আবুল মনসুর আহমদ ব্যঙ্গসাহিত্যিক হিসেবে খ্যাতিমান। রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক হিসেবে দেশ ও সমাজের অসংগতিগুলো দেখেই ক্ষান্ত থাকেননি। হাস্যরসের মাধ্যমে পাঠকের সামনে তা তুলে ধরেছেন। সমাজের জন্য ভালোবাসা এবং সংবেদনশীল মন তাঁর গল্পগুলো বিশেষ রকম উপাদেয় করে তুলেছে। নির্বাচন, সমাজের মধ্যে বিভাজন, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট—এসব নিয়ে এই লেখাগুলো আজকের দিনে হয়তো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
Abul Mansur Ahmed (Bangla: আবুল মনসুর আহমেদ) (1898–1979) was a Bangladeshi politician and journalist. His political career helped him writing political satire. He is the most famous political satirist in Bangla literature.
He was honored with Bangla Academy Award in 1960 and Swadhinota Dibosh Padak (Independence Day Medal) in 1979. Tahmima Anam is his granddaughter.
জোনাথন সুইফটের গালিভর ও আমাদের স্বদেশি আবুল মনসুর আহমদের গালিভর একই আদমি নয় ; বিস্তর ফারাক বিদ্যমান। তিন শ বছর আগের সাহিত্যিক জোনাথন সুইফট তার কালজয়ী কেতাবের বদৌলতে ইংরেজদের শাসন ও শোষণকে রূপকার্থে উপস্থাপন করেছেন। আবুল মনসুর আহমদের গল্পগ্রন্থের গালিভরও বহুৎ উমদা আদমি। সে-ও হাজির হয় দেও ও বামনদের রাজ্যে। পরখ করে এক অত্যন্ত আজব ঘটনা। বিশেষ করে, বামনদের দেশে তার লাভ হয় বিস্তর অভিজ্ঞতা।
আবুল মনসুর আহমদ তার প্রাপ্য কদর পাননি। বাঙালি মুসলমান সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক গোঁড়ামি নিয়ে এত চমৎকার আর কেউ লিখতে পারেনি। ব্যঙ্গ রচনা লেখার তাঁর হাতযশ কাবিলে তারিফ। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দেশটি কীভাবে ধর্মরাষ্ট্রের নামে 'মোল্লাতন্ত্রের' খপ্পরে পড়েছিল তার সাবুদ বইয়ের পাতায় পাতায় আছে।
'গালিভরের সফরনামা' আবুল মনসুর আহমদের শ্রেষ্ঠ লেখা নয়। তবুও তাঁর মশহুর রচনাশৈলী পাঠককে মুগ্ধ করবে।
অতুলনীয় দুইটি রূপক গল্প আছে। রাজনীতির ব্যাকরণ এবং অভিধান রম্য রচনা দুইটিও অভিনব। কিন্তু বাকি গল্পগুলির বেশ কিছুই পুনরাবৃত্তিক, দীর্ঘ, এবং কিছুটা ক্লান্তিকর। তবে আবুল মনসুর আহমেদের রসালো ভাষা আর সূক্ষ্ণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের কারণে গল্পগুলি আজো প্রাসঙ্গিক।
প্রথমদিকে খুবই ভালো লাগে, এরপর সেই ভালো লাগা কমতে কমতে শেষমেশ বিরক্তিতে গিয়ে ঠেকে। আবুল মনসুর আহমদের ব্যঙ্গরচনা পড়তে যেয়ে এমন লাগে প্রতিবার। এর প্রধান কারণ পুনরাবৃত্তি। বিষয় এক, ব্যঙ্গবিদ্রূপের ধরনও এক, ফলে এক পর্যায়ে একঘেয়ে লাগতে শুরু করে। একই ব্যাপার ঘটল ‘গালিভরের সফরনামা’ পড়তে বসেও। তবে সবমিলিয়ে ‘ফুড কনফারেন্স’ ও ‘আয়না’ থেকে এটাকে এগিয়ে রাখব। আমার ধারণা, এই তিন বই থেকে বাছাইকৃত ৮-১০টা লেখা নিয়ে ‘শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গরচনা’ নামের একটা সংকলন হলে দারুণ কিছু হতো সেটা।
আবুল মনসুর আহমদ নিজে সক্রিয় রাজনীতিক ছিলেন বলেই হয়ত তার এই রাজনৈতিক স্যাটায়ারগুলো বেশি বাস্তবানুগ হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকের নানা রাজনৈতিক ও সসামাজিক অসঙ্গতি সুন্দর রুপকে তিনি তুলে ধরেছেন এই বইয়ে। তবে ৫০-৬০ বছর পরে আমাদের এই স্বাধীন বাংলায়ও এই গল্পগুলোর আবেদন একটু কমেনি :-p
