Jump to ratings and reviews
Rate this book

রঙিন চশমা

Rate this book
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জীবনটা ছিল অসাধারণ। অনেকদিন থেকেই ভাবছি আমি সেই সময়টুকুর কথা লিখে রাখি, শুরু করে আবিষ্কার করলাম কাজটা সহজ নয়। গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনা ভুলে বসে আছি অথচ একেবারে তুচ্ছ কোনো ঘটনার খুঁটিনাটি সবকিছু মনে আছে। লিখতে গিয়েও দেখি সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই; জীবনের তুচ্ছ ঘটনাগুলোই ঘুরেফিরে উঠে এসেছে।

তখন মাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমার সময় কম, চোখে তখন একধরনের রঙিন চশমা। সেই রঙিন চশমার এমনই জাদু যে তুচ্ছ সাধারণ ঘটনাকেই অসাধারণ মনে হয়- আসলে আমার তো কিছু করার নেই!

- মুহম্মদ জাফর ইকবাল

96 pages, Hardcover

First published February 1, 2007

8 people are currently reading
221 people want to read

About the author

Muhammed Zafar Iqbal

401 books1,609 followers
মুহম্মদ জাফর ইকবাল (Bengali)

Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.

Birth and Family Background:
Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.

Education:
Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.

Personal Life:
Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.

Academic Career:
After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.

Literary career:
Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.

Other Activities and Awards:
Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
387 (43%)
4 stars
325 (36%)
3 stars
144 (16%)
2 stars
26 (2%)
1 star
4 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 46 reviews
Profile Image for রিফাত সানজিদা.
175 reviews1,360 followers
September 1, 2016
বাল্যের এক অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে মাঝে বহুবছর তেমন কোন যোগাযোগ ছিল না।
এইচএসসি পরবর্তী দীর্ঘ বিরতির পর প্রবাসে যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটো ভিন্ন প্রোগ্রামে দুই তরুণী আবার সহপাঠী হিসেবে যুক্ত হলাম, ততোদিনে সে উদীয়মান বিজ্ঞানী হিসেবে বেশ খানিকটা নাম কামিয়ে ফেলেছে।
অবসরে, শাবিপ্রবি সুত্রে গড়ে ওঠা ডঃ মুজাই এবং ডঃ ইয়াসমিন হকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সখ্যতার গল্প শুনে তীব্র ঈর্ষা বোধ করতাম।

মনে পড়লে এখনো করি।

বাঙালি এভারেজে রসিক হলেও নিজেকে নিয়ে সৎ রসিকতার সাহস সবার থাকে না।
রঙিন চশমা পড়তে গিয়ে প্রথম যেটা মনে হয়েছিল এতোটা নির্মোহ, নাহ বরং বলা ভালো, নিস্পৃহ ভঙ্গিতে নিজের জীবনের গল্প বলতে ক'জন পারে?

এই গল্প শুধু তরুণ কোন শিক্ষার্থীর আত্মজৈবনিক স্মৃতিচারণ-ই নয়, সে জীবনের সঙ্গে আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জীবন সংগ্রামের গল্পও।
বাবাকে হারিয়েছেন পাক হানাদারদের হাতে, নেই স্থায়ী কোন আয়ের উৎস, মাথার ওপর নেই ছাদও।
তবু কী অদ্ভুত সাহসের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছেন সমস্ত বিপর্যয়ের।
হাতখরচ উপার্জনের জন্য পত্রিকায় কার্টুন এঁকেছেন কিন্তু সেই সামান্য সম্মানি আদায় করাও তখন মোটেই সহজসাধ্য কাজ ছিলো না।

জীবনের সেইসব গ্লানিময় সময়ের গল্প এতো সরস, এতো সহজ ভঙ্গিতে লেখা যে, মন ভার হবার বদলে উল্টো ভাল হয়ে যায়।

আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে যাপিত নানা হাস্য্যরসাত্মক মুহূর্তের কথাও। সেসব বুদ্ধিদীপ্ত টুকরো ঘটনায় চেনা যায় ভবিষ্যতের উদ্যমী আর সৃজনশীল আজকের জাফর ইকবালকে।

কাজি অফিসে গিয়ে বন্ধুর গোপন বিয়ের সাক্ষী হওয়া থেকে শুরু করে হলের সঙ্গীদের সঙ্গে প্ল্যানচেট, আর্থিক দৈন্যের চিন্তাভার বেমালুম ঝেড়ে ফেলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচনাসমগ্র কিনে নিয়ে হাসিমুখে ঘরে ফেরা, প্রথম বই প্রকাশ, আসবাব কেনার সামর্থ্যের অভাবে করাত আর কাঠ কিনে বাড়ির ছাদে নিজেরাই সদলবলে বুকশেলফ বানাতে নামা, পরিণয়, পরবাসযাত্রা...
ছোট ছোট ঘটনার সুতোয় গাঁথা কী সাবলীল গদ্য!

দিন দুই আগে এক জুনিয়র হতাশাগ্রস্থ ভগিনীকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলো-- আপু, দুঃখ খুবই ব্যক্তিগত জিনিস, নিজের কাছেও আদতে লুকিয়ে রাখতে হয়।
কথাটা পছন্দ হয়েছিলো।

বহুদিন পর এ বইটা পড়া হলো আবার।
পিতার অস্থির সন্ধানে পিরোজপুরের নদীতীরে জাফর ইকবাল যখন কবর খুঁড়ছিলেন, সেই স্মৃতির অনিঃশেষ বেদনা ঢেকে রেখে লিখতে বসতে কতটুকু মনের জোর প্রয়োজন হয়েছিল, বোঝার চেষ্টা করছি।
Profile Image for Rifat.
502 reviews330 followers
April 12, 2021
৭১ এর যুদ্ধে হারানো বাবার লাশ কবর থেকে তুলে আনা থেকে শুরু করে, সচ্ছলতা নামক শব্দের ব্যাঙ্গাত্নক আচরণের মধ্যে কি সুন্দর সাহসিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। শুধু কি তিনিই? দুর্দশার সাথে সাহসিকতার সাথে তাল মিলিয়েছেন তার পরিবারও।


এই বইটিতে উঠে এসেছে তরুণ জাফর ইকবালের স্মৃতি- "বাবার লাশ শনাক্তকরণ; ধূমপান শুরু করার ঘটনা; অর্থাভাবে পড়ে কার্টুন এঁকে উপার্জনের চেষ্টা; লেখক হয়ে ওঠার গল্প; মাছের ট্যাটু আঁকতে গিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া; শিং মাছের গল্প; ডিপার্টমেন্টে নাটক বন্ধ করিয়ে আবার নাটক করা; আসবাব বানানো; চোর ধরার গল্প; বাইরে পড়তে যাওয়া কিংবা নিজের সহপাঠিনীকে সহধর্মিণী হিসেবে পাওয়া"
এই টুকরো স্মৃতিগুলো পড়ার সময় একবার মন ভারী হয়ে উঠছিল আবার কখনও মন উৎফুল্ল হয়ে যাচ্ছিল। কি সহজ ভঙ্গিমায়, অকপটে সবকিছু মেলে ধরেছেন!

