Jump to ratings and reviews
Rate this book

কাগজের বউ

Rate this book
ENGLISH
152

101 pages, Hardcover

Published January 1, 1977

9 people are currently reading
211 people want to read

About the author

Shirshendu Mukhopadhyay

414 books938 followers
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।

তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।

তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
44 (13%)
4 stars
125 (38%)
3 stars
116 (36%)
2 stars
27 (8%)
1 star
10 (3%)
Displaying 1 - 30 of 31 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,675 reviews441 followers
July 1, 2023
গল্পের শুরুতেই (মহা)নায়ক উপল মহাশয় নিজের সম্পর্কে বলছেন "এখন আমাকে সবাই অপদার্থ বলে জানে। কেবল দীর্ঘকাল আমি নিজেই সেটা বুঝতে পারিনি।" কিন্তু দেখা যাচ্ছে তার গুণের অভাব নেই।তিনি এতো কিছু পারেন যে কিছুই হতে পারেননি। রূপে, গুণে, যোগ্যতায় সবদিক থেকে উপলের চেয়ে এগিয়ে থাকা নায়িকারা তার অঙ্গুলিলেহনে দিওয়ানা হয়ে যায়। বরাবরের মতো শীর্ষেন্দুর নায়িকারা খেলার পুতুল। তাদের নিজস্বতা নেই, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিও নেই। নায়কের ক্যারিশমা এতোই যে,তার বন্ধুবর ও বস তার কাঁধ ঝাকিয়ে যে প্রশ্ন করে তার মর্মার্থ হচ্ছে, "তোর মধ্যে কী আছে যা আমার নেই?" আহা বেচারা!!
মহত্ত্ব দেখানোর সুযোগ পেলে (পড়ুন, বাংলা সিনেমার ত্যাগী সাইড নায়ক) উপল মহাশয় কিছুতেই সে সুযোগ হাতছাড়া করেন না আবার হাপুস নয়নে কাঁদেন। এর মতিগতি বোঝা ভার।তিনি জ্যোৎস্নার মতো অনায়াসে আঁজলা পেতে টাকা চান, আবার সেই টাকা পেয়ে রাস্তায় উড়িয়ে দেন। মজা, মজা! দুঃখ পেতে নায়কের বড় লোভ।সে লোভে পড়ে তিনি সবই করেন। স্পষ্টত তিনি মর্ষকামী। তার জন্য দুঃখ অনুভব করবো কি না এখনো বুঝতে পারছি না। যতোক্ষণ মনস্থির করতে না পারছি ততোক্ষণ ম্যাক্সিম পড়তে থাকি,

"তুমি চা খেতে গেলা, এই ফাঁকে আমার বিবাহ হয়ে গেলো।" (দেবদাস, ইমতিয়াজ মাহমুদ)

(২৮ জুলাই,২০২১)
Profile Image for Niharika (severely inactive).
273 reviews196 followers
February 25, 2025
অন্ধকারে চিকচিক করা বুড়োভাম রক্তচোষাদের প্রতি কোনোদিনই খুব একটা আগ্রহ না থাকাতে Twilight নামক বিশ্বকুখ্যাত উপন্যাস টি পড়ে ওঠা হয়নি। কিন্তু ইন্টারনেট বড়ো বালাই, কুড়িয়ে পাওয়া ষোলো আনার মতোই এদিক ওদিক থেকে ... ওই যাকে বলে পাবলিক ডিসকোর্স-এর খবর পাই। তো এই মার্কিনি গল্পের অষ্টাদশী নায়িকার চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এই, যে আসে পাশের সকল ছেলে ছোকরা, এমনকি নবতিপর চিরতরুণ গল্পের নায়কও, এই আপাত সাধারণ মেয়েটির প্রেমের জোয়ারে ভাসমান। ভাবটা এমন, যেন দুদণ্ড কারোর চোখে চোখ রাখলেই সে ব্যক্তি মেয়েটিকে বিবাহ প্রস্তাব দিয়ে বসবে।

