এক নীল চোখের মানুষ। সবার কাছে থেকেও এক অজানা দূরত্বে ভেসে থাকে সে। অসীম নির্লিপ্তি আর উদাসীনতায় সে অংশ নেয় সবার জীবনে। আবার বেরিয়েও আসে সবার জীবন ছেড়ে। কলেজে পড়া দিঘির তাকে নিয়ে কীসের এত রাগ? প্রেমিক আর্যর সঙ্গে থেকেও ছটফট করে দিঘি। বারবার তার মনে পড়ে যায় এক সপ্তমীর সকাল, হলুদ গিটার আর দক্ষিণের সেই রঙিন জানলা। ক্রিকেটার রুহান মাথা নিচু করে দেখে কীভাবে সবকিছু চলে যায় তার মুঠোর বাইরে! টালমাটাল হয়ে ওঠে তার জীবন। আর সে অনুভব করে নীল চোখের মানুষটার শূন্যতা। জিয়ানারও এক অপরাধবোধ কাজ করে সেই মানুষটাকে ঘিরে। সংসার আর চাকরির মধ্যে আটকে থাকা জীবনের গায়ে কেন জড়িয়ে থাকে স্বপ্ন? কেন সে দেখে কুয়াশার ভেতর আজও মিলিয়ে যাচ্ছে একটা সাইকেল! নারী-আসক্ত আদিত্যর জীবন পালটে যায় মালিনীকে দেখে। অদ্ভুত একাকিত্ব ঘিরে ধরে ওকে। কেন আদিত্য যেতে পারে না সেই নীল চোখের মানুষটার কাছে? গভীর সমস্যা বুকে চেপে রেখে সবার সামনে উজ্জ্বলভাবে উপস্থিত হতে চেষ্টা করে রাহি। চেষ্টা করে সেই মানুষটাকে আগলে, যত্নে নিজের করে রাখতে। কিন্তু কোথায় ফাঁক থাকে? কেন বারবার সবার থেকে ছিটকে সরে যায় সেই মানুষটা? চাপাডাঙার জমি নিয়ে রাঘব চক্রবর্তী আর মার্চেন্ট মাল্টিপলসের ঝামেলা জটিল হলে তার পাকে জড়িয়ে পড়ে রাহি, আদিত্য। জড়িয়ে পড়ে রুহান আর জিয়ানার ভাগ্যও। অনিশ্চয়তার অন্ধকার এসে ঢেকে ফেলতে চায় সবার জীবন। স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘আলোর গন্ধ’ উপন্যাসে গভীর রাত্রির শেষে আলো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন অর্কদেব।
স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর জন্ম ১৯ জুন ১৯৭৬, কলকাতায়। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত। প্রথম ছোটগল্প ‘উনিশ কুড়ি’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত। প্রথম ধারাবাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত। শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার ২০১৪, এবিপি এবেলা অজেয় সম্মান ২০১৭, বর্ষালিপি সম্মান ২০১৮, এবিপি আনন্দ সেরা বাঙালি (সাহিত্য) ২০১৯, সানডে টাইমস লিটেরারি অ্যাওয়ার্ড ২০২২, সেন্ট জেভিয়ার্স দশভুজা বাঙালি ২০২৩, কবি কৃত্তিবাস সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩, উৎসব পুরস্কার ২০২৪, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪, আনন্দ পুরস্কার (উপন্যাস: '‘শূন্য পথের মল্লিকা') ২০২৫ ইত্যাদি পুরস্কারে সম্মানিত ।
Ten years before when Palta Hawa was coming out periodically in Desh magazine, I became a fan of Smaranjit Chakraborty and used to wait eagerly for the next installation of the novel. After years in exploring through the English literature as I decide to return to Bengali, I pick Alor Gandha, my second read of Smaranjit Chakraborty and soon I realize this is going to be my last. I am not that high school student any more, Smaranjit Chakraborty doesn't write for anyone over first or second year college students.
This story of sophomore year students is illogical and at times, factually incorrect. Social science will say, no Tagore reciting, piano playing Bengali family would name their daughter Sneha or Pooja. Though he questions why do we consider white-skinned foreigners as superior, the writer picks a blue eyed, fair skinned, tall guy with Irish blood as the hero. An orphaned, badly treated boy has four cameras with two DSLRs and a guitar. Despite being a common fantasy, the only person I know who has been successful in making his class teacher fall for him is Emmanuel Macron. This is a cheesy love story of naive college students complete with nut and dry-fruit chocolate. The writer hasn't resisted himself from including even the cliche ideas like taking money from girlfriend's father for mother's treatment or a climax gunfight involving the hero. The risk in writing such all emotion stories is that once the young readers start exploring beyond such books, they see the nonsense in them. The more the attraction before, the more the repulsion later. Chetan Bhagat will know. For my part, in my search of twenty-first century Bengali literature, probably I have to turn to Sanmatrananda and Preetam Basu and my initial research shows, they are exciting.
