মিতিন। ভালো নাম প্রজ্ঞাপারমিতা। সুচিত্রা ভট্টাচার্য্যের এই গোয়েন্দা চরিত্রটুকুর মিস ওয়াটসন অবশ্যই বোনঝি টুপুর। মিতিনের সাথে আমার পরিচয় শুধু নাম দিয়ে। আপাতদৃষ্টিতে মিতিন একজন বিচক্ষণ মহিলা। তাই বলে ফেলু মিত্তির, শবর, ব্যোমকেশ বক্সী এর মত আশা করে লাভ নেই। কিন্তু পড়ার সময় এদের ছাপ আবছাভাবে পাবেন নিশ্চয়ই।
গল্পের শুরুতে উৎপল নামে পার্থের এক খ্রিস্টান বন্ধু দেখা করতে আসে। তার শ্বশুর জোনাথনের বাড়িতে গত কদিন ধরে হোলি স্পিরিট বা ভূতের আগমন ঘটেছে। ভুত বন্ধ ঘরে চেয়ার টেবিল সরাচ্ছে আওয়াজ করছে। মানুষের কাজ হওয়া সম্ভব নয়, বিড়াল হলেও হতে পারে। কিন্তু গত কদিন ধরে আবার বাল্ব ফেটে যাচ্ছে। গ্লাস ভেঙে যাচ্ছে বাড়ির। জোনাথনকে আবার সুরজমল নামে এক ডেভেলপার বাড়ি বিক্রির অফার করেছে। জোনাথন বিক্রি করবেন না এই বাড়ি। তার দিদিমার মাকে উপহার দেয়া বাড়ি। কিন্তু জোনাথনের ছেলে ডিক আবার এসব পছন্দ করছে না। বোন মির্নার সাথেও সম্পর্ক ভালো না। দুলাভাই উৎপলের সাথে অবশ্য সম্পর্ক ভালো। সুরজমলই কি আসলে ভুতের স্রষ্টা? নাকি আসলেই সেটা হোলি স্পিরিট। মিসেস জোনস, যার স্বামী প্যারালাইজড, তাই বাড়ির পরিচারিকা, তিনিও নাকি হোলি স্পিরিট দেখেছেন। এদিকে এই গোলোকধাঁধায় আরেকটি বড় রহস্য। এই বাড়িতে নাকি জোনাথনের দিদিমার বাবা গুপ্তধন লুকিয়ে গেছেন। উইলেও বলেছেন, “দোজ হু শেল লঙ্গার ফর মাই ট্রেজার শ্যাল গো টু মাই গ্রেইভ”। মৃত্যু! কেন? ভূত নাকি মানুষ? লৌকিক না অলৌকিক! সাদামাটা বর্ণনায় এক জটিল রহস্য উপন্যাস।
উপন্যাসের ঘটনাবলী খুব সুন্দরভাবে সাজানো। থ্রিল ফিলিংটা না এলেও একটা আয়েশি ভাব আছে। আমার খারাপ লাগেনি। বেশ ভালোই।