Jump to ratings and reviews
Rate this book

রাইকমল

Rate this book
‘রাইকমল’ উপন্যাসে বৈষ্ণব প্রেমতত্ত্ব বর্ণিত। একদিকে কৃষক শ্রেণির প্রতিনিধি হরি মোড়লের ছেলে রঞ্জন অন্যদিকে খঞ্জনী বাজিয়ে গান গেয়ে ভিক্ষার দ্বারা জীবিকা উপার্জনকারী কামিনী বোষ্টমীর মেয়ে কমলিনী―উভয়ের বাল্য প্রেমের বিচ্ছেদজাত সমস্যা এবং নবদ্বীপে কামিনীর মৃত্যুর পর আধবুড়া রসিক দাসের সঙ্গে কমলিনীর বিবাহ নারীর নিম্নবর্গতার স্বরূপ উন্মোচিত করে।... ...সে বাল্যকালে রঞ্জনকে ভালোবেসেছে, যৌবনে রসিকদাসকে বিয়ে করেছে তারপর জীবনকে নিয়ে খেলেছে। তার স্বপ্ন ভেঙেছে বাল্যে, যৌবনের তীব্র যৌন ক্ষুধার জ্বালা দেখেছে দাম্পত্য জীবনে। তারপর কাম্য ¯স্নিগ্ধতার জায়গায় এসেছে যন্ত্রণার আবেশ। একাকী, নিঃসঙ্গ এক নারীর সংগ্রামই ব্যক্ত হয়েছে উপন্যাসটিতে। একইসঙ্গে ব্যক্ত হয়েছে প্রেম ও দাম্পত্য সংকটের জটিলতা।

64 pages, Hardcover

First published August 1, 1998

5 people are currently reading
162 people want to read

About the author

Tarashankar Bandyopadhyay

130 books288 followers
Tarashankar Bandyopadhyay (Bangla: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়) was born at his ancestral home at Labhpur village in Birbhum district, Bengal Province, British India (now West Bengal, India). He wrote 65 novels, 53 story-books, 12 plays, 4 essay-books, 4 autobiographies and 2 travel stories. For his novel Arogyaniketan, he received the Rabindra Puraskar in 1955 and the Sahitya Akademi Award in 1956. In 1966, he received the Jnanpith Award for his novel গণদেবতা. He was honoured with the Padma Shri in 1962 and the Padma Bhushan in 1969.

Tarasankar is one of those writers of the third decades of the twentieth centuries who broke the poetic tradition in novels but took to writing prose with the world around them adding romance to human relationship breaking the indifference of the so called conservative people of the society who dare to call a spade a spade. Tarasankar’s novels, so to say, do not look back to the realism in rejection, but accepted it in a new way allowing the reader to breathe the truth of human relationship restricted so far by the conservative and hypocrisy of the then society.

He learned to see the world from various angles. He seldom rose above the matter soil and his Birbhum exists only in time and place. He had never been a worshipper of eternity. Tarasankar’s chief contribution to Bengal literature is that he dared writing unbiased. He wrote what he believed. He wrote what he observed.

His novels are rich in material and potentials. He preferred sensation to thought. He was ceaselessly productive and his novels are long, seemed unending and characters belonged to the various classes of people from zaminder down to pauper. Tarasankar experimented in his novels with the relationships, even so called illegal, of either sexes. He proved that sexual relation between man and women sometimes dominate to such an extent that it can take an upperhand over the prevailing laws and instructions of society. His novel ‘Radha’ can be set for an example in this context.

