রাজু ও আগুনালির ভূত - (০.৫/৫)
জনৈকঃ স্যার, দুর্দান্ত একটি কিশোর উপন্যাসকে কিভাবে একদম লেজে গোবরে করে ফেলা যায় বলে আপনি মনে করেন?
মুজাইঃ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করেছো, “তোমাদের প্রশ্ন আমার উত্তর”-এর নতুন এডিশনে এটা অবশ্যই আমি যোগ করে দিব ভাবছি। আমি নিজেও এনিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রথমত আমি বলব, আমাদের চেতনা কে আরো মজবুত ও উন্নিত করার নামে খুব সুক্ষ্ণ ও স্থুল ভাবে একটি বিশেষ ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো চাই। এতে কাহিনীর ফ্লো কিংবা মজার দিকে মন দিতে চাইলেও, স্বভাবতই একটু চোখ-কান খোলা রাখা পাঠকের ভ্রু বারবার কুঁচকে যাবে। খুব জমাট কোনো এডভেঞ্চারও তখন রস হারিয়ে ফেলতে বাধ্য, কি বল?
জনৈকঃ যথার্থ বলেছেন স্যার, তা দ্বিতীয় টেকনিক টা কি?
মুজাইঃ একটু হালকা পাতলা রোমান্স নিয়ে আসা যায়, যুগের চাহিদাকে তো আর এড়ানো যায় না। হিন্দি সিনেমা সিনেমান ফ্লেভার দিয়ে, সাথে অবাস্তব কিছু ফাইটিং দৃশ্য যোগ করে দিলেই সেটা কাহিনী ঝুলে পড়ার জন্য বেশ হতে পারে।
জনৈকঃ বাহ…বেশ তো। আরও কিছু বুদ্ধি আছে নাকি স্যার?
মুজাইঃ (একটু মাথা চুলকে) মমম… আরেকটা ব্যপার হতে পারে, বড় মানুষের চরিত্রগুলোকে চরম কেয়ারলেস এবং সেটাকেই একটূ রোমান্টিসাইজ করা যেতে পারে। ধর বড় মামা/কিংবা চাচা দুটি ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে বাবা-মার কাছ থেকে নিজের কাছে নিলেন, তারপর তাদের একদম একা একটি বাড়িতে ফেলে রেখে নিজে চলে গেলেন দেশ ও সমাজ উদ্ধার করতে, গল্পে গল্পে এরকম চমৎকার সব মেসেজ দিয়ে নিশ্চয়ই মূল উপন্যাসের বারোটা বাজানো সম্ভব বলেই আমি মনে করি।
জনৈকঃ ফ্যান্টাস্টিক! আপনি জেনে অবাক হবেন স্যার, আপনার লেখা “রাজু ও আগুনালির ভূত” উপন্যাসটিতে সবগুলো টেকনিকই খুব চমৎকার ভাবে কাজে লেগেছে।
মুজাইঃ সত্যি?
জনৈকঃ একশভাগ সত্যি। আপনার মত জ্ঞানীগুণী চেতনাবাজ মানুষকে তো আর আমি মিথ্যা বলতে পারি না।
মুজাইঃ থ্যাংক্যু! শুনে আমার বুক দশ হাত ফুলে গেল।
জনৈকঃ স্যার এ জন্যই বুঝি সম্প্রিতি নিজেও অন্যকে ফুলানোর ব্যাপারে বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছেন।
(**এরকম বিরক্তিকর বই বহুদিন পরিনি। স্যারের ভাষায়, হর হর করে বমি করে দেবার মত বই!
এই বেলা না বলে পারছিনা, জাফর ইকবাল স্যার সত্যিই আমার প্রিয় মানুষগুলোর লিস্টে উপরের দিকেই ছিলেন। নোলান সাহেব তার ব্যট্ম্যান মুভিতে একটা কথা বলেছিলেন না,
“You either die a hero or you live long enough to see yourself become the villain.”
খুবই কষ্ট লাগে যখন দেখি স্যারের ব্যাপারে ঠিক এই জিনিসটিই ঘটছে। সামপ্রতিক সময়ের উনার তেলবাজি জাতীয় মন্তব্য গুলো দিয়ে যেন কফিনের শেষ পেরেকগুলো যেন নিজেই মেরে নিচ্ছেন। আফসোস! **)
~ ৩ জানুয়ারী, ২০২৩