এই সেকেলে বইটির সম্পর্কে বকবক করতে বসে আটলান্টিক পাড়ের কিশোর উপন্যাস নিয়ে শোরগোল তোলার একমাত্র কারণ হলো আমাদের এই উপন্যাসের নায়ক উপলের চরিত্রটা একেবারে ওই Twilight এর নায়িকা বেলার (বোস নয় কিন্তু) মতো। যেদিকে যত রূপসী মহিলা, বিবাহিত অবিবাহিত যাই হোক না কেন, উপলের প্রেমে পাগল। এদিকে উপল একনম্বরের হদ্দ বেকার, বন্ধুর বাড়ির বারান্দায় তার কোনোমতে ঠিকানা করা। যোগ্যতা সে যুগের বি'কম পাস, কিন্তু হাবেভাবে তা বোঝা দায়। কিন্তু তাতে কার কি আসে যায় ? বন্ধুর স্ত্রী, দূরসম্পর্কের মামাতো বোন, বন্ধুর প্রেমিকা --- সবাই তৎকালীন সংস্কার ইত্যাদি চুলোয় দিয়ে তার সঙ্গে ঘর করতে চায়। উনিশশো সাতাত্তর সনে বসে লেখক মহাশয় কি অসাধারণ দক্ষতায় বর্তমান দশকের incel সংস্কৃতির চূড়ান্ত নিদর্শন তুলে ধরেছেন, তা ভেবে মুগ্ধ হওয়া ছাড়া গতি নেই।

কষ্টে সৃষ্টে একশো পাতার এইটুকু বইখানি শেষ করতে হলেও একটি মাত্র তারা রেটিং দিতে মন চাইছেন। আসলে কি করি বলুন, শীর্ষেন্দু বাবু লেখেন এতো চমৎকার, যে বিষয় ভাবনা গৌণ হয়ে যায় কলমের সুনিপুণ কারিগরির কাছে। তাই উদার হস্তে দু'তারাই দিলাম নাহয়।
Profile Image for Tanvir Ahmed.
16 reviews32 followers
September 2, 2014
৩০০-৪০০ পৃষ্ঠের বিশাল উপন্যাস এর চেয়ে এই ধরনের ছোট উপন্যাসই আমার বেশি পছন্দ।বইটার কেন্দ্রীয় চরিত্র উপলকে অসাধারন লেগেছে,অন্যান্য চরিত্রগুলার বর্ণনা এতই ভাল যে প্রত্যেকের চেহারা কল্পনায় ভেসে উঠে।প্রথমদিকে অত্যন্ত সাধারন গল্প মনে হলেও,শেষের দিকে একেবারে unpredictable
হয়ে যায়।এই কারনেই বইটি চমৎকার লেগেছে।
174 reviews57 followers
October 6, 2017
প্রথম দিকে বইটা খুবি বিরক্তিকর লাগছিল !
উপল নামের এক *অকাম*এর গল্প, যে কিছুই পারেনা । অলস, কুঁড়ে.....
কিন্তু অর্ধেকটা বই শেষে এই গল্পটাই এত ইন্টারেস্টিং টার্ন নিবে বুঝিনাই :/
ভাল্লাগসে !
বেশ !
Profile Image for Fahim.
7 reviews1 follower
January 20, 2023
বইটি আমাকে অনেক হাসিয়েছে।
কাহিনিটি একজন অপদার্থ মানুষ কে নিয়ে।
যে অনেক কাজই করতে পারে কিন্তু একটা কাজও শেষ করতে পারে না।
বইটির প্রধান চরিত্র উপলকে আমার ভাল লেগেছে।
তার অন্য কোন সমস্যা নেই।
দর্শন,বিজ্ঞান, প্রেম,ভালবাসা নেই।শুধু খিদে পাই।
আর একবার পেট ভরে খেয়ে নিলে আবার খিদে পাওয়ার ভয় পায়।
Profile Image for Mahfuza Akter.
7 reviews1 follower
September 1, 2022
বেশ ভালো ছিলো। অদ্ভুত সুন্দর। recommended to read.
Profile Image for Aurora.
98 reviews37 followers
July 2, 2023
উপলের মতো একটা অলস, অকর্মণ্য ছেলের প্রেমে দুনিয়ার সব মেয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে, এই বিষয়টাই বিরক্তিকর। অনেকটা হিমুর মতো। হিমু ফ্যানরা রাগ করলে কিছু করার নেই।
Profile Image for Avishek Bhattacharjee.
371 reviews78 followers
June 12, 2020
স্কুল লাইফে পড়া বই। এইটা মূলত একটি সামাজিক উপন্যাস। একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি তার বিবাহিত বউকে ছেড়ে দিতে চায়। এখন ডিভোর্সের গ্রাউন্ড শক্ত করার জন্য তারই এক আশ্রিত বন্ধুকে লেলিয়ে দেয় বউয়ের পিছনে পরকীয়ার জন্য। এই হইল ঘটনা। এখন বউতো প্রেমে হইল পাগল। কিন্তু বন্ধুর মতি তোহ ফিরে গেল। সে আবার তার বউকে ফিরে পেতে চায়। এখন কি হবে? সেটা বইয়ে পড়ে নিয়েন। এমন কোন ভাল বই না। না পড়লেও চলে।
Profile Image for Md. Faysal Alam Riyad.
317 reviews26 followers
August 13, 2019
চেনা প্লটের মাঝে অসাধারণ কাহিনী। টাকা! টাকায় বুঝি সব হয়। টাকার কাছেই বিক্রি পৃথীবি থেকে শুরু করে মানুষের ইজ্জত। ক্ষুধার জ্বালা না থাকলে বোধহয় টাকা নিয়ে এত গ্যাঞ্জাম হত না।
Profile Image for A Lazy Nerd.
158 reviews64 followers
August 4, 2021
আমাদের হৃদয়ের কোনও সমস্যা নেই। দর্শন, বিজ্ঞান, প্রেমভালবাসা নেই। শুধু খিদে পায়। বড় খিদে পায়।
~ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, কাগজের বউ