His historical novel ‘Ganna Begum’ is an attempt worth mentioning for its traditional values. Tarasankar ventured into all walks of Bengali life and it’s experience with the happenings of socio-political milieu. Tarasankar will be remembered for his potential to work with the vast panorama of life where life is observed with care and the judgment is offered to the reader. and long ones, then any other author. He is a region novelist, his country being the same Birbhum. He mainly flourished during the war years, having produced in that period a large number of novels and short stories.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
31 (15%)
4 stars
89 (44%)
3 stars
69 (34%)
2 stars
10 (5%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 24 of 24 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,105 reviews1,082 followers
September 27, 2024
এই বইটাকে নাকি এককালে আমি ১ তারকা দিয়েছিলাম। কি ভেবে দিয়েছিলাম আজ তা বিস্মৃত। তারাশঙ্কর আমার বিশেষ পছন্দের লেখক। পছন্দের কারণ ছিল তার সুবৃহৎ 'কীর্তিহাটের কড়চা' উপন্যাসখানা। আজ যখন রাইকমল পড়ছিলাম রীতিমত অন্য এক তারাশঙ্করকে আবিষ্কার করছিলাম। প্রেম, ভালোবাসা আর বৈষ্ণব কীর্তন কি নিখুঁত তুলিতেই না এঁকে গিয়েছেন তিনি। যা এখনও আমাদেরকে বিমুগ্ধ করে। এবং ভবিষ্যতেও করবে।
Profile Image for সন্ধ্যাশশী বন্ধু .
368 reviews12 followers
February 15, 2023
তারাশঙ্কর,বিস্ময় যেন এক। মানুষের মনের গোপন কুঠুরি তে কি অবলীলায় ঢুঁ মারেন লেখক। আমি পড়ি আর মুগ্ধতায় বিভোর হয়ে যাই।
Profile Image for Subrata Das.
164 reviews19 followers
June 27, 2023
তারাশংকরের বইয়ের একটা সহজাত বৈশিষ্ট্য হল এর মানবতাবাদ। তার লেখায় দৈব বা অলৌকিকতা কখনই মানবতার চেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে না। এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়।

পল্লী বাংলার এককালের অবিচ্ছেদ্য সত্তা ছিল বৈষ্ণব বাউলরা।গ্রামের দুয়ারে হরিনাম কীর্তন আর রাধাগোবিন্দের লীলা প্রচার করে পাওয়া মুষ্টিভিক্ষাতেই তাদের জীবন কাটত। অজয় নদের তীরের কিছু বৈষ্ণব বাউল তথা বোষ্টম এর জীবনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে এ কাহিনী।
কাহিনীর মূল চরিত্র কমলিনী ওরফে রাইকমল, সুন্দরী সুকন্ঠী এক তরুণী। বাবামায়ের গানের সব গুণই পেয়েছে। জীবনের প্রতি পদে পদে সে বৈষ্ণব পদাবলীর সুর খুজে পায়। কিন্তু নদীতে ফোটা পদ্মের মতো জীবন নদীর স্রোত কমলের জীবনকে উথালপাতাল করে দেয় বারবার। সে শুধু প্রেম চেয়েছিল । কিন্তু সবাই তাকে বঞ্চিত করেছে একে একে। রক্তমাংসের মানুষ কিংবা পাথরের দেবতা কেউই তার ভালোবাসার মূল্য দেয় নি।
এ যেন রাধার মতো ভালোবেসে কলংকই পেল আজীবন, রাইকমল যেন রাধারই প্রতিরূপ।
উপন্যাসটা পড়ে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল অসাধারণ কিছু গানের সাথে পরিচয়। বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসের অনেকগুলো চরণ উঠে এসেছে রাইকমল ও রসিক দাসের কণ্ঠে। যখনই এরকম গানের কলি এসেছে, পড়া থামিয়ে ইউটিউবে গানটা খুজে শুনেছি আর মুগ্ধ হয়েছি। কয়েকটা তুলে দিলাম-

=>বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে।
দেখা না হইত পরাণ গেলে


=>এ সখি হামারি দুখের নাহিকো্ ওর।
এ ভরা বাদর মাহ বাদর
শূন্য মন্দির মোর


=>আজু রজনী হাম
ভাগে পোহায়লু
পেখলু পিয়া
মুখ চন্দা।
জীবন - যৌবন
সফল করি মানলু
দল দিশ ভেল নিরদন্দা।।


=>সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়া গেল |
অমিয়া-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল ||

পুরো উপন্যাসটাই যেন একটা সুন্দর বিরহকাতর কীর্তন। একটা ভাবাবেশে বেধে রাখে পাঠককে।
Profile Image for Nafisa.
11 reviews2 followers
July 15, 2021
"সুখ দুখ দুটি ভাই,
সুখের লাগিয়া যে করে পিরীতি,
দুখ যায় তারই ঠাঁই"


