ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। মেয়েদের একটা ছাতা নিয়ে ফরহাদ উদ্দিন এগোচ্ছেন। তাঁর খুবই ভালো লাগছে। রাস্তায় পানি জমে আছে। ফুটপাত পর্যন্ত এখনো পানি উঠে নি। তিনি ফুটপাত দিয়ে না হেঁটে রাস্তার নোংরা পানিতে পা ফেলে ছপ ছপ শব্দ করতে করতে এগুচ্ছেন। হলুদ স্ট্রীট ল্যাম্প জ্বলছে। হলুদ আলো পানিতে নানারকম নকশা তৈরি করছে। দেখতে এতো ভালো লাগছে। ফরহাদ উদ্দিনের মনে হল আরেকটু পানি হয়ে পুরো রাস্তাটা ডুবে গেলে ভালো হত। রাস্তাটাকে মনে হতো নদী। একটা মানুষ নদীর ওপর হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে। কী মজার ব্যাপার।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
গল্পটা গড়ে উঠেছে এক সরল মানুষকে নিয়ে যার পণ হচ্ছে মিথ্যা বলবেন না৷ তার ধারণা একটা নির্দিষ্ট সময় মিথ্যা না বললে অলৌকিক ক্ষমতা চলে আসবে৷ এরকম আজিব এক লোক আর তার পরিবারের গল্পকথন নিয়েই এই বই৷ বইয়ের ক্যারেক্টর গুলা ব্যাপক ইন্টারেস্টিং। যেটা হুমায়ুন আহমেদের সব বইয়ের মধ্যেই থাকে৷ অপরাধীর উচিত শিক্ষা হওয়া দরকার এরকম টাইপের একটা মোরালও গল্পের মধ্যে আছে৷ বেকুব লোকদের সবাই পছন্দ করে এরকম একটা ভাব প্রকাশ করা হইলেও আমার কাছে মনে হয় এরকম লোকেরা প্রবলভাবেই ডেস্ট্রাক্টিভ হয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বললাম😆😆😆।
ফরহাদ উদ্দিন প্রায় কুড়ি বছর ধরে সত্য কথা বলার সাধনা করছেন। খামখেয়ালি বন্ধু বদরুল পাশার সাথে এ সত্যসাধনা শুরু করেছিলেন তিনি।
বদরুল পাশা তাঁর স্বভাবজাত খেয়ালিপনার কারণে সাধনায় লেগে থাকেন নি। বরং গায়েব হয়ে গেলেন। রেখে গেলেন তাঁর মেয়েকে। ফরহাদের তিন মেয়ে MSN, ( ফরহাদ উদ্দিন অত্যন্ত ভুলোমনা বিধায় মিতু, সেতু ও নিতুর নাম এভাবে মনে রাখার ট্যাকনিক খাটান। তাও ব্যর্থ হন মনে রাখার কাজে। ) ছেলে সঞ্জু, বন্ধুর মেয়ে কনক এবং দ্বিতীয় স্ত্রী রাহেলাকে নিয়ে তাঁর সুখের সংসার।
উপন্যাসটি আসলে ফরহাদ উদ্দিনকে ঘিরেই আবর্তিত। তাঁর বিস্ময়কর ভুলোমনা স্বভাব, অতিরিক্ত বুদ্ধিমান সালু মামার বুদ্ধি এবং প্রথম পক্ষের শ্বশুড় বাড়িতে অনেক বছর পর গিয়েই কাহিনীর নেয়া নতুন মোড় ফরহাদকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়।
বিশ্ববিখ্যাত গ্রাফিক নভেল ওয়াচম্যানের কিংবদন্তি লেখক অ্যালান মুর ঐ 'ওয়াচম্যান' এ গল্পের ভিতর বলেছিলেন কীভাবে নিজ গল্প বলার সময় পাঠকদের আকৃষ্ট করে, ধরে রাখা যায়, মুরের দৃষ্টিকোণ থেকে।
লেখালেখির সেই লিটারারি ফিলসফি হুমায়ূন আহমেদ অনেকবার ব্যবহার করেছেন। সেটি হলো যেকোন চরিত্রের দুঃখ-কষ্ট-বেদনার কথা এমন কায়দায় লিখা যাতে পাঠক প্রভাবিত হয়ে যায়।
'নীল মানুষ' উপন্যাসে ফরহাদ উদ্দিনের মতো বোকা-বোকা ভালো মানুষের জন্য মনটা খারাপই হয়ে যায়। আসলেই কি ফরহাদ উদ্দিন বোকা?