গল্পের শুরু উপল নামক এক প্রচন্ড কুঁড়ে-কে নিয়ে। উপলের বহুমুখী প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অলসতার কারণে কিছু করে উঠতে পারেনা। ছোটবেলায় মাকে হারানোর পর তার বাবা বিয়ে করেন তার এক দূর সম্পর্কের মাসীকে। সেই মাসী তাকে নিজের সন্তানের মতই বড় করেছেন। বাবা মারা যাও���়ার পর মাসীকে তার এক ভাইয়ের বাড়িতে তুলে দিয়ে সে একদিক থেকে অন্যদিক যায়। বেকার মানুষের জায়গা নিয়ে সমস্যা হয়না – কোনো না কোনো জায়গা জুটেই যায়। এভাবেই পালাক্রমে ভাগ্য তাকে পুরনো ক্লাসমেট সুবিনয়ের বাড়ি নিয়ে এসে ফেলে।
সুবিনয়ের বাড়িতে তার যে খুব সমাদর হয় তা কিন্তু না। বরংচ সুবিনয়ের মত এত উঁচুদরের পড়াশোনা জানা মানুষ কেন উপলকে তার বাড়িতে রাখে এটাই রহস্য।

বইয়ের নামকরণের সার্থকতা একদম শেষের দিকে পরিষ্কার হয়। নারী পুরুষের সম্পর্ক ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দিক বইতে উঠে এসেছে, আর তা হচ্ছে ক্ষুধা। একজন মানুষ ক্ষুধার তাড়নায় টাকা রোজগার করে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ক্ষুধার তাড়নাতেই জাগতিক অনেক অপরাধ করে বসে। তাই পেটের এই খিদের সাথে টাকার একটা গভীর সম্পর্ক লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন।

কিছু জায়গা প্রচন্ড বিরক্ত লেগেছে বইতে। মনে হচ্ছিল বইটা আসলেই কোনদিকে আগাচ্ছে আর শেষই বা কখন হবে ! উপল চরিত্রকে দিয়ে সুন্দর কিছু দর্শন উঠে এসেছে। কিছু ঘটনা বেশ হাস্যকরও বটে।
7 reviews
January 25, 2024
Upal, a lazy and greedy lad, runs errands everywhere. Coming from a lower middle class family, he struggles for money. Even though he was extremely talented, he fails to secure a decent job and is a slave to his hunger.
This novel very intricately describes what someone in such a situation goes through. He agrees to perform various tasks for money, and although his conscience tries to stop him, he ignores it. He finally loses all his morals and ends up doing one wrong after the other and finally gets framed by another person.
In the end, he momentarily lives his ideal life of owning huge sums of money but finally ends up in square one again. The novel shows how men go to different extents to accomplish their needs and even after fulfilling them somehow remains disappointed and unsatisfied especially for those who lose track of what is right and what is wrong, or even if they don't, they choose to ignore and face dire consequences.
The book also quietly brings forward some of the societal issues and mentality of men and women during that time.
Profile Image for ANGSHUMAN.
229 reviews8 followers
January 4, 2021
পৃথিবী জুড়ে হাজার হাজার উপলদের বাস,যাদের পেটে আছে খিদে,কিন্তু পকেটে পয়সা নেই। সেই উপলদের জন্যই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস কাগজের বউ। পড়তে পড়তে শেষ হয়ে গেলেও ভালোলাগার রেশটুকু জেগে থাকে। এখানেই কৃতিত্ব লেখকের। পাঠককে কাহিনীর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে আর বের হতে দেন না। আগাগোড়া সংক্ষিপ্তভাবে লিখলেও উপন্যাসের চরিত্রেরা ভিড় করে আসে। ভালো লাগার আরেক নাম কাগজের বউ।
বিধিসম্মত সতর্কীকরণ:- প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই বই।
Profile Image for H.s.khan.
23 reviews2 followers
January 12, 2019
An interesting book with unexpected turn of events.
1 review
January 27, 2021
খিদের যন্ত্রণা বড় ভয়াবহ, খিদে মিটে গেলেও ভয় যদি আবার খিদে ফিরে আসে।সমাজে এরকম লক্ষ লক্ষ উপল রয়েছে ওদের ব্যবহারে আর অভিযোগ করিনা বরং সম্মান করি।শিল্প, সাহিত্য, দর্শন ওদের জন্য না।
Profile Image for Anik Newaz.
51 reviews7 followers
March 12, 2021
ঊপলচন্দ্রের ব্যাক্তিত্ব এমনই - লোকচক্ষুর আড়ালে ভদ্রলোকদের সুপ্ত চরিত্রটি তাঁর সান্নিধ্যে উন্মোচিত হয়। কেন্দ্রীয় চরিত্র একজনেরই, তবে গল্পের বাকি চরিত্রগুলোর অনন্যতাও প্রকাশ পেয়েছে তাঁকে ঘিরে।
Profile Image for Nafisa Anjum.
226 reviews13 followers
November 9, 2023
কাহিনিটি একজন অপদার্থ মানুষ কে নিয়ে। যে অনেক কাজই করতে পারে কিন্তু একটা কাজও শেষ করতে পারে না।