প্রাপ্তির গল্পগুলো সবসময়ই সব্বার সাথে ভাগ করে নেওয়া যায়। কিন্তু অপ্রাপ্তির, হারানোর বা লুকিয়ে রাখা বেদনা একান্তই নিজের তা কাউকে বোঝানো যায়না, দেখানো যায়না, হয়না বলা। প্রায় পাঁচশ' পাতার "আলোর গন্ধ" আনন্দের হাট বসায়নি। শুনিয়েছে বেদনামাখা কতকগুলো পারস্পরিক সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য বাঁধনে যুক্ত মানব-মানবীর অকৃত্রিম বেদনামাখা জীবনকাহিনি।
নীল চোখের ছেলেটি খুব করে চেয়েছিল জিয়ানাকে। জিয়ানাও তাইতো বটে। কিন্তু খুব নয়। ভালোবাসার চাইতে আকর্ষণ ছিল ঢের বেশি। তাই হয়তো মোহের বদলে বাবা-মায়ের জন্য মুক্তিই মুখ্য হয়ে উঠলো। কিন্তু জিয়ানা ভুলে গিয়েছিল মোহ আর ভালোবাসার ফারাকটা বড় সূক্ষ্ম। তাইতো এভাবে জ্বলতে হলো। হলো পুড়তে।
দিঘি বড় বাঁচা বেঁচে গেছে। একটা বয়স্ক পার্ভাট, রেপিস্টের হাত থেকে। ব্যাটাকে আচ্ছারকম হেনস্তা করে বিদেয় করা হয়েছে পাড়া থেকে। বন্ধুরা সেলিব্রেট করতে চাইছে। চাইছে দিঘির বয়ফ্রেন্ড আর্যও। অথচ সেই দিঘিই জনঅরণ্যে থেকে শূন্যতা অনুভব করে কেন? কেন সেই মানুষটিকে খুঁজে-ফেরে। আবার কখনো পাবে কী তার দেখা?
নির্জনতাকে, একাকিত্বকে আর বেদনাকে পথের পাথেয় করে বেরিয়ে পড়েছিল নীল চোখের ছেলেটি। অফিস থেকে বদলি নিয়ে চলে এসেছিল এক আধা শহর, আধা গ্রামে। নিজের মতো করে থাকতে পারছে কই? রাহীর তো একেই চাই। আর রাহীকে কোনো এক কারণে চাইছে ত্রয়ণ।
পরাজিত মানুষের প্রতিনিধি রুহান। যাকে আঁকড়ে ধরে সেই চলে যায় নতুবা তৈরি হয় অমোঘ এক দেওয়াল। বাবা চলে গেল, মায়ের সাথে সৃষ্টি হলো দূরত্ব। নন্দা বিয়ে করে ফেলল। ক্রিকেট ছিল প্রাণ। সেই ক্রিকেট ক্লাব থেকেও হারু রুহানকে বের করে দিল৷ এমন ব্যর্থ রুহানেরই বা কী কাজ এই আলোর এই নানামাত্রিক গন্ধে।
অনেকগুলো চরিত্র। সমান্তরালে চলছে কতকগুলো মানুষ। সবার বেদনাটা এক। কিন্তু হারানোর কারণটা আলাদা। গন্তব্য ভিন্ন। "আলোর গন্ধ" নিঃসন্দেহে ভালো বই। নন-ফিকশন পড়তে পড়তে যারা ত্যাক্ত-বিরক্ত, তারা স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর "আলোর গন্ধ" পড়তে পারেন। লেখায় গতি আছে। পড়তেও আরাম। কিন্তু কোনো উচ্চমার্গীয় দর্শন খুঁজতে যাবেন না। কোনো দর্শন নেই, ক্ল্যাসিক এলিমেন্ট নেই।
প্রায় শ পাঁচেক পাতা খরচ করার মতো কাহিনিবিন্যাস এই উপন্যাসের নেই। কিছু জায়গায় রাবারের মতো টেনে টেনে কাহিনি লম্বা করা হয়েছে৷ একটু বিরক্তও লাগছিল। তবু ধরলে শেষ করে ছাড়া যায়না। কারণ এটাই কোনো পপুলার লিটারেচারের একমাত্র সম্বল!