চির সুখী কিংবা চির দুঃখী কেউই নয়। সুখ-দুঃখ সাময়িক। জীবনে চিরস্থায়ী কেবল পথ
Profile Image for Imtiaz Emu.
60 reviews33 followers
July 13, 2017
নারীর মন সে কয় জনেই বা বুঝতে পেরেছে? ‌'কমল' তাকে রঞ্জনই তবে বুঝবে কিভাবে? "বাউল বল, দেবতা বল সবার ভেতর দিয়ে তোমাকেই চেয়ে এসেছি এতোদিন" এতটা স্পষ্ট হবার পরও কমলের ভালোবাসাকে অগ্রাহ্য করলো রঞ্জন। নারীর ব্যাকুলতাকে তার ভালোবাসাকে তারাশঙ্কর প্রকৃষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। পুরো গল্পজুরে রাইকমলের হাসি আপনাকে হাসাবে, তার ক্রন্দন আপনাকে কাঁদাবে। এটি মুলত একটি ট্রাজেডিক প্রেমের উপন্যাস। রাইকমলই পুরো গল্পের মূল চরিত্র। লেখকে নিয়ে বিশ্লেষন করার কিছু নাই।
Profile Image for Lima.
51 reviews14 followers
September 18, 2023
কমলিনী, যার নামই রাইকমল। বাবা মায়ের গানের গলার গুণ, সৌন্দর্য সবই সে পেয়েছে। জাতে বৈষ্টম।চঞ্চলা কিশোরী। ছেলেবেলায় রঞ্জন নামে আরেক জাতের ছেলের সাথে বর বউ খেলে সহসা সত্যই রঞ্জন কমলীকে বিয়ে করতে চায়।সেখান থেকে জীবন কত রঙ তাকে দেখালো।সে চেয়েছিলো প্রেম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ কিংবা দেবতা সবাই তাকে ঠকালো।

বিরহ বেদনা
বুকের ভেতর একটা মোচড় দিয়ে শেষ হলো যেনো।তারাশঙ্ককর মানেই অন্যরকম। মুগ্ধ হয়ে পড়ে গেছি প্রতিটা লাইন।
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
December 17, 2024
অজয় নদীর তীরবর্তী গ্রাম। সেই গ্রামেই বেড়ে ওঠে রাইকমল। বাবা নাই মায়ের কাছেই বড় হওয়া। গ্রামে গ্রামে হরি কীর্তন করে মুষ্টিভিক্ষার মাধ্যমে তাদের জীবন চলে। ছোট রাইকমলের রঞ্জনের সাথে খেলতে খেলতে বড় হওয়া। এদিন হঠাৎ রঞ্জনের মন হলো সে রাইকমলকে ভালোবাসে। বিয়ে করতে হলে তাকেই বিয়ে করবে। যদিও রঞ্জনরা অন্য জাতের তবুও তার রাইকমলকেই চাই।
কিন্তু তার বাবা-মা মানতে রাজি না। গ্রাম ছেড়ে যেতে হলো রাইকমল আর তার মাকে।
আর কখনও কি দেখা হবে রাইকমলের সাথে রঞ্জনের?

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাইকমল কোন প্রেমের উপন্যাস নয়। আধ্যাত্মিক এক উপন্যাস। আপাত দৃষ্টিতে হয়তো মনে হবে দুটি ছেলে মেয়ের নিছক কোন প্রেমের উপন্যাস যা হয়তো প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তিতে গিয়ে শেষ হয়েছে।

গ্রামীণ জীবন, বৈষ্ণব বাউল তথা বোষ্টম জীবনের কাহিনি, মানুষের মন ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়, আশা আকাঙ্ক্ষা একই সাথে বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসের অনেকগুলো পদাবলী নিয়ে এই উপন্যাস "রাইকমল"।

মানুষের যে কোন ধরনের সম্পর্কেই কোন একটা সময় গিয়ে পরিবর্তন আসে। সম্পর্কের গভীরতা সব সময় একই রকম থাকবে এই আশা বাদ দিলেই সম্পর্ক ও জীবন সুন্দর।