প্রচন্ড বিরক্ত লেগেছে। মনে হচ্ছিল বইটা আসলেই কোনদিকে আগাচ্ছে আর শেষই বা কখন হবে। শেষটা অনেক নাটকীয়।
Profile Image for Elruin Elmsroot.
254 reviews1 follower
July 6, 2024
This book makes you think while you read.

But when you finish it, the thoughts goes to oblivion.

Thus, gone are the traces of the thoughts......gone is the book.
Profile Image for Gain Manik.
376 reviews4 followers
August 25, 2024
হায়রে উপল! সারাজীবন ব্যবহৃত হয়েই গেলে। নিজের জন্য কিছুই করতে পারলে না।
Profile Image for F N.
42 reviews20 followers
March 3, 2025
গল্পটা জমতে জমতে শেষ হয়ে গেল. আর একটু সময় দিলে আরও ভালো হতো.
Profile Image for MILON MAHMUD.
4 reviews
March 10, 2020
কাগজের বউ নাম শুনলেই কেমন জানি আশ্চর্য রকম লাগে।বউ আবার কী করে কাগজের হয়? আপনি জানেন না বলেই ভাবছেন কাগজের বউ হতে পারে না। আমি জানি বলেই বলছি হয়। এখন গল্পের দু এক কথা আপনাকে বলি।
এই গল্পের প্রধান চরিত্র উপলের।উপল নিজেই সবটুকু গল্প একা বলে গিয়েছে। সেই যে তার মায়ের মৃত্যুর পর এক চোখ হারা মাসির আঁচলের তলে মানুষ হয়েছে সে। সেই মাসির কাছেই বা আর কতদিন থাকা হলো তার!টুপ করে যে একদিন বাবা মারা গেল সেদিন দেখলো সারা জীবন টাকার পেছনে দৌড়ানো বাবা এক টাকাও রেখে যেতে পারেননি ঘটিতে। এখন কী উপায়?উপলের যে চাকরি নাই। আবার সে জগতের শ্রেষ্ঠ অলস।অথচ তার মেধা আছে,যোগ‍্যতা আছে। কিন্তু কাজে মন নেই।এই জন্যই মাসিকে নিয়ে আর একসাথে থাকা হলো না। কীভাবে থাকবে।ভাড়া বাসায় থাকলে পয়সা লাগবে সেই পয়সা উপল কোথায় পায়! অবশেষে মাসির মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো তার এক দূর সম্পর্কের ভাইয়ের ঘরে। ওখানে রাজ‍্যের সব গৃহস্থালি গুছিয়েই তবে তার পেট চলে।আর উপল বাবুর ঠাঁই হলো বাসের এক কন্ট্রাক্টরের ঘরে। কিন্তু কপাল যার মন্দ তার আর কী করার।উপল নিজেও এই বাসে কাজ নিয়েছিল। কিন্তু বাসের এক এক্সিডেন্টের ফলে গণ ধোলাই খেয়ে তার অবস্থা যায় যায়। তারপর কী আর করা। কন্ট্রাক্টরের দিল ছিলো মায়ায় ভরা।সে নিয়ে গেল উপলকে নিজের বাড়িতে। কিন্তু ওখানে কী আর কেউ আজীবন থেকে যেতে দিবে?দিবে না।ওই কন্ট্রাক্টরের বউ একদিন বলেই বসলো সরে যেতে।উপল সরে আসলো আবার কলকাতায়। তারপর এক ডাকাত দলের সাথে মিশেছিল।ওখানেও তার ভালো ঠেকেনি। এখান থেকে বের হয়ে সে গিয়েছিল এক মধ‍্যবয়স্ক ধনী লোকের সাথে তার বাড়িতে। ভালোই কাজ জমে গিয়েছিল ওখানে।মানিক নামের সেই ব্যক্তি তার তিনটা স্ত্রী।একদিন মানিক তাদেরকে সব সম্পত্তি ভাগ করে দিয়ে পালিয়ে আসে এক নির্জন এলাকায় উপলকে নিয়ে এবং নতুন বিয়েও করে কিন্তু তার ঐ অল্পবয়স্ক বউ উপলের প্রতি দুর্বলতার প্রকাশ ঘটে এবং একদিন মানিককে বিষ খাইয়ে হত্যা করতে চায় কিন্তু উপল তাকে বাঁচায় তখন মানিক বলে মেয়ে লোকের এই সমস্যা একজন হইলে স্বামীর সাথে ঝগড়া করবে আর দুই বা একাধিক স্ত্রী থাকলে স্বামীকে সব সময় মাথায় তুলে রাখবে।আবার মানিক আর উপল ভিন্ন পথ ধরে। কিন্তু আবার কপালে মন্দা নামে।যার বাড়ি গিয়েছিল তার স্ত্রী যে উপলের প্রেমে পড়ে যায়। তারপর কী হয় এই কথা এখন বলা যাবে না!