এই উপন্যাস তা হাতে পেয়ে প্রায় তিন দিনের মধ্যে পুরোটা পড়ে ফেলেছি। স্মরঞ্জিত বাবুর লেখার প্রেমিকা হওয়ার কারণ হয়তো এটা। একদিন তো এমন হয়েছে ভোর 4 তে পর্যন্ত পড়েছি তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য। যাই হোক, একটু বিশাল কলেবরের উপন্যাস। পাল্টা হওয়া এর আগে পড়েছি বলেই হয়তো তুলনাটা বার বার চলে আসছিল। এখানে সব চরিত্রের নাম গুলি এত্ত সুন্দর তা আর কি বলবো। দিঘি, আর্য, কিগান, জিয়ানা, ���ুহানি, রাহি, হোমি, রূপ ,আদিত্য, স্নেহা আরো অনেকে। একটি নীল চোখের মানুষ কে নিয়েই পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে। খুব ই কষ্টের জীবন তার, সবাই তাকে জীবনের কোন না কোনো সময়ে ভুল বুঝেছে, কিন্তু সে কোনোবার ই কোনো প্রতিবাদ করেনি। সবকিছু চুপ করে মেনে নিয়েছে। আর বিপদে প্রতিবার পাশে থেকেছে। প্রতিটি চরিত্র ই জীবনের কোন সময় একটা ভুল করেছে, আর তার খেসারত তাদের পরবর্তীকালে দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন কোন খাতে বয়ে যায় এবং শেষ এ নীল চোখের মানুষটি কি তার কাছের মানুষকে পায়, এই নিয়েই এই উপন্যাস।
Ek kothay jake bole 'Asadharon'... Alor Gondho thik setai... each and every character bhunno swader o nijeder jaygay thik (leaving the negative ones)... Golper main character 'Kigan Arka Banerjee'-er byapare kichhu bolar nei.... se holo sob meyeder swopner purush... calm, quiet, humble... Lekhok ki kore eto sundor bhabe protyekta character k futiye tulechen amar jana nei... Yes, aneker mone hote pare j Smaranjit Chakraborty... sei ek dhancher lekha... but ami bolbo ei uponyash ra just alada level er... Sob seshe apnio Kigan er preme porte badhho thik amari moto😍😍... Jara amar moto romance genre porte bhalobashen tader jonno highly recommended.
আমি খুবই ঘরকুনো ধরনের মানুষ। 4-5 দিনের জন্যও কোথাও ঘুরতে গেলে আনন্দ যে করি না, তা নয় - কিন্তু কোথাও যেন সারাটাক্ষণ কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগতে থাকে। নিজের শহরকে মিস করি খুব। বেড়াতে যাওয়ার থেকে বাড়ি ফেরার আনন্দ হয় অনেক বেশি। ট্রেনে, প্লেনে বা যেভাবেই হোক - কলকাতায় পা দিলেই যে একটা অদ্ভুত, মায়াবী গন্ধ ভরা হাওয়া এসে নাকে ঝাপটা মারে, তাতে যেন এক মুহূর্তে বুকের মাঝে এক জাহাজ জোনাকি দপ্ করে জ্বলে ওঠে। খুশি আনন্দ, ভালোলাগার সাথে সাথে নিজের শহরের পরিচিত, আপন- আপন গন্ধ যেন মাথায় হাত বুলিয়ে কাছে টেনে নেয় প্রিয় বন্ধুর মতো। আলোরও কি তেমন কোন গন্ধ হয়? অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর মেঘের বুক চিরে এক চিলতে রোদ এসে চারদিকটা যখন আলো আলো করে দেয় তার কি কোন গন্ধ হয়? কিংবা অনেক দিন বন্ধ থাকা ঘরের জানলা খুলে দেওয়ার পর ঘরের প্রত্যেকটা কোণ যখন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তার কি কোন আলাদা গন্ধ হয়? অথবা হঠাৎ বিপদে পড়লে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানুষটা যখন এসে পাশে দাঁড়ায় আর আমাদের যাবতীয় ভয় উধাও হয়ে যায় সেই ভরসার আলোরও কি কোন গন্ধ হয়?