এই বইয়ের একটা অন্যতম ইন্টারেস্টিং কাহিনী হচ্ছে শিং মাছের কাহিনীটা। আজকালকার শিক্ষার্থীদের দেখি ভাতে পোকা পেলে কেমন করে ওঠে। বলে-ইয়্যুউউউ! আবার কেউ কেউ সুরেলা কণ্ঠে বলে, ও--মা---! অধিকাংশ সময় ভাত পড়ে থাকে থালায়।
আর জাফর সাহেব তো দেখছি বন্ধুর প্লেট থেকে শিং মাছের মাথা থেকে বড়শি সমেত কেঁচো বের করলেন, সবাইকে দেখানো শেষ করে আবার নিজের ভাত খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিলেন! তিনি আরও বলেছেন, "তুচ্ছ এক টুকরো কেঁচো দেখে খাওয়া বন্ধ করলে কেমন করে হবে? আমরা হলে থাকি না!?"
সবাইকে শান্ত হতে হবে O_O



বইয়ের নামটা দারুণ! যখন হাই স্কুলে ক্লাস করা শুরু করেছি তখন থেকেই এই "রঙিন চশমা" শব্দ মেলা বার শুনতে হয়েছে। বাংলা স্যার গুরু গম্ভীর ভাবে বলতেন- 'শোনো! এখন তোমাদের উঠতি বয়স। চারদিকে অনেক রঙিন চশমা, চোখে পড়লে সব রঙিন লাগবে। কেউ ভুল করে এই রঙিন চশমার ফাঁদে পড়ো না!' এখন স্যারকে দেখলে চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছা করে-
স্যার! স্যার! বর্ণহীন চশমার ফাঁদে পড়লে কি বিশেষ সমস্যা!? >_<

~২৪ জানুয়ারি, ২০২১
Profile Image for Ësrât .
516 reviews86 followers
June 8, 2023
#feel_good_chill_mood_book

স্বাধীনতা শব্দের সঠিক মানে বুঝতে শুরু করা এক জাতির যখন মনে হচ্ছিল, এই বুঝি রেনেসাঁর রঙে রঙিন হয়ে রামধনুর সাতটি রঙের সবটা না হোক কিছুটার ছিটেফোঁটা পড়ে তাদের চোখের রঙিন চশমার ফাঁকে স্বপ্ন দেখার সাথে বাস্তবতা বুঝে লড়াই করার সংগ্রাম উপস্থিত,ঠিক তখন পিরোজপুরে পিতার অস্থির সন্ধানে দশভুজার মত দশদিক সামলানো দিশেহারা মা আর বাকরুদ্ধ বোনের সাথে নিজের সমস্ত অস্তিত্বের সাথে যুদ্ধ করে অস্থিরতাকে গোপন রেখে শক্ত হাতে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে পিতার ক্ষয়ে যাওয়া অস্থিসন্ধির সাথে চেনাজানা হতে হতে হঠাৎ করেই বয়স বেড়ে বড় হয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া জাফর ইকবাল।

সাদাকালো জীবনে যার পরতে পরতে পড়ছে জলরং ছাপে আঁকা ঘটনার ঘনঘটা।পামিস্ট থেকে পরিচিত হয়ে সিগারেট ফোকার মাঝে হঠাৎ করে ভাগ‍্যফেরে সহপাঠিনী ইয়াসমীনের সহধর্মিণী হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে অল্প করে হলেও দিব্যি একখানা ছায়াছবি হয়ে যাবে।

সংসারের অভাবে যাদের আকাশ ছিল শেষ আশ্রয়, সেসময়ে ও অবিচলিত থেকে আজকের দিনের বহু ব‍্যবহৃত "প‍্যারা নাই চিল"এক পারফেক্ট উদাহরণ জাফর ইকবালের পরিবার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বাসার পথ পর্যন্ত জীবন তাকে দিয়েছে দুহাত ভরে অকপটে, মানিকবাবুর সমগ্ৰ থেকে সাইকেলের যাত্রার মাঝে বাস ড্রাইভারের সাথে সাহিত্য রাজনীতি আলাপ কারো কাছে প্রলাপ মনে হলেও দিব্যি চালিয়ে গেছেন,পুরান ঢাকার পথের মধ্যে ছফা সাহেবের কাছ থেকে লেখার তোফা রূপে পাওয়া এক টাকার পুরস্কার কিংবা বিদেশ যাত্রায় বন্ধুর টাকায় টিকেটের টাকা জোগাড় করতে কারো কাছে করতে হয়নি ঠোকাঠুকির দায়।

ওয়াশিংটন থেকে ক‍্যালটেক,সেখান থেকে বেল কমিউনিকেশনের রাস্তা মাড়িয়ে সাস্টে এসে থিতু হওয়ার মাঝে কার্টুনিস্ট-লেখক-ছাত্র জাফরের আরো কতশত কথা লিখতে গেলে এক হাজার এক রাত্রির মাঝে বেশ কিছুটা সময় ছিনিয়ে নেওয়ার দোষে দুষ্ট হওয়ার আগেই ইতি টেনে নিচ্ছি। এমনিতেই এই অধমের বাক‍্যবিলাস শুরু হলে শেষ হওয়ার নামটির টিকি টুপ করে ডুব দিয়ে গায়েব হয়ে থাকে, তারপরে এমন একটা বইয়ের ভাষা নিজের বুলিতে বলার কালে হুঁশ হারিয়ে বেহুঁশ হয়ে রইবো তাই তো স্বাভাবিক।

শুধু একটা মাত্রই আফসোস,এই পৃথিবীর পরে বা আগে যতকিছু মঙ্গলকর মন্ত্র ছেপে আছে বা থাকবে বইয়ের পাতায় তা সব দেখার আগেই হারিয়ে যেতে হবে, ফুরিয়ে যাবে দৃষ্টি প্রদীপ দুচোখ ভরে দেখার আগেই।

রেটিং:🌠🌠🌠🌠🌠
Profile Image for Zunaed.
54 reviews122 followers
September 1, 2016
"দেশ তখন মাত্র স্বাধীন হয়েছে। আমার বয়স কম, চোখে তখন এক ধরনের রঙিন চশমা। এই রঙিন চশমার এমনই জাদু যে তুচ্ছ সাধারণ ঘটনাকেই অসাধারণ মনে হয়— আসলে আমার তো কিছু করার নেই!"

আমার নিজের বয়সটা নিয়ে অনেক গুরুজনকে বলতে শুনেছি, এখন নতুন চোখ, যা দেখি তাই ভালো লাগে, কিন্তু দুদিন পরেই নাকি আর লাগবে না! আমি কিছু বলি না। কথা বাড়ালেই কথা বাড়ে। কারও সাথে কথা বলতে কেন যেন আর আগ্রহ পাই না ইদানীং। অবশ্য নিজের সাথে কথা বলতে বেশ ভালোই লাগে, তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করি, দুদিন পর কোনটা ভাল লাগবে না? উত্তর আসে, জানি না। তাহলে কী করা? কী আর করা, যদ্দিন ভালো লাগে দেখে নাও, যাতে পরের জীবনটা স্মৃতি হাতড়েই কাটিয়ে দিতে পারো!

