Jump to ratings and reviews
Rate this book

সব-পেয়েছির দেশে

Rate this book

86 pages, Unknown Binding

First published January 1, 1941

3 people are currently reading
138 people want to read

About the author

Buddhadeva Bose

105 books122 followers
Buddhadeva Bose (also spelt Buddhadeb Bosu) (Bengali: বুদ্ধদেব বসু ) was a major Bengali writer of the 20th century. Frequently referred to as a poet, he was a versatile writer who wrote novels, short stories, plays and essays in addition to poetry. He was an influential critic and editor of his time. He is recognized as one of the five poets who moved to introduce modernity into Bengali poetry. It has been said that since Tagore, perhaps, there has been no greater talent in Bengali literature. His wife Protiva Bose was also a writer.

Buddhadeva Bose received the Sahitya Akademi Award in 1967 for his verse play Tapaswi O Tarangini, received the Rabindra Puraskar in 1974 for Swagato Biday(poetry) and was honoured with a Padma Bhushan in 1970.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (15%)
4 stars
16 (61%)
3 stars
5 (19%)
2 stars
1 (3%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews438 followers
June 25, 2024
ইশশশ!!! আমি কেন ওই সময় ওইখানে ছিলাম না?" সব পেয়েছির দেশে" পড়ার পর আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া এটা। বিষয়বস্তু -শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্রনাথ। সকলেই অবগত আছি,রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন সমার্থক। আমি যেভাবে থাকি,যেভাবে থাকতে চাই,যা পাই না,যা খুঁজি,যা ভাবি তার অনেকটাই বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের শান্তিনিকেতনে উপস্থিত ছিলো।
শান্তিনিকেতনে পৌঁছেই বুদ্ধদেব যা লিখেছেন তা পড়ে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়-

কলকাতার জীবনে বাঁধা সময়ে বাঁধা কাজের অবিরাম উৎকণ্ঠার পরে, সাহিত্যিক বাকবিতণ্ডা, সামাজিক আচার ব্যবহারের অফুরন্ত স্নায়বিক টানা-হেঁচড়ার পরে, জীবিকা অর্জনের ঘৃণ্যতা আর জীবন-রচনায় পদে পদে ব্যর্থতার পরে, শান্তিনিকেতনে এসে কী যে ভালো লাগলো। মনে হ'লো মুক্তি পেলাম, জীবনকে ফিরে পেলাম। তর্ক নেই, উত্তেজনা নেই, মনস্তাপ নেই--কর্মক্ষেত্রের রক্তশোষক নিপীড়ন নেই অথচ কর্মজগতের জাগ্রত সচেতন মনোভাব আছে। এখানে আকাশে বাতাসে পাখির গানে ইন্দ্রিয় নন্দিত হয়, হৃদয় মধুরতায় ভ'রে যায়, আবার বুদ্ধিবৃত্তিতে নিদ্রালুতা আসে না, ইচ্ছে করলেই তার চরম চর্চা করা যায়। নির্জনতার অভাব নেই, গুণীজনসঙ্গও আছে হাতের কাছে। নগরের হৃদয়হীনতা নেই, নগরের নৈর্ব্যক্তিকতা আছে। পাড়াগাঁর ধূর্ত কুটিলতা নেই, অনাড়ম্বর ভাবটি আছে।

বুদ্ধদেবের অনুপম গদ্যশৈলীতে সেই সময়ের শান্তিনিকেতনে দিনযাপনের শান্ত, স্নিগ্ধ, সজীব, সুকুমার ছবিটি ফুটে উঠেছে।রবীন্দ্রনাথ তখন জীবনের শেষপ্রান্তে। রোগে শোকে জর্জরিত অথচ একটুও কাতর নন।তার কাছে গেলে তিনি রোগ নিয়ে কোনো কথাই বলেন না।তখনো তিনি প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর।রবীন্দ্রনাথের কাছে যে কেউ গেলেই তিনি এমনভাবে কথা বলতেন যেন সেই ব্যক্তির সাথে কথা বলাটিই তখনকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ;কোনো তাড়া নেই।প্রতিবার তার সাথে সাক্ষাতের পর বুদ্ধদেবের অনুভূতি -

