Jump to ratings and reviews
Rate this book

আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু

Rate this book
‘আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু’র কাহিনী গভীর ব্যঞ্জনাসমৃদ্ধ এক মানবিক অভিজ্ঞতার টীকা-ভাষ্য। এর প্রধান চরিত্র নৈতিক অবক্ষয়ের স্রোতে যোগ দিতে অপরাগ একজন সরকারি কর্মকর্তা। ঘরে-বাইরে সর্বত্র তিনি সংকটাপন্ন—একদিকে ক্ষয়িষ্ণু সমাজে টিকে থাকার সমস্যা, অন্যদিকে পারিবারিক জীবনের নিরন্তর টানাপোড়েন। এই প্রতিকৃতিতে যুক্ত হয়েছে চরিত্রটির স্ত্রী, কন্যা, সহকর্মী, ঘুষদাতা ব্যবসায়ী ও পুরোনো বান্ধবীর সঙ্গে নিরুপায় মিথস্ক্রিয়া। সংক্ষেপে অথচ গভীর পূর্ণতায় একজন মানুষের জীবনচিত্র অবধারণের এমন উদাহরণ খুব বেশি দৃষ্টিগোচর হয় না।

64 pages, Hardcover

First published February 1, 2009

12 people are currently reading
328 people want to read

About the author

Shahidul Jahir

18 books174 followers
Shahidul Jahir (also spelled Zahir) was a Bangladeshi novelist and short story writer. He was reputed for extraordinary prose style and diciton and considered a genuine founder of post-modern fiction in Bangla literature.

Born in Dhaka, Bangladesh in 1953 as Shahidul Huq, he joined the Bangladesh Civil Service in the Administrative cadre in 1981. In 2008, he was appointed as a Secretary in Charge of Ministry of CHT affairs to the Government of Bangladesh. A confirmed bachelor, he lived a quiet and a very simple life. Hardly he agreed for a formal interview for publication.

Shahidul Jahir was one of the most important contemporary writers in Bangladesh. He became interested in magic realism after reading Marquez's works. He was known to some people as the Márquez of Bangladesh, carrying on the legacy of magic-realism with strokes of his own unique surrealist style, deeply imbibing the politics, history and culture of Bangladesh, his own country home in Sirajganj and his place of birth. However, his style also reminds of Syed Waliullah, a modern Bangla fiction author of Western lineage. But he had his own style of labyrinthine narration that would lead his readers to a maze. He relied more on narration than dialogue between characters. His diction was symbolic and mystified. He resorted to colloquialism in order to infuse reality into the context and story-line. The name of his last published story was, "Miracle of Life". Here is an excerpt (translated from Bangla) from his swan song:

"An adolescent girl, or a young girl, or who is just a gal...whatever, what do we do with her? She can have a name, since she is a human being, and human beings do have names, so her name could be Pari, Banu, or Ayesha... ...If she stands at the edge of the dirty drains, standing inside her home, as broke as the ragged nest of a magpie (babui), her mother runs around...her mother goes around cooking for others, she cooks rice, she cooks curries,she makes chapatis, there are people who swallow them, or maybe they rebuke her, What the hell have you cooked,woman!... ...Perhaps at that moment, Pari or Pari Banu, is standing at the rail ways of Dayaganj or Shamibag, holding the hands of her little sister or brother, and their father runs around, he too goes to places, maybe he does things, pulls someone else's rickshaw, pushes someone else's cart, or maybe he does nothing, he just lies down on his bed and suffers from piles. Then, what do we do with this Pari? The leader, or the official of this republic, the officers, or the civil society - none of them know...We have no idea what to do with her..."


In his writing career spreading over more than two decades, Jahir published only three novels and three collections of short stories. Two collections of his selected novels and short stories were published in 2007.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
158 (28%)
4 stars
283 (50%)
3 stars
101 (17%)
2 stars
20 (3%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 114 reviews
Profile Image for তানজীম রহমান.
Author 34 books760 followers
January 10, 2020
প্রাচীন গ্রিকরা ট্র্যাজেডি লিখতো শুধু রাজাদের নিয়ে, বা যোদ্ধাদের নিয়ে, বা কিংবদন্তীর নায়কদের নিয়ে। কারণ মনে করা হতো এ ধরনের মানুষের জীবন ‘গুরুত্বপূর্ণ’, তারাই সমাজের সামনে উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবার যোগ্যতা রাখে।
যে লেখক-লেখিকাদের ‘মডার্ন’ বলা হয়, যারা মডার্নিজম ঘরানায় লিখতেন (যেমন জেম্স জয়েস, ভার্জিনিয়া উলফ) তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো সাধারণ মানুষকে নিয়ে ট্র্যাজেডি লেখা। তারা দেখাতে চেয়েছিলেন যে আধুনিক মানুষের যে জীবন, সেটাও ট্র্যাজেডির বিষয়বস্তু হতে পারে, তাদের জীবনেও গভীর অর্থ থাকে, যন্ত্রণা থাকে, তারাও রাজাদের চেয়ে কোনো অংশে ‘মানুষ’ হিসেবে কম নয়।
আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু তেমন এক ট্র্যাজেডি। খুবই সাধারণ একজন সরকারী চাকুরের গল্প। কিন্তু তার জীবনেও অপ্রাপ্য আছে অনেককিছু, আছে অনেক আফসোস, বিভ্রান্তি, গভীর অনুভূতি।
ট্র্যাজেডি’র একটা নিয়ম হচ্ছে যে প্রধান চরিত্রের একটা বিশাল ত্রুটি থাকবে, একটা Fatal Flaw, যে ত্রুটি তার জীবনে প্রতি পদে বাধা সৃষ্টি করবে, তাকে ধীরে ধীরে ঠেলে দেবে ধ্বংসের দিকে। আবু ইব্রাহীমের ক্ষেত্রে সেই ত্রুটি হচ্ছে বিশ্বাস আর কর্মের টানাপোড়েন। নিয়তির সামনে সে অসহায় বোধ করে। যা ভাবে, যেমন হতে চায়, তা করতে পারে না, তেমন হতে পারে না। যৌবনে কমিউনিজমে বিশ্বাসী ছিলো, বিপ্লবে বিশ্বাসী ছিলো, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক আবু ইব্রাহীম হচ্ছে আগাগোড়া বুর্জোয়া। সে পরকীয়া করতে চায়, যৌবনের বান্ধবীর সাথে নিভৃতে দেখা করার পরিকল্পনা করে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যায়। ঘুষ খেতে চায়, কিন্তু এবারও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যায়, যা ডেকে আনে তার ধ্বংস।
গ্রিক ট্র্যাজেডি’র ব্যাপারটা যে শুধু আমারই চোখে পড়েছে এমন নয়, বা খুব কষ্ট করে অর্থটা বের করতে হয়েছে এমনও নয়। বইয়ে বেশ কয়েকবার সরাসরি আবু ইব্রাহীমের সাথে গ্রিক ট্র্যাজেডি’র নায়কদের তুলনা করা হয়েছে। জহির লেখক হিসেবে মাস্টারক্লাসের, তার লেখার যে স্টাইল তা তুলনাহীন। এবং তিনি যা লিখেছেন, তা কোনো অংশে প্রাচীন গ্রিকদের থেকে কম নয়। এ ধরনের লেখাকেই ইংরেজিতে বলে Instant Classic.
Profile Image for জাহিদ হোসেন.
Author 20 books477 followers
February 24, 2017
এটা রিভিউ না, এটা প্রশস্তি।

আমি শহীদুল জহিরের অন্ধ ভক্ত। শহীদুল জহির যাই লেখেন, তাই আমার কাছে পাঁচ তারকা মার্কা লেখা হয়ে যায়। জহিরের ন্যারেটিভ হিপনোটিক, জাদুকরী, নেশাধরানো, মোহময়। জহিরের লেখা পড়লে মনে হয় যেন পিঙ্ক ফ্লয়েডের গান শুনছি। নেশা ধরে যায়। সেইসাথে আফসোস জাগে মনে-কেন দীর্ঘায়ু হলেন না জহির? কেন? দুনিয়ায় কত অগা-মগা-বগা আশি-নব্বই বছর বেঁচে থাকে। কিন্তু শহীদুল জহিরের মত ক্ষণজন্মা প্রতিভারা কেন মাত্র চুয়ান্ন বছর বয়সেই ঝরে যাবেন।

