Jump to ratings and reviews
Rate this book

কেশের আড়ে পাহাড়

Rate this book

104 pages, Hardcover

First published February 1, 2012

7 people are currently reading
205 people want to read

About the author

Shahaduz Zaman

50 books534 followers
Shahaduz Zaman (Bangla: শাহাদুজ্জামান) is a Medical Anthropologist, currently working with Newcastle University, UK. He writes short stories, novels, and non-fiction. He has published 25 books, and his debut collection ‘Koyekti Bihbol Galpa’ won the Mowla Brothers Literary Award in 1996. He also won Bangla Academy Literary Award in 2016.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
62 (31%)
4 stars
105 (53%)
3 stars
25 (12%)
2 stars
5 (2%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 30 of 43 reviews
Profile Image for সালমান হক.
Author 67 books1,991 followers
March 25, 2020
গল্পগ্রন্থের একটা সহজাত নিয়ম হচ্ছে, হাতের পাঁচ আঙুলের মতনই ভিন্ন ধরণের গল্পের সমাহার থাকবে সেখানে। অনেকে হয়তো একই প্রচ্ছদের তলে ভিন্ন জঁরার গল্প পেলে বিরক্ত হন, আমার কাছে আবার এরকমই ভালো লাগে। মানের দিক থেকে অবশ্য পার্থক্যের কথাটা থেকেই যায়। কিন্তু কেশের আড়ে পাহাড়ে সেই তারতম্য যতসামান্য। বিশেষ ভাবে উল্লেখ করবো মহাশূন্যে সাইকেল, তারপর যেতে যেতে এবং মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগের কথা।
Profile Image for Amit Das.
179 reviews118 followers
June 22, 2020
শাহাদুজ্জামানের লেখা প্রথমবার পড়লাম। ভদ্রলোকের লেখনী যেন জাদুর পরশ বুলিয়ে যায়। প্রত্যেকটা গল্পেরই নিজস্বতা চোখে পড়ার মতো।
Profile Image for Tanbeer Ahmed.
35 reviews25 followers
September 21, 2024
সবথেকে বেশি ভালো লাগা গল্প - মহাশূন্যে সাইকেল, তারপর যেতে যেতে, ঠাকুরের সঙ্গে। বাকিগুলোও মন্দ লাগে নি। শাহাদুজ্জামানের গল্পে যেন এক বিশেষ ধারা আছে আর তা আমি বেশ উপভোগ করি।
Profile Image for Shishir.
191 reviews42 followers
December 5, 2024
"স্মৃতি সৈকতে ঘুরে বেড়ানো শিশুর মতো। সে যে কোন নুড়িটা হাতে তুলে নেবে বলা দুরূহ"।

- শাহাদুজ্জামানের লেখা নেশা ধরায়, প্রতিটা গল্প ভালো লাগার।
Profile Image for Manzila.
167 reviews160 followers
August 4, 2022
এই বইয়ের ৯টা গল্প, ৯টাই যে ভালো তা বলব না। কিন্তু যে গল্পগুলো ভালো সেগুলো এতোটাই ভালো যে একটু দূর্বল গল্পগুলোর সাথে সংকলন করায় ব্যালেন্স হয়ে গেছে। আবার খুব একটা ভালো লাগেনি গল্পগুলোরও যে সবটা খারাপ তা না - কিছু অংশ, কিছু বর্ণনা অনেক সুন্দর কিন্তু গল্পটা হয়ত খুব সাদামাটা।

I don't know if that makes any sense. সব মিলিয়ে আমার পড়তে বেশ ভালো লেগেছে।
Profile Image for Iftikhar Sajid.
25 reviews5 followers
February 22, 2024
""At the end of the day people won't remember what you said or did, they will remember how you made them feel"" - Maya Angelou
এটাই তো সাহিত্য। এত সব প্লটের ঘনঘটা, লিটারারি কৌশল, লিটারারি এপ্রোচের পর তো এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব রাখে যে সাদার ওপর কালো কিছু অক্ষর আপনাকে কী ভাবতে বাধ্য করালো, কেমনটা অনুভব করালো, হৃদয়ে কি ভাবের সঞ্চার করলো।

বিগত কয়েকটা বইয়ে শাহাদুজ্জামান আমার সাথে এমনটাই করছেন। তার গল্পে কোনো ঘটনার ঘনঘটা নেই। শুধু আছে একটা চমৎকার আবহ,পরিবেশ ; আর কিছু কখনো উদ্ভট, কখনো অতি সাধারণ বাঙালি চরিত্র। যাদের মনস্তত্ত্বের জটিল অলিগলি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হবে আপনার, খুব অল্প সময়ের ভেতর একাত্ম হয়ে যেতে হবে চরিত্রগুলোর সাথে।
এই ছোট্ট গল্প সংকলনের সবচেয়ে অন্তর স্পর্শক গল্প আমার কাছে মনে হয়েছে 'মাজার,টেবিল টেনিস, আসলি মোরগকে'। যাকে বলে out of the world, surrealistic, স্বাপ্নিক, এক ন্যারেটিভ এবং আবহ তিনি এ গল্পে তৈরি করতে পেরেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। এমনটা কেন মনে হয়েছে প্রশ্ন করলে অবশ্য আমি নিরুত্তর থাকব, এটা হয়তো না বুঝতে পারা একজন পাঠক হিসেবে আমার দুর্বলতা। তবু বলব আমার জন্য যেন একটা অজানা ভালো লাগা থাকে শাহাদুজ্জামানের বইয়ে। সবটুকুই যেন শাহাদুজ্জামানের কাছে বর্ণ আর অক্ষরের খেলা। প্রতি লাইনে শব্দের আবেশ তৈরি করে মুগ্ধ করেছেন। আর তিনি যেভাবে কিছু কিছু জায়গায় প্রতি লাইনে একের পর এক metaphor ব্যবহার করেছেন তা চমকপ্রদ। এ গল্পের জন্যই মূলত চার তারা দিতে বাধ্য হয়েছি।

