একাকী। সফিক নামের এক পাগলাটে বন্ধু আছে তার। নিতান্তই পাগলাটে, তবে নিজের দেশ আর সংস্কৃতিকে বড্ড বেশি ভালবাসে, তাই তো একটা প্রদর্শনীতে উপকরণ ব্যতীত নিজেই একটা স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে দাঁড়িয়ে গেছিল দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে। অন্যদিকে, সফিকেরই আত্নীয় আমিন ও রাহেলা দম্পতি। আমিন সাহেবদের নতুন প্রবাস জীবন ছিল খুবই কষ্টের; তিনি বলেই ফেলেছিলেন এমএস করেই চলে যাবেন, পিএইচডি লাগবে না তার। এই ভিন দেশ ভাল লাগে না। তবুও ২০ বছরের বেশি সময় কেটে গেছে, মেয়ে রুনকির ১৯ চলছে। তাদের এক শোভাকাঙ্ক্ষী নিশানাথ বাবু। আলাভোলা ধরনের মানুষ নিশানাথ বাবু; কারো সাতে-পাঁচে থাকেন না। এদেরই জীবনের একটা অংশকে তুলে ধরেছেন হুমায়ূন আহমেদ। যার ফলে উঠে এসেছে মালিশা নামের এক প্রস্টিটিউট; ছোট্ট করে জায়গা নিয়েছে এমিলি নামের এক বয়স্কা কবি আর রুনকির বন্ধু টম। উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপোড়ন আর প্রবাস জীবনের একাংশ।
আবারও মনে হয়েছে একটি লাইন- " অবশেষে জেনেছি মানুষ একা ! "
হুমায়ুন আহমেদের আত্মজৈবনিক উপন্যাস, "হোটেল গ্রেভার ইন" পড়ার সময় জানতে পারি তার পিএইচডি করতে নর্থ ডাকোটায় থাকা কালীন সময়েট কথা। আমেরিকার মানুষজনদের অদ্ভুত জীবন যাপন, আচার-আচরণ সবকিছু আমাকে ভিষণ অভিভূত করেছিল। বইটা পড়ার সময় বারবার মন চাচ্ছিল, ইসস একটা বার যদি নর্থ ডাকোটায় গিয়ে ঘুরে আসতে পারতাম তবে কতই না দারুণ হইত। যাইহোক, সবাই গেছে বনে এই উপন্যাসটা অনেকটা হুমায়ূন আহমেদের জীবনীর মতন কিন্তু এটা উপন্যাস। এখানে হুমায়ূন স্যার কল্পিত চরিত্রের মাধ্যম আমেরিকার মানুষের পাগলামি গুলা দেখিয়েছেন। আমেরিকার ইউনিভার্সিটিগুলাতে তিমি মাছদের বাঁচাতে ডোনেশন তোলা হয়, তাও খুব মজার একটা সিস্টেমে। সুন্দরী মেয়েরা কিসিং বুথ খোলে। প্রতিটা চুম্বনের বিনিময়ে ডলার দিতে হবে এবং সেই ডলার ব্যায় হবে তিমিদের বাঁচাতে। এটা যতবার পড়ি ততবারই কোন এক অজানা কারণে খুব হাসি পায়। অদ্ভুত সব কাজ কারবার ওদের।
"সবাই গেছে বনে" আমেরিকান পটোভুমি নিয়ে তৈরি এই ছােটো উপন্যাস। গল্প কোন পাত্র পাত্রীকে কেন্দ্র করে না। বরং আমেরিকায় বসবাসরত কিছু মানুষের জীবনের কিছু অংশ আমরা দেখতে পাই আনিস নামের একজন প্রবাসী বাঙ্গালী প্রফেসরের দৃষ্টিতে। উপন্যাসটির মাধ্যমে আমেরিকায় বসবাসরত বাঙ্গালীদের সুখ, দুঃখ, আশা আকাঙক্ষার কথা আমরা অনুভব করতে পারি পাশাপাশি আমেরিকাবাসিদের জীবনধারা সম্পর্কেও একটি ধারনা পাই। গল্পে আনিস একজন বাঙ্গালী প্রফেসর। থাকেন একা তার গল্পের মাধ্যমে দেখা যায় দেশের প্রতি