কোন উত্তর খুঁজে পাই না।
Profile Image for Arupratan.
236 reviews386 followers
April 13, 2023
গদ্যশৈলীর মৌলিকতা, কাহিনির ভিতরে সম্পৃক্ত দ্বন্দ্ব, চরিত্র নির্মাণ, পাঠকালীন উপলব্ধি— সব দিক দিয়ে বিচার করে আমার মনে হয়েছে, এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি সম্পদ। এই উপন্যাসটির সঙ্গে লেখকের অন্যান্য জনপ্রিয় উপন্যাসের তুলনা এবং রেটিং-রেটিং খেলায় মত্ত হবো না আমি ; শুধু নিজের ভালোলাগার কারণগুলো খুব সংক্ষেপে লিখে রাখার চেষ্টা করবো এখানে।

উপন্যাসটির একটা মুখ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর নির্লিপ্ততা। আমার কাছে আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম প্রকৃষ্ট লক্ষণ এটা। পাঠকের মতো লেখকও নিজেকে উপন্যাসের চরিত্রদের থেকে আলাদা করে রেখেছেন। নিজের মতামত/দর্শন আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেননি। তিনি স্রষ্টা হয়েও তাঁর হাবভাব স্রষ্টার মতো নয়, পাঠকের মতোই তিনি একজন দর্শক মাত্র। সেই কারণেই, আবু ইব্রাহিম যে মারা যেতে চলেছেন, এই স্পয়লারটা তিনি উপন্যাসের সর্বপ্রথম লাইনেই আমাদের জানিয়ে দিতে কার্পণ্য করেননি। মুখ্য চরিত্রের অন্তিম পরিণতির ব্যাপারটা কাহিনির শুরুতেই বিবৃত করে দেওয়ার পরে, একটি নাতিদীর্ঘ এবং নির্লিপ্ত গল্পকথনের সূচনা করেন লেখক। প্রশ্ন হলো, ক্যানো মারা গেছিলেন আবু ইব্রাহিম?

আবু ইব্রাহিমের জীবনটা আমাদের নিজেদের জীবনের মতোই। তার মতো আমরাও "শর্টকাট" পদ্ধতিতে নিজেদের চারিত্রিক ভীরুতাকে জয় করতে চাই (এবং শেষ পর্যন্ত আরো বেশি ভীরু হয়ে যাই)। তার মতোই আমরা ঘুষ খাবো কি খাবোনা ভেবে রাতের ঘুম নষ্ট করি। খুব ইচ্ছে থাকলেও, স্রেফ সাহসের অভাবে আমরা অসৎ (কিংবা লম্পট) হতে পারিনা। সততার ফালতু মুখোশটা নিজেদের মুখের উপর লেপ্টে রেখে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াই। তার মতোই নিজেদের বউয়ের ব্যাপারে "পৃথুলা", "স্থূলকায়া", এইসব শব্দ চিন্তা করি, কিন্তু রাত্রিবেলায় বিছানায় বসে উপলব্ধি করি, এই মেদবহুল দেহটা থেকেই আনন্দ সংগ্রহ করে নিতে হবে, আপাতত হাতের কাছে দ্বিতীয় কোনো অপশন নেই।

যখন "অপশন" এসে হাজির হয়? প্রাক্তন প্রেমিকা কিংবা অফিসের সহকর্মী। চান্স পেলে তখন সেই বিকল্প দেহটাকে আমরা উপভোগ করতে সচেষ্ট হই। ভুল বললাম। আমরা তো ভীরু এবং কাপুরুষ। সচেষ্ট হওয়ার বিষয়টা কেবল মনে মনেই কল্পনা করি। তাকে ডাকবো। বন্ধুর ফাঁকা ফ্ল্যাটে। দুপুরবেলা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি সেই নতুন দেহটাকে কব্জা করতে পারি আমরা? আবু ইব্রাহিম পেরেছিলেন তার "অপশন"কে কব্জা করতে?

জীবনের এইসব হাজাররকম "সম্ভাবনা"কে মগজের মাংসের খাঁজে প্রতিনিয়ত বহন করে চলি আমরা। সফল হওয়ার সম্ভাবনা। দৈহিক সুখলাভের সম্ভাবনা। শহরে নিজস্ব একটি বাড়ির মালিক হওয়ার সম্ভাবনা। পোষা কুকুরের মতো আজীবন পায়ের কাছে লুটোপুটি খাওয়া নিজেদের কাপুরুষতাকে, ভীরুতাকে, জয় করার সম্ভাবনা। বিভ্রান্তিতে ভরা বালের এই বোকাচোখা জীবনটার তেলতেলে ঘৃণ্য খোলস ত্যাগ করে ঝাঁ-চকচকে স্মার্ট জামাকাপড় পিন্দনের সম্ভাবনা। আবু ইব্রাহিম তো আসলে আমরাই। আবু ইব্রাহিমও সম্ভাবনার সুইমিংপুলের সাইডে দাঁড়িয়ে ভেবেছিলেন, জলের মধ্যে লাফ মারবো কি মারবো না? আবু ইব্রাহিম মারা গেছিলেন। তবে জলে ডুবে নয়।

শহীদুল জহিরের এই উপন্যাসটি তিনি বেঁচে থাকতে বই আকারে প্রকাশ করা হয়নি, যদিও পত্রিকাতে ছাপা হয়েছিল অনেক আগেই। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন সরকারি উচ্চপদস্থ আমলা। এই উপন্যাসটিতে বেশ খোলামেলাভাবে তিনি আমলাতন্ত্রের ভন্ডামি, দুর্নীতি এবং দ্বিচারিতাকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটি পড়লে আন্দাজ করা যায়, তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার কিছু বাস্তব উপাদান তিনি মিশিয়ে দিয়েছেন কাহিনিতে। এই কারণেই তাঁর জীবিতাবস্থায় বইটি ছাপা হয়নি। কাক যেমন কাকের মাংস খায়না, তেমনি নিজে আমলা হয়ে সহকর্মী-আমলাদের মাংস খাওয়া যায়না।

যাই হোক, আবু ইব্রাহিম ইজ আপাতত ডেড।

কিন্তু তবুও, লং লিভ আবু ইব্রাহিম। এই কথা তো বলাই বাহুল্য।
Profile Image for সন্ধ্যাশশী বন্ধু .
370 reviews12 followers
May 9, 2023
অনেক আগে "ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প" নামে একটা বই কিনছিলাম। তখন ও আমি " শহীদুল জহির " নামের কাউকে চিনি না। পকেটে কড়ি থাকলে,বই কেনা আমার বহু দিনের স্বভাব। সেই স্বাভাবের বশেই নিয়ে ছিলাম। বাসায় এনে কয়েক পাতা পড়ে,মাথা ম��ন্ডু কিচ্ছু না বোঝার কারণে রেখে দিয়েছিলাম,সেই রাখাতেই এখনো আছে।

কয়েক দিন আগে সবার রিভিউ দেখে,একটা বই পড়তে মন চাইলো। কিনলাম। পড়লাম। বইয়ের নাম "আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু "। ৬৪ পৃষ্ঠার ক্ষীণ তনুর একটা বই।

গল্পটা আমার সাধারণ ই মনে হলো। গল্পে নতুন কিছু পাই নি। তাও বইটা আমার ভালো লেগেছে। তার কারণ শহীদুল জহিরের লেখার ধরন আর অভিনব উপায়ে গল্প বলার কৌশল। এই গল্প একটানা পড়ে যাওয়া এক মাত্র কারণ জহিরের গল্প বলার মুনশিয়ানা। কম দিন তো হলো না বইয়ের ধার ঘেষে আছি,এভাবে গল্প বলা আর কারো কাছে পাই নি। দারুণ। আরেকটা জিনিস আমাকে অবাক করেছে সেটা হচ্ছে " ইউক্যালিপটাস গাছের" মতো লম্বা বাক্য।