উপল কিন্তু শেষমেশ তার বাল‍্যবন্ধু বিজ্ঞানী সুবিনয় বাবুর আশ্রয়ে এসেছিল। এখানে অবশ্য সুবিনয়ের ভাগদত‍্যা ক্ষণার সহ‍্য হতো না উপলকে। ওদিকে সুবিনয় আবার প্রেমে পড়ে তার নিজের শ‍্যালিকা প্রীতির সাথে।এই পৃতিকে পেতে হলে সুবিনয়ের স্ত্রী কণাকে তার ডিভোর্স দিতেই হবে।এর জন্য সুবিনয় উপলকে ধরে।বলে , তুই ক্ষণাকে তোর প্রেমের জালে আটকে দে। তারপর দেখ আমি কীভাবে ওর দোষ বের করে ডিভোর্স টা দিয়ে দেই।
এদিকে আবার প্রৃতির সাথেও কিছু একটা ঘটে যায় উপলের।আরেকজনের সাথেও কিছু একটা ঘটতে গিয়েও ঘটে না উপলের। সে হলো তার মাসির ভাইয়ের মেয়ে কেতকি।কেতকি তাকে বলেছিল,' চলুন না আমাকে নিয়ে এ বাড়ি থেকে পালিয়ে।'
এখানে শুধুমাত্র একজন উপল আর তার সাথে মিশে আছে অনেক অনেক গুলো চরিত্র। এতো গুলো চরিত্রের ভেতর উপলের কাগজের বউ টা যে কে হয় আর কাগজের বউ বিষয়টা আসলে কী তা ভালো ভাবে জানতে হলে পড়তে হবে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'কাগজের বউ' উপন্যাসটি। আপনি নিজে এই উপন্যাসটি পড়ুন।পড়তে দিন অন‍্যকেউ।
বইয়ের নাম-কাগজের বউ।
ধরণ-উপন‍্যাস।
লেখকের-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।
পৃষ্ঠা-১০১
March 15, 2019
একটু ভেবে দেখুন তো আপনার নায়ক যদি পেশায় হয় ডাকাত কিংবা বাস কন্ডাকটার কেমন হবে ব্যাপারখানা? আপনার নায়ক ডাকাত কিনা জানি নে, তবে এই গল্পের নায়ক কিন্তু তেমনই। সর্বগুণে গুণান্বিত উপলের জীবনে ঘিরেই লেখা হয়েছে গল্প। না, না, গল্প হলেও সত্যি! সর্বগুণে গুণান্বিত ডাকাত, অবাক হয়েছেন বৈ কি! আরে মশাই এ তো রঘু ডাকাত নয়। এ হলো বিএ পাশ করা মোটামুটি ভালো গান জানা অল্পস্বল্প ছবি আঁকতে জানা টুকটাক নাটক লিখতে পারা থিয়েটারে দুর্দান্ত অভিনয় করা উপল ডাকাত, বহুমুখী প্রতিভাবান হতভাগা। তো চলুন, পরিচয় করে নেয়া যাক উপলের পরিবারের সাথে। তিনজনকে নিয়ে উপলের পরিবার-সে, বাবা, আর সৎমা। ছোটো বয়সে মা মারা যাওয়ার পর উপলের বাবা তার মায়ের এক পিসতুতো বোনকে বিয়ে করে। সৎমা উপলকে নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসেন। বাবা নিরীহ গোছের খাদ্যরসিক মানুষ। যা কামিয়েছেন খাওয়ার পেছনে ঢেলেছেন। আর যাইহোক সঞ্চয়প্রবৃত্তি ছিলো না ভদ্রলোকের। উপলের বিএ পরীক্ষার কিছুদিন আগে মারা যান বাবা। টাকাপয়সা তেমন কিছু রেখে যান নি। সেজন্যই বাবা মারা গেলেও সদস্য সংখ্যা রয়ে গেলো তিন। পরিবারের পুরোনো সদস্যের জায়গা নিতে শুরু করল দুর্দশা নামক নতুন সদস্য। তাই বুঝি ভাগ্যের ফেরে বিএ পাশ করা উপলের চাকরি জুটলো না। বাড়িভাড়া বাকি পড়ে যাওয়ায় বাড়ির মালিক বিদেয় করলো উপল আর তার মাকে। ওর মা দুসম্পর্কের এক ভাইয়ের বাড়িতে রাধুনির চাকরির বদলে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও জায়গা মিললো না উপলের। উপল নানা পেশায় চেষ্টা চরিত্র করে কোনোটাতেই টিকতে পারলো না। শেষমেষ এককালের সহপাঠী সুবিনয়ের বাড়ি মুখ বুজে লাথি ঝাঁটা সয়ে গায়ে গতরে খাটার বিনিময়ে কোনোরকম আশ্রয় জুটলো। কিন্তু সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আর টাকার হদিসে ঘুরে বেড়ানো উচ্চাকাঙ্খী উপল জড়িয়ে পড়ে নতুন ঝামেলায়। বিবাহিত বন্ধু সুবিনয়ের গোপন প্রেমের সহযোগী হিসেবে শুরু হয় নতুন ‘পেশা’।

