What do you think?


ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা
`সম্রাট’কে কি মৌলিক লেখা বলা যাবে? সম্রাটে ড্যানিয়েল কার্নের লেখা ‘ওয়াইল্ড গীজ’ বইটির ছায়া আছে। যদিও ঘটনা এবং চরিত্রবিন্যাস সম্পূর্ণই আমার। অন্য গল্পের ছায়ায় নতুন গল্প লেখার এই প্রবণতার মানে কি? আমি জবাব দিতে পারব না। কিছু কিছু গল্প নানা কারণে ভাল লেগে যায়। ইচ্ছে করে সেই আদলে আমার মত করে কিছু লিখি। ‘অমানুষ’ নামে একটি বই ঠিক এই ভাবেই লেখা হয়েছে। যাঁরা অমানুষ পছন্দ করেছেন তাঁরা ‘সম্রাট’ও পছন্দ করবেন। এই উপন্যাসের অংশবিশেষ ঈদ সংখ্যা পূণিমায় ১৯৮৮ প্রকাশিত হয়েছিল।
হুমায়ূন আহমেদ
`সম্রাট’কে কি মৌলিক লেখা বলা যাবে? সম্রাটে ড্যানিয়েল কার্নের লেখা ‘ওয়াইল্ড গীজ’ বইটির ছায়া আছে। যদিও ঘটনা এবং চরিত্রবিন্যাস সম্পূর্ণই আমার। অন্য গল্পের ছায়ায় নতুন গল্প লেখার এই প্রবণতার মানে কি? আমি জবাব দিতে পারব না। কিছু কিছু গল্প নানা কারণে ভাল লেগে যায়। ইচ্ছে করে সেই আদলে আমার মত করে কিছু লিখি। ‘অমানুষ’ নামে একটি বই ঠিক এই ভাবেই লেখা হয়েছে। যাঁরা অমানুষ পছন্দ করেছেন তাঁরা ‘সম্রাট’ও পছন্দ করবেন। এই উপন্যাসের অংশবিশেষ ঈদ সংখ্যা পূণিমায় ১৯৮৮ প্রকাশিত হয়েছিল।
হুমায়ূন আহমেদ
88 pages, Hardcover
First published September 1, 1988
About the author
Humayun Ahmed
454 books3,096 followersHumayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 42 reviews
January 24, 2014
একটা খারাপ বই পড়লে যেমন মন খারাপ হয়, মাঝে মাঝে একটা ভালো বই পড়লেও একইরকম মন খারাপ হয়। 'সম্রাট' পড়ে যে মন খারাপ লাগছে তা অবশ্য দ্বিতীয় ধরনের। এই বইটা কিভাবে এতদিন চোখের আড়ালে পরে ছিল তা ভেবে অবাক হচ্ছি। হুমায়ূন আহমেদের বেশিরভাগ বইয়েরই শেষটা নিয়ে মনে অশান্তি থাক্লেও এই বইয়ে তেমন কিছু নেই। বরং পরিপূর্ণ সঠিক সমাপ্তি দেখেই যেন কেমন আলগা লাগছে।হয়তো বিদেশী গল্পের ছায়ায় লেখা বলেই এমনটা লাগছে।এর আগে 'অমানুষ' পড়েও একইরকম অনুভূতি হয়েছিল। সম্রাট নিশোর কথা যতবার পড়েছি কেন জানি মনে বারবার নেলসন ম্যানডেলার ছবি ভেসে উঠেছে।রাজনীতি জিনিসটা বড় অদ্ভুত এবং নিষ্ঠুর। এর অলিগলি বেয়ে কখন কিভাবে চলতে হবে তার কোন দিকনির্দেশনা নেই। 'আনপ্রেডিকটেব্ল' শব্দটা একমাত্র রাকনিতির খেলার জন্যই ভীষণভাবে প্রযোজ্য সে ব্যাপারে এই বইটা পড়লে একটা সামান্য ধারণা পাওয়া সম্ভব। প্রথমবার গডফাদার পড়ে যে আনুন্দ পেয়েছিলাম অনেকদিন পড় তার সমান না হলেও বিন্দু পরিমাণ উত্তেজনা ও আনন্দ এই বই পড়ে পেয়েছি। আফসোস এইটুকুই সামনে এই লেখকের হাত থেকে এমন আরেকটি উপন্যাস পাবার কোন আশা নেই।
May 24, 2023
আমার এখনো মনে আছে কলেজ থেকে ফেরার পথে,পাবলিক বাসে বসে "অমানুষ" পড়েছিলাম। এক বারের জন্য ও মনে হয়নি,কোন বইয়ের ছায়া অবলম্বনে এই বই লেখা হয়েছে,এত ভালো ছিল।
হৃদয় যখন হৃদয়কে বুঝতে পারে না তখনই ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়
বছর কয়েকের ব্যবধানে পড়লাম "সম্রাট "। এই বইটাও একটা বিদেশি বইয়ের ছায়া অবলম্বনে লেখা। কিন্তু পড়তে গিয়ে এই ছায়ার ব্যাপারটা টের পাইনি। হয়ত সেটা হুমায়ূন আহমেদের বই বলেই। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বইয়ে অন্য এক হুমায়ূন কে পেলাম। এমন রুদ্ধ শ্বাস থ্রিলার টাইপের লেখা হুমায়ূনের হাতে, এটা ভাবা কষ্টের,কারণ টা হুমায়ূন আহমেদ বলেই। দারুণ, দারুণ। তবে আবদুল জলিলের কী হলো না হলো জানতে ইচ্ছে হচ্ছিল, আমি ভেবেছিলাম গল্পটা ঐ চরিত্র কে নিয়ে দাঁড়াবে, কিন্তু হলো না। এমনকি,শেষে এসে এই চরিত্র ই গায়েব!
তবে মোটের উপর বলতে,এই বই টা আমি দারুণ উপভোগ করেছি। এখন কেমন জানি ছোট খাটো থ্রিলার পড়তে মন চাচ্ছে 🥱।
হৃদয় যখন হৃদয়কে বুঝতে পারে না তখনই ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়
বছর কয়েকের ব্যবধানে পড়লাম "সম্রাট "। এই বইটাও একটা বিদেশি বইয়ের ছায়া অবলম্বনে লেখা। কিন্তু পড়তে গিয়ে এই ছায়ার ব্যাপারটা টের পাইনি। হয়ত সেটা হুমায়ূন আহমেদের বই বলেই। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বইয়ে অন্য এক হুমায়ূন কে পেলাম। এমন রুদ্ধ শ্বাস থ্রিলার টাইপের লেখা হুমায়ূনের হাতে, এটা ভাবা কষ্টের,কারণ টা হুমায়ূন আহমেদ বলেই। দারুণ, দারুণ। তবে আবদুল জলিলের কী হলো না হলো জানতে ইচ্ছে হচ্ছিল, আমি ভেবেছিলাম গল্পটা ঐ চরিত্র কে নিয়ে দাঁড়াবে, কিন্তু হলো না। এমনকি,শেষে এসে এই চরিত্র ই গায়েব!
