Jump to ratings and reviews
Rate this book

কূটনীতির অন্দরমহল

Rate this book

Unknown Binding

2 people are currently reading
16 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
1 (33%)
3 stars
1 (33%)
2 stars
1 (33%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Shadin Pranto.
1,479 reviews561 followers
March 10, 2025
"পাকিস্তানি এক নেতা রোমে আমাদের সম্পর্কে মন্তব্য করে বসলেন আমরা কোন কাজই করি না। ইতালীয়রা পাকিস্তান সম্পর্কে কিছুই জানে না। দেশে ফিরে গিয়ে পররাষ্ট্র দফতরে রিপোর্টও করলেন । দতাবাসের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠানো হলো আমরা ব্যাখ্যা দিলাম । অনুসন্ধান করে জানা গেল পাকিস্তানের এই নেতা রোমের এক বেশ্যার ঘরে গিয়েছিলেন। বেশ্যা জানতে চাইল নেতার দেশ কোথায়? নেতা বললেন পাকিস্তান। বেশ্যার প্রশ্ন সেটা আবার কোথায়? নেতা বোঝালেন পাকিস্তান কোথায় অবস্থিত। বেশ্যা চিনতে পারল কিনা জানা গেল না। তবে নেতা খুব অপমান বোধ করলেন। ফিরে গিয়েই পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরে রিপোর্ট করেছিলেন। অনুসন্ধান করে দূতাবাস যখন সম্পূর্ণ ঘটনা জানিয়ে বার্তা পাঠালো তখন এই নেতা চুপ। " - কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অপ্রকাশিত কথোপকথন থেকে


বর্তমানে 'মানবজমিন' সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর সাংবাদিকতা জীবন চার দশকের বেশি। এই দীর্ঘ সময়ের একটা বড়ো অংশ তিনি কূটনৈতিক বিটে সাংবাদিকতা করেছেন। ইত্তেফাক ও বিচিত্রার মতো একসময়ের পাঠকপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে তার অনেক লেখা ছাপা হয়। আশির দশকে প্রকাশিত এমন কিছু লেখা নিয়েই 'কূটনীতির অন্দরমহলে' বইটি। দুই শ পাতার বেশি এই বইটির প্রকাশক 'সূচীপত্র'।

আশির দশকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, খুলনা ও ফরিদপুরসহ বেশ কিছু জেলাকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র হয়। এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছিল 'স্বাধীন বঙ্গভূমি আন্দোলন'। ভারতে বসে পার্থ সামন্ত, কালীদাস বৈদ্য প্রমুখের নেতৃত্ব এই ষড়যন্ত্র হয়। তারা থাকতেন কলকাতায়। তাদের দাবি ছিল, বাংলাদেশে ইসলামি শাসনে দেড় কোটি মানুষ বিতাড়িত হয়েছে। এদেরকে রক্ষা করতেই বাংলাদেশ ভেঙে 'স্বাধীন বঙ্গভূমি' গঠন করতে হবে। উগ্রপন্থি গোষ্ঠীটি কলকাতা থেকেই তাদের কার্যক্রম চালাত। ১১ এপ্রিল, ১৯৮৪ সালে তারা চার-পাঁচ শ লোক মিলে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনে হামলা চালায়। বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে টানায় বঙ্গভূমির পতাকা। মতিউর রহমান চৌধুরী লিখেছেন,

" ঘটনাস্থল থেকে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে অবশ্য কোনোরকম জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই মুক্তি দেয়। "

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। তারা চাকমা বিদ্রোহীদের ভারতে আশ্রয় দেয়। বঙ্গভূমি আন্দোলন নামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বসবাস ও কাজ করার সুযোগ ব্যবস্থা করে। কলকাতার একজন সাংবাদিক লেখককে বলেন,

" এদের কোন জনসমর্থন নেই। কলকাতার জনগণ এদের সম্পর্কে জানতেও রাজি নন। তবে এদের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশ আছে পরিষ্কার। "