বই পড়তে পড়তে মনে হয়েছে যেন বিটলসের 'Let it be' গানের প্রেক্ষাপটে চোখের সামনে দিয়ে ভেসে যাচ্ছে লালনের কথা -
"চক্ষু অন্ধ দেলের ধোঁকায়
যেমন কেশের আড়ে পাহাড় লুকায়"
Profile Image for Zihad Al Faruqe .
34 reviews62 followers
February 11, 2023
শাহাদুজ্জামানের লেখনীর সাথে পরিচয়টা এ প্রথমবার। মামলার সাক্ষী ময়না পাখি, রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দকে নিয়ে লেখা একজন কমলালেবু কিংবা কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা বইগুলোর নাম সবসময় শুনে আসলেও ওনার এ বইটা দিয়েই শুরু করলাম। কারণ দুটো, এরমধ্যে একটি গৌণ। মূখ্য হিসেবে ছিল, গল্পগ্রন্থ হওয়ায় এক মলাটে বিভিন্ন স্বাদ পেয়েছি। মাঝেমধ্যেই একটা গল্প পড়ে বই বন্ধ করে কিছুক্ষণ ভেবেছি, আশপাশের মানুষের সাথে আলোচনা করেছি, লাইনগুলি নিয়ে ভেবেছি। কি এক অদ্ভুত জাদুর পরশে মুগ্ধ হয়েছি। আশা করি খুব তাড়াতাড়িই বাকি বইগুলোও পড়ার সৌভাগ্য হবে। পছন্দের লেখকদের তালিকায় আরেকজন যুক্ত হলেন।
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
210 reviews25 followers
October 29, 2021
"চক্ষু অন্ধ দেলের ধোঁকায়
যেমন কেশের আড়ে পাহাড় লুকায়"

শাহাদুজ্জামানের 'কেশের আড়ে পাহাড়' গল্প সংকলনের ধুলোমাখা পথে মেরুন সন্ধ্যালোকে হাঁটার সময় তোমার মনে একটা ভাবনার বাতাস দোল খায়। সেই বাতাসের দোদুল্যমান সুরের সারমর্ম হলো শাহাদুজ্জামান আসলে গল্প লেখক নয়, গল্প কথক! অভিনব কায়দায় চেনাজানা বৃত্তের বাইরে বিচরণ করে গল্প শোনানোর এক আশ্চর্য জাদুকরী ক্ষমতা আছে উনার। চমৎকার সব উপমা আর চরিত্রদের ভাবনায় বিহ্বল অবস্থার গিরিনির্ঝর আবেশ তোমার পাঠকসত্তায় সাবলীলভাবে প্রবাহিত হয়। নির্জন দুপুরে শান্ত পুকুরজলে বাতাসের চাপে হলদে জামপাতার পদযাত্রার মত ধীরলয়ে গল্পের ভেতর ঢুকলে তোমার উপলব্ধি হয় এমন মুগ্ধতা নিয়ে তুমি বহুদিন গল্প শোনোনি; যা তোমাকে মনে করিয়ে দেয় ছোটবেলায় ধানক্ষেতের আলের ঘাসঝোপের মাঝে প্রথমবার হাঁসের ডিম কুড়িয়ে পাওয়া।

''মহাশূন্য সাইকেল'' গল্পটি ''দূরত্ব নাকি বিচ্ছিন্নতা"র সেই সরব তর্কের ফাঁকে মেরুন সন্ধ্যালোকের বিকেলে তোমার মনে হয় গল্পটা হয়ত এক নিঃসঙ্গ মানুষের স্কেপ-ফ্রম-রিয়েলিটি রুট। দূরত্ব গোলকের ইলাস্টিসিটিতে চিড় ধরে বিচ্ছিন্নতার অসীম আয়তনে পৃথিবী থেকে বিশ আলকবর্ষ দূরের কোন গ্রহের সমুদ্র সৈকতের নীল ঢেউয়ের খুব কাছে একা সাইকেল চালানোটাই সুখকর অস্তিত্বের মলাট। সেই সাইকেল চালানোর সময় নীল জলরাশির বুদবুদের ভেতর থেকে হয়ত মহীনের ঘোড়াগুলি'র ...নিশাচর ইঁদুরেরা ছিঁড়ে চলে দিনভরা রোদহীন ছায়ার বনাত...লাইনটা পৌনঃপুনিকভাবে তোমার মাথায় তরঙ্গায়িত হবে। ''তারপর যেতে যেতে'' ধুলোমাখা পথে এক বুড়ির সাথে দেখা হবে আর বুড়ির শোনানো সিকান্দর বা এক কেঁদো বাঘের রূপক গল্প লেখকের সাথে তন্ময় হয়ে শুনতে থাকবে। গল্পের ট্র্যাজিক পরিণতি তোমার মনে শ্মশানের চন্দনকাঠের বিষণ্ণতায় মোড়া কালোমেঘ হয়ে পুড়তে থাকবে। অতঃপর, 'বুক শেলফে বাঘ' নামক বড়শির মুখে ভাতের দানার টোপে আটকা পড়ে তুমি শুনতে থাকবে 'ঠাকুরের সঙ্গে' - এক বৃদ্ধার অবশ চোখে ভঙ্গুর দেহে হাতড়ে বেড়ানো স্মৃতিকাতরতা, 'আমি ও মাইকোবেকরিয়াম টিউবারকুলি' - এক যুবকের অনিশ্চিত যাত্রা ���িয়ে হিউমার, এবং 'মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগ' - এক কিশোরের রঙিন জীবনে মুক্তিযুদ্ধের করাল থাবা এবং বিস্মিত দশায় ভাবতে থাকবে এমন মুগ্ধতা নিয়ে তুমি বহুদিন গল্প শোনোনি; যা তোমাকে মনে করিয়ে দেয় কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় ভোরবেলা মাচায় বসে কুসুম সূর্যদয়ের আলো- আঁধারে শুভ্র মেঘপুঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠের উপর দৃষি্টপাত।

image123
Profile Image for Enamul Reza.
Author 5 books177 followers
October 25, 2019
ভাল লেগেছিল এই বইয়ের গল্পগুলো। বিশেষ করে 'তারপর যেতে যেতে', এক কেঁদোবাঘের গল্প। রূপকের আড়ালে বাস্তবতা, রূপকথার সরস ভঙ্গিমায় পিতা ও কন্যার চিরন্তন ট্র্যাজেডী। এক শীতের দুপুরে যখন কর্মস্থল থেকে নিয়েছিলাম ছুটি, শরীরের সঙ্গে দুর্বল হয়ে উঠেছিল কনসাশনেস, সেই মানুষ থেকে বাঘ হয়ে যাওয়া বাবাটির জন্য মন কেমন করেছিল আমার।
Profile Image for Zaima Fariha Ontara.
31 reviews63 followers
January 11, 2025
আমি এর আগে শাহাদুজ্জামানের কোন গল্প সংকলন পড়িনি। বইয়ে ছোট ছোট কয়েকটা গল্প আছে। শাহাদুজ্জামানের গল্প বলার ধরণ চমৎকার। একেক গল্পের স্বাদ একেক রকম হওয়ায় বইটা পড়ে ভালো লেগেছে। 🖤
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
August 8, 2021
জীবনবোধ বা যে কোন ঘটনার উপলব্ধি ব্যক্তি বিশেষে সব সময়ই আলাদা হয়ে থাকে। সমাজের স্তর ভেদে মানুষের জীবনযাত্রা ভাবনাকেও প্রবাহিত করে।
লেখক শাহাদুজ্জামান এর "কেশের আড়ে পাহাড় " একটি গল্প গ্রন্থ। এতে মোট নয়টি ছোট গল্প আছে। যাতে আপনার আমার জীবনই লেখকের উপলব্ধিতে উঠে এসেছে।