প্রবাসীদের টান। গল্পে আনিসের সাথে পরিচয় হয় আমিন সাহেবের পরিবারের সাথে। তাদের একটি মেয়ে। তাদের জীবন থেকে জানা যায় কিভাবে দেশেরছােটো সব সম্পর্ক ছেড়ে বিদেশে গিয়ে একটি পরিবারের খাপ খাওয়াতে হয় এবং সেটা যদি সঠিক ভাবে না হয় তাহলে কি কি সমস্যা এসে পড়তে পারে। গল্পে শফিক নামের এক পাগল বাঙ্গালী থাকেন যে চায় বাঙ্গালীদের বিদেশিরা ইন্ডান নয় বরং বাঙ্গালী হিসেবেই চিনুক এ নিয়ে সে বিভিন্ন পাগলামি করে। মালিশা আর টম এর জীবনের মাধ্যমে জানা যায় আমেরিকানদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি। এছাড়াও আরও কিছু পাশ্চচরিত্র নিশিনাথ বাবু, এন্ডারসন, জোসেফাইনদের ঘটনার মাধ্যমে। উপন্যাসটি পড়ে সামগ্রিক ভাবে একটু মন খারাপ ভাব থাকবে। কিন্তু একটি সুন্দরবিষাদ মাখা আমেরিকান জীবনের সাদ নেয়ার জন্য একটি বিকেল খরচ করাই যতেস্ট।
কিছু ভালোলাগা লাইনঃ ”কোনটা ভুল আর কোনটা ঠিক তা বোঝা মানুষের সাধ্যের বাইরে। ও নিয়ে চিন্তা করিস না। নে চা খা।” ”বেচে থাকার আনন্দটাই একমাত্র সত্য। ঐটি থাকলেই হল” “আমরা আমেরিকানরা খুব অদ্ভুত জাত। যখন কোনো কিছু চাই মন প্রাণ দিয়ে চাই। যখন সেই জিনিসটি পাওয়া যায় তখন জীবন অর্থহীন হয়ে যায়”
হুমায়ুন আহমেদ এর বই এর সবচেয়ে ভালো গুণ হচ্ছে পড়ার সময় ভালো লাগে। যেই শেষ হয়ে যায় তখনই মনে হয়, এ কেমন বই! এবং এর রেশ সাথে সাথে চলে যায়। লেগে থাকে না।
মোটামুটি সব বইয়ের মতো এটিও তেমনই। না আছে কোনো এন্ডিং না আছে কোনো মিনিং। কয়েকটা ক্যারেক্টারের কিছুদিনের ঘটনা। অবশ্যই একটা খুবই মহৎ ক্যারেক্টার, একটা পাগলাটে ক্যারেক্টার থাকবেই। এই হচ্ছে গল্প।
হুমায়ুন আহমেদ এর সবাই গেছে বনে বইটাতে স্যার কি বোঝাতে চেয়েছেন তা মনে হয় শুধু আমার মত সেকেলে প্রবাসীরাই বুঝতে পারবেন।
প্রবাসের বাঙালিদের ছেলে মেয়েরা কিন্তু বাংলাদেশের ছেলে মেয়েদের মত বড় হয় না। তাদের মাঝে থাকে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস। পশ্চিমের স্বাধীনতার মাঝে বাবা মার চাপিয়ে দেয়া জীবনব্যাবস্থাকে তাদের কাছে দুর্বিশহ মনে হয়। ভালো খারাপের বিচার অনেকেই করে না। তেমনি নতুন প্রবাসী তরুণেরা সেখানে গিয়ে মানিয়ে নিতে অনেক কষ্টের মুখোমুখি হয়। তাদের সাংস্কৃতিক ব্যাবধানের কারণে একটা দেয়াল তৈরি হয়। অন্যদের কাছে হেয় হওয়ার ভয় তো থাকেই। না পারে অন্য পশ্চিমাদের উগ্র-অশালীন সমাজে মিশতে, না পারে নিজের পরিচয়টা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে। এমন কিছু বিষয় নিয়ে খুব সুন্দর কিন্তু বিষণ্ণপ্রায় এক কন্ট্রাস্ট দেখানো হয়েছে এই গল্পে।
