ছোটদের জন্যও যাঁরা কলম ধরেছেন, তাঁদের মধ্যে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য । আরও উল্লেখ্য এই কারণে যে, কিশোর-রচনায় তিনি শুধু ঘটাননি, একই সঙ্গে ছোটদের . পরিবর্তনের কথাও ভেবেছেন । নিছক হাসিঠাট্টার উপাদান ছোটদের ক্ষেত্রে তাঁর উপজীব্য নয় । অল্প বয়স থেকেই ছোটরা যাতে বড় হবার, মানুষ হবার প্রেরণা পায়-তাঁর লেখার মধ্যে সেই দিকটার দিকেই নজর বেশি । আগুনে না পোড়ালে যেমন সোনা হয় না, তেমনি দুঃখ-কষ্টভরা বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা ছাড়াও মানুষ খাঁটি মানুষে পরিণত হতে পারে না । কিশোর-উপন্যাসে এই সত্যটিকেই যেন তুলে ধরেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। যেমন, এই ‘ইতি তোমার মা” । বিচিত্র ঘাত-প্ৰতিঘাতের মধ্য দিয়ে এক প্রতিকূলতাকে কীভাবে জয় করতে শিখল, তারই এক গভীর, মর্মস্পশী কাহিনী এই উপন্যাস । সত্য, ধর্ম ও পৌরুষের চূড়ান্ত জয়ের এক অপ্রতিম আলেখ্য ।
Sanjib Chattopadhyay (Bengali: সঞ্জীব চট্ট্যোপাধ্যায়) (born February 28, 1936 in Kolkata) is a Bengali novelist and writer of short stories. His style is characterised by use of short satirical sentences mixed with very lively language.
Childhood and education: Sanjib Chattopadhyay spent his childhood in the hilly terrain of Chota Nagpur Plateau under the care of his father after his mother died when he was five. They relocated to Calcutta and he was admitted to Victoria Institution school which he joined at grade seven. He later went to Scottish Church College, Calcutta where he studied chemistry.
Work: The subjects of his fiction are mostly families living in Calcutta city. Within the confines of these homes, he challenges the moral values of the fast-changing middle class of the city. Chattopadhyay frequently uses old men as his protagonists. These aged characters create the spiritual and philosophical edge found in his novels Lotakambal (The Blanket and Quilt) and Shakha Prasakha (Branches). His most famous novella Swetpatharer tebil (The Ivory Table) is an example of his characteristic style of story-telling which mixes tension, dilemma, curiosity, pity, humor, and satire. He has written fiction for children and continues to write for magazines and newspapers. Chattopdhyay current writing is related to Ramkrishna Paramhansa, Sarada Devi and Swami Vivekananda. Some of his major works apart from the above mentioned are: পরমপদকমলে (At His Divine Feet) ক্যান্সার (Cancer) দুটি চেয়ার (Two Chairs) রসেবশে রাখিস মা রসেবশে বেশ আছি রসেবশে তুমি আর আমি (You And I) একে একে (One By One) কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই (Calcutta Is In Calcutta) Apart from that his notable juvenile literature includes রুকু-সুকু, বড়মামা-মেজমামা series which are fun-filled and analyse various philosophical aspects of life through the eyes of children.
Awards: Chattopadhyay is the recipient of the Ananda Puraskar in 1981 and the Sahitya Academy Award for his book শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন in 2018.
'ইতি তোমার মা' - এই বইটার নাম শুনলে/ দেখলেই একটা দমবন্ধ অনুভূতি হবে। চিরকালের জন্য একটা ক্ষত হয়ে থেকে গেলো। সেই সাথে আমার পড়া সেরা দশটা বাংলা কিশোর উপন্যাসের তালিকায় রেখে দিলাম।
এমন কোনো কিশোর উপন্যাস পড়ছেন যেইখানে প্রত্যেকটা চরিত্র বিভিন্ন বয়সের হইলেও আদতে সবগুলাই কিশোর?
ক্লিকবেইট টাইপের প্রশ্ন মনে হইলেও আদতে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের বই 'ইতি, তোমার মা' পড়লে আমার ধারণা আপনেও সহমত হইবেন। কিছু কিছু বইয়ের আসলে রিভিউ দেওয়া সম্ভব হয় না, স্পয়লার বইলা দিলেও বইটা পড়ার আবেদন একদমই নষ্ট হয় না; এই বইটা সে কিছিমের।
গল্পের মূল চরিত্র 'বুড়ো'৷ নামে বুড়ো হইলেও সে আসলে নিতান্তই একজন কিশোর বালক। তবে তারে আসল মূল চরিত্র না বইলা অন্যতম প্রধান চরিত্র বললে মনে হয় ভালো হয়। কারণ এই বইয়ের অন্যতম প্রধান চরিত্র বুড়োর বাবা এবং আরো অনেকে। বুড়োর বাবা হচ্ছেন তেমন বাবা যেমন বাবাকে আমরা স্বপ্নে দেখি। মানে বাবাসুলভ রাগ বকুনি নাই, নাই সারাক্ষণ শাসন আর পড়ার উপদেশ। পড়াশোনাকে একেবারে বাদ দেন না তিনি তবে পড়াশোনার পাশাপাশিও যে জীবনের আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে সেইটাকে হাইলাইট করেন উনি। স্বভাবচরিত্রে এই দুই কিশোরকে সামলাইয়া রাখার চেষ্টা করেন বুড়োর মা। তারা এলোমেলো হইয়্যা গেলেও তিনি বাঁইধা রাখেন তাদেরকে। কখনও শাসন কইরা, কখনও টাকা পয়সা বাজে খরচের লিমিটে আটকায়া রাইখা। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, তিনিও আদতে একজন কিশোরী মানুষ। বিড়ালের ঘটনাতেই সেইটা বোঝা যায়। আরো অনেক চেহারা দেখতে পাই আমরা এ বইতে। সবগুলাই চমৎকার। আর এইসব সুখের গল্পে আসে কিছু দুঃখের মুহূর্তও। সেইগুলা বই থেকেই দেইখেন। তবে বইটা পইড়েন, ভালো লাগার কথা অবশ্যই।
বই আমার দারুণ লাগছে। বইয়ে বহুত জ্ঞান দেয়া আছে তবে সেইগুলা সিচ্যুয়েশন বেজড। মানে ফাও উপদেশের ভারি ভারি বুলি না। বুড়োর পিতামহের চরিত্রটাও এইখানে ইম্পর্ট্যান্ট। এইটুক পইড়া বইটারে লাইট মনে হইলেও বইটা একেবারে লাইটও না। এই বইটা সকল কিশোরদেরকে পড়ানো যাইতে পারে (কিশোর বলতে যারা ৯-১০ প্লাস যারা)। প্রায়ই পোস্ট দেখি আমার সদ্য পড়তে শুরু করা অমুক তমুক শিশু কিশোর আত্মীয়রে কী বই পড়তে দেয়া যায়? এই যে ভাই, এইটা দেন। এইটা স্রেফ পড়ার আনন্দই দেবে না, পোলাপানের মানসিক বিকাশেও হেল্প করতে পারবে বইলা আমার ধারণা। এবং এই বইটা পইড়া আমি সিদ্ধান্ত নিছি, বছর শেষে এই টাইপ বইয়ের একটা ডাটাবেস বানামু। মানে যেইখানে ৯-১০ থেকে ১৪-১৫ বছরের পোলাপানের পড়ার উপযোগী বইয়ের সাজেশান থাকবে।
