What do you think?
Rate this book


86 pages, Unknown Binding
First published January 1, 1941
কলকাতার জীবনে বাঁধা সময়ে বাঁধা কাজের অবিরাম উৎকণ্ঠার পরে, সাহিত্যিক বাকবিতণ্ডা, সামাজিক আচার ব্যবহারের অফুরন্ত স্নায়বিক টানা-হেঁচড়ার পরে, জীবিকা অর্জনের ঘৃণ্যতা আর জীবন-রচনায় পদে পদে ব্যর্থতার পরে, শান্তিনিকেতনে এসে কী যে ভালো লাগলো। মনে হ'লো মুক্তি পেলাম, জীবনকে ফিরে পেলাম। তর্ক নেই, উত্তেজনা নেই, মনস্তাপ নেই--কর্মক্ষেত্রের রক্তশোষক নিপীড়ন নেই অথচ কর্মজগতের জাগ্রত সচেতন মনোভাব আছে। এখানে আকাশে বাতাসে পাখির গানে ইন্দ্রিয় নন্দিত হয়, হৃদয় মধুরতায় ভ'রে যায়, আবার বুদ্ধিবৃত্তিতে নিদ্রালুতা আসে না, ইচ্ছে করলেই তার চরম চর্চা করা যায়। নির্জনতার অভাব নেই, গুণীজনসঙ্গও আছে হাতের কাছে। নগরের হৃদয়হীনতা নেই, নগরের নৈর্ব্যক্তিকতা আছে। পাড়াগাঁর ধূর্ত কুটিলতা নেই, অনাড়ম্বর ভাবটি আছে।
তাঁকে দেখে, তাঁর কথা শুনে যখন বেরিয়ে আসতুম, রোজই নতুন ক'রে মনে হতো যে সমস্ত জীবন ধন্য হ’য়ে গেলো। তাঁর কথা যেন বর্ণাঢ্য গীতিনিঃস্বন, যেন গীতধ্বনিত ইন্দ্রধনু। তা যেমন শ্রুতিসুখকর তেমনি মনোবিমোহন । বাংলা ভাষার উপর তাঁর প্রভুত্ব যে কী অসীম তা তাঁর মুখের কথা না-শুনলে ঠিক ধারণা করা যায় না। তিনি কথা বলেন হুবহু তাঁর শেষের দিককার গদ্য বইগুলোর মতো, অতি সাধারণ কথাকেও অসাধারণ ক'রে বলবার ক্ষমতায় তাঁর গল্পের সকল পাত্রপাত্রীকে তিনি হার মানান, উপমা রূপক থেকে-থেকে ফুটে উঠেছে ফুলের মতো, হঠাৎ অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে ঝিলিক দিচ্ছে কৌতুক। তাঁর নিটোল, সুন্দর, স্বর্ণঝংকৃত কণ্ঠস্বর, আর তাঁর উচ্চারণের স্পষ্ট, দৃঢ় অথচ ললিত ভঙ্গির সঙ্গে সকলেই তো পরিচিত, তাঁর মুখে শুনলে বাংলাকে অনেক বেশি জোরালো ও মধুর ভাষা ব’লে মনে হয়। তাঁর অভ্যর্থনার মধুরতা ও আলাপের আন্তরিকতা ভোলবার নয়।