তবে মোটের উপর বলতে,এই বই টা আমি দারুণ উপভোগ করেছি। এখন কেমন জানি ছোট খাটো থ্রিলার পড়তে মন চাচ্ছে 🥱।
August 21, 2023
3.49/5
কিছুদিন আগে বিদেশি উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত "অমানুষ" পড়েছি। সেটা খুব ভালোলাগায় "সম্রাট" পড়লাম। মোটামুটি ভালো লেগেছে।
কিছুদিন আগে বিদেশি উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত "অমানুষ" পড়েছি। সেটা খুব ভালোলাগায় "সম্রাট" পড়লাম। মোটামুটি ভালো লেগেছে।
November 14, 2020
মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় নি, অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।
June 7, 2023
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় নি, অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।"
February 28, 2025
এইটা একটা আন্ডাররেটেড উপন্যাস! এরকম থিমে হুমায়ূন লিখতে পারেন দেখে অবাক হলাম পাশাপাশি কিছুটা হতাশ কারণ চাইলে তিনি এই জনরায় হাত পাকাতে পারতেন।
July 4, 2022
ভিন্ন হুমায়ূন আহমেদ। মনে হচ্ছিলো অনুবাদ পড়ছি(যদিও লেখক আগেই স্বীকার করে নিয়েছেন অন্য আরেকটা বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছেন)। কিছু সুন্দর কথা পেয়েছি বইটায়।
হৃদয় যখন হৃদয়কে বুঝতে পারে না তখনই ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়।
অনিশ্চয়তা মানুষকে দুর্বল করে দেয়।
মানুষের সব ইচ্ছা কখনো পূর্ণ হয় না। এই সত্যটি তুমি যত বড় হবে, ততই বুঝবে।
সাহস একটি দুর্লভ জিনিস কিন্তু এর সাথে আদর্শের চমৎকার মিল হলে তখনই শুধু এটি সুন্দর হয়।
মাঝে মাঝে জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষের ক্ষমতা অনেক বেশি হয়।
মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কাউকে কখনও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়ত হবে।
হৃদয় যখন হৃদয়কে বুঝতে পারে না তখনই ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়।
অনিশ্চয়তা মানুষকে দুর্বল করে দেয়।
মানুষের সব ইচ্ছা কখনো পূর্ণ হয় না। এই সত্যটি তুমি যত বড় হবে, ততই বুঝবে।
সাহস একটি দুর্লভ জিনিস কিন্তু এর সাথে আদর্শের চমৎকার মিল হলে তখনই শুধু এটি সুন্দর হয়।
মাঝে মাঝে জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষের ক্ষমতা অনেক বেশি হয়।
মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কাউকে কখনও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়ত হবে।
July 12, 2025
আলোর উৎসের সামনে 'সম্রাট'কে দাঁড় করালে ছায়া পাওয়া যায় ড্যানিয়েল কার্নের লেখা ‘ওয়াইল্ড গীজ’ বইটির। কাজেই বিরতি দিয়ে দিয়ে 'সম্রাট' পড়তে গিয়ে একবার ভুলেই গেছিলাম হুমায়ূন পড়ছি।
গল্পের মঞ্চায়ন সুদূর আফ্রিকায়। আফ্রিকানদের প্রবাদপুরুষ, নেতা জুলিয়াস নিশো, যাকে বলা হচ্ছে মুকুটহীন সম্রাট। গল্পের শুরুতেই দেখা যায় সম্রাট নিশো আফ্রিকার সামরিক জান্তা ডিফো কর্তৃক অপহৃত হন। ডিফোর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ভাবে টিকে যাওয়া, সেক্ষেত্রে দাবার চালে নিশো তার সবচেয়ে শক্তিশালী গুটি। ওদিকে সক্রিয় হয় আরেক পক্ষ, চারদিকে কাটি করা যাদের স্বভাব আরকি! মার্কিন মূলুকের সিআইএ একটি মিশন পরিকল্পনা করে নিশোকে উদ্ধারের জন্য যার নেতৃত্বে থাকে ওদেরই সেনাবাহিনী থেকে অপসৃত হার্ভি ফকনার।
টান টান উত্তেজনা আছে সম্রাটে, আছে বেশকিছু শক্তিশালী চরিত্র। গতানুগতিক হুমায়ূনীয় উপন্যাস থেকে বেশ আলাদা। পড়তে ভালোই লাগলো।
উপরের এই লেখা সম্রাট নিশোর এবং আমরা এইসব বিষয়ে অবগত কেননা আমরা এসব দেখি, দেখবো..
১৩ জুলাই, ২০২৫
গল্পের মঞ্চায়ন সুদূর আফ্রিকায়। আফ্রিকানদের প্রবাদপুরুষ, নেতা জুলিয়াস নিশো, যাকে বলা হচ্ছে মুকুটহীন সম্রাট। গল্পের শুরুতেই দেখা যায় সম্রাট নিশো আফ্রিকার সামরিক জান্তা ডিফো কর্তৃক অপহৃত হন। ডিফোর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ভাবে টিকে যাওয়া, সেক্ষেত্রে দাবার চালে নিশো তার সবচেয়ে শক্তিশালী গুটি। ওদিকে সক্রিয় হয় আরেক পক্ষ, চারদিকে কাটি করা যাদের স্বভাব আরকি! মার্কিন মূলুকের সিআইএ একটি মিশন পরিকল্পনা করে নিশোকে উদ্ধারের জন্য যার নেতৃত্বে থাকে ওদেরই সেনাবাহিনী থেকে অপসৃত হার্ভি ফকনার।
টান টান উত্তেজনা আছে সম্রাটে, আছে বেশকিছু শক্তিশালী চরিত্র। গতানুগতিক হুমায়ূনীয় উপন্যাস থেকে বেশ আলাদা। পড়তে ভালোই লাগলো।
মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কাউকে কখনও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়ত হবে।
উপরের এই লেখা সম্রাট নিশোর এবং আমরা এইসব বিষয়ে অবগত কেননা আমরা এসব দেখি, দেখবো..
১৩ জুলাই, ২০২৫
October 22, 2023
৩.৫/৫
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।"
- সম্রাট নিশো।
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।"
- সম্রাট নিশো।
June 30, 2020
হুমায়ূন আহমেদ বইয়ের শুরুতে লিখেছেনঃ যাঁরা অমানুষ পছন্দ করেছেন, তাঁরা ‘সম্রাট’ও পছন্দ করবেন।
বইয়ের শুরুতে এমন একটা কথা বলে হুমায়ূন পাঠকের সাথে মনস্তাত্ত্বিক একটা খেলা খেলে ফেলেছেন কিনা জানিনা। কিন্তু তা যাই হোক, লেখকমাত্রই পাঠকদের সাথে মনস্তাত্ত্বিকভাবে খেলবেন, এতে দোষের কিছু নেই। আর অমানুষ পড়েছিলাম আজকে থেকে প্রায় পনেরো বছর আগে, বেশ ভাল লেগেছিল। এবং… এই বইটিও ভাল লেগেছে।
ড্যানিয়েল কার্নের The Wild Geese বইটি পড়া হয়নি, লেখকের মতে এই বইয়ের ছায়া আছে সম্রাট-এ। তবে ঘটনা এবং চরিত্রবিন্যাস হুমায়ূন আহমেদের নিজস্ব। সম্রাটের পটভূমি মূলত আফ্রিকা কেন্দ্রিক। সামরিক জান্তা জেনারেল ডিফো কর্তৃক জনগণের নেতা জুলিয়াস লিম্বানি নিশোকে বন্দি করার মাধ্যমে গল্পের কাহিনীর সূত্রপাত। শুরুতেই নিশোকে নিজ বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় দুর্ভেদ্য দুর্গসদৃশ ফোর্টনক নামক স্থানে।
বুদ্ধিমান এবং কুটকৌশলী রাজনীতিবিদ জেনারেল ডিফো এরপর একে একে তার রাজনৈতিক চাল শুরু করেন। সেই সাথে জড়িয়ে পড়ে আমেরিকান সরকার। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অসম্ভব এক অভিযানের পরিকল্পনা করে সেনাবাহিনী থেকে অপসারণকৃত হার্ভি ফকনারের সাথে।
ফকনারের চরিত্রটি আমার বেশ ভাল লেগেছে। পটভূমি নিয়ে ফকনার সম্পর্কে বিস্তারিত তেমন কিছুই নেই, প্রায় পুরোটাই গড়ে উঠেছে ঘটনার প্রেক্ষিতে। হুমায়ূনের নিজস্ব কায়দায় স্বাভাবিক কথোপকথনে রূপলাভ করেছে বলিষ্ঠ, সাহসী এই চরিত্র। মদ্যপান ও নারীসঙ্গের প্রতি দুর্বলতা থাকলেও জীবন নিয়ে আশ্চর্য একটি নির্লিপ্ততা আছে তার, যা ফুটে উঠেছে প্রায়শই।
এন্ডু জনাথন, বেন ওয়াটসন এবং রবিনসনের চরিত্রগুলোও উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে জনাথনের সূচনাটাই সবচেয়ে চমকপ্রদ। ইংরেজিতে Bad-Ass শব্দটির কোনো সঠিক অনুবাদ মাথায় আসছে না, তবে এটিই বোধহয় সবচেয়ে ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে এন্ডু জনাথনকে। মোটকথা, ফকনারকে ঘিরে ওর আশেপাশের প্রতিটি চরিত্রই বেশ শক্তিশালী।