এটা আমার প্রথম শহীদুল জহির পড়া। আমি মুগ্ধ। বাকিগুলো ও পড়ব,যতটুকু পারি। খুব শীঘ্রই "ডলু নদীর হাওয়া " খুঁজে বের করতে হবে...
Profile Image for Camelia kongkon.
29 reviews11 followers
May 5, 2022
"মানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু তার তাৎপর্য হবে থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী বা বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হালকা"

____এমন একটা কোট দিয়েই এই বইয়ের শুরু।
এই গল্প আবু ইব্রাহীম নামক এক গোবেচারা ধাঁচের লোকের। নিতান্তই এমন একজন সাধারণ মানুষ যার হুট করে মৃত্যু ঘটলে আমাদের তেমন দুঃখ হবেনা। একটু ভাবুন, এমন গোবেচারা মানুষ তো রোজই মরে যায়। আমরা তাদের দেখিনা। তাদের মৃত্যুগুলো ওইযে হাঁসের পালকের চেয়েও হালকা,তাই আমাদের মনে তেমন দাগ কাটেনা।
শহীদুল জহির খুব সহজে বর্ননা করেছেন একটা সাদামাটা মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবী লোকের জীবনি। গল্প বলার ধরণটা সবচে সুন্দর ছিলো। যেখানে আমার মনে হচ্ছিলো লেখক পাঠকবৃন্দদের জোর করে বসিয়ে রাখেন নি। তার গল্প বলার ধরণ এমন ছিলো "আপনি শুনতে চাইলে বসুন,না চাইলে যেতে পারেন"।
কিছু কিছু বই শেষে ব্যক্তিগতভাবে আমার পরদিনের সকাল নতুন করে দেখতে ইচ্ছে হয়। এই বইটাও সেরকমই গভীর জীবনবোধ থেকে শেষ করা। নাটকীয় কোনো বলে আবু ইব্রাহীমকে কিন্তু সুপারহিরো বানিয়ে দেওয়া যেতো। কিন্তু লেখক তা করেননি। প্রশান্তির বদলে দিলেন হাঁসের পালকের মত সহজ ও হালকা মৃত্যু।
Profile Image for শাহ্‌ পরাণ.
261 reviews75 followers
July 23, 2022
৪.৫/৫

শহীদুল জহিরের পড়া দ্বিতীয় বই। অদ্ভুত ঘোর লাগা লেখার ধরন উনার। মনে হয় যেনো Darren Aronofsky এর মুভি দেখছি। Darren Aronofsky যেমন একটা চরিত্রের মাঝে দর্শকদের ডুবিয়ে ফেলে শহীদুল জহিরও যেনো তাই করে।
একজন অতি সাধারণ ব্যর্থ মানুষের গল্প এটি। একজন মানুষের সৎ বা অসৎ হওয়ার যে দ্বান্দ্বিকতা, ভালো বা খারাপ হওয়ার যে দ্বান্দ্বিকতা, লোভ আর নৈতিকতার যে দ্বান্দ্বিকতা লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন আবু ইব্রাহীমের চরিত্রে, তার কিছুটা আমার আপনার সবার মাঝেই আছে। কারো কম কারোবা বেশি।
জীবনে সৎ হলে আর্থিক কষ্টে থাকা হয় কিন্তু সেখানে মানসিক প্রশান্তি থাকে; অন্যদিকে জীবনে অসৎ হলে আর্থিক কষ্ট না থাকলেও মানসিক কষ্টের তীব্রতা কম হয় না। কিন্তু জীবনে সৎ আর অসৎ এর মাঝামাঝি কোনো কিছু নেই। সৎ এবং অসৎ এর মাঝামাঝি খেলতে গেলে সে খেলায় পরাজয় ছাড়া আর কিছুই থাকে না। হেরে যেতে হয়, জীবনের কাছে, নিজের কাছে, পৃথিবীর কাছে, স্ত্রীর কাছে, সন্তানের কাছে এবং নিজের কবরের কাছেও।

উপন্যাসের শুরুটা অসম্ভব ভালো ছিলো।

মানুষের মৃত্যু অবশ্যই হয়,
কিন্তু মৃত্যুর তাৎপর্য ভিন্ন।
প্রাচীন চীনে
সিমা ছিয়েন নামক একজন সাহিত্যিক
বলেছিলেন
মানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু তার তাৎপর্য
হবে থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী বা বেলে হাঁসের
পালকের চেয়েও হাল্কা।”


শেষের কিছু লাইনও খুব সুন্দর হয়েছে।

কবরস্থানের কবরের কথা আমরা এভাবে ভুলে যাই; সেখানে নির্মেঘ আকাশে চাঁদ হেসে উঠে, ছুচার চিৎকারে বাতাস মুখরিত হয়, সারারাত ধরে পাখা ঝাঁপটাতে ঝাঁপটাতে পেঁচা উড়ে।
Profile Image for Adham Alif.
335 reviews80 followers
January 20, 2024
ছোটবেলায় আর সবার মতোই আমাকেও ভালোমানুষ হবার দীক্ষা দেয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে খারাপ মানুষ হওয়াটা সহজ কিন্তু ভালো হওয়াটা বেশ কঠিন। আমি যতো বড় হয়েছি এই উক্তির অসারতা ততো আমার চোখে পড়েছে। আমি জেনেছি পুরোপুরি খারাপ হয়ে বেচে থাকাও ভীষণ কঠিন কাজ। নিজের আত্মগ্লানির ক্রমাগত দংশনের পাশাপাশি সমাজের ক্রুর দৃষ্টিতে বিদ্ধ হবার যন্ত্রণা তীব্র। তবে সহজ পথ কোনটা? আমার চোখে সহজ মনে হয়েছে ভালো-খারাপের সংমিশ্রণে বেচে থাকা। খারাপ ব্যাপারগুলো সমাজের চোখ থেকে লুকিয়ে ভালোমানুষির মুখোশ পড়ে নেয়া। আবু ইব্রাহীম সেই পথের পথিক। তাকে আমরা মোটাদাগে ভালো কিংবা খারাপ বলতে পারিনা। তাই সে হিরো নাকি ভিলেন এই নিয়ে চাইলে বিতর্ক করাই যায়। কিন্তু সমস্ত বিতর্কের উপরে উঠে এটা তো স্পষ্ট যে আবু ইব্রাহীম আমাদেরই প্রতিবিম্ব। যার সামনে সততার পথ থেকে বিচ্যুত হবার সুযোগ আসলে দ্বিধায় পড়ে যায়। একদিকে সাহসের অভাব, আত্মদংশনের পীড়া এবং অন্যদিকে একটু আনন্দময় জীবনের হাতছানি উকি দিচ্ছে।
বারবার অবাক হতে হয় এই ভেবে যে শহীদুল জহির এই অল্প কয়েক পাতায় কীভাবে এতোকিছু তুলে আনলেন। কীভাবে পারলেন তিনি?
Profile Image for Saiful Sourav.
103 reviews72 followers
January 22, 2023
এই উপন্যাসের গল্পে যে আবু ইব্রাহীম, তিনি কি লেখক স্বয়ং? শহীদুল জহিরের ব্যক্তিজীবনের ছাপ গল্পে স্পষ্ট যদিও তিনি বাস্তবে বিবাহিত-সংসারী মানুষ ছিলেন না তবে উপন্যাসে আবু ইব্রাহীমকে দেখা যায় লেখকের মত একজন সরকারি চাকুরীজীবী লোক। উপন্যাসটি মূলত একজন আবু ইব্রাহীমের বাস্তবিক নৈতিক দ্বিধা ও মৃত্যুর গল্প । শহরে একটা ফ্ল্যাট কিনতে গ্রামের বাড়ি থেকে কিছু টাকা যোগাড় করেন যা প্রয়োজনের তুলনায় যৎসামান্য । সংসার বলতে আবু ইব্রাহীমের স্ত্রী আর এক স্কুল পড়ুয়া মেয়ে । জাগতিক ভাবনা ও দোটানার মুখে সরকারী অফিসে ঘুষের ছড়াছড়ির পরিবেশে একটা টেন্ডার সাইন করতে গিয়ে কিছু টাকা ঘুষ নিয়ে নেন । তারপরই মনের খচখচে দ্বিধান্বিত হয়ে আবার ফেরত দিতে গিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন । যে লোকের কাছ থেকে টাকাটা নেন, ফেরত দিলে বাড়ি ফেরার পথে জি.পি.ও অফিসের সামনে সেই লোকেরই ছুরিকাঘাতে মৃত্যুবরণ করেন ।