মহাশূন্যে সাইকেল/
তারপর যেতে যেতে/
বুকশেলফে বাঘ/
অন্ধ শাহজাহান /
ঠাকুরের সঙ্গে /
ঘাসের উপর সবুজ বাতাস/
আমি ও মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলি/
বন্ধুর নোটবুক/
মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগ

এ গল্পগুলো চির চেনা আপনার আমার জীবনের। এ জীবনের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা ও নষ্টালজিয়া লেখকের লেখায় ফুটে উঠেছে। সূক্ষ সূক্ষ অনুভূতি এতো প্রবল ভাবে ভাবনাতে নাড়া দেয়, সাধারন একটা ঘটনায় কি গভীর ভাবে মিশে আছে জীবনের পরিপূর্ণতা দেখিয়ে দিলেন লেখক।

ছোট বেলা থেকে যে সব গল্প পড়ে বড় হয়েছি সে সব গল্পে প্রায়ই দেখা যেত- স্থান, চরিত্র সব লেখকের কল্পনার, ঘটনা সত্য হলেও লেখক কেন জানি লুকাতে চাইতেন নিজের দেওয়া চরিত্রের মাঝে আসল সব চরিত্র ও স্থান।
লেখক শাহাদুজ্জামান নিজে অবস্থান করেন তাঁর গল্পের মাঝে এটা এক চমৎকার অনুভূতি আনে পড়তে গিয়ে। তাছাড়া লেখকের জীবনের কিছু খন্ড অংশকে আমরা দেখতে পাই। গল্পের মাঝে বসে তিনি সেই গল্প নিয়েই আমাদের ভাবতে শেখান। পড়ার পরেও গল্পের সে রেশ কাটানো বেশ কঠিন হয়।
Profile Image for Mahiya Tabassum.
24 reviews71 followers
March 5, 2022
কেশের আড়ে পাড়ে ৯ টি গল্পের সংকলন

যাদের আমার মতো কয়েকটা বই শাফল করে করে পড়া অভ্যাস- বিশেষ করে গল্পগ্রন্থ কিংবা নন-ফিকশানের বেলায়, তাদের বইটা বেশ ভালো লাগবে। ঢাকার অসহনীয় ট্রাফিকের মাঝে কিংবা বিকেল বেলা ছাদে- প্রত্যেকটা গল্পই বেশ আরামদায়ক লেগেছে পড়তে।

"মহাশূন্যে সাইকেল'' গল্পটি হতে পারে দূরত্ব- বিচ্ছিন্নতার মেলবন্ধনে দ্বিধাগ্রস্ত কারো গল্প কিংবা হয়তো নির্জন সন্ধ্যায় এক নিঃসঙ্গ মানুষের বাস্তবতা থেকে পালানোর পথ।

আরোও আছে বুক শেলফে বাঘ, অন্ধ শাজাহান, ঠাকুরের সঙ্গে এবং মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগের কথা।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫
Profile Image for NaYeeM.
229 reviews65 followers
November 8, 2024
মোট নয়টা ছোটগল্প নিয়ে বইটি।
বিশেষ করে বলতে গেলে: মহাশূন্যে সাইকেল, তারপর যেতে যেতে, ঠাকুরের সঙ্গে, (মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগ) এই চারটি গল্প বেশি ভালো লেগেছে। 

অনেক গল্পে লেগেছে প্রবন্ধ বা লেখক নিজস্ব কথাবার্তা বলছেন শুধু। তবে উনার ভাষা সবসময় ভালো লাগে আমার। সেভাবে মনে থাকার মতো গল্প ছিলো না আমার জন্য। মোটামুটি লেগেছে।
Profile Image for Farhanur Rahman.
47 reviews11 followers
April 4, 2021
১. আমাদের দ্বৈত চরিত্রের বসবাসের সুযোগের আক্ষেপ মেটাতে বোধহয় শাহাদুজ্জামান লিখেছেন "মহাশূণ্যে বাইসাইকেল"। "দূরত্ব নাকি বিচ্ছিন্নতা" তার প্রার্থক্য বের করতে লেখক সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়েন মহাশূণ্যে।
২. "বুক শেলফে বাঘ" গল্পে হয়ত লেখকের গল্পের ফাঁদে পড়ে বুক শেলফে বাঘ আমরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হই। তবে এক ঐন্দ্রজালিক বাঘের সন্ধান পাই আমরা শাহাদুজ্জামানের "তারপর যেতে যেতে" গল্পে।
৩. "অন্ধ শাজাহান" এরপর যখন "ঠাকুরের সাথে" পড়ি তখন দেশভাগের এক বৃদ্ধের শিকড়ের প্রতি নিরব টান কিন্তু সরব ভালবাসা উচ্চারিত হয়।
৪. লেখকের চমৎকার হিউমার প্রকাশ পায় "আমি ও মাইকোবেক্টিরিয়াম টিউবারকুলি" গল্পে।
৫. ছোট ছোট চিরকুটের মত প্রজ্ঞাময় কথার ফুলঝুরি ছোটে "বন্ধুর নোটবুক" গল্পে।
৬. সর্বপরি "মাজার, টেবিল টেনিস ও আসলী মোরগ" গল্পটা নিয়ে একটু আক্ষেপ কাজ করছে। এই গল্পের যে প্লট লেখক রচনা করেছেন তা নিয়ে বেশ ভাল মানের আরেকটু বড় কলেবরের লেখায় লেখক এটিকে ছোটগল্পে আবদ্ধ না রেখে একটি ছোট উপন্যাসে পরিণত করতে পারতেন।