তাঁকে দেখে, তাঁর কথা শুনে যখন বেরিয়ে আসতুম, রোজই নতুন ক'রে মনে হতো যে সমস্ত জীবন ধন্য হ’য়ে গেলো। তাঁর কথা যেন বর্ণাঢ্য গীতিনিঃস্বন, যেন গীতধ্বনিত ইন্দ্রধনু। তা যেমন শ্রুতিসুখকর তেমনি মনোবিমোহন । বাংলা ভাষার উপর তাঁর প্রভুত্ব যে কী অসীম তা তাঁর মুখের কথা না-শুনলে ঠিক ধারণা করা যায় না। তিনি কথা বলেন হুবহু তাঁর শেষের দিককার গদ্য বইগুলোর মতো, অতি সাধারণ কথাকেও অসাধারণ ক'রে বলবার ক্ষমতায় তাঁর গল্পের সকল পাত্রপাত্রীকে তিনি হার মানান, উপমা রূপক থেকে-থেকে ফুটে উঠেছে ফুলের মতো, হঠাৎ অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে ঝিলিক দিচ্ছে কৌতুক। তাঁর নিটোল, সুন্দর, স্বর্ণঝংকৃত কণ্ঠস্বর, আর তাঁর উচ্চারণের স্পষ্ট, দৃঢ় অথচ ললিত ভঙ্গির সঙ্গে সকলেই তো পরিচিত, তাঁর মুখে শুনলে বাংলাকে অনেক বেশি জোরালো ও মধুর ভাষা ব’লে মনে হয়। তাঁর অভ্যর্থনার মধুরতা ও আলাপের আন্তরিকতা ভোলবার নয়।


"সব পেয়েছির দেশে" নামকরণটিও অব্যর্থ। যেখানে গভীর আন্তরিকতা আছে কিন্তু জোরাজুরি নেই, কর্মচাঞ্চল্য আছে কিন্তু অস্থিরতা নেই,যেখানে গেলে দেহ ও মনে আশ্চর্য শিহরণ জাগে,মনে হয় আরেকটু থাকি, মনে হয় আরেকটু বাঁচি, আরেকটু তীব্রভাবে গভীরভাবে আনন্দ নিয়ে বাঁচি,যেখানে সবাই শুধুই মানুষ,যেখানে সবাই আপন - সেটাই তো সব পেয়েছির দেশ!
(১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২)

বুদ্ধদেব যা দেখেছিলেন তা সত্য, তবে খণ্ডিত। নিজে অধ্যাপক, সাহিত্যিক ও সমাজের উঁচুশ্রেণির মানুষ ছিলেন বলে শান্তিনিকেতনে তাকে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি। কিন্তু শান্তিনিকেতনে বেশ ভালোই ঝামেলা ছিলো আপাত সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও। তাই এই স্মৃতিগদ্য সম্বন্ধে উচ্ছ্বাস কিঞ্চিৎ কমাতে হচ্ছে।
(২৫ জুন, ২০২৪)
Profile Image for Anjuman  Layla Nawshin.
86 reviews147 followers
July 4, 2024
“নাইকো পথে ঠেলাঠেলি
নাইকো হাটে গোল–
ওরে কবি এইখানে তোর
কুটিরখানি তোল।
পা ছড়িয়ে বোস রে হেথায়
সারাদিনের শেষে
তারায় ভরা আকাশ তলে
সব পেয়েছির দেশে।”