স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর "আলোর গন্ধ" উপন্যাস ঠিক এমনই এক মানুষকে নিয়ে লেখা, যে ঠিক হয়তো আলো হতে পারে না কারোর জীবনেই - এমনকি নিজের জীবনেও না - কেবল আলোর গন্ধের মতো, ফেলে যাওয়া পথের রেশটুকুর মতো জড়িয়ে থাকে সবার জীবনে। 'কিগান অর্ক ব্যানার্জি' - এক নীল চোখের মানুষ, যে "...সবকিছুর ভেতরে থেকেও যেন কোন কিছুতেই নেই। যেন তাকে পোড়ানো যায় না। ভাঙ্গা যায় না। ছেঁড়া যায় না। কিগান যেন কেমন আলো দিয়ে তৈরি মানুষ। দেখা যায়। স্পর্শ করা যায় না। অনুভব করা যায়। কিন্তু আকার দেয়া যায় না। কিগান যেন আলোর গন্ধ। যেন ঝড়ের সঙ্গে না আসা মেঘ। যেন চিঠির ওপর কোনদিন না লেখা হওয়া অক্ষর। যেন প্রেমিকের একার দীর্ঘশ্বাস। গোপন। অগোচর।"
ছোটবেলায় অ্যাক্সিডেন্টে বাবা-মাকে হারিয়ে কাকু কাকিমা আর ঠাকুমার সংসারে মানুষ হয় সে। অতীতের এক অপ্রিয় ঘটনায় নিজের সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়ি ছেড়ে সে চলে আসে চাপাডাঙ্গা। কলেজে পড়া দিঘির তাকে ঘিরে কিসের এত অভিমান? প্রেমিক আর্য-র সঙ্গে থেকেও ছটফট করে সে। বারবার তার মনে পড়ে এক সপ্তমীর সকাল, হলুদ গিটার আর দক্ষিণের রঙিন জানালা। রুহানের অনিশ্চিত জীবনের প্রতিটা বাঁকে সে অনুভব করে সেই নীল চোখের মানুষটার শূন্যতা। সংসার আর স্বপ্নের মধ্যে পিষে যেতে যেতে জিয়ানা নিজের কাছে ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে। আজও সে বারবার দেখতে পায় কুয়াশার মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে একটা সাইকেল! মালিনী আর আদিত্যর মধ্যের টানাপোড়েন আদিত্যকে একা করে দেয় কিন্তু তবুও আদিত্য কেন যেতে পারে না সেই নীল চোখের মানুষটার কাছে? চাপাডাঙায় বাড়তে থাকা রাজনৈতিক প্রভাব, দুই কর্পোরেট সংস্থার লড়াই আর জমি নিয়ে চলা গন্ডগোলে কিভাবে যেন জড়িয়ে পড়ে সবার জীবন। অনিশ্চয়তার অন্ধকার ঘিরে ধরে সবাইকে - কিন্তু স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর "আলোর গন্ধ" উপন্যাসে গভীর রাত্রির শেষে নতুন ভোরের গন্ধ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন অর্কদেব।
আমি স্মরণজিৎ বাবুর উপন্যাসের তেমন কোন বড় ভক্ত নই। নিঃসন্দেহে একটা সময় ওনার লেখা পড়তে ভীষণ ভালো লাগলেও মাঝখানে সব গল্পই প্রায় একই রকম বলে মনে হতো আমার। তবে কেন জানিনা "আলোর গন্ধ" আমার মনে প্রচন্ড প্রভাব ফেলেছিল। প্রত্যেকটা চরিত্র - তাদের অপ্রাপ্তি, প্রাপ্তি, পাওয়া, না-পাওয়া, অভিমান, রাগ, দুঃখ - সবকিছুই আমি খুব অন্তর দিয়ে অনুভব করেছি। সত্যি বলতে, এই উপন্যাসটা আমায় কাঁদিয়েছেও খুব। কোনদিন আনন্দে, ভালোলাগায়। কোনদিন দুঃখে। দিঘির কষ্টতে কষ্ট হয়েছে, সব হারিয়ে ফেলার পর নতুন করে বাঁচতে চাওয়া রুহানকে দেখে চোখ ভিজেছে, বলতে ইচ্ছা হয়েছে, রুহান ভাই তোকে পারতেই হবে। এইটুকু তুই ডিসার্ভ করিস! আর সবথেকে বেশি কষ্ট হয়েছে - নির্জনতাকে, একাকীত্বকে আর বেদনাকে পাথেয় করে বেরিয়ে পরা সেই নীল চোখের ছেলেটার জন্য।
কিছু কিছু বই থাকে যা আষ্টেপৃষ্ঠে মানুষকে বেঁধে ফেলে অনুভূতিতে, মায়ায়। "আলোর গন্ধ" উপন্যাসটা ঠিক তেমনি। না লেখা চিঠির মত, শুরু না হওয়া বন্ধুত্বের মতো, অলক্ষ্যে বহতা প্রেমের মতোই এই উপন্যাস ভেসে চলে আর মানুষের কাছে পৌঁছানোর, তাকে ভালবাসার, তার পাশে থাকার গল্প বলে। যে গল্প ঘিরেই আসলে গড়ে ওঠে মানুষ। তার জীবন। তার বেঁচে থাকা। তার প্রেম।