পরবর্তিতে শুভ্র গেছে বনে বইটাতে একই রকম জিনিষ দেখা গেছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। বাংলাদেশে শহরে এখন ধনাঢ্যরা পশ্চিমাদের মত অত্যাধুনিক জীবনযাপন করছে এবং এর ফলে তাদের জীবনে যে শুন্যতা, হতাশা আর বিরূপ প্রভাপ ফেলছে সেটা সেই বইয়ে দেখানো হয়েছে।
কিন্তু মানুষ এই বই দুটোকে প্রায় ঘৃণা করে বললেই চলে। আসলে ব্যাপারটা দৃষ্টিভঙ্গির। গল্পের চরিত্রগুলির কাহিনীর সাথে রিলেট না করতে পারলে গল্পগুলি ভালো নাও লাগতে পারে। তবে আমার কাছে সবাই গেছে বনে বইটা অনেক ভালো লেগেছে। কাহিনীতে যা হয়েছে তার জন্য না, বরং এর রিয়েলিজম এর জন্যে।
ধন্যবাদ।
( সাইডনোটঃ সফিক চরিত্রটির উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। কিন্তু তারপরেও সে গল্পটায় আমার প্রিয় চরিত্র)
আমেরিকায় জীবনযাত্রার একটি চিত্র আঁকার চেষ্টা। সবাই আছে, কিন্তু যে যার বৃত্তে, এসবই প্রকটভাবে ধরা পড়ে চরিত্রগুলোর আচরণে, উচ্চারণে, সিদ্ধান্তে ও পরিণতিতে। এরই সঙ্গে হুমায়ূন তার নিজস্ব ‘অনিশ্চয়তা’র ভাব যোগ করেন। বিষণ্নতার ঘোর তৈরি করেন প্রকৃতির বর্ণনার মধ্য দিয়ে।
নভেলটি কিছু মানুষের খণ্ড খণ্ড জীবনচিত্র। আমিন-রাহেলা, প্রবাসী দম্পতি। তাদের মেয়ে রুনকি, তার সঙ্গী টম। অধ্যাপক আনিস, নিশানাথ বাবু। প্রস্টিটিউট মালিশা। পড়াশোনায় ব্যর্থ ‘ইল্লিগেল এলিয়েন’ সফিক। এদের জীবনেরই কিছু সময় এগিয়ে যায় উপন্যাসে কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিণতিহীন।
চরিত্রগুলো বেঁচে থাকে বর্তমান নিয়ে : ঝড় এলে ফাঁকা হয়ে যায় কফিশপ, কিন্তু আনিস যায় না, মালিশা জড়াজড়ি করে সোফায় বসে থাকে কার সাথে; আমিন-রাহেলা দম্পতি দেশে ফিরে যাব যাব করেও যান না, শুধু করে যান প্রতিদিনের কর্তব্য; রুনকি জীবনযাপন করে নিজের মতো, টমও বদলায় না; সফিক বানরছানা জং বাহাদুরের পরিণামে কাঁদে; আনিস ঠিকানা খুঁজে পায় না, মালিশাও না; দুঃসহ শীতেও কিছু মেয়ে রাতে ‘ডেট’-এর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে; সামারে সবাই বেরিয়ে আসে, বনের ধারে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটায়, সবাই যেতে চায় বনে। এমনই সবকিছু। কিন্তু এরপর কে কোথায় চলেছে তা কেউ জানে না।
আনিসকে শুরুর দিকে ভালো লাগছিলো, পরে তাল কেটে গেছে। নিশানাথ বাবুর একটা কথা খুব ভালো লেগেছে, রুনকি যখন তাকে বলছিলো, "আপনার সঙ্গে হয়তো আর দেখা হবে না।" তখন উত্তরে তিনি বলেছিলেন, কথাটা এভাবে না বলে "আবার হয়তো দেখা হবে" বলা উচিৎ। বস্তুত দুটো কথাই অনিশ্চয়তাইয় ভরপুর, কিন্তু দ্বিতীয় কথাটি আশাবাদে পূর্ণ।