এই সব পেয়েছির দেশের মহারাজা যিনি, তিনিই তো ঠাকুর। আমাদের রবিঠাকুর। সেই মহারাজার দরবারে গিয়ে ঠাকুরদর্শন করেছেন সুলেখক বুদ্ধদেব বসু। এ কি শুধুই দর্শন? শুধুই চোখের দেখা? আবিস্কার করেছেন গুরুদেব, সাহিত্যিক, কবি, শিল্পী সব পরিচয়ের ভীড়ের বাইরে অন্য এক সুন্দরকে! অপার্থিব এক ব্যক্তিত্বকে! রবীন্দ্রনাথের রূপকে তাই বুদ্ধদেব নির্দিষ্ট কোনো বিশ্লেষণ দিতে পারেন নি। বলেছেন,

“আসলে তিনি সুন্দর বলে সুন্দর নন, প্রতিভাবান বলে সুন্দর। আমরা সবাই জানি যে রবীন্দ্রনাথ অসামান্য সুপুরুষ, কিন্তু তাঁর রূপ রূপের চেয়ে কিছু বেশি— কিংবা তা জাগতিক অর্থে রূপই নয়, নন্দনতত্ত্বের রূপ।”

নান্দনিক এই সুপুরুষ তারায় ভরা আকাশের নিচে শান্তিনিকেতন নামের যে সব পেয়েছির দেশ গড়লেন, সেই দেশ তো আজ পৃথিবীজোড়া বিস্ময়ের এক নাম! কবির সেই চিরায়ত কুটিরকে বুদ্ধদেব ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে—

“শান্তিনিকেতন গ্রাম নয়, শহর নয়, ঠিক বাংলাদেশেও নয় আবার ভারতের কোনো সুদূর পরিচিত আশ্চর্য তপোভূমিও নয়। ভারতীয় সংস্কৃতিতে যা কিছু মূল্যবান সব এখানে প্রকাশিত, কিন্তু তাতে মিশে আছে নবীন ইউরোপের প্রাণপূর্ণতা।”


সেই শান্তিনিকেতনে বসে অবকাস যাপনকালে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর শান্তিনিকেতন নিয়ে বুদ্ধদেব লিখেছেন এই বই। প্রথম খন্ড শান্তিনিকেতন পর্বে শান্তিনিকেতনের নানা কার্যক্রম ও নিজের অবকাশ যাপনের সুমধুর স্মৃতি। আছে শান্তিনিকেতনের সকাল সন্ধ্যা, ফুল পাতা, প্রাণ প্রকৃতির অপরূপ উপস্থাপন। আর বুদ্ধদেব বসুর নন ফিকশন পড়তে বসা মানেই যেন হঠাৎ আলোর ঝলকানি। অকৃত্তিম সব অনুভূতির কাব্যিক শাব্দিক উচ্চারণ চিত্তকে দুলিয়ে দেয়। সেই বুদ্ধদেব বসুর চোখে আজ থেকে আশি বছরেরও বেশি আগে দেখা সেই শান্তিনিকেতনের সাথে আজকের শান্তিনিকেতনের হয়তো তেমন মিলটি আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, কিন্তু বুদ্ধদেবের কাব্যিক লেখনীতে সেই স্বাদটি খুঁজে নিতে দোষ কোথায়? খুঁজতে গিয়ে মনে হল, ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথকে পাঠ করে তাঁকে নিয়ে এমন অনন্য বিশ্লেষণ আর কোন্ লেখক দিয়েছেন? রবীন্দ্রনাথের জীবনের একেবারেই শেষ সময়ে শান্তিনিকেতনে গিয়ে দেখলেন এই ঠাকুরের তো কোনো তাড়া নেই! অন্তহীন কাজ নিয়ে অন্তহীন ছুটির মধ্যে তিনি বসে আছেন। সবার জন্যই তার দুয়ার সব সময়ই খোলা! সমস্ত পৃথিবী, তার সব নদী-পর্বত, সমুদ্র-প্রান্তর আর সঙ্গ-নির্জনতা সব এসে যেন জমা হয়ে আছে উদয়নের দখিন দিকের ঘরগুলিতে আর বারান্দায়।