প্রথম স্ত্রী পারুল, হারিয়ে যাওয়া বদরুল, নিজের বড় ছেলে সঞ্জুর ব্যাপারে তাঁর বেশিরভাগ স্মৃতিই তো উলোটপালট হয় নি।
সঞ্জুর উপর আনা হ*ত্যাকান্ডের অভিযোগ তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না।
এর মধ্যে বিশ বছর প্রায় পার হয়ে যাওয়ার পথে। সত্যসাধনায় থাকা ফরহাদ উদ্দিনের দৃঢ় বিশ্বাস এই ডিসেম্বরের ৩ তারিখ তিনি আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যাবেন। তাঁর মনের সকল ইচ্ছাপূরণ হতে যাচ্ছে।
ফরহাদ উদ্দিন চরিত্রের ভুলোমনা হওয়া থেকে নিষ্কৃতিলাভ, ঘ্রাণশক্তি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা, বন্ধু বদরুল পাশার খোঁজ পাওয়া কিংবা কনকের সাথে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানো আশরাফ উদ্দিন সঞ্জুকে মানানো এতসব কর্ম কি তাঁর দীর্ঘ সাধনার ফলে তিনি সম্পাদন করতে পারবেন?
ফরহাদ উদ্দিনের জীবনে ঘোরতর বিপদ, নানাবিধ সীমাবদ্ধতার মাঝে নীল মানুষে পরিণত হওয়ার গল্পই বলে গেছেন হুমায়ূন আহমেদ। শেষের দিকটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
বই রিভিউ
নাম : নীল মানুষ লেখক : হুমায়ূন আহমেদ প্রথম প্রকাশ : ঢাকা বইমেলা ২০০২ প্রকাশক : অন্যপ্রকাশ প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ জনরা : উপন্যাস রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
বইটা পড়ার সময়ে ফরহাদ সাহেবের জন্য অনেক মায়া লাগছিল। বয়স হলে প্রত্যেকটা মানুষই বোধহয় সন্তানদের কাছ থেকে একটু বেশি পরিমাণে "ভালোবাসা"টা আশা করে। তাদের সান্নিধ্যে আসতে চায়। কিন্তু সন্তানরা বোঝে না যে একটু কেয়ার করলেই বাবা-মা কতটা খুশি হয়। সঞ্জুও বোঝেনি। এত ভালো বাবার সাথে কি ব্যবহারটাই না করত সে! তবুও শেষে চাচ্ছিলাম সঞ্জু যেন বেঁচে যায়। ওর যেন কনকের সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু ওর ফাঁসি ঠিকই হলো। এমনটা আশা করিনি। এবং আশ্চর্যজনক ভাবে সঞ্জুর জন্য আমার একটু খারাপও লাগলো!!
ভাল রেটিং দেখলাম মানুষজনের তবে আমার ব্যাক্তিগত ধারণা উপন্যাসটার সমাপ্তির জন্যই এই রেটিং। যদি শেষটা অন্যরকম হতো তাহলে হয়তো এত ভাল রেটিং আসতোনা। কারণ লেখা, কাহিনীর গতি সবকিছু টিপিকাল হুমায়ূন আহমেদের লেখার মতোই ছিল,তার অন্যরকম লেখার স্বাদ আমি তেমন পাইনি।এবার পড়ে আমিও এক তারা বাড়িয়ে দিলাম শুধু ওই ফরহাদ সাহেবের জন্যই।
টিপিক্যাল হুমায়নীয় ' স্লাইস অফ লাইফ ' ঘরানার উপন্যাস ; মধ্যবিত্ত এক পরিবারের কর্তা যিনি বিশ বছর মিথ্যা কথা না বলার প্রতিজ্ঞা নেন তাকে কেন্দ্র করে কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্ত সমাজের নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে। হুমায়নের আর আট-দশটা উপন্যাসের মতোই সব, শুধু হিউমারের কমতি পড়ে গেছে কিছু। তাই পড়ে তেমন ভালো লাগে নাই তবে মন্দও নয়।
হুমায়ুন আহমেদ এর সাদামাটা বইয়ের মত। আগে একবার পড়েছি। কিন্তু নাম দেখে মনে পড়েনি বিধায় আবার পড়া হয়ে গেল।