এটি শহীদুল জহিরের শেষ উপন্যাস । ভাষা শৈলীতে শহীদুল জহিরের নিজস্ব ভাষা ভংগিমা বা অন্য রচনার মত নয় কিংবা কিছুটা সরল হলেও ঘটনার পটভূমিতে নতুন । জীবীকাস্থলের অন্তঃসারশূন্যতা, সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিকতাকে পটভূমির সাথে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এই নির্জন লেখক। পড়ে মনে হয় ব্যক্তি জহির গল্পের আবু ইব্রাহীমকে মেরে ফেলার মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের দ্বিধাকে উতরে গিয়েছিলেন।
Profile Image for Subrata Das.
165 reviews19 followers
June 17, 2023
বইটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু নিয়ে আবর্তিত হয়েছে।
পালকের চেয়ে হাল্কা , আবার পাহাড়ের চেয়েও ভারী মৃত্যু।

কিন্তু আমার মনে হল, লেখক এখানে একজন সাধারন মানুষের জীবনেও যে কত অসাধারণত্ব তাই বোঝাতে চেয়েছেন।
সংসারের যাতাকালে বিদ্বস্ত হয়ে হয়ে আমরা সফল হচ্ছি, আবার প্রতিটা সফলতা আমাদের অতীতের সত্তাকে ভেঙ্গেচুড়ে সিচ্ছে।
এই ভাঙ্গাগড়া নিয়ে চলতে চলতে অকস্মাত একদিন মৃত্যু এসে হানা দেয়। পরীক্ষার শেষ ঘন্টাধ্বনির মতো, খাতা সমর্পনের মতো প্রাণটা ত্যাগ করে জীবন নামের পরীক্ষার হল থেকে বিদায় নিতে হয়।

পুরো উপন্যাসটা জুড়ে একটা ঘোর লাগা মাদকতা আছে। বেশ উপভোগ করেছি এই ঘোর।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 28 books404 followers
January 5, 2024
...তার মনে হয় যে, হেলেনের সে প্রেমিক ছিল না, পূজারী ছিল এবং হেলেন দেবীদের মতোই পূজারীকে অবহেলা করতে শিখেছিল।

বছরের প্রথমটা শুরু হল, দারুণ বিষণ্নতায় মাখা এক গল্প আর জাদুকরী, ঠিক নেশা ধরানো এক লেখনশৈলীর মধ্যে দিয়ে।
বলে রাখা ভালো, বেশ কয়েক বছর আগে আমি শহীদুল জহির পড়া আরম্ভ করেছিলাম। কিন্তু সেসময় লেখার আগামাথা বোঝা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। রণে ভঙ্গ দিই। কয়েকদিন আগে তার ছোটগল্পগুলো পড়ে অসম্ভব এক আকর্ষণ বোধ করি। এরপর বছরটা শুরু করলাম আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু দিয়ে। আবু ইব্রাহীম নামের ওকে সরকারী কর্মকর্তার মৃত্যু দিয়েই গল্পের শুরু। এরপর ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়ে লেখকের জবানীতে ফুটে উঠতে থাকে ইব্রাহীমের জীবনের বিশেষ কিন্তু সাধারণ ঘটনাগুলো। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যর্থ প্রেম, বাচ্চাদের সাথে খুনসুটি, স্ত্রীর প্রতি মমতা, মনমালিন্য, রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও নিজের সাথে টানাপোড়ন।
ঘটনাগুলো খুবই সাধারণ, কিন্তু অসাধারণ হয়ে উঠেছে শহীদুল জহিরের লেখনশৈলীর কারণে। এই লেখকের বাক্য গঠন, মেটাফোরের ব্যবহার, সংশয় ও গল্প বলার ধরন একেবারে ভিন্নগ্রহের। পড়লে মনে হয়, নিজেই গল্পটার অংশ। ‘সামনেই আমরা দেখতে পাবো’ বা ‘আমরা দেখেছি’ এভাবে ঘটনার বর্ণনা পড়ে মনে হয় আমিও এই ঘটনার প্রত্যক্ষ করছি। যেন ঘটনার দায়ভার শুধু লেখকের নয়, পাঠকদেরও। আর গল্পে লেখক নিশ্চিত হয়ে কিছু ব্যাখ্যা করছেন না, প্রায়ই ভেসে উঠছে যদি/কিন্তু/সম্ভবত। এই সংশয়ের দোলাচলে রাখার বিষয়টাও অন্য ধরণের।
শহীদুল জহিরের লেখা একবার মনযোগ দিয়ে পড়লে তার প্রেমে পড়তে বাধ্য।
অবশেষে একটা প্রশ্ন, আবু ইব্রাহীমের ভেতরে জহির কি পরোক্ষভাবে নিজের জীবনের ছবিটাই আঁকতে চেয়েছিলেন?
Profile Image for Ahmed Aziz.
386 reviews68 followers
January 27, 2024
জীবনটা একটা জুয়া খেলা। মাঝেমধ্যে ঝোঁকে পড়ে বড় বাজি ধরে ফেললে আর শুধরানো যায় না। ছোট ছোট পাওয়া আর না পাওয়ায় ভরা এই জীবন হঠাৎই থেমে যায় এই মরণপন জুয়ার খেলায়। দুর্দান্ত নেশাময় এক উপন্যাসিকা।
Profile Image for Zabir Rafy.
312 reviews10 followers
November 17, 2024
মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দের একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সততা। সততা ঘিয়ের মতো উসকে দিতে পারে মনস্তাত্ত্বিক যজ্ঞের আগুনকে। আরও যেই উপাদানগুলো ঘিয়ের মতো উসকে দিতে পারে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দকে তার মধ্যে উল্লেখ করতেই হবে আক্ষেপ, হতাশা, সীমিত সাধ্য, হাতের কাছে থাকা অপ্রতুল সম্পদ।

আবু ইব্রাহীমকে শেষ পর্যন্ত মরতেই হলো; এই বাক্যটায় স্পয়লার দেইনি। বইয়ের নামটাই এই এবং আবু ইব্রাহীম যে মরবেন সেটা আমাদেরকে লেখক জানিয়েছেন বইয়ের শুরুতেই।

এরপরও বইটা পড়তে হবে আবু ইব্রাহীমের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দের নির্ভেজাল চিত্রণের জন্য। সরকারি আপিসের কাণ্ডকারখানা বোল্ডলি তুলে এনেছেন বলেই হয়তো বইটি তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি। যদ্দুর জানি শহীদুল জহির নিজে ছিলেন সরকারি আমলা। কাজেই কর্মস্থলের গোপনীয়তা বজায় রাখতে বাধ্য ছিলেন তিনি।

এই নভেলার মাধ্যমে শহীদুল জহির আসলে দেখাতে চাইলেন আমাদের প্রত্যেকের হ্রদয়ে একজন করে আবু ইব্রাহিম বসবাস করেন। সরকারি অফিসের অলমোস্ট সব কর্মকর্তা কর্মচারী জীবনের কোনো এক সময়ে এই অস্থির দোলাচলে পড়েছেন অবশ্যই।

শেক্সপিয়রের নাটকে আমরা দেখতে পাই কনফিউশনে উঙ্গা বুঙ্গা হয়ে প্রিন্স হ্যামলেট নিজেকেই প্রশ্ন করে To be or not be; that is the question❓ মানবজীবনের এই অনিবার্য সংঘাত শহীদুল জহির তুলে আনলেন আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুকথায়।

আমাদের মোরাল কনশাসের দাড়িপাল্লার কাঁটাটা সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচলে ভুগে একদিকে হেলে পড়ে। এহেন মন-মস্তিষ্কের দ্বন্দযুদ্ধে জয়ী হয় অভাব, সাধ-আহ্লাদের পাল্লা যেদিকে ভারী থাকে, দাড়িপাল্লার কাঁটা সেইদিকে পক্ষপাত করে। আবু ইব্রাহীম শেষ পর্যন্ত মরলেন মোরাল কনশাসের দাড়িপাল্লার কাঁটায় বিদ্ধ হয়ে।