তবে এইটা স্রেফ কিশোরদের পড়ার বই না। আপনে আমার মত রিয়েল বুইড়া হইলেও এইটা পড়তে পারেন। এইখান থেকে আপনার বহুত কিছু শিখার আছে। ঐ যে বলছিলাম না, বুড়োর বাপ আসলে আমাদের স্বপ্নের বাপ? আপনে নাইলে স্বপ্নের সেই বাপ পান নাই, কিন্তু আপনে নিজেই তো আপনার সন্তানের জন্য স্বপ্নের সেই বাপ হইতে পারেন। আর সেইটা হইতে চাইলে এ বই আপনারে একটু হইলেও প্রভাবিত করবে, সেইটা আমি লিখা দিতে পারি।
বছরের প্রথম বই একটু ভেবেচিন্তেই হাতে নিয়েছিলাম।ফুটপাথের দোকান থেকে নামমাত্র মূল্যে পেয়ে গেলাম এই অসাধারণ বইটি।পড়ার সময় এতো ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম আর মনে হচ্ছিল ইশ যদি আবার সেই ছোটবেলায় ফিরে যাওয়া যেতো তাহলে আমিও বুড়োর মতো করে নতুন করে ছাঁচে ফেলে নিজেকে তৈরি করতাম। বুড়োর বাবার মতো বাবা হওয়া আর মায়ের মতো মা হওয়া চারটিখানি কথা নয়।পুরো বইজুড়ে কি সুন্দরভাবে ছোটো ছোটো করে জীবনের শিক্ষা দিয়ে গেলো। কিশোরবয়সেই এই বই পড়ে ফেলা উচিৎ ছিলো, কেনো যে এমন অসাধারণ বই এর হদিস পেলাম না, ভাবলে আফসোসই হয়।কিশোর বয়সে পড়িনি বলে কিন্তু এই বইয়ের আবেদন একটুও কমে যায়নি। বুড়োর মতো হতে পারিনি তো কি হয়েছে? বুড়োর বাবা কিংবা মা এর মতো হতে পারলেই বা কম কিসে?সম্ভব হলে সবাইকে এই বইটি একবার হলেও পড়তে বলতাম।জীবনে বেঁচে থাকাটাই তো সব নয়।একজীবন এমন সুন্দরভাবে আপনজনদের সাথে নিয়ে সত্যের পথে কাটিয়ে দিতে পারাটাই আসল।
ফেসবুকে থাকাকালীন প্রায়ই দেখতাম, বইয়ের গ্রুপে লোকজন জানতে চাইছে, এমন কোনো বই আছে কি না যা পড়ে অঝোরে কাঁদতে হয়। সে-প্রশ্নের উত্তরে মূলত ইয়ার্কি-ফাজলামিতে ভরা কমেন্টই আসত। তবে আলোচ্য বইটি নিয়ে কিছু বলতে গেলে প্রথমেই মনে হয়, এ হল বিশুদ্ধ টিয়ার-জার্কার। এর চরিত্রগুলো অমল-ধবল, তাদের সঙ্গে হওয়া ট্র্যাজেডি প্রায় এপিক প্রোপোর্শনের, আর শেষের কথাগুলো পড়ার পর নিজেকে কিছুতেই বিচ্ছিন্ন বা নৈর্ব্যক্তিক অবস্থানে রাখা যায় না। কাঁদতে হয়। অঝোরে কাঁদতে হয়। চোখ, হয়তো মনও বেশ পরিষ্কার হয়ে যায় তারপর। একেবারে অবাস্তব বই, বুঝলেন! এ-সব হয় না, হতে পারে না। কিন্তু লেখাটা কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। নরম আঁচল, জ্বর-হওয়া কপালে ঠান্ডা হাত, পাখার বাতাসের মতো এটা থেকেই যায় মনের কোণে। পারলে পড়ে নিয়েন। এমন বই আর হয় না।
অনবদ্য কিশোর উপন্যাস, আমি নিজের জীবনের সাথে রিলেট করেতে পারছিলাম। আমার মায়ের শেষ দিনগুলি বুড়োর মায়ের শেষ দিন গুলোর মতন ই কষ্টামৃত। আমার মায়ের না পাওয়া গুলো বুড়োর মায়ের আফসোস গুলোর মতন। একই সাথে আমার মা যেমন অকুতোভয় বুড়োর মা তেমন ই। আমি মনে করি উপন্যাস হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায় আর "ইতি তোমার মা" হৃদয় দিয়ে হাজার বার উপলব্ধি করার মতন উপন্যাস।
বইটা কোথায় থেকে কোথায় যায় তা শেষ করার আগ পর্যন্ত বোঝা সম্ভব না। প্রথম দিকে বিরক্তিও লাগতে পারে কাহিনীর ধীর পেসের কারণে । বইয়ের নাম দেখেই আমি অনুমান করেছিলাম পুরা কাহিনীটা কিভাবে চলবে, কিভাবে পরিণতি পাবে। আর আমি ঠিক ছিলাম । শুরুতেই আমরা দেখতে পাই এক সাধারণ মধ্যবিত্ত হাসিখুশি পরিবার তাদের সরলসোজা জীবন কাটাচ্ছে। পরিবারের মধ্যমণি একজন নারী কিংবা একজন মা। বুড়ো এক কিশোর যে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর জটিল হিসাব নিকাশ বোঝে না। তার পুরো পৃথিবী জুড়েই তার বাবা-মা এবং তাদের ভালোবাসা। এই পরিবারের যেন কোনো দুঃখ নেই, কষ্ট নেই, চিন্তা নেই। আপন��� বইটা পড়তে পড়তে কখন ওদের একজন হয়ে যাবেন নিজেও বুঝবেন না। দেখতে দেখতে এরকম সময়ে কাহিনীর মোড় ঘুরে যায়। বুড়োর মায়ের সাধারণ একটা রোগ বেশ গুরুতর হয়ে পড়ে। বুড়ো কেও মারাত্মক ভাবে ফাঁসানো হয় ভুয়া এক ঘটনাতে। যেন স্বর্গীয় সুখের জীবন থেকে হঠাৎ পাতাললোকের নিকৃষ্ট বাস্তবতা। বইটা যখন শেষ হবে তখন পাথরও গলতে বাধ্য। এক অসহিষ্ণু বিষণ্ণতা আমার চারপাশ ছেয়ে গেল। আপনারও তেমনই হবে। কারণ, প্রতিটি মায়ের চলে যাওয়া বেদনার ; প্রতিটি মায়ের মৃত্যু দুঃখের।
এখন যদি মনে হয় যে কাহিনীতো জানিই পড়ে র কি হবে ; তাহলে বলি আপনি ভুল করছেন। এতটুকু জানা আবশ্যক বইটার শেষ পর্যন্ত লেগে থাকার জন্য। মাঝে মাঝে বইটা চরম বিরক্তিকর হয়ে দাড়ায়। তখন ছেড়ে দেওয়া যাবে না। একবার শেষ করতে পারলে শুরুর বিরক্তি গুলাই ভালো লাগবে। :)
ছোটো থেকেই কিশোর বুড়ো তার দাদি অর্থাৎ দাদুর আদর্শে অনুপ্রাণিত। দাদু মারা গেলেও তাঁর আদর্শগুলোকে সে ভোলেনি এক মুহূর্তের জন্যও। বুড়ো তার বাবা, মা, পিঙ্কা যে একটি কুকুর এবং পুশ যে একটি বিড়ালছানা, এদের নিয়েই থাকে। এমন একটি আদর্শ পরিবারের ছেলে বুড়ো,যেখানে আদর্শকে নিয়ে সবসময় চর্চা হয়। বুড়োর বাবা মা তার সাথে বন্ধুর মতো মিশে প্রতি মুহূর্তে তাকে শেখায় উদার হতে, মন বড়ো করতে, হিংসা ত্যাগ করতে। কারণ অল্প বয়স থেকেই বাচ্চারা জীবনে প্রকৃত মানুষ হওয়ার প্রেরণা পায়। কারণ আজকের শিশুরাই যে আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। বাবা মা শব্দটি খুব ছোটো,কিন্তু এর ব্যাপ্তি অনেক। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে বাবা মা-ই হলেন প্রথম এবং প্রকৃত শিক্ষক, এর কোনো বিকল্প হয় না। এই উপন্যাসে খুব সুন্দরভাবে সেটাই ফুটে উঠেছে প্রতি পাতায় পাতায়।
অন্যদিকে বুড়োর সাথে শ্যামলের হিংসা থেকে, তার সাথে লড়াই ও পরিশেষে শ্যামলের মন পরিবর্তন আমাদের শেখায় যে মন ঠিক থাকলে খারাপ পথ থেকে ভালো পথে ঠিক যাওয়া যায়।
আগুনে না পোড়ালে সোনা খাঁটি হয় না। তেমনি দুঃখ কষ্ট ভরা বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা ছাড়াও মানুষ খাঁটি মানুষে পরিণত হতে পারে না। বইটি পড়তে পড়তে কখনও হেসেছি, কখনও অবাক হয়েছি, আবার কখনও ভেবেছি যে তাই তো এরকমই তো হওয়া উচিত। কিন্তু সবশেষে বুড়োর মায়ের চিঠি যা চোখে জল এনে দিয়েছে।