ঐশ্বর্যমন্ডিত দিগ্বিজয়ী রাজা রবিঠাকুরের বিশ্বব্যাপী যে যশ তা তাঁর মানসপটে কোনো মোহ আনেনি। তিনি জানতেন কবির প্রকৃত আসন তাঁর স্বদেশ আর মাতৃভাষা। যা বিশ্বাস করতেন, যা ভালোবাসতেন তাই তিনি বলতেন। তিনি পড়তেন অনেক কিন্তু লেখার মাঝে বা বলার মাঝে অন্যের বুলি না আওড়িয়ে নিজের মনের কথাই বলতেন। বুদ্ধদেব লিখেছেন–

“আমরা অল্প জানি বলেই সে জানাটুকু যখন তখন যেমন তেমন জাহির করবার চেষ্টায় সর্বদাই টগবগ ছটফট করি, তাকে বাড়িয়ে ফাঁপিয়ে ফেনিয়ে ফুলিয়ে মনোবিপনীর বাতায়ন আমরা প্রাণপণে সাজাই– যাতে দেখামাত্র চমক লাগে। পাছে কেউ মনে করে লোকটা মূর্খ, সেজন্য আমাদের মুখে ও লেখায় বইয়ের নাম, লেখকের নাম, উদ্ধৃতিবচনের ছড়াছড়ি, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ইচ্ছায় আমরা এতই কাতর যে তর্কের কোনো ছুঁতো পেলে জোঁকের মত আঁকড়ে থা��ি। আমরা যে কুশিক্ষিত এতে তারই প্রমাণ হয়। রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থকীট, গ্রন্থবিলাসী কিংবা গ্রন্থদাম্ভিক নন, তিনি গ্রন্থভূক।”


আহা! কী অকপট উচ্চারণ! আজকালকার পড়ুয়া গ্রন্থকীটদের সাথেও কম মিল পাচ্ছি না। নিজেও তার বাইরে নই জানি। অথচ আশি বছর আগের লেখা! পড়াশুনার অহমে অহেতুক আতলেপনা সেই যুগেও ছিল বৈকি!
যাক ওসব কথা। মুগ্ধতার গুণই গাই আবার! সব পেয়েছির দেশে কত অসাধারণ সব কাব্যিক বর্ননায় নিজের চোখে দেখা ঠাকুরকে ঠিক ঠাকুরের ভাষাতেই যেন উপস্থাপন করেছেন বুদ্ধদেব। মধুময় পৃথিবীর ধুলো উড়িয়ে আশি বছরের ঠাকুরকে অতিনিকট থেকে দর্শন করার দুই মাস পরেই মহাপ্রস্থান হয় রবীন্দ্রনাথের। তার আগে বুদ্ধদেবকে লেখা শেষ চিঠিটিও এই বইটিকে বাড়তি মাহাত্ন্য দিয়েছে। প্রথম খন্ডের (শান্তিনিকেতন) চেয়ে দ্বিতীয় খন্ড (রবীন্দ্রনাথ) অতিমাত্রায় সুখপাঠ্য লেগেছে আমার। প্রথম খন্ডের জন্য ৪ আর দ্বিতীয় খন্ডের জন্য ৫ তারা।
Profile Image for নাহিদ  ধ্রুব .
143 reviews27 followers
February 19, 2022
বইটা পড়তে পড়তে শান্তিনিকতনে যাওয়ার বহু পুরাতন ইচ্ছেটা আবার নতুন করে প্রবলভাবে জাগ্রত হলো। খোলা হাওয়া এসে লাগলো চোখে মুখে, প্রবল স্তব্ধতায় ডুবে যেতে যেতে দেখলাম, জানালার বাইরে বিস্তৃত মাঠ। ঐ মাঠে যতো ঘাস, তাঁরা বলে যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের প্রফেসির কথা, আর এসবের সাথে সঙ্গ দিচ্ছে বুদ্ধদেবের মিষ্টি ভাষা। একেই বলে সুখ পাঠ!
Profile Image for Chandreyee Momo.
221 reviews31 followers
February 2, 2022
শান্তিনিকেতন যাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হলো বইটি পড়ে। কি সুন্দর ❤️
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
April 4, 2025
১৯৩৮ সালে শেষ বার শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন বুদ্ধদেব বসু। সেখানে গিয়ে তিনি উঠেছিলেন 'পুনশ্চ'তে। কবি তখন থাকতেন ' শ্যামলী'তে।