উপরের প্যারার প্রথম লাইনটা যদি জুলাই বিপ্লবের স্লোগানের মতো করে লিখি তাহলে এরকম হবে:

তুমি কে আমি কে
আবু ইব্রাহীম, আবু ইব্রাহীম
Profile Image for Moumita Hride.
108 reviews64 followers
March 15, 2020
কিছু কিছু গল্প পড়ার পর জীবনবোধের জন্ম নেয়। তখন কিছুক্ষন ভাবতে বসতে হয় এই নশ্বর জীবন নিয়ে৷ আচ্ছা, একটা মানুষের কি একদিন হটাৎ মরে যায়? আমার মনে হয় না, আমার মতে, মানুষ যতদিন বেচে থাকে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে যায়৷ যখন সে তার কাংখিত বস্তু পায় না তখন সে একটু মরে, যখন সে একজন সঠিক মানুষে পরিণত হতে পারে না তখন সে মরে, যখন সে একটি খারাপ কাজ করে তখন সে একটু মরে। এভাবে হাজারো ঘটনার মাঝে তার আত্মার মৃত্যু হয় আর একদিন কোন এক স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক ঘটনায় সে পুরোটা মরে যায়। "আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু" তেমনি একটি মানুষের গল্প যে প্রতিদিন একটু একটু মরতে মরতে একদিন মরে যায়। হয়তো তার মৃত্যু অনেক তুচ্ছ হয়তো অনেক অপ্রত্যাশিত। কিন্তু সে পরাজিত হয়ে মরে না। নিজের কাছে পরিষ্কার থাকে শেষ পর্যন্ত। নিজের লোভ লালসার উর্ধে উঠে এবং তার পরিণতিতে তার মৃত্যু হয়।

শহীদুল জহিরের বইটা পড়ে অনেকটা হুমায়ুন আজাদের লেখার কথা মনে পড়ে। লেখা বেশ অকপট, সাবলীল। কিন্তু জীবনকে গভীর ভাবে উপলব্ধি করে তার সুক্ষ বিশ্লেষণ করে। এতে মানব সমাজের অসংগতি সাথে উঠে আসে মানুষের ভেতরকার রোজকার দ্বন্দ্ব।
Profile Image for Arifur Rahman Nayeem.
209 reviews107 followers
April 13, 2023
শহীদুল জহিরের শেষ দিয়েই আমার শুরু! অর্থাৎ লেখকের মৃত্যুপরবর্তী প্রকাশিত শেষ উপন্যাস ‘আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু’র মাধ্যমে তাঁর লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। নাতিদীর্ঘ এ উপন্যাসটি পড়ে বেশ ভালো লাগলেও এটিকে আমি জহিরের মোট চারটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রাখব। প্রকাশের কালক্রম অনুসারে যদি পড়তাম তাহলে নিশ্চিত ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’, ‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিল’, ‘মুখের দিকে দেখি’র সঙ্গে তুলনা করতাম। এবং তখন এটিকে আরও বেশি পিছিয়ে রাখতাম। আর রেটিং কি চার দিতাম? না বোধহয়। হ্যাঁ, তিন দিতাম। বা তিন দিয়ে বলতাম, ‘প্রকৃত রেটিং আড়াই।’ যাহোক, ‘আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু’ নিয়ে শহীদুল জহির নিজেও খুব সম্ভবত সন্তুষ্ট ছিলেন না। নইলে লিখে ১৮ বছর ফেলে রাখতেন না এবং কাছের মানুষদের কাছে এটি গ্রন্থাকা���ে প্রকাশের ব্যাপারে নিজের অনিচ্ছার কথা বলে যেতেন না।
Profile Image for পীয়্যান নবী.
52 reviews87 followers
February 24, 2017
একটা লোক, সরকারী চাকরি করে। আপাত সৎ, আপাত লোভী! এমন অনেক লোক আমরা চিনি, এই লোকটারেও আমরা বোধয় চিনি। এইরকম একটা লোক মরে গেলেও আমাদের মনে হয় যে, এইরকম ঘটনার সাথে আগেই আমাদের পরিচয় ছিল। আমরা এইরকম মৃত্যু দেখেছি, মাঝেমধ্যেই দেখি। এইরকম লোক, তার স্ত্রী, তার বড় মেয়ে আর ছোট ছেলে... এইসবই আমাদের খুব পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এবং সেই জীবনে কোন এক নারী সহপাঠীর প্রতি প্রেমের অনুভূতি জন্মানো... সবই আমাদের পরিচিত। এইসব নিয়ে আক্ষেপ করে মধ্যবয়সে উপনীত হবার ব্যাপারটাও আমাদের বেশ অনেক চেনাজানা। আমরা ক্রমাগত দেখি, একটা লোক বলে যায় তার ভালো লাগে না। আমাদের অনেকেরই এইসব খুব জানাশোনা মনে হয়, আবার আমাদের যাদের এতটা জানাশোনা মনে হয় না, তারাও হয়ত দিন কয়েকের মধ্যেই জেনে যাবে... বুঝে যাবে! কার কার কীস��� ভালো লাগে না, এবং কেন?
একটা খুব পরিচিত লোক, খুব স্বাভাবিকভাবেই মরে গেল... এইটাই আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু! এইটাই!
Profile Image for NaYeeM.
229 reviews66 followers
March 21, 2021
আর এই অসাধারণ লেখা নিয়ে বলার মত কোন শব্দ আমার ভাষাতে নেই.....
এই লেখক হলো লেখকদের লেখক...
উনার লেখা নিয়ে কিছু বলার মত আমি বেশ ক্ষুদ্র কেউ!

অনেকখানি কষ্ট আর অন্ধকারাচ্ছন্নের এক গল্প....
এক সরকারি চাকরিজীবীর কষ্টের গল্প, সাথে সূক্ষ্মভাবে জীবনকে দেখানো!
Profile Image for Enamul Reza.
Author 5 books177 followers
April 10, 2025
তার উপন্যাসগুলো এই এক সপ্তায় টানা পড়লাম। জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে সে রাতে পূর্ণিমা ছিল, মুখের দিকে দেখি থেকে আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু--এই শেষের নভেলাটি, বই হিসেবে তার মৃত্যুর পর বের হয়েছিল। এবং, পাঠান্তে বোঝা গেল কেন জীবদ্দশায় এটাকে বই হিসেবে তিনি প্রকাশ করতে চান নাই। বাকি কাজগুলো যদি বাংলাসাহিত্যে পর্বতপ্রমাণ হয়, শেষেরটি ঐ তুলনায় বড়জোড় একটা বহুতল ভবন। তবু ভালো, একে বিবেচনা করার নানান মাত্রা ও দিক আছে। এমন নয় যে, আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু জহিরের সৃষ্ট পৌরাণিক জগত থেকে বিচ্ছিন্ন কাজ বলে পর্বত হতে পারল না। মূলত, এ বইয়ের শেষটাকে দুর্বল মনে হলো আমার। হতেই পারে মুখের দিকে দেখির যে শহীদুল জহির, তখন তিনি নিজের প্রতিভার শিখরে দাঁড়িয়ে থাকা লেখক, ঐ অর্থে আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু আরও পনেরো বছর আগে রচিত আখ্যান, সম্ভবত নিজের প্রাথমিক ধারা থেকে বেরিয়ে যে কাহিনী তিনি লিখতে চেয়েছিলেন। শহীদুল জহিরকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম আমি, তার বাস্তবতা মার্কেসের জাদুবাস্তবতা না, ভিন্ন কিছু। বাংলার করুণ মাটিঘেঁষা এই বাস্তবতার নামকরণ আমরা এখনও করতে পারিনি।
Profile Image for HR Habibur Rahman.
284 reviews55 followers
November 30, 2023
উপন্যাসটির উৎসর্গপত্রে লেখা হয়েছে: "মানুষের মুত্যু অবশ্যই হয়, কিন্তু মৃত্যুর তাৎপর্য ভিন্ন। প্রচীন চীনে সিমা ছিয়েন নামক একজন সাহিত্যিক বলেছিলেন মানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু তার তাৎপর্য হবে থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী বা বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হালকা।"