তাই আমি স্মৃতি বাড়াতে এক অদ্ভুত মুগ্ধতায় তাকিয়ে দেখি সবকিছু। মাঝে মাঝে স্মৃতির পাতা খুলে শৈশবের দিকেও তাকিয়ে দেখি, দেখি সেখানে খুব ছোট ছোট ঘটনাই মনে পড়ে, সব বড় বড় ঘটনার চেয়ে সেগুলোই মুগ্ধ করে বেশি।

নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দিকে তাকিয়ে সেই মুগ্ধতা প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের মনও ছুঁয়ে গেছে, আর তাই সেদিনের রঙিন চশমা চোখে লাগিয়ে দেখে ফেলেছেন সেইদিনগুলো। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে নাটক করা, কার্টুন আঁকা, বাসায় চুরি হওয়ার ঘটনা, সিগারেট খাওয়া, জ্বিন আনাসহ আরও অনেকগুলো ব্যাপার নিয়ে তাঁর একগুচ্ছ স্মৃতিচারণ আছে বইতে।

হয়তো ব্যাপারগুলো দৈনন্দিন জীবনের খুব সাধারণ ঘটনা, একদমই তুচ্ছ, কিন্তু তাতে কি এদের দাম কমে যায়? আমার তো মনে হয় না। আমাদের জীবনে বড়সড় ঘটনা ঘটে হাতেগোনা কয়েকটা, তাদের দিয়ে কি মানুষ চেনা যায়? জীবনের হাজার সাধারণ ঘটনাই তো আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় একটা মানুষের স্বাতন্ত্র্যের সাথে। ছোট ঘটনা তাই ছোট হয়েও ছোট না।

শুধু ছোট ঘটনাই না, বেশ কিছু বড় (আক্ষরিক এবং সাধারণ, দুই অর্থেই) ঘটনাও আছে এতে। বইটার শুরুতেই আমি একরকম ধাক্কা খাই, আর কী এক বিষাদ যেন ছুঁয়ে ফেলে তখন। অনেক হাসির ঘটনা পড়ে হাসতে গিয়েও তাই খেয়াল করলাম, হাসিতেও এক বিষাদ মাখানো!
"আমার মায়ের চেহারা তখন ডাইনি বুড়ির মত, কোটরাগত চোখ জ্বলজ্বল করছে, আমার দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বললেন, "তুই পারবি!"

আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, "পারবো।"

আমার মা আমাকে যে কাজটি করতে বলেছেন, সেটি খুব সহজ কাজ ছিল না, বাবার কবর খুঁড়ে তার দেহাবশেষ বের করা, সারা পৃথিবীতে খুব বেশি মানুষকে এই কাজ করতে হয়েছে বলে মনে হয় না।"
এর বাইরে আছে উনার স্কলারশিপ পাওয়ার গল্প, সহধর্মিণী ইয়াসমীন হকের সাথে ঘটা কিছু ঘটনা, আর রক্ষীবাহিনীর দ্বারা তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনাটাও।

নির্লিপ্ত ঢঙে বলে যাওয়ার যে পদ্ধতি মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের, তা নিয়ে তো নতুন কিছু বলার নেই। গল্পের মত যেন সবকিছু ঘটে যায়, সেই রঙিন চশমায় সবকিছুই চিরসুন্দর। সেই সৌন্দর্য, ভালো লাগা মনকে ছুঁয়ে যায়। বছর তিনেক আগের প্রথমপাঠের অনুভূতি আজ পুণঃপাঠেও মলিন হয় না, বরং ভালো লাগা বেড়ে যায় বহুগুণ। আর তাই, সব মিলিয়ে পাঁচ তারার কম দেয়াটা অবিচার মনে হয় :-)
Profile Image for Amanna Nawshin.
193 reviews56 followers
January 18, 2021
অনেকদিন পর কারো রিভিউ পড়ে সাথে সাথেই সেই বইটা পড়ে ফেললাম! অসম্ভব সুন্দর একটা বই। হুমায়ূন আহমেদের নিজ জীবনের ঘটনা নিয়ে লেখা বইগুলো মোটামোটি সবই আমি পড়েছি। সাইফাই আর কিশোর উপন্যাস ছাড়াও যে জাফর ইকবাল স্যার আরো কিছু বই লিখেছেন তার মধ্যে নিঃসন্দেহে এই বই টি অন্যতম। বই এর শুরুতেই লেখক ঘোষনা দিয়েছেন যে জীবনের ছোট খাটো ঘটনা নিয়ে লেখা এই বই। আমি বলবো কিছু ছোট খাটো গল্পের সাথে জীবনের কিছু বড় সড় ঘটনাকে এতো সহজ সাবলীল ভাষায় বর্ননা করেছেন যেটার তুলনা হয়না! জীবনের অসচ্ছল দিনগুলোর গল্প এভাবে নির্দ্বিধায় বলে যাওয়া কোন সহজ কাজ নয়। কি নেই এই বই এ!? বাবার কবর খুড়ে লাশ বের করা থেকে শুরু করে কঠিন দৈন্য দশা থেকে নিজেকে তুলে নিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর গল্পকে নেহায়েত গল্প বলে চালিয়ে দিলে খারাপ লাগে না। কিন্তু সত্য ঘটনা বিবেচনা করলে মনটা অসম্ভব খারাপ হয়ে যায়। অনেকদিন পর মনের মতো একটা বই পড়লাম।
পুনশ্চ, হাত কাটা রবিনের পুরো গল্প কিন্তু আমরা পড়তে পারিনি। প্রকাশকের অনুরোধে গল্পকে ছোট করে তিন ভাগের এক ভাগ করে ফেলা হয়েছিলো!
Profile Image for বিমুক্তি(Vimukti).
157 reviews93 followers
January 21, 2021
এ বই পড়ে অনেক হেসেছিলাম, অনেক শিখেছিলাম।

তিন চার বছর আগে পড়া, তাই বিস্তারিত কিছু মনে নেই। তবে বিশেষ কিছু ঘটনা যেমন, কবর খুঁড়ে নিজ বাবার লাশ বের করা, সেকেন্ড হ্যান্ড একটি বাই সাইকেলের সাথে লেখকের সখ্যতা, পিকনিকে ডিপার্টম্যান্টের মেয়েদেরকে সাথে নেওয়ার আনন্দ এবং বিড়ম্বনা, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মঞ্চ নাটকের বিরুদ্ধে অবস্থান, সিগারেটের বিনিময়ে হাত দেখা, পালিয়ে বিয়ে করা দুই বন্ধুর বিয়েতে লেখকের সাক্ষী হওয়া, স্কলারশীপ পেয়ে আমেরিকায় গমন(এবং টিকেটের টাকা জোগাড় করতে বিড়ম্বনা) আর সেখানেই নিজ ক্লাসের একজনকে বিয়ে করা, যার হাত দেখে জাফর ইকবাল স্যার বলেছিলেন, "অনেক বড় একজন বড়লোকের সাথে তোমার বিয়ে হবে"...বাপ রে অনেক জিনিসই তো মনে আছে দেখছি! এটাই প্রমাণ করে এ বই কতোটা দারুণ আর আমার কতোটা প্রিয়❤

বইটা উপহার পেয়েছিলাম সাগর ভাইয়ার কাছ থেকে। আমাকে পুরো শৈশব-কৈশোর কেটেছে ওর সাপ্লাই দেয়া বই পড়ে। এক সুযোগে ওকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে দিই...লাভ ইউ ব্রাদার❤✌

আজ সন্ধ্যায় এখানা তাক থেকে নামিয়ে ছোট ভাইকে দিয়েছিলাম পড়ার জন্য। তখন থেকেই বেচারা বইটায় এমন বুদ হয়ে আছে যে, পাতাগুলোর সঙ্গে নাক লাগিয়ে বসে আছে। ধাক্কা মেরেও নাক আর বইয়ের পাতা আলাদা করা যাচ্ছে না। অবাক করার মতো শক্তি জাফর ইকবালের!
Profile Image for Akhi Asma.
234 reviews465 followers
January 21, 2021
"দেশ তখন মাত্র স্বাধীন হয়েছে। আমার বয়স কম, চোখে তখন এক ধরনের রঙিন চশমা। এই রঙিন চশমার এমনই জাদু যে তুচ্ছ সাধারণ ঘটনাকেই অসাধারণ মনে হয়— আসলে আমার তো কিছু করার নেই!"