বইয়ের প্রায় পুরোটা জুড়েই যুদ্ধ-যুদ্ধ একটা আবহ আছে। কাহিনীতে টানটান একটা ব্যাপার ছিল, যা পাঠক হিসেবে আমাকে টেনেছে। হুমায়ূন আহমেদ আদর্শ থ্রিলার লেখক নন – ঘটনার বর্ণনাকৌশলে তেমনটিই মনে হয়েছে। তবে এজন্য যে পড়তে খারাপ লেগেছে তা বলবো না। বরং নিজের লেখনীতেই হুমায়ূন যা করতে চেয়েছেন তাতে তিনি সফল। জুলিয়াস নিশো, ফকনার, জেনারেল ডিফো কিংবা মূল কাহিনীর অন্তরালের ঘটনা আরেকটু জানতে পারলে খারাপ লাগতো না অবশ্যই। সাধারণ কথাবার্তার মাঝে হুমায়ূনসুলভ কিছু গভীরতার ছাপ পাওয়া গেছে যেগুলো টুকটাক নাড়া দিয়েছে।
আবেগ-অনুভূতি নিয়ে খুব বেশি কাটাছেঁড়া করা হয়নি, চট করে সবাইকে যেন উত্তপ্ত চুল্লীর মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে এমনটাই যেন হওয়ার কথা ছিল।
বইয়ের আকার খুব বেশি বড় নয়, সুতরাং এক বসায় পড়ে ফেলার মত বই। বেশ কিছু প্লট টুইস্ট আছে, সব মিলিয়ে মোরান্ডায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জমে গেছে একেবারেই। হুমায়ূন আহমেদের এতশত বই পড়ার পরেও বেশ আগের লেখা বিখ্যাত এই বইটি কোনো এক অজানা কারণে বাদ পড়ে গিয়েছিল। সুতরাং দেড় বৈঠকে শুভকাজ সমাধা করে ভালই অনুভব করছি।
বইয়ের শুরুতে এমন একটা কথা বলে হুমায়ূন পাঠকের সাথে মনস্তাত্ত্বিক একটা খেলা খেলে ফেলেছেন কিনা জানিনা। কিন্তু তা যাই হোক, লেখকমাত্রই পাঠকদের সাথে মনস্তাত্ত্বিকভাবে খেলবেন, এতে দোষের কিছু নেই। আর অমানুষ পড়েছিলাম আজকে থেকে প্রায় পনেরো বছর আগে, বেশ ভাল লেগেছিল। এবং… এই বইটিও ভাল লেগেছে।
ড্যানিয়েল কার্নের The Wild Geese বইটি পড়া হয়নি, লেখকের মতে এই বইয়ের ছায়া আছে সম্রাট-এ। তবে ঘটনা এবং চরিত্রবিন্যাস হুমায়ূন আহমেদের নিজস্ব। সম্রাটের পটভূমি মূলত আফ্রিকা কেন্দ্রিক। সামরিক জান্তা জেনারেল ডিফো কর্তৃক জনগণের নেতা জুলিয়াস লিম্বানি নিশোকে বন্দি করার মাধ্যমে গল্পের কাহিনীর সূত্রপাত। শুরুতেই নিশোকে নিজ বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় দুর্ভেদ্য দুর্গসদৃশ ফোর্টনক নামক স্থানে।
বুদ্ধিমান এবং কুটকৌশলী রাজনীতিবিদ জেনারেল ডিফো এরপর একে একে তার রাজনৈতিক চাল শুরু করেন। সেই সাথে জড়িয়ে পড়ে আমেরিকান সরকার। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অসম্ভব এক অভিযানের পরিকল্পনা করে সেনাবাহিনী থেকে অপসারণকৃত হার্ভি ফকনারের সাথে।
ফকনারের চরিত্রটি আমার বেশ ভাল লেগেছে। পটভূমি নিয়ে ফকনার সম্পর্কে বিস্তারিত তেমন কিছুই নেই, প্রায় পুরোটাই গড়ে উঠেছে ঘটনার প্রেক্ষিতে। হুমায়ূনের নিজস্ব কায়দায় স্বাভাবিক কথোপকথনে রূপলাভ করেছে বলিষ্ঠ, সাহসী এই চরিত্র। মদ্যপান ও নারীসঙ্গের প্রতি দুর্বলতা থাকলেও জীবন নিয়ে আশ্চর্য একটি নির্লিপ্ততা আছে তার, যা ফুটে উঠেছে প্রায়শই।
পৃথিবীর সমস্ত মদ এবং সমস্ত নারী আমার কাছে এক ধরনের মনে হয়।
এন্ডু জনাথন, বেন ওয়াটসন এবং রবিনসনের চরিত্রগুলোও উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে জনাথনের সূচনাটাই সবচেয়ে চমকপ্রদ। ইংরেজিতে Bad-Ass শব্দটির কোনো সঠিক অনুবাদ মাথায় আসছে না, তবে এটিই বোধহয় সবচেয়ে ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে এন্ডু জনাথনকে। মোটকথা, ফকনারকে ঘিরে ওর আশেপাশের প্রতিটি চরিত্রই বেশ শক্তিশালী।
বইয়ের প্রায় পুরোটা জুড়েই যুদ্ধ-যুদ্ধ একটা আবহ আছে। কাহিনীতে টানটান একটা ব্যাপার ছিল, যা পাঠক হিসেবে আমাকে টেনেছে। হুমায়ূন আহমেদ আদর্শ থ্রিলার লেখক নন – ঘটনার বর্ণনাকৌশলে তেমনটিই মনে হয়েছে। তবে এজন্য যে পড়তে খারাপ লেগেছে তা বলবো না। বরং নিজের লেখনীতেই হুমায়ূন যা করতে চেয়েছেন তাতে তিনি সফল। জুলিয়াস নিশো, ফকনার, জেনারেল ডিফো কিংবা মূল কাহিনীর অন্তরালের ঘটনা আরেকটু জানতে পারলে খারাপ লাগতো না অবশ্যই। সাধারণ কথাবার্তার মাঝে হুমায়ূনসুলভ কিছু গভীরতার ছাপ পাওয়া গেছে যেগুলো টুকটাক নাড়া দিয়েছে।
আবেগ-অনুভূতি নিয়ে খুব বেশি কাটাছেঁড়া করা হয়নি, চট করে সবাইকে যেন উত্তপ্ত চুল্লীর মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে এমনটাই যেন হওয়ার কথা ছিল।
বইয়ের আকার খুব বেশি বড় নয়, সুতরাং এক বসায় পড়ে ফেলার মত বই। বেশ কিছু প্লট টুইস্ট আছে, সব মিলিয়ে মোরান্ডায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জমে গেছে একেবারেই। হুমায়ূন আহমেদের এতশত বই পড়ার পরেও বেশ আগের লেখা বিখ্যাত এই বইটি কোনো এক অজানা কারণে বাদ পড়ে গিয়েছিল। সুতরাং দেড় বৈঠকে শুভকাজ সমাধা করে ভালই অনুভব করছি।
December 2, 2021
এই বইটাকে কেন ৫ তারা দিচ্ছি আমি জানি না, কিন্তু এই বই নিয়ে কারও সাথে টানা গল্প করতে ইচ্ছে করছে। ঘুম ঘুম চোখে এতোকিছু লেখা সম্ভব না। এই বইটা 'দেয়াল' এর সাথে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে, এই নোক্তাটা শুধু রেখে গেলাম।
April 7, 2021
সমপূ্রন অন্য ধরনের একটি বই ।:)
June 1, 2026
হুমায়ূন আহমেদের ‘সম্রাট’ আসলে একটি থ্রিলারধর্মী উপন্যাস, যেখানে দুঃসাহসিক অভিযান, বিপদ, নেতৃত্ব ও মানুষের সাহসিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লেখক নিজেও উল্লেখ করেছেন যে উপন্যাসটিতে ড্যানিয়েল কার্নির The Wild Geese-এর প্রভাব আছে, যদিও ঘটনা ও চরিত্র তাঁর নিজস্ব।
গল্পের গতি শুরু থেকেই দ্রুত, যা পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। বিপজ্জনক মিশন, অনিশ্চয়তা, সাহস এবং নেতৃত্বের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়ে যায়। চরিত্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের বিষয়গুলো সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। হুমায়ূন আহমেদের সহজ-সরল ভাষা জটিল ঘটনাকেও সাবলীল করে তোলে। উপন্যাসে উত্তেজনার পাশাপাশি মানবিক আবেগও রয়েছে, যা গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের জন্য সম্রাট একটি উপভোগ্য ও স্মরণীয় বই, যা সাহস ও সংকল্পের এক আকর্ষণীয় গল্প তুলে ধরে।
গল্পের গতি শুরু থেকেই দ্রুত, যা পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। বিপজ্জনক মিশন, অনিশ্চয়তা, সাহস এবং নেতৃত্বের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়ে যায়। চরিত্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের বিষয়গুলো সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। হুমায়ূন আহমেদের সহজ-সরল ভাষা জটিল ঘটনাকেও সাবলীল করে তোলে। উপন্যাসে উত্তেজনার পাশাপাশি মানবিক আবেগও রয়েছে, যা গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের জন্য সম্রাট একটি উপভোগ্য ও স্মরণীয় বই, যা সাহস ও সংকল্পের এক আকর্ষণীয় গল্প তুলে ধরে।
September 13, 2024
কখনো এমন হয়েছে যে আপনি একটা বই পড়ছেন, এবং পড়ার মাঝে বারবার বইয়ের কভার উল্টে দেখছেন এটা কী আসলেই এই লেখকেরই লেখা। কারণ ওনার সচারাচর লেখা গুলা তো এমন হয় না।