"মালিনী আকাশের দিকে তাকালো... ও দেখল এক আকা��� তারা ফুটে আছে মাথার ওপরে। যেন বকুল ফুল। যেন হীরের গুঁড়ো। আর সেই নিয়ে পৃথিবী ছুটে চলেছে অনন্তের পথে। এত অর্বুদ প্রাণ, এত অগণিত বৃক্ষসকল, এত অসংখ্য নদী ও জল সংগ্রহ বহন করে, তার সমস্ত নিয়ে পৃথিবী নিজেকে সমর্পণ করছে সূর্যের জীবনে। এই সমর্পনে কোনও দ্বিধা নেই, নেই কোন বন্ধন...মালিনী বুঝল আলো মানুষের ভেতরেই থাকে। যেমন সূর্য লুকিয়ে থাকে রাতের অন্ধকার গভীরে। জল সম্পূর্ণ করে আগুনকে আর রাত্রি পূর্ণ করে দিনকে...ধীরে ধীরে মুঠো খুললো মালিনী...আর ওর চোখের কোণে ধীরে ধীরে এসে জমা হতে লাগলো হীরের কুচি, বকুল ফুল। এমন দু'-চার কুচি হীরে আর টুপটাপ বকুল ফুলের জন্যই তো বেঁচে থাকে পৃথিবী। বেঁচে থাকে প্রাণী জগত। বেঁচে থাকি আমরা।"
কালকে রাত্রেই পড়া শেষ করলাম স্মরণজিৎ চক্রবর্তী এর আলোর গন্ধ।
কিছু বই থাকে, যেগুলো কেবল পড়া হয় না— অনুভব করা হয়। স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর "আলোর গন্ধ" ঠিক তেমন একটি বই। গল্প নয়, এ যেন একটা অভিজ্ঞতা। যেন শব্দে নয়, স্মৃতির ঘ্রাণে লেখা হয়েছে উপন্যাসটি। আর এখানে আলোও যেন ঘ্রাণ ছড়ায়।
প্রথম পাতাটি খুলেই মনে হয়েছিল আমি ঢুকে পড়েছি আমার অতি পরিচিত একটি শহরের অলিগলিতে—একটা কোলকাতা, যে শহরের প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে ভালোবাসা, বিরহ, কবিতা আর কিছু অসমাপ্ত সংলাপ।
উপন্যাসের প্রথম থেকেই বিভিন্ন চরিত্রের সমাবেশ ঘটে এবং যত পড়তে থাকি ততই মনে হয় চরিত্রগুলো মনে হয় কাগজে আঁকা নয়—এরা আমার আশেপাশেরই মানুষ, এমনকি আমি নিজেই হতে পারতাম।
প্রতিটা চরিত্রের হাত ধরে গল্প এগিয়েছে নিজের গতিতে এবং ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছি এ গল্প শুধু প্রেমের নয়— বরং হারানো প্রেম, চুপচাপ ভালোবাসা, আর অস্পষ্ট কষ্টের গল্প। গল্পটা শিল্প, স্মৃতি, পরিচয়, আর একটা চাপা নস্টালজিয়ার, যা ভুলতে চাইলেও ভুলে থাকা যায় না।
আমার বরাবরই মনে হয় স্মরণজিতের লেখার একটা আলাদা ছন্দ আছে— কখনও কবিতার মতো, আবার কখনও নগ্ন বাস্তব। এক একটা লাইন পড়ে থেমে যেতে হয়, ভাবতে হয়, আবার পরের লাইনেই মনে হয় যেন বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল। পড়তে পড়তে এতটাই একাত্মতা জন্মে যায় গল্পের চরিত্র ও তাদের জীবনে ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনার সাথে।
এই উপন্যাসের ম��ল আকর্ষণ হল তার চরিত্র নির্মাণ। এখানে প্রত্যেকটি মানুষ আলাদা এবং প্রত্যেকেই কিছু না কিছু চাওয়া পাওয়ার প্রতীক। প্রত্যেকটা চরিত্রের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় কিছু অসম্পূর্ণতা এবং না পাওয়ার গল্প। আর সেই অসম্পূর্ণতা ই তাদের করে তোলে বাস্তব, আমাদের মতো।
কোলকাতা শহরটা এখানে শুধু পটভূমি নয়—একটা জীবন্ত চরিত্র। সে কখনও নরম, কখনও নিরুত্তর, কখনও বোবা কান্নার মতো চুপচাপ।
একবার মনে হল এই উপন্যাসে কোনও নাটকীয় মোড় নেই, নেই উত্তেজনার চরম বিন্দু। কিন্তু তারপরেই বুঝতে পারলাম সেখানেই এর সৌন্দর্য এবং সাফল্য। নীরবতাই এখানে সবচেয়ে বেশি বলে। কিছু না বলা কথা, কিছু অপূর্ণ প্রেম, কিছু অসমাপ্ত গল্প—এসবই যেন এই বইয়ের প্রাণ।