এই বইয়ের শেষ পরিণতি কী হতে পারে আন্দাজ করেছিলাম, কিন্তু এর যাত্রাপথ যে এতোটা শিক্ষনীয় হবে ধারণাও করিনি। এ তো শুধু বই নয়, যেন প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষা। এতো ভালো একটি উপন্যাস যা পড়ে মন কানায় কানায় ভালোলাগায় ভরে গেছে। বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এক কিশোর জীবনের যাবতীয় প্রতিকূলতাকে জয় করার এক গভীর মর্মস্পর্শী কাহিনী বর্ণিত উপন্যাস এটি।
লেখকের লেখার প্রতি আমি সত্যিই ঋণী হয়ে গেলাম। এই বই সকলের পড়া উচিত। যারা এখনও পড়েননি, দ্রুত পড়ে ফেলুন।
"প্রতিষ্ঠা মানে সত্যের প্রতিষ্ঠা। ঐশ্বর্য হল চরিত্র। যুদ্ধ হল নিজের সঙ্গে। জয় হল নিজেকে জয়। সব সময় মনে রাখবে তুমি কোন্ পরিবারের ছেলে। পিতা, মাতা, পিতামহকে ভুলো না। বিদায়। অনেক অনেক ভালোবাসা। জল নয়, আগুন।— —ইতি তোমার মা।"
বয়সে ছোট হোক কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক, কিন্তু, মনের দিক থেকে একেবারে কিশোর; এমন অনেকগুলো চরিত্র নিয়ে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সাজিয়েছেন এই উপন্যাস। কেবল আনন্দ দেওয়ার জন্য লেখা কিশোর উপন্যাস নয়, বরং, পাঠকদের লেখক শেখাতে চেয়েছেন নৈতিকতার পাঠ, জীবনের পাঠ।
পুরো বই-ই নাটকীয়তায় ভরপুর। তবে পড়ে ফেলা যায়। আর, শেষ পৃষ্ঠা চোখে জল এনে দেওয়ার মতো।
I don't know where to start but I came across this book when I was chasing a deadline and forgot to wish my father on his birthday. Might be unrelated and quite far-fetched, but the next day he was calm as day even though my mother kept teasing me or my grandma taunted. They reminded me (even though I remembered all of it clearly) that when I was not very old but old enough to go near gas burners, I used to try my juvenile attempts at cooking my father's favourite delicacies to tell him that I remembered. I never wished him a "happy birthday". In a conservative family as such, birthday or anniversaries are a hush-hush happy day. So, I used to tongue all my expression with those vain attempts and by acknowledging my gratefulness for that one special day. But here I am, twenty-six and could not remember his day when the day was just there! So, the next day he doesn't show his anger or sadness rather tells me an anecdote. A mythological one. Revolving round Narayana (Hindu god) and Narad (demigod and devotee of Narayana). So, like all other stories there was an once-upon-a-time but instead of kings and queens and dragons and princesses, there was a simple rustic peasant man. He used to toil hard all day but after each day's work he would wash himself up, have his food and before going to bed, chant "Narayana Narayana". Without a miss. So, one day when demigods were arguing about who is the most dedicated devotee of Narayana, Narad announced that he, and he alone was the most dedicated devotee of lord Narayana. None else could take his place because he takes Narayana's name all day and night. But to Narad's surprise, Narayana pointed at the peasant man working under scorching sun while herding his cattles to be the most dedicated devotee. Narad could not understand the logic behind this because he thought this person chants lord Narayana's name only twice a day while Narad has taken his lord's name for umpteenth time. Narad asked Narayana, "How is this possible? I chant your name all the time and how could you think that the peasant is your biggest devotee?" To which, Narayana asked Narad to testify his devotion. Since Narayana lives in tulsi (basil leaves), Narad has to go around a tulsi plant seven times with a bowl full of oil while chanting his lord's name. There is only one condition: not a single drop of oil should touch the ground. Narad smiled in his mind and thought that this was too easy a test for him to prove his devotion. He came up with a bowl filled with oil to its brink. Narayana asked him to start the procedure. Narad started chanting his lord's name and began to walk around the Tulsi plant. However, the bowl was slippery from the oil and it was full till its brink so walking with it and fulfilling the condition clouded Narad's attention. After two or three rounds, Narad was completely invested into saving the bowl full of oil. After seven successful rounds, Narad was overwhelmed with joy thinking that he has completed his target and that he was undoubtedly Narayana's best devotee because not a single drop of oil has left the bowl. Then Narayana asks, "Do you realize that you've stopped chanting my name long ago?". Narad comes to his senses and admits his mistake that he was completely lost in the thought that he has to save the bowl of oil. To which, Narayana replies, "This is why that peasant is my biggest devotee because no matter earthquake or thunderstorm, this person has never stopped chanting my name". And after saying this, my father takes a pause. In the silence between his letters, I have walked through a glass floor under which a river runs. And while taking one step to the other, I have forgotten to see the world around me and focused only on the dangers beneath me.