ভিন্ন ভিন্ন মানুষের আলাদা গল্প। আমেরিকান পটভূমি। বইতে আমার মালিশা গিলবার্ট চরিত্রটি বেশি পছন্দ হয়েছে। বইটা পড়ার সময় কেমন একটা হতাশা হতাশা কাজ করে। বইটি হুমায়ুন আহমেদের লেখালেখি জীবনের শুরুর দিকের লেখা।
হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বইগুলির কাহিনীগুলো অধিকাংশ সময় ঢাকাকে ঘিরেই হয়ে থাকে। বিশেষ করে হিমু কিংবা মিসির আলীর বইগুলো। তবে "কোথায় গেছে বনে" বইটি একটু ভিন্ন।
"কোথায় গেছে বনে" বইটি আমেরিকার নর্থ ডাকোটা স্টেটের ফার্গো শহরের বাঙালি ও কিছু আমেরিকান বাসিন্দাদের জীবন-কাহিনী নিয়ে গঠিত। অবশ্য রিভিউ দেয়ার আগে গল্পের সেটিং টা বলা উচিত বলে মনে করি। নর্থ ডাকোটা নামটা শুনেই বোঝা যায় আমেরিকার উত্তর দিকে তথা কানাডা ঘেষে অবস্থিত। কানাডার সাথে হওয়ায় সেখানে শীতের সময় হাড়ঁ কাপানো মাইনাস ডিগ্রি সেলসিয়াসে চলে যাওয়া ঠান্ডা পড়ে।
এই গল্পে কোনো প্রধান চরিত্র আছে বললে ভুল হবে। অনেক গুলো মানুষের জীবনের কিছু অংশ নিয়েই পুরো কাহিনীটা৷ তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আনিস। উনি নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটিতে পলিমার কেমেস্ট্রির টিচার। বলে রাখা ভালো যে ভার্সিটিটা ফার্গোতেই অবস্থিত। আনিসের গল্পের বিরাট একটা অংশ জুটে আছে আরেকটি চরিত্রের সাথে যার নাম মালিশা গিলবার্ট।
আনিসের সাথে মালিশার পরিচয় হয় একটু অদ্ভুতভাবে৷ কেননা মালিশা ঐ টিপিক্যাল আমেরিকান তরুনীও না। সে একজন প্রস্টিটিউট। আমেরিকায় প্রস্টিটিউশন নিষিদ্ধ হলেও তা ব্যাপকভাবে চলে বললে ভুল হবে না। তবে ওদের পরিচয় যেভাবে হইসে ভাবসেন সেভাবে হয় নাই। হঠাৎ করে মানুষের জীবনে একজনের আগমন যাকে বলে আরকি। আনিস সাবেত মালিশাকে অ���্যান্য নারীদের থেকে আলাদা চোখে দেখে নাই। সাধারণ মানুষ যেভাবে একজন প্রস্টিটিউটের সাথে যেভাবে বিহেভ করে তার ব্যতিক্রম ছিল আনিস। সেটা মালিশার মনে দাগ কেটেছিল এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
আনিস ও মালিশার গল্পের প্লটটা খুবই ইউনিক এবং অন্যতম বেস্ট পার্ট ছিল৷ উভয় চরিত্রই গল্পে একটা বড় প্রভাব রাখসে বলা যায়। আর একজন বাঙালি প্রফেসর ও একজন আমেরিকান প্রস্টিটিউটের জীবনের নানান দিক ফুটে উঠে এই দুজনের দ্বারা।
গল্পের আরেকদিকে আছে এক বাঙালি ফ্যামিলি যারা কিনা প্রায় দুই দশক ধরে আমেরিকায় আছে। আমিন সাহেব, তার স্ত্রী রাহেলা এবং মেয়ে রুনকি। তাদের গল্পের দিকটি আমেরিকায় থাকা বাঙালি পরিবারের জীবনের নানান রূপের একটা দিক দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের মেয়ে এখানে বড় হওয়ায় সে যে বাঙালি কালচারের ছিটাফোটাও পায় নাই তা অনেকবার গল্পে ফুটে উঠসে। আর আনিস এবং রাহেলা তাদের মেয়েকে নিয়ে যে স্ট্রাগেল করার চিত্র উঠে আসছে নানানভাবে। এছাড়া রুনকি তার বাবা-মাকে ছেড়ে তার পার্টনার টমের সাথে থাকতে গেলে, রুনকি এবং টমের আমেরিকায় কম ইনকামে থাকা-চলা যে কতটা কঠিন তার একটা ধারণা পাওয়া যায়।