আমার সাথে অনেকটা এমন ঘটনা ঘটেছে এই উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে। হুমায়ূন আহমেদের এখন অব্দি অনেকগুলা বই পড়েছি আমি, এবং ওনার লেখার সাথে মোটামুটি পরিচিত হয়েছি। ওনার বিস্তার সম্পর্কে মোটামুটি আইডিয়া হয়েছে। কিন্তু এই বইটা পড়তে গিয়ে আমি তাজ্যব হয়ে গেলাম।
কমপ্লিট থ্রিলার ছিল। হুমায়ূন আহমেদের থ্রিলার জনরায় ও পদচারণা রয়েছে এটা আগে জানতাম না আমি।
যারা হুমায়ূন আহমেদের পারিবারিক ঘরনার উপন্যাস পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেছেন তারা চাইলে এটা ট্রাই করতে পারেন। আশা করি ভালই লাগবে।
আমার সাথে অনেকটা এমন ঘটনা ঘটেছে এই উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে। হুমায়ূন আহমেদের এখন অব্দি অনেকগুলা বই পড়েছি আমি, এবং ওনার লেখার সাথে মোটামুটি পরিচিত হয়েছি। ওনার বিস্তার সম্পর্কে মোটামুটি আইডিয়া হয়েছে। কিন্তু এই বইটা পড়তে গিয়ে আমি তাজ্যব হয়ে গেলাম।
কমপ্লিট থ্রিলার ছিল। হুমায়ূন আহমেদের থ্রিলার জনরায় ও পদচারণা রয়েছে এটা আগে জানতাম না আমি।
যারা হুমায়ূন আহমেদের পারিবারিক ঘরনার উপন্যাস পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেছেন তারা চাইলে এটা ট্রাই করতে পারেন। আশা করি ভালই লাগবে।
Read
December 31, 2023বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে লেহা বই। তবে পড়ে তেমনটা মনে হয়নি। লেখকের বর্ণনার ধরন এবং আবহ একেবারেই নিজস্ব।
পড়ে মন বেজার হয়ে যাওয়ার মতো উপন্যাস।
পড়ে মন বেজার হয়ে যাওয়ার মতো উপন্যাস।
April 3, 2026
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।"
February 28, 2023
বইয়ের নামঃ সম্রাট
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
বইয়ের ধরণঃ থ্রিলার উপন্যাস
প্রকাশনাঃ জ্ঞানকোষ প্রকাশনী
প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ
প্রথম প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১০৪
গায়ের মূল্যঃ ১৩০ টাকা
ক্ষমতা নিয়ে মানুষের দ্বন্দ্বের ইতিহাস বহু পুরনো। বলতে গেলে, মানব সভ্যতার শুরু থেকে কিংবা তার-ও আগে থেকে মানুষ ক্ষমতার প্রশ্নে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব করে আসছে। সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই মানুষের মাঝে এই বিষয়টি বংশানুক্রমে ঘটে আসছে। এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের মাত্রা মানুষের মাঝে ইদানীংকালে এত বেশি পরিমাণে বিস্তার লাভ করেছে যে তা মানবিক মূল্যবোধকে পর্যন্ত ছাড়িয়ে গিয়েছে। বলা বাহুল্য, এই ব্যাপারে পশ্চিমা দেশীয় লোকেদের কৃতিত্ব জগদ্বিখ্যাত।
এমন অন্তর্দ্বন্দ্ব ও স্বার্থের রাজনীতির বিষয়টা "সম্রাট" নামক থ্রিলার উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মর্ত্যের দুনিয়া থেকে বইয়ের পাতায় তুলে এনেছেন সমসাময়িক কালের জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। মূলত ক্ষমতার লোভে জন্মান্ধ কিছু মুখোশধারী ধূর্ত মানুষের প্রকৃত রূপ এই বইয়ের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। সাহিত্য মান রক্ষার্থে প্রথাগত উপায়ে কিছু কাল্পনিক চরিত্রের আশ্রয় গ্রহণ করা হলেও রূপক অর্থে পশ্চিমা দেশীয় স্বার্থান্ধ মানুষের গল্প এখানে অত্যন্ত সুচারু উপায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের ছলচাতুরি ও নানা ছলে-বলে নিজেদের স্বীয় স্বার্থ হাসিল করবার বিষয়টা ঘুরে-ফিরে এই উপন্যাসে উঠে এসেছে বার বার। এর পাশাপাশি চরিত্র চিত্রণ ও গল্পের মাঝে আকস্মিক বাঁক সৃষ্টিতে বরাবরের মতই বিশেষ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মে যেভাবে পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে বিশেষ পারদর্শিতার ছাপ রেখেছেন প্রতিটি পাতায় পাতায়, এক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম খুব একটা চোখে পড়েনি। ড্যানিয়েল কার্নের লেখা "The Wild Geese" নামক বইয়ের ছায়া অবলম্বনে রচিত এ বইটিতে ঔপন্যাসিক তার নিজ লিখনীগুণকে কাজে লাগিয়ে এক অনন্য মর্যাদায় নিয়ে গিয়েছেন৷ আফ্রিকার প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত হলেও তাতে দেশীয় সংস্কৃতির দেখা মিলবে৷ এর কৃতিত্ব পুরোটাই জনপ্রিয় এ শব্দশিল্পীর।
এবার আসি উপন্যাসের গল্পের আলোচনায়। উপন্যাসের গল্পের শুরু হয় মোরান্ডার রাজা জুলিয়াস নিশোর বন্দীদশার গল্প দিয়ে। আফ্রিকা মহাদেশের দেশ মোরান্ডার রাজা জুলিয়াস নিশো তাঁর দেশের সামরিক শাসক জেনারেল ডোফার হাতে বন্দী। জেনারেল ডোফা সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেন। তবে আমেরিকাসহ পুরো পশ্চিমা বিশ্বের হর্তাকর্তারা এই সামরিক শাসনকে মেনে নিতে পারে না৷ তারা এই সামরিক জান্তা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবার দৌড়ে আদাজল খেয়ে লেগে পড়ে। শুরু হয় সম্রাট নিশোকে উদ্ধারের নতুন তৎপরতা। এ নিয়ে দেশের ভেতরেও অনেক ফিসফিস চলতে থাকে। এই প্রবীণ নেতাকে কেন্দ্র করে দেশের মধ্যে এক মারাত্মক গৃহযুদ্ধ বাধবার উপক্রম হয়। এমন পরিস্থিতিতে এই দুই পক্ষের মধ্যে আরেক নতুন পক্ষের পদার্পণ ঘটে উক্ত উপন্যাসের গল্পে। ঘটনার এ আকস্মিকতায় উপন্যাসের গল্প নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করে। গল্পের ক্লাইম্যাক্স নতুন দিকে যেতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে পাঠকের মনে সৃষ্টি হয় এক নতুন উৎকণ্ঠা। মধ্যপক্ষ কি পারবে সম্রাট নিশোকে উদ্ধার করে আনতে? কিংবা সম্রাট নিশো কি পারবেন জীবিত ফিরতে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইলে আপনাকে চোখ রাখতে হবে উক্ত উপন্যাসের পাতায়।
এবার উক্ত উপন্যাসের চরিত্র বিশ্লেষণ করবার পালা। উক্ত উপন্যাসের প্রধানতম চরিত্র যে জুলিয়াস নিশো, সে কথা আলাদা করে বলাই বাহুল্য। জীবনের সোনালী দিনগুলি পার করে এসে এখন তিনি বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে এসে হাজির হয়েছেন। দিন দিন কর্মক্ষমতা ক্রমেই হারিয়ে ফেলতে বসেছেন। এমন সময়ে অত্যাচারী স্বৈরশাসক তাকে আটকে রেখেছে এক দুর্গমতম স্থানে। এরপর-ও তিনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন। আলোচ্য চরিত্রের মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক একজন ন্যায় শাসকের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। পাশাপাশি একজন অবিচল চিত্তের মানুষের পরিচয় আমরা পাই এই চরিত্রের মধ্য দিয়ে, যিনি কিনা যমদুয়ারে দাঁড়িয়েও অত্যন্ত শান্ত মেজাজে থাকতে পারেন৷ পাশাপাশি তাকে একজন সাহিত্যপ্রেমী ও কবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে। আগাগোড়া কবিতাপ্রেমী এই লোকটা কবিতা পড়তে যেমন ভালোবাসেন, তেমনি কবিতা পড়তেও সমান ভালোবাসেন৷ ভালোবাসেন মানুষকে ও মানবতাকে৷ তার এই মানবতাপ্রেম-ই তার জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনে একসময়। ঘটনার ক্রমাগত পরিক্রমার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে থাকে উপন্যাসের গল্প। কীভাবে তার জীবনে দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে আসে, তা কেবল এই বইটা পড়লেই জানা যাবে।