জাফর ইকবাল স্যারও যে নিজের জীবনের টুকরো টুকরো স্মৃতি নিয়ে বই লিখেছেন এটা জানা ছিলনা, রিফাত আপুর রিভিউ দেখেই বইটা পড়া। পড়ে অসম্ভব ভালো লেগেছে। লেখকের বাবা মুক্তিযুদ্ধে মারা যাওয়া এবং মায়ের কথায় বাবার কবর খোয়ার মত কঠিন কাজ থেকে শুরু করে, ছয় ভাইবোনকে নিয়ে মায়ের অনেক কষ্টে সংসার চালানো, রক্ষীবাহিনী বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, নিজের হাতে বাসার বুকশেলফ বানানো, ভার্সিটি লাইফের কথা, নিজের স্ট্রাগল থেকে শুরু করে সাফল্যের কথা সবই ছোট ছোট চ্যাপ্টার আকারে এই বইটাতে তুলে ধরেছেন। লেখকের আত্মজীবনী আরো বড় বই আকারে পড়তে চাই।
আমার আফসোস লাগলো হাত কাটা রবিনের বড় ভার্সনটা পড়তে পারলাম না, লেখকের মূল পান্ডুলিপিটা রেখে দেওয়া উচিত ছিল।
Profile Image for Tasnima Oishee.
140 reviews28 followers
April 27, 2023
রঙিন চশমা পরে দুনিয়াটা দেখলে এই দুনিয়ার যে সাদা কালো খোপে ভাগ করা দুঃখগাঁথা- সে থেকে হয়তো চোখ সরে যায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি হুমায়ুন আহমেদের আত্মজীবনীমূলক গল্পের ভক্ত। তার সেন্স অফ হিউমার যে কি অসাধারণ তা তার নাটকগুলো দেখলেই বোঝা যায়। সেসব বই থেকে আমরা জানি কি নিদারুন কষ্টেই না তাদের যুদ্ধপরবর্তী জীবনটা কেটেছে। তার একটা পার্ট জানা গেলো জাফর ইকবালের বয়ানেই।

এই রঙিন চশমার আড়ালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন জীবনের অনেক অনেক স্মৃতি উঠে এসেছে। লেখায় বড় ভাইকে ছাপাতে কখনোই পারেননি জাফর ইকবাল, কিন্তু এই রঙিন চশমা আবারও সেই সময়ের একটা ফলক হিসেবে জমা রইলো কোথাও।
Profile Image for Alfie Shuvro .
242 reviews58 followers
July 9, 2017
খুব ছিমছাম করে জীবনে ঘটমান ঘটনার বর্ণনা। খারাপ লাগে না শুনতে । আসলে জীবনের কোন নির্দিষ্ট গতি পথ নেই।
Profile Image for Samiur Rashid Abir.
219 reviews42 followers
September 19, 2023
অপঠিত আরেকখান জাফর ইকবালের ভাল লেখা। ভদ্রলোক সিরিয়াস সাহিত্যে থাকলে ভালই করতেন। কেন এই অংশটুকু ছেড়ে দিলেন এইটা একটা প্রশ্নের ব্যাপার!
Profile Image for Hanif.
159 reviews5 followers
April 2, 2022
ধরণঃ আত্মজৈবনিক স্মৃতিচারণ
লেখক জাফর ইকবাল বেশ কিছু কল্পকাহিনী আর কিশোর উপন্যাস পড়া হয়েছে। রঙিন চশমা বইটিও বুক সেল্ফে পড়েছিল অনেকদিন ধরে। এটাও কিশোর উপন্যাস ভাবছিলাম, তাই পড়া হয়ে উঠেনি। কয়েকজন পাঠক বন্ধুদের ভালো কিছু রেটিং দেখে, প্রথম অংশটি পড়েই, মুগ্ধ হয়ে গেলাম।
ছাত্রজীবন অবস্থায় লেখকের জীবনে ছোট্ট ছোট্ট ঘটনাগুলোই বেশ কয়েকটা অনুচ্ছেদ আকারে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে।
লেখার মান নিয়ে তো বলতে হবে না, মনে হচ্ছিল, চোখের সামনে ঘটনাগুলো ঘটতেছে।
লেখকের মুক্তিযুদ্ধা বাবা, ভাই হুমায়ুন আহমেদ, আহসান হাবীব, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের সাথে আড্ডা, ঘুরাফেরা ইত্যাদি, আরও ছিল কিভাবে লেখকের ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ, পরিবারের অভাব-অনটন-ভালোবাসা, একটু করে আহমদ ছফাও ছিল ইত্যাদি সব ঘটনার স্মৃতিচারণ।
এক কথায় অন্যরকম জাফর ইকবালের সাথে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ, ভালোই ছিল।
Profile Image for Sazedul Waheed Nitol.
87 reviews33 followers
July 17, 2013
জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখার সাথে বাংলাদেশী পাঠকের পরিচয় প্রায় চার দশক। তারপরও তাঁর যেকোনো নতুন লেখার প্রতি মানুষের আগ্রহে ভাটা পড়ে নি কখনো। বিভিন্ন ধরনের রচনায় তিনি সিদ্ধহস্ত; শিশু-কিশোর সাহিত্য, সায়েন্স ফিকশন, ছোট গল্প, বড়োদের উপন্যাস, এমনকি দৈনিক পত্রিকার কলাম লিখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর যে গ্রন্থটিতে লেখকের তরুণ বয়সের বিভিন্ন বিষয়ের স্মৃতিচারণা বইটিতে রয়েছে বিধায় একে অনায়াসে আত্মজৈবনিক রচনা বলা যেতে পারে। কিন্তু এর কিছু রচনা আবার আলাদাভাবে গল্পের মর্যাদাও পেতে পারে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘রঙিন চশমা’ নিয়ে এই গ্রন্থালোচনা।

২.
সাহিত্য-ভুবনে আত্মজৈবনিক রচনা একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। আত্মজৈবনিক রচনা ব্যক্তি বিশেষের জীবনের নানা ঘটনার কথাই শুধু বলে না, সার্থক রচনা তুলে আনে তৎকালীন সমাজের নানা দিক, উঠে আসে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সত্যাসত্য। সর্বোপরি একটি আত্মজৈবনিক রচনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে। যেমন- জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরে দিনগুলি’একটি অনন্যসাধারণ দলিল যা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনার ঊর্ধ্বে উঠে এসে জাতিগত আবেগ এবং বেদনা তুলে ধরেছে, যে কারণে বইটি আমাদের সকলের প্রিয়। মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘রঙিন চশমা’ সে তুলনায় ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্নার আখ্যান, যে কারণে এটি সার্বজনীনতা অর্জন করতে পারেনি; কিন্তু আমরা এই স্মৃতিকথার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ঢাকার চিত্র আংশিক উপলব্ধি করতে পারি।