"সবাই গেছে বনে" বইটাতে স্যার এমনভাবে চরিত্রগুলোকে লিখসেন যে এতে আমেরিকায় থাকা বাঙালিদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং লোকাল আমেরিকানদের জীবনযাত্রার অনেকটুকুই তুলে ধরসেন। যেমন, রুনকির পার্টনার টম, আমিনের বন্ধু নিশানাথ, লেখিকা এমিলি জোহান কিংবা আনিসের বন্ধু সফিক। এরকম অনেক বিচিত্র চরিত্র নিয়েই গল্পটা। আর প্রায় অধিকাংশ চরিত্রই একজন আরেকজনের সাথে কোনো না কোনোভাবে রিলেটেড। এই গল্পের কোনো নির্দিষ্ট প্লট নেই। হঠাৎ করেই কিছু মানুষের জীবনকাহিনী বলা শুরু করসেন লেখক এবং হঠাৎ করেই মাঝপথে ইতি টানসেন। বাট সেই সমাপ্তিতে যে কোনো সিগনিফিকেন্ট ঘটনা হয় নাই তা বলা বোধহয় ঠিক হবে না। সেটা কি বলাও হয়তো সমীচীন হবে না। ঐটুকু স্পয়লার দেয়ার ইচ্ছা নাই। বাট এটা বলা যেতে পারে যে, কিছু চরিত্র কিংবা গল্পের কিছু অংশ পড়ে আমার অত্যধিক মন খারাপ হইসে। মন খারাপ হওয়ারই মতো গল্প, বিষাদ-বিলাস করার ইচ্ছে থাকলে পারফেক্ট বই এটা।
এপ্রিল মাস হলেও আজ বেশ শীত পড়েছে- সকালে বৃষ্টি হল; সারাদিন প্রচণ্ড মন খারাপ ছিল। মটকা মেরে পড়ে ছিলাম নির্জীবের মত। চারদিকে এত শব্দহীনতায় মাথা ভার হয়ে ছিল। এমন দিনে ঠাণ্ডা হাওয়ায় যে হাহাকার গায়ে লেপ্টে যায়, বইটা সেই অনুভূতিকে একটু পোষ মানালো। হুট করেই ধরা, বেশুমার একটা সময়ের দিনলিপি বলা চলে। আহামরি কিছু না, হুমায়ূন আহমেদ স্যারের যশোহা বৃক্ষের দেশ, মে ফ্লাওয়ার, হোটেল গ্রোভার ইন এসব বইয়ের যে ধাঁচ তার মতনই। যখন স্কুলে ছিলাম বিভোর হয়ে বিদেশের বর্ণনা পড়তাম। বড় হয়ে জীবন যখন ফিকে হয়ে যেতে শুরু করল তখন ঝুম্পা লাহিড়ীর দ্যা নেইমসেইক কিছু পেইজ পড়ে আর পড়তে পারিনি- মোহভঙ্গতো হলই, তার উপরে কীসের জন্য জানি নিদারুণ শূন্যতা লাগতে শুরু করলো। অন্তহীন একটা নৈরাশ্য এসে ভর করল; আহামরি কোন কাহিনী না, তবু নির্ভার হওয়ার জন্য ঝোঁকের বশে পড়া। মার্কিনি শীতের বর্ণনা, সেইখানে শিকড়সহ উপড়ে পড়া গাছের মত কিছু লোকের সমান্তরালে চলা জীবনের ছিটেফোঁটা আর আবেগপ্রবণতা। হাইলাইট করার মত কোন লাইনও চোখে লাগেনি।