ACTUAL REVIEW: This book will remain special because my guilty conscience then sent this book to him. Even though he criticised it thoroughly(after a good read of 31 pages) how the author lacked grasp of weaving a close-knitted plot, I am pretty sure "the pause between the letters" hidden in this book will serve your purpose. It won't tell you that it's easy to survive but definitely give you a way to life! 🌟🌟🌟🌟🌟
এই উপন্যাস পড়তে পড়তে প্রথমেই মনে পড়ে যায়—“কী মধুর আমার মায়ের হাসি/চাঁদের মুখে ঝরে।” শিরোনামেই যেমন আবেগের স্বাক্ষর, তেমনি বইটির ভিতরেও মাতৃত্বের কোমলতা, মধ্যবিত্ত সংসারের টানাপোড়েন এবং ভালো মানুষ হয়ে ওঠার দীর্ঘ অনুশীলন লক্ষণীয় স্পষ্টতায় ফুটে উঠেছে।
গল্পের বিস্তার বড় নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতার পরিসর বিস্তৃত: ছোট ছোট ঘটনার ভিতর দিয়ে যে জীবনবোধ ধীরে ধীরে জেগে ওঠে, তা কিশোর মনের জন্য যেমন প্রাসঙ্গিক, তেমন প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের কাছেও গভীরভাবে স্পর্শকাতর।
উপন্যাসের গতি প্রথম দিকটা কিঞ্চিৎ সংযত, এমনকি ধীর লয়ের মনে হতে পারে। কিন্তু সেই ধীরতা আসলে চরিত্র ও অনুভবের স্তরগুলি সাজিয়ে নেওয়ার সময়। একবার আবহটি ঠিকঠাক বসে গেলে বৃত্তান্তের টান আপনাকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।
সঞ্জীব��র বাকভঙ্গি স্বচ্ছ, প্রাঞ্জল; শিক্ষকসুলভ কোনও গাম্ভীর্য নেই, আছে জীবন-শিক্ষার অনাড়ম্বর সরলতা। তাঁর স্মরণীয় উচ্চারণ—“প্রতিষ্ঠা মানে সত্যের প্রতিষ্ঠা। ঐশ্বর্য হল চরিত্র। যুদ্ধ হল নিজের সঙ্গে। জয় হল নিজেকে জয়”—উপন্যাসটির নৈতিক মেরুদণ্ডের মতন কাজ করে। এই কথাগুলি কোনও ভাষণ নয়, চরিত্রদের দগ্ধ অভিজ্ঞতার ভেতর থেকে উঠে আসা একধরনের আলোকিত বোধ।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমাবদ্ধতা, সংসারের অনিশ্চয়তা, সময়ের দোলাচল—“আজ সময় ভালো, কাল খারাপই হতে পারে”—এসবই এখানে কিশোর চোখে দেখা। ভালোমন্দের দ্বন্দ্ব সমাজে যেমন চলমান, সেভাবেই মানুষের ভিতরেও তা অনিবার্য; বইটি মনে করিয়ে দেয়, আগুনে না পোড়ালে যেমন সোনা খাঁটি হয় না, তেমনি বিপদ-দুঃখ না পেরোলে ভালো মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়াও পূর্ণতা পায় না। লেখক এই সত্যটি দেখিয়েছেন সস্তা নীতিকথা দিয়ে নয়, বরং ছোট ছোট ক্ষত—হারানোর যন্ত্রণা, অনুতাপ, স্মৃতির গাঢ়তা—এসবের মাধ্যমে।
বাবা-মা না-থাকার শূন্যতা নিয়ে যে অনুভবগুলির উল্লেখ আছে, সেগুলো পড়তে পড়তে চোখ ভিজে ওঠা একেবারেই স্বাভাবিক; কারণ পাঠযোগ্যতার আড়ালে এখানে আসলে চলেছে শোককে শিক্ষায় রূপান্তরের এক নীরব সাধনা।
চরিত্রচিত্রণে সঞ্জীব নির্ভুল পর্যবেক্ষক। মা যেমন এই বইয়ের অবলম্বন, তেমনি একজন প্রবীণ মানুষের জীবনদর্শনও কিশোর পাঠকের কাছে দীক্ষার মতো কাজ করে—শুধু কথায় নয়, কাজে, অভ্যাসে, এবং নিজেকে জয় করার অনুশীলনে। বইটি দেখায়, ‘প্রতিষ্ঠা’ বাহ্যিক চাকচিক্য নয়; চরিত্রই আসল ঐশ্বর্য। নিজের সঙ্গে যুদ্ধ মানে নিজের দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সেগুলিকে শাসন করা। পরিবার-পরিচয়ের গর্ব, পূর্বজদের স্মরণ—এসবও এখানে আত্মগঠনকেই জোরদার করে। ফলে উপন্যাসটি কেবল ‘মায়ের উদ্দেশে চিঠি’ নয়, বরং নিজের কাছে নিজেরই এক শপথপত্র।
ভাষা ও বিন্যাসের দিক দিয়ে বইটি সহজপাঠ্য; সংলাপগুলিতে একটি ঘরোয়া উষ্ণতা আছে, যা চরিত্রদের কাছাকাছি টেনে আনে। লেখক আবেগকে অতিরিক্ত ফুলিয়ে তোলেননি, তবে সংযমী আবেগের ভেতর দিয়ে যে দীপ্তি তৈরি হয়, তাতেই বইটির আত্মা। হালকা রসের মুহূর্তও আছে, কিন্তু সেগুলো কখনও বিষাদের গভীরতাকে হালকা করে না; বরং টানাপোড়েনের মাঝখানে শ্বাস নেওয়ার জায়গা দেয়। কিশোর পাঠকের জন্য যে আত্মোন্নয়নের ব্যাকরণ বইটি রচনা করে—নিজেকে প্রশ্ন করা, ভুল থেকে শেখা, অল্পে সন্তুষ্ট থাকতে শেখা—তা পাঠশেষে লেগে থাকে থিতিয়ে থাকা পরশের মতো।
তবে সামান্য একটি কথা বলা দরকার: শুরুর দিকে ধীর ছন্দ এবং কয়েকটি স্থানে স্পষ্ট নীতিবোধের উচ্চারণ কিছু পাঠকের কাছে খানিকটা direct মনে হতে পারে। যাঁরা আখ্যানকে একেবারে ‘অ্যাকশন-চালিত’ ভঙ্গিতে খোঁজেন, তাঁদের জন্য এই বই নয়। কিন্তু যারা চরিত্রের ভেতরের নীরব পরিবর্তন, সম্পর্কের উষ্ণতা, আর বেদনার ভিতর দিয়ে জন্ম নেওয়া আলোর দিকে তাকাতে চান, তাদের কাছে “ইতি তোমার মা” এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা।
কিশোরদের জন্য এটি যেমন উপদেশ-পুস্তক নয়—বরং উপদেশকে জীবনের অনুশীলনে নামানোর গল্প—তেমনি বড়দের জন্য এটি স্মৃতির সঙ্গে একরকম অধিবাস; যে অধিবাসে মায়ের হাসি চাঁদের মতো ঝরে পড়ে, আর পাঠ শেষে অনেকক্ষণ মনটা এক ধরনের দীপ্ত শোক-আনন্দে ভরা থাকে।
সার কথা, “ইতি তোমার মা” শেষ করার পর একটা ঘোর লেগে থাকে—যেন নিজেরই জীবনের দিকে একটু দূর থেকে তাকিয়ে দেখলাম। যারা এখনও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়কে পড়েননি, তাদের জন্য এটি একটি কোমল অথচ দৃঢ় time portal —ভালো মানুষ হয়ে ওঠার পথে প্রবেশের portal । আর যারা পড়েছেন, তাদের জন্যও এটি পুনরায় মনে করিয়ে দেওয়া: জল নয়, আগুন—সেখানেই চরিত্রের শুদ্ধি; সেখানেই নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধে, জয়ের শুরু।
শারদীয় আনন্দমেলায় পড়েছিলাম প্রথম। কেঁদেওছিলাম বেশ এক সমুদ্দুর। আজ আরেকবার স্মৃতিপটে ভেসে উঠলো এই বই।
সমাজের চারপাশে এতো অত্যাচার অনাচার অভিচার দেখে দেখে মন আমার আর মন নেই সেই কবে থেকে। মানুষের দুঃখ কষ্টে এখন দূর থেকে শুধু নীরব দীর্ঘশ্বাস ফেলেই ক্ষান্ত হয়ে যাই। অথচ এই আমাকে কী সহজে চোখ ভিজিয়ে দিয়ে গেল সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের এই বই।
এক মধভিত্ত পরিবারে আকাশের মতো বিশাল হৃদয় ধারণ করা এক বাবার গল্প। এক মায়ের গল্প। যে মা দিন শেষে আমাদের সবার মায়েরই প্রতিচ্ছবি। ``বাবা-মা-ভাই-বোন" ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠা পরিবারের এই ছকে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম কী গল্পের বুড়োর দাদা দাদীর কাছ থেকে শিখে আসা আদর্শের পাঠ নিতে পারবো কোথাও থেকে?
