দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এক অতুলনীয় ঘটনা৷ দুনিয়ার জমিনে এত বেশি প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ আগে ঘটেনি। অথচ বাংলায় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ নিয়ে বই আশঙ্কাজনকভাবে কম। তা বিবেচনায় রেখেই বলতে হয় সাংবাদিক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় এক অসাধ্য সাধন করেছেন। নবপত্র প্রকাশনের দুই খণ্ডে প্রায় ১৮ শ পাতার মহাকাব্যিক কলেবরে লিখেছেন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিহাস। বইটির প্রথম খণ্ড প্রায় ৮ শ পাতার। যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাপর থেকে ঐতিহাসিক স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ স্থান পেয়েছে।
অসম্ভব পরিশ্রম করে লেখা। বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় কত শত বই পড়েছেন তার কোনো হিসাব নেই। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমি ও হিটলারের উত্থানের পাশাপাশি ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত রণক্ষেত্রের প্রধান ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে লিখেছেন বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়। পাতায় পাতায় তথ্যসূ্ত্র উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তাতে পাঠকের বিরক্তি তৈরি করেননি।
বইটি সাধুভাষায় লেখা এবং সাল-তারিখ কিছু যৌক্তিক কারণেই রয়েছে। তাই ইতিহাস নিয়ে একেবারেই আগ্রহ নেই - এমন পাঠকের বইটি পড়া কঠিন হবে। বরং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ নিয়ে জাররা পরিমাণ কৌতূহলী পাঠকের জন্য বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ের বইটি অসাধারণ এক উপহার। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কারণগুলো অনুসন্ধান ও স্ট্যালিনগ্রাদ যুদ্ধের বর্ণনা পড়তে পারা বিশেষ অভিজ্ঞতা।
একনাগাড়ে প্রথম তিন থেকে চার শ পাতা পড়ে ফেলা যাবে। কিন্তু এরপর বর্ণনার বিস্তৃতির কারণে খানিকটা ক্লান্তি চলে এসেছিল। এটি বইয়ের অন্যতম বড়ো খামতি। বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় বামপন্থি ছিলেন। ইতিহাস লিখতে বসে নিজেকে পুরোপুরি সামলাতে পারেননি। তাই সোভিয়েত ইউনিয়ন ও স্ট্যালিনকে বিশেষ নজরে দেখতে ও পাঠককে দেখাতে চেয়েছেন। যা পাঠক হিসেবে আমাকে বিরক্ত করেছে। এটুকু সইতে পারলে বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ের 'দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিহাস: প্রথম খণ্ড' অসামান্য গ্রন্থ। নিশ্চয়ই বইটির দ্বিতীয় খণ্ড পরম আগ্রহ নিয়েই পড়ব।