সর্বপরি শাহাদুজ্জামানের আরেকটি ভাল লাগার মত বই পড়ে সময়টা ভালই কাটল.....
Profile Image for Saffat.
93 reviews67 followers
January 27, 2023
বিহব্বলতার যেন রেশ কাটে না। প্রতিটা গল্পই মনোমুগ্ধকর!
Profile Image for Sajib.
199 reviews26 followers
February 21, 2023
3.5

তিন চারটা গল্প বাদে বাকি গুলো তেমন ভালো লাগেনি।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Debashish Chakrabarty.
108 reviews93 followers
July 25, 2020
বেশ উপভোগ্য । গল্পের ফর্ম-আঙ্গিক নিয়ে পরীক্ষা জারি আছে । তাছাড়া গল্প বলার ধাঁচের মধ্যে বাংলা অঞ্চলের ফোক গল্প বলার ধরণও চলে এসেছে বার বার । ব্যাপারটা উপভোগ্য । সমকালীনতার পাশাপাশি আবহমান বাংলার স্থানিক আবহাওয়াও উপস্থিত । অ্যাবসারডিটির সাথে সাথে যুক্তিও চলমান । বিশেষ করে বলতে গেলে গল্প সংকলনের শেষ গল্প “মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগ” বেশ আকর্ষণীয় । গল্পের কলেবর-বিষয়বস্তুর সমাবেশ, গল্প বলার ধরণ সব কিছু মিলিয়ে গল্পটি এক সাথে বিভিন্ন স্তরের চিন্তা হাজির করে । শ্রেণী সচেতনতা, আটপৌরে জীবন এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকে যুক্ত করার মাধ্যমে গল্পটি বিশেষ হয়ে ওঠে । তাছাড়া সাত বছরের ��ালকের দৃষ্টিতে একটি অঞ্চলের মানুষ, বিশেষ-বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ, মাজার, কর্মযজ্ঞ এবং ইতিহাসের পালাবদল সামনে এসেছে । এখানে লেখকের শৈশবের উপাদান উঠে এসেছে বোধ করি । শাহাদুজ্জামান শৈশবে বাবার কর্ম সূত্রে সিলেটের এক পাওয়ার প্লান্টে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছিলেন । বাবা ছিলেন উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী । আর সিলেট অঞ্চলের আধ্যাত্মিক গুরুদের মাজার সংস্কৃতি এবং নিসর্গ নিশ্চয়ই তার অভিজ্ঞতায় ছাপ রেখে গেছে । এ সব কিছুর সাথে সমাজবাস্তবতা এবং ইতিহাস মিলেমিশে এই গল্প । এইভাবেই তো গল্প । তবে, একটা ব্যাপার খেয়াল করা যায়, ওরহান পামুকের “জানালা থেকে দেখা” গল্পটির সাথে উপাদানের কোন মিল না থাকলেও গল্প বলার ভাবগত ধাঁচ বা সুরের এক ধরণের অন্তমিল হয়তো পাঠক অনুভব করতে পারেন । মজার ব্যাপার হলো শাহাদুজ্জামান নিজেই গল্পটি অনুবাদ করেছিলেন তার “ক্যাঙ্গারু দেখার শ্রেষ্ঠ দিন এবং অন্যান্য অনুবাদ গল্প” বইটিতে । এখন সতর্কতার সঙ্গে বলে রাখি, এর উল্লেখ ভাল খারাপ কিছু ইঙ্গিত করাবার জন্য নয় । ব্যক্তিকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি কিন্তু কখনোই এতটা এজেন্সি দেয়ার পক্ষপাতী নই । ব্যক্তি আসমান থেকে কিছু সৃষ্টি করেন না । বিচিত্রভাবে একজন লেখক বা শিল্পী তার সাংস্কৃতিক উৎপাদনে বহু মানুষের সৃষ্টির হাত ধরে, যোগাযোগ স্থাপন করে একটা নতুন উপস্থাপনে পৌঁছায় । এভাবে বুঝে নিলেই চাপ অনেক কমে যায় ।
Profile Image for Chinmoy Biswas.
175 reviews64 followers
April 3, 2022
শাহাদুজ্জামান বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখক। লেখকের গল্প বলার ধরনটা ভালো লাগে,একেবারে নিজস্ব। উনার বেশ কয়েকটা গল্প গ্রন্থ পড়েছি। মোটামুটি লেগেছিল। এবার পড়েছি "কেশের আড়ে পাহাড়", এটাও তেমন আহামরি লাগেনি। কয়েকটা গল্প একেবারে গার্বেজ মনে হয়েছে। আবার কয়েকটা গল্প বেশ ভালো লেগেছে, যেমন 'তারপর যেতে যেতে, ঠাকুরের সঙ্গে '।
Profile Image for Jannatul Rafi Mariya.
61 reviews12 followers
September 24, 2022
চক্ষু অন্ধ দেলের ধোঁকায়
যেমন কেশের আড়ে পাহাড় লুকায়”

বইটিতে আছে ৯টি গল্প।
এই বইয়ের সবচেয়ে প্রিয় গল্প ‘বন্ধুর নোটবুক’। রফিক নামের লেখকের মৃতবন্ধুর নোটবুকের কিছু কথা ‘পশ্চিমের মেঘে সোনার সিংহ’ বইয়েও পেয়েছিলাম। এরপর পড়া শুরু করলাম ‘বুক শেলফে বাঘ’ লেখকের সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ না মেনে টোপে আটকা পড়লাম। যা হোক বাঘের ফাঁদ থেকে রক্ষা পেয়ে মহাশূন্যের সাইকেল ছেড়ে গ্রামীণ পথে গেলে দেখা পাওয়া যায় এক বুড়ির, যার কাছে আছে কেঁদো বাঘের গল্প, দূর পাহাড় হতে যখন জনৈক বাঘের কান্না শোনা যায় তখন জন্মান্ধ শাহাজাহান, যে পৃথিবীর কিছুই দেখে নি অথচ ফেরির ছাদে উতল হাওয়ায় মধ্যে চমৎকার দরদ দিয়ে গায় ‘তুমি সুন্দর তাই সুন্দর বানাইছ এই বিশ্ব বাগান।’
হঠাৎ ট্রেনে দেখা দুই বন্ধুর টুকরো টুকরো বিবিধ স্মৃতির মাঝে বর্তমানের আলাপ শুরু হলে জানা যায় একদিকে টুপি ও অন্যদিকে ধুতির গল্প। যা পড়ে মনে হবে বিশ্ব বাগান সত্যিই সুন্দর!
এমনি স্মৃতি হাতড়ে খুঁজে বের করা আরেক গল্প ‘মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগ’।

সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে।
Profile Image for Tanzil Saad.
100 reviews1 follower
January 10, 2026
শাহাদুজ্জামানের লেখা আগে পড়িনি। আশ্চর্য এক আকর্ষণ আছে ভদ্রলোকের লেখায়। ভিন্ন ভিন্ন ধারার নয়টি গল্পের সমাহার "কেশের আড়ে পাহাড়"এর ধবধবে সাদা ১০৪ পেজ। সে গল্পসমুহে অস্তিত্বের সংকট থেকে স্মৃতিকাতরতা কিংবা সূক্ষ্ম রূপক সব-ই এসেছে একের পর এক। গল্পের স্বাদে ভিন্নতা এলেও ধ্রুবক থেকে গেছে শাহাদুজ্জামানের লেখায়। যেমন, বন্ধুর নোটবুক গল্পটায় কথার ছলে হয়তোবা নিজের মনের কিছু কথা লিখে রেখেছেন ভদ্রলোক। এক কমলালেবু বিক্রেতার কাছে গিয়ে তার মনে হলো, এই কমলাগুলোর মাঝে কোনটি জীবনানন্দ দাশ; কেননা তিনি কমলালেবুর দেহ নিয়ে কোনো এক মুমূর্ষু রোগীর বিছানার পাশে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। লিখলেন,

...কমলালেবুগুলো এতটাই একটা অন্যটার পুনরাবৃত্তি যে এর ভেতর থেকে জীবনানন্দকে পৃথক করা কঠিন। তবু আমি খুঁজতে লাগলাম। পেলে বাড়িতে এনে সব কোয়া ছাড়িয়ে একটা পিরিচে রেখে জিজ্ঞাসা করতাম, আপনি মানুষকে এত ভয় দেখান কেন? কেন লিখেছেন যে- 'আঁধার দেখেছি, আছে আরও বড় অন্ধকার?'


জীবনবোধের গভীর কোন গল্প ফাঁদতে বসিনি। বসলেও এ বইয়ে লেখা শাহাদুজ্জামানের মতো হবে না তা সুনিশ্চিত। গল্পের ফাঁদে ফেলে কী কী যে শুনিয়ে গেলেন ভদ্রলোক। মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় শুধু পড়ে গেলাম। সেটা মহাশূন্যে সাইকেলের মতো নিজের অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে তারপর যেতে যেতে-র রূপকথার ন্যায় মহান ত্যাগের মহিমায় গিয়ে ঠেকলেও থেমে থাকেনি তার অগ্রযাত্রা। এরপর সুনিশ্চিত ভাবেই সামনে এলো উপমহাদেশের ধর্মের লড়াই। কোন ধর্ম সেরা, কার জমিনে চিরস্থায়ী আবাস সে নিয়ে মারামারির মাঝে ঠাকুরের সঙ্গে আমিও হারিয়ে গেলাম দুজন বৃদ্ধের বিস্মৃতির অতলে। এরপর গেলাম বিলেতে, সেই বিলেতে যেতে এতো ঝক্কি, তা আমি ও মাইকোবেকটেরিয়াম টিউবারকুলি না পড়লে হয়তো জানা হতো না। হয়তো জানা হতো না এতসব ভারিক্কিপনার পেছনে আসলে দুনিয়াটা অতটাও জটিল কিছু নয়। স্বভাবতই সব গিয়ে ঠেকে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে। চির হরিৎ প্রকৃতিকে হত্যা করে মানুষ বসিয়েছে সভ্যতা, গড়ে তুলেছে শ্রেণীর দেয়াল। তাই যেন ভেঙে গুড়িয়ে দিল পাকি হানাদারদের আক্রমণ। সব শ্রেণির মানুষদের করলো একশ্রেণী। সবার জীবনের আলাদা গল্প সব মিইয়ে গেল এক নিমেষে। মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগ এর একদম শুরুর লাইনটা বেশ

...স্মৃতি সৈকতে ঘুরে বেড়ানো শিশুর মতো। সে যে কোনো নুড়িটা হাতে তুলে নেবে বলা দুরূহ।


বটে। এসব আপনি-আমি সবাই জানি। তবে শব্দের ছাচে এভাবে কতজন ফেলে তা প্রকাশ করতে পারি। হোক এই কথাটা তার নিজের বা অন্য কারো। তারপর আরো লিখেছেন,

...আমরা যখন মক্কিপুরে পৌঁছেছি তখন সেখানে পাহাড়ের নিচে আত্মগোপন করে থাকা গ্যাসের ঘাড় মটকে বিদ্যুৎ তৈরির আয়োজন চলছে। এক প্রাচীন জনপদে বড় বড় পা ফেলে তখন এগিয়ে আসছে বিংশ শতাব্দী। আকাশের দিকে তাক করে ধান ক্ষেতের উপর দাঁড়িয়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।


এভাবেও লেখা যে যায় তা জানতাম না। গুরুকে সেলাম তাই। তার এই বর্ণ-অক্ষরের মোহ মায়ায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখে মেটাফরিক সব গল্প আমায় মুগ্ধ করেছে। লালনের সেই যে লাইন,

চক্ষু অন্ধ দেলের ধোঁকায়
যেমন কেশের আড়ে পাহাড় লুকায়।


তেমনি হাজারো সস্তা সাহিত্যের ভিড়ে শাহাদুজ্জামান হারিয়ে না যাক তাই প্রার্থনা।
Profile Image for তানভীর রুমি.
119 reviews62 followers
November 18, 2021
শাহাদুজ্জামানের ছোট গল্প সবসময়ই অন্যরকম। ছোটগল্পের সংজ্ঞা বা ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য বোঝাতে শাহাদুজ্জামানের গল্পকে অনায়াসে ব্যবহার করা যায়।