উপর্যুক্ত চরিত্র বাদে-ও আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দেখা যায় আলোচ্য উপন্যাসটিতে। তার নাম জেনারেল ডোফা। দেখতে-শুনতে হাবাগোবা মনে হলেও বাস্তবিক অর্থে অত্যন্ত ধূর্ত স্বভাবের মানুষ তিনি। তার চেহারা বা কথাবার্তায় কেউ সহজে বুঝতে পারে না যে তিনি একজন সুচতুর লোক। পেশায় সেনাবাহিনীর প্রধান এই লোকটি দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেন। পাশাপাশি তার নির্দেশে প্রজাবৎসল সম্রাট জুলিয়াস নিশোকে কারান্তরীণ করে তার বাহিনী। তার পরিচয় তিনি শুধু দেশের সেনাবাহিনীপ্রধান-ই নন; একই সঙ্গে তিনি দেশের প্রধান সামরিক প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি। এর পাশাপাশি তাকে একজন অত্যাচারী শাসক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে উক্ত বইটিতে। পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে তার সরকারকে মেনে না নিলেও, পরবর্তীতে তাদের গোপন আঁতাত হয়। পাশার দান যায় পাল্টে। শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। এরপর কী ঘটে? জেনারেল ডোফা কি শেষ পর্যন্ত পারবেন নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি বজায় রাখতে? এমনতর প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইলে প্রিয় পাঠককে অপেক্ষা করতে হবে বইটির একেবারে শেষ পাতা অবধি।
উপর্যুক্ত দুইটি চরিত্র বাদেও আরেকটা চরিত্র নিয়ে কিছু কথা না বললে বইটির চরিত্র সংক্রান্ত আলোচনা অপূর্ণ-ই রয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, এই চরিত্রটি একটু অভিনব ধরনের চরিত্র। কেননা, কোনো গল্প বা উপন্যাসের বইয়ের চরিত্র সাধারণত কোনো মানব চরিত্র হলেও এটা একটু ভিন্নতর চরিত্র। এটা আর কেউ নয়— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। কোনো সুনির্দিষ্ট মানব চরিত্র না হলেও উপন্যাসের গল্পে এই প্রতিষ্ঠানকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। সম্রাট নিশোকে উদ্ধার করা থেকে শুরু করে অন্তিম মুহূর্তে এসে পাশার দান পাল্টে দেওয়া— পুরো গল্প জুড়েই ছিল এই গোয়েন্দা সংস্থার সরব ভূমিকা। তবে তাদের ভূমিকা প্রত্যক্ষ হলেও তারা পর্দার আড়ালে থেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এমন কোনো হীন কাজ নেই, যা তারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্য করে না। বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হবার সুবাদে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলবার সাহস পর্যন্ত পায় না সেভাবে। এই বিষয়টাকে তারা নিজেদের সুবিধার্থে কাজে লাগায়। আর সবার অন্তরালে থেকে একের পর এক তাদের অপকর্মের বহর ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। এই ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটতে দেখিনি। এক কথায়, উক্ত উপন্যাসের এই বিমূর্ত চরিত্রটি পর্দার অন্তরালে অবস্থান করলেও পুরো গল্প জুড়েই তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বইটির পাঠকেরা এই ব্যাপারে আমার সাথে একমত পোষণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।
উপর্যুক্ত চরিত্রগুলো বাদেও আরো কিছু চরিত্র উক্ত উপন্যাসে দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ বেন ওয়াটসন, মাওয়া, মার্কটল, আবদুল জলিল, এন্ডু, ফাকনর, জেনারেল সিমসন, এলেনা, লিজা ব্রাউন, জন হপার প্রমুখ। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এসব চরিত্র চিত্রণের ফলে গল্পের ধারায় এক নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া গল্পের প্রয়োজনে সৃষ্ট এসব চরিত্র গল্পের মূলরীতিতে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি; বরং এতে উক্ত উপন্যাসের সাহিত্যমান ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ এসব চরিত্র উপন্যাসের গল্পে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করে এসেছে। আশা করি, এই ব্যাপারটা প্রতিটি পাঠকের ভালো লাগবে।
চরিত্র নিয়ে আলাপ তো নেহাত কম হলো না। এতক্ষণে নিশ্চয়ই হাঁপিয়ে উঠেছেন? এবার তাহলে বইটির ভাষাশৈলী ও গঠনরীতি নিয়ে কিছু বলবার পালা। শুরুতেই বলে রাখা শ্রেয় যে, হুমায়ূন আহমেদের অন্যান্য বইয়ের মত এই বইটিতে-ও বইপাঠে পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখবার মত যথেষ্ট মালমশলা তার লিখনীর মধ্যে ছিল। তবে অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এই বইতে এই বিষয়টার কিছুটা ঘাটতি মনে হয়েছে। প্রসঙ্গত, হুমায়ূন আহমেদ এ ধরনের বই তার জীবনদশায় মাত্র দুইটি লিখেছেন। একটি "সম্রাট", আর অন্যটির নাম "অমানুষ"। তিনি এই ধরনের বই আর কেন লিখেননি, তা আজও তার ভক্তগণের কাছে এক রহস্যে ঢাকা বিষয়। যাক! কাজের কথায় ফিরে আসা যাক আবার। বলছিলাম, ভাষাশৈলী ও গঠনরীতির কথা। চলিত ভাষারীতিতে রচিত এই বইটিতে বেশ সহজ ভাষায় ঔপন্যাসিক তার লেখনী ফুটিয়ে তুলেছেন। বরাবরের মত এই বইটিতেও ভাষার প্রাঞ্জলতা লক্ষ্য করা যায়। তবে এই ঔপন্যাসিকের অন্যান্য বইতে যেভাবে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরা হয়, সে ব্যাপারটা এখানে তেমন একটা চোখে পড়েনি। সত্যি বলতে, এই ব্যাপারটা পাঠক হিসেবে একরকম অসঙ্গতি বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। কেননা, হুমায়ূন লেখনীতে তার নিজস্ব মতাদর্শের ও দর্শনের কিছু বক্তব্য থাকবে না— এমনতর কথা কোনো হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পাঠকের জন্য কল্পনা করাও দুঃসাধ্য এক ব্যাপার। যাই হোক, শব্দ চয়নের ক্ষেত্রেও ঔপন্যাসিক যথেষ্ট কৃতিত্বের ছাপ রাখতে পেরেছেন বলে আমার ধারণা।
সবশেষে এই কথা বলতে চাই, প্রতিটি মানুষের রুচি-পছন্দ যেমন এক হয় না, তেমনি সকলের লেখনী তথা প্রকাশভঙ্গী-ও এক হয় না কখনোই। এই ধ্রুব সত্যকে অস্বীকার করার কোনো জো নেই। বাংলা সাহিত্য জগতে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি নিন্দুকের সংখ্যা-ও নিছক কম নয় একেবারে। তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে— তিনি বইবিমুখ বাঙালি জাতির ভেতর থেকেও নিজস্ব এক শ্রেণীর পাঠক তৈরি করে গিয়েছেন। এটাই বা কম পাওনা কীসের? যা হোক, অপ্রাসঙ্গিক কথা কম বলা হলো না। সর্বোপরি, উপরিউক্ত আলোচনা পাঠপূর্বক একজন পাঠক-ও যদি বইটা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা লাভ করেন, কিংবা বইটা পাঠে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তবেই আমার এই পাঠপ্রতিক্রিয়া লেখা সার্থকতা লাভ করবে।
পাঠপ্রতিক্রিয়া সুখের হোক!♥
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
বইয়ের ধরণঃ থ্রিলার উপন্যাস
প্রকাশনাঃ জ্ঞানকোষ প্রকাশনী
প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ
প্রথম প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১০৪
গায়ের মূল্যঃ ১৩০ টাকা