৩.
এই আত্মজীবনীর প্রায় পুরোটাই লেখা হয়েছে লেখকের তরুণ বয়স তথা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অংশটুকু নিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই বইয়ের বড়ো অংশজুড়ে আছে লেখকের বন্ধু-সহপাঠীরা। বন্ধুদের সাথে ঘটা নানা ঘটনা নিয়ে লেখা অংশগুলোই ‘রঙিন চশমা’ বইয়ের সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ। এসব ঘটনা পড়তে পড়তেই আমাদের ফিক করে হেসে ফেলতে হয়। বন্ধুদের নিয়ে নানান রসিকতার যে ছোট ছোট গল্পগুলো আছে এই গ্রন্থে, তাতে আমরা মাঝেমধ্যেই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠি। ফজলুল হক হল ও শহীদুল্লাহ হলের মধ্যে গালাগালির প্রতিযোগিতা, মাঘ মাসের শীতের রাতে পুকুরে সাঁতার দেয়া, প্ল্যানচেটে বসে মৃত আত্মা ডেকে এনে বিপদে পড়া, শিক্ষা সফরে লাগামহীন ফুর্তি- ইত্যাদি নানা ঘটনার সাথে তরুণেরা খুব সহজেই নিজেকে একাত্ম করতে পারবে। বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনায় আমাদের কাছে এটুকু পরিষ্কার হয় যে লেখক তাঁর বন্ধুদের কাছে ছিলেন বিশেষ সমাদৃত।

৪.
আত্মজৈবনিক রচনায় স্বাভাবিকভাবেই আসে পরিবার এবং তার সদস্যদের কথা। এই গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সেই কঠিন সময়ে একটি শহীদ পরিবারকে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে দেখি। যদিও লেখক বেশ ঢেকেই রাখতে চেয়েছেন তখনকার আর্থিক কষ্টগুলো, তবুও নানা ঘটনায় তা বেরিয়ে এসেছে যা আমাদের সুযোগ করে দেয় সেই সময়কার পারিবারিক দুর্যোগগুলো সম্পর্কে কিছুটা জানার। পরিবারের অর্থকষ্টের ভার লাঘব করার জন্য লেখক হন্যে হয়ে খুঁজেছেন অর্থ আয়ের সম্মানজনক উপায়। কখনো টিউশনি, কখনো বা পত্রিকায় কার্টুন এঁকে, আর কখনো টিভিতে উপস্থাপনা করে নিজের খরচ চালিয়ে গেছেন তিনি।

এতো অর্থকষ্টের মধ্যেও পারিবারিক সংস্কৃতি চালু রেখেছিলেন লেখকের মা। লেখকের অন্যান্য আত্মজৈবনিক রচনার মাধ্যমে আমরা জানি যে তাঁর পরিবারে বইপড়ার একটি চমৎকার অভ্যাস চালু রেখেছিলেন তাঁর শহীদ পিতা। একাত্তর পরবর্তী কঠিন সময়ে মানিক রচনাবলীর জন্য অনেকগুলো টাকা খরচ করে লেখকের মা যেন সেই পরম্পরাই ধরে রাখতে চাইলেন। এতে করে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘লেখক’ হিসেবে বেড়ে ওঠার কারণগুলোও আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়।

৫.
একাত্তর পরবর্তী ঢাকার সমাজ এবং মুহম্মদ জাফর ইকবালের জীবন সম্পর্কে যে পাঠকেরা জানতে আগ্রহী তাদের জন্য এই বইটি একটি দারুণ সুযোগ। স্বয়ং মুহম্মদ জাফর ইকবালের চশমা দিয়ে তাঁর আশপাশ এবং তৎকালীন সমাজ দেখতে পারার সুযোগ তো হেলাফেলায় নেয়া চলে না!
Profile Image for সন্ধ্যাশশী বন্ধু .
370 reviews12 followers
September 21, 2022
মানব জীবন খুব-ই অদ্ভুত জিনিস। কারো জীবন ই তেমন একঘেয়ে হয় না,বৈচিত্র থাকে। প্রত্যকের জীবনে আলাদা আলাদা ��ল্প থাকে। কেউ শোনায়, কেউ না।

আমার ভীষণ প্রিয় লেখক জাফর ইকবাল। তার লেখা পড়ে সুন্দর হয়েছিল আমার শৈশব,কৈশোর, রঙিন হচ্ছে যৌবন। ব্যক্তি মানুষ হিসেবে ও জাফর ইকবাল আমার খুব পছন্দের। তাঁকে নিয়ে আমার আগ্রহ তুঙ্গে। সে আগ্রহ বশত পড়ে ফেললাম "রঙিন চশমা"।

এই বইয়ে লেখক তার কলেজ জীবন,বিশ্ববিদ্যালয় জীবন , সর্বোপরি যৌবন সময়ের কিছু গপ্পো আমাদের বলেছেন। সুখ,দুঃখে একাকার হয়ে ছিল লেখকের জীবন। কিছু বিষয় পড়ে খুব হেসেছি,আবার কিছু জিনিস মনে খুব দাগ কেটে গেছে যেমন রক্ষী বাহিনীর কান্ডটা। সব মিলিয়ে খুবই উপভোগ্য একটা বই।
Profile Image for Jenia Juthi .
258 reviews68 followers
May 30, 2021
'ইরা' গল্পটা যখন পড়ছিলাম খুব খারাপ লেগেছিলো। "জীবনের সত্য কাহিনীগুলো এত মায়াদয়াহীন নির্মম হয় কেন কে বলতে পারবে?" আসলেই...গল্প উপন্যাসের চেয়ে জীবনের সত্য কাহিনীগুলো খুবই নির্মম। আত্মজৈবনিক টাইপ বই, এই টাইপ বই পড়তে আমার ভালো না। বই শুরু করার আগে জানতাম না কাহিনী কি নিয়ে। যাই হোক, এ বইটি ভালো লেগেছে। আর সবচেয়ে মজার গল্প ছিলো 'মাছের গল্প-২' -.- মাছের মাথায় বড়শি, আর তার সাথে কেঁচো। হুহুহাহা
.
বইয়ের কাহিনীর সাথে নাম খাপেখাপ মিলে গেছে। কলেজে যখন উঠবো, মামা একবার ডেকে নিয়ে বললো- 'চোখে মুখে সব রঙিন দেখবা, রংধনুর মতো। কিন্তু পরে আর কিছুই থাকবে না, কিছুক্ষণের জন্য আর কি।' এ কথা আমার এখনও মনে আছে! কলেজ/ভার্সিটি লাইফে আসলেই একটা রঙিন চশমা না চাইলেও পরতে হয়। একটু বুঝেশুনে চলতে হয়। কলেজ লাইফে রঙিন চশমা পরে, দারুণ সময় কাটিয়েছি। উপদেশের কথা মাথায় ছিলো না -.- জীবন সুন্দর!!
Profile Image for Abhishek Saha Joy.
191 reviews56 followers
July 30, 2020
এর আগে জাফর স্যারের স্কুল জীবনের স্মৃতিকথা 'আধ ডজন স্কুল' পড়া হয়েছিলো।এবার পড়লাম উনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিকথা 'রঙিন চশমা'।

আসলেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা কতো রঙিন।একেকটা চ্যাপ্টার পড়তে পড়তে বারবার মনে হচ্ছিলো প্রি-কোভিড জীবনের ফেলে আসা আমার হলের কথা,বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা।এমনিতে আমি বিশ্ববিদ্যালয় যে খুব উপভোগ করি তেমন না।এখন যখন ভাবি যে,আর মাত্র এক-দেড় বছর পরেই ছেড়ে যেতে হবে এই চত্ত্বর তখন আমার অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে...আই উইল মিস দৌজ ডেইজ!
Profile Image for Tasnimul H Prottoy.
54 reviews10 followers
April 12, 2021
বেশ রসগ্রাহী লেখনি❤️
নস্টালজিয়া, জীবনযুদ্ধ আর দুরন্তপনার সহজ প্রকাশ...
,

একদম লাস্ট লাইনটা আমারও🥴
Profile Image for Muna.
35 reviews21 followers
October 17, 2015
অনেক আগের পড়া বইটি।ছাত্র অবস্থায় জাফর ইকবাল কেমন ছিলেন,তা ছোট ছোট গল্প আকারে অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। :] :]
Profile Image for Soumik.
83 reviews17 followers
March 11, 2021
I love to read about the life of my favourite authors. This one is special, Zafar Iqbal is probably the reason why I was interested in reading books outside of the Tin Goyenda series and the waste of time that I call textbooks. This one is worth reading. He wrote mostly about his early days in Dhaka, the city which had just recovered from a violent war. He reminisced about his undergrad and grad life when he majored in Theoretical Physics in Dhaka University, in the meantime he made a living with his part time job as a TV host or comic book writer or a cartoonist. Even though he calls himself lazy, his university life was amazing and full of thrill, I couldn't help but read it in 1 hour.

Did you know that Ahmed Sofa gave him 1 taka as a remuneration for one of his writings? That was so cool and damn good crossover!
Profile Image for Raihan Atahar.
120 reviews23 followers
May 20, 2018
মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের একজন প্রথম সারির বিজ্ঞানী ও লেখক। তাঁকে আদর্শ হিসেবে মেনে চলে এমন অনেক মানুষ পাওয়া যাবে। কিন্তু সফল এই মানুষটির সফলতার পেছনের গল্পগুলো ক'জন জানে?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের জীবনের একটি বড় অংশজুড়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তখন তাঁর বয়স ছিল কম। জীবনের সবকিছুই রঙিন মনে হতো। তখনকার এই রঙিন স্মৃতিগুলোকে তিনি ধরে রেখেছেন "রঙিন চশমা"য়। বইটি লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার অনেক পরে লিখেছেন। ফলে অনেক ঘটনা তাঁর মনে ছিল না। আবার অনেক তুচ্ছ ঘটনাও রয়ে গেছে তাঁর স্মৃতির পাতায়।

বইটি শুরু হয়েছে স্বাধীনতার ঠিক পরের এক করুণ ঘটনা দিয়ে। লেখকের বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধে মারা যান এবং তাঁকে কবর দেয়া হয় পিরোজপুর জেলার এক নদী তীরে। কিন্তু তাঁর মা বিশ্বাস করেতেন না যে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। লেখকের ওপর দায়িত্ব পড়লো তাঁর বাবার লাশ কবর থেকে খুঁড়ে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া। শুধু তাই নয়, তার বোবা ছোটবোনকেও বাবার মৃত্যুর সংবাদটি তাকে দিতে হয়।

পরিবারের কর্তার মৃত্যুর পর লেখকের পরিবার অর্থকষ্টের সম্মুখীন হয়। নিজের খরচ চালানোর জন্য লেখক কার্টুন আঁকা শুরু করেন। কার্টুন আকঁতে আঁকতে হুট করেই কিছু গল্প লিখে ফেলেন যা পরবর্তীতে "কপোট্রনিক সুখ দুঃখ" নামে প্রকাশিত হয়। নিজের বই বের হবার পর তাঁর কী অনুভূতি ছিলো তাও বর্ণনা করেছেন জাফর ইকবাল স্যার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাফর ইকবাল স্যার 'ফজলুল হক হলে' থাকতেন। বইটিতে তিনি হল জীবনের অনেক স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। হলের ডাইনিংয়ে মাছ খাওয়া নিয়ে গল্প একটি গল্প আছে যেটি একই সাথে হাসি ও দুঃখের। এছাড়াও হলে প্ল্যানচেট করার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন লেখক। দুই হলের ছেলেদের পরস্পরকে গালাগালি করার অদ্ভুত ঘটনাও বাদ যায়নি :p

বাবার দেখাদেখি লেখক 'হাত দেখায়' আগ্রহ পান। হাত দেখা নিয়ে তিনটি ঘটনা আছে বইটিতে। এর মধ্যে তাঁর বাবার হাত দেখে লেখকের অনুভূতি জানতে পেরে যে কারো মন খারাপ হবে। আবার বিয়ের আগে তাঁর সহধর্মিণী ইয়াসমীন হকের হাত দেখা নিয়ে মজার স্মৃতিও আছে যা পড়ে পাঠক মনের অজান্তেই হেসে ফেলবেন।

যখন জাফর ইকবাল স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন, তখন প্রথম ৩ বছর কোন পরীক্ষা হত না। ফলে ঐ সময়টা খুব মজা করে কাটানো যেতো। যখন তখন ট্যুর দেয়া যেত। লেখক বান্দরবানে এরকম একটি ট্যুরের ঘটনা নিয়ে লিখেছেন বইটিতে, যা তাঁর অন্যান্য বইয়েও পাওয়া যায়। কক্সবাজার, রাঙামাটির শিক্ষাসফরের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন।

শেষের দিকে এসে লেখক তাঁর পি.এইচ.ডি পেয়ে আমেরিকায় পড়তে যাওয়ার স্মৃতি নিয়ে লিখেছেন। পড়া শেষে সেখানে 'বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ'-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় 'শাহাজালাল বিশ্ববিদ্যালয়' থেকে চাকরির সুযোগ পাওয়া মাত্রই দেশে ফিরে আসেন যা তাঁর দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
জাফর ইকবাল স্যার আমার চাইল্ডহুড হিরো। ছোট থেকে তাঁর কিশোর উপন্যাস ও সাইন্স ফিকশন পড়ে বড় হয়েছি। স্যারের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিলো। সেই আগ্রহ পূরণ করেছে "রঙিন চশমা"। হাসি-কান্না, সফলতা-ব্যর্থতার স্মৃতিগুলো লেখকের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় যেনো বাস্তব রূপ ধারণ করেছে।

স্যার প্রথম জীবনের কার্টুনিস্ট ছিলেন, এই তথ্যটি আমার জানা ছিলো না। তাঁর ছোট ভাই আহসান হাবীব বর্তমান সময়ের একজন উল্লেখযোগ্য কার্টুনিস্ট। দুটি তথ্যের মাঝে এখন যোগসূত্র পাচ্ছি।