কেশের আড়ে পাহাড় আমার পড়া শাহাদুজ্জামানের ৩য়/৪র্থ বই। মামলার সাক্ষী ময়নাপাখি দিয়ে শুরু, এরপর কয়েকটি বিহ্বল গল্প পড়েছি। কেশের আড়ে পাহাড়কে প্রথম দুটোর মতো লাগেনি, কিন্তু এটাও যে একই লেখকের লেখা সেটা অনায়াসেই চিহ্নিত করা যাবে।
Profile Image for Nishat Monsur.
191 reviews18 followers
November 7, 2025
আজকাল আগের মতো অতোটা ট্রেন্ডে না থাকলেও, বইওয়ালা ক্যাফের চাহিদা একেবারে পড়ে গেছে, এমনটাও বলা যাবে না। আজ এরকম এক জায়গায় গিয়েই আমি বইটা হাতে তুলে নিলাম। সচরাচর এরকম জায়গায়, যেখানে আমি কতটা সময় ঠিক কাটাবো তা আগে থেকে জানি না, এরকম জায়গায় ছোটোগল্পের বই হাতে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বইওয়ালা ক্যাফের ট্রেন্ড শুরু থেকে আজকাল পড়তি ট্রেন্ডের সময় পর্যন্ত এ ধরনের উদ্যোগের সাথী হবার সুবাদে এই হ্যাক আমার জানা। তাছাড়া বইটা আমি পড়তে চেয়েছিলাম অনেক আগে থেকেই।

এইবার বোধহয় একটা অজনপ্রিয় মন্তব্য করতে চলেছি। আমার মতামত হচ্ছে এই বইয়ের জনপ্রিয় গল্পগুলো আসলে সেইগুলো যেগুলো থেকে গড়পড়তা একজন পাঠক কোনো না কোনো অর্থ সাজিয়ে নিতে পারেন। আমার দিকে হাঁ রে রে রে করে তেড়ে আসার আগেই বলে দিতে চাই, আমি নিজেও একজন গড়পড়তা পাঠকই। খোলা উপসংহারের ছোটোগল্প আমি নিজেও তেমন উপভোগ করতে শিখি নাই, সে আমার কল্পনাশক্তির অভাবের জন্য নাকি ধৈর্য্যের অভাবের জন্য, তা খুব একটা ভালো বলতে পারব না। সম্ভবত ব্রেইনে গ্রে ম্যাটারের অভাব আর রীলস দেখে দেখে ক্ষয়ে ফেলা ফোকাসের একটা মিশ্র কারণে আমি আসলে এই বইয়ের বেশির ভাগ গল্পের ইন্টেন্ডেড অর্থ ধরতে পারি নাই। সেটাকে আমি পাঠক হিসেবে আমার খামতির ট্যাগেই তুলে রাখতে চাই।

ভালো লাগার গল্প কোনগুলো, সে আর আলাদা করে কী বলব, আমার ধারণা গুডরিডসের কমিউনিটি রিভিউগুলো পড়লেই সে গল্পগুলোর খোঁজ পাওয়া যাবে। তবে আমি আলাদা করে পয়লা গল্পটির একটি বিশেষ চিন্তাসূত্রের কথা মনে করতে চাই। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের একটি বয়ানের কথা উল্লেখ আছে এখানে, যদিও এটা আসলেই তিনি বলেছিলেন কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবরের ডিউ ডিলিজেন্স করার ধৈর্য আমার নাই- তা ছাড়া "কে বলেছেন"-এর চেয়ে "কী বলেছেন"-এর চিন্তাটাই বেশি স্বস্তির মনে হয় আমার কাছে। তিনি বলেছেন সংসারে ভ্রষ্টা নারীর মতো থাকতে। শাহাদুজ্জামান বলছেন, "*ভ্রষ্টা নারীর মন পড়ে থাকে পরপুরুষে, তার প্রেমিকের কাছে। পাছে সে ধরা পড়ে যায় সেই ভয়ে সে সংসারে খুবই মনোযোগী থাকে।*" ভ্রষ্টা নারীদের সম্পর্কে এই ভাবনায় কতটা একমত হতে পারলাম তা ঠিক বলতে পারি না- ভ্রষ্টা নারী আমি আর তেমন দেখলামই বা কোথায় আসল জীবনে?

তবে পরবর্তীতে তিনি এই ধারণাটিকে মেলালেন চাকরির সাথে। গল্পের বয়ানে রেজাউল করিম আসলে তার চাকরিতে সাফল্য পেয়েছেন সত্য। তিনি মনোযোগের সঙ্গে কাজ করেছেন কিন্তু মন পড়ে ছিল অন্যখানে। এই জায়গারা খানিক ভাবালো। চাকরি জিনিসটাকে তবে আমি নিজেও খানিকটা অ্যাপ্রোচ করি ভ্রষ্টা নারীর মতোই। মনোযোগী থাকি কারণ না হলে ধরা পড়ে যাবে, মন কতখানি অনুপস্থিত এখান থেকে। আর কে না জানে, পুঁজিবাদের মতো করে আর কেউ অমনোযোগীতাকে শাস্তি দেয় না।

কাজেই মনের মধ্যে অন্য আকাশ, অন্য ঘর নিয়ে আমি গভীর মনোযোগে সংসার করি মাইক্রোসফট এক্সেল আর শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিসঘরের সাথে। কে জানে, মাঝেমধ্যে হয়ত এরকম অলস শুক্রবারের বিকেলে নিজেকে ঠেলে বাইরে নিয়ে গিয়ে, যে বই ঘরে বসে পড়তে পারতাম, সে বই পড়ার জন্য চারশ' টাকার ক্যাফেইন কিনে, ভ্রষ্টা নারীর মতোই ঘুরে বেড়াতে হবে আরও অনেকদিন।

এর মধ্যকার খণ্ডিত অবসরে আমরা খানিকক্ষণ পাতা উল্টাই।
Profile Image for Pathok Bolchi.
97 reviews6 followers
March 5, 2024
বইমেলার কিছু লিমিটেড স্টলে স্টলে এবার ঘুরেছি। তাদের বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখেছি, হুটহাট বইয়ের পেটের ভেতর ঢুকে এক-দু পৃষ্ঠা পড়তে শুরু করেছি।ভালো লাগলে সংগ্রহ করেছি। মেলায় গেছি সর্বসাকুল্যে মোট তিনদিন। যেহেতু বইয়ের আবেদন নিবেদন আমার এখন চেনা জানা সেহেতু আমার জন্য কার বই কিনব এবং সেগুলো কোন প্রকাশনীর স্টলে পাওয়া যেতে পারে সেসব খোঁজখবর মুষ্টিবদ্ধ করে মেলায় গেছি। শাহাদুজ্জামানের ছোটগল্প পড়ার সময়ে নিজেকে কেমন চাঁদের হাটে আছি,আছি,বলে মনে হওয়ায় সর্বশেষ অপঠিত “ কেশের আড়ে পাহাড়” ছোটগল্পের বইগুলো সংগ্রহ করলাম।

