লোটাকম্বল দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় পাঠকবর্গ এক ভিন্নতর স্বাদের লেখায় আপ্লুত হয়েছিলেন। অজস্র পত্রে তাঁরা সেই আনন্দজ্ঞাপন করেছিলেন। প্রথম পর্ব শেষ হবার পর অসংখ্য অনুরোধ এসেছিল অনুরূপ একটি দ্বিতীয় পর্ব অবিলম্বে শুরু করার। কেন লোটাকম্বল এত জনপ্রিয় হয়েছিল! কীসের গুণে? নিছক হাস্যরস অথবা অন্য কিছু? বাংলাসাহিত্যে হাসির গল্প অনেক লেখা হয়েছে। হাসির উপন্যাস একটি কি দুটি। তা-ও সীমিত পৃষ্ঠাসংখ্যায়। সুবৃহৎ একটি হাসির উপন্যাস দীর্ঘধারাবাহিকতায় প্রকাশের অনন্য দৃষ্টান্ত পাঠক-অভিনন্দনের অন্যতম কারণ হলেও, ভাল-লাগার আসল রহস্য হল, লোটাকম্বল মূল্যবোধের উপন্যাস, মানুষের অন্তর্মনের আধ্যাত্মিক সংকটের উপন্যাস। ভেঙে যাওয়া যৌথ পরিবারের পটভূমিকায় দাড়িয়ে নিঃসঙ্গ এক প্রৌঢ়, হিমালয়ের মতো যাঁর ব্যক্তিত্ব, অসম্ভব যাঁর আদর্শ নিষ্ঠা, আপাত কঠোর যেন প্রুসিয়ান জেনারাল অথচ ভেতরে ভেতরে কুসুম-কোমল। আর সেই মানুষটির একমাত্র মাতৃহারা যুবক সন্তান, মাঝে দুই পুরুষের ব্যবধান।পূর্বপুরুষ উত্তরপুরুষে সঞ্চারিত করতে চায় জীবনের শ্রেষ্ঠ গুণ আর মূল্যবোধ। মানুষের মতো মানুষ করে তুলতে চায়। সেইশিক্ষা শুধু উপদেশের আকারে আসেনা, আসে ‘আপনি আচরিধর্ম’-এর পথ বেয়ে।দুই পুরুষের মূল্যবোধ আর দৃষ্টিভঙ্গির ঠোকাঠুকির মধ্যে আর এক পুরুষ। তিনি বৃদ্ধমাতামহ। আধ্যাত্মিকতার বাতিটি তুলে যিনি খুঁজে পেতে চান সেই চির-চাওয়া পরম পুরুষটিকে। সঞ্জীবের সার্থক সৃষ্টি এই দীর্ঘকাহিনী। হাসি, হিউমার, ঘাত-প্রতিঘাত, দুঃখ-সুখের টানাপোড়েনে তৈরি শাশ্বত জীবনবেদ।
Sanjib Chattopadhyay (Bengali: সঞ্জীব চট্ট্যোপাধ্যায়) (born February 28, 1936 in Kolkata) is a Bengali novelist and writer of short stories. His style is characterised by use of short satirical sentences mixed with very lively language.
Childhood and education: Sanjib Chattopadhyay spent his childhood in the hilly terrain of Chota Nagpur Plateau under the care of his father after his mother died when he was five. They relocated to Calcutta and he was admitted to Victoria Institution school which he joined at grade seven. He later went to Scottish Church College, Calcutta where he studied chemistry.