বিজ্ঞানের অনুপস্থিতি রেখে ধর্মীয় ভাবধারায় ছেলেকে শিক্ষা দেওয়া ব্যতীত এই বইয়ের সবকিছু বড় মায়াভরা লাগলো। বিশেষত গল্প বলার ঢংটা মনে থাকবে অনেক দিন।
I found this novel which reminds you about the values of life which we tend to ignore as our life goes on...... অনব্দ্য এক কিশোরে উপন্যাস। জীবনের মূল্য শেখায় জেগুলি আমরা ভুলে যাই আমাদের জীবন চলার সাথে সাথে
মায়ের হাসিমুখটা, মায়ের রুপের কখনো প্রশংসা করেছেন সরাসরি এমন করে? শুনতে কিন্তু ভালোই লাগে। আমরা তো সবাই ব্যস্ত যার যার জীবনে। কখনো হয়তো মায়ের খোঁজ নেয়ারই সুযোগ থাকে না। কিন্তু মা কী আমাদের খোঁজ নেয়া বন্ধ করে দেন? উহু, বরং সারাক্ষণ আগলে রাখেন মমতায়। মাকে আসলে কখনো বলাই হয়না মাগো, তোমাকে বড্ড ভালোবাসি। তুমি আমার চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর। তোমার তুলনা শুধুই তুমি।
বুড়োর ও একটা মা আছে। মা তাঁর ছোট্ট বুড়ো ছেলেটাকে খুব ভালোবাসে। মাঝে মাঝে কপট রাগ অবশ্য দেখান তবুও মায়ের তো ওই একটাই ছেলে। মাঝে মাঝে মায়ের কর্মব্যস্ততা, নৈপুণ্যতার সাথে ঘর সামলানো বুড়োকে মুগ্ধ করে। বুড়ো বাবার খুব ন্যাওটা হলেও মাকেও ভীষণ ভালোবাসে। হয়তোবা ঠিক করে বলতে পারে না। মাকে মাঝে মাঝে অবাক হয়ে দেখে তাঁর মা তো আসলেই সুন্দর দেখতে। যেমন রুপ লাবণ্য তেমন তাঁর বিদ্যাবুদ্ধি। দাদী বলতেন এমন লক্ষীমন্ত মেয়ে পাওয়া কঠিন।
বুড়োর বাবাটা আবার কেমন আলাভোলা শিশুর মতো স্বভাব। বুড়োর দাদী আগেই মা রা গিয়েছিলেন তারপর গেলেন দাদু। বাবা তাঁদের কথা মনে করে শিশুর মতো কাঁদেন মাঝে মাঝে। চাকরি করতে বাবার ভালো লাগে না। তিনি ���ান মুক্ত স্বাধীন জীবন। সন্ন্যাসীদের জীবন ভালো লাগে, চিন্তা করেন অনেক গভীরে। জীবনদর্শন বাবার কাছে অন্যরকম। তবে ওই যে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জীবন। তবুও বাবা বেশ খরুচে লোক। মা মাঝে মাঝেই বকা দেন এভাবে করলে নিজেদের চলবে কী করে!
বুড়োর দাদু ছিলেন শিক্ষক বেশ জ্ঞানী লোক। নাতীকে সুযোগ পেলেই শেখাতেন অনেক কিছু। দিতেন অনেক উপদেশ। জীবনে এগিয়ে চলার মন্ত্র। কিন্তু দাদুটাও চলে গেলেন। দাদী গিয়েছেন আরো আগে। দাদী বলতেন ঘরটাকে সবসময় আশ্রম বানিয়ে রাখতে। ধর্মকর্মে আরো মনোযোগী হতে। জীবনের আসল উদ্দেশ্য খুঁজতে।
স্কুলে শ্যামল বলে এক ছেলে আছে একটু বখাটে। ওর আবার বাবা বেশ প্রভাবশালী। বুড়োকে হিংসা হয় তাঁর। ঝামেলা লেগেই থাকে। আবার পাড়ার নিরীহ ছেলে তপনকে শ্যামলরা মিলে উতক্ত করে শুধু। শ্যামলকে শায়েস্তা করতে বুড়ো বিশুদাকে গিয়ে ধরে তাঁর আখড়ায়।
বিশুদা আরেক গুনী মানুষ। তিনি যেন মানুষ গড়ার দীক্ষা দেন ভেতর থেকে বের করে আনেন নতুন এক অস্তিত্ত্বের। যেখানে ভয় ডর বাদে থাকে শুধু আত্মবিশ্বাসী মন। বুড়ো আস্তে আস্তে শিখতে থাকে আরেক পাঠ। এছাড়াও আছেন সন্ন্যাসী কাকু। বুড়োর তাঁর সঙ্গে দেখা হয় তিনি যখন বেড়াতে আসেন বুড়োদের বাড়িতে।
বুড়োর গল্পটা খুব ভালো লাগছে তাই না? কিন্তু ওই যে বাবা মা সাধ করে নাম রেখেছেন বুড়ো। তাই বোধহয় অল্প বয়সেই নেমে আসে তাঁর জীবনে অনেক বড় কিছু দুঃখের পাহাড়। জীবনে একের পর এক ধাক্কা তাঁকে খেতে হয়। এইটুকু বয়সে বুড়ো কী তাহলে সত্যিকারের বুড়োদের মতো সামলাতে পারবে সব নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে?
ভাবছেন হয়তো কী কী ঘটলো বুড়োর জীবনে? না আমি সেসব আর বললাম না। কিছু কিছু গল্প বোধহয় কোনো বর্ণনায় ধারণ করা যায় না। বুড়ো আলাভোলা বাবাটা পর্যন্ত অসহায় হয়ে ভাবছে জীবন তাঁদের এত বড় পরীক্ষায় কেনো ফেললো। কী সেই পরীক্ষা?