অসাধারণ একটি উপন্যাস, যদিও কর্মজীবন এবং সংসার জীবন সামলে ৪৭০ পাতার এই অতীব সুন্দর পথ অতিক্রম করতে আমার প্রায় ২০ কুড়ি দিনের মত লেগে গেল। কিন্তু এই চলার পথের প্রত্যেক মুহূর্তে আমার শুধুই মনে হয়েছে যদি কেউ কখনও ভুল সময়ে সঠিক কাউকে ভালোবেসে থাকো, যদি পুরোনো চিঠি বা কবিতার ভাঁজে নিজেকে কেউ খুঁজে পেয়ে থাকে, যদি সন্ধ্যার অন্ধকারে কারোর একা হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়ে থাকে একসাথে পূর্ণ আর ফাঁকা হয়ে আছো— তাহলে "আলোর গন্ধ" তাদের সাথেই কথা বলবে।
স্মরণজিৎ চক্রবর্তী র উপন্যাসগুলির আরেকটি সুন্দর দিক হলো এদের নামকরণ। ওনার লেখা যে কটা উপন্যাস আমি পড়েছি তার সবকটাই যেন মনে হয় এক একটা সুন্দর গন্ধের মতন আমাদের চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের সব সময় একটা ভালো লাগার এবং ভালোবাসার অনুভূতি দিয়ে যাচ্ছে।
আমার মনে হয় এই বই কখনো কোনও শেষ দেয় না। বরং, সঙ্গ দেয়। নিঃশব্দে পাশে বসে বলে, “আমি আছি, আমি থাকবো।”
🍂📖উপন্যাসের নাম - আলোর গন্ধ📖🍂 ✍️লেখক - স্মরণজিৎ চক্রবর্তী 🖨️প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স 📃পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৪৭০
🍁✨না - লেখা চিঠির মতো , শুরু না হওয়া বন্ধুত্বের মতো , অলক্ষ্যে বহতা প্রেমের মতো এই উপন্যাস ভেসে চলে জীবনে । ভেসে চলে আর মানুষের কাছে পৌঁছনোর , তাকে ভালবাসার ,✨🍁
💙🌼এক নীল চোখের মানুষ । সবার কাছে থেকেও এক অজানা দূরত্বে ভেসে থাকে সে । অসীম নির্লিপ্তি আর উদাসীনতায় সে অংশ নেয় সবার জীবনে । আবার বেরিয়েও আসে সবার জীবন ছেড়ে । কলেজে পড়া দিঘির তাকে নিয়ে কীসের এত রাগ ? প্রেমিক আর্যর সঙ্গে থেকেও ছটফট করে দিঘি । বারবার তার মনে পড়ে যায় এক সপ্তমীর সকাল , হলুদ গিটার আর দক্ষিণের সেই রঙিন জানলা । ক্রিকেটার রুহান মাথা নিচু করে দেখে কীভাবে সবকিছু চলে যায় তার মুঠোর বাইরে । টালমাটাল হয়ে ওঠে তার জীবন । আর সে অনুভব করে নীল চোখের মানুষটার শূন্যতা । জিয়ানারও এক অপরাধবোধ কাজ করে সেই মানুষটাকে ঘিরে । সংসার আর চাকরির মধ্যে আটকে থাকা জীবনের গায়ে কেন জড়িয়ে থাকে স্বপ্ন ? কেন সে দেখে কুয়াশার ভেতর আজও মিলিয়ে যাচ্ছে একটা সাইকেল । নারী - আসক্ত আদিত্যর জীবন পালটে যায় মালিনীকে দেখে । অদ্ভুত একাকিত্ব ঘিরে ধরে ওকে । কেন আদিত্য যেতে পারে না সেই নীল চোখের মানুষটার কাছে ? গভীর সমস্যা বুকে চেপে রেখে সবার সামনে উজ্জ্বলভাবে উপস্থিত হতে চেষ্টা করে রাহি । চেষ্টা করে । সেই মানুষটাকে আগলে , যত্নে নিজের করে রাখতে । কিন্তু কোথায় ফাঁক থাকে ? কেন বারবার সবার থেকে ছিটকে সরে যায় সেই মানুষটা ? চাপাডাঙার জমি নিয়ে রাখব চক্রবর্তী আর মার্চেন্ট মাল্টিপলসের ঝামেলা জটিল হলে তার পাকে জড়িয়ে পড়ে রাহি , আদিত্য । জড়িয়ে পড়ে রুহান আর জিয়ানার ভাগ্যও । অনিশ্চয়তার অন্ধকার এসে ঢেকে ফেলতে চায় সবার জীবন । স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘ আলোর গন্ধ ' উপন্যাসে গভীর রাত্রির শেষে আলো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন অর্কদেব ।🌼💙
🌼💙তোরা আমায় অনেক পুরনো দিন থেকে চিনিস তো তাই বেসিকটা ধরতে পারিস । আর বেসিক ক্যারেক্টার তো পালটায় না ।
অতীত বলে কিছু হয় না । মানুষ যতদিন বাঁচছে তার জীবনের সমস্ত কিছুই বর্তমান । প্রতিটা কষ্ট , চোট আর অপমান সব বর্তমান ।💙🌼