লেখার প্রতি মোড়ে দেখা মিলবে ‘বাস্তবতা’ বাবুর সাথে। উপলবাবুর সাথে বিনামূল্যে চেয়ে দেখবেন জীবন। কখনো ঘুরে বেড়াবেন ক্যানিংয়ের আটাকলে, কখনো সুন্দরবনে, কখনো মার খাবেন বিনা দোষে, কখনো বা দোষ করেই ষোলো আনা পার পেয়ে যাবেন। প্রতি পাতায় শিখবেন জীবনের নতুন সংজ্ঞা। লেখক মানব মনস্বত্ত্বকে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন উপল চরিত্রের মাধ্যমে। সব থেকে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে উপলের আত্মসীকারোক্তি। তবে বইয়ের নামখানা ‘কাগজের বউ’ না রেখে অন্য কিছু দিলেই যেন ভালো হতো। এ অদ্ভুত নামের কারণ জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে উপন্যাসখানা। হালকা চালের রসিকতা আর গভীর জীবনবোধে ঠাসা বইটির একটি লাইনেও বিরক্তি আসে নি, নেই বাড়াবাড়ি। স্টোরি টেলিং অভিনব। প্রথমদিকে খুব হাসি পেলেও বই শেষে কোথাও একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব করছিলাম। এন্ডিং অতি চমৎকার। লেখক এমন এক জায়গায় এসে থামিয়ে দিলেন কলম- যা পাঠককে ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য। আমার মা রীতিমত শীর্ষেন্দুর ভক্ত। তবে এটি আমার পড়া শীর্ষেন্দুর প্রথম বই। ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন তৃপ্তি পেয়েছি। গর্ভধারিণীর সুদীপের পরে তেমন কোনো চরিত্র এতটা মনে ধরে নি যেমনটা উপলের ক্ষেত্রে হয়েছে। আমি লাইব্রেরি থেকে যে বইটি পড়েছি সেটার প্রচ্ছদ আমার মনে ধরেনি। গুডরিডসে গিয়ে আরেকটা প্রচ্ছদ দেখলাম। ঐটা ভালো লাগলো বেশি তাই ঐটাই দিলাম।

বইয়ের নাম : কাগজের বউ
লেখক : শীর্ষেন্দু মুখ্যোপাধ্যায়
প্রকাশনী : আনন্দ
ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫
Profile Image for Sharika.
358 reviews95 followers
December 23, 2018
"ছোঁচা শব্দটা কোত্থেকে এল মশাই? ছুঁচো থেকে নাকি? হাতটান ইতিহাস কি? কিংবা দু’কান কাটা কথাটাই বা অমন অপমানজনক কেন?অবশ্য অপমান কথাটারও কোনও মানে হয়না। অপমান মনে করলেই অপমান। আমার যা অবস্থা তাতে অপমান মাখাও এক লাটসাহেবী শৌখিনতা।"