সেখানকার গাছাপাল, রাঙ্গা পথ, পাখি, ফুল, নদী, সাঁওতাল পল্লী যা কিছু সব কিছুর আলাদা রকম সৌন্দর্য, তা সব উপভোগ করা ও অন্তরে ধারন করার জিনিস। সেখানের সব কিছু বড়ই দামী ও সৌন্দর্য্যের আধার নিয়ে থাকে তবে না টাকার মূল্যে না অন্তরে ধার করার ক্ষমতা দিয়ে।

বইটাতে বুদ্ধদেব বসু দুটো ভাগে ভাগ করে লিখেছেন।
প্রথম খন্ডে শান্তিনিকেতনের ঘর গাছপাল ও সেখানে থাকা মানুষের হৃদয়ের সৌন্দর্য্য নিয়ে। একই সাথে নিজের আত্মোপলব্ধি যা তিনি সেখানে গিয়ে সঞ্চয় করেছেন, দেখেছেন নিজের হৃদয়ের গভীরতা উপলব্ধি করেছেন জীবন ও কবিসত্তাকে। তারই বর্ণনা করেছেন প্রথম খন্ড " শান্তিনিকেতনে "।

দ্বিতীয় খন্ডে লিখেছেন কবিকে নিয়ে। মানুষ কবি বা লেখক হিসেবে নয় মানুষ হিসেবেও সাধারণের থেকেও কতোটা অসাধারণ তাঁর সাথে কাটানো সময় ও উপলব্ধি নিয়ে দ্বিতীয় খন্ড 'রবীন্দ্রনাথ'।

শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্রনাথ, স্নিগ্ধ দুটি বিষয় নিয়ে চমৎকার এক আত্মোপলব্ধি র বই " সব-পেয়েছির দেশে"।
কবিতার মতই সুন্দর বইটা, তবে এই বইটা পড়ার সময় " সঞ্চয়িতা" কাছে নিয়ে পড়তে পারলে আর একটু ভালো লাগতো।



📖 সব-পেয়েছিস দেশে
🖊️ বুদ্ধদেব বসু
Profile Image for Shishir.
188 reviews42 followers
January 16, 2025
"‘উদয়নে’ আমার সবচেয়ে ভালো লাগলো, 'পুপেদিদি'র ঘরগুলি । স্বামিনীর অনুপস্থিতে ঘরগুলি ঠিক তাঁর মনের মতো ক'রেই সাজানো আছে । শোবার ঘরটি উত্তর, দক্ষিণ আর পশ্চিমে খোলা—এই পশ্চিম দিকই মনোহর ৷ ধূ-ধূ প্রান্তর আকাশে গিয়ে মিশেছে ; উত্তর পশ্চিম কোণে যেখানে মেঘ ওঠে, যেদিক থেকে বৃষ্টি আসে, সেদিকে দৃষ্টি আদিগন্ত অবারিত। এ ঘরটির নাম হওয়া উচিত শাওনি, বর্ষা দেখবার পক্ষে এমন ঘর হয় না ৷ মস্ত-মস্ত কাচ বসানো জানলা দিয়ে চোখ ডুববে বর্ষার সমারোহে, মন ডুববে। রথীবাবু বলছিলেন আকাশের ঐ কোণে উঠে দৈত্যের মতো মেঘ যখন ছুটে আসে সে নাকি এক আশ্চর্য দৃশ্য" ।

- এ ঘরটির নাম হওয়া উচিত 'শাওনি '। বৃষ্টি দেখা ঘরের এমন নাম তো কবিরাই দিতে পারেন ।

রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন নিয়ে অপূর্ব লেখা !!
Profile Image for Alimur Razi Rana.
95 reviews5 followers
December 2, 2023
৪০ এর দশক, রবীন্দ্রনাথ তার শেষ বয়সে, গ্রীষ্মের গরম যখন পুরোদমে, এমনি সময়ে বুদ্ধদেব বসু তার পরিবার সমেত শান্তিনিকেতনে আসেন। এই বই সেই সময়েরই বর্ণনা। কিন্তু যদি অন্যান্য স্মৃতিকথার মতো কোথায় গেলাম, কাকে দেখলাম, কি বললাম, তা নেই। অনেকক্ষেত্রেই তা যেন, বাইরের দৃষ্টি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ আর শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা। শান্তিনিকেতন কে লেখক স্বর্গের সাথে তুলনা করেছেন, প্রাকৃতিক দৃশ্যে মুগ্ধ হয়ে নয়, বরং এমন একটা জায়গা আছে, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প তাদের গুরুত্ব বজায় রেখে চলতে পারে। বুদ্ধদেবের মতে, " শান্তিনিকেতনে দেখলুম জীবন আর শিল্পের আনন্দিত সমন্বয়। শিল্প এখানে সৌখিন বিলাসিতা নয়, বিশেষ-বিশেষ উপলক্ষে পরবার পোশাকি কাপড় নয়, এখানে জীবনই শিল্প, শিল্পই জীবন।" রবীন্দ্রনাথে লেখক মুগ্ধ, রবীন্দ্রনাথ তখন তার জীবনের শেষ দিনগুলি পার করছেন। কাঁপা কাঁপা হাতে সই করা ছাড়া কিছু লেখতে পারেন না, কারও সাহায্য ছাড়া চলতেও পারেন না, সেই সময়ও তিনি আগের মতই সজীব, প্রাণবন্ত। শিল্প-সাহিত্য সম্পর্কে সচেতন, সমকালীন বই-পত্রিকা তার হাতে দিতে হয়, বাংলা সাহিত্যে এত বছর রাজ করার পরও আমি যা লিখবো, তাই সাহিত্যের শেষ কথা, এই ধরনের মানসিকতাও নেই। বুদ্ধদেব বসু তাকে শুধু বাংলায় নয়, পুরো মানব ইতিহাসের মহা-পুরুষদের সাথে স্থান দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ আর শান্তিনিকেতন ছাড়াও সাহিত্য নিয়ে কিছু কথা আছে, তা যেন পাঠক তাদের অজান্তেই ভাবাবে। "পলায়ন?" নামে একটা অনুচ্ছেদে লেখক বলছেন সেই সব লেখকদের কথা যারা, সাহিত্যকে রাজনীতি বা আদর্শ প্রচার করতে ব্যবহার করে কিংবা সেইসব সমালোচক যারা রাজনীতি বহির্ভূত লেখাকে "এস্কেপিষ্ট" (escapist ) মনে করে। এই বিষয় এর বিপক্ষ নিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর যদি আর একটা লেখা থাকত, তাহলে বেশ হতো। ইংরেজদের আগমন আর বাংলা সাহিত্যের জাগরণ, তা কি হাত ধরা ধরি করে এসেছে, এ নিয়ে কিছু কথা আছে। বুদ্ধদেব বসুর এই ক্ষুদ্রাকার বই অনেক ভাবেই ভাবনার খোরাক জোগাবে।
Profile Image for Saima  Zaman Tisha.
55 reviews3 followers
November 19, 2017
আমার পড়া লেখকের প্রথম বই। নামটার প্রতি মুগ্ধতা থেকেই পড়া। শান্তিনিকেতন, রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক টিপিক্যাল ভারতীয় মানসিকতা নিয়ে লেখা। স্মৃতিকথা না বলে একান্ত ব্যক্তিগত পর্যালোচনা ভালো। লেখাটা বেশি ঝরঝরে, মুগ্ধকর। পড়ার পর মনে হয়েছে ঘোরতর রবীন্দ্র হেয়ালিও বইটা পড়ে রবীন্দ্রনাথ কে ভাববে।
Profile Image for Zahid Hassan.
1 review
July 8, 2024