তাঁদের পুরো পরিবারটিই ছিলো সংস্কৃতমনা। বাবা, মা, তিন ভাই সবার সাহিত্যপ্রেমের কথা আগেও জানতে পেরেছিলাম আয়েশা ফয়েজের (লেখকের মা) "জীবন যে রকম" ও হুমায়ূন আহমেদের (লেখকের বড় ভাই) "আমার ছেলেবেলা" বই দুটিতে। তাই "রঙিন চশমা"য় যখন লেখকের "মানিক গ্রন্থাবলী" কেনার স্মৃতি পড়ছিলাম, তখন অবাক না হয়ে আনন্দিত হয়েছি। আনন্দিত হয়েছি আরেক প্রিয় লেখক আহমদ ছফার সাথে স্যারের স্মৃতি জানতে পেরে। পুরো পরিবারটির সাথে আহমদ ছফার অন্যরকম হৃদ্যতা ছিলো যা আহমদ ছফার একাধিক বইয়ে বর্ণিত হয়েছে।

বইটি পড়তে যেয়ে লেখকের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রক্সি দেয়া, হল জীবনের পাগলামি, র‍্যাগ ট্যুরের স্মৃতিগুলোর সাথে এখনকার ছাত্ররাও মিল খুঁজে পাবেন।

কোনো মানুষের জীবন কেবল সুখস্মৃতির সমন্বয় নয়। জাফর ইকবাল স্যারও তার ব্যতিক্রম নন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আর্থিক কষ্টের দিনগুলোতে লেখক ও তাঁর পরিবারের সংগ্রামের কথা জানতে পেরে কষ্ট পেয়েছি, আবার একই সাথে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

বইটি পড়তে যেয়ে যেনো হারিয়ে যাচ্ছিলাম ঐ সময়টিতে। বোনাস হিসেবে পেয়েছি স্যারের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দুর্লভ কিছু ছবি। লেখকের আমেরিকায় পড়তে যাওয়ার মাধ্যমে হঠাৎ করেই যেন বইটি শেষ হয়ে গেছে। লেখকের আমেরিকায় প্রবাস জীবন নিয়ে খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। সবমিলিয়ে বইটি পড়ে আমি তৃপ্তি পেয়েছি। সবাইকে পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে রিভিউ শেষ করছি। ধন্যবাদ :)
Profile Image for Rabeka Mustarina.
49 reviews24 followers
December 29, 2021
নিজের জীবনের দুঃখ, আনন্দ, অভাবকে এত সরস ভাষায় বর্ণনা করেছ��ন লেখক যে পড়তে পড়তে একদম তন্ময় হয়ে গেছিলাম। বরাবরের মত‌ই আরামদায়ক লেখনী, তার ওপর লেখকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বিচিত্র সব ঘটনা- সব মিলিয়ে চমৎকার ব‌ই।
Profile Image for MD Noman Bhuiyan.
65 reviews
April 6, 2016
ভালোই লাগলো স্যারের জীবনের কিছু মুহূর্ত পড়ে। :) :)
Profile Image for Shashoto Sharif.
116 reviews8 followers
January 29, 2021
অনেক বছর ধরেই কালেকশনে ছিল,পড়লাম এত বছর পর।জাফর ইকবালের আত্মজীবনীমূলক লেখাগুলা বরাবরই ভাল হয়।"সংগীসাথী পশুপাখি","দেশের বাইরে দেশ" অথবা এটা-কোনটাকেই ৫ তারার কম দেই নাই।
Profile Image for ফরহাদ নিলয়.
191 reviews61 followers
January 9, 2016
কত সাধারণ সব ঘটনা কত অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন... :)
Profile Image for Tisha.
205 reviews1,122 followers
April 14, 2025
নিজের স্কুল জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী নিয়ে স্যারের লেখা ‘আধ ডজন স্কুল’ পড়েছিলাম অনেক বছর আগে। হেসে কুটিকুটি হয়েছিলাম সেই বই পড়ে। কিন্তু ‘রঙিন চশমা’ পড়ে সেভাবে হাসতে পারিনি, কষ্ট হয়েছে। কষ্ট হয়েছে এই ভেবে যে সেই আধ ডজন স্কুলের মানুষটির সুন্দর-স্বাভাবিক জীবন রঙিন চশমায় এসে কি অদ্ভুতভাবে বদলে গেল! নিজের জীবনের সেই দুঃসময়ের ঘটনাগুলো কি সাবলীল ভাষায় লিখেছেন তিনি! বাবার কবর খুঁড়ে তার দেহাবশেষ বের করেছেন, অর্থকষ্টের কারণে পত্রিকায় কার্টুন এঁকেছেন, লেখা নকলের করেছেন এই অভিযোগের প্রতিবাদ স্বরূপ একের পর এক গল্প লিখেছেন, মাথার উপর ছাদ না থাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন, প্লেনের টিকিটের টাকার অভাবে প্রায় পিএচডি করতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে ভেবে হতাশ হয়েছেন......এই মানুষটি আমার প্রিয় লেখক। পুরোটা জুড়ে শুধু দুঃখ ছিল তা নয়। সিলভার নাইট্রেট দিয়ে হাতে ছবি আঁকা, মানিকসমগ্র কিনবার ঘটনা, প্ল্যানচেট, বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদের বিয়ে উপলক্ষে নিজ হাতে তক্তা কেটে ফার্নিচার বানানোর উদ্যোগ, সাইকেল চড়ে ঢাকা শহর ঘুরে বেড়ানো, সবকিছুই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েছি। আর স্যারের নিজের হাতে নিজের পাসপোর্ট সাইজের ছবিতে গোঁফ এবং চেক শার্ট আঁকার ব্যাপারটা খুব হাসিয়েছে! শুরুতে তিনি বলেছেন খুবই তুচ্ছ কিছু ঘটনা নিয়ে এই বই। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাগুলোই মাঝে মাঝে আশ্চর্যভাবে মন ছুঁয়ে যায়।
Profile Image for সম্পা  হালদার.
71 reviews11 followers
May 27, 2021
একটা বয়সে এসে আমাদের সবার কাছে হঠাৎ করেই পৃথিবীটা দারুণ সুন্দর লাগতে শুরু করে।কতকটা গানের লাইনের মতো 'পৃথিবী বদলে গেছে, যা দেখি নতুন লাগে'

মনেহয় চর্মচক্ষুতে এক অবাক রঙিন চশমা পরে আছি,সেই চশমা দিয়ে তাকালে একেবারে সাদামাটা জিনিসটাও বড্ড রঙচঙে হয়ে ওঠে।লেখকের সেইসব স্বপ্নময়,নিখাঁদ রঙিন দিনগুলোকে উপজীব্য করেই এগিয়েছে রঙিন চশমার প্লট।

মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সাই ফাই এর মাধ্যমেই চেনা, কিন্তু ওনার স্মৃতিচারণের হাত ও যে কোনো অংশে কম যায় না সেটা এই বইটা পড়লেই টের পাওয়া যায়।
সহজ,স্বাভাবিক, সাবলীল শব্দচয়নেও কি ভীষণ আবেগে ফুটিয়ে তুলেছে সাদাকালো অতীতের রঙিন ছবি।

বাবার কবর খুঁড়ে তার দেহাবশেষ বের করাটা যে একজন সন্তানের পক্ষে কতো ভয়ানক কাজ সেটা বোঝাই যাচ্ছে।

ঢাবির হলের ছোট ছোট গল্প গুলো ভীষণ চমকপ্রদ ছিলো।আসলেই তো জীবন কতো সুন্দর, জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে আনন্দ বেদনার পসরা।