🕊️ হুমায়ুন আহমেদ এর আর সব বইয়ের মত। সাবলীল বর্ণনা। টানা পড়ে এক বসায় শেষ করে ফেলেছি। ছোট ছোট কথোপকথন। স্বপ্ন স্বপ্ন কথামালা।
🕊️ ফরহাদ উদ্দিন শুনেছেন কুড়ি বছর কেউ মিথ্যা না বললে তাঁর আধ্যাত্মিক ক্ষমতা চলে আসে। তিনি এই প্রতিজ্ঞা করেছেন। কুড়ি বছর মিথ্যা বলেননি তিনি।
🕊️ ইন্দোনেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সুকর্ণ নাকি সারাজীবন লুঙ্গি পড়েছেন। জানা ছিল না।
🕊️ ফরহাদ উদ্দিনের ছেলে সঞ্জু একজনকে খুন করে এসেছে। পুলিশ অফিসার ইস্তিয়াক, সম্পর্কে তাঁর মামা হয়। অসম্ভব ভালো মানুষ ফরহাদ উদ্দিনের কাছে ইস্তিয়াক সাহেব চিরকৃতজ্ঞ। সে চায় তাঁর ভাগ্নেকে বাঁচাতে। ফরহাদ উদ্দিন এর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ। হুমায়ুন আহমেদের আর সব বইয়ের মতই এটারও চরিত্র নির্মাণ। কাহিনি বিবরণ। তবুও ভালো লাগে পড়তে। কিছু জায়গায় স্বপ্ন স্বপ্ন লাগে, কখনো প্রচন্ড কষ্ট লাগে।।
ফরহাদ উদ্দিন আগ্রহের সঙ্গে বললেন, বেশি বাকি নেই। ডিসেম্বরের তিন তারিখ। খুবই কাকতালীয় ভাবে সঞ্জর ফাসি হয় ডিসেম্বরের তিন তারিখ।
আরো কাকতালীয় ভাবে আনার আম্মার জন্মদিনও ডিসেম্বরের তিন তারিখ।
ছোট উপন্যাস। প্রথমদিকে আগ্রহ পাচ্ছিলাম না, মাঝখানে খেই হারিয়ে ফেলে রেখেছি দুদিন, তারপর সঞ্জু'র হাসনাত সাহেবকে খুন করার বিষয়টা যখন আসলো তখন একটু ইন্টারেস্ট পেলাম। তবে এই গল্পটাকে আরো ছোট করা যেত। বর্ণনা একটু বেশিই করে ফেলসে। পিডিএফের একটা সুবিধা আছে জাস্ট চোখ বুলিয়ে লাইনের কিছু শব্দ পড়লেই লেখক কি বলছেন বোঝা যায়। আমি বুঝতে পারি, অন্যদের কথা বলতে পারবো না। শেষের দিকে একটা ট্রাজিক মোমেন্ট যে এই হুমায়ুন বেডা দিবো এইডা ধরতে পারসিলাম! তবে পড়ার সময় খারাপ লাগলো।
বই: নীল মানুষ লেখক: হুমায়ূন আহমেদ ধরণ: উপন্যাস প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ প্রচ্ছদকার: ধ্রুব এষ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১০৪ পৃষ্ঠা মুদ্রিত মূল্য: দুশো টাকা মাত্র
প্রাঞ্জলবাক্য: দিনের আলো ফস করে নিভে গেল
পাঠপ্রতিক্রিয়া: এ ক'মাস ধরে হুমায়ূন স্যারের বই বই পড়ছি। সপ্তাহে একটা করে থাকছেই। তার অন্যান্য উপন্যাসের মতন এটিও চমৎকার ও সুন্দর। আর তার সাবলীল লেখনশৈলী ও জুতসই শব্দবুনন আমায় যারপরনাই মুগ্ধ করে।
উপন্যাসের মূল চরিত্রে ছিলেন ফরহাদ সাহেব। তাকে নিয়েই যত ফিরিস্তি। কখনও সখনও হাসি, মায়া দিয়ে এই গল্পের ইতি টেনেছেন।
"নীল মানুষ" কোন মানুষ কী নীল হয়? কি অদ্ভুত এক গল্প। সন্তানের প্রতি বাবার যে ভালোবাসা, উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে বারবার অনুভব করছিলাম। খুব বাড়ায় লিখতে পারছি না। হুমায়ুন আহমেদের ক্লাসিক ঘরোয়া উপন্যাস। হুমায়ুন আহমেদের লেখা আমার সবচেয়ে প্রিয় বোধহয় এইজন্যই। অদ্ভুত ভাবে উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ, আমাকে আকড়ে ধরে রেখেছিল শেষ অবধি। এই উপন্যাসটা মানুষকে ইমোশনালি এট্যাচ করতে পারে, দারুণ এক সক্ষমতা রয়েছে উপন্যাসটির।
