শামসুজ্জোহা মানিক সম্পাদিত ইসলাম বিতর্ক(অনুবাদ সংকলন)
বিভিন্ন সময়ে এম, এ, খান; জন জে ও’নীল; মুমিন সালিহ প্রমুখ অখ্যাত লেখকদের যেসব লেখা বিভিন্ন সাইট, ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল, তারই পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত রূপ এই বইটি। একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই বইটি ২০১০ এ প্রকাশিত হয়। কিন্তু ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত বই ‘ইসলাম বিতর্ক’ নিয়ে আপত্তি ওঠায় ২০১৬ সালের অমর একুশে গ্রন্থ মেলা থেকে বইটির প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ব-দ্বীপের স্টল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এতে সম্মতি দেয় বাংলা একাডেমি। রাতে বইটির প্রকাশক/সম্পাদক শামসুজ্জোহা মানিক, সম্পাদক শামসুল আলম ও ছাপাখানার মালিক ফকির তসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
একটি সমাজে যখন গ্রন্থ প্রকাশের কারণে প্রকাশককে গ্রেফতার করা হয়, তখন বোঝা যায় সেখানে অভিব্যক্তির স্বাধীনতা নেই। লেখালেখি লেখকের ইচ্ছার স্বাধীনতা। কোন লেখকের লেখা কেউ ইচ্ছা হলে পড়বেন, ইচ্ছা না হলে পড়বেন না। সেটা পাঠকের এখতিয়ার। গ্রন্থের সঙ্গে বীরত্ব প্রদর্শন করে কেউ কোথাও জয়ী হতে পারেনি। বখতিয়ার খিলজী, আডলফ হিটলার ইতিহাসে গ্রন্থ বিরোধী কালো চরিত্র হিসেবে নিন্দিত ও পরাজিত। অনেকদিন আগেই বইটি পড়া শুরু করলেও মাঝ পথে রেখে দিই, কিছুক্ষণ আগেই শেষ করলাম। এবং আবারো উপলব্ধি হইলো যে, একটা মতবাদ বা বিশ্বাস খুবই স্পর্শকাতর, একটু ছোঁয়া দিতে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্যামন কথা! সবকিছু এত ঠুনকো হয় কিভাবে?
তো, নিষিদ্ধ বই সপ্তাহের জন্য পড়া শুরু করেছিলাম। তারমধ্যে শেষ করিনি অবশ্য।
২ তারকা ইনফরমেশনের জন্য।
তা বাদে, অনুবাদ বাজে, বক্তব্য অসংলগ্ন। খৃস্টান ধর্ম 'মানবমুক্তি'র পক্ষে! সিরিয়াসলি! আর ইউ কিডিং মি! এরকম অনেক পক্ষপাতিত্বমূলক কথাবার্তা আছে বইতে। ব্যাপারগুলো খুব একটা যুক্তির ধারপাশ দিয়ে গেছে বলেও মনে হয়নি। অনেকটাই আবেগিক, প্রবন্ধের নির্মোহতা অনুপস্থিত।
পুরো বইয়ের শুধু এই কথাটাই মনে থাকবে বোধহয়। দাসপ্রথা আর যৌনতা নিয়ে কিছু তথ্য আছে। এমনিতে প্রবন্ধগুলোয় বিশেষ শক্ত কোনো বক্তব্য চোখে পড়ল না। মনে হল শুধু তর্কের খাতিরেই তর্ক করতে নেমেছিলেন লেখকেরা।