বুদ্ধদেব বসু, আমার কাছে, রবীন্দ্রনাথ-পরব���্তী সর্বত প্রতিভাযুক্ত লেখক। তাঁর লেখার সঙ্গে প্রথম পরিচয় মেঘদূতের ভূমিকা দিয়ে। মনে পড়ে, তাঁর স্বাদু গদ্যের অতল আহ্বানে কতবার যে মধ্যরাতে জেগে উঠে মশারীর ভেতরে লন্ঠনের আলোয় পড়েছি তার প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনাবলী, অথবা প্রেমপত্রের মতো ছোট গল্প কিংবা রুকমীর মতো অনবদ্য উপন্যাস! আটের দশকে, মনজুরে মওলা- বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক, ক্লাসে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে বুদ্ধদেব বসু আত্মস্থ করেছিলেন ইংরেজি গদ্যের চলন তাঁর বাংলা গদ্যে। উদাহরণ হিশেবে নিয়েছিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: কবি প্রবন্ধের এই লাইনটিকে: তাঁর সামনে (In front of him), রবীন্দ্রনাথের মতো (like Rabindranath), সুযোগ ছিল অপর্যাপ্ত (opportunities were unlimited), ...। 
শব্দ, বিশেষ করে কবিতায়, শূন্য, ঈষদচ্ছ স্ফটিকের পেয়ালার মতো; প্রায়শই তার নিজস্ব কোনও অর্থ নেই, তুমি তাকে অর্থ দান করো- এই অনুভূতি যিনি জাগান, তিনিই মুর্ত করে তোলেন তাঁর সৃষ্টি- হোক সে গল্প বা কবিতা, এবং অবশ্যই প্রবন্ধ। এবং সেখানেও, অন্তত আমার কাছে, উত্তুঙ্গ শিখরস্পর্শী রবীন্দ্রনাথের পরেই আছেন বুদ্ধদেব বসু। উদাহরণ দেওয়ার প্রলোভন থেকে মুক্ত হওয়া গেল না। রবীন্দ্রনাথের: ফুল বলে ধন্য আমি মাটির 'পরে।কী ফুল ঝরিল বিপুল অন্ধকারে।তোরা কেউ পারবি নে গো, পারবি নে ফুল ফোটাতে।
আর বুদ্ধদেব বসুর ব্যাখ্যায় পাচ্ছি, "তিনটি পংক্তিতেই ফুলের উল্লেখ আছে, 'ফুল' থেকে অন্য কোনো আভিধানিক অর্থ কিছুতেই বের করা যাবে না, তার সরল অর্থ বাতিল হচ্ছে না কোনোখানেই, অথচ এক পংক্তি থেকে অন্যটিতে পৌঁছানোমাত্র আমরা অনুভব করি যে শব্দটির ইঙ্গিত বদলে-বদলে যাচ্ছে: কখনো তাতে মরত্বের ভাব পাচ্ছি, কখনো ব্যর্থতার কখনো বা সৌন্দর্যের।"
"যে-কোনো বিষয়ে যে-কোনো আলোচনায় বিষয়টাকে ছাপিয়ে ওঠে তাঁর স্বর, দ্যুতি, স্পন্দন, বেগ, তরঙ্গ- এক কথায় তাঁর ব্যক্তিস্বরূপ। অর্থাৎ, প্রবন্ধ যেমনটি হওয়া উচিত নয় বলে আমরা জানি- অন্ততপক্ষে পাঠশালায় যা শেখানো হয়ে থাকে-তার প্রবন্ধ ঠিক তা-ই। ... যেখানে পাঠকে স্বমতে টেনে আনা তার প্রকাশ্য অভিপ্রায় সেখানে তিনি তীক্ষ্ণ করে তোলেন তাঁর ইন্দ্রিয়গুলিকে; যেখানে বুদ্ধির কাছে প্রমাণ দিতে হবে সেখানে তিনি বেআইনিভাবে আমাদের হৃদয়ের আর্দ্রতা সম্পাদন করেন।" রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসুর এই অনুধাবন ছবির মতো ছড়িয়ে আছে তাঁর "সব-পেয়েছির দেশে," বইয়ের প্রথম খন্ড: শান্তিনিকেতন, যার দীর্ঘ অংশ বর্ণনামূলক, সেখানে সুললিত গদ্যে এগিয়ে যাচ্ছে লেখা, কিন্তু যেখানে তিনি প্রকাশ করছেন তাঁর অন্তরতম অনুভূতি, সেখানেই ঝিলকিয়ে উঠছে তার লেখনী, অনির্বচনীয় বাক্য ও শব্দমালায় এক নিমিষে অনিন্দ্য এক ভুবনে আমাদের নিয়ে যান বুদ্ধদেব বসু।
"আমরা জানতে পারি কী-ভাবে এই জগত তাঁর চেতনার মধ্যে প্রবেশ করছে, কোথায় তাঁর প্রেম, কোন সংশয় তিনি দষ্ট, কোন গোপন বেদনাকে রচনার মধ্যে দিয়ে পরিপাক করে নিচ্ছেন। অর্থাৎ, বিষয় যা-ই হোক না, তিনি ব্যক্ত করছেন নিজেকে।" রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসুর এই কথাগুলোর অধিকাংশই, বিশেষ করে শেষেরটুকু তো বটেই, তাঁর নিজের জন্যও প্রযোজ্য। আর তার জন্যই বুদ্ধদেব বসুর প্রবন্ধে, তাঁর নিজের কথাতেই, "ভাষা হ'য়ে ওঠে ভাবনার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা," আর তখনই ভাষার অন্তরে নতুন প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি আমরা। যে কারণে বইয়ের দ্বিতীয় অংশ: রবীন্দ্রনাথ- যেখানে বাঙময় হয়ে উঠেছে বুদ্ধদেব বসুর অন্তরতম অনুভূতি, সে অংশটি বেশি ভালো লেগেছে বেশি।