সত্যের মৃত্যু নেই, তবে পৃথিবীর মানুষ মিথ্যা দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করে। বন্ধুত্ব যে কত গভীর হতে পারে তা নীল মানুষ পড়লে বোঝা যায়। ফরহাদ ও বদরুল এর বন্ধুত আসলেই সত্যের উপর দাড়িয়ে ছিলো।
বেদনার রং নীল আবার সেই বেদনা মানুষকেও নীল করে দিতে পারে। নীল মানুষ বইটা সেই নীল রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে। হুমায়ুন আহমেদ এর গল্পে বেদনা থাকবে না তা কি করে হয়? নীল মানুষ বইটি বেদনার নীল রঙের প্রতিচ্ছবি।
একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনের গল্প উঠে এসেছে নীল মানুষ বইটিতে। ফরহাদ উদ্দিন যিনি কিছু মনে রাখতে পারেন না,বার্ধক্য জনিত কারণে। তিন মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। এক বন্ধুর মেয়েও থাকে তাদের সাথে।নাম তার কনক,শান্ত,মিষ্টি চুপচাপ ধরণের মেয়ে। ফরহাদ উদ্দিনের বন্ধু হঠাৎ করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় তার পর কনকের মাও অনত্র বিয়ে করে মেয়েকে ফরহাদ উদ্দিনের কাছে রেখে বিদেশ চলে যায়। ভাগ্য কত খারাপ হলে নিজের মাও ফেলে রেখে চলে যায়। কিন্তু ফরহাদ উদ্দিনের পরিবার এবং তার স্ত্রী কনককে নিজেদের মানুষ বলেই ভাবে। তিনি চান তার একমাত্র ছেলে সঞ্জুর সাথে কনকের বিয়ে দিতে।কিন্তু সঞ্জু তাকে পছন্দ করেনা, তাতে কি? ফরহাদ উদ্দিনের ইচ্ছে সঞ্জুর সাথেই কনকের বিয়ে হবে এবং তার বন্ধু একদিন ফিরে এসে দেখবে তার মেয়েকে ফরহাদ উদ্দিন খুব যত্নে রেখেছেন। ফরহাদ উদ্দিন দীর্ঘ বিশ বছর যাবৎ সত্য বলার সাধনা করছে এবং বিশ বছর পর তার সকল ইচ্ছা পূরণ হবে। বিশ বছর হতে আর বেশি সময় নেই। কিন্তু এর মাঝে সঞ্জু জড়িয়ে পরে ভয়া*বহ কোনো একটা ঘটনার সাথে। যা ফরহাদ উদ্দিনকে হতবাক করে দেয়। ফরহাদ উদ্দিন খুবই ভালো মানুষ তিনি ছেলে এমন কিছু করতে পারে তা বিশ্বাসই করছে না। শেষে সঞ্জুর সাথে কি হয়েছিলো তা বই পড়লেই বুঝতে পারবে পাঠক। এই গল্পে কোন নায়ক নায়িকা কিংবা অপুণ কোন ভালোবাসার গল্পও নাই ।এক সৎ,সত্যবাদী বাবা ও তার ছেলের সাথে ত��দের চারিদিকের গল্প উঠে এসেছে। বইটা পড়লে ভালো লাগবে আশা করি।
বরাবরের মতো চমৎকার একটা বই পড়ে শেষ করেছি। বইটি উপহার পেয়েছিলাম আমাদের গ্রুপের ছায়া বন্যাপার কাছ থেকে। ধন্যবাদ আপা এতো সাধারণ তবুও সুন্দর একটি বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। বইটা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প হলেও শেষে সঞ্জুর পরিণতি দেখে বিষন্নতা অনুভব করেছি। ফরহাদ উদ্দিনের জন্য সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে একটা সহজ সরল মানুষের জীবন এলোমেলো হয়ে যাওয়া দেখতে কারওই ভালো লাগার কথা না আমারও ভালো লাগেনি। গল্পটা ভীষণ বিষন্ন, মনে হচ্ছে বিষন্নতায় ছেয়ে গেছে চারপাশ।
বইয়ের শেষের লাইনগুলো মনে গেধে আছে এখনো : ফরহাদ উদ্দিন লক্ষ্য করলেন রাহেলার চোখে পানি চলে এসেছে! তিনি খুবই অবাক হলেন সামান্য কয়েকটা বেলি ফুল পেয়ে কেউ এত খুশি হতে পারে ?