📖 রাইকমল
🖊️ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
Profile Image for Rehan Farhad.
246 reviews13 followers
February 8, 2025
'রাইকমল', 'নাগিনী কন্যা' প্রথমবার পড়ার সময় আমার মোটেও ভাল লাগেনি। কৈশোরে পড়া বইগুলা এখন নতুন করে ভাবাচ্ছে। অতিক্রান্ত সময় থেকেই বুঝতে পারছি লিটারারি ফিকশনকে উপলব্ধি করা অতিঅবশ্যই বয়সের বৃত্ত পূরণের সাথে সম্পর্কিত। রাইকমল নিয়ে বিস্তারিত লেখার আগ্রহ রইলো।
Profile Image for Tawheeda Rufah Nilima.
294 reviews58 followers
June 24, 2023
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় আমার এতো প্রিয় যে আমি বলে বোঝাতে পারবো না। কি সুন্দর যে তার লেখনী! একদম মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। মানুষের মন ও সেই মনের আশা, ইচ্ছা, ভালোবাসার কি সুন্দর বহি:প্রকাশ। আবার ভালোবাসার ঘাত-প্রতিঘাত ও কি অদ্ভুত ভাবে তুলে ধরে। ভাগ্য, সুখ, দু:খ - এসব কিছুর আশ্চর্য প্রকাশ তার বইয়ে। সেই কবে একদিন "ভূবণপুরের হাট" বইখান�� পড়েছিলাম। বইটা একদম মনে গেঁথে গিয়েছিল। আবার আজ পড়লাম এই "রাই কমল"। এই বইখানাও মন ছুয়ে গেলো। আহা কমল! প্রিয় রাই কমল!
Profile Image for Imam Abu Hanifa.
115 reviews26 followers
August 21, 2017
'সুখ দুখ দুটি ভাই,
সুখের লাগিয়া যে করে পিরিত,
দুখ যায় তারই ঠাই'।
ভালবাসার জন্য মানুষ কত কি করে! কখন ঘর ছাড়ে, দেশান্তরি হয়। সব ছেড়ে যাওয়ার পর যদি হারানো ভালবাসা আবার ফিরে আসে! নতুন করে যদি চিনতে হয় ভালবাসার মানুষটির রূপ!


কমলিনী বাউল পরিবারের মেয়ে। অল্প বয়সে পিতা হারানোর পরে মা গান গেয়ে ভিক্ষা করে সংসার চালায়। কমলদের আখড়ার পাশেই আখড়া গাড়ে বাউল রসিকদাস ওরফে মহন্ত। মহন্ত চঞ্চল কমলকে ভালবেসে নাম দেয় রাইকমল। ছোটবেলার খেলার সাথি রঞ্জনের সাথে বড়ই চুরি করে খেতে গিয়ে দুষ্টামির চলে মুখের এটো কুল রঞ্জনকে খাইয়ে দেয় কমল। রঞ্জনের বাবা লুকিয়ে সব দেখে ফেলেন। সর্বনাশ এ যে জাত যাবে! বোস্টনের মুখের এটো কুল খেয়েছে রঞ্জন। বাড়ি এসে বাবা-মায়ের বকা শুনে রঞ্জন বলে সেও বোস্টন হবে। কমলের জন্য জাত বিসর্জন করবে। রঞ্জনের বাপ এসে পায়ে পড়ল কমলিনীর মা কামিনীর। পরের ছেলের জাত যাবে বলে নিজেরাই গ্রাম ছেড়ে অন্যগ্রামবাসি হলো কামিনী। সঙ্গী হলো বুড়ো বাউল মহন্ত। কিন্তু কমলের বুকে যে দুঃখের শেল বিধেছিলো তা কামিনী সামান্যই আচ করতে পেরেছেন। নতুন গ্রামে নতুন আখড়া ভালই জমে উঠলো। রাইকমল আগের মতই চপলা কিন্তু হাসিতে প্রান নেই। বিয়ে করতে রাজি হয় না কমল। কামিনী মৃত্যুর সময় মেয়ের কাছ থেকে দিব্যি নিলেন সে বিয়ে করবে। অবশেষে দেহ ছাড়লেন কামিনী।
তিনমাস পর আবার বিয়ের কথা তুললেন মহন্ত। মহন্ত আর কামিনীর ইচ্ছা ছিলো আখড়ায় নিয়মিত আসা সুবলের সাথেই কমলের বিয়ে হোক। এবার বিয়ের কথা তুলতেই কমল রাজি হয়ে গেলো। দুজন একত্রে মালা গেথে হঠাৎ করেই সেই মালা গোবিন্দকে সাক্ষী রেখে বুড়ো মহন্তের গলায় পড়িয়ে দিলো কমল। মহন্তের এতদিনের বৈরাগ্য সাধনা নিমেষে শেষ হয়ে গেলো। কিন্তু রাইকমল কি সুখি হতে পেরেছে? দিনে দিনে সব কেমন যেন মৃয়মান হয়ে গেলো। আবার ঘর ছেড়ে পথে ভিক্ষায় বের হলো দুজন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে দিনের পর দিন হাটতে হাটতে সেই গ্রামেই নিজেদের পুরোনো আখড়ায় হাজির হলো দুজন। আবার এই গ্রামেই আখড়া করলো দুজন। আখড়া জমলেও সম্পর্ক আর জমলো না। গ্রামে এসে জানতে পারলো কমলের রঞ্জন বোস্টন হয়ে ছোটবেলার একত্রে খেলার সাথী পরীকে নিয়ে দেশান্তরি। রাইকমলের সেই মালা মহন্তের গলায় ফাস হয়েই আটকে ছিলো। একদিন কমল বিদায় দিলো মহন্তকে। মালা রেখে পথে বের হয়ে গেলো মহন্ত। তাকে আর খুজলো না কমল। এবার মন্দিরে মন্দিরে শ্যাম খুজে বেড়াতে লাগলো কমল। কিন্তু ভগবানের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে চোখ থেকে পানি বের হলেও মন্দিরের ভগবান কোনো ইশারা দিলেন না। শেষ আশা নিয়ে নিজ গ্রাম থেকে পচিশ ক্রোশ দুরে এক মন্দিরের পথ ধরলো কমল। রাতে পথ হারিয়ে মাঠে বসে পড়লো। মাঠ থেকে হেটে যাওয়া পথিককে দেখে ডাক দিয়ে দেখলো পথিক আর কেউ নয়, এ যে রঞ্জন। যে পরীকে বিয়ে করে বোস্টন হয়ে দেশান্তরি হয়েছে।
রঞ্জনের সাথেই কি থাকবে কমল? এই রঞ্জন কি আর আগের মত আছে! রাইকমলকে ভালবাসে? নাকি রঞ্জনকে ছাড়াই পথে পথে ভিক্ষা করবে? চমৎকার এই প্রেমের উপন্যাস না পড়লে জানতে পারবেন না।