এখন জানালার ধারে জমাট অন্ধকার, তাপমাত্রা কম। মৃত মহাদেশে জনারব নাই, বাইরের জংলায় ঝিঁঝিঁ ডাকছে। এই ঈদেও বাড়িতে গিয়ে মনে হয়েছে কয়েক বছর পর, আমি আমার দেশের বাড়ির রুমে এত বই খাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে থাকব, রাত তিনটায় রান্নাঘরে গিয়ে ভূতগ্রস্তের মত চায়ের পানি না মেপেই চুলায় বসাব, ছন্নছাড়ার মতন টি প্যাক ছিঁড়ে এলোপাথাড়ি চিনি মিশিয়ে মগে ঢালব; এসব শুধরাতে হবে। জানলার বাইরে আমারই সমবয়সী আর আমাকেই উচ্চতায় ছাড়িয়ে যাওয়া সাদা রঙ্গন ফুটে ছিল গোছায় গোছায়। দেখে স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ। আমার ছোটবেলার গাছপালাগুলো অযত্নে পড়ে থাকবে, হয়ত ফুল ফোটাতে থাকবে বছরের পর বছর, কিন্তু আমি চলে যাব। ছেড়ে চলে যেতে হয় কেন? নতুন জাকজমকের লোভে, কিন্তু at what cost? ছোটবেলায় আব্বুর কলার টিউন সেট করা ছিল গান। "এই পৃথিবীর পরে কত ফুল ফোটে আর ঝড়ে, সে কথা কী কোনোদিন কখনো কারো মনে পড়ে?" এই গান এখন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
সবাই চারদিকে ব্রাউনিয়ান মোশনে দূর থেকে দূরে ছড়িয়ে পড়্রছে। মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে- হোক। বাইরে কী যেন একটা পাখি ডাকছে। ঘুঘু হবে হয়ত। তবুও জীবন সুন্দর, বেঁচে থাকতে হবে। জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার শূন্য করে তারপর না হয় বৃদ্ধ বয়সে গিয়ে নস্টালজিক হব।
"কতোবার ফসল-কাটার সময় আসিয়া গেছে, চ’লে গেছে কবে! শস্য ফলিয়া গেছে—তুমি কেন তবে রয়েছো দাঁড়ায়ে একা-একা! ডাইনে আর বাঁয়ে পোড়ো জমি—খড়-নাড়া—মাঠের ফাটল, শিশিরের জল!"
"এক দিন এই দুঃসহ শীত শেষ হবে। আসবে রোদ-উজ্জ্বল সামার। ছুটি কাটানর জন্য আমেরিকানরা গাড়ি নিয়ে আসবে হাইওয়েতে। মন্টানা, সল্ট লেক, ইয়েলো স্টোন পার্ক। কত কিছু আছে দেখবার। সামারের রাতগুলি এরা বনের ধারে তাঁবু খাটিয়ে কাটাবে। প্রচণ্ড জ্যোৎস্না হবে রাতে।"
আমারে যে জাগতে হবে, কী জানি সে আসবে কবে; যদি আমায় পড়ে তাহার মনে, বসন্তের এই মাতাল সমীরণে- জেগে থাকি, রোদের অপেক্ষায়।
সবাই গেছে বনে এক কিংবা একাধিক মানুষের প্রবাসজীবনের গল্প। আমেরিকার পটভূমিতে লেখা একটি উপন্যাস। হুমায়ূন আহমেদের প্রবাসজীবনের আত্মজীবনী গুলোতে সবসময় একটা পাগলাটে ছেলে থাকে, যে বাংলাদেশ বলতে অজ্ঞান থাকবে। বিদেশ বিভূঁইয়ে বাংলাদেশ কতোটা অসাধারণ তা প্রমাণ করাই থাকে তার একমাত্র প্রচেষ্টা।
নিজের বাস্তবজীবন থেকেই এই উপন্যাসে হুমায়ূন তুলে এনেছেন শফিক চরিত্রটিকে। যেকোন মেলা কিংবা ফেস্টিভ্যাল, শফিক নিজের ইন্টারভিউ ফেলে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে স্টল নিয়ে বসে যায়। বাংলাদেশকে নিয়ে কেউ বিরূপ মন্তব্য করলে ঘুষি দিয়ে তার নাক ফাটিয়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করে না। দেশকে নিয়ে এমন পাগলামি বাঙালি ছাড়া আর কেই বা করতে পারে!