আশির দশকের মাঝামাঝি ঢাকাতেই গঠিত হয় সার্ক। সংস্থাটির রূপকার জিয়াউর রহমান। কিন্তু তিনি দেখে যেতে পারেননি। সেনাশাসক এইচ এম এরশাদ সার্কের মাধ্যমে নিজের ব্রান্ডিং করার চেষ্টা করেন। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দরিদ্র দেশ ছিল। তা-ও পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয় সার্কের জন্য।

সার্ক নিয়ে তখন দেশে কত হইচই হয়েছিল তা মতিউর রহমান চৌধুরীর লেখাগুলোর মাধ্যমে পাঠক বুঝতে পারবেন। চার দশকের বেশি সময় আগে গঠিত 'সার্ক' তখন দক্ষিণ এশিয়াকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কেউ ভাবতেই পারেনি এত আয়োজনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সংগঠনটি হবে "পর্বতের মূষিক প্রসব"।


দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে খুন হন ইন্দিরা গান্ধী। এরপর ভারতজুড়ে, বিশেষত দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়ে শিখবিরোধী দাঙ্গা। মতিউর রহমান চৌধুরী এই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদলের সফরসঙ্গী হিসেবে দিল্লি যাওয়ার মওকা পান। তিনি দাঙ্গাকবলিত দিল্লির বর্ণনা দিয়েছেন তার লেখায়। যা পাঠককে আলাদা অনুভূতি দেবে।

উপসাগরীয় যুদ্ধ, বিশ্বকাপ ফুটবলসহ নানা ঘটনা কাভার করতে বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন মতিউর রহমান চৌধুরী। এগুলোর মধ্যে আফ্রিকার গৃহযুদ্ধকবলিত দেশ আ্যঙ্গোলায় জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলন নিয়ে লেখাটি পড়ার মতো। শীতল যুদ্ধের সময়ে ন্যাম মূলত ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়নের বি-টিম। এই লেখায় তা আরও স্পষ্ট হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সার্ভিসে হরহামেশাই অপেশাদার ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর অভিনব নজির রয়েছে। এরশাদের আমলে এই নজির অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল। দূতাবাস হয়ে উঠেছিল উর্দি পরাদের পুর্নবাসনকেন্দ্র। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে মতিউর রহমান চৌধুরী লিখেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা অসন্তুষ্ট। কারণ যোগ্যতা বিবেচনায় না নিয়ে তদবির ও দুর্নীতির মাধ্যমে পদায়ন করা হয়। আজ চার দশক বাদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কোনো উন্নতি হয়েছে তা পরম শুভাকাঙ্ক্ষীও দাবি করতে লজ্জা পাবে।

রাষ্ট্রদূত এ আর এস দোহাকে বিদেশ থেকে ডেকে এনে প্রথমে তথ্য উপদেষ্টা করেন এরশাদ। কিন্তু দোহা গোড়া থেকেই তথ্য মন্ত্রণালয়ের চাইতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে ভূমিকা রাখতে বেশি পছন্দ করতেন। এ নিয়ে তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর সঙ্গে তার মতভেদ তৈরি হয়।

মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর। তিনি অবসর নিয়েই জাপায় যোগ দেন ও এরশাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। তবে পররাষ্ট্র দপ্তরে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন না। তাকে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে পরামর্শ করে দপ্তরে চালানোর মৌখিক 'আদেশ' দেন এইচ এম এরশাদ। মতিউর রহমান চৌধুরী ইঙ্গিত করেছেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ভারতের সঙ্গে 'যোগাযোগ' রেখে চলতেন।

একাত্তরের রাজাকার মাওলানা মান্নানকে ধর্মমন্ত্রী করেছিল এরশাদ। তবে সে ধর্মমন্ত্রী কম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেশি ছিল। মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ভার এরশাদ এই রাজাকারকে দেয়। তা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী যথেষ্ট ক্ষোভ ছিল।

