Abul Mansur Ahmed (Bangla: আবুল মনসুর আহমেদ) (1898–1979) was a Bangladeshi politician and journalist. His political career helped him writing political satire. He is the most famous political satirist in Bangla literature.
He was honored with Bangla Academy Award in 1960 and Swadhinota Dibosh Padak (Independence Day Medal) in 1979. Tahmima Anam is his granddaughter.
আবুল মনসুর আহমদ ভুল সমাজে জন্মেছিলেন। তাঁর মতো সূক্ষ্ম রসবোধসম্পন্ন, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠের সাহিত্যিক বাঙালি মুসলমান সমাজে হারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয়। অথচ তাঁকে প্রাপ্য সম্মান বাঙালি মুসলমান পাঠক দিতে পারেনি। এমন একটি রত্ন বাঙালি হিন্দু সমাজে জন্মালে তারা মাথায় তুলে রাখত। কেননা বাঙালি হিন্দুসমাজে গুণীর কদর করা হয়। সম্ভবত এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের পাঠকসমাজ বাংলাদেশের পাঠকদের চাইতে অধিক অগ্রগামী।
আবুল মনসুর আহমদের গল্পগ্রন্থ 'আসমানী পর্দা'। সাতটি গল্প ও তিনটি ব্যঙ্গ কবিতা নিয়ে ১শ ১৫ পাতার বইটির প্রকাশক আহমদ পাবলিশিং হাউস। এই বইতেই রয়েছে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ছোটগল্পগুলোর একটি 'আদু ভাই'।
ধর্মের নামে গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িকতার তীব্র বিরোধী ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। সেই সাক্ষ্য এই বইয়ের বেশির ভাগ লেখায় মেলে। বইয়ের নামগল্প 'আসমানী পর্দা'তে দেখা যায়, একটি কল্পিত ইসলামি রাষ্ট্রের ক্ষমতা ইসলামি দলের হাতে। তারা জনগণের কল্যাণ না করে কাঠমোল্লাদের তোয়াজ করে চলে এবং এতেই জনতাকে তুষ্ট রাখা যাবে বলে বিশ্বাস করে। এই ইসলামি রাষ্ট্রের উজিরে আজমের বক্তব্য হলো,
'শুধু ইসলামের খাতিরেই আমরা মন্ত্রিত্ব করিতেছি। আমরা ছাড়া অন্য কোন দল ইসলামের খেদমত করতে পারবে একথা যদি আমরা বুঝতে পারতাম, তবে এই মুহূর্তে আমরা আসন ত্যাগ করতে প্রস্তুত হৈতাম ৷ কিন্তু আমরার দেশের দুর্ভাগ্য এই যে, আমরার মতো ইসলামের প্রতি সত্যিকার দরদ নিয়া কেউ কাজে অগ্রসর হয় না। শুধু স্বার্থ সিদ্ধির মতলবে মন্ত্রিত্ব দখল করতে চায়। কিন্তু জাতির পিতা কায়েদে আযম আমরার কান্ধে যে জিম্মাদারি দিয়া গেছেন, ইসলামের দুশমনদের হাতে সে জিম্মাদারি ছাইড়া দিয়া জাতির পিতার আমানত খেয়ানত করতে পারি না। (মারহাবা-মারহাবা)। ভাইসাহেবান, আমরার আজাদ দেশকে খাঁটি ইসলামী রাষ্ট্রে রূপায়িত করবার জন্য আমরা বহুত তক্লিফ উঠাইতেছি। '
ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে এভাবে কটাক্ষ করতে সিনায় জোর থাকতে হয়। যা যথেষ্টই ছিল আবুল মনসুর আহমদের।
'আসমানী পর্দা', 'আদু ভাই' , 'খাজা বাবা' ও 'আহলে সুন্নত' - এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটি বাংলা সাহিত্যের এক-একটি রত্নতুল্য। এত রসবোধের মাধ্যমে ধর্মান্ধতা ও গোঁড়ামিকে আক্রমণ করা যায় তা আবুল মনসুর আহমদের লেখা না পড়লে উপলব্ধি করা কঠিন। ধর্মীয় গোঁড়ামি নিয়ে এমনভাবে গল্প লিখলেও তাঁকে উগ্রবাদীদের দল আক্রমণ করেনি! এখন এমন গল্প লিখলে আন্ধা মৌলবাদী ও 'তৌহিদি জনতা'র হাত থেকে রক্ষা পেতেন কি না সন্দেহ। আর, বাঁশডলা দেওয়ার জন্য সরকার তো রইলই।
কাজী নজরুল ইসলামের দুইটি কবিতা নিয়ে প্যারডি কবিতা লিখেছেন আবুল মনসুর আহমদ। পড়লে বেশ হাসি পায়।
'সহী বড় ওমারতনামা' ও 'ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি' নামের এই দুইটি গল্প একদম ভালো লাগেনি। এমনকি গল্পগুলো এই সংকলনে স্থান দেওয়াতে 'আসমানী পর্দা'র মান খানিকটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেই মনে হয়।
আবুল মনসুর আহমদের যে-কোনো লেখায় সব সময় পড়া যায়। এমন গুণী লেখক নিঃসন্দেহে বিরল।