প্রবাসজীবনে প্রত্যেকেই আলাদাভাবে নিঃস্বঙ্গ। নিজের বৃত্তের মধ্যে একা। আমিন-রাহেলা দম্পতি। দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরে যাবেন যাবেন করেও যাওয়ার সময় হচ্ছে না। তারা মেয়ে রুনকিকে একটি বাঙালি হৃদয়বান ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চান। অথচ রুনকি আমেরিকান কালচারে বেড়ে উঠা তরুণী, বিয়ে নামক সামাজিকতায় তার বিশ্বাস নেই।
আছে আনিস নামের এক নিঃস্বঙ্গ যুবক অধ্যাপক, মালিশা নামের এক রূপবতী আমেরিকান তরুণী যার জীবনে ছোট্ট একটি ঝড় তুলে যায়।
পাগলাটে ছেলে শফিক বারের চাকরী থেকে বিচ্যুত হয়ে এক চিড়িয়াখানায় বাদরের দেখাশোনা করার চাকরী নেয়। সেখানকার জং বাহাদুরের কর্মকান্ড সবাইকে আগ্রহের সাথে শোনায়।
খুবই সহজ পরিচিত গল্প। তবুও কি নিদারুণ ভাবে মানুষের আদি এবং অকৃত্রিম বন্ধু নিঃস্বঙ্গতাকে স্বরণ করিয়ে দেয়। আনিস অধ্যাপনা ছেড়ে দেশে ফিরে যেতে যায়, আমিন-রাহেলার মধ্যে দূরত্ব বাড়তেই থাকে, শফিক জং বাহাদুরের পরিণতি মানতে পারে না, মালিশা আনমনেই একের পর এক ডেট করতে থাকে তবুও নিঃস্বঙ্গতা কাটে না, রুনকি আর টম ফার্গো থেকে দূরে পারি জমায় নতুন জীবনের সন্ধানে।
এই বইটির প্রত্যেকটি চরিত্র জে কি নিখুঁত ভাবে তৈরি, তা উল্লেখ করার ক্ষমতা আমার নাই। আমি সুধু বলতে চাই যে আমার কাছে এই বইটির সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে, জে ভাবে লেখক এত চেসটা করেছেন এমেরিকার সমাজের অদ্ভুত জিনিস এবং প্রবাসী বাঙালিদের বিভ্রান্তিকর অবস্থান গুলো তুলে ধরার জন্য, তারপরও তার এমেরিকার প্রতি ভালোবাসা ও মুগ্ধতা থুব স্পষ্ট করে দেখা জাই। পুরোটাই মনে হয় এমেরিকার জন্য একটা আবেগী প্রেম পত্র।
আর আমি নিশ্চিত যে আমি প্রথম নয় জে এটা বলছি, কিন্ত হুমায়ুন আহমেদের প্রতিটি গল্প আমাকে শেষে এসে কিছুটা হলেও হতাশ করে ছাড়ে।এত গুলো মৃত্যু কি আসলেই জরুরী ছিল? রোদ-উজ্জ্বল সামার পরাজিত এই শহরকে বাঁচাতে অনেক সময় নিবে।
আমেরিকায় বসবাস করে মন কয়েকজন বাংলাদেশী প্রবাসীদের অবস্থান। মূল চরিত্রে আনিস(শিক্ষক যে কিনা Prostitute এর প্রেমে পড়ে), রুনকি বাবা মা কে ছেড়ে বয়ফ্রেন্ড এর সাথে থাকে আর সফিক।