শহীদুল জহিরের শেষ এবং আমার প্রথম। তার প্রকাশিত আর আমার পড়া। শহীদুল জহির সমন্ধে জানা ছিলোনা এতোদিন। ওয়ালীউল্লাহ সমন্ধে পড়তে গিয়ে কোথাও যেন দেখেছিলাম ওয়ালীউল্লাহর ধারা কেউ রক্ষা করলে সেটা রক্ষা করেছেন জহির। যদি তার নিজেরও কিছু সতন্ত্র স্টাইল আছে। সেই থেকেই পড়ার ইচ্ছা ছিলো তার বই। সময়-সুযোগ সমন্বয়ে আজকে পড়ার কাজটা সেরে ফেললাম।


কাহিনী সমন্ধে বেশি বলার কিছু নেই। একজন সরকারি কর্মচারি। তার পরিবার, তার অতীত আর তার মৃত্যু নিয়ে গল্প। গল্প শুরু হয় মৃত্যুর দিন থেকে। শেষও হয় মৃত্যুর দিন থেকে। কাহিনীর মূল চরিত্র আবু ইব্রাহীম প্রকৃতপক্ষে একজন অসুখি মানুষ। পেশায় যিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। ইব্রাহীমের সংকটাপন্ন জীবনে তার স্ত্রী, কন্যা, সহকর্মী, ঘুষদাতা ব্যবসায়ী ও পুরোনো বান্ধবীর সঙ্গে তার নিরুপায় মিথস্ক্রিয়ার চিত্র উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।


"আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু" পড়ে অন্তত এটুকু বোঝা গেলো যে তিনি আসলেই একটু হলেও ওয়ালীউল্লাহর ধারা রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন বা পেরেছেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আমার ফেবারিট রাইটারদের মধ্যে একজন। তার যেরকম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্ষমতা সেরকমটা অন্য কোনো সমসাময়িক লেখকরা করতে পেরেছেন বলে জানা নেই আমার। শহীদুল জহির অল্প হলেও  পেরেছেন। বইটির বা লেখকের একটা দিক (যদিও একটা বই পড়ে জাজ করা উচিৎ না)  হলো তিনি সংলাপের থেকে ন্যারেটিভের দিকে বেশি মনোযোগী। সংলাপ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে হ্যাঁ ন্যারেটিভে খুব বেশি গভীরে যাননি তিনি। ক্যারেক্টরদের মনের ভেতরের কথাও তেমন বলেননি। সাধারণত ন্যারেটিভ জাতীয় লেখাগুলোতে ইন্টারিওর মনোলগের যে বিষয়টা ঘটে সেদিকে লেখক যাননি। হয়তো বইটা বড় করলে সেদিকেও যেতেন। তবে প্রত্যেকটা প্যারার শুরুতে যেমন আগাম সংকেত ওয়ালীউল্লাহ দিতেন, সেই ধারা জহির সাহেব রক্ষা করেছেন অক্ষরে অক্ষরে।তার সাথে ঝরঝরা,  প্রাণবন্ত শব্দচয়ন পড়ার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। একজন সাধরণ মানুষের ট্রাজিক জীবন বর্ণনা করেছেন খুব সুন্দর ভাবে। অতীত-বর্তমানকে নিয়ে কিভাবে জীবন এগিয়ে চলে দেখিয়েছেন সেই চিত্র। দেখিয়েছেন মানুষ তার নিজের মানুষদের ভালো রাখতে হুটহাট অনেক সিদ্ধান্তই নেয় যা তার নিজের কাছেই পছন্দনীয় নয়। অনেকেই হয়তো দৃঢ়তার সাথে সেসব কিছু পরিহার করতে পারে কেউ পারেনা।

পড়ার পরে মনে হলো আরও আগে জানা উচিৎ ছিলো এই লেখকের নাম। হয়তো এদিনে অনেক মাস্টারপিস তুল্য লেখা পড়া হয়ে যেত।


বইঃ আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু
লেখকঃ শহীদুল জহির
Profile Image for Nishat Monsur.
191 reviews18 followers
May 16, 2021
পড়ার ক্ষেত্রে কাহিনীর ঘনঘটার চেয়ে আমাকে বেশি টানে ভাষার কারুকাজ। একটা গল্প সাধারণের মধ্যেও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে ন্যারেটিভের জোরে। এই ট্রানজিশনটা এতটাই আকাশ পাতাল হতে পারে, সে কথা বোঝার জন্য এই স্বল্পদৈর্ঘ্য উপন্যাসটি আদর্শ।

প্রথমেই বইখানার নামের ব্যাপারে একটু বলি। আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু- এই নামটা একসাথে বলে দেয় দু'টো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, প্রথমত, উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম, দ্বিতীয়ত তার পরিণতি। এত বড়ো বড়ো দু'টো তথ্য নামেই দেয়া হয়ে গেলে ভয় থাকতে পারে, ভেতরে কেমন থাকবে। কিন্তু এইখানটিতেই শহীদুল জহির তাঁর সিগনেচার মুনশীয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।

এত সাদামাটা একটা গল্প, এত পরিচিত- আবু ইব্রাহীমের কিছুই নেই যার জন্য সে একটি উপন্যাসের নায়ক হয়ে উঠতে পারে- অথচ তার এই কিছু না থাকাটিই তাকে আমাদের কাছের জন হয়ে উঠতে সহায়তা করে, ক্রমাগত সরকারি চাকুরে, লো সেলফ এস্টীমের, প্রাক্তন প্রেমিকাকে প্রত্যাখ্যান করে খানিকটা ইগো বুস্ট করার মতো ইম্যাচিওর, ঘুষের টাকা নিয়ে বেপরোয়া পদক্ষেপ নেয়া আবু ইব্রাহীম আমাদের ঘরের পাশের লোক হয়ে ওঠে এবং উপন্যাসের মাঝামাঝি গিয়েই আমরা বেচারার মরে যাওয়া নিয়ে খানিকটা দুঃখ অনুভব করি, অথচ আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু যে হবেই, সে কথা তো আমরা জানতাম বইয়ের মলাট ওল্টানোরও আগে।

এই যে অতি সাধারণ মানুষ, আর তার অতি সাধারণ গল্প আমাদের মধ্যে জন্ম দিয়ে যায় ধুসর মেলানকোলির, তার জন্য হলেও আমার কাছে আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু পাঁচ তারকার যোগ্য।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,484 reviews564 followers
November 2, 2019
সরকারি কর্মকর্তা, অদ্ভুত রকমের ভাবুক, স্নেহময় পিতা, উদাসীন স্বামী, প্রেমিক আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুদিন থেকে শুরু উপন্যাস। সমাপ্তিও আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু দিয়েই৷ এরইমাঝে লেখকের স্মৃতিপটে হাজির হয় অনেকগুলো ঘটনা।

একটি আদর্শ উপন্যাসের এলিমেন্ট কেমন হতে পারে?উত্তরটি হলোঃ 'আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু'তে যেসব উপকরণের লক্ষণ আমরা পাই, সেইসব উপাদান থাকলে একটি উপন্যাসকে সহজেই আদর্শ উপন্যাস বলা যায়। কী নেই মাত্র ৬৫ পাতার একটি উপন্যাসে?

