মুখোশ প্রাণহীন। বাইরের আনন্দ-বেদনা তাকে স্পর্শ করে না। রঙ্গমঞ্চে শুধু নয়, নিত্যদিনের জীবনেও আমরা মুখোশ পরে থাকি। ভালো আছি- এই সান্ত্বনার জন্য মুখোশধারী হওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। উপন্যাসের প্রসাদের কথাই ধরুন। মধ্যবয়সী প্রসাদ একটি চটের ব্যাগে জর্দা ফেরি করে। অথচ ছাত্রজীবনে মোটামুটি মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তবু জীবনযুদ্ধে বড় বেশি জেতা হলো না। তা নিয়ে আক্ষেপ সে করে না। সামান্য মাইনের সরকারি চাকুরে দাদা-বউদির সংসারে সে থাকে। তার দাদা ভীষণ ভালো মঞ্চাভিনেতা ছিল। ফল হয়নি। সেও আজ সংসার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। কিশোরী পিউ এবং ছোট্ট বুলুকে নিয়েই এদের সংসার। অভাবের তাড়নায় স্বস্তি নেই, তবে সুখ আছে। সেই সুখ কী চিরদিন রইবে? মুখোশের চোখেই কেন জল আসবে?
স্বল্প পরিসরে লেখা। নিম্নবিত্ত একটি পরিবারের সংগ্রামের কাহিনি, ট্রাজেডির গল্প। অসামান্য কিছু পাবেন এমন আশা নিয়ে না পড়াই ভালো। তাতে উপভোগ করতে পারবেন। সময়টা সুন্দর কাটবে।