ঐতিহ্যের প্যাভিলিয়নে গিয়ে “কেশের আড়ে পাহাড়” বইটা হাতে নিয়ে একটানে মলাট উল্টাতে উল্টাতে চলে গেলাম বইটির দ্বিতীয় গল্পে , ‘তারপর যেতে যেতে’। একপৃষ্ঠা পড়ার পর বুঝলাম আমার মরহুমা দাদির কথা মনে পড়তেছে। শৈশবের বিকালে দেখতাম আপা (দাদিকে আমরা ভাইবোনেরা, আপা ডাকতাম) হারিকেনের চিমনি পরিষ্কার করত। কেরোসিন ঢালত।কেরোসিনের গন্ধে সারা বাড়ি মো মো করত। আমি অন্তত বুক ভরে তখন প্রশ্বাস নিতাম। সন্ধ্যা হতে না হতেই আমি ও আমার কাজিনরা আপার পাশে বসতাম, গল্প শোনার জন্য। তিনি পান চিবুতে চিবুতে আমাদের গল্প শোনাতেন। ঠিক ‘তারপর যেতে যেতে ‘ গল্পে শাহাদুজ্জামানও এমন এক বুড়ির বর্ণনা দিয়েছে যা আমাকে নস্টালজিক করে তুলছে কিছুটা।

আবার ‘মাজার,টেবিল টেনিস,আসলি মোরগ’ নামক এক এডভেঞ্চার গল্পে সাত বছর বয়সী বালকের গভীর অবজারভেশনে তার একাকীর পোট্রের্ট করছেন লেখক এভাবে, ‘ তক্ষক থাকে গাছের কোঠরে, বোরহান থাকে সমতলে আর আফসানা ভাষার আড়ালে। ফলে আমি যূথভ্রষ্ট বালকের মতো ঘুরে বেড়াতাম। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে কখনো দূরের পাহাড় দেখতাম। দূর দেখতাম। নতুন করে দূরও একটা দেখবার বিষয়।’ আমার শৈশবটা অনেকটা এমন ছিল বলেই রিলেট করতে পারি বেশ সহজেই , সবার মধ্যে থেকেও কেমন করে দূরত্ব হয়।

সর্বসাকুল্যে নয়টি বৈচিত্র্যময় গল্পের সংকলন বইটি আপনাকে হাসাবে,কাঁদাবে, নস্টালজিক করে তুলে গভীর একটা ভাবনার আবহ তৈরি করতে শাহাদুজ্জামান একজন পারদর্শী উস্তাদ লেখক সমসাময়িকদের মধ্যে।

বইটির প্রচ্ছদটি বেশ নজরকাড়াঁ।
Profile Image for Shoroli Shilon.
172 reviews76 followers
July 22, 2023

কিছু লেখককে গল্পলেখক এর চেয়ে গল্পকথক বেশি মনে হয়। শাহাদুজ্জামান স্যার তার মধ্যে অন্যতম। যেন পিড়া পেতে বসে কেউ গল্প বলছে। অপার মুগ্ধতা নিয়ে শ্রোতা গল্পকথকের গল্প শুনছে আর মাঝেমাঝে কিঞ্চিত মাথা ঝাঁকিয়ে তাতে সম্মতি জানাচ্ছে। আমিও তেমনি জানালাম। "মহাশূন্যে সাইকেল" চালানোর মত আজগুবি দৃশ্য কল্পনায় বুনে "তারপর যেতে যেতে" এক "অন্ধ শাহাজাহান" এর দেখা মিললো। "ঘাসের উপর সবুজ বাতাস" এর দোলাচালে "আমি ও মাইকোবেকটেরিয়াম টিউবারকুলি" খুঁজতে থাকি আমার "বন্ধুর নোটবুক"। সেখানে দেখা হয় "ঠাকুরের সঙ্গে"। ভাবনার পরিতোষ অদ্ভুত এক জগত সৃষ্টি করে। "মাজার, টেবিল টেনিস, আসলি মোরগ" একসাথে বিচিত্র সাইকোডেলিক ছন্দে নাচানাচি করে। চোখের ধাঁধায় বই এর বদলে দেখি "বুক শেলফে বাঘ"।

তো এমন বিচিত্র সব শিরোনামের গল্পগুলো পড়ার শুরুতেই যে চিন্তাটা মাথায় আসবে সেটা হচ্ছে গল্পের নামকরণ এর রহস্য খুঁজে বের করা। একটা বাক্য আর তাতে পুরো গল্পের বিষয়বস্তু উঠে এসেছে। যেমন "আমি ও মাইকোবেকটেরিয়াম টিউবারকুলি" গল্পটার কথা যদি বলি! সেটা পড়লেই বুঝতে পারবেন।

একজন ভালো সাহিত্যিকের বোধহয় তেমন কোনো প্লটের দরকার হয় না। বরং কোনো একটা নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলা গল্প অসংখ্য প্লটের জন্ম দেয়। অতঃপর "কেশের আড়ে পাহাড়" এর মত বইগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে তব্দা হয়ে বসে থাকতে হয়-"এভাবেও গল্প লেখা যায়!"
3 reviews
January 1, 2023
কেশের আড়ে পাহাড়
শাহাদুজ্জামান
প্রকাশনী-মাওলা ব্রাদার্স
প্রচ্ছদ-ধ্রুব এষ
মূল্য -৬৫০ টাকা (সমগ্র মূল্য)