ক্ষমতা নিয়ে মানুষের দ্বন্দ্বের ইতিহাস বহু পুরনো। বলতে গেলে, মানব সভ্যতার শুরু থেকে কিংবা তার-ও আগে থেকে মানুষ ক্ষমতার প্রশ্নে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব করে আসছে। সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই মানুষের মাঝে এই বিষয়টি বংশানুক্রমে ঘটে আসছে। এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের মাত্রা মানুষের মাঝে ইদানীংকালে এত বেশি পরিমাণে বিস্তার লাভ করেছে যে তা মানবিক মূল্যবোধকে পর্যন্ত ছাড়িয়ে গিয়েছে। বলা বাহুল্য, এই ব্যাপারে পশ্চিমা দেশীয় লোকেদের কৃতিত্ব জগদ্বিখ্যাত।
এমন অন্তর্দ্বন্দ্ব ও স্বার্থের রাজনীতির বিষয়টা "সম্রাট" নামক থ্রিলার উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মর্ত্যের দুনিয়া থেকে বইয়ের পাতায় তুলে এনেছেন সমসাময়িক কালের জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। মূলত ক্ষমতার লোভে জন্মান্ধ কিছু মুখোশধারী ধূর্ত মানুষের প্রকৃত রূপ এই বইয়ের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। সাহিত্য মান রক্ষার্থে প্রথাগত উপায়ে কিছু কাল্পনিক চরিত্রের আশ্রয় গ্রহণ করা হলেও রূপক অর্থে পশ্চিমা দেশীয় স্বার্থান্ধ মানুষের গল্প এখানে অত্যন্ত সুচারু উপায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের ছলচাতুরি ও নানা ছলে-বলে নিজেদের স্বীয় স্বার্থ হাসিল করবার বিষয়টা ঘুরে-ফিরে এই উপন্যাসে উঠে এসেছে বার বার। এর পাশাপাশি চরিত্র চিত্রণ ও গল্পের মাঝে আকস্মিক বাঁক সৃষ্টিতে বরাবরের মতই বিশেষ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মে যেভাবে পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে বিশেষ পারদর্শিতার ছাপ রেখেছেন প্রতিটি পাতায় পাতায়, এক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম খুব একটা চোখে পড়েনি। ড্যানিয়েল কার্নের লেখা "The Wild Geese" নামক বইয়ের ছায়া অবলম্বনে রচিত এ বইটিতে ঔপন্যাসিক তার নিজ লিখনীগুণকে কাজে লাগিয়ে এক অনন্য মর্যাদায় নিয়ে গিয়েছেন৷ আফ্রিকার প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত হলেও তাতে দেশীয় সংস্কৃতির দেখা মিলবে৷ এর কৃতিত্ব পুরোটাই জনপ্রিয় এ শব্দশিল্পীর।
এবার আসি উপন্যাসের গল্পের আলোচনায়। উপন্যাসের গল্পের শুরু হয় মোরান্ডার রাজা জুলিয়াস নিশোর বন্দীদশার গল্প দিয়ে। আফ্রিকা মহাদেশের দেশ মোরান্ডার রাজা জুলিয়াস নিশো তাঁর দেশের সামরিক শাসক জেনারেল ডোফার হাতে বন্দী। জেনারেল ডোফা সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেন। তবে আমেরিকাসহ পুরো পশ্চিমা বিশ্বের হর্তাকর্তারা এই সামরিক শাসনকে মেনে নিতে পারে না৷ তারা এই সামরিক জান্তা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবার দৌড়ে আদাজল খেয়ে লেগে পড়ে। শুরু হয় সম্রাট নিশোকে উদ্ধারের নতুন তৎপরতা। এ নিয়ে দেশের ভেতরেও অনেক ফিসফিস চলতে থাকে। এই প্রবীণ নেতাকে কেন্দ্র করে দেশের মধ্যে এক মারাত্মক গৃহযুদ্ধ বাধবার উপক্রম হয়। এমন পরিস্থিতিতে এই দুই পক্ষের মধ্যে আরেক নতুন পক্ষের পদার্পণ ঘটে উক্ত উপন্যাসের গল্পে। ঘটনার এ আকস্মিকতায় উপন্যাসের গল্প নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করে। গল্পের ক্লাইম্যাক্স নতুন দিকে যেতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে পাঠকের মনে সৃষ্টি হয় এক নতুন উৎকণ্ঠা। মধ্যপক্ষ কি পারবে সম্রাট নিশোকে উদ্ধার করে আনতে? কিংবা সম্রাট নিশো কি পারবেন জীবিত ফিরতে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইলে আপনাকে চোখ রাখতে হবে উক্ত উপন্যাসের পাতায়।
এবার উক্ত উপন্যাসের চরিত্র বিশ্লেষণ করবার পালা। উক্ত উপন্যাসের প্রধানতম চরিত্র যে জুলিয়াস নিশো, সে কথা আলাদা করে বলাই বাহুল্য। জীবনের সোনালী দিনগুলি পার করে এসে এখন তিনি বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে এসে হাজির হয়েছেন। দিন দিন কর্মক্ষমতা ক্রমেই হারিয়ে ফেলতে বসেছেন। এমন সময়ে অত্যাচারী স্বৈরশাসক তাকে আটকে রেখেছে এক দুর্গমতম স্থানে। এরপর-ও তিনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন। আলোচ্য চরিত্রের মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক একজন ন্যায় শাসকের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। পাশাপাশি একজন অবিচল চিত্তের মানুষের পরিচয় আমরা পাই এই চরিত্রের মধ্য দিয়ে, যিনি কিনা যমদুয়ারে দাঁড়িয়েও অত্যন্ত শান্ত মেজাজে থাকতে পারেন৷ পাশাপাশি তাকে একজন সাহিত্যপ্রেমী ও কবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে। আগাগোড়া কবিতাপ্রেমী এই লোকটা কবিতা পড়তে যেমন ভালোবাসেন, তেমনি কবিতা পড়তেও সমান ভালোবাসেন৷ ভালোবাসেন মানুষকে ও মানবতাকে৷ তার এই মানবতাপ্রেম-ই তার জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনে একসময়। ঘটনার ক্রমাগত পরিক্রমার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে থাকে উপন্যাসের গল্প। কীভাবে তার জীবনে দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে আসে, তা কেবল এই বইটা পড়লেই জানা যাবে।
উপর্যুক্ত চরিত্র বাদে-ও আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দেখা যায় আলোচ্য উপন্যাসটিতে। তার নাম জেনারেল ডোফা। দেখতে-শুনতে হাবাগোবা মনে হলেও বাস্তবিক অর্থে অত্যন্ত ধূর্ত স্বভাবের মানুষ তিনি। তার চেহারা বা কথাবার্তায় কেউ সহজে বুঝতে পারে না যে তিনি একজন সুচতুর লোক। পেশায় সেনাবাহিনীর প্রধান এই লোকটি দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেন। পাশাপাশি তার নির্দেশে প্রজাবৎসল সম্রাট জুলিয়াস নিশোকে কারান্তরীণ করে তার বাহিনী। তার পরিচয় তিনি শুধু দেশের সেনাবাহিনীপ্রধান-ই নন; একই সঙ্গে তিনি দেশের প্রধান সামরিক প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি। এর পাশাপাশি তাকে একজন অত্যাচারী শাসক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে উক্ত বইটিতে। পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে তার সরকারকে মেনে না নিলেও, পরবর্তীতে তাদের গোপন আঁতাত হয়। পাশার দান যায় পাল্টে। শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। এরপর কী ঘটে? জেনারেল ডোফা কি শেষ পর্যন্ত পারবেন নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি বজায় রাখতে? এমনতর প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইলে প্রিয় পাঠককে অপেক্ষা করতে হবে বইটির একেবারে শেষ পাতা অবধি।