)) পাঠ প্রতিক্রিয়া ((
কিছু কিছু গল্প থাকে বা কিছু এমন বই থাকে আসলে এটা নিয়ে কী বলবো আসলে আমি গুছিয়ে নিতে পারি না। "ইতি তোমার মা" সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সেরকমই একটা বই। মানে আমি জানি না পাঠ প্রতিক্রিয়ায় কীভাবে লেখা উচিত আমার এই বই সম্পর্কে।
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লেখা আমি আগে পড়িনি। এই বইটি পড়ার আগে তাই জানি না কেমন হবে তাঁর লেখনী। কিন্তু এই বইটি কিশোর উপন্যাস হলেও আমার মনকে নাড়া দিয়ে গেল! আমাকে ভাবনায় ডুবিয়ে দিলো, আমাকে বিষাদের ছায়া দিয়ে গেল। আমার মনে দাগ কেটে গেল।
আমি খুব ইমোশনাল ধরনের। গল্পের মাঝে যখন দুঃখ আসে সেই দুঃখ আমাকে ছুঁয়ে যায়। আমি বিষাদে ডুবে যাই। ঘোর লেগে থাকে মনে। এই বইটা মন খারাপের বই। এই বইটা কিশোর উপন্যাস হিসেবে চমৎকার একটা বই।
কিশোর বয়সটা শেখার বয়স। বহু ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে তবে বড় হতে হয় জীবনে। এই বইটিতে লেখনী যেমন সহজ গল্পে ভাবগাম্ভীর্যময় তেমনি আছে অনেক শিক্ষনীয় বিষয়। খুব গভীর জীবনবোধ লুকিয়ে আছে। যা পড়তে পড়তে ভাবাবে।
তবে শেষ পরিণতি মনটা খারাপ করে দিয়েছে। মনে হয়েছে শেষটা আমি লিখে দিয়ে আসি বইয়ের পাতায় আমার মতো করে। চমৎকার বইটি, চমৎকার সময় কাটলো।
বইয়ের নাম: "ইতি তোমার মা" লেখক: সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় প্রকাশনা: আনন্দ পাবলিশার্স ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৮/৫
মানুষ যখন বড় হয়ে পৃথিবীর যান্ত্রিকতায় দগ্ধ হতে থাকে তখন শৈশবকালটাকে বড্ড বেশি কাছের মনে হয়। সেই সময়টাতে ফিরে যাওয়ার আকুতি মনের মাঝে জেগে উঠে। তবে সেটা ত সম্ভব হয়ে উঠেনা। কিন্তু সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের 'ইতি তোমার মা' কিশোর উপন্যাসটি পাঠের মাধ্যমে শৈশবের সেই সোনালি দিনগুলির স্মৃতি জাগ্রত হয় এবং পুরনো দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে শৈশবে ফেরার অনুভূতি পাওয়া যায়।
হাসিখুশি স্বচ্ছল এক পরিবারের বাস শহরের শেষ প্রান্তে। গ্রামের শুরুটাও সেখান হতেই। তাই গ্রাম ও শহর উভয়েরই বাতাস পাওয়া যায়। বাবা মা ও বুড়ো এই তিনজন পরিবারের সদস্য। বুড়ো আসলে আমাদের এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন কিশোর। (তবে কেন্দ্রীয় চরিত্রের চাইতে অন্যতম প্রধান চরিত্রও বলা যায়।) বুড়োর বাবা চাকরি করেন এবং মা গৃহিণী। চাকরি করলেও সেটাকে তিনি দাসত্ব মনে করেন এবং চিন্তা করেন স্বাধীন কোনো কাজের মধ্যে নিজেকে সঁপে দেওয়ার। বুড়োর পিতামহ ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাই নৈতিকতার পাঠটা বুড়ো পিতামহের থেকেই নিয়েছিল। ছোটবেলায় মানুষ অনেক কাজই করে, যা প্রাপ্তমনস্কদের কাছে হাসির বা উদ্ভট মনে হয়। এদিক দিয়ে বুড়ো আর তার বাবা একই রকমের। তা নিয়ে বুড়োর মায়ের চিন্তার অন্ত নেই। সহজ সরল মানুষ হওয়ায় বুড়োর বাবা মানুষকে সাহায্য করতে সবসময়ই এগিয়ে যান; এমনকি প্রাণীদের প্রতিও তাঁর মানবিকতার কমতি নেই। এ নিয়ে বুড়োর মা প্রথমে একটু চোটপাট করলেও, একটু পরেই সেই বিষয় নিয়ে তিনিই বেশি আগ্রহ দেখান।
বুড়ো তার ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্র। শুধু পড়ালেখায় না, আচার আচরণেও সবাই তাকে ভালো জানে। কিন্তু সবাই ত আর ওর মতো হবে না। বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলে শ্যামল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সুযোগ পেলেই বুড়োর সাথে ফাজলামো কিংবা চড় থাপ্পড় দেয়। নিরীহ প্রকৃতির হওয়ায় বুড়ো কিছু বলতেও পারে না। সবসময় পিতামহ ও পিতার আদেশ মেনেই চলতে চেষ্টা করে। কিন্তু অন্যায় আর কতদিন সহ্য হয়! অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই বিশুদার আখড়ায় ভর্তি হয়ে শারীরিক কসরত শিখতে শুরু করে। কিন্তু এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়েই বুড়োদের পরিবারের উপর নেমে আসে ঘোর অমানিশা। সদা হাস্যোজ্জ্বল একটি পরিবার কি পারবে তাল সামলাতে নাকি খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে?