- উপন্যাসের শুরু এভাবেই। উপরোক্ত কথাগুলোতে কেন্দ্রীয় চরিত্রটির দৈন্যদশা কিছুটা হলেও ধরা পড়তে শুরু করেছে। কথাগুলো উপলের।

উপল এক অদ্ভুত চরিত্র। ছোট বয়সে তার মা মারা যায়। বাবা বিয়ে করেন উপলের মায়েরই এক পিসতুতো বোনকে। উপলের বি.কম. পরীক্ষার পূর্ববর্তী সময়ে তার বাবা মারা যায়, তখন থেকে শুরু হয় তার বেহাল দশা। বহুগুণে গুণান্বিত ছিল সে বরাবর - ভালো গান গাওয়া, ভালো অভিনয় করা, ছবি আঁকতে জানা, মূর্তি গড়তে পারাসহ বহুকিছু তার নখদর্পণে ছিল। কিন্তু বি.কম. পাশের পরেও যোগ্য কোনো চাকুরির রাস্তায় কিংবা তার প্রতিভার প্রকাশযোগ্য কোনো পথে যাত্রা শুরু সম্ভব হয় না তার। পয়সাকড়ির নেশাটা যদিও তার ছিল খুব। টাকা বাকি পড়ায় ভাড়াবাড়ি থেকে বের করে দেবার পর মাসী আর তার জন্য শেষ উপায় থাকে দূর সম্পর্কের এক বড়লোক ভাইয়ের বাড়ি। সে ভাই মাসীকে আশ্রয় দিলেও বোনপোটিকে দেন না। তখন সে ভবঘুরে হয়ে পড়ে।

বাস-কন্ডাক্টরি থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে ছিনতাই-চুরি-ডাকা���ির দলের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে সে। যখন যে কাজ পায় তাই করতে শুরু করে। কিন্তু শেষ অব্দি কোনোটিতেই আশার আলো দেখতে পায় না।

সময়ের স্রোতে উপল এসে ঠেকে তারই একসময়ের সহপাঠী সুবিনয়ের বাড়িতে। যে বাড়িতে সে অনাদৃত, অনাকাঙ্ক্ষিত। লজ্জার মাথা খেয়ে সেখানে খুঁটি গেড়ে থাকে সে। জীবন এরমধ্যেও নিস্তরঙ্গ চলে না। তার সহপাঠীটি বড় সৎ স্বামী নয়, রয়েছে তার গোপন প্রেমিকা। না চাইতেও আস্তে আস্তে বহু মানুষের সাথে বহু বিচিত্র সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে শুরু করে উপল।

পাঠ-প্রতিক্রিয়া : ঘটনা যা ভেবে পড়তে বসেছিলাম, দেখলাম ঘটনা তা নয় 😛 বেচারা উপলটিকে যখনই ভাবছিলাম, "এই বুঝি কোনো একটা চরিত্রের সঙ্গে তার প্রেম হয়ে গেলো! এই বুঝি তার দৈন্যদশার সমাপ্তি ঘটলো!" তখনই উল্টো হচ্ছিল।

আর্থিক অবস্থার অবনতির সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রের, বিবেকবোধের, মনের বিশুদ্ধতার কতো পরিবর্তন হয়ে যায় উপল চরিত্রটি তার প্রতীক বহন করেছে। জীবনে কঠিন পরিস্থিতিতে দুর্বল মনের মানুষ তার আত্মসম্মান ধরে রাখতে পারে না, হয়তো বা তার সেই জ্ঞানটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাকে প্রতিনিয়ত আশেপাশের সুযোগসন্ধানীরা ব্যবহার করে যায়, সেটা বোঝার বা বুঝলেও প্রতিবাদ করার মতো মানসিক শক্তি ফুরিয়ে যায়। ফলাফল হয় - সমাপ্তিতে শূন্য হাত।