উপর্যুক্ত দুইটি চরিত্র বাদেও আরেকটা চরিত্র নিয়ে কিছু কথা না বললে বইটির চরিত্র সংক্রান্ত আলোচনা অপূর্ণ-ই রয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, এই চরিত্রটি একটু অভিনব ধরনের চরিত্র। কেননা, কোনো গল্প বা উপন্যাসের বইয়ের চরিত্র সাধারণত কোনো মানব চরিত্র হলেও এটা একটু ভিন্নতর চরিত্র। এটা আর কেউ নয়— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। কোনো সুনির্দিষ্ট মানব চরিত্র না হলেও উপন্যাসের গল্পে এই প্রতিষ্ঠানকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। সম্রাট নিশোকে উদ্ধার করা থেকে শুরু করে অন্তিম মুহূর্তে এসে পাশার দান পাল্টে দেওয়া— পুরো গল্প জুড়েই ছিল এই গোয়েন্দা সংস্থার সরব ভূমিকা। তবে তাদের ভূমিকা প্রত্যক্ষ হলেও তারা পর্দার আড়ালে থেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এমন কোনো হীন কাজ নেই, যা তারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্য করে না। বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হবার সুবাদে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলবার সাহস পর্যন্ত পায় না সেভাবে। এই বিষয়টাকে তারা নিজেদের সুবিধার্থে কাজে লাগায়। আর সবার অন্তরালে থেকে একের পর এক তাদের অপকর্মের বহর ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। এই ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটতে দেখিনি। এক কথায়, উক্ত উপন্যাসের এই বিমূর্ত চরিত্রটি পর্দার অন্তরালে অবস্থান করলেও পুরো গল্প জুড়েই তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বইটির পাঠকেরা এই ব্যাপারে আমার সাথে একমত পোষণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।
উপর্যুক্ত চরিত্রগুলো বাদেও আরো কিছু চরিত্র উক্ত উপন্যাসে দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ বেন ওয়াটসন, মাওয়া, মার্কটল, আবদুল জলিল, এন্ডু, ফাকনর, জেনারেল সিমসন, এলেনা, লিজা ব্রাউন, জন হপার প্রমুখ। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এসব চরিত্র চিত্রণের ফলে গল্পের ধারায় এক নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া গল্পের প্রয়োজনে সৃষ্ট এসব চরিত্র গল্পের মূলরীতিতে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি; বরং এতে উক্ত উপন্যাসের সাহিত্যমান ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ এসব চরিত্র উপন্যাসের গল্পে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করে এসেছে। আশা করি, এই ব্যাপারটা প্রতিটি পাঠকের ভালো লাগবে।
চরিত্র নিয়ে আলাপ তো নেহাত কম হলো না। এতক্ষণে নিশ্চয়ই হাঁপিয়ে উঠেছেন? এবার তাহলে বইটির ভাষাশৈলী ও গঠনরীতি নিয়ে কিছু বলবার পালা। শুরুতেই বলে রাখা শ্রেয় যে, হুমায়ূন আহমেদের অন্যান্য বইয়ের মত এই বইটিতে-ও বইপাঠে পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখবার মত যথেষ্ট মালমশলা তার লিখনীর মধ্যে ছিল। তবে অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এই বইতে এই বিষয়টার কিছুটা ঘাটতি মনে হয়েছে। প্রসঙ্গত, হুমায়ূন আহমেদ এ ধরনের বই তার জীবনদশায় মাত্র দুইটি লিখেছেন। একটি "সম্রাট", আর অন্যটির নাম "অমানুষ"। তিনি এই ধরনের বই আর কেন লিখেননি, তা আজও তার ভক্তগণের কাছে এক রহস্যে ঢাকা বিষয়। যাক! কাজের কথায় ফিরে আসা যাক আবার। বলছিলাম, ভাষাশৈলী ও গঠনরীতির কথা। চলিত ভাষারীতিতে রচিত এই বইটিতে বেশ সহজ ভাষায় ঔপন্যাসিক তার লেখনী ফুটিয়ে তুলেছেন। বরাবরের মত এই বইটিতেও ভাষার প্রাঞ্জলতা লক্ষ্য করা যায়। তবে এই ঔপন্যাসিকের অন্যান্য বইতে যেভাবে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরা হয়, সে ব্যাপারটা এখানে তেমন একটা চোখে পড়েনি। সত্যি বলতে, এই ব্যাপারটা পাঠক হিসেবে একরকম অসঙ্গতি বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। কেননা, হুমায়ূন লেখনীতে তার নিজস্ব মতাদর্শের ও দর্শনের কিছু বক্তব্য থাকবে না— এমনতর কথা কোনো হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পাঠকের জন্য কল্পনা করাও দুঃসাধ্য এক ব্যাপার। যাই হোক, শব্দ চয়নের ক্ষেত্রেও ঔপন্যাসিক যথেষ্ট কৃতিত্বের ছাপ রাখতে পেরেছেন বলে আমার ধারণা।
সবশেষে এই কথা বলতে চাই, প্রতিটি মানুষের রুচি-পছন্দ যেমন এক হয় না, তেমনি সকলের লেখনী তথা প্রকাশভঙ্গী-ও এক হয় না কখনোই। এই ধ্রুব সত্যকে অস্বীকার করার কোনো জো নেই। বাংলা সাহিত্য জগতে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি নিন্দুকের সংখ্যা-ও নিছক কম নয় একেবারে। তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে— তিনি বইবিমুখ বাঙালি জাতির ভেতর থেকেও নিজস্ব এক শ্রেণীর পাঠক তৈরি করে গিয়েছেন। এটাই বা কম পাওনা কীসের? যা হোক, অপ্রাসঙ্গিক কথা কম বলা হলো না। সর্বোপরি, উপরিউক্ত আলোচনা পাঠপূর্বক একজন পাঠক-ও যদি বইটা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা লাভ করেন, কিংবা বইটা পাঠে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তবেই আমার এই পাঠপ্রতিক্রিয়া লেখা সার্থকতা লাভ করবে।
পাঠপ্রতিক্রিয়া সুখের হোক!♥
December 5, 2020
হুমায়ূন আহমেদ এর সব বই পড়েছি এরকম একটা আত্মতৃপ্তি কাজ করতো নিজের ভিতর। হঠাত করে এই বইটা চোখে পড়লো এবং অবাক হলাম এই বই বাদ গেলো কিভাবে! থ্রিলার ঘরণার বইয়ের ছায়া অবলম্বনে ঘটনার নিজস্ব চিত্রায়ন এবং চরিত্রবিন্যাস এর জগতে এই বইটা অবশ্যই একটা মাইলস্টোন। তাঁর লেখার যে মৌলিক বৈশিষ্ট্য তা এই বইয়ে খুব তীব্রভাবে বর্তমান। এটার স্বাক্ষী বইয়ের শেষ কয়েকটা লাইন,
নিশোর নিজের রচনার কিছু অংশই তাঁর কবরের শোকগাথায় ব্যবহার করা হয়েছে, "মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীরে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।"
এই বইটা এতোদিন পর পড়ায় এক ধরনের অভিমান নিজের উপর কাজ করছে!
নিশোর নিজের রচনার কিছু অংশই তাঁর কবরের শোকগাথায় ব্যবহার করা হয়েছে, "মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীরে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।"
এই বইটা এতোদিন পর পড়ায় এক ধরনের অভিমান নিজের উপর কাজ করছে!
April 19, 2021
সত্যি বলতে বইটা কোন হলিউড সিনেমার স্ক্রিপ্ট মনে হয়েছে। প্রথম অর্ধেকের পর সুন্দর একটা টার্ন নেয়। ওখান থেকেই ভালো লাগা শুরু হয়। শেষটা অনাকাঙ্ক্ষিত
August 2, 2021
ধুন্ধুমার একশন ফিল্ম বানানোর জন্য পারফেক্ট বই।
October 11, 2022
বই - সম্রাট।
লেখক - হুমায়ূন আহমেদ।
সোহেলি আফ্রিকানদের নেতা, প্রবাদপুরুষ – সম্রাট জুলিয়াস নিশো।মাউ জাতির মাঝে তিনি খুবই জনপ্রিয়। তাকে অপহরণ করে মৃত ঘোষণা করে জেনারেল ডোফা। উদ্দেশ্য – দেশে অস্থির অবস্থা সৃষ্টি করা। স্বার্থ সন্ধানী আরেক পক্ষ নিশোকে বের করে আনতে চায় ,এ কাজে তারা দায়িত্ব দেন কর্ণেল হার্ভি ফকনারকে। ফকনার পরিচিত কয়েকজন সহকারী নিয়ে দ্রুততম সময়ে সৈন্য গঠন করে নিশোকে উদ্ধারের অভিযান চালায়। অপ্রত্যাশিত এক সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয় এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান।
সম্রাট" লেখকের সম্পূর্ণ মৌলিক রচনা নয়।এই গল্পে ড্যানিয়েল কার্ণের ‘ওয়াইল্ড গীজ’ বইয়ের ছায়া রয়েছে,যা লেখক নিজেই ভূমিকাতে বলেছেন। ভিন্নধর্মী প্রেক্ষাপটে লেখা এই বইটিতে অনুবাদ বইগুলোর মতো স্বাদ পাওয়া যায়।
বইটির শেষ লাইন ছিল এমন ..
“মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কাউকে কখনো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।”
লেখক - হুমায়ূন আহমেদ।
সোহেলি আফ্রিকানদের নেতা, প্রবাদপুরুষ – সম্রাট জুলিয়াস নিশো।মাউ জাতির মাঝে তিনি খুবই জনপ্রিয়। তাকে অপহরণ করে মৃত ঘোষণা করে জেনারেল ডোফা। উদ্দেশ্য – দেশে অস্থির অবস্থা সৃষ্টি করা। স্বার্থ সন্ধানী আরেক পক্ষ নিশোকে বের করে আনতে চায় ,এ কাজে তারা দায়িত্ব দেন কর্ণেল হার্ভি ফকনারকে। ফকনার পরিচিত কয়েকজন সহকারী নিয়ে দ্রুততম সময়ে সৈন্য গঠন করে নিশোকে উদ্ধারের অভিযান চালায়। অপ্রত্যাশিত এক সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয় এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান।
সম্রাট" লেখকের সম্পূর্ণ মৌলিক রচনা নয়।এই গল্পে ড্যানিয়েল কার্ণের ‘ওয়াইল্ড গীজ’ বইয়ের ছায়া রয়েছে,যা লেখক নিজেই ভূমিকাতে বলেছেন। ভিন্নধর্মী প্রেক্ষাপটে লেখা এই বইটিতে অনুবাদ বইগুলোর মতো স্বাদ পাওয়া যায়।
বইটির শেষ লাইন ছিল এমন ..
“মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কাউকে কখনো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।”
February 9, 2024
ভুল বানানের মচ্ছব।
'অমানুষ'এর মতন বলাটা খুবই ওভারস্টেট্মেন্ট। এমনটা শোনার এবং রিভিউতে পড়ার কারণেই আশার পারদটা একটু হাই হয়ে ছিল যার কারণে ১০৪ পেজের বইয়ের ১০৩ পেজ পর্যন্তই একটু হতাশ ছিলাম যেটা লাস্টের পেজে পুরোপুরি দূর করে দিল।
বইটা ভাল লাগসে, বইটার মাথানষ্ট এন্ডিং এর জন্য।
তাছাড়া স্বৈরাচারী রাষ্টের প্রোপাগাণ্ডাময় বাস্তবতা আর মহান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নোংরা লাম্পট্যে ভরা কূটকৌশল বইটাকে গ্রাউন্ডেড আর বাস্তবিক করে তুলেছে। পড়ার পর ইচ্ছে করবে আমেরিকার পাছায় কয়েকটা লাথি মেরে আসতে।
'অমানুষ'এর মতন বলাটা খুবই ওভারস্টেট্মেন্ট। এমনটা শোনার এবং রিভিউতে পড়ার কারণেই আশার পারদটা একটু হাই হয়ে ছিল যার কারণে ১০৪ পেজের বইয়ের ১০৩ পেজ পর্যন্তই একটু হতাশ ছিলাম যেটা লাস্টের পেজে পুরোপুরি দূর করে দিল।
বইটা ভাল লাগসে, বইটার মাথানষ্ট এন্ডিং এর জন্য।
তাছাড়া স্বৈরাচারী রাষ্টের প্রোপাগাণ্ডাময় বাস্তবতা আর মহান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নোংরা লাম্পট্যে ভরা কূটকৌশল বইটাকে গ্রাউন্ডেড আর বাস্তবিক করে তুলেছে। পড়ার পর ইচ্ছে করবে আমেরিকার পাছায় কয়েকটা লাথি মেরে আসতে।
May 13, 2022
বইটি পড়ার পর শুধু এতটুকুই বলবো যে, হুমায়ুন আহমেদ যেকোনো পরিবেশ যেকোনোভাবে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পারেন যা অন্য কোন লেখক তেমন একটা পারেন না।
গা চমচমে একশন আর থ্রিলারে ভরা উপন্যাস। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই উপন্যাস এর ভক্ত হয়ে গেছি,🥰
শেষের লাইনটা একদম পুরো উপন্যাসটাকে সার্থক করে দিয়েছে।
গা চমচমে একশন আর থ্রিলারে ভরা উপন্যাস। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই উপন্যাস এর ভক্ত হয়ে গেছি,🥰
শেষের লাইনটা একদম পুরো উপন্যাসটাকে সার্থক করে দিয়েছে।
July 17, 2022
বইটি পড়ে মনে হচ্ছিল না যে হুমায়ুন আহমেদ এর লেখা। যদিও তিনি আগেই বলে নিয়েছেন যে "ড্যানিয়েল কার্নের লেখা ‘ওয়াইল্ড গীজ’ বইটির ছায়া আছে"। সম্পূর্ণ অন্যরকম একটি বই। তবে তিনি তার লেখার যাদু দিয়ে উপন্যাসটিকে অন্য এক রূপ দিয়েছেন। চমৎকার থ্রিলারে ভরপুর ছিলো উপন্যাসে। তবে শেষ টা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।
এই লাইনটার মধ্য দিয়ে উপন্যাসটির ইতি ঘটে :
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কাউকে কখনও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়ত হবে।"
এই লাইনটার মধ্য দিয়ে উপন্যাসটির ইতি ঘটে :
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কাউকে কখনও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হয়ত হবে।"
November 6, 2022
হুমায়ূন আহমেদের বিদেশী গল্পের আদলে লেখা ৩টি গল্প কিংবা ছোট আয়তনের উপন্যাস সংকলন 'তিন ভিনদেশী' অনেকদিন আগেই ভাই কিনে এনেছিলো তবে কোনো এক বিচিত্র কারণে এই বইটি আমার পড়া হয়নি।'সম্রাট' এর মধ্যে সর্বশেষ। যে গল্পের আদলেই তিনি লিখেছেন বড্ড তাড়াহুড়ো করে শেষ করেছেন বলে আমার মনে হয়েছে এবং গল্পটাকে পরিচিত লেগেছে খুব তবে সুন্দর লেখা।
April 14, 2025
আমি প্রায়ই অবাক হয়ে ভাবি যে একজীবনে এই মানুষটা ঠিক কতগুলো গল্প, উপন্যাস, নাটক লিখেছিলেন! এতো পড়ি, এতো পড়ি, তবু শেষ আর হয় না! এই বইয়ের খোঁজ পেয়েছি গতরাতে। এই নামের কোন বই আছে ওনার জানতামই না! খুব ভালো লেগেছে বলবো না। কিন্তু মুকুটবিহীন সম্রাট জুলিয়াস নিশোর জন্য কিছুটা মন খারাপ হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের গতানুগতিক লেখা থেকে একদম আলাদা আরেকটি লেখা পড়া হয়ে গেল! :)
October 21, 2024
"মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় নি, অথচ মানুষকে ভালবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হযে়ছে। ভবিষ্যতেও হয়তো হবে।"
পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো হলিউডের কোনো একশন সিনেমা দেখতেছি। শেষের দিকের অংশ ভালো ছিলো।
পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো হলিউডের কোনো একশন সিনেমা দেখতেছি। শেষের দিকের অংশ ভালো ছিলো।
August 30, 2025
এক বসায় পড়ে ফেলার মতো বই। ভালো লেগেছে।
..... জ্ঞানকোষ এর মতো প্রতিষ্ঠিত একটা প্রকাশনীও যে এমন একটা বই বের করতে পারে, যেখানে বইয়ের সপ্তম মূদ্রণে এসেও একদম প্রথম লাইনটা থেকে শুরু করে পাতায় পাতায় অজস্র মূদ্রণপ্রমাদ, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।
..... জ্ঞানকোষ এর মতো প্রতিষ্ঠিত একটা প্রকাশনীও যে এমন একটা বই বের করতে পারে, যেখানে বইয়ের সপ্তম মূদ্রণে এসেও একদম প্রথম লাইনটা থেকে শুরু করে পাতায় পাতায় অজস্র মূদ্রণপ্রমাদ, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।
February 25, 2026
যে ব্যাক্তি মহান, সে ঠিক কেন মহান তা না জানতে পারলে কোথায় একটা অসমাপ্তি থেকে যায়। রাজনৈতিক কূটচালের ব্যাপারগুলি ছোট বয়সে পড়লে অত্যন্ত অভিভূত হতাম নিশ্চিত। অথচ এখন এই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্ত কূটচাল শিশুমাত্র! তবে যাই হোক, অবশ্যই চমতকার বই।
December 3, 2018
ভালো লাগেনি বইটা।
Displaying 1 - 30 of 42 reviews