একজন কিশোরের জীবন যেমন হয় চঞ্চলতা, দুষ্টুমি, বাবা মায়ের আদর দিয়ে ভরা; বুড়োর জীবনটাও তেমনি। আগুনে পোড়ালেই তবে স্বর্ণ খাঁটি হয়। বুড়োকে তেমন শিক্ষাটাই দিয়েছেন তার বাবা। মূলত উপন্যাসটির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছেন লেখক। এমনিতে শুধু নীতিকথার বই হলে অনেকের কাছে একঘেয়েমি লাগবে। কারণ কিশোর বয়সটাই অমন। তাই লেখক উপন্যাসে একজন কিশোরকে উপস্থিত করে যাত্রাপথটা এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন কিশোর বয়সী পাঠকেরা বইটি পড়ে আনন্দ এবং শিক্ষা উভয়ই পেতে পারে। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, হিংসা বিদ্বেষ হতে দূর থাকা, সর্বদা পরিবারের প্রতি দৃষ্টি রাখার প্রতিই উৎসাহ দিয়েছেন লেখক। উপন্যাসের নাম থেকে হয়তো গল্পটা সম্পর্কে কিছু আঁচ করা যায়। তবে সমাপ্তিতে লেখক এমন কিছু রাখবেন সেটা আঁচ করতে পারিনি। বইটি শেষ করে পাঠকের মন খারাপ হতেই পারে।
বইটি কাদের জন্য? অবশ্যই বইটি কিশোর বয়সী পাঠকেরা পড়ে আনন্দ পাবে। প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদেরও ভালো লাগবে যদি কিশোর উপন্যাস পড়ার অভ্যাস থাকে। অন্যথায় কিছুটা একঘেয়েমি লাগতেই পারে শিশুসুলভ কর্মকাণ্ড। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লেখাগুলোতে চরিত্রগুলো নির্দিষ্ট কারো প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধার যে রীতি পালন করে, এই বইটিতেও তার ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। আনন্দ পাবলিশার্সের বইগুলোতে সম্পাদনা সাধারণত ভালোই হয়। কিন্তু এই বইটিতে মনে হয়েছে সম্পাদনার ঘাটতি রয়েছে। বইটির প্রথম দিকে বুড়োর পিতামহকে 'দাদু' সম্বোধন করলেও পরবর্তী অংশে 'দাদি' সম্বোধন করা হয়েছে। এটা আমার মনে হচ্ছে ভুল। কারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে 'দাদি' সম্বোধন প্রচলিত নেই, তার উপর আবার পিতামহকে সম্বোধন করা! আরো কিছু ছোটখা���ো ভুল আছে। এই বিষয়টা প্রকাশনীর নজর দেওয়া উচিৎ। হ্যাপি রিডিং।
খুবই চমৎকার একটি বই শেষ করেছি। ইতি তোমার মা সম্পূর্ণ বইটাই মনে হলো আবেগ জরানো। আপাত দৃষ্টিতে দেখতে গেলে মনে হবে খুবই সামান্য একটি বই। সামান্য কাহিনীর টুকরো অংশ। অথচ এর পাতায় পাতায়, অক্ষরে অক্ষরে আবেগ ঝরে পড়ে। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়েছে। বইটা শেষ করেছি প্রায় ৪ দিন হলো। আজ লিখতে এসেও বইয়ের ক্ষেত্র বিশেষে উল্লেখ করা বিশেষ লাইনগুলো এখনো আমার চোখের সামনে জ্বল জ্বল করছে। শেষটা মন খারাপ করার মতো, কিন্তু এমনটা হবে তাও অবশ্য ভেবেছিলাম।
শহর এবং গ্রামের দুই অংশেরই প্রভাব রয়েছে চমৎকার একটি গ্রামে। সেই গ্রামের সাধারণ এক মধ্যবিত্ত ট���নাপোড়েনের পরিবার বুড়োদের। নামটা বুড়ো হলেও আদতে সে কিশোর। দাদু নেই। কিন্তু দাদুর আদর্শকে ধারণ করে আছে মনে প্রাণে। নম্র, ভদ্র,জ্ঞান পিপাসু ছেলে এই বুড়ো। বুড়োর মতোই চমৎকার তার বাবা। তিনিও অনেকটা কিশোরের মতোই। আমাদের সবার প্রত্যাশিত বাবার আদর্শ হতে পারেন তিনি। আর অবশ্যই চমৎকার বুড়োর মা। তিনি নিজেকে কঠোর হিসাবে দেখাতে চান কিন্তু তাঁর আচার আচরণে ফুটে উঠে নমনীয়তা। পরিবারে আরো আছে কুকুর 'পিঙ্কা'। আর আছে সদ্য আনা বিড়াল ছানা 'পুশ'।
মনে হচ্ছে না চমৎকার সুখী একটি পরিবার? অর্থবিত্ত না থাকা সত্বেও তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করে চলেছে। কিন্তু সুখ আর বেশিদিন থাকলো কই! বড়লোক বাবার বখে যাওয়া সন্তান শ্যামলের সাথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঝামেলায় জরিয়ে পড়ে বুড়ো। তার রেশ টেনে নিয়ে যায় আদালত পর্যন্ত। ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলাফল যেমন দেখি আমরা তেমনটাই হয়েছে। 'জোর যার মুল্লুক তার' বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়ায় আমাদের সমাজে।.........এরপর জানবেন বিপদ থেকে উদ্ধার হয়েছিলো কিনা? বুড়োর মায়ের কথা, বুড়ো, বুড়োর বাবার পরিণতির কথা।
বইটিতে চমৎকার সব চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়। সন্ন্যাসী কাকু, সিধু জ্যাঠু, জীবিত না থেকেও যার প্রভাব সর্বত্র তিনি হলেন বুড়োর দাদু।
বইটা আমার চমৎকার লেগেছে৷ এর উপর আর কথা হয়না। লেখকের লেখনী চমৎকার। সুন্দর উপমা বা রূপক ব্যবহার দারুণ। বইটিতে বানান ভুল তো ছিলই তবে সেগুলো ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না আমার কাছে। সবচেয়ে বড় যেই ভুলটা বইয়ের সেটা হচ্ছে শেষের দিকে সব জায়গায় দাদু বানানটা দাদি হয়ে গিয়েছে। প্রথম একটু বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল কি হবে দাদিই ঠিক আছে কিনা। তবে কিছুদূর যাওয়ার পর বুঝলাম দাদুই হবে৷
আপনারা চাইলে চমৎকার, ছোট একটা বই অনায়াসে পড়তে পারেন। আশা করা যায় হতাশ হবেন না। কিশোর উপযোগী বই হলেও আমার মনে হয় সবাইই পড়তে পারবেন। দারুণ সময় কাটবে!
অনেকদিন ক্লাসিক সাহিত্য পড়া হয়ে উঠছিল না। পয়লা বৈশাখে বইবন্ধু-র অতিরিক্ত ছাড়ে সংগৃহীত ছোট কলেবরের এই বইটি তাই পড়ার জন্য বেছে নিলাম। এটাই ছিল সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লেখা আমার প্রথম পাঠ।
বইটি সম্পর্কে আগেই অনেক প্রশংসা শুনেছিলাম। শুরুতে মনে হতে পারে, এটি যেন কিশোরদের জন্য খেলার ছলে লেখা কিছু বাণীর সংকলন। কিন্তু অল্প কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরই সে ধারণা ভেঙে যায়। বুড়ো (আদতে কিশোর কিন্ত নামে বৃদ্ধ, যদিও তার নামের সার্থকতা ধরা পড়ে তার মননে ও কর্মে) ও তার পিতার কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে জীবনের গভীর মূল্যবোধ, আত্মজিজ্ঞাসা, আর মানবিক অনুভবের এক অনন্য প্রতিফলন।