এই বইয়ের একমাত্র সম্পদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর আত্মস্মৃতিমূলক অপ্রকাশিত কথোপকথন। যেখানে বাংলাদেশের রাজনীতির অজানা অনেক গলির খবর উঠে আসে। যেমন: আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে সেনাবাহিনী গদিচ্যুত করে এক ধরনের 'সংস্কারের' নামে। তারা কীভাবে দেশ বদলে দেবে এসব কল্পকাহিনি বানাতে থাকে উর্দিপরা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর কথা থেকেই জানা যায়, সেনাবাহিনীর সরকারকে প্রথমে সমর্থন দিতে চায়নি ইউএসএ। তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে এরশাদ চাপ দেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মোলাকাতের ব্যবস্থা করতে। অর্থাৎ সমর্থন জোগাড় করে দিতে। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না। এরই মধ্যে জানতে পারলেন, ইত্তেফাক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, যিনি এরশাদের মন্ত্রীসভায় ছিলেন, তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে 'ম্যানেজ' করা গেছে। পেশাদার কূটনীতিক হিমশিম খাচ্ছিলেন। অথচ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সহজেই ইউএসএ দূতাবাসকে পক্ষে নিয়ে আসেন। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার চৌদ্দ দলের নেতা ছিলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। হয়েছিলেন শেখ হাসিনার পরিবেশ মন্ত্রী। তাকে শেখ হাসিনার পতন অর্থাৎ ৫ আগস্টের পর বিমানবন্দরে আটক করা হয়। মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। কিন্তু মাত্র চার-পাঁচ ঘন্টার ব্যবধানে তিনি মুক্তি পেয়ে যান। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আশির দশকে��� মতো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে 'নিবিড় যোগাযোগ' রেখে চলেন কি না, কে জানে। তবে তিনি রহস্যময় ব্যক্তি তাতে সন্দেহ নেই।


আশির দশকে হংকং দূতাবাসে ট্রেড কাউন্সিলর ছিলেন বঙ্গবন্ধুর এক খুনি। সে মতিউর রহমান চৌধুরীকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছিল। সাক্ষাৎকার দেওয়ার অল্প সময়েই মধ্যেই নিজে এসে টেপরেকর্ডারটি নিয়ে যায়। তাই সেই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের সুযোগ পাননি মতিউর রহমান চৌধুরী।


'কূটনীতির অন্দরমহল' অসাধারণ কোনো বই নয়। মূলত বইটির বেশির ভাগ অংশ জুড়ে বিভিন্ন একঘেয়ে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। পাঠকের জন্য এই রিপোর্টগুলো টানা পড়ে যাওয়া ক্লান্তিকর। অবশ্য রিপোর্টগুলো থেকে আশির দশকে বাংলাদেশের সরকারিমহলে সার্ক নিয়ে কেমন উদ্দীপনা ছিল তা কিছুটা আন্দাজ করা যায়। মতিউর রহমান চৌধুরীর বাকি লেখাগুলো থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সার্ভিসের বেহাল দশাটুকু আরও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। আর, বইটির সম্পদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অপ্রকাশিত কথোপকথন। যা অবশ্যই পড়ার মতো।


'সূচীপত্র'র প্রকাশিত বইটিতে মেলা বানান ভুল। দামও বেশি। শুধু হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অসামান্য সাক্ষাৎকার পড়ার মতো কেনা যায় কি না, তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
Profile Image for Shuhan Rizwan.
Author 7 books1,108 followers
March 16, 2013
সাংবাদিকের, বিশেষ করে যিনি পররাষ্ট্র বিষয়ে সাংবাদিকতা করেছেন- বর্ণনা অনেক আকর্ষনীয় হবার কথা ছিলো। তেমন টানেনি। তবে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরির অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ এই বইতে আছে, সেটা বরঞ্চ খুব কৌতূহলোদ্দীপক।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.