🌼💙আলোর গন্ধ থাকে? থাকে..... প্রতিটা আলোর একটা নিজস্ব গন্ধ আছে.... সকালের প্রথম আলোটা ঘরে ঢোকামাত্র তার গন্ধ.... উত্তর কলকাতার গলি, ঠাকুরমার চন্দন, ধূপ আর কর্পূর ছুঁয়ে ভেসে আসা অদ্ভুত এক আলোর গন্ধ... জঙ্গলে দাঁড়িয়ে শেষ বিকেলের আলোর অন্য এক গন্ধ.... প্রতিটা মানুষের মতো প্রতিটা সময়ের মতো আলোরও আলাদা আলাদা গন্ধ থাকে... 💙🌼
সমকালীন লেখকদের মধ্যে আমার অন্যতম প্রিয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর 'অলোর গন্ধ'; আমার পড়া ওঁর দ্বিতীয় বই। এই কাহিনীর শুরু পাহাড় থেকে আবার শেষও সেই পাহাড়ে। কিগান অর্ক ব্যানার্জি। হাতে হলুদ গিটার, উদাসীন নীল চোখ, লম্বা, সুন্দর দেখতে ছেলেটা, যে জীবনে যা কিছু ভালবেসেছে সবই হারিয়েছে এক এক করে। জীবনে অনেকবার আঘাত পাওয়ার পর স্বইচ্ছায় চলে গেছে সবার থেকে অনেকদূরে, সমস্ত সম্পর্ক বিছিন্ন করে.. তাও কি জীবন এত সহজে নির্লিপ্ত থাকতে দেয়! এছাড়াও দিঘি, জিয়ানা, বুকুদা, আদিত্য, মালিনী, রাহি, রুহান, চমক, ত্রয়ন, সাধুদা, মহুল, শমী, জোনাথনদাদু, গুণ্ডা, আর্য সমস্ত চরিত্রকে খুব আপন মনে হয় এখনও। প্রত্যেকের গল্পের কোনো না কোনো দিক মনে হয় আমার নিজের কথা বলছে। শেষে গিয়ে উপলব্ধি করলাম... হ্যাঁ, আলোরও গন্ধ হয় বইকি!❤️
When I have started reading this book, I thought it would be like normal love stories we have read by ABCD writers. But this guy has taken it to another level. Worth reading a novel like this which revolves around the each phases of life we can possibly feel.
মডার্ন বাঙ্গালি রোমান্টিক ধারা হিসেবে খারাপ না।প্রাপ্তি -অপ্রাপ্তির গল্প নিয়ে রোমান্টিক উপন্যাস, খুবই সহজ গল্প আর পাঠককে কোনও গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি করে না। আমাদের ভুবনায়িত ফিল গুড বাঙালির বাইরের চিত্র-বিচিত্র জীবনযাপনকে ও খানিকটা ভেতরকে চিনিয়ে দেয়।
উপন্যাসটির ভাষার সৌন্দর্য এবং কাব্যিক ছোঁয়া গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আলোর গন্ধ শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, এটি জীবনের প্রতি নতুন করে ভাবার অনুপ্রেরণা। প্রতিটি বাক্যে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবন দর্শনের প্রতিফলন পাওয়া যায়।
"জিয়ানা সেদিন বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে গিয়েছিল ওদের বাড়ি থেকে সামান্য ওপরে, সেই পাহাড়ের সবুজ রেলিং ঘেরা প্রান্তে, লাল বেঞ্চটার কাছে। দেখেছিল বেঞ্চের গায়ে ছুরি দিয়ে কেটে খোদাই করা আছে — ' আমি তোর জন্য এসেছিলাম...'" — কিগান অর্ক ব্যানার্জী simp here y'all 🫰🏻
১৫ টা চরিত্র নিয়ে শুরু করে ৪টের সমাধান দেখানো নিরাশ করেছে, জানি জীবনে অনেক মানুষ হেরে যায়, তবে সব গুলো চরিত্র শেষ করলে বেশি খুশি হতাম, বা কিছু চরিত্র কমালে, যাই হোক
📌 আলোর গন্ধ থাকে ? থাকে , কিগান জানে , প্রতিটা আলোর একটা নিজস্ব গন্ধ আছে । ছোট থেকেই সকালের প্রথম আলোটা ঢোকামাত্র তার গন্ধ পেতো ও। ছোট থেকেই কিগান বুঝেছিল , প্রতিটা মানুষের মত, প্রতিটা আলোরও আলাদা আলাদা গন্ধ থাকে ।