যদিও শেষটা অভিজ্ঞ পাঠকদের কাছে কিছুটা অনুমেয়, তবুও তার আবেগ-প্রবাহ পাঠকের মনে স্পর্শ ফেলতে বাধ্য। বইটি পাঠককে এক অন্যতর জগতে পৌঁছে দেয়, যেখানে নিজের ভিতরের সত্ত্বার সঙ্গে একটা সংলাপ শুরু হয়। এখানেই এই বইটির প্রকৃত মাহাত্ম্য এবং ক্লাসিক সাহিত্যের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে ওঠে।
প্রকাশনা: আনন্দ পাবলিকেশন সবসময়ই প্রচ্ছদ ও ছাপার মানে নির্ভরযোগ্য। তবুও, এত প্রিমিয়াম মূল্যের বইয়ে কয়েকটি মুদ্রণপ্রমাদ নজরে পড়েছে, যা একদমই কাম্য নয়।
সারসংক্ষেপ: সাহিত্যপ্রেমীদের এই বইটি অবশ্যই একবার পড়ে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।
কিছু কিছু বই হয় সেই শীতের দিনে মিঠে রোদের মতো , হালকা সুখ - হালকা দুঃখ থাকে। এই বইটা সেরকমই। বইটা পড়ার পর শুধু কানে বেজে চলেছে " দুঃখকে চাপতে শিখবে । সেইটাই মানুষের লক্ষণ । বীরের লক্ষণ । কখনো ভেঙে পড়বে না। " বুড়ো বড়ো হয়েছে এক অন্যরকম পরিবেশে য এক মধ্যবিত্ত পরিবারে । সেখানে ছোটো ছোটো জিনিসগুলো অনেক হাসিখুশি। বুড়োর কাছে আপন বলতে বাবা মা দাদি , পথপ্রদর্শক। বুড়ো অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে শেখেনি । শিখেছে নিজগুণে লড়াই করে সত্যের সাথে বেঁচে থাকতে। বুড়োর মায়ের সাধারণ রোগ গুরুতর হয়ে পড়ে । অন্যায়ভাবে বুড়োকে ফাঁসানো হয়। হঠাৎ করেই তাদের সুখের জীবন ছারখার হয়ে যায়। কিন্তু বইয়ের শেষ ছত্রগুলো এক বিষণ্ণতায় ঘিরে ধরে। চোখ দিয়ে জল আসতে বাধ্য। মনের মধ্যে দাগ কেটেছে " প্রতিষ্ঠা মানে সত্যের প্রতিষ্ঠা । ঐশ্বর্য হল চরিত্র। যুদ্ধ হল নিজের সঙ্গে। জয় হল নিজেকে জয়।"
পাঠ প্রতিক্রিয়া :- প্রথমদিকে ধীরগতির মনে হলেও পড়ার রেশ টেনে নিয়ে গেছে শেষ পর্যন্ত। এটাও মনে হয়েছে মা খুব প্রচ্ছন্ন ভূমিকা পালন করেছেন কিন্তু শেষের অধ্যায় অনেক কিছুর শিক্ষা পাওয়া যায়। পরিবার কি জিনিস , তা হয়তো আরো একবার স্মরণ করিয়েছেন লেখক ।
উপন্যাসটা মেলোড্রামাটিক, অবশ্য সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লোটাকম্বল পড়বার সময়েই খেয়াল করেছি, সাধারণ যেকোন পরিস্থিতি নিংড়ে, নাটুকেপনা বের করে আনতে তিনি সিদ্ধহস্ত।
এই উপন্যাসটার ক্ষেত্রে অবশ্য মেলোড্রামাটার হয়তো দরকার ছিল, নাহলে লেখক যে লেসন গুলো দিতে চেয়েছেন সেগুলো প্রিচী হয়ে যেত অনেক। অদ্ভুত এক আদর্শ, ইউটোপিয়ান সংসার এবং কিছু চরিত্রের মাধ্যমে গল্প এগিয়ে চলে। সঞ্জীব বাবুর মনে হয় কিশোরসুলভ, মোরালি আপটাইট,হিউমেরাস পুরুষ চরিত্র সৃষ্টির প্রতি দূর্বলতা ছিল, তার দুটি উপন্যাস পড়লাম; দুটোতেই এই ধরণের চরিত্রের ছড়াছড়ি। এত নাটুকেপনা, বালখিল্যতা তবুও “লোটাকম্বল” বা “ইতি তোমার মা” দুটো উপন্যাসের কোনটা পড়তেই খারাপ লাগে না, এখানেই লেখকের মুন্সিয়ানা।
অমন প্রাঞ্জলতার সাথে যে গল্পের শুরু তার শেষটা এমন দম আটকানো অনুভূতির মতো হবে জানা ছিল না। শিশুসুলভ পরিণত বয়সের ছটফটানি, জীবনকে নতুন আঙ্গিকে দেখার জন্যে আলাদা এক জোড়া চোখ, ক্লাইম্যাক্স, ট্র্যাজেডি কী নেই এই বইয়ে! গল্পের ফ্লো অনুযায়ী শেষটা প্রেডিক্টেবল ছিল যদিও। তাও, প্রার্থনা করছিলাম, যা ভাবছি তা যেন না হয়। তবু জীবন তো! প্রার্থনায় আর কী হয়। যা হওয়ার তা তো হবেই। অনেকখানি ভালো লাগা আর গভীর এক ক্ষত নিয়ে বইটা শেষ করলাম।
** বইটা নিয়ে বেশি একসাইটেড থাকায় সামনে অনেক রিভিউ ঘুরঘুর করলেও পড়িনি সেসব। ভালই হয়েছে অবশ্য। এসব গল্প কিছু না জেনে নে বুঝে পড়লেই আনন্দ দেয় বেশি। মাঝে মাঝে দুঃখও।
উপন্যাসের নাম দেখে এর শেষ হয়তো সকলেই ধরতে পারবেন। তবে এই বইয়ের সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এর যাত্রাপথ। কিছু বই বন্ধ করার সাথে সাথে ফুরিয়ে যায়, এই বইটা যেন শেষ হওয়ার সময় নতুন জীবনযাত্রার সাথে আলাপ করিয়ে দিয়ে গেল। কৈশোরে গুরুজনেরা যা বলেছিলেন সময় ও বয়সের সাথে অনেকটাই কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে। কিশোর বুড়োর মাধ্যমে যেন আমরা এই হাফ-বুড়োরা কিছু লাইফ-লেসন পেলাম। এতটুকু জানি, এই বইয়ের কাছে আমি আবার বারবার ফিরে আসবো।
পাঠক দের মধ্যে যারা মাতৃহীনতার শোকে কাতর তারা এই লেখার মর্ম কে রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভব করতে পারবেন। প্রতি মুহূর্ত যেন নিজের চোখ এর সামনে দেখছি গল্প টিতে। এক কথায় অবিস্বরণীয় এই গল্প টি। বুড়ো এর মত এইরকম হাজার হাজার কিশোর কিশোরী প্রতিদিন এই মাতৃশূন্যতায় সৃষ্ট গহ্বর এর সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ভগবান তাদের কে অনেক অনেক শক্তি দিন এটাই কামনা করি। 🙂
অনেক বছর আগে ঢাকা নিউমার্কেট থেকে বইটা কিনে দিয়েছিলেন সেজ মামা। কাহিনীটা এতটাই দাগ কেটেছে মনে যে আজও চোখ বন্ধ করলে যেন পুরো গল্পটা চোখের সামনে ভাসতে দেখি। মধ্যবিত্ত এক ভদ্র, সতেজ পরিবারের গল্প বলেছেন লেখক এই বইতে।এ ধরনের বই মানুষকে দেখায় পৃথিবীটা কত ভালো, চারপাশটা কত আলোয় আলোয় ভরা। শেষ দিকে বুড়োর কষ্টটা যেন স্তব্দ করে দেয় পাঠককে। ভালো কাহিনী।
বুড়ো, বাবা, মা। এই ছোট সংসারের ৮০-৯০ দশকের জীবন যাপনের গল্প। একদম সাদামাটা, মন কেমন করা। পড়তে পড়তে মনে মানুষের জীবন এতো সহজ, অথচ আমরাই সবকিছুর মধ্যে জোট পাকিয়ে বসে আছি।
বাবা-মা সবসময় বুড়োকে সৎ মানুষ হতে বোঝায়। বুড়ো বাবা-মাকে ভীষণ ভালোবাসে। গল্পের শেষে ট্রাজেডি। হঠাৎ করে চলে যাওয়া। বুড়োর জন্য মা এর রেখে যাওয়া চিঠি পড়ে মন খারাপ হয়ে গেলো।