একজন সরকারি কর্মকর্তা আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর সাথে ঘটনা শুরু। বই সমাপ্ত আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর ঘটনা দিয়েই। সামাজিক, রাজনৈতিক ঘটনাচিত্রের বয়ানের সাথে সম্মিলন ঘটেছে প্রেম, বিচ্ছেদ এবং মোহনীয় গদ্যের।

শহীদুল জহিরের যাদুমাখা লেখার তুলনা শুধু তাঁর অন্য রচনার সাথেই দেওয়া যায়। 'আবু ইব্রাহীম মৃত্যু'র ঔপন্যাসিক ম্লান হয়ে যান 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল'র ঔপন্যাসিক শহীদুল জহিরের কাছে। তাই তিন তারকা।
Profile Image for SH Sanowar.
118 reviews29 followers
November 9, 2022
এই প্রথম শহীদুল জহিরের কোন লেখা পড়া। লেখার ধরণ দেখে প্রথমে একটু ধাক্কার মতো লাগে! বাঙলায় এমন লেখনশৈলী আর চোখে পড়ে নি। সহজ সরল, জীবন্ত, অকপটে বলে যাওয়া গল্প অথচ অদ্ভুত ঘোর লাগা উনার লেখার ধরণ। মনে হয় যেন কোন কাছের বন্ধুকে আমার প্রত্যক্ষ করা কোন ঘটনার কথা বর্ণনা করতেছি আগ্রহভরে। উপন্যাসে শহীদুল জহির যেভাবে মানব সমাজের অসংগতি এবং মানুষের ভেতরকার রোজকার দ্বন্দ্ব পরিস্ফুটভাবে তুলে ধরেছেন তা তুলনাহীন।

আমার প্রথম শহীদুল জহির পাঠ সার্থক।
Profile Image for Naziur Rahman.
Author 1 book68 followers
March 21, 2017
উপন্যাসের শুরুতে যেই শবযাত্রার কাহিনী উঠে আসে পুরো উপন্যাসজুড়েই যেন আসলে সেই মৃত্যুর শোক আমাদের ঘিরে রাখে। না, উপন্যাসের কাহিনী বর্ণনায় কোন মৃত্যুর মিছিল নেই কিন্তু জীবিত শবদের ক্রমাগত হেটে যাওয়ার গল্প আছে। শারীরিকভাবে জীবিত হয়েও কিছু কিছু মানুষ যেন একতাল মাংসপিণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের মাঝে সবধরনের অনুভূতিই কেমন যেন ভোঁতা ভোঁতা। বেঁচে থাকাটা যেন শুধু জীবনের প্রতি দায় রক্ষা করারই নামান্তর। তবে এসব লোকের সমাজে দরকার আছে। এরা ভারবাহী জীবের মতন পরিবার,দেশ আর সমাজব্যাবস্থাকে টেনে হিঁচড়ে ইকটু ইকটু করে নিয়ে সামনে আগায়। নিজের সাধ আহ্লাদ সব ভুলে গিয়ে অবশ অনুভূতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে। এসব লোকের বেঁচে উঠতে নেই। কারন এসব মানুষ যখন নিজের গন্ডির বাইরে বের হয়ে বেঁচে উঠতে চায় তখন সিস্টেম তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। সিস্টেমের সাথে বিদ্রোহের কারনে তাকে সত্যিকারের মৃতদের ঘরে নাম লেখাতে হয়।

শহীদুল জহিরের লেখার ধরনটা কেমন যেন ঐশ্বরিক ভঙ্গির। বিচারপতি আদালতে বসে যেমন নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বাদী-বিবাদীর পক্ষসমর্থনের বক্তব্য শুনে যান এবং যেই নির্লিপ্ত ঠান্ডা শীতল কন্ঠে তার রায় ঘোষণা করেন, শহিদুল জহীরের লেখায়ও আমরা ঠিক তেমনই নির্লিপ্ততার দেখা পাই। অনেকটা চরিত্রের ভেতরে না ঢুকে বাইরে থেকে তৃতীয়পক্ষ হিসেবে চরিত্রকে বিশ্লেষণ করার মত।

লেখকের এই নির্লিপ্ততা আমার ঠিক পছন্দ না। তাই দুইতারা কেটে রেখে দিলাম!
Profile Image for Abhishek Saha Joy.
191 reviews56 followers
July 3, 2020
আবু ইব্রাহীম,একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।যে একদিকে তার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে একাকী তার বন্ধুর বাসায় যেতে চায় আবার অন্যদিকে সে-ই টেন্ডার রিলিজ করার জন্যে ঘুষ নিবে কি নিবে না সেজন্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে।আপাতদৃষ্টিতে সে একজন কনফিউজিং চরিত্র হলেও শেষ পর্যন্ত সে-ই একটা দুর্দান্ত গেইম খেলে তার ঘুষদাতার সাথে।কিন্তু তার চরিত্রের মতোই তার মৃত্যু আসে হঠাৎ,হাঁসের পালকের মতো হালকা মৃত্যু।
কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের নাম প্রথম জানি শাহাদুজ্জামানের 'মামলার সাক্ষী ময়না পাখি' বইতে।তারপর গুডরিডসে বেশ কয়েকটা ভালো রিভিউ পাই এই লোক সম্বন্ধে।এই বইটি পড়ার পর বলতেই হয় শহীদুল জহির গল্প বলতে জানেন,সহজ ভাষায় কিন্তু চিত্তাকর্ষকভাবে।তার অন্যান্য বইগুলো পড়ার ইচ্ছা রইলো!
Profile Image for Rasel Khan.
170 reviews8 followers
February 24, 2021
উপন্যাসের গল্পটি সরকারি কর্মকর্তা আবু ইব্রাহীমের। তার সাদাসিধা জীবনের প্রতিনিয়ত কার্যাবলির মধ্যে ঘটে যায় কিছু আকষ্মিক বিষয়। সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ইব্রাহীম ঘুষ গ্রহণ করেন।

অপরদিকে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ছোট পরিবারে একজন দায়িত্ববান কর্তা ইব্রাহীম হঠাৎ করেই আকর্ষণ অনুভব করেন তার পুরোনো প্রেমিকার প্রতি।

সৎ অফিসারের ঘুষ গ্রহণ ও দায়িত্ববান স্বামীর পরকীয়া করার কারণ এবং সেগুলোর আকষ্মিক প্রত্যাখ্যান পাঠককে ভাবতে সাহায্য করবে মানুষের মনজগত সম্পর্কে।
Profile Image for Ësrât .
516 reviews86 followers
June 2, 2020
শহীদুল জহিরের গল্প সমগ্র পড়া শুরু করেছিলাম প্রায় এক বছর আগে,তারপর কি ঝামেলায় যেন আর পড়া শেষ হয়নি আর বইটাও খুঁজে পাইনি."আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু"পড়া শুরু করার পরও কেন যেন মনে হচ্ছিল এটাও বোধহয় সময়মত শেষ হবে না,কয়েকপাতা পড়ার পর বইটা অনাদরেই লুকিয়ে ছিল মনের কোণে, হঠাৎ করেই বই খুজতে খুজতে হাতের কাছে পেতেই গোগ্ৰাসে কালকে রাতে পড়তে শুরু করা বই সকালে এসে শেষ হল,ছোট্ট একটা গল্প কিন্তু তার ভাবার্থ বোঝার জন্য সময় নিয়ে পড়াটা বৃথা যায়নি
Profile Image for Shotabdi.
822 reviews200 followers
August 19, 2020
খুব সহজ ভঙ্গিতে আটপৌরে জীবনের একটা ঘটনা বিবৃত হয়েছে উপন্যাসে। না, খুব অভিনব কোন ঘটনা না। এবং খুব অভিনব না বলেই হয়তো আমরা তা নিয়ে এভাবে ভাবতেও বসি না।
শহীদুল জহির নিজে ভেবেছেন, একটা অত্যাশ্চর্য স্টাইলে বর্ণনা করেছেন এবং পাঠককে ভাবতে বাধ্যও করেছেন।
প্রথম অভিজ্ঞতা সুখকরই হলো। পরবর্তী অভিজ্ঞতাগুলো আরো বেশি ভালো হবে বলেই আশা করছি।
Profile Image for Habiba♡.
352 reviews22 followers
April 28, 2025
ইংরেজি সাহিত্যে বিচরন করতে গিয়ে আমরা একটা টার্ম শিখেছি। Hamartia বা Tragic flaw যার অর্থ দাঁড় করানো যেতে পারে যে এমন একটি চারিত্রিক ত্রুটি যার কারণে নায়কের চূড়ান্ত ধব্বংস হবে। যেটি আমরা দেখতে পাই ম্যাকবেথ, ইডিপাস, ড.ফস্টাস চরিত্রে। কিন্ত তেমনি এই ট্র‍্যাজিক ফ্ল এর আরেকটি বেশিষ্ট্য হলো নায়ক অবশ্য একজন গুনী, মহামানব হতে হবে।

এখন এই টার্মগুলো বললাম কেন? কারণ আমার সবসময় মনে হতো নায়ক যদি সর্বগুনসম্পন্ন হয় তার মধ্যে কেন ট্র‍্যাজিক ফ্ল থাকবে? উত্তরও আমরা সেখানেই পাই। আমাদের বলা হয় খলনায়কের করুন পরিণতিতে পাঠককুলের দুঃখ হয়না, কিন্ত নায়কের কঠোর সমাপ্তিতে মন বেজায় মলীন হয়ে যায়।

তবে আবু ইব্রাহীম এর পরিণতি কোনটি? সাধারন একজন না মহামানব? সে তো তার ঢাকা শহরে তার জমি পায়নি, নাহি হেলেনকে পেয়েছে। (অহ হেলেনের দেখা অবশ্য ড.ফস্টাস পেয়েছিলো, তা অন্য গল্প)
তবে কী তার অসীম সততার বলী হলো সে? কিন্ত এতে কী তাকে মহামানব বলা চলে? সে তো সাধারন জীবন যাপন করেছিল কিন্ত তার মৃত্যু কী ট্র‍্যাজিক ফ��ল নয়?