বই : নীল মানুষ লেখক : হুমায়ুন আহমেদ প্রকাশনী : অন্যপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য : ৩০০
ফরহাদ সাহেব এর স্ত্রী রাহেলা, ৩ কন্যা মীতু, সেতু, নীতু। আগের ঘরের ১ সন্তান সঞ্জু। সঞ্জুর মা পারুল মারা গিয়েছে সঞ্জুর ১৮ মাস বয়সে। ফরহাদ সাহেব এর পরিবারে যুক্ত হয়েছে বন্ধু বদরুল পাশার মেয়ে কনক। একদিন হুট করে বদরুল পাশা গায়েব। কনককে নিয়ে বদরুল পাশার স্ত্রী সাবেরা পড়েছে বিপদে। দীর্ঘদিন একা থাকার পর সাবেরা আবার বিয়ে করে। সব ঠিকই চলছিলো কিন্তু একদিন কনককে ফরহাদ সাহেব এর কাছে তুলে দিয়ে স্বামীর সাথে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমায় সাবেরা। ফরহাদ সাহেব প্রথমে খুবই ভয়ে ছিলেন যে ব্যাপারটা কিভাবে নিবে রাহেলা। দেখা গেলো রাহেলার তেমন সমস্যা হয়নি। তিনি কনককে নিজের বাকী ৩ মেয়ের মতোই ট্রীট করছেন। তাস খেলছেন একসাথে। কনক এর উপর আসলে মায়া পড়ে গেছে ফরহাদ সাহেব এর। এতো লক্ষী একটা মেয়ে অথচ কি দুঃখী। মেয়েটাকে খুবই পছন্দ করেন তিনি। তার খুব ইচ্ছা মেয়েটার সাথে সঞ্জুর বিয়ে হোক। কিন্তু সঞ্জু কনককে পাত্তা দেয় না। ফরহাদ সাহেবও সঞ্জুকে কিছুটা ভয় পান। সঞ্জুর জন্য প্রতিদিন পত্রিকায় চাকরি খুঁজেন।
ফরহাদ সাহেব সঞ্জুকে নিয়ে পারুল এর মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্বশুড়বাড়িতে যাচ্ছিলেন রিকশায় করে। কিন্তু সঞ্জু মাঝ রাস্তায় রিকশা চেঞ্জ করে ফেলে। কারণ তার নাকি সিগারেট খেতে ইচ্ছা করছে। ফরহাদ সাহেব এর রিকশা ভ্রমণে অসুস্থা ফিল হয়। ঘুম ঘুম ফিল হয়। ঘুম থেকে উঠে তিনি নিজেকে অপরিচিত এক বিছানায় দেখতে পান। তার পাশে ছিলো দুলি (পারুল এর ভাই ইসতিয়াক এর স্ত্রী)। দুলি বার বার বলে দিয়েছে সঞ্জুকে নিয়ে যাতে একদিন আসে। ইসতিয়াক এর নাকি কি কথা আছে সঞ্জুর সাথে। সঞ্জুকে হাসনাত এর কথা বললেই নাকি হবে।
ফরহাদ সাহেব এর ৩ মেয়ে সবসময় একসাথে থাকে, একরকম কাপড় পড়ে, গলার স্বরও একরকম। ফরহাদ সাহেব এর মনে হয় তারা দেখতেও এক রকম হয়ে যাচ্ছে। সেতুর বিয়ের কথা হছে, তাই সেটা নিয়ে কথা বলতে গেসে সেতুর ২ বোন, রাহেলা আর কনক।
সঞ্জু ও তার ৩ বন্ধু হাসনাত নাম এর এক ভদ্রলোককে খুন করে। তারপর সঞ্জু পালিয়ে যায় কলকাতাতে। তারপর আবার ফিরে আসে। এদিকে ইসতিয়াক এই ব্যাপারটা ফরহাদ সাহেবকে জানায় কিন্তু ফরহাদ সাহেব ব্যাপারটা নিতে পারে না। অসুস্থ হয়ে যায়।