Work: The subjects of his fiction are mostly families living in Calcutta city. Within the confines of these homes, he challenges the moral values of the fast-changing middle class of the city. Chattopadhyay frequently uses old men as his protagonists. These aged characters create the spiritual and philosophical edge found in his novels Lotakambal (The Blanket and Quilt) and Shakha Prasakha (Branches). His most famous novella Swetpatharer tebil (The Ivory Table) is an example of his characteristic style of story-telling which mixes tension, dilemma, curiosity, pity, humor, and satire. He has written fiction for children and continues to write for magazines and newspapers. Chattopdhyay current writing is related to Ramkrishna Paramhansa, Sarada Devi and Swami Vivekananda. Some of his major works apart from the above mentioned are: পরমপদকমলে (At His Divine Feet) ক্যান্সার (Cancer) দুটি চেয়ার (Two Chairs) রসেবশে রাখিস মা রসেবশে বেশ আছি রসেবশে তুমি আর আমি (You And I) একে একে (One By One) কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই (Calcutta Is In Calcutta) Apart from that his notable juvenile literature includes রুকু-সুকু, বড়মামা-মেজমামা series which are fun-filled and analyse various philosophical aspects of life through the eyes of children.
Awards: Chattopadhyay is the recipient of the Ananda Puraskar in 1981 and the Sahitya Academy Award for his book শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন in 2018.
বাঙলা সাহিত্যে রম্য উপন্যাস খুব বেশি নেই। সামনে বেশি দেখা যাবে, এমনটা বলার কোন লক্ষণ দেখছি না। তবে আর কিছু না থাকার অভাবটা পূরণ করে দিয়েছে সম্ভবত এই একটামাত্র বই-ই। দুই খণ্ডে শেষ হওয়া বিপুল আয়তনের এই বইটি একের পর এক হিউমারের মধ্য দিয়ে জীবনকে চিনিয়ে যায় এক অন্য আলোয়। তিন প্রজন্মের তিন রকম চিন্তাধারায় এটি জীবনকে গুলিয়ে ফেলে না, বরং তাদেরকে একীভূত করে জীবনকে পাইয়ে দেয় প্রশান্তির এক উন্মুক্ত বাতায়নের খোঁজ।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি অসাধারণ ভাবে আঁকা হয়েছে। পলাশের মধ্যে সবসময়ই একটা দোনা মনা থাকছে। সংসারে জড়িয়ে পড়ার আবার পরের মুহুর্তেই সংসার ত্যাগের জন্যে এক পায়ে খাড়া। ডায়লেমা খুব সুন্দর সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু মাঝে মাজেই কাহিনি বড় এলোমেলো হয়ে গেছে। বাঁধুনি আলগা হয়ে গেছে। আর ঠিক সেই মুহুর্তে গুলোতেই এত বড় একটা বই পড়তে বিরক্তি চলে এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য পত্রিকায় দীর্ঘ সময় ধরে কিস্তিতে প্রকাশিত উপন্যাসগুলোর সমস্যা হলো ২০০-৩০০ পৃষ্ঠার পরে গতি হারিয়ে, ঘুরপাক খেয়ে, ৩০০ পৃষ্ঠা ধরে গঠিত চরিত্ররা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভণ্ডুল করে, কাহিনির ধারাবাহিকতা ভুলে কাহিনি ঝুলে পড়ে, এটারও সেই দশা।
মাঝে এসে খেই হারিয়ে গেলো মেসোমশাইয়ের যে স্ত্রী আরাকানের জঙ্গলে দেহরক্ষা করলেন, অসুস্থ অবস্থায় তাকেই কি সবাই খবর দিতে চাইলো, নাকি পরিবারে আরও মানুষ ছিলো? ইত্যাদি খুচরা বিষয় আমার মতো পাঠককে চিন্তায় ফেলে দেয় এমন হলে।
দ্বিতীয় পর্ব প্রায় এক দশক পরে আবার ঐ পত্রিকাতেই প্রকাশিত, তাই ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না সময় খরচ করে পড়বো কিনা।
পুরো ঘোর লাগানো। আমি নিজে অনেক বেশি চিন্তাভাবনা করি যেই বিষয়গুলো নিয়ে, সেগুলোর অনেক অংশ এই বইয়ে পেয়ে অনেক ভালোই লেগেছে প্রথমে। পরে আমার মাথা পুরো এলোমেলো হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে চিন্তা-ভাবনা করতে গিয়ে পাগলামি দেখা দেয়। এ বই পড়ে মনে হচ্ছিলো আমি পাগলই হয়ে যাবো। নিজের চিন্তাভাবনা মিলাতে পেরে এতো বেশি চিন্তা করা শুরু করেছিলাম। মাইগ্রেনের প্রবলেম এর কারণে সেই চিন্তা জাহান্নামের মতো লেগেছে। নিজের দ্বৈত সত্তা নিয়ে বোধহয় এই প্রথম এত তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়েছে এই বইটা পড়ে। এইসব অসংলগ্ন কথাবার্তা নিজের জন্য রেখে যাচ্ছি। কখনো যন্ত্রণা পাওয়ার ইচ্ছা হলে এই বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবা শুরু করবো। এই বই পড়েছি এক দিক দিয়ে আরেক দিক দিয়ে চোখের পানি মুছেছি। মনের অজান্তে পিন্টুর জন্য কান্না আসতো। দ্বৈত সত্তা নিয়ন্ত্রণ করা কি যে কষ্টকর!