শহীদুল জহিরের লেখা এই প্রথম পড়া। বাংলা সাহিত্যে এমন হার্ডকোর গদ্য অথচ সাবলীল লেখা খুবই দুষ্প্রাপ্য বলা চলে বা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে। বলতে গেলে এসব গল্প নাগাল পাওয়া যায় না, অন্যথা আবু ইব্রাহীমের মতো আমরা অনেক গল্প পাবো যা অবিসংবাদিতরুপে এক একটা ক্লাসিক!
Profile Image for Md Shariful Islam.
258 reviews85 followers
November 10, 2020
দুটো গল্পগ্রন্থ আর একটি উপন্যাসের পর এটা আমার পড়া শহীদুল জহিরের চতুর্থ বই। তো তিনটা বই পড়ে লেখকের অদ্ভুত বর্ণনাভঙ্গি, আশেপাশের জীবন থেকে লেখার উপকরণ সংগ্রহ করা, আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার, জাদু বাস্তবতার প্রয়োগ ইত্যাদির সাথে পরিচিত আছি বলাই যায়। তাইতো অদ্ভুত বর্ণনাভঙ্গির এক সাধারণ কাহিনী অসাধারণ হয়ে ওঠা দেখার জন্য প্রস্তুত হয়েই বইটা পড়া শুরু করি।

বইয়ের নামের মধ্যেই প্লট এবং প্রধান চরিত্রের কথা বলা আছে। অর্থাৎ আমাদের নায়ক আবু ইব্রাহীম এবং বইটার বিষয়বস্তু হলো তার মৃত্যু। সচিবালয়ে কাজ করা এক চাকুরের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করা এবং জীবনের নানামুখী ঘাতে জর্জরিত হয়ে ইব্রাহীমের মৃত্যুই উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়। সাথে ইব্রাহীমের দাম্পত্য জীবন, প্রণয়জীবন, অফিসের রাজনীতি, জীবনের বহুমুখী টানাপোড়েন তো আছেই। আর এসবের গন্তব্যও নামাকরণ থেকেই জানা যায় অর্থাৎ আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সবকিছু।

সহজ প্লট কিন্তু যদি, কিন্তু, হয়তো, সম্ভবত ইত্যাদি শব্দের বারংবার ব্যবহারের কারণে আবু ইব্রাহীমের জীবন যেমন ধোঁয়াশাপূর্ণ বইটাও তেমনি। গ্রীক ট্র্যাজেডিতে যেখানে রাজা বা রাজপুত্রদের জীবনকে লেখকেরা উপকরণ হিসেবে বেছে নিতেন সেখানে আধুনিক লেখকদের মতো শহীদুল জহির বেছে নিয়েছেন এক নিতান্তই সাধারণ মানুষকে। এক সাধারণ মানুষের জীবনের দুঃখ, অপ্রাপ্তি, বিভ্রান্তি, হতাশা দিয়ে লেখক এক আধুনিক ট্র্যাজেডি গড়ে তুলেছেন। অন্য সব ট্র্যাজেডির নায়কের মতো আমাদের ইব্রাহীমও একটা বড় ধরনের ভুল করেছে যার ফলাফল-ই হলো তার জীবনের বিভ্রান্তি আর দোদুল্যমানতা। চিন্তা-বিশ্বাসে আর কর্মে সে দুইজন ভিন্ন মানুষ। তাইতো ছাত্রজীবনে কমিউনিস্ট হলেও বর্তমানে সে পুঁজিবাদী, হেলেনের সাথে প্রণয়ে আবদ্ধ হতে চাইলেও সে যেতে পারে না, খালেদের দেওয়া ঘুষ নিয়েও সে নিতে পারে না।

আর এই যে দোদুল্যমানতা এর জন্যই ইব্রাহীমকে ভীষণ পরিচিত মনে হয়। তাকে সুখী বা দুঃখী বলা যায় না, লোভী নাকি সৎ বলব সে প্রশ্ন থেকে যায়, প্রেমিক নাকি স্ত্রী ভক্ত স্বামী বলব সে বিষয়ে দ্বিধা থাকে। এই দ্বিধা তো সাধারণেরই। কাজ ভালো না লাগলেও পরিবারের কথা ভেবে কাজ করে যেতে হয়, টাকার জন্য লোভ হলেও বিবেকের তাড়না সে উপেক্ষা করতে পারে না, প্রেমের জন্য উন্মুখ হলেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় স্ত্রী-সন্তান। তাইতো চিরদিন-ই ভালো-খারাপের মাঝের ধূসর এলাকায় তার অবস্থান। সেজন্যই ইব্রাহীমের মতো সাধারণ মানুষের মৃত্যুকে পাহাড়ের চেয়ে ভারী বা পালকের চেয়ে হালকা কোনো ক্যাটাগরিতেই ফেলা যায় না।

বইটা লেখকের প্রথম লেখা কিন্তু মৃত্যুর পরে প্রকাশিত। লেখক নাকি সন্দেহগ্রস্ত ছিলেন যে বইটা ঠিকঠাক হয়ে উঠেছে নাকি। অদ্ভুত ভাষার কথা তো আছেই বলেছি, পুরো বই জুড়েই জটিল ও যৌগিক বাক্যের ছড়াছড়ি। তাইতো অনেক সময়-ই এক বাক্য পড়তে হয়েছে একাধিকবার। এছাড়া লেখক যেভাবে পাঠককে এনগেজড করেছেন সেটাও ভিন্ন ধরনের ছিল। বারবার ‘ আমরা জানি যে', ‘আমরা দেখব যে' শব্দবন্ধ ব্যবহার করে লেখক যেন আমাদের বলতে চেয়েছেন গল্পটা ইব্রাহীমের হলেও ইব্রাহীমের মতো মানুষের জীবনে কি ঘটে, কিভাবে ঘটে তা আমরা সবাই জানি। অর্থাৎ ইউনিক বর্ণনাভঙ্গির চিরপরিচিত এক সাধারণ মানুষের ট্র্যাজেডি হলো ‘আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু’।
Profile Image for হাবিবুর রুহিন.
32 reviews4 followers
March 2, 2021
শুনছিলাম এই বইটা শহীদুল জহির বাইর করতে চায় নাই৷ একবার কোন এক পত্রিকায় প্রকাশের পরে এইটার কথা তিঁনি ভুলে যান। মৃত্যুর পর পুনরায় বই আকারে প্রকাশিত হয়। তবুও আমার মতো নাদানের কাছে বইটা অসম্ভব ভালো লাগে। সরল স্বীকারোক্তি, সরল ভাষায় জটিল কিছু হিসাব কষে দেখিয়ে দেওয়া একটা বই৷ একটা মাত্র লাইন তুলে দেই বই থেকে ‘চাকরি কারো যায় না; গেলে এদেশে কারো চাকরি থাকত না।’
Profile Image for Rejwana Haque Pial.
90 reviews13 followers
November 15, 2017
ভয়ানক রকমের ভালো লাগার বই।আর বেশি কিছু বলার নাই।
Displaying 1 - 30 of 114 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.