কিগান অর্ক ব্যানার্জী - নীল চোখের অধিকারী এক মানুষ , যাকে ঘিরে এই গল্পটি। নিঃসঙ্গ , একাকী , শান্ত এক মানুষ । কলকাতার জীবন ছেড়ে কিসের জন্য চাপাডাঙ্গার মত গ্রাম্য এলাকায় চাকরি নিয়ে চলে যায় কিগান ? কলেজে পড়া দিঘির কিসের এত রাগ কিগান এর উপর ? আদি কেনো এখনো দাদাভাই এর ঘুড়ি পেরে দেওয়াকে ভুলতে পারেনি ? কিসের আক্ষেপ তার ? জিয়ানার জীবনে সব থেকেও কি নেই ? রাহির জীবনের কোন গোপন অতীত ওকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় ? রুহানের জীবন আর পাঁচটা সাধারণ ক্রিকেটারের মত নয় কেনো ? কার হয়ে রয়ে গেলো কিগান ? কার জন্য তার সন্ধের পর গিটারের সুর ? এই সব প্রশ্নের উত্তরই দেবে " আলোর গন্ধ " যা পড়ার পর ভুলতে পারা যাবে না।
📌 সেই টিনএজ বয়েসে প্রথম লেখা পড়ি স্মরণজিৎ চক্রবর্তী মহাশয়ের উনিশ কুড়ি ম্যাগাজিনে । সেই থেকে ওনার লেখার ভক্ত । তাই অভিজ্ঞতা থেকে জানি উনি পাঠক দের কখনোই নিরাশ করেন না । বরং কিছুটা বেশি পেয়ে থাকি সব সময় । অন্য পাঁচটা সাধারণ প্রেমের গল্পের চেয়ে একটু বেশি পাই ওনার লেখায় । আলোর গন্ধের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি ।
📌 " আলোর গন্ধ " গল্প বলে কষ্টের , কষ্ট থেকে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর , অভিমানের , ভুল বোঝাবুঝির , মানুষের স্বার্থপরতার আবার নিঃসার্থতার , এই গল্প প্রত্যেকটা টিনেজার এর আবার জীবনের মধ্য গগনে এসে পড়া প্রাপ্ত বয়স্কের । এই গল্প কখনও হেরে যাওয়ার, আবার কখনও জিতে যাওয়ার , এই গল্প ফেলে আসা অতীতের তো কখনও আবার জুড়ে থাকা বর্তমানের , এই গল্প বন্ধুত্বের, প্রেমের এবং সর্বোপরি এই গল্প ভালোবাসার ।
📌 বেশ কিছু চরিত্রের সমন্বয়ে লেখা এই গল্পটার মূল চরিত্র কিগান । তাকে ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু চরিত্র । প্রতিটি চরিত্রের ইতিহাস খুব সূক্ষ্মভাবে লেখা যাতে পাঠক তাদের সাথে একাত্ম অনুভব করতে পারে । আর সেখানে লেখক সফলও হয়েছেন । কখনও কিগান , কখনও জিয়ানা , কখনও শমী, কখনও রুহান আবার কখনও আদি - প্রত্যেকের কোনো না কোনো মুহূর্ত মনের গভীর জায়গাটা ছুঁয়ে গেছে । প্রত্যেকের কাছে ভালোবাসার সংজ্ঞা যে আলাদা সেটা খুব সুন্দর ভাবে এবং পটু হাতে লিখেছেন লেখক । আধুনিক ভালোবাসার গল্প লিখতে যে লেখক সিদ্ধহস্ত তা তিনি প্রত্যেক জায়গায় বুঝিয়ে দিয়েছেন।
📌 গল্পে যেহুতু সম্পর্কের , জীবনের , চাকরির টানাপোড়েন আছে তাই প্রাপ্ত বয়েসে এসে গল্পটা পড়লে সবচেয়ে ভালো লাগবে । কারণ খুব কম বয়েসে পড়লে অনেক কিছু জানা হলেও বোঝা হবে না , অনুভব করা হবেনা । মানুষ যখন উপলব্ধি করে তখনই তো তার মর্ম বোঝে তাই । এই গল্পের চরিত্র গুলোর সাথে একাত্ম হতে গেলে সেই উপলব্ধি টা করা খুব প্রয়োজন ।
📌 রেটিং দিয়ে বইটার সৌন্দর্য্য একদম নষ্ট করবো না । আমার খুবই ভালো লেগেছে। যারা এখনো পড়ে উঠতে পারনি তাদের বলব অবশ্যই কিনে নিও । পড়ার পর অবশ্যই জানিও কেমন লাগলো । আর যারা ইতিমধ্যে পড়ে ফেলেছো তারাও জানাও কেমন লেগেছে ।
আমার অন্যতম প্রিয় চরিত্র হয়ে রয়ে গেলো - নীল চোখের হরিণ - কিগান অর্ক ব্যানার্জী ♥️ । .
One of my favourite stories of Smaranjit Chakraborty. The Novel is written so beautifully that you will feel all the characters live in front of you, as if you are not reading story, you are actually witness of a life journey.
আমার ভালো লাগা উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম |প্রতিটি চরিত্রই এত প্রানবন্ত , বইটা পড়তে পড়তে আমি যেন ওদেরই একজন হয়ে গেছি. |নামগুলো খুব মিষ্টি, কিগান আর্ক , দিঘি ,রাহি।