This book is a masterpiece. This is my second reading and am realising i missed out on so many things when read last time. The characters depicted here extremely deep... Father, Grandfather, Uncle... Everyone has a deep principle within them which they abide by. While reading i could not differentiate myself from the protagonist and the things he is going through. His life events, as well as the spiritual journey of his mind seems to be my own. Worth it!
লোটাকম্বল উপন্যাসটিকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অন্যতম বিল্ডাংস্রোম্যান বলা চলে। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লেখনী রসে পরিপূর্ণ, দার্শনিক ভাবগাম্ভীর্যে ভরপুর, রিয়েলিস্টিক এবং একই সাথে মিস্টিক বা আধ্যাত্মিক ও। কলকাতার এক পরিবারের তিন পুরুষের গল্প এটি- যে গল্পের ধারাভাষ্যকার পলাশ বা পিন্টু, তিন পুরুষের তৃতীয় পুরুষ। পিতার আদর্শবাদী ও পিতামহের আধ্যাত্মিক সত্তার মিশেলে ও সেই সাথে নিজস্ব স্বকীয়তায় পিন্টুর বিকশিত হবার গল্প এটি। সেই সাথে সমাজের বিভিন্ন স্তরের চিত্র পাওয়া যায় এই পরিবারে অন্যান্য বিভিন্ন চরিত্রের আনাগোনার মাধ্যমে। এই উপন্যাসে আমি ছাপ খুজে পাই জেমস জয়েসের "আ পোর্ট্রেট অফ দ্য আর্টিস্ট এজ আ ইয়ং ম্যান" এর বর্ণনাশৈলীর - পিন্টুর স্ট্রিম অফ কনশাসনেসে ও তার ইন্টেরিওর মোনোলগে উঠে আসে মানবমনে পাপ-পুণ্যের, সংসার ও সন্ন্যাসের চিরায়ত দোলাচল। উপন্যাসের প্রথম ভাগের শেষে পিন্টুকে দেখা যায় অবশেষে তার পিতা ও পিতামহের অবর্তমানে বৈরাগ্য ও সংসারের পথ থেকে একটি বেছে নিতে, যার ফলাফল হয়তো জানা যাবে দ্বিতীয় ভাগে।
ব্যাক্তিগতভাবে আমার কাছে এই বইটিকে আমার পড়া ওপার বাংলার উপন্যাসগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা মনে হয়েছে। সম্পূর্ণ উপন্যাসে রয়েছে বিভিন্ন চরিত্রের নিজস্ব জীবনদর্শন। সেই সাথে রয়েছে প্রাসঙ্গিক আলাপে সনাতন ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম এবং ইসলামের বিভিন্ন অংশের উদ্ধৃতি, বিভিন্ন গানের চরণ এবং বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য থেকে উদ্ধৃতি। যে কারণে এটি আর দশটি উপন্যাস থেকে নিমেষেই আলাদা হয়ে ওঠে। বর্ণনার ভিন্নতার কারণে গল্পে ঢুকতে কিছুটা কষ্ট হলেও একবার কাহিনীতে ঢুকে গেলে নিমেষেই হারিয়ে যেতে হয়। অবশ্যই সুখপাঠ্য।