বেশ কমেডি কমেডি একটা ফিলিংস নিয়ে বইটা শুরু করেছিলাম, শেষ হলো মন-খারাপ হওয়া ভাব নিয়ে 😑
13 reviews
May 20, 2018
মানুষের তিনটি বিত্ত,নিন্মবিত্ত,মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্ত।এক স্তর থেকে মানুষ অনেক সময় নিচু স্তরে নেমে আসে কখনো বা নিচু থেকে উপরে যায়।ফলাফল হয়,মানুষ তার অভ্যাস ছাড়তে পারে না আবার নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতেও পারে না।এমনই পরিস্থিতে লেখক ফেলে দিয়েছেন উপল কে।মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান হয়েও একসময় বাড়ির ঝি গিড়ি করতে নামতে হয়।কিন্তু ততদিনে উপল সাংসারিক নানা প্রতিকূলের মুখে পড়ে বুড়িয়ে গেছে। অপমান তার ধাতে নাই।তার এক্টাই জিনিস ক্ষুদা।ক্ষুদা সহ্য করা মুশকিল।
একসময় বাল্যবন্ধু সুবিনয়ের বাড়িতেই ঝি গিড়ির কাজ নেয় উপল।এদিকে উপলের ভাগ্য বলতে লাথি ঝাটা এখানে বাল্য বন্ধুর বাড়িতে এসেও তাই,মেনে নেয় উপল।পেটের জ্বালা বড় জ্বালা যে।কিন্তু বিশাল বড়লোক সুবিনয় ভালোবাসে তার বউয়ের এক বোন প্রীতিকে।সুবিনয় চায় তার বউ ক্ষণা তাকে ডিভোর্স দিক যেন সে সহজেই প্রীতির কাছে যেতে পারে কিন্তু ক্ষণা অতিমাত্রায় স্বামীভক্ত।তাকে হাজারভাবে কষ্ট,অপমানিত করলেও সে ডিভোর্স দেবে না।উলটো পথ বেছে নেয় সুবিনয়।উপলকে টাকার লোভ দেখায়,তার বউকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য।সারাজীবন উপল চেয়েছে তার সামনে টাকা উড়ে উড়ে পড়বে! সে আর না করতে পারে না।কেড়ে নেয় বন্ধুস্ত্রী ক্ষণাকে।কিন্তু প্রীতি সহজ মেয়ে নয়,সেও টাকার লোভ দেখিয়ে খেলা খেলল উপলের সাথে।অসহায়,বেচারা, গরীব উপল কি করে বাঁচবে এই বড়লোকিদের খেলায়?তাকে যে খেলায় গুটি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে!সে কি আবার আগের জীবন ফিরে পাবে?নাকি বিপক্ষ দলের গুটি তাকে কেটে দেবে নির্মমভাবে?
জানতে হলে আপনাকে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এই অসাধারণ বইটি পড়তে হবে আপনাকে।
Profile Image for Shibnath Das.
90 reviews
September 26, 2023
অবিশ্বাস্য বই!
এতো বলিষ্ঠ লেখনী অনেকদিন পড়া হয়নি। রবীন্দ্রনাথের গোরা পড়তে শুরু করেছিলাম সেদিন। আগ্রহ পেলাম না, বুঝতে পারলাম মাথার উপর দিয়ে অনেকটাই বেরিয়ে যাচ্ছে। তারপর শুরু করলাম হুমায়ুন আহমেদের হিমু সমগ্র। শুরুটা চমৎকার। কিন্তু আট দশ পাতা পড়েই বই তুলে রাখলাম। নিত্যান্ত কাকতালীয়ভাবে হাতে এলো এই বইটি। পড়ে দেখলাম, উপল হিমুর গুরুস্থানীয় লোক।
গোগ্রাসে গিলতে হলো বইটিকে, রাত কাবার করে পড়েছি। কিন্তু দুটো সমালোচনা না করেই পারছি না। প্রকৃতির সঙ্গে এতটা একাত্ম হবার পরও এতো আবেগ আসে কোত্থেকে তা বোঝা গেল না। এরকম গল্প কমেডি বা ট্যাজেডি কোন একটি নিয়ে শেষ হবে এমনটি আশা করি নি। প্রচলিত গল্পের একেবারে বাইরে, বেখাপ্পা, অথচ শেষ পর্যন্ত নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার বেয়াড়া প্রচেষ্টা দেখে "বেচারা" মনে না হয়ে বরং বেওকুফি বলে মনে হয়েছে। যেরকম করে গল্পটি শুরু হয়েছে, সেইমতো যদি গল্পটি শেষ হতো তাহলে ঢের ভালো লাগতো। কিন্তু এই বোধহয় উপন্যাসের রস। এটি উপন্যাস না হয়ে বরঞ্চ একটি ছোটগল্প হলেই মানাত বেশি।
অনেক পাতা বুকমার্ক করে রেখেছি। অনেক কথা সোজা অন্তর বিদীর্ণ করে এক গোপন কক্ষে আঘাত করেছে। আর কিছু জায়গায় এমন কৌতুক রয়েছে যে হাসির চোটে চেয়ার থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিলাম। বহুদিন এরকম গল্প পড়িনি। শেষটা ঠিক পছন্দসই হয়নি। কিন্তু অনেকের বোধহয় ভালো লাগবে, সবার মতামত এক নয়।
Profile Image for Towkir Ahmmed Rigan.
109 reviews18 followers
May 6, 2016
বইটা আমাকে হাসিয়েছে আবার শেষে এসে মনটাও কিছুটা খারাপ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ভালোই লেগেছে।
Displaying 1 - 30 of 31 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.