What an amazing piece of artwork!!! বইএর বেশিরভাগ গল্পেই '৪৭ এর পূর্বের মুখোশ উন্মোচন। বিশেষকরে সুন্দরবনের পশুসমাজের মাধ্যমে রূপকার্থে তখনকার ব্রিটিশদের ডিভাইড এ্যান্ড রুল-নীতিকে আর তাদের অধীনে হিন্দু-মুসলিমদের নিজের মধ্যে কামড়াকামড়িকে শিল্পে পরিণত করেছেন।
কিন্তু পরবর্তীতে গিয়ে পড়ার খেই হারিয়ে ফেলছিলাম - কেমন যেন সব "রিপিটেশন" মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল জোর করে হাসানোর চেষ্টা।
তবে সময় ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বইটা লেখার যে কৌশল ও চেষ্টা - তা সুন্দর ছিল। 'কাল বা সময়ের গন্ডি পার করে ফেলা বই'। এতদিন আগের লেখা হলেও - এখনো পড়লে বর্তমান সময়টার সাথে মেলাতে পারা যায়। এ বিষয়টা একই সাথে ভালো এবং কষ্টদায়ক।
This entire review has been hidden because of spoilers.
লেখক সম্পর্কে বলি -“আবুল মনসুর আহমদ”একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক, তিনি ব্যঙ্গাত্মক রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ।স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী এখজন লেখক । জনাথন সুইফটের ‘গালিভার’স ট্রাভেলস’ বইটির মর্মার্থকে নিয়ে আবুল মনসুর আহমদ এই ব্যাঙ্গাত্মক নাটক লিখেন যার নাম ‘গালিভারের সফরনামা’ । বিদেশী গল্পটিতে লেখক বিশাল আকৃতির মানুষ আর ব্যাটে মানুষদের নিয়ে একটা রম্য রচনা করেছিলেন কিন্তু লেখক এখানে বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের মাঝে কম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের চিন্তার বৈপরীত্য নিয়ে একটি রম্য দেহবাকভাষায় নাট্যের কাহিনী নিটল হাস্যরসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন । তিনি এ নাটকটিতে ওই জাতি বা গুষ্টির প্রতি আঙুল তুলেছেন যারা ধর্ম কে নিতান্তই নিজ স্বার্থে ব্যাবহার করে যাচ্ছে । রাজনীতি থেকে অর্থনীতি এমন শিক্ষা বেবস্থা কিছুই তারা নষ্ট করতে বাদ রাখেনি । দলিয় পক্ষপাতীতা বা ক্ষমতাবানদের অত্যাচারের কথাও তিনি বিভিন্ন ভাবে রম্যের ভাষায় বলছেন । সত্যি বলতে বই টা আমার পড়তে ভালো লাগছিল তবুও পড়ার সময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলছিলাম বার বার । কিন্তু বইটা সম্পূর্ণ পড়ে শেষ করার পর বুঝতে পারলাম ধৈর্য হারাচ্ছিল কারণ খুব কঠিন বিষয় গুলো তিনি ব্যাঙ্গ করে প্রকাশ করেছেন যা স্থির মস্তিষ্কে পড়া বেশী প্রয়োজন। একটু অন্য রকম স্বাদ নিতে বইটা সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন ।
আমি জীবনে যত বই পড়েছি তার মধ্যে এটির অবস্থান শীর্ষ ৫ এ। ১৯৪০-৫০ এর দিকের সমাজ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে রচিত এই বইয়ের সকল গল্প থেকে দেখা যাচ্ছে আজও আমাদের সমাজ ব্যবস্থা/ আমাদের সামাজিক চরিত্র তেমন কোন পরিবর্তন হয় নি। আমরা আজও নিজেদের পরিপুর্ণ মানুষ হিসেবে বিশ্বসমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি নি। এই বইয়ের বাস্তবতা সময়ের গন্ডিতে আবদ্ধ নয়। সময়ের সাথে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
এই রাজনৈতিক ব্যাঙ্গরচনাগুলো সেই পাকিস্তান পিরিয়ডের লেখা, কিন্তু সত্যিই আশ্চর্যজনক ভাবে সেগুলো আজকের সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক। এজন্য এক দারুন মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম। আজকের দিনে উনার মত গল্প লেখার হিম্মত কোনো লেখকের আছে কিনা সন্দেহ।