শুনেছি স্মৃতি যেমন ই হোক সেটা সবসময় দুঃখকর, আমার কাছে উলটো মনে হয় যদিও।আমার মনে হয় স্মৃতি যেমন ই হোক সেটা সবসময় সুখকর কারণ প্রবল নস্টালজিয়ার জোয়ারে যখন আমরা ভেসে যাই তখন প্রচন্ড ভীতিকর, দুঃখ জাগানিয়া স্মৃতিটাও বেশ রসিয়ে, আগ্রহ ভরে পেশ করি।এজন্যই স্মৃতিচারণ মূলক যেকোনো গ্রন্থ আমার সবচেয়ে পছন্দের জনরা।রঙিন চশমা সেই তালিকার একটা আদুরে,ভালোবাসার বই হয়ে বেঁচে থাকবে।
Profile Image for Kanija Akter.
14 reviews
May 26, 2021
বইটি পড়ে এক অন্যরকম অনুভূতি হলো৷ প্রথম অংশে বাবার লাশ খোঁজা নিয়ে যা লিখেছেন লেখক তাতে সত্যি চোখে পানি চলে আসার মত ঘটনা।
তারপর একে একে তার জীবনে ঘটে যাওয়া সুখ-দুঃখ এবং কিছু মজার কাহিনি তুলে ধরেছেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের অংশও এতে বেশি আছে। দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়ে কিভাবে জীবন পরিচালনা করেছেন, রক্ষীবাহিনী এসে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকার অভিজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।
সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সেট গ্রন্থাবলী কেনার অভিজ্ঞতা। এই অংশটা পড়ে আমারও একরকম ভালো লাগা অনুভূতি হয়েছিল। মনে হচ্ছিল আমিও লেখকের সাথে দোকানে ছিলাম। উনার সাথে আমিও মানিক গ্রন্থাবলী কেনার আনন্দ উপভোগ করছিলাম।
আরেকটা মজার বিষয় যেটা আমরাও প্রায় ক্লাসে করে থাকি। কাউকে দিয়ে ক্লাসে প্রক্সি দেওয়া। জাফর ইকবাল স্যারও এটা করেছেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে। ব্যাপারটা মজার ছিল।
আরও অনেক মজার কাহিনি ছিল যা পড়ে না হেসে পারলাম না। বইও মাঝে মাঝে মন ভালো করে দিতে পারে যদি এরকম চমৎকার বই পাওয়া যায়।

আমার কাছে বইটা অনেক বেশি ভালো লেগেছে। জাফর ইকবাল স্যারের ফিকশন থেকে নন-ফিকশন বইগুলো আমার বেশি ভালো লাগে।
Profile Image for Saquib Bin Habib.
22 reviews19 followers
January 22, 2022
The book is written commemorating some of the eventful incidents in the writer’s life. He had to go through the difficult task of restoring his father’s dead-body to a new grave. The writer also mentions some of his memories from his university life. Bunking classes, reading all day long before the final exams, going to trips to Cox’s bazar, Bandarban, his fame as a palmist and from that his marriage incident, planchet to one of hos friends getting possessed by jinn, abusing hall-mates of Shahidullah and Fazlul hall, interviews from profs from the usa to going to his PhD- events as colourful as the title suggests. Also some struggles in his family life, from making furniture on the eve of Humayun Ahmed’s marriage, stealing of their clothes and his memories with his favourite cycle, the incident of his publishing books, life as a cartoonist and tv show host all gives the pleasure of reading a good book. And certainly gives the reader a motivation to articulate events from his life, one day.
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Al Faisal Kanon.
152 reviews1 follower
May 23, 2024
মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথাগুলো ওঠে এসেছে এই বইতে। নামকরণটার পেছনে লেখকের যুক্তিঃ "তখন আমার বয়স কম, চোখে একধরণের রঙিন চশমা। সেই রঙিন চশমার এমনই যাদু যে তুচ্ছে ঘটনাকেই অসাধারণ মনে হয়।" বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা, হলে থাকার দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। জানলাম, লেখালেখি তখন বেশ ভালোভাবেই করেছেন, পত্রিকায় লিখতেন, কার্টুন আকতেন, টিভিতে বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠানে কাজ করতেন। তার প্রথম বই 'কপোট্রনিক সুখ-দুঃখ' এই সময়েই প্রকাশিত হয়। তার বাবার শখ থেকেই পামিস্ট্রি (হাত দেখে ভবিষ্যৎ বলা), প্ল্যানচ্যাট করার মতো অদ্ভুত জিনিষের হাতেখড়ি হলেও হল লাইফে এসে এসব 'প্রতিভা' বিকশিত হয়েছিল! পাশাপাশি বন্ধুবান্ধবদের সাথে শিক্ষা সফর (নামেই শিক্ষা সফর - বাস্তবে এর মাঝে শিক্ষার কিছু নেই) কিংবা বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার অভিজ্ঞতাও ওঠে এসেছে বইতে৷ ভালোই লাগল। আসলে প্রতিটা মানুষের জীবন এতো এতো বৈচিত্র্যময়! সৃষ্টিকর্তার কী অপার এক দান- ভাবলেই অবাক লাগে...

বইটা পড়তে সবাইকে আমন্ত্রণ...
Profile Image for Nayeem Samdanee.
58 reviews12 followers
September 21, 2023
বইটা অনেক আগে একবার পড়েছিলাম, এখন পড়ে কিছু কিছু জায়গা একটু নতুন লাগলো। অনেকদিন পরে পড়ার এই এক সুবিধা!

মুহম্মদ জাফর ইকবাল নিজের জীবনের বেশকিছু ঘটনা বইতে বর্ণনা করেছেন। লেখার সাধাসিধে ভঙ্গির কারণে পড়তে ভালোই লাগে, এগোয়ও দ্রুত। লেখকের বিভিন্ন ছোটগল্প বা উপন্যাসের অনুপ্রেরণা বা প্রেক্ষাপট কোত্থেকে এসেছে, সেটা সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা পাওয়া যায় কিছু কিছু অংশে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এরকম লেখার খুব বড়ো ভক্ত নই। গল্পের পেছনের গল্প জানতে আমার তেমন ভালো লাগে না। আমি লেখক ও পাঠকের মাঝে রহস্যের কিছুটা আবছায়া দেয়াল থাকার পক্ষপাতী।
Profile Image for Rajesh Mozumder.
20 reviews
May 22, 2024
হাস্যরসে পরিপূর্ণ ছোট একটি বই। শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যারের জীবনের ছোট ছোট ঘটনা গুলোকে বইয়ে তুলে ধরেছেন। বইয়ে যেমন ছিল অনেক মজার মজার কাহিনী, পাশাপাশি ছিল তাঁর বাবার মৃত্যুর কথাসহ কিছু দুঃখজনক ঘটনা। কিছু শিক্ষণীয় গল্পও ছিল। ছোটদের জন্য লেখা হলেও, বড়রাও পড়ে আনন্দ পাবে। প্ল্যানচেট, হাত দেখার গল্প, চোরের গল্প, আসবাবপত্র বানানো সহ বিভিন্ন মজার গল্প রয়েছে, যেগুলো কখনো ভুলবার মতো নয়।
Displaying 1 - 30 of 46 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.