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ তারাশঙ্কর বাবুর কাছে প্রথমেই আমি ক্ষমাপ্রার্থী। বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত লেখক হলেও তার লেখা প্রথম পড়লাম। পুরো গল্পজুরে রাইকমলের হাসি আপনাকে হাসাবে, তার ক্রন্দন আপনাকে কাঁদাবে। এটি মুলত একটি ট্রাজেডিক প্রেমের উপন্যাস। রাইকমলই পুরো গল্পের মূল চরিত্র। লেখকে নিয়ে বিশ্লেষন করার কিছু নাই। তিনি তারাশঙ্কর

রকমারি লিংকঃ https://www.rokomari.com/book/24665
Profile Image for Nuhash.
221 reviews8 followers
April 1, 2022
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের পূ্র্ণশক্তিধর প্রতিভা। তার উপন্যাস মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে, জীবন জিজ্ঞাসার গভীরতা আছে। বিশ শতকের শিল্পী হয়েও তিনি ঐতিহ্যকে অনুসরণ থেকে বঞ্চিত হননি। আধুনিক হবার কোন বিশিষ্ট সাধনা বা কামনা তার নেই।

পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলকে তিনি যত্মের সাথে তুলে এনেছেন উপন্যাসে। "রাইকমল" উপন্যাসের শুরুতেই পাওয়া যায় এ অঞ্চলের অজয় নদীর তীরবর্তী অঞ্চলটুকুর আলাদা বৈশিষ্ট্য। "রাইকমল" উপন্যাসের শুরুতে লেখকের বর্ণনা এরকম, পশ্চিম বাংলার রাঢ় দেশ। এই অঞ্চলের অতি সাধারণ মানুষেও জানিত, সুখ দুখ দুটি ভাই, সুখের লাগিয়া যে করে পিরীত, দুখ যায় তার ঠাঁই।

এ অঞ্চলের লোকেরা কপালে তিলক কাটত, গলায় তুলসীকাঠের মালা ধারন করত, আজও তার প্রচলন শেষ হয়ে যায়নি। পুরুষেরা শিখা রাখত এবং আজও তা রাখে। ভালবাসা প্রেম নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রাইকমল উপন্যাস।

চরিত্রগুলো যার যার মতো জীবন্ত হয়েছে। পরিবর্তন ঘটেছে মনের সমাজের। উপন্যাসটি শেষ হয়েছে এভাবে, " মধ্যে মধ্যে তাহার মনে হয়, তাহার পূর্বের রুপ আবার ফিরিয়া আসিয়াছে। সে সেই রাইকমল। নিজেকে দেখিয়া সে নিজেই মুগ্ধ হইয়া যায়। সেদিন সে গুণগুণ করে গান করে,

রুপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

অজয় নির্জন তীর,নিজের গান সে নিজেই শোনে। সব সারিয়া গাছতলার ঘর ভাঙিয়া আবার সে পথ চলে।"
Profile Image for Maliha Huq.
24 reviews2 followers
June 11, 2021
'সুখ দুখ দুটি ভাই, সুখের লাগিয়া যে করে পিরীতি, দুখ যায় তারই ঠাঁই'।

এই একটা লাইনের মধ্যেই যেন পুরো কাহিনীটা ধারণ করা যায়।

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বোষ্টমী কমলিনী কিংবা রাইকমলের মতে জীবনে প্রেম-ভালোবাসা বিষয়ক ব‍্যাপারগুলোতে সে কখনোই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি; সুখের অন্বেষণে ভাগ্য যেন তাকে বারংবার ঠকিয়েছে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমল খুঁজে পেয়েছে নিজের সত্তাকে, আর এটাই হয়ত জীবনের যাবতীয় বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। জগতের বাকি সব ছাপিয়ে যখন নিজের সন্ধান মিলে, তার চেয়ে বড় পাওয়া হয়ত আর নাই।
Profile Image for তানিয়া.
5 reviews
April 9, 2025
-মানুষের ভালোবাসা কি অদ্ভুত!
সত্যিই কি ভালোবাসা পরিবর্তনশীল? নাকি মানুষ হারিয়ে ফেলার পরেই তার মর্ম বুঝতে পারে।?

ভালোলাগার কিছু লাইন :
-ফুল মাথায় তোলার আগে তাতে পোকা আছে কিনা বেছে নিতে হয়, নইলে, শিরে দংশন হইলে ফুলেরই বা কি দোষ বা পোকারি বা কি দোষ?

-যে লতা গাছে জড়ায় না সে চিরদিনই মাটিতে গড়াগড়ি খায়, জানোয়ার মুড়ে খায়।

-বত্রিস টা আধুলিতে একটি মোহরের দাম হয়, কিন্তু বত্রিস টা গালালেও রূপাতে সোনার রং ধরে না।
Profile Image for Dhiman.
178 reviews14 followers
December 27, 2024
আরও কত মুগ্ধ হওয়া বাকি আছে তা ভেবেই আনন্দ হয়। কপালে সুখ আর সহ্য হয় না।
Profile Image for S M Shahrukh.
127 reviews67 followers
December 14, 2017
A well-written story about the tragic life of a Vaishnavi named Raikamal. Reminds the reader of the ephemeral nature of physical beauty but also of the everlasting love that resides within some, not all, though. Raikamal's story is full of heartbreaks but the writer does not choose an altogether tragic ending but the Vaishanavi lives on with the true spirit of 'Leela' that is the core of the worship of Govinda or the young cowherd form of Krishna.
Profile Image for Samrat Sam.
10 reviews1 follower
June 26, 2015
ধরতে পারলাম না, ফস্কে গেল; ঈশ্বর এমনি হয়। মানব বৈচিত্রের পুরোটা নিয়েই তারাশঙ্করের খেলা, আমি তাকে ধরার আগ্রহ নিয়ে খেলতে নামিনাই মোটেও কিন্তু বারবারই তিনি ধরা দিতে দিতে দেননাই।
2 reviews
January 29, 2016
অসাধারণ। "কবি"র সাথে তুলনা করতে যাব না। তবে "কমল" আর "নিতাই" চরিত্রের মাঝে কোথাও একটা চারিত্রিক মিল খুজে পেলাম। নি:সন্দেহে শংকরের সৃষ্টি আকাশের আরো একটি তারা :)
Profile Image for Himel Rahman.
Author 7 books45 followers
October 26, 2018
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা মানেই মন্ত্রমুগ্ধ হওয়া। জীবনকে এত্ত কাছ থেকে দেখে লেখা সত্যিই কঠিন। স্যালুট!
Profile Image for Esha.
178 reviews51 followers
May 16, 2017
Sigh of satisfaction was my reaction after reading it. Thirst was removed. He wrote well.
Profile Image for Kamrul islam Arafat .
45 reviews
December 14, 2023
অনেকদিন এর একটা বড় বই পরলাম।
ভালোই লেগেছে।
Profile Image for Indrani .
85 reviews
June 11, 2024
এ গল্প কমলের রাইকমল হয়ে ওঠার গল্প...
Displaying 1 - 24 of 24 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.