সব-পেয়েছির দেশে লেখা হয় ১৯৪১ সালে। এসময়ের প্রবন্ধের স্বাদু ভাষা স্বাদুতর হয়ে পূর্ণতায় পৌঁছে যায়, অন্তত আমার পাঠ অনুযায়ী, ১৯৫৭ পরবর্তী সব লেখাগুলোয়। 
এই বইটি ছাড়াও বুদ্ধদেব বসুর অনেকগুলো প্রবন্ধ আবার নতুন করে পড়া হলো। সে-ও বা কী কম আনন্দের!
Profile Image for Gain Manik.
358 reviews4 followers
March 22, 2025
আহা! কী পড়লাম। ব‌ইয়ের শেষে রবীন্দ্রনাথের একটি চিঠি আছে গ্ৰন্থকারকে লেখা-সেখানে লেখক আনন্দের বর্ণনা দিয়েছেন পাতে মচমচে চিঁড়ে পাওয়ার সাথে। এই ব‌ই পড়ে রবীন্দ্রনাথ কেন বড় তার কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যায়। গ্ৰন্থকারের শান্তিনিকেতন বসবাসকালীন সময়কে খুব সুন্দর করে এঁকেছেন। এছাড়াও পলায়ন নামের যে অধ্যায়টি আছে সেটি আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আসলেই সাহিত্যের তো কাজ নয় সমাজ সংস্কারের! একটু এলোমেলো অগোছালো হয়ে গেল, আসলে অমৃত পানের আতিশয্যে এহেন প্রলাপ মুখ থেকে নিঃসরিত তো হবেই। এটা কোন রিভিউ নয়। ক্ষমা কাম্য।
Displaying 1 - 10 of 10 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.