ফরহাদ সাহেব এর বড় মামা আসেন সঞ্জুর ব্যাপারে কথা বলতে। তিনি ফরহাদ সাহেব এর অফিসের খাবার আবার খুব পছন্দ করেছেন। একটা প্ল্যানও বানিয়েছেন কিভাবে সঞ্জুকে বাঁচানো যায়। এর জন্য কনক এর সাথে সঞ্জুর বিয়ে দিতে হবে, বিয়ে হবে চিটাগং এ। হত্যার দিন সঞ্জু ঢাকায়ই ছিলো না। এরকম একটি গল্প সাজাচ্ছিলেন। কিন্তু সঞ্জুর এই কেস হ্যান্ডেল করা মকবুল সাহেবকেও কিছু টাকা খাওয়ানো লাগবে। সবই বুঝছিলেন ফরহাদ সাহেব। কিন্তু কেমন জানি অসহায় বোধ করছিলেন।
দীর্ঘ ২০ বছর মিথ্যা না বললে নাকি ইচ্ছা পূরণ হতে থাকে। ফরহাদ সাহেব ঘ্রান পেতেন না। এখন তিনি আস্তে আস্তে ঘ্রাণ পাওয়া শুরু করেছেন। তার মনের ইচ্ছাগুলো পূরণ হওয়া শুরু হয়েছে।
শেষমেষ সঞ্জু পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয় ফরহাদ সাহেব এর কঠিন চাপ এর মুখে। পরিণতি হয় ফাসি।
This entire review has been hidden because of spoilers.
কুড়ি বছর সত্য সাধনা করলে মনের সকল ইচ্ছা চাওয়া পাওয়া পূরণ হবে। এসময়ের মাঝে বলা যাবে না কোনো মিথ্যা। এমনই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ফরহাদ উদ্দিন। এ সাধনার কথা জেনেছিল তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু বদরুল পাশার কাছ থেকে। খামখেয়ালি মতো চলা বদরুল পাশা একদিন হারিয়ে গেলেন কুয়াশার মতো। বহু খুঁজেও তার সন্ধান পাননি ফরহাদ উদ্দিন। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না, নিজ ধারায় এগিয়ে চলেছে। তবে ফরহাদ উদ্দিনের বিশ্বাস বদরুল পাশা একদিন ফিরে আসবে।
স্ত্রী, ছেলে, তিন মেয়ে ও বন্ধুর মেয়ে কনককে নিয়ে ফরহাদ উদ্দিনের সংসার। কাজ করেন একটি কোম্পানিতে। স্বাভাবিক জীবনধারার ছন্দপতন ঘটতে থাকে একসময়। ফরহাদ উদ্দিন অনেক কিছুই মনে রাখতে পারে না এখন, কখনো স্মৃতি এলোমেলো হয়ে যায়। প্রথম স্ত্রী আর দ্বিতীয় স্ত্রীর মাঝে বিভিন্ন ঘটনা গুলিয়ে ফেলছেন আবার কখনো মনে রাখতে পারছেন না তার তিন কন্যার নাম। অবশ্য এ সমস্যা তিনি বাড়ির কাউকে বুঝতে দিচ্ছেন না।
পুরো উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে ফরহাদ উদ্দিন কে নিয়ে। ছেলে সঞ্জুর সাথে কথোপকথন, প্রথম স্ত্রীর বাপের বাড়িতে গিয়ে কাউকে চিনতে না পারা, দুলির রান্নাবান্না, সালু মামার উদ্ভট বুদ্ধি আর তার ভুলে যাওয়া রোগ। সরলরেখায় সবকিছু আগালেও একসময় গল্পের মোড় নেয় অপ্রত্যাশিতভাবে।
ছেলে সঞ্জুর উপর আসা হ ত্যা কা ণ্ডে র দায় ফরহাদ উদ্দিন বিশ্বাস করলেন না।ছেলেও অবশ্য অস্বীকার করেছে পুরো ব্যাপারটা। সবসময় অবুঝের মতো চলা বোকা বোকা কথা বলা ফরহাদ উদ্দিন কী এতোটাই বোকা আর অবুঝ? কই সবকিছু ভুলে গেলেও সে তো ভোলেনি সঞ্জুর ব্যবহার কেমন, পারুলের কথা কিংবা বন্ধু বদরুল পাশার কথা।
টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘটনা নিয়ে পুরো গল্প এগিয়েছে। খুবই সাধারণ সব ঘটনা একনাগাড়ে পড়া যায়। তবে লেখক বোধহয় ভেবে রেখেছিল পাঠককে থমকে দিবেন তিনি। আমি থমকালাম শেষে গিয়ে।সহজ সরল ফরহাদ উদ্দিনের অপ্রত্যাশিত রূপটা ঠিক হজম হচ্ছিল না।
ফরহাদ উদ্দিনের মনের যত্ন একমাত্র নিতেন ইস্তিয়াক। ইস্তিয়াক চাননি তার বোন জামাই ফরহাদ উদ্দিন কোনো প্রকার কষ্ট পাক, তারজন্য সবকিছু করতে পারেন। আমাকে মুগ্ধ করেছে ইস্তিয়াকের ফরহাদ উদ্দিনের প্রতি প্রবল মমত্ববোধ।
শুনেছি বেদনার রঙ নীল। গল্পে সেই নীল মানুষটাই বোধহয় ফরহাদ উদ্দিন। হঠাৎ নিজের ঘ্রাণশক্তি ফিরে পেলেন তিনি, তবে কী তার ধারণা কুড়ি বছরের সত্য সাধনা সফল হয়েছে!
বই: নীল মানুষ লেখক: হুমায়ূন আহমেদ প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ প্রকাশনী: অন্য প্রকাশ মুদ্রিত মূল্য: ৩০০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬ রিভিউ : জান্নাতুল ফেরদৌসী রুনা
বাতাস হ'য়েছে মুগ্ধ; -বাতাসের পিছনে সাগর চলিতেছে; _স্নিগ্ধ করিতেছে গিয়ে হৃদয়ের জ্বর শুদ্ধ শাদা বরফের কোন এক শীতল পাহাড়ে!
নেক্ড়েরা দল বেঁধ�� নামে না সে পর্ব্বতের ধারে, অন্ধকারে শেয়ালেরা সেখানে ওঠেনা কেঁদে আর, তীরের ফলার মত পৃথিবীর আলো-অন্ধকার সেইখানে বেধে না ক' পাইনের পাতাদের বুক হিম রাতে! -কিন্তু পাহারের শিশিরের শীতে ফ'লেছে সবুজ শাখা -সেইখানে ফ'লেছে নিভৃতে কাঁচা পাতা; -জ্বর ছেড়ে গেছে তার; -নক্ষত্র শীতল সেইখানে; -নক্ষত্রের মত সুস্থ সমুদ্রের জল-! -জীবনানন্দ দাশ
হঠাৎ ফরহাদ উদ্দিনের মনে হলো কাকে যেন দেখা যাচ্ছে। হাঁটার ভঙ্গিটা বদরুল পাশার মত।লম্বা একজন মানুষ হাত দুলিয়ে দুলিয়ে বদরুলের মতোই হাঁটছে। আজ তার ইচ্ছা পূরণের দিন। বদরুলের সঙ্গে আবার যেন দেখা হয় এই ইচ্ছাটা কি পূর্ণ হতে যাচ্ছে? ফরহাত উদ্দিন দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেন। যে আসছে আসুক। মানুষটা যদি বদরুল হয় ভালোই হয়। ডেডবডি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মতো ঝামেলার কাজে সে সাহায্য কর���ে পারে। আর বদরুল না হলেও কোন ক্ষতি নেই। ছ'টা বেজে গেছে। জেলখানার মূল ফটক খোলার শব্দ হচ্ছে। মনে হয় এখন এরা সঞ্জুকে নিয়ে আসছে।
হুমায়ুন আহমেদ এর বই পড়তে হলে ক্রিটিকাল মাইন্ডসেট দূরে রাখুন, নতুবা ভালো মন্তব্য আসবে না।তবে এই বইটি মোটামটি ভালো বলা চলে, কারন মূল চরিত্রের জন্যে সবার আবেগ জায়গাটা।টিপিকাল হুমায়ুন আহমেদ লেখা।পড়ুন ভালো লাগান এর পর সেল্ফ এ তুলে রাখুন।