সৃষ্টিশীলতায় সমৃদ্ধ লেখা পড়তে ইচ্ছে হলেই দারস্থ হই শাহাদুজ্জামানের। নিয়মের বেড়াজালে তার গল্প আটকে থাকে না।এইটা আমাকে খুব টানে।মোহাবিষ্ট হয়ে তার লেখা পড়ি।
কেশের আড়ে পাহাড় আমার পড়া লেখকের তৃতীয় বই।মোট নয়টি গল্প আছে বইটিতে।
প্রথম গল্প মহাশূন্য।সাত পৃষ্ঠার এ গল্পটিতে তোলা আছে তথ্য, তত্ত্ব, মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা আর সম্পর্কের নিরীহ ব্যকরণ।সংলাপগুলো বর্ণনাম��় হলেও তার রূপরস ছাপিয়ে ওঠে তার আধিক্যকে।
তারপর যেতে যেতে গল্পে বর্ণনার এক নতুন ধারা আবিষ্কার করি।সময়ের ক্যানভাসে রূপকথাকে এঁকে দেন সন্তর্পণে।
বুকশেলফে বাঘ, নামটাই কেমন আকর্ষণ করে। তারপর একে একে পড়ে যাই " অন্ধ শাহজাহান, ঠাকুরের সঙ্গে, ঘাসের ওপর সবুজ বাতাস,বন্ধুর নোটবই।
আমি ও মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলিতে লেখক তুলে এনেছেন বিদেশ যাত্রার সময় ভোগান্তির কথা।মাজার,টেবিল টেনিস, আসলি মোরগ এ গল্পটি শুরুতে তেমন না টানলেও শেষে টানটান উত্তেজনা কাজ করে।
শাহাদুজ্জামানের অনন্যতা মেনে নিতেই হয় তখন।
Profile Image for Hridoy Ahmed.
24 reviews4 followers
September 24, 2020
ইদানিং যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে, যে বর্তমান সময়ে আপনার প্রিয় লেখক কে?
তখন আমি একবাক্যে বলে দেই 'শাহাদুজ্জামান'!

উনার লেখার সাথে আমার সর্বপ্রথম পরিচয় হয়েছিলো ২০১৭ সালে 'আধো ঘুমে ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে' বইটির মাধ্যমে।
তারপর থেকেই আমি তার লেখার খুবই বড় একজন অনুরাগী।

শাহাদুজ্জামানের লেখা আমাকে বরাবর-ই মুগ্ধ করেছে।
বরাবরের মতো তার 'কেশের আড়ে পাহাড়' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলোও আমাকে আবার মুগ্ধ হতে বাধ্য করেছে।

'কেশের আড়ে পাহাড়' শাহাদুজ্জামানের ৩য় গল্পগ্রন্থ। ৯টি ভিন্ন আঙ্গিকের গল্প নিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে। নিঃসঙ্গতা, দূরত্ব, সাম্প্রদায়িকতা, ব্যর্থতা, মানবিকতা, হতাশা, দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতি প্রসঙ্গ উঠে এসেছে একেকটি গল্পে। গল্পগুলো আপনাকে অবশ্যই ভাবাতে বাধ্য করবে।

বইঃ কেশের আড়ে পাহাড়
লেখকঃ শাহাদুজ্জামান
প্রকাশনীঃ ঐতিহ্য
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৭০ টাকা
Profile Image for অভী চক্রবর্তী .
23 reviews1 follower
March 26, 2020
বর্তমান লেখকদের মধ্যে শাহাদুজ্জামানের লেখা আমাকে ভাবতে বাধ্য করে। উনার প্রতিটা লাইনে চিন্তার প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। একজন কমলালেবু,ক্রাচের কর্নেল,আধো ঘুমে কাস্ত্রোর সঙ্গে পড়ার পর থেকে উনাকে কখনোই দূরের কোন মানুষ মনে হয় নাই। আত্মার খুব কাছের একজনই ভেবেছি। কেশের আড়ে পাহাড় বইটা পড়ে আবারো সেই সুচিন্তায় নিমজ্জিত হতে পেরেছি। অনেক গল্প নিয়ে এই বই। প্রতিটা গল্পেরই একটা অভিন্নসত্ত্বা রয়েছে। এক সন্তানের বাবা বাঘে রূপান্তরিত হয়ে সেই সন্তানের জন্যই জীবন দেয় এই গল্পটা অনেক সময় ভাবিয়েছে। শাহাদুজ্জামান আমার মনে একটা আক্ষেপ থেকে গল্প লিখেন। হয়তো উনাকে এখনো মার্কসিস্ট সোস্যালিস্ট সমাজ ব্যবস্থার আক্ষেপ তাড়িত করে। উনার লেখায় সেই সমাজ ব্যবস্থা না পাওয়ার গন্ধ যায়।
10 reviews
March 9, 2023
আমি এখন আর উপন্যাস পড়তে পারি না। পড়লেও খুব ছোট আকারের উপন্যাস পড়া হয়। বড়সড় মোটা বই আমি শুরুই করতে পারি না। তাই ছোট গল্পের প্রতি ঝোঁক বেশি। আবার ছোট গল্পের বইও এক নাগারে পড়া হয় না। একটু একটু করে পড়ি।
এই বইটাও অল্প অল্প করে পড়েই শেষ দিলাম। আমার শাহাদুজ্জামানের লেখা বরাবরই ভালো লাগে। উনার লেখা আমার কাছে কাব্যিক লাগে। এক গল্প থেকে আরেক গল্পে চলে যান খুব সহজেই। আমি বেশি গবেষণা করি না। শুধু মাত্র আমার কেমন লেগেছে পড়ে সেটাই টুক করে লিখে ফেলি। তাই আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।
তাও কিছু গল্প যেগুলো ভালো লেগেছে সেগুলোর নাম একটু বলে যাই, "তারপর যেতে যেতে", " অন্ধ শাজাহান",
"ঠাকুরের সঙ্গে", " আমি ও মাইকোবেকরিয়াম টিউবারকুলি"।
Profile Image for Tisha.
205 reviews1,122 followers
April 14, 2025
শাহাদুজ্জামানের গল্প বলার ধরণটা আমার কাছে বরাবরই খুব ইউনিক লাগে। উনি কিছু কিছু ব্যাপার এমনভাবে বর্ণনা করেন যে তা পড়ে আমি চমৎকৃত হই। সেই নির্দিষ্ট অংশে আবার ফেরত যাই আরও দুই একবার পড়ার জন্য। এই যেমন এখানে একটা গল্পে উনি লাল ওড়নাকে তুলনা করেছেন মহিষের রক্তের সাথে! কি অদ্ভুত, তাই না? এধরণের উপমা শাহাদুজ্জামানের লেখায়ই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। আর এটাই তাঁর লেখার বিশেষত্ব। ছোট ছোট নয়টা গল্প নিয়ে এই বই। গল্পগুলো একটা অন্যটা থেকে আলাদা। কোনটাতে ফুটে উঠেছে সুরিয়ালিজম, কোনটাতে গ্রাম্য লোককাহিনী, আবার কোনটাতে লেখকের শৈশবের এক খন্ড চিত্র। বেশ উপভোগ্য ছিল প্রত্যেকটি গল্প